জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি,২০১০ – প্রসঙ্গে

স্বাধীন বাংলাদেশে বিগত ৪০ বছর ধরে অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থান ইত্যাদি মৌলিক অধিকারের মতই জনগণের স্বাস্থ্যের অধিকারও ক্রমাগত লংঘিত হয়ে চলেছে । স্বাস্থ্য সংবিধানস্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার এবং এর সার্বিক দায়িত্ব সংবিধানের ১৫(ক) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রের উপর ন্যাস্ত থাকলেও এ যাবত কোন সরকারই এ বিষয়ে নূন্যতম আন্তরিকতার পরিচয় দেয়নি। উপরন্তু একদিকে সরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে অদক্ষ ও জনগণের প্রত্যাশা ও চাহিদা পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে বেসরকারী মুনাফালোভী বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে কোন রকম আইনী কাঠামোর আওতায় না এনে স্বাস্থ্যকে একটি পণ্যে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থেকেছে। এই ৪০ বছর ধরে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে প্রধানতম একটি দাবী ছিল সংবিধান কর্তৃক অর্পিত দায়িত্বের আলোকে একটি গণমুখী,যুগোপযোগী স্বাস্থ্যনীতি প্রনয়ণ। কয়েক দফা উদ্যোগ গ্রহণের পর অবশেষে গত ১ লা মে,২০১১ মন্ত্রিসভা “জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি,২০১০”-এর অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য,এই স্বাস্থ্যনীতি কিছু মৌলিক প্রশ্নে স্ববিরোধী,বিভিন্ন উদ্দেশ্য পূরণে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনাহীন,অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে একেবারেই নিশ্চুপ এবং ক্ষেত্রবিশেষে গণবিরোধী।
মূল আলোচনায় যাবার আগে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কিছু বাস্তবতা আমাদের জানা প্রয়োজন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০০৮ সালের তথ্য অনুযায়ী – বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৯৮০ জন, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ এবং ১লা জুলাই,২০১১ নাগাদ বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা হবে প্রায় পনের কোটি চৌদ্দ লক্ষ । প্রতি হাজারে জন্মহার ২০.৫৪ এবং মৃত্যুহার ৬.০২, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সের প্রতি একজন মা গড়ে ২.৪ টি শিশু প্রসব করেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার শতকরা ১.৩৯ ভাগ। মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ শহরে ও দুই-তৃতীয়াংশ গ্রামে বাস করে এবং প্রতিবছর শতকরা ১৭.২৯ ভাগ মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে আসে। জনসংখ্যার সিংহভাগ(৫২.৭৮%)-এর বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছর। ৩৩.৭৩% -এর বয়স ১৪ বছরের নীচে এবং ৬.৫১%-এর বয়স ৬০ বছরের উপরে। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪০ ভাগই শিশু বা বৃদ্ধ এবং শতকরা ৬০ ভাগ মানুষ কর্মোক্ষম বয়সসম্পন্ন, যদিও এর প্রায় অর্ধেক নারী হবার কারণে জাতীয় উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত নয়। নারী ও পুরুষের মোট সংখ্যার অনুপাত ১০০:১০৫। জন্মকালীন আকাংখিত গড় আয় পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রায় ৬৫(৬৫.৬১) বছর এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৬৮(৬৭.৯৬) বছর। এছাড়া ১৫ বছরের উর্ধ্বে শিক্ষিতের হার প্রতি ১০০ জনে ৫৯.০৭ জন।
অপরদিকে বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থার ২০১০ সালের বার্ষিক তথ্য অনুযায়ী- বাংলাদেশের মাতৃমৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৩৮০(সরকারী হিসেব অনুযায়ী) বা ৫৭০(বেসরকারী হিসেব অনুযায়ী)জন, নবজাতক মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৩৩ , এক বছরের নীচে শিশু মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৪৩, পাঁচ বছরের নীচে শিশু মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৫৪, জন্মকালীন আকাংখিত গড় বয়স(সুস্থ অবস্থায়) ৫৬ বছর এবং জন্মকালীন আকাংখিত গড় বয়স(রোগাক্রান্ত অবস্থায়) ৬৫ বছর। অথচ প্রতি ১০,০০০ মানুষের জন্য চিকিৎসক ০৩ জন,প্রতি ১০,০০০ মানুষের জন্য দন্ত চিকিৎসক ০.৫ জন, প্রতি ১০,০০০ মানুষের জন্য সেবিকা বা নার্স(প্রশিক্ষিত ধাত্রীসহ) ০৩ জন,প্রতি ১০,০০০ মানুষের জন্য মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী ১ জন এবং প্রতি ১০,০০০ মানুষের জন্য হাসপাতালের বিছানার সংখ্যা ৪ টি।
