বিশ্বকাপ কথন ১

সিসিবির ব্লগাররা সবাই কোয়ান্টিটি ভুলে কোয়ালিটিতে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। এ কারনে নিয়মিত দারুণ দারুণ সব লেখা পাচ্ছি। তবে সমস্যা হয়ে গিয়েছে আমার মত আম ব্লগারের, কোয়ালিটির অভাবে টিকে থাকার জন্য কোয়ান্টিটিই যার ভরসা। একে তো বাকি সব লেখার কোয়ালিটি দেখে নিজের লেখা দিতে এক বারের জায়গায় দশবার ভাবা লাগে, আবার একটা দিয়ে দিলেও বিপদ। বাকি লেখকদের কোয়ান্টিটির অভাবে সেই পোস্ট প্রথম পাতা থেকে সরতেই চায়না। কিন্তু প্রতিদিনই ব্লগে কিছু লেখার জন্য হাত নিশপিশ করতে থাকে। তাই সিসিবিবাসীদের প্রতি আকুল আহবান, আপনারা কোয়ালিটির সাথে সাথে কোয়ান্টিটিও একটু বাড়ান, পড়েও মজা পাই, সেই সাথে ঐগুলোর ফাঁকতালে রুচি পরিবর্তনের ডাউটে কিছু ব্লগও নামাই।

বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু হতে আর বাকি ২২ দিন। সামগ্রিকভাবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ জনপ্রিয়তা বা উন্মাদনায় ফুটবল বিশ্বকাপ বা অলিম্পিক থেকে বেশ পিছিয়ে থাকলেও আমাদের কাছে এর অবস্থান এ সব কিছুর উপরে। কারন এটা আমাদেরও বিশ্বকাপ। এখানে আমরা শুধু দর্শক বা হাজিরা খাতায় নাম উঠানো ধরনের প্রতিযোগী না, ক্রিকেট দুনিয়ার বৃহৎ শক্তিদের চমকে দেবার মত দল। আর এবারে তো পুরো দুস্তর আয়োজক। সেই সাথে সাম্প্রতিক সময়ের পারফর্মেন্সর কারনে আমাদের প্রত্যাশার মাত্রা ছাড়িয়েছে আর অনেকখানি। সিসিবিতে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ নিয়ে তেমন একটা নড়াচড়া শুরু হয়নি, তা দেখে ভাবলাম একটু ধাক্কা দেই।

স্বাভাবিক ভাবেই গত প্রায় একমাস ধরে বিশ্বকাপ বিভিন্ন ভাবে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে, তবে শেয়ার বাজার আর নির্বাচনের ডামাডোলে একদম কেন্দ্র বিন্দুতে পৌছাতে পারেনি।তবে বিশ্বকাপ নিয়ে এখন পর্যন্ত যতবার কাঠ গরম হয়েছে, প্রায় প্রতিবারই হয়েছে নেতিবাচক কারনে। সেই জিম্বাবুয়ে সিরিজ চলাকালে মিরপুর মাঠে ফ্লাড লাইট না জ্বলা, চট্টগ্রামের মাঠের ড্রেনেজ সমস্যা আর পরিদর্শনকারী দলের সামনেই স্কোরবোর্ড ভেঙ্গে পড়া প্রভৃতি আয়োজক হিসেবে আমাদের সফলতার সম্ভাবনা সম্পর্কে সন্দেহের যোগান দিয়েছে। এরপর কিছুদিন ঝুলে রইলো অধিনায়ক আর সহ অধিনায়ক নির্বাচন। মাশরাফির আরেকটা দুর্ভাগ্যজনক ইনজুরি অধিনায়ক নির্বাচনের কাজটা সহজ করে দিলেও আমাদের বিশ্বকাপ অনেক কঠিন করে দিয়েছে, সেই সাথে কঠিন করেছিল নির্বাচকদের দল নির্বাচনকে। শেষ পর্যন্ত মাশরাফিকে বাদ দিয়েই ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করে তারা, তবে তা নিয়ে দুদিন ধরে চলতে থাকে নাটক। আর মাশরাফিকে দলে রাখা না রাখা নিয়ে দেশের ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ থেকে সাধারণ জনগণ, সবাই দুভাগে বিভক্ত। তবে কেউই ওকে দলে দেখার আশা এখনো ছাড়েনি।

বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, সে পর্ব শেষ। তবে এখনো কুয়াশাচ্ছন্ন রয়ে গিয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন। ঢাকার বুকে আরেকটি বলিউড নাইটের আয়োজন হতে যাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে, বেশ কিছুদিন ধরে অনলাইনে এবং সাম্প্রতিক সময়ে পত্রিকাতে এ বিষয়ে লেখালেখি হলেও বিসিবি বা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে কোন কিছুই পরিষ্কার ভাবে বলা হচ্ছে না। এর মাঝে অবশ্য চট্টগ্রামের বলিউড নাইট বাতিল হয়েছে বলে শুনলাম, কারন সেটার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ঈদে মিলাদুন্নবির রাতে। শিল্পীদের বুকিং নাকি দেওয়া শেষ, অর্থাৎ কিছু টাকা গচ্ছা যাবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাদে সামনে আর একটা বড় জিনিষ অপেক্ষা করছে, সেটা হলো মাশরাফির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ফেরা না ফেরা। ওর পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ তারিখে যদি আবাহনীর হয়ে মাঠে নেমে তার ফিটনেস প্রমাণ করতে পারে তাহলে ওকে দলে ফেরানোর জন্য বর্তমান ১৫ জনের একজনকে ইঞ্জুরড দেখিয়ে দল থেকে বাদ দিতে হবে। সেই দুর্ভাগা কে হবে আর সে কিভাবেই বা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে তা দেখার বিষয়।

