★★বংশ★★

নিশ্চুপ বিকেল। রমজানের শেষ ভাগ। ঝুম বৃষ্টি। নিজের চেম্বারে শিহাব। বড় মেয়ে ফোন করেছিল। কথা হল। ঈদের কেনাকাটা সংক্রান্ত।
আর তিনদিন পরেই ঈদের ছুটি। এবার আর বাড়ি যাওয়া হল না শিহাবদের। নাড়ির টান। এর অনুকূলে ভাসা হল না। টিকেট পেতে পেতে ও.. কনফার্ম হল না।

‘তুমি কি আসলেই যেতে চেয়েছিলে? যদি চাইতে তবে টিকেট কোনো ব্যাপারই ছিল না।’ – নিজের কাছ থেকে এমন রুঢ় কমপ্লিমেন্ট, ভ্রু কুচকান ভংগির সাথে সাথে শিহাবের ভেতরটা ও কি একটু তেতো.. কিছুটা বন্ধুর করে তোলে?

আজ বড় মেয়ের সাথে কথা হল। মেয়ে কিছু প্রশ্ন করেছে। উত্তর দিতে পারেনি। নিশ্চুপে নিজেকে সরিয়ে নিলেও, মনের ভিতরে কোথায় যেন প্রশ্নগুলি জ্বালা ধরাচ্ছিল। চুপি চুপি। অথচ নির্বাক মৌণতায় ধারাল ইস্পাতে চিরে যাওয়া অনুভবের রেশ রয়ে যায়..দীর্ঘক্ষণ।

‘বাবা! আমি তোমার মেয়ে, আমি কি তোমার বংশ না?’
– কেন বলছ?
‘ বলই না।’
– কেউ কি তোমাকে কিছু বলেছে?

মেয়ে ওর কিছুক্ষণ চুপ থাকে। বাইরে উন্মাতাল আবহাওয়া। অন্য শহরে মেয়ের মনেও বুঝি এমন ভাংগাচুরা। শিহাব অনুভব করে। একজন বাবা বুঝতে চান! মেয়েকে। মেয়েটা বড়ই হয়ে গেল.. বোধহয়!

‘ দাদু ফোন করেছিল। সবার কথা বলা শেষে চাচীর কথা বললেন। জুলাইয়ে বাবু আসার ‘ডেট ‘। দাদু বললেন দোয়া করতে, যেন ছেলে হয়। মরার আগে তিনি যেন বংশ দেখে যেতে পারেন।’

এক বৃষ্টিভেজা শহরে ক্লান্ত শিহাব নীরবে মেয়ের কথা শোনে। নিশ্চুপ থাকে।

‘ বাবা, আমি কি দাদুর বংশ নই? তুমিও কি এমন ভাব?’

বাবার নীরবতা কি এক ভিন্ন শহরে এক মেয়ের কাছে অসহ্য ঠেকে? তাই যখন সে বাবাকে পরবর্তী প্রশ্ন করে, শিহাব মেয়ের ভেতরের ভাংগাচুরা, উথাল-পাথাল- সব কিছুর দলাপাকানো এক ভিন্ন টোন শুনতে পায়।

‘ আমি তবে কী, বাবা? একজন মেয়ে!?’

আরো বেগে নেমে আসে বৃষ্টি। টানা বয়ে চলায় থাই-গ্লাসের ওপাশটা ঝাপসা দেখে শিহাব। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে হৃদয়ের এপিঠ ওপিঠ- দু’পিঠেই। এর মাঝে এক বিষন্ন বাবা, উত্তর খুঁজে বেড়ান।
বৃষ্টির দিনে। এক বেলাশেষের অবেলায়। বিষন্নভূমে.. যেখানে নীরবতা এক প্রচন্ড কোলাহলকে সাথে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়.. প্রশান্তি চিরে দেয়া অনুভবকে হাত ধরে নিজের দিকে টেনে নেয়।

#অণুগল্প

২ টি মন্তব্য : “★★বংশ★★”

মওন্তব্য করুন : খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।