এবার আসা যাক জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি,২০১০-এর বিভিন্ন প্রস্তাবনা বা বক্তব্য নিয়ে আলোচনায়। নীতির প্রস্তাবনা অংশে স্বীকার করা হয়েছে স্বাস্থ্য একটি মৌলিক অধিকার এবং সংবিধানের ১৫(ক)ধারা অনুযায়ী এর যাবতীয় উপকরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। অথচ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য জনগণকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় কর্তৃক প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিন,২০১০-এর তথ্যমতে চিকিৎসা ব্যয় বাবদ খরচ করা অর্থের শতকরা প্রায় ৬৫ ভাগ আসে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে, সরকার দেয় শতকরা ২৬ ভাগ,দাতা সংস্থা দেয় শতকরা ৮ ভাগ এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের এ খাতে খরচ শতকরা মাত্র ০১ ভাগ। অথচ চিকিৎসা বাবদ খরচকৃত সমগ্র অর্থের ৪৩% যায় ঔষধ ও অন্যান্য চিকিৎসাপণ্য ব্যবসায়ীদের পকেটে,হাসপাতাল ব্যয়বাবদ খরচকৃত প্রায় ২৭% অর্থের শতকরা ৫৪.৫ ভাগ যায় বেসরকারী বা এনজিও মালিকানাধীন হাসপাতালের কোষাগারে এবং শতকরা ২৪.১ ভাগ যায় থানা পর্যায়ের সরকারী হাসপাতালে,এছাড়া অন্যান্য খাতসমূহে ব্যয়ের (২১.৮%) শতকরা ৩২.৫ ভাগ খরচ হয় পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে (যা সরাসরি চিকিৎসাসেবার সাথে জড়িত নয়),শতকরা ২৭ ভাগ যায় চিকিৎসকদের পকেটে এবং শতকরা ১৮.৪ ভাগ যায় বেসরকারী ডায়াগনষ্টিক সেন্টার সমূহের পকেটে। এভাবে ইতিমধ্যে একদিকে জনগণ অর্থের অভাবে চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ হারাচ্ছে,অন্যদিকে সরাসরি বা ঘুরপথে (জনগণ প্রদত্ত করের টাকা সরকারী বরাদ্দের মাধ্যমে) মুনাফা হাতিয়ে নিয়ে ফুলেফেঁপে উঠছে চিকিৎসা বাণিজ্যের সাথে যুক্ত সকল পক্ষ- ঔষধ কোম্পানি বা ক্লিনিক মালিক,বেসরকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত দালাল থেকে শুরু করে চিকিৎসক পর্যন্ত সবাই।এরপরও ইউজার ফি’র নামে সরকারী হাসপাতালে সাধারন জনগনের চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সব দরজা বন্ধ করার আয়োজন পাকাপোক্ত করতে সরকার উঠেপড়ে লেগেছে। গত কয়েক বছরে দফায় দফায় ইউজার ফি চালু ও বৃদ্ধি করা হয়েছে,এতেও সরকার সন্তুষ্ট হতে পারেনি। এ বছরের বাজেট ঘোষনায় বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী বিপুল উৎসাহ নিয়ে “ইউজার ফি আহরণ নীতিমালা” প্রনয়নের সুসংবাদ দিয়েছেন গোটা জাতিকে! স্বাস্থ্যনীতির প্রস্তাবনার সাথে এই ইউজার ফি নীতিমালা সরাসরি সাংঘর্ষিক।
আবার কয়েকটি জায়গায় চিকিৎসা ব্যয়ের ব্যাপারে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে এই বলে যে দরিদ্র জনগনের মাঝে “হেলথ কার্ড” বিতরণ করা হবে যাতে তারা বিনামূল্যে স্বাস্থসেবা পেতে পারে। কিন্তু দরিদ্র মানুষ বিচারের মাপকাঠি কী হবে সে বিষয়ের কোন উল্লেখ নেই। হয় বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা পাবার জন্য সবাই নিজেদের দরিদ্র দাবী করবেন অথবা দরিদ্রের এই তালিকাও ভরে উঠবে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের নামে যেখানে প্রকৃত দরিদ্রের নাম খুবই বেমানান বলে একেবারেই অনুপস্থিত থাকবে। সবচেয়ে আশ্চর্য্যের বিষয় হল, যেখানে সংবিধান প্রত্যেকটি মানুষের “হেলথ কার্ড” হিসেবে যথেষ্ট সেখানে এই নতুন কার্ডের উপযোগিতা কী? একইভাবে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের পশ্চিমা ফর্মূলা অনুকরণের বাসনা তীব্র আকারে প্রকাশিত হয়েছে কোথাও কোথাও,স্বাস্থ্যনীতি প্রনয়নকারীরা কী বেমালুম ভুলে গেছেন এ দেশের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্য ইতিমধ্যে তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্তে বীমাকৃত?
জনগনের চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি আয়োজনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট মুনাফালোভী প্রতিষ্ঠানসমুহের মুনাফার জন্য খুলে দেয়া হয়েছে অবারিত দ্বার। রোগনির্ণয় পদ্ধতি(যেমন- রক্ত পরিক্ষাসমূহ,বিভিন্ন ধরনের এক্স-রে বা রেডিওইমেজিং ইত্যাদি),চিকিৎসা সরঞ্জাম, ঔষধ, অপারেশন ফি,ক্লিনিক সমূহের বিছানা ভাড়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়ে এই নীতি একেবারেই নিশ্চুপ।