এবার আমাদের নিজেদের ঝামেলার দিক বাদ দিয়ে সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপের দিকে একটু তাকাই। মোট ১৪টি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে গ্রুপ পর্ব খেলবে। দুই গ্রুপ থেকে ৪ টি করে ৮টি দল খেলবে কোয়ার্টার ফাইনাল, তারপর সেমিফাইনাল আর ফাইনাল। ৭ সপ্তাহ ধরে মোট ৪৯টা ম্যাচ হবে। এর মধ্যে ৪২টা খেলা হবে গ্রুপ পর্যায়ে। গ্রুপ এ তে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা, জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া এবং কানাডা। এদের থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে কোন চারটি দল উঠবে তা বের করার জন্য খেলা হবে ২১টা ম্যাচ! চৌ. জাফরুল্লাহ শরাফতের মতে ক্রিকেট যতই গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা হোক না কেন, জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া বা কানাডা যে সেই চারটা মধ্যে একটি হবে না তা বলাই যায়। তাই এই গ্রুপের বেশিরভাগ ম্যাচের ফলাফল টুর্নামেন্টের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ হবে না, সে কারনে তেমন আগ্রহও থাকবে না।

তবে বি গ্রুপের অবস্থাটা একটু ভিন্ন, কারন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের ফর্ম। এই গ্রুপে থাকা অন্য ৬টি দল ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড আর নেদারল্যান্ড এর যেকোনো দলকেই নিজেদের দিনে হারানোর ক্ষমতা রাখে বাংলাদেশ। তার উপর আমাদের স্পিনিং পিচে ভারত বাদে অন্য দলগুলো সবসময়ই ভার্নারেবল (বাংলা কি হবে?)। একমাত্র বাংলাদেশই পারে বিশ্বকাপের প্রথম এক মাস দর্শকদেরকে আগ্রহী করে রাখতে। তা না হলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো হয়ে দাঁড়াবে বড় দলগুলোর প্রাকটিস ম্যাচ। অবশ্য অনেক দলই একাধিক ইঞ্জুরড খেলোয়াড়দের দলে রেখে এটা বুঝিয়েও দিয়েছে যে তারা গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোকে সে হিসেবেই নিচ্ছে। বাস্তবিক ভাবে বলতে গেলে আমাদের বাদে বাকি ক্রিকেট বিশ্বের জন্য আসল বিশ্বকাপ শুরু হবে ২৩ মার্চ, তার আগ পর্যন্ত খবরের কাগজে শুধু কে কত রানে জিতল বা হারলো তার খোঁজ রাখলেই চলবে। আইসিসির অবশ্য তা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই, তারা ভারত পাকিস্তানের মত দল, যাদের দর্শক আর বাজার দিয়ে আইসিসির পকেট ফুলে উঠবে, টুর্নামেন্টের প্রায় শেষ পর্যন্ত তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পেরেই তারা খুশি। গতবারের মত প্রথম সপ্তাহেই ফেরত যাবার কোন সম্ভাবনা এবার আর নেই।

বিশ্বকাপের প্রথম পোস্টে শুধু নেতিবাচক দিক নিয়েই আলোচনা হয়ে গেল, আশা করি সামনে আর তা করতে হবে না। শেষ করার আগে একটু আশরাফুলীয় ছোঁয়া। বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কথা হবে আর সেখানে তার প্রসঙ্গ আসবে না, এটা হতে পারে না। ফেসবুকে আশরাফুলের নতুন একটা ভিডিও পেলাম, আগে কখনো দেখিনি, একেবারে চোক্ষে পানি চলে আসার মত পারফর্মেন্স… না দেখতে জীবনে বিরাট কিছু মিস হয়ে যাবে…

১,৮৭৯ বার দেখা হয়েছে

২৬ টি মন্তব্য : “বিশ্বকাপ কথন ১”

  1. রেশাদ (১৯৯৩ -৯৯)

    অলম্বুস্টার গান আর ক্রিকেট দুইটাই একরকম।
    এক সময় কয়েকটা ভাল ইনিংস খেলছে, কিন্তু বাংলাদেশ দলে এই জিনিসটারে আমি কেন যেন এখন আর মানতেই পারিনা। মস্তিষ্কহীন ক্রিকেটার।

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      আপনার ঠিক উপরে একজন উলুম্বুসকে দেখা যাচ্ছে 😛

      আশরাফুলকে নিয়ে আর নতুন করে কিছু বলার নেই, তবে এটা ঠিক যতই গালাগালি করি না কেন, যখনই ওকে ক্রীজে দেখি, মনে মনে গোপন একটা আশা জেগে ওঠে, আজ বোধহয় আরেকটা স্পেশাল কিছু হতে যাচ্ছে, কিন্তু হায়...


