আমি কেন ব্লগে লেখালেখি কমালাম?

[প্রাককথনঃ ‘সদালাপ’ নামে একটা ব্লগের উদ্দেশ্যে মূলত এই প্রবন্ধটা লেখা। তবে বিনে পয়সায় উপদেশ বিতরণের মজ্জাগত খাসলতের ওপরে কোনোক্রমেই উঠতে সক্ষম না হওয়ায় শেষমেশ সিসিবিতেও লেখাটা পাঠালাম। লেখাটা সিসিবির অধিকাংশ লেখার বা আলাপচারিতার ধারার সাথে খুব একটা সংগতিপূর্ণ না হলেও লেখার সার্বিক মেসেজটা হয়ত কারো কারো কিঞ্চিত উপকারে লাগতেও পারে, বিশেষ করে সিসিবির যেসব সদস্যরা ধর্ম নিয়ে অন্যান্য ব্লগে লেখালেখি করেন, তাদের।

আরেকটা কথা। আরসিসি’র এক্স-ক্যাডেটদের সংগঠন, অরকায় উত্থাপিত সাম্প্রতিককালে সংঘটিত ধর্ম সংক্রান্ত কিছু কিছু তর্ক-বিতর্কের কথা আমি আমার লেখায় উল্লেখ করেছি মূলত লেখার ধারাবাহিকতায় ও ঘটনা প্রসঙ্গে। আমার উদ্দেশ্য কিন্তু কোনোভাবেই অরকাকে সিঙ্গল-আউট করা কিম্বা ছোট করা নয়। আমি নিজেকে বরাবর একজন ‘প্রাউড অরকান’ হিসেবে বিবেচনা করি। বরং অরকা সহ নানা ফোরাম ও ব্লগে (সম্ভবত প্রতিটা ক্যাডেট কলেজের এক্স-ক্যাডেটদের নিজস্ব সংগঠন এবং সবগুলোর একক সমন্বয়, খোঁদ সিসিবিও যার ব্যতিক্রম নয়) ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনাকালে আমরা আমাদের নূন্যতম সৌজন্যতা ও মননশীলতাকে নিমেষে জলাঞ্জলি দিয়ে ও শক্ত করে মালকোচা এঁটে যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ি একে অপরের ওপর, সেটাকেই আমি শুধু ইঙ্গিত করার চেষ্টা করেছি আমার এ লেখায়। কাজেই আমার একান্ত আশা ও অনুরোধ, সিসিবির অরকা সদস্যরা আমার প্রবন্ধে অরকার নামোল্লেখকে কোনোক্রমেই ব্যক্তিগতভাবে নেবেননা প্লিজ।

বলাবাহুল্য, সিসিবিতে প্রেরণের জন্যে মূল লেখায় সামান্য কিছু পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে। সবশেষে, ঢাউস সাইজের প্রবন্ধখানার জন্যে পাঠকদের কাছে আগে থেকেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। থ্যাংক্স ফর ইওর টাইম।]

২০১০-এর সেপ্টেম্বরে পরিচিত দু’একটা ব্লগে ‘গ্রাউন্ড জিরো মসজিদ বনাম ড্যামেজ কন্ট্রোল’ শিরোনামে আমার একটা প্রবন্ধ প্রকাশিত হওয়ার পর গত দেড় বছরে ধর্ম নিয়ে কোনো প্রবন্ধ লেখিনি ব্লগে। এবারের বই-মেলায় প্রকাশিত আমার লিখিত “ইসলাম নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক ও মুসলিমবিশ্ব” বইয়ের পরিচিতিমূলক লেখাটা সদালাপসহ পরিচিত কয়েকটা ব্লগে প্রকাশিত হওয়ার পর সদালাপের একজন পাঠক মন্তব্য করতে গিয়ে আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, আমার লেখাগুলো ওপেন ব্লগে আলোচনার জন্যে নিয়ে আসছিনা কেন যা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাঠক প্রাপ্তি সহ পাঠকদের কারো কারো হয়ত উপকারে আসতো। এই প্রবন্ধটা লেখার আইডিয়াটা মাথায় এসেছিল মূলত তখনই।

অনেকটা স্বেচ্ছাকৃতভাবেই পরিচিত ব্লগগুলোতে ঢুঁ মারা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছি মূলত নিজস্ব কিছু পর্যবেক্ষণ ও উপলব্ধি থেকে। কারনগুলো নীচে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবো। তবে তার আগে একটা কথা অবশ্যই বলে নেয়া প্রয়োজন। তা হলো, এগুলো একান্তভাবেই আমার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও উপলব্ধি, যার সাথে যে কেউই দ্বিমত পোষন করতে পারেন।

এ্যারিজোনাতে মুভ করে আসার আগে নিউ জার্সির সাউথ জার্সিতে প্রায় বছর পাঁচেক ধরে বাস করেছি আমরা। সুবিশাল না হলেও খুব একটা ছোটও ছিলনা সেখানকার বাংলাদেশী কমিউনিটি। অসংখ্য বাংলাদেশী পরিবারের সাথে ঘনিষ্ট হওয়ার সুযোগ হয়েছিল সেখানে আমাদের। আমাদের প্রায় নিয়মিত অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি গ্যাদারিংগুলোতে ধর্ম, রাজনীতি হরহামেষাই আলোচনা হতো। এই সুদীর্ঘ পাঁচ বছরে আমি কেবল একজন ভাইয়ের (ভদ্রলোক পেশায় একজন ডাক্তার) সংস্পর্শে এসেছিলাম যিনি ইন্টারনেটে ধর্ম নিয়ে তর্ক-বিতর্ক সম্বন্ধে জ্ঞাত ছিলেন এবং তৎকালীন পরিচিত ই-ফোরামগুলোতে মাঝেমধ্যে ঢুঁ মারতেন। তিনি ব্যতীত ইন্টারনেটে ধর্ম নিয়ে তর্ক-বিতর্ক সম্বন্ধে অবহিত আর কাউকে খুঁজে পাইনি আমি আমাদের তৎকালীন সাউথ জার্সির বাংলাদেশী কমিউনিটিতে। এ্যারিজোনায় আমাদের প্রায় সাড়ে চার বছর হতে চললো। মেট্রো ফিনিক্স বর্তমানে আমেরিকার পঞ্চম বৃহত্তম শহর সম্ভবত। অন্তত দশ হাজার বাংলাদেশীর বসবাস এখানে (জনশ্রুতি অবশ্য; খাতা-কলমের জরীপ কিনা সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই)। আমার বুয়েটের বন্ধুর সংখ্যাই এখানে প্রায় ২৫~৩০ জন। কত অসংখ্য বাংলাদেশী পরিবারের সাথে আমাদের ঘনিষ্টতা হয়েছে গত চার, সাড়ে চার বছরে তা বোধহয় উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। মজার ব্যাপার হলো, আজ পর্যন্ত আমি এখানে একজনকেও খুঁজে পাইনি যিনি ব্লগে ব্লগে ধর্ম নিয়ে কিম্বা আস্তিকতা-নাস্তিকতা নিয়ে চলমান তর্ক-বিতর্ক সম্বন্ধে জ্ঞাত আছেন।