ঔষধের মান নিয়ন্ত্রণ, দাম নির্দিষ্টকরণ, ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত ঔষধ বিক্রি ইত্যাদি বিষয়েও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা কাম্য ছিল।
চিকিৎসাশিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালে হীন দলীয়স্বার্থ ভিত্তিক সিটদখল,টেন্ডারবাজি,আধিপত্য বিস্তার ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে পড়া রোধ করতে সরকার কী উদ্যোগ নিতে ইচ্ছুক তা স্পষ্ট নয়। মনে হতে পারে এর সাথে স্বাস্থ্যনীতির কী সম্পর্ক? সম্পর্ক এটাই, যে শিক্ষার্থীরা এখান থেকে মানবতা ও নৈতিকতার পাঠ না নিয়েই বেরিয়ে যাবে এই শিক্ষা নিয়ে যে সরকারদলীয় হয়ে উঠতে পারলেই ভবিষ্যত নিশ্চিত,তাদের সেবার মান দিয়ে কোন স্তরের স্বাস্থ্যনীতিই বাস্তবায়িত হতে পারেনা।
চিকিৎসক, সেবিকা বা নার্স, প্যারামেডিকস, চিকিৎসা সহকারী, ল্যাব টেকনিশিয়ান সহ সকল চিকিৎসা পেশাজীবিদের লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি থেকে বের করে আনতে না পারলে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দূর্ণীতি চিরস্থায়ী আসন অর্জন করবে। এ বিষয়টির উপস্থিতিই যেন নীতি প্রনয়নকারীরা জানেন না।
পেশাগত ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে সীমাহীন দলীয়করণ ও দূর্ণীতি প্রতিরোধ, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা, উপযুক্ত রেফারেল (এমবিবিএস চিকিৎসকের ধাপ না পেরিয়ে সরাসরি) ব্যতীত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্তৃক রোগী না দেখা, দৈনিক সর্বোচ্চ রোগীর সংখ্যা নির্দিষ্টকরণ, গ্রামাঞ্ছলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা বা অভিজ্ঞতা হিসেব করা এবং নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন শেষে নিয়মতান্ত্রিকভাবে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ ইত্যাদি যে বিষয়গুলি চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে হতাশ ও পলায়নপর করে তোলে সেগুলি প্রতিরোধের পন্থা এমনকী মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও এই নীতিমালা অসম্পূর্ণ। শুধু বিশেষজ্ঞ বা বয়োজ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের খুশী রেখে নবীণ চিকিৎসকদের হুমকী দিয়ে বা দলীয় চিকিৎসকদের সকল অন্যায়ের ক্ষেত্রে চোখ বুজে থেকে বা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে সাধারণ চিকিৎসকদের বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা করলে চিকিৎসকদের সার্বিক আচরণের কোন উন্নতি হবেনা। একইভাবে অন্যান্য চিকিৎসা পেশাজীবিদের ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়াটি সত্য।
বাংলাদেশে যে রোগসমূহ জনস্বাস্থ্যকে জর্জরিত করে রেখেছে বা মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে প্রতীয়মান,তার বেশীরভাগই খুব সহজেই প্রতিরোধযোগ্য। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের তথ্যমতে এদেশে সকল মৃত্যুর কারণসমূহের মধ্যে অন্যতম হল-নিউমোনিয়া(১৩.৫৩%), শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ (৭.৪৯%),ডায়রিয়া (৬.২৬%), উচ্চরক্তচাপ(৪.০৫%), দুর্ঘটনাজনিত বিষক্রিয়া(৩.৭৭%), প্রসবকালীন মৃত্যু ( ৩.৭৪%), ম্যালেরিয়া(৩.৬৯%) ইত্যাদি। অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন এই খাতটি নিয়ে সমগ্র স্বাস্থ্যনীতিতে কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই ।
সবশেষে এসে স্বাস্থ্যনীতির প্রস্তাবনা ও প্রতিবন্ধকতাসমূহ উপস্থাপনের উদ্যোগকে নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্ছক পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করা যেতে পারে। একই সাথে প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুহার, নবজাতক মৃত্যুহার, শিশুমৃত্যুহার, ইপিআই কর্মসূচীর আওতায় শিশুদের টিকাদানের আওতায় নিয়ে আসা ইত্যাদি ক্ষেত্রের সফলতাসমূহ জাতীয় ক্ষেত্রে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তদুপরি, স্বাস্থ্যনীতি প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারসমূহের গণমুখী অবস্থান ব্যতীত এ দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকার কোনদিনই সুনিশ্চিত হবেনা। যে কোন বিতর্কের অবকাশ না রেখে জনগণের পক্ষ থেকে এই দাবী জোরদার করা উচিত- স্বাস্থ্যের সকল দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