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  2. সামীউর (৯৭-০৩)
    গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো হয়ে দাঁড়াবে বড় দলগুলোর প্রাকটিস ম্যাচ।

    আকাশদা, কথাটা মানতে একটু কষ্ট হচ্ছে। কারণ গ্রুপ পর্বের পর কিন্তু নক আউট। তাই এক ম্যাচে হারলেই শেষ। এমন ম্যাচে কেউ হাফ ফিট খেলোয়াড় রাখবে বলে মনে হয় না। তবে আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, কেনিয়ার সঙ্গে অনেকেই রিজার্ভ বেঞ্চ বাজিয়ে দেখবে। তবে বড় ম্যাচে (যেমন অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তান, ভারত-ইংল্যান্ড, ভারত -দক্ষিণ আফ্রিকা) সবাই ফুল স্ট্রেংথ নিয়েই খেলবে বলে আমার মনে হয়।

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      একথাটা বিশেষ করে এ গ্রুপের জন্য সত্য আর বাংলাদেশ যদি ভাল না করতে পারে, তাহলে পুরো গ্রুপ পর্বই সেটা এরকম হয়ে উঠতে পারে, সেটাই বলছিলাম।

      গ্রুপ পর্বের পরেই নক আউট, কিন্তু সেটা কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর প্রায় একমাস পরে, একমাস যথেষ্ঠ সময় হাফ ফিট প্লেয়ারদের ফিট হবার জন্য। গ্রুপ পর্বে ঐ সব প্লেয়ারদের সাপোর্ট লাগবেনা বলেই তাদেরকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে। আর অস্ট্রেলিয়া - শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তান এই সব ম্যাচগুলো আপাত দৃষ্টিতে বিগ ম্যাচ মনে হলেও পরবর্তী রাউন্ডে যাবার জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, আর সেটাই এই ফরম্যাটের সমস্যা।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  3. আছিব (২০০০-২০০৬)

    বস, শুরুতেই নিজেকে আমব্লগার দাবী করে বিনয়ের অবতার হয়ে গেছেন, সিসিবি-তে আপনার মত ক্রীড়ালেখক আছে নাকি আর!! :boss:

    চালিয়ে যান, আজকে যেমন আশরাফুলের গান শুনালেন,আশা করি আগামীতে আরও মজা দিয়ে শেষ করবেন :thumbup:

    অ্যানিওয়ে,ভাবী ভালো আছেন তো? 😀

    জবাব দিন
  4. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    পুরান বোতলে নতুন মদ ঢেলে বলি, আমার ল্যাপিতে সমস্যা। আপাতত তাই পড়ে গেলাম এটুকু জানিয়ে রাখি। পড়ে এসেডিটেইলস জানিয়ে যাবো। তবে পোস্টে দ্বিমত আছে। নিউজিল্যান্ড পাকিস্তানকে হারিয়ে গ্রুপ তৃতীয় হিসাবে জিম্বাবুয়ে কোয়ালিফাই করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

      যাক, তাওতো মোবাইল থেকে ল্যাপিতে আসছোস :)) ।

      জিম্বাবুয়ে কোয়ালিফাই করলে আমি খুশীই হবো, তবে আমার মনে হয় না পারবে। পাকিস্তান সেরা ৪-৫ জন খেলোয়াড়কে বাদ দিলেও মোটামোটি ব্যালান্সড দল হইছে, বিশেষ করে ওদের স্পিনের কাছে ধরা খাবে, আর নিউজিল্যান্ড যে সর্মেই থাকুক, বিশ্বকাপে ওরা ভাল করে, এটা মোটামোটি মিথ হয়ে গেছে।

      তোর ল্যাপির সমস্যা দূর হোক, আর শীঘ্রই তোর ডিটেইলস শুনি, এই দোয়া করতেছি।


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
  5. মামা,বরাবরের মতই সিরাম হইছে।বিনয়ের অবতার হয়ে গেলি যে,এইসব বকওয়াজ বন্ধ করে জলদি আরও কিছু এই টাইপের লেখা দাও দেখি,মজা করে পড়ি।ইয়ে মানে,তোর খেলাধুলা টাইপের লেখা আসলেই :thumbup:

    জবাব দিন
  6. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    দেড় মাস জুড়ে একটা বিশ্বকাপ, এর কোন মানে হয়! x-(


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  7. রাকেশ (৯৪-০০)

    ক্রিকেট ভুলেই গেছিলাম, বিশ্বকাপ না আসলে গুগুলে ঝিঝিপোকা লিখে ইমেজ সার্চ দেয়া লাগত।

    অস্ট্রেলিয়া নিয়া একখানা রিভিউ দেক্যার বড়ই ইচ্ছা আসিল, পোস্ট দেখি আগেই পড়ে গেছে।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।