বুদবুদে বসবাস

১লা জানুয়ারী, পুরো বিশ্বের মানুষ এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করেছে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য, উদযাপন করার জন্য। ৫ই জানুয়ারী, পুরো দেশের মানুষ উৎকন্ঠায় দিন গুনেছে। আমিও দুটি দিনের জন্যই অপেক্ষা করেছি, তবে একটু ভিন্ন কারনে। আমার দিন গোনা ছিল শারলকের অপেক্ষায়। দুদিনই আমি রাত তিনটা পর্যন্ত জেগে কষ্ট করে লাইভ টেলিকাস্টের লিঙ্ক খুঁজে লাইভ দেখেছি, পরে আবার ডাউনলোড করে রিভিশন দিয়েছি। হেসেছি, রোমাঞ্চিত হয়েছি কিছু সময় চোখে পানিও চলে এসেছে। এখন অপেক্ষা করছি এই সিজনের তৃতীয় আর শেষ পর্বের জন্য। এরপর আবার কত বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হয় কে জানে? শারলক সহ অন্যান্য সিরিজ যখন টানা দেখতে থাকি তখন দারুন একটা বাবল, একটা বুদবুদের ভিতরে থাকি। আশেপাশের কোন কিছুই তখন কোন প্রতিক্রিয়া তৈরী করতে পারে না। বুদবুদের ভিতরে পুরো ভিন্ন একটা বাস্তবতায় বাস করি তখন।

একদম ছোটবেলা থেকেই ফুটবল আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। আবাহনী ছিল প্রথম প্রেম। তারপর এলো আর্সেনাল। গত প্রায় ৮ বছর হতাশায় ডুবিয়ে রাখলেও এবারের মৌসুমে আবারো আশা জাগাচ্ছে। মাঝপথ পর্যন্ত এসে শীর্ষে আছে। এত বছর পরে এসে আবারো পুরোপুরি ভাবে ফুটবল এনজয় করতে পারছি। সাথে বোনাস হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আপাত ভরাডুবি, আর কি লাগে! কিন্তু এর মাঝেও আজ রাতে বিশাল এক ধাক্কা খেলাম, থিও ওয়ালকট (আর্সেনালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়ার) ইঞ্জুরড হয়ে ছয় মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে গিয়েছে। আর্সেনালের জন্য এত বড় ধাক্কা আমি এখন পর্যন্ত ঠিকমত হজম করতে পারিনি। এই ফুটবল, আর্সেনাল এগুলো হলো আরেকটা পারফেক্ট বুদবুদ। নাওয়া খাওয়া পর্যন্ত ভুলিয়ে দেয়।

ক্যাডেট কলেজ ব্লগের একদম শুরু থেকে না থাকলেও প্রায় শুরু থেকেই আছি। ইন্টারনেট জগতে যতটুকু ভাল সময় কাটিয়েছি তার সিংহভাগ এসেছে সিসিবির কল্যানে। কিন্তু অনেকদিন যাবত সিসিবি নিয়ে শুধু আফসোসই করেছি, পুরোনো সেই জমজমাট দিনের জন্য হা পিত্যেশ করেছি। ইদানিং আবার সিসিবিতে প্রাণ ফিরে আসতে দেখে কতটা যে ভাল লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না (উত্তেজনার মাত্রা এতই বেশি হয়ে গিয়েছে দুই দিনের মাথায় নতুন ব্লগ লেখা শুরু করেছি, হা হা!) সিসিবি হলো আমার জন্য আরেকটা বড়সর বুদবুদ।

জীবনময় এরকম বুদবুদের ছড়াছড়ি, সব থেকে বড় বুদবুদ পরিবার তো আছেই। নিজেকে ভাগ্যবান(?) মনে হয় নিজের চারিদিকে এই বুদবুদগুলোকে তৈরী করতে পেরেছি। তাও সাবানের ফেনার মত পাতলা না, একেবারে শক্ত মজবুত দেয়ালের বুদবুদ। কোথায় কি হলো, কে মগজ ধোলাই হয়ে বা কিছু সামান্য টাকার বিনিময়ে আগুন ছুড়ে দিল আর কেই বা জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে কাজে বে হয়ে সেই আগুন লুফে নিলো কিংবা কে বা কাহারা তন্ত্র, বিধান ইত্যাদি ইত্যাদি মহামূল্য সম্পদ রক্ষার্থে আরাম কেদারায় বসে থেকেই ঝাপিয়ে দিল কারাই বা ভুল স্থানে ভুল পরিচয়ে জন্মের কারনে সর্বোস্য দিয়ে তার প্রতিদান দিচ্ছে আর দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহ্রত হচ্ছে এসবের কোন কিছুই সেই বুদবুদের দেয়াল ভেদ করে ঢুকতে পারে না (ব্যালান্সিংটা ঠিক হলো তো!)। মাঝে মাঝে হয়ত হালকা দুলিয়ে দিয়ে যায়, কিন্তু সাথে সাথেই বুদবুদ্গুলোকে আরো শক্ত ভাবে আটকে ধরি আর ভেতর থেকে মুচকি হেসে বলি,

এই বেশ ভাল আছি!

১,২১৯ বার দেখা হয়েছে

২২ টি মন্তব্য : “বুদবুদে বসবাস”

  1. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)
    ইদানিং আবার সিসিবিতে প্রাণ ফিরে আসতে দেখে কতটা যে ভাল লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না (উত্তেজনার মাত্রা এতই বেশি হয়ে গিয়েছে দুই দিনের মাথায় নতুন ব্লগ লেখা শুরু করেছি, হা হা!) সিসিবি হলো আমার জন্য আরেকটা বড়সর বুদবুদ।

    হুম, এই বুদবুদেই থাকো। অন্যরাও আসুক, আরো অনেক অনেক বুদবুদ তৈরী হোক।


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  2. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    ১ম বুদবুদ - শারলক
    ২য় বুদবুদ - গানারস
    ৩য় বুদবুদ - সিসিবি

    এর মাঝেও মূল কথা ধরতে পারছি।
    :bash:


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।