সাউথ জার্সির বা এ্যারিজোনার এই সুবিশাল বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটিতে শান্তিপ্রিয়, সাধারন ধর্মপরায়ন মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশী। এদের ‘এক্সপোজার’ বা অনুপ্রবেশ শুধুমাত্র সিএনএন কিম্বা ফক্স নিউজে; অথবা বড়জোর বিবিসি কিম্বা বাংলাদেশের প্রথম আলো, ইত্তেফাকে। এদের অনেকেই আমেরিকান মিডিয়ার নানামূখী প্রচারে ধর্ম নিয়ে সন্দিহান, বিমুখ কিম্বা ক্ষেত্র বিশেষে মিডিয়ার তথাকথিত অপপ্রচারে প্রচন্ড ক্ষিপ্ত যা তাদের অনেকের ভেতর ক্রমে প্রচ্ছন্ন প্রতিক্রিয়াশীলতা কিম্বা ধর্মীয় বিদ্বেষের জন্ম দিচ্ছে। আমি কাছ থেকে এদেরকে অনেকদিন ধরেই পর্যবেক্ষণ করছি। এবং বই লেখার মাধ্যমে ব্লগ জগতের বাইরের এই সুবিশাল দলটার কাছেই মূলত পৌছাতে চেয়েছি আমি। কেননা আমি দেখেছি, এনারা অনেকেই নানা ধরনের হার্ড কপি বই পড়েন, ম্যাগাজিন পড়েন। এদের অনেককেই আমার বইটার শুভেচ্ছা কপি দেওয়ার ইচ্ছা রাখি আমি। এছাড়া বই-মেলায় নিয়মিত বিচরণকারী আগ্রহী পাঠকবৃন্দের কেউ যদি আমার বইখানা কিনে থাকেন, তবে তো একজন সাধারন পাঠকের কাছেও আমার বইখানা পৌছালো।

ইসলামের মৌলিক বিধি-বিধান নিয়ে প্রচুর বই আছে বাজারে। এগুলো কেনার জন্যে সুনির্দিষ্ট একটা পাঠকশ্রেনীও আছেন। তবে শিক্ষিত সাধারন মুসলমানদের বড় একটা অংশ অনেক ক্ষেত্রে এসব বই কেনেননা। কেননা এসব বইয়ের ভাষা, বিষয়বস্তু কিম্বা বক্তব্যের সাথে শিক্ষিত মুসলমানদের অনেকেই নিজেকে ‘রিলেট’ তথা একাত্ব করতে পারেননা। আর আছে যুক্তিবাদ ও নাস্তিকতা প্রচারের নামে ইসলাম ধর্মকে হেয় করে প্রকাশিত অনেক বই। এ ধরনের বই প্রকাশে আগ্রহী প্রকাশকদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সীমিত সংখ্যক হলেও এ ধরনের বই কেনার জন্যেও সুনির্দিষ্ট একটা পাঠকশ্রেনী আছেন। এছাড়া আমাদের দেশের সাধারন যুবসমাজের ধর্মবিমুখ অংশটার ভেতর এ ধরনের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। প্রতি বই-মেলায় এ ধরনের নিত্যনতুন বই প্রকাশিত হওয়ার ও পূর্বে প্রকাশিত বইগুলোর পুনঃমূদ্রণ বের হওয়ার ইন্টারনেট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য আমার প্রদত্ত এ তত্ত্বকে সম্ভবত সঠিক বলে প্রমান করে। পক্ষান্তরে, আমাদের দেশের শিক্ষিত মুসলমানদের রুচী, যুক্তিবোধ, মননশীলতা, ইত্যাদির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধর্মীয় বই সম্ভবত খুব বেশী নেই বাংলাদেশে। আমার ব্যক্তিগত অভিমতে, ব্লগে ব্লগে ধর্মের পক্ষ নিয়ে, ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের সমন্বয় নিয়ে আধূনিক শিক্ষায় শিক্ষিত যেসব লেখকরা জ্ঞানগর্ভ নানা ব্লগ লিখছেন, তাদের এগুলো করার পাশাপাশি হার্ডকপি বই প্রকাশের প্রতিও দৃষ্টি দেওয়ার ও উদ্যোগী হওয়ার সম্ভবত সময় এসেছে মূলত আমাদের দেশের যুবসমাজের ধর্মবিমুখ অংশটার ধর্মবিষয়ক নেগেটিভ ধ্যান-ধারনাকে ভাঙ্গানোর ও তাদেরকে ধর্মমুখী করার মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে।

এতক্ষণ মূলত ইন্টারনেট তথা বর্তমান ব্লগ জগতের বাইরের সুবিশাল পাঠকশ্রেনীর কথা বললাম। অবশ্য যে কেউই প্রশ্ন করতে পারেন যে, হার্ডকপি বই বের করার পাশাপাশি ব্লগের পাঠকদের উপকারার্থে লেখাগুলো ব্লগে পাঠালে সমস্যা কোথায়? সমস্যা হয়ত নেইও। কিম্বা থাকলেও সেটা হয়ত একান্তভাবেই আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী। এখানে সেটা উল্লেখ না করলেও হয়ত চলতো। তারপরও সাম্প্রতিককালে ধর্ম নিয়ে ব্লগারদের তর্ক-বিতর্কের ক্ষেত্রে আমার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও উপলব্ধিকে ব্লগের পাঠকদের সাথে শেয়ার করতে চাচ্ছি।