৫৯২ বার দেখা হয়েছে

৮ টি মন্তব্য : “জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি,২০১০ – প্রসঙ্গে”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    আসিফ ভাই, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এরকম পরিশ্রমি একটা লেখা দেবার জন্য ধন্যবাদ।

    চিকিৎসা এখন নির্ভেজাল বানিজ্য হয়ে দাড়িয়েছে। আপনার দেয়া ডাটা দেখে টাশকি খেলাম, মাত্র ১% বিনিয়োগ করে প্রায় ১৩-১৪% পকেটে পুরছে বেসরকারি হাসপাতাল গুলো, হোয়াট এ বিজনেস!!!
    ডাক্তার, হাসপাতাল, ডায়গোনিস্টিক সেন্টারগুলো ইচ্ছেমত ভাবে ফি নিচ্ছে, কোন ধরনের কোন নিয়ন্ত্রন নীতিমালা নেই। ডাক্তারেরা ইচ্ছেমত টেস্ট করাতে ল্যাবে পাঠাচ্ছে আর সেখান থেকে পারসেন্টেজ নিচ্ছে। আর ডাক্তারদের যে সংগঠন আছে তা তো আরো ভয়াবহ, ৫ বছর ড্যাবের রাজত্ব আর ৫ বছর স্বাচিপের। আপনার সাথে গলা মিলিয়ে দাবি জানাই স্বাস্থ্যের 'সকল দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে'। কিন্তু আমাদের রাস্ট্রের কোন আলাদা সত্তা আছে বলেই মনে হয় না... সব চলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ক্ষমতাশীন দলের অঙ্গ সংগঠনের দাপটে।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
    • আসিফ খান (১৯৯৪-২০০০)

      বাস্তব পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ! এখানে শুধু মানগত আলোচনা করা হয়েছে, যতটুকু সেবা পাওয়া যায় তার মান বিশ্বমানের ধারে কাছেও না।
      মজার ব্যাপার হল, এই নীতি সম্বন্ধে ওয়বসাইটে মতামত চাওয়া হয়েছিল।মাত্র ৩৹৹৹ মতামত জমা পড়েছিল। অথচ এ দেশে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় ৬৹৹৹৹৹। যদি ধরেও নিই এরা সবাই ছিলেন চিকিৎসক তথাপি শতকরা মাত্র ৫ ভাগ চিকিৎসকও এ বিষয় নিয়ে আগ্রহী ছিলেন না!
      আর "ডাক্তারদের যে সংগঠন আছে তা তো আরো ভয়াবহ, ৫ বছর ড্যাবের রাজত্ব আর ৫ বছর স্বাচিপের। " এটা সমস্যা টিকে থাকার অন্যতম প্রধান একটি কারণ। স্বাস্থ্যনীতির মত একটা বিষয় নিয়ে এদের কোন মাথাব্যথা নেই। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য আন্দোলন, উবিনীগ, ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমে্নট এবং প্রগতিশীল চিকিৎসক ফোরাম ছাড়া আর কোন সংগঠন এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিয়েছে বলে আমার জানা নাই।

      জবাব দিন
  2. আসিফ খান (১৯৯৪-২০০০)

    আহসান- সামগ্রিকভাবে ঔষধ কোম্পানী, ল্যাব, ক্লিনিক ইত্যাদি বেসরকারী খাত খরচ করে শতকরা ১ ভাগ। অথচ তাদের পকেটে যায় শতকরা ৫৹ ভাগের বেশী অর্থ !

    জবাব দিন
  3. আসিফ খান (১৯৯৪-২০০০)

    আহসান- সামগ্রিকভাবে ঔষধ কোম্পানী, ল্যাব, ক্লিনিক ইত্যাদি বেসরকারী খাত খরচ করে শতকরা ১ ভাগ। অথচ তাদের পকেটে যায় শতকরা ৫৹ ভাগের বেশী অর্থ ! x-(

    জবাব দিন
  4. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    জটিল বিষয়।
    ব্যাপক ভাবনা।
    সকলের দাবী।

    কিন্তু সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।