সাপ্তাহিক ১২ (ছুটি পর্ব)

ছুটি! প্রায় চার মাসের অপেক্ষা শেষে আজ শেষ পর্যন্ত ছুটি পেলাম। আজ রাতে ইনশাল্লাহ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবো। আহ… কতদিন পর ঢাকার দেখা পাব, ঢাকার মানুষদের দেখা পাব।

গামীকাল থেকে ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে, এক সপ্তাহের জন্য। গত দুবছর ঢাকায় থাকায় আর কাছের মানুষেরা সবাই ঢাকার বাসিন্দা হওয়ায় ছুটিতে যাবার দিনের বিশেষ আনন্দটা সেভাবে উপলব্ধি করিনি। আজকে অনেকদিন পর বুঝতে পারছি ছুটিতে বাড়ী যাবার কি আনন্দ। তবে আজকে দুপুর পর্যন্ত এসবের কিছুই মাথায় আসেনি, খতরনাক টাইপ একটা পরীক্ষা ছিল আজকে, বরাবরের মতো আগের রাতে পুরো সিলেবাস কাভার করতে গিয়ে পুরা ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, ছুটির চিন্তা সেভাবে মাথায় আসেনি। পরীক্ষা শেষ হবার পরে ঠিক ভাবে টের পেলাম যে আজকে ছুটি হচ্ছে। (পরীক্ষাও খুব একটা খারাপ হয়নি।)

লেজে থাকতে পুরো ছুটির থেকে ছুটিতে যাওয়ার দিনের আনন্দ কোন অংশেই কম ছিল না। আগের রাত সাধারনত নির্ঘুম পার করতাম, আমাদের অধিকাংশের গন্তব্যই ছিল ঢাকা, কলেজ থেকে ভাড়া করা বাসে সবাই একসাথে… জার্নিগুলো সেইরকম হতো। তখন বরিশাল থেকে আসার পথে দোয়ারিকা আর শিকারপুরে দুটো ফেরি পার হওয়া লাগত। ফেরিঘাটে অপেক্ষায় থাকা ছিল অবধারিত। এ সময়ই বাকি রাস্তার জন্য অডিও ক্যাসেট, সিগারেটখোরদের সিগারেট আর হাবিজাবি বিভিন্ন খাবার জিনিষ কেনা হয়ে যেত। প্রায় প্রতিবারই গৌরনদীতে বাস থামানো হতো, দধি আর মিষ্টি কেনার জন্য। তারপর আরিচার লঞ্চ পারাপার ছিল আরো মজার। আমরা কয়েকজন ছিলাম যারা লঞ্চের হোটেলে ইলিশ দিয়ে খুব মজা করে ভাত খেতাম। বেশিরভাগই অবশ্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কথা চিন্তা করে ঐ জিনিষ ছুঁয়েও দেখত না, তবে আমরা যারা খেতাম তারা কেউই কখনো অসুস্থ হইনি। আর লঞ্চের হোটেলের খাবারের স্বাদ এখনো জিভে লেগে আছে, আহ… সেই স্বাদ!!!

ছুটি থেকে আসাও কম উপভোগ্য ছিল না। গ্রুপ করে একসাথে লঞ্চে আসতাম। সারারাত ধরে পুরো লঞ্চ জুড়ে হৈচৈ করা হতো। প্রতিবারই লঞ্চের অন্যান্য যাত্রীরা কম্পপ্লেন করতো, কিন্তু কে শোনে কার কথা, আর কপাল ভাল থাকলে সেই রকম কোন সহযাত্রী পেয়ে গেলে তো কথাই নেই। সবচেয়ে ভাল লাগত যাওয়ার দিনটা পূর্নিমার আশেপাশে পড়লে, পূর্ণিমা রাতে লঞ্চ জার্নি এক কথায় অসাধারন। এখনো লঞ্চ জার্নি আমার কাছে সেরা জার্নি। ( আহ কতদিন লঞ্চে উঠি না)

রো অনেক কিছুই মাথায় ছিল, কিন্তু ছুটির আনন্দে সে সব হাপিশ! তাই এই সাপ্তাহিকে শুধু ছুটি নিয়েই প্যাচাল পাড়লাম। এই লেখা পড়ে ছুটিতে না পাওয়া কেউ কষ্ট পেলে দুঃখিত, আশা করি খুব তাড়াতাড়ি তারা ছুটি পাবে, আর যারা ভাগ্যবান তাদেরকে শুভেচ্ছা।

এবার গানগুলো এই আমেজেই দিলাম… প্রথমটা জন ডেনভারের কান্ট্রি রোডস আর পরেরটা ঐটার বাংলা ভার্সন, সুমনের করা।

🙂 ঈদ মোবারক 🙂

১,০৯৭ বার দেখা হয়েছে

২১ টি মন্তব্য : “সাপ্তাহিক ১২ (ছুটি পর্ব)”

  1. নাজমুল (০২-০৮)

    আহা কলেজের ক্থা মনে পরে গেল।। শাকুরা/হানিফ/দ্রুতি বাস ভাড়া করা।, এক নাম্বার বাস,দুই নাম্বার বাস তারপর বাস কলেজ গেট পার হলে সবার চিল্লাচিল্লি। আমরা ৭/৮ পর্যন্ত দোয়ারিকা, শিকারপুর ফেরি পাইসিলাম পরে ওগুলো ব্রীজ করে ফেলসে। গোরোনদিতে মিষ্টি কেনার নাম দিয়ে গোল্ডলিফ কেনা 🙁
    বাসের একদম পিছনে বসে ধুয়া গুলো বাইরে ছাড়া 🙁
    তারপর আরিচা ফেরিতে নেমে লাঞ্চ করা 😀 আজাদ ভাইয়ার মতো B-)
    তার পর আবার পিছনে বসে সিগেরেট খেতে খেতে ঢাকায় পোছানো 🙁
    ধন্যবাদ আজাদ ভাইয়া ভালো লাগলো লেখাটা [পড়ে

    জবাব দিন
  2. রকিব (০১-০৭)

    ঈদ মোবারক ভাইয়া।
    আহা কি সব মনে করায় দিলেন, আ জার্নি টু কলেজ আর ব্যাক টু হোম- বরাবরই অসাধারণ কিছু সময় উপহার দিয়ে যেত। :dreamy: :dreamy:


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  3. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    কবে যে সিসিবির একটা লঞ্চ ট্যুর হবে :dreamy:
    আহসান, ছুটিময় সাপ্তাহিক ভালৈছে :clap: :clap: যদিও সম্ভবতঃ দেশের একমাত্র অফিসে যেইটা আজকেও খোলা, সেইটাতে বইসা কমেন্টাইতে হইতাছে 🙁


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।