গত নয়-দশ বছরে ইন্টারনেটে নানা ফোরাম ও ব্লগে লেখালেখি করে এবং পাশাপাশি এই সুদীর্ঘ সময় ধরে এসব ফোরাম ও ব্লগের লেখক ও মন্তব্যকারী পাঠকদেরকে পর্যবেক্ষণ করে আমার ব্যক্তিগত যে ধারনা হয়েছে তা হলো, সময়ের সাথে সাথে এসব ব্লগের লেখক ও পাঠকদের ভেতর উদারতা কিম্বা সহনশীলতা আসার পরিবর্তে তাদের ভেতর পোলারাইজেশন ক্রমে বরং বেড়েছে। সমমনা লেখক ও পাঠকরা ক্রমে জোটবদ্ধ হয়ে স্ব স্ব প্লাটফর্ম তৈরী করে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। কিম্বা বিতর্কের জন্যে কমন কোনো প্লাটফর্ম ব্যবহার করলেও সেখানে স্পষ্ট দুটো দল তৈরী হয়ে গেছে যারা সুস্থ বিতর্কের পরিবর্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একে অপরকে হেয় ও তুচ্ছ্যতাচ্ছিল্য করার এবং একে অন্যকে একেবারেই সহ্য করতে না পারার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন। এক প্লাটফর্ম থেকে আরেক প্লাটফর্মের আইডিয়োলজির প্রতি কিম্বা এক দলের অন্য দলের প্রতি ঘৃনা ও বিদ্বেষের উদগীরণ বৃদ্ধির প্রকটতা অন্তত আমার কাছে সুস্পষ্ট। এর পাশাপাশি সমমনাদের একে অপরের পিঠ চুলকানির কারনে এসব ব্লগের লেখক ও পাঠকদের দৃষ্টিভঙ্গী ক্রমে একমূখী ও সংকুচিত বলয়ের ভেতর আবদ্ধ হতে শুরু করেছে, নিজস্ব ডিফেন্স মেকানিজম ক্রমে শক্ত থেকে শক্ততর হয়েছে এবং ভিন্ন ধ্যান-ধারনা বা মতাদর্শের কারো কথাবার্তা ধৈর্য্য ধরে শোনার মনোভাব বা সহ্য শক্তি ক্রমে হ্রাসপ্রাপ্ত হয়েছে। যে কারনে ব্লগারদের ভেতর সার্বিকভাবে শেখার চেয়ে শেখানোর প্রবৃত্তি এবং উপদেশ গ্রহন করার চেয়ে প্রদান করার মানসিকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে দুই এক্সট্রিম মনোভাব বা মতবাদের মাঝামাঝি কিছু শোনার বা গ্রহন করার মানসিকতা ক্রমে বিলুপ্ত হয়েছে ফোরামগুলো থেকে।

আমার প্রকাশিত বইটার পরিচিতিমূলক লেখায় বইয়ের ভূমিকাটা তুলে দিয়েছিলাম আমি। উদ্দেশ্য ছিল বইটার বিষয়বস্তু সম্পর্কে পাঠকদেরকে কিঞ্চিৎ পূর্বধারনা দেওয়া। সেখানে না ছিল কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ের সুক্ষ্ণ বিশ্লেষন, আর না ছিল কোনো বিষয়ের প্রতি আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গীর বিস্তারিত ব্যাখ্যা। অথচ শুধু সেটুকু পড়েই আমাকে রীতিমত জাজ করে ফেললেন ব্লগের অনেকেই। নানা উপদেশ, সন্দেহ, সম্ভাব্য স্বেচ্ছাকৃত ত্রুটিপূর্ণ তথ্য প্রদানের অভিযোগ, ধমক-ধামক,… কোনো কিছুই বোধহয় বাদ গেলনা ব্লগারদের মন্তব্য থেকে। অথচ আমার বইটা তখন পর্যন্ত বই-মেলায় বেরই হয়নি। কোনো বিষয়ে একজন লেখকের দৃষ্টিভঙ্গীর বিস্তারিত বিশ্লেষন কিম্বা ব্যাখ্যা পুরোটা না শুনেই ফট করে তাকে জাজ করে ফেলার এবং গায়ে পড়ে তাকে নানা জ্ঞান ও উপদেশ দেওয়ার যে মনোভাব ও ধারা সাম্প্রতিককালে তৈরী হয়েছে ব্লগগুলোতে তা একটু লক্ষ্য করলেই কিন্তু চোখে পড়বে। এছাড়া নিজস্ব বা স্বপক্ষীয় মতাদর্শের বাইরে কারো লেখায় ঝাঁঝপূর্ণ মন্তব্য করার জন্যে ও মালকোচা মেরে ঝাপিয়ে পড়ার জন্যে একেকজন ব্লগার যেভাবে মুখিয়ে থাকেন, তা বোধহয় অধিক খোলসা করে বলার প্রয়োজন নেই। একজন পাঠক তো আমার বইয়ের ভূমিকার মাঝামাঝি পর্যন্ত পড়ে রীতিমত (আক্ষরিক অর্থে) থেমে গেলেন। একটা বাক্যের অংশবিশেষ হাইলাইট করে সেটা আগে পরিষ্কার করতে বললেন ধমকের সুরে; নইলে তিনি কিছুতেই আর আগ বাড়তে রাজী নন। এ যেন নীলক্ষেতের চাপা গলিতে দাঁড়িয়ে ঠ্যাক দিয়ে চাঁদাবাজী করার মত। একজন লেখকের উদ্দেশ্যে এ ধরনের মন্তব্য করা যে কতখানি অসৌজন্যমূলক তা বোধহয় স্পষ্ট করে বলার প্রয়োজন নেই। তবে, ঐ পাঠকের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে আমার কিন্তু কোনো অনুযোগ বা অভিযোগ নেই। কেননা আমি মোটামুটি নিশ্চিত, উনি স্বেচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি অসৌজন্যতা দেখানোর উদ্দেশ্যে কথাগুলো ওভাবে বলতে চাননি। বরং ব্লগে ব্লগে মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য করার ক্ষেত্রে অসৌজন্যমূলক আচরণের যে ধারা সাম্প্রতিককালে চালু হয়েছে, ভদ্রলোক অবচেতনভাবে সেটাকেই সম্ভবত অনুসরণ করেছেন শুধু।

ব্লগের লেখক ও পাঠকদের ভেতর আরেকটা ক্রমবর্ধমান ইন্টারেষ্টিং মনোভাব লক্ষ্যনীয়, তা হলো সহজে নিজের ভুল স্বীকার করতে না চাওয়া। আমার বইটার ভূমিকায় আমি এক পর্যায়ে লিখেছি, “… লক্ষ লক্ষ মানুষ ইরাকে প্রাণ হারাচ্ছে সুইসাইড বম্বিং-এ…”। কথাগুলো একটা বাক্যের অংশবিশেষ। পুরো বাক্যটা পড়লে এবং এ বাক্যটার আগের ও পরের দু’একটা বাক্য পড়লে কিন্তু বুঝা যাবে যে, এ কথাগুলো দ্বারা আসলে সুইসাইড বম্বিং-এ অসংখ্য নিরীহ মানুষ মারা যাওয়ার গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, আক্ষরিক অর্থে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ হারানোর ব্যাপারটা বুঝানো হয়নি। তারপরও দু’একজন পাঠক এটাকে একটা তথ্যগত ত্রুটি বলে সনাক্ত করলে প্রায় সাথে সাথেই নিজের ভুল স্বীকার করে নিয়ে এক পাঠকের মন্তব্যের প্রত্যুত্তরে আমি লিখেছিলাম, “আমি অবশ্য আক্ষরিক অর্থে ‘লক্ষ লক্ষ মানুষ’ বুঝাতে চাইনি। লেখার গতি বা ছন্দের কারনে ওটা ওরকম ভাবে চলে এসেছে। এটা একটা ‘হিউম্যান এরর’ তথা মানবিক ত্রুটি। তারপরও ত্রুটি ত্রুটিই। আমার এ বইটার পরবর্তী সংস্করন যদি কখনও বের হয়, তবে এ ত্রুটিটাকে শুদ্ধ করার চেষ্টা করবো”। “To err is human”। ভুল করার জন্যেই তো আমরা মানুষ। ব্লগে আমরা যারা লেখালেখি করি তারা বেশীরভাগই সম্ভবত এ্যামেচার লেখক এবং ধর্ম, বিজ্ঞান কিম্বা রাজনীতি- কোনো বিষয়েই আমরা সম্ভবত বিশেষজ্ঞ নই। কাজেই আমাদের লেখায়, মন্তব্যে ও প্রতিমন্তব্যে আমাদের প্রদত্ত তথ্যগত বিষয়ে ভুল-ভাল্‌ হতেই পারে। সেটাই স্বাভাবিক। এবং তা হলে সেটাকে সহজে স্বীকার করে নেয়াই কিন্তু সততা ও উদারতা। বরং বারবার কথা ঘুরিয়ে, তথ্য এদিক-সেদিক করে কিম্বা ক্রমাগত মন্তব্যের পর মন্তব্য করে নিজেকে শেষতক “আমি কিন্তু বেঠিক নই” বলে প্রমান করতে চাওয়ার মানসিকতা একধরনের ঔদ্ধত্য ও অলেখকসুলভ আচরণ। অন্তত আমার ব্যক্তিগত অভিমত সেটাই।

আমার এ লেখাটার উদ্দেশ্য কিন্তু ধর্ম নিয়ে কিম্বা আস্তিকতা-নাস্তিকতা নিয়ে ব্লগে ব্লগে বিতর্ককারী অসংখ্য লেখক ও পাঠকদেরকে প্রতি কোনোক্রমেই অসন্মান প্রদর্শন করার জন্য নয়। আমি বিশ্বাস করি, এসব লেখক ও পাঠকদের প্রত্যেকেই যথেষ্ট আন্তরিকতা নিয়ে, সৎ উদ্দেশ্যে এবং স্ব স্ব বিশ্বাস ও আইডিয়োলজিকে ডিফেন্ড করে নিজের মূল্যবান সময় ব্যয় করে এসব বিতর্ক করছেন। তাদের আন্তরিকতা ও সদুদ্দেশ্যের বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু চলমান এ বিতর্কে তারা নিজেরা কিম্বা তাদের মতাদর্শ অনুসরণকারী সমমনা পাঠকরা আখেরে কতখানি লাভবান হচ্ছেন, তাদের নিজেদের ভেতর উদারতা ও সহনশীলতা কতখানি বাড়ছে সেটা নিজে নিজেই খতিয়ে দেখার সময় এসেছে সম্ভবত। যদি দেখা যায় এসব তর্ক করে উদারপন্থি ও সহনশীল হওয়ার পরিবর্তে উল্টে ক্রমে পোলারাইজড্‌, প্রতিক্রিয়াশীল, অসহনশীল ও তর্কপরায়ন হচ্ছেন একেকজন এবং নিজেকে ক্রমে একমুখী টানেলভিশনগ্রস্থ দৃষ্টিভঙ্গীর ভেতর আটকে ফেলছেন, তবে বুঝতে হবে- “ডাল মে কুছ কালা হ্যায়”। কেননা একজন ‘রিএ্যাকশনারী’ তথা প্রতিক্রিয়াশীল মানুষ, তা তিনি ধার্মিক বা নির্ধর্মী- যে প্লাটফর্মেরই হয়ে থাকুননা কেন, ধর্মীয় ও সামাজিক উদারতার প্রতি এবং বিশ্ব মানব কল্যানের প্রতি উপকারী না হয়ে বরং ক্ষতিকর। পক্ষান্তরে একজন উদারপন্থি মানুষ, তা তিনি যে মতাদর্শীই হয়ে থাকুননা কেন, ধর্মীয় ও সামাজিক উদারতার প্রতি এবং বিশ্ব মানব কল্যানের প্রতি উপকারী; ক্ষতিকর নন।

আমার বইয়ের পরিচিতিমূলক লেখাটায় মন্তব্য করতে গিয়ে সদালাপের একজন পাঠক তার নাস্তিক বন্ধুদের প্রসঙ্গ টেনেছেন যারা স্বভাবগতভাবে সহনশীল, ইসলামবিদ্বেষী নন এবং যাদের সাথে মেলামেশায় কিম্বা অন্তরঙ্গতায় তিনি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হননি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তার উক্ত নাস্তিক বন্ধুরা সম্ভবত উদারপন্থি যাদের না নাস্তিক হওয়ায় কোনো ক্ষতি আছে, না ধার্মিক হওয়ায় কোনো ক্ষতি আছে। (সামাজিক উদারতার প্রতি হুমকী বুঝাতে)। পক্ষান্তরে, ধর্মে অবিশ্বাসী কিম্বা স্বঘোষিত নাস্তিক লেখকদের সর্বাধিক সমাগমের স্থান হিসেবে সমসাময়িক যে ব্লগগুলো পরিচিত, সেখানে সাম্প্রতিককালে যে কিছু সংখ্যক প্রতিক্রিয়াশীল ব্লগারের সমাগম ঘটেছে, তারা স্বঘোষিত নাস্তিক না হয়ে ধার্মিক হলেও সম্ভবত একইরকম ফ্যাসিষ্ট মনোভাবী হতেন এবং সেক্ষেত্রে স্ব ধর্মের পক্ষ নিয়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সম্ভবত একইভাবে চড়াও হতেন। এবং সম্ভবত সেই একই কথা প্রযোজ্য ইসলামপন্থি লেখক ও পাঠকদের কারো কারো ক্ষেত্রেও। আজ ইসলামপন্থি না হয়ে উক্ত ব্লগসমুহের উগ্রপন্থি নাস্তিক অংশটার মত হলে তারা সম্ভবত একইভাবে ইসলামবিদ্বেষ উদগীরণ করতেন তীব্রভাবে।

সহনশীলতা আসে মূলত উদারপন্থা থেকে যার সাথে ধর্মচর্চার (একইভাবে ধর্মের তীব্র বিরোধীতার তথা কট্টর নাস্তিকতার) সম্ভবত খুব একটা সম্পর্ক নেই। ধর্মীয় ও সামাজিক রক্ষণশীলতা (একইভাবে কট্টর নাস্তিকতা) এমন একটা বিষয়, এমন একটা মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, যা যথেষ্ট ধর্মচর্চার অনুপস্থিতিতেও একজন মানুষের ভেতর ডেভেলপ করতে পারে। এবং ক্রমবর্ধমান রক্ষণশীলতা থেকেই ক্রমে জন্ম হয় অসহনশীলতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতার। খোঁজ নিলে দেখা যাবে ব্যক্তিগত জীবনে আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রার্থী নিউট গিংরিচ কিম্বা রিক স্যান্টোরামের চেয়ে হয়ত অনেক ভাল খ্রিষ্টান (অর্থাৎ, উত্তম চরিত্রের মানুষ ও অধিক খ্রীষ্ট ধর্মচর্চাকারী)। অথচ ক্রমবর্ধমান রক্ষণশীলতার পথ ধরে নিউট গিংরিচ কিম্বা রিক স্যান্টোরাম ক্রমে একেকজন প্রতিক্রিয়াশীল মানুষে পরিনত হয়েছেন যাদের ভেতর থেকে উদারপন্থা বহু আগেই সম্ভবত বিলুপ্ত হয়েছে। সম্ভবত সেই একই কথা প্রযোজ্য পরিচিত ব্লগগুলোর আজকের দিনের অনেক লেখক ও পাঠকের ক্ষেত্রেও। স্ব স্ব মতাদর্শের কট্টর ও রক্ষণশীলতার পথ ধরে যাদের ভেতর থেকে উদারপন্থা ক্রমে বিলুপ্ত হয়েছে এবং স্ব মতাদর্শের বাইরের কিম্বা বিপক্ষীয় মতাদর্শীদের প্রতি তারা হয়ে উঠছেন চরম অসহনশীল। অথচ নিজ মতাদর্শের সপক্ষে কিম্বা বিপক্ষের মতাদর্শের বিরুদ্ধে নিজের দৃঢ় ও জোরালো অভিমত ব্যক্ত করার জন্যে কিন্তু অসহনশীল কিম্বা প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমার এ দাবীর সপক্ষে নীচে একটা বাস্তব উদাহরণ দেবো।

আমাদের ক্যাডেট কলেজ থেকে এইচ.এস.সি. পাশ করে বের হওয়া ক্যাডেটদেরকে নিয়ে একটা ফোরাম আছে অরকা (ORCA) নামে। অরকার সাংগঠনিক বিষয়-আশয় ও বাংলাদেশে নানা সেবা ও উন্নয়নমূলক প্রজেক্ট নিয়ে ফোরাম সদস্যরা ইমেইলে তথ্য আদান-প্রদান ও আলাপ-আলোচনাকালে ধর্ম ও রাজনীতি নিয়েও ফোরামে আলোচনা চলে আসে মাঝে-মধ্যে। ক’দিন আগে অরকা ফোরামে তেমনি একটা আলোচনা উঠলো আমাদের কলেজের ‘কলেজ মটো’ তথা ‘আদর্শবাণী’ নিয়ে। আমাদের কলেজের ‘কলেজ মটো’- “রাব্বি জিদনী ইলমা”। পাকিস্তান আমলে আমাদের ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সম্ভবত আরবীতেই কলেজ মটো চালু করা হয়েছিল সেসময়। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে কালে কালে কলেজ কর্তৃপক্ষ আরবী “রাব্বি জিদনী ইলমা” থেকে বাংলায় এটাকে ট্রানস্লেট করে “প্রভু আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন” করে ফেলে। আমার চেয়ে অনেক বছরের সিনিয়র এক এক্স-ক্যাডেট বড় ভাই, যিনি কলেজে থাকতে “রাব্বি জিদনী ইলমা” কে কলেজ মটো হিসেবে দেখে এসেছেন, পরবর্তীকালে কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনো একসময় আরবী থেকে বাংলায় কলেজ মটো ট্রানস্লেট করার বিষয়টা জানতে পেরে অরকা ফোরামে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং এর পেছনে আমাদের দেশের কুচক্রি বামপন্থি বুদ্ধিজীবীদের হীন চক্রান্ত ও ইসলাম বিরোধীতাকে আবিষ্কার ও দায়ী করেন। ওনার বক্তব্যের সমর্থনে যেমন একদল জোরালো কন্ঠ দাঁড়িয়ে যায়, ঠিক তেমনি করেই ওনার বক্তব্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায় আরেকদল জোরালো কন্ঠ। ওনার বক্তব্যের সমর্থনে দাঁড়ানো দলটার কেউ কেউ আরবীকে কোরান, আমাদের নবীর (স.) ও মৃত্যু পরবর্তী যোগাযোগের একমাত্র ভাষা হিসেবে আখ্যায়িত করা সহ এবং আরবীতে কোরান পড়ার প্রয়োজনীয়তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা সহ মুসলমানদের জন্যে আরবী ভাষাকে সবিশেষ প্রাধান্য দেওয়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সেটার পাশাপাশি আমাদের দেশের তথাকথিত কুচক্রি বুদ্ধিজীবীদের ও তাদের সমর্থকদের প্রতি ঘৃনা ও বিদ্বেষকে উগরে দেন। বিপক্ষের দলটাই বা ছাড় দেবেন কেন? আরবী কলেজ মটো “রাব্বি জিদনী ইলমা” কে সমর্থনকারী এক্স-ক্যাডেটদেরকে তারা একাত্তরের রাজাকার, তালেবান, ইত্যাদি নানা বিশেষনে ভূষিত করে একগাদা গালমন্দ করেন। ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কে অরকা ফোরামে ফোরাম সদস্যদের একে অপরকে ‘সেমি-মালাউন’ কিম্বা ‘ধর্মান্ধ তালেবান’ বলে গালাগালি করতে দেখেছি আমি। হ্যাঁ, স্ব স্ব মতাদর্শকে অপরের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সময় আমরা অবচেতন ভাবেই অনেকসময় যে চরম প্রতিক্রিয়াশীল রূপ ধারন করি তার প্রমান একদিকে যেমন আমাদের কলেজের অরকা ফোরাম, অপরদিকে ঠিক তেমনি করেই বর্তমান ব্লগগুলো সম্ভবত। আমি নিজেও আলোচ্য বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত জানিয়ে একটা ইমেইল পাঠিয়েছিলাম। সেটা ছিলঃ

Sent: Thursday, 19 January, 2012
Subject: Re: [ercc] Rabbi Zidni Ilma: my share of two cents

I couldn’t help throwing my share of two cents in the ongoing topic.

It was sometime in 1995 when I was a graduate student at a technical university in Malaysia. A Bangladeshi student used to share a room at the international student’s dormitory with two Libyan students. Sometimes I used to go to their room to meet the Bangladeshi. One day I saw an opened Arabic magazine on the bed of one of the Libyan students which had half naked to almost naked photographs of women. I was greatly shocked and equally sad seeing such pictures surrounded by Arabic texts. It took me a while (several minutes) before I could to come to sense that the way we have Bangla pornographic magazines, there are Arabic pornographic magazines too since Arabic is just like any other language as well apart from the language of our holy book and the holy Prophet (pbuh).

It was in late 1993 when I was spending 4 months in Tabligh after graduating from BUET. After spending about 2 months in Bangladesh, we joined Tongi Ijtema before leaving for India for the remaining 2 months. One day at the Ijtema field we were eating lunch or dinner and as I asked for salt from a brother (calling salt ‘lobon’), another Tablighi brother humbly reminded me that ‘lobon’ was a ‘Hindu’ word and I should have said ‘noon’ instead.

I guess the dilemma about the Arabic language and the attitude of treating some Bangla words and/or Bengali cultures as ‘Hindu’ or ‘Muslim’ are likely to remain since sometime it’s hard for us to draw a distinct line between religion and culture. However, I would like to share my own experience here from the hajj this year (this was my first hajj). On our first day in Mina camp, the Egyptian-American Ulema accompanying and leading our group advised us to pray (make doa) in each of our own mother tongue to Allah on the following day in Arafat and advised us to refrain from saying ‘ameen’ ‘ameen’ to any organized Arabic doa that some random haji groups perform and which we may encounter in Arafat. He advised us to do the same during the ‘tawaf’ of the holy Ka’ba and the ‘sa’yee’ (running between the mountains). I guess his advice alone signifies the importance of one’s own mother tongue in our religion.

Although I fully concur with the importance and rewards of reading the Quran in Arabic, reciting suras in Arabic in our prayers and with some similar arguments that some of the brothers have made, but I personally think that the ‘College Motto’ is something which should be universal in kind and that every single cadet should be able to relate himself to it. Since we always did and do have few non-Muslim cadets (no matter how small that number is), they should equally be able to relate themselves to the ‘College Motto’ as well and I think that the ‘then’ college authority must have figured it out that they did not have the right to force the non-Muslim cadets to relate themselves to some Arabic texts and therefore, translated the Arabic texts into its appropriate Bangla version, something to which everybody could relate. Not to mention that perhaps that same authority replaced ‘Islamiat’ with ‘Technical Drawing’ so that we, the cadets could score higher marks in ‘Technical Drawing’ (90~95) than what the outsiders used to usually get in Islamiat (80~85) which helped more of us come to the top in the merit list in the SSC. I don’t believe they had any evil motif behind replacing ‘Islamiat’ with ‘Technical Drawing’ other than a noble intention of seeing more cadets topping in the merit list. Thanks and wassalam…..

Abid
17/921

লেখার কলেবর ইতিমধ্যেই যথেষ্ট বড় হয়ে যাওয়ায় ইমেইলের বঙ্গানুবাদ করা থেকে বিরত থাকছি। ব্লগের অধিকাংশ পাঠকই যেহেতু কমবেশী ইংরেজী শিক্ষিত, কাজেই কেউ কিছু মনে করবেননা আশা করি। অবশ্য পাঠকরা আপত্তি করলে মন্তব্য অংশে ইমেইলের বঙ্গানুবাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রইলো। যাহোক, অরকা ফোরামে ধর্ম বিয়ষক বিতর্ক আরবী ভাষার গুরুত্বের গন্ডী পেরিয়ে ক্রমে ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিধি-বিধান নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা সহ একসময় বুশ প্রশাসনের নাইন-ইলেভেন চক্রান্ত, টুইন-টাওয়ারে নিহত ইহুদীদের সঠিক সংখ্যা, ইত্যাদি নানা বিষয় পর্যন্ত গড়ালো। এতে এক পক্ষের কেউ কেউ যেমন সেক্যুলার সংবিধানমালার অরকা ফোরামে ধর্ম নিয়ে যথেষ্ট পরিমানে আলোচনার সুযোগ না থাকার অভিযোগ এনে নিজ সদস্যপদ বাতিল করার জন্যে মডারেটরকে অনুরোধ করলেন, ঠিক তেমনি করে অপর পক্ষের কেউ কেউ অরকা ফোরামকে অধূনা ধর্মান্ধদের ফোরামে পরিনত হওয়ার অভিযোগ এনে নিজ সদস্যপদ বাতিল করার জন্যে মডারেটরকে অনুরোধ করলেন। এমতাবস্থায় আমি দ্বিতীয় আরেকটা ইমেইল পাঠিয়েছিলাম ফোরামে। সেটা ছিলঃ

Sent: Tuesday, February 7, 2012
Subject: Re: [ercc] please remove my email address from ercc- my share of two cents

There is a popular saying by Voltaire, “I may not agree with what you say, but I will defend to the death your right to say it.”

On many occasions, I’ve seen brothers requesting forum moderators to unsubscribe them from ERCC because they found that ERCC forum wasn’t a very conducive place to share their strong religious beliefs or views. Interestingly and perhaps to the same extent, I’ve also seen brothers requesting forum moderators to unsubscribe them from ERCC because they found that ERCC forum was bombarded with overly religious and zealous emails by some brothers which to them made ERCC no longer a conducive place to further spend their precious time.

I personally read the articles on the CNN website about the US and the World politics only. I don’t care and it doesn’t bother me much about what news get published in the Sports or the Entertainment sections. Yet, CNN publishes all these different news sections on their website knowing that not all subjects are equally important or interesting to each reader. As long as there isn’t an awfully vulgar picture published in the Entertainment section, I personally don’t care if singer Madonna or some Hollywood actresses are shown in their swimsuits on the CNN website since for most instances, I don’t even open the Entertainment section.

Like many others on this forum, I greatly differ from the perspective of ‘X’ bhai, ‘Y’ bhai or ‘Z’ bhai on issues like importance of the Arabic language in our religion, Rabbi Zidni Ilma as our College motto, Nine-Eleven conspiracies or the number of Jews killed in the World Trade center,… etc. I wish I could afford that much time to participate in a healthy discussion (call it an argument if you want) with them. And even if I did, I believe I would have done that being very respectful to them at the same time since they are my respected senior brothers.

As long as we are aware that there are some non-Muslim brothers too in the ERCC forum and that we are sensible, prudent and respectful to each other and to all forum members in general (including our non-Muslim brothers) when expressing ourselves, I personally think that we can discuss any and all issues on ERCC without being too zealous about one’s own or too critical about others’ religious and/or political beliefs. Because we all know, freedom of speech and/or expression comes with responsibility.

Cheers. Thanks and wassalam….

Abid
17/921

উল্লেখ্য, অন্তত দুই-আড়াই দশক পূর্বে সৃষ্ট অরকা ফোরামে ধর্ম নিয়ে উত্থাপিত তর্ক-বিতর্ক বিগত চার-পাঁচ বছর আগেও বোধহয় এহেন কদর্য বা এমন গালাগালিপূর্ণ ছিলনা। ধর্ম নিয়ে ক্রমবর্ধমান তর্ক-বিতর্কে ভাতৃপ্রতিম একদল ফোরাম সদস্যের মাঝ থেকে সম্প্রীতি ও সহনশীলতা লোপ পেয়ে ক্রমে অসহনশীলতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতা কী তীব্রভাবে তাদের মাঝে স্থান করে নেয়, অরকা ফোরাম সম্ভবত তার অন্যতম উৎকৃষ্ট একটা প্রমান।

পাঠকদের কাছে বিনীত একটা অনুরোধ, দয়া করে কেউ ধরে নেবেননা আমি আমার লিখিত ইমেইলগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিজেকে খুব সহনশীল কিম্বা উদারপন্থি বলে জাহির করার চেষ্টা করছি। বরং এখানে আমার উদ্দেশ্যই হলো, নিজেকেই সর্বাগ্রে সদুপোদেশ দেওয়া এবং যারা ধর্ম নিয়ে তর্ক-বিতর্কে অহেতুক কাঁদা ছোড়াছুড়ি থেকে ও কদর্যপূর্ণ মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য থেকে গা বাঁচাতে চান, তাদেরকে সহনশীল ও উদারপন্থি হতে সদুপোদেশ দেওয়া এ উদ্দেশ্যে যে, নিজের যুক্তিপূর্ণ মতামত প্রকাশ করার জন্যে অন্যের দেখাদেখি অসহনশীল হওয়ার আসলে প্রয়োজন নেই। আরেকটা কথা। আমার ইমেইলে উল্লেখিত অরকা ফোরামে আলোচিত ধর্ম-সংক্রান্ত তর্ক-বিতর্কের বিষয়বস্তুগুলোকে অরকা ফোরাম থেকে সদালাপ ফোরামে টেনে আনা কিন্তু আমার এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। বরং ধর্ম বা রাজনীতি নিয়ে আলোচনাকালে সহনশীলতা প্রদর্শনের আহ্ববান জানানোই আমার এ লেখার প্রধান উদ্দেশ্য। আশা করি পাঠকরা নিশ্চিতভাবেই সেটা বুঝতে পেরেছেন। কাজেই অরকা ফোরামে আলোচিত ধর্ম-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে এখানে মন্তব্য না করার জন্যে পাঠকদের প্রতি সবিশেষ অনুরোধ রইলো।

লেখাটা শেষ করবো এবার হ্বজে গিয়ে এক বাংলাদেশী ভাইয়ের সাথে পরিচয় ও সখ্যতা হওয়ার গল্প বলে। ধরে নিই ভদ্রলোকের নাম এ-বি-সি। সৌদি আরব অভিমুখে যাত্রা করার আগ দিয়ে আবুধাবী এয়ারপোর্টে হ্বজের ইহরাম পরা অবস্থায় আমেরিকার টেক্সাস থেকে আগত এই ভদ্রলোকের সাথে আমার প্রথম পরিচয়। বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব। স্ত্রীসহ হ্বজে যাচ্ছেন। মক্কা ও মদিনাতে ভদ্রলোক আমাদের হোটেলেই উঠলেন। মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা- সবখানেই আমরা একসাথে বা কাছাকাছি ছিলাম। ক্বাবা শরীফ তাওয়াফও করেছি একসাথে কয়েকবার। একসাথে খাওয়া-দাওয়া এবং ফ্রি টাইমে গল্প-গুজব করার সুবাদে কথায় কথায় জানতে পারলাম ভদ্রলোক অন্তত দুটো ব্লগে মাঝে-মধ্যে লেখেন। তিনি প্রধানত লেখেন পূর্বোল্লেখিত ধর্মে অবিশ্বাসী লেখকদের সর্বাধিক সমাগমের স্থান হিসেবে সর্বজনবিদিত একটা ব্লগে। তার গবেষনা ও লেখালেখির বিষয় হলো- একাত্তরে বাঙ্গালীদের গণহত্যা, একাত্তরের বিরঙ্গনারা (অর্থাৎ একাত্তরে হিন্দু ও মুসলমান যেসব মা-বোনদের শ্লীলতাহানী হয়েছে) এবং বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান। ওনার গবেষনার উক্ত বিষয় তিনটা নিয়ে লেখালেখির জন্যে ঐ সবিশেষ ব্লগ ছাড়া উপযুক্ত আর কোনো ব্লগ নেই, সেটা বিশ্বাস করা কঠিন। কেননা এসব লেখালেখির জন্যে আজকাল ভুরি ভুরি ব্লগ আছে। নাস্তিকপন্থি ও ইসলামবিদ্বেষী ব্লগ হিসেবে কারো কারো কাছে যে ফোরামটা বিবেচিত, সেই ব্লগটাকে ভদ্রলোক কেন বেছে নিলেন তার লেখালেখির জন্যে, সে প্রশ্ন আমি তাকে করিনি (যেমনটা আমাকে কেউ কেউ করে থাকেন)। করার প্রয়োজনও মনে করিনি। তিনি কোথায় লিখবেন আর কোথায় লিখবেননা সেটা একান্তভাবেই তার নিজস্ব বিচার-বুদ্ধি, অভিরুচী ও পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার। আমি নিশ্চিত, উক্ত ব্লগে লেখার বিষয়ে নিশ্চয় একটা সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গী ও ব্যাখ্যা আছে ভদ্রলোকের কাছে। যাহোক, ব্যক্তিগত জীবনে ভদ্রলোক যে একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান, তাতে আমার নিজের অন্তত সন্দেহ নেই। কেননা কম করেও তিন সপ্তাহ ধরে ভদ্রলোককে খুব কাছ থেকে ধর্মপালন করতে দেখেছি আমি। ভদ্রলোকের সাথে আলাপ করে আমার যা মনে হয়েছে তা হলো, উনি সম্ভবত একজন উদারপন্থি মানুষ যার ব্যক্তিগত ধর্মচর্চা তথাকথিত ধর্মীয় রক্ষণশীল মনোভাবের সাথে সম্ভবত সম্পর্কবিহীন। ব্যাপারটা সংক্ষেপে একটু ব্যাখ্যা করে বলি।

আমাদের দেশের ধর্মীয় রক্ষনশীল মুসলিমদের ক্ষেত্রে একটা সবিশেষ মনোভাব কমবেশী প্রযোজ্য। এবং অবাক হওয়ার বিষয় হলো, একজন মানুষ যত বেশী রক্ষনশীল হতে শুরু করেন, তিনি তত বেশী ঐ সবিশেষ মনোভাবের গন্ডীর ভেতরে ক্রমশঃ আবদ্ধ হতে থাকেন। বেশ লম্বা একটা তালিকা আছে এই মনোভাবের সীমারেখার ভেতরে অবস্থিত বিষয়গুলোর। আমি এখানে গোটা কয়েক বিষয় উল্লেখ করবো শুধু। বাকিগুলো পাঠকরা নিজে নিজেই সম্ভবত বের করে নিতে পারবেন আশা করি। যেমন: একুশের অনুষ্ঠান উদযাপন আসলে একধরনের পূজা, রবিন্দ্রনাথপ্রীতি আসলে প্রকারান্তরে হিন্দুপ্রীতি, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উল্লেখযোগ্য একটা অংশ মারাত্মক হিন্দুয়ানী, অমুসলিম দেশগুলোতে বিশেষ করে ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুরা চরম অশান্তিতে থাকলেও মুসলিম দেশগুলোতে বিশেষ করে বাংলাদেশে অমুসলিম সংখ্যালঘুরা নিদারুন সুখে-শান্তিতে আছে, আমেরিকায় রিপাবলিকান পার্টি ও ভারতে বিজেপি সহ অমুসলিম দেশগুলোতে ধর্মীয় রক্ষণশীল দলগুলোর উত্থানে বা বিজয়ে সেসব দেশের সংখ্যালঘূ মুসলিমদের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা রীতিমত উদ্বিগ্ন হলেও মুসলিম দেশগুলোতে ধর্মীয় রক্ষণশীল দলগুলোর বিজয়ে বা ক্ষমতা গ্রহনে আমরা সবিশেষ পুলকিত, আমাদের দেশের শিয়া কিম্বা আহমদিয়া মতাবলম্বীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষনা করা উচিত, বিশ্বে মুসলিমদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যে কোনো সমস্যার পেছনে মূলত ইহুদীরা দায়ী, নাইন-ইলেভেন মূলত বুশ ও ইহুদীদের চক্রান্ত, টুইন-টাওয়ার ধ্বংসের খবর আমেরিকান ইহুদীরা আগে থেকেই জানতো, বিশ্বব্যাপী ইহুদী-নাসারারা ইসলাম ধ্বংসের জন্যে বিনিদ্র চক্রান্ত করে চলেছে,… ইত্যাদি, ইত্যাদি। চাইলে এ তালিকা আরও অনেক লম্বা করা যাবে। তবে তার বোধহয় প্রয়োজন নেই। অবশ্য আমার প্রদত্ত ওপরোক্ত তালিকাটা ‘অল-ইনল্কুসিভ’ কোনো তালিকা নয় এবং এ তালিকার সবগুলো বিষয়ে রক্ষনশীল মুসলিমদের সবাই হয়ত সমান মনোভাবও পোষন করেননা। কিন্তু এটা যে কমবেশী একটা কমন তালিকা সে বিষয়ে আমি মোটামুটি নিশ্চিত। কী শিক্ষিত, কী অশিক্ষিত; কী মুসলিম ওলামা, কী সাধারন ধর্মানুরাগী মুসলিম- রক্ষনশীল মুসলমানদের মাঝে এ মানসিকতার ক্রমবৃদ্ধি ও প্রাবল্য আমি অন্তত স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করেছি ব্যাপকভাবে; তাতে ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে তারা একেকজন স্বল্প ধর্মচর্চাকারী কিম্বা অধিক ধর্মচর্চাকারী যেটাই হয়ে থাকুননা কেন। স্ব স্ব গোত্রীয় সুনির্দিষ্ট তালিকাভূক্ত এহেন গতানুগতিক মনোভাব ধারনের ব্যাপারটা একজন কট্টর নাস্তিক কিম্বা একজন রক্ষনশীল অমুসলিমের ক্ষেত্রে কমবেশী একইভাবে প্রযোজ্য হলেও (বর্তমান বিশ্ব-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলাম ও মুসলিম বিরোধীতা সম্ভবত অন্যতম প্রধান অংশ যার) আমি কেবল রক্ষনশীল মুসলমানদের প্রসঙ্গই এখানে উল্লেখ করলাম।

আমার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা রক্ষনশীল মুসলমানদের ওপরোক্ত (আমার পর্যবেক্ষিত) ছকে বাধা, গতানুগতিক এ মানসিকতার বা গন্ডীটার ওপরে উঠে নিরপেক্ষ দৃষ্টি নিয়ে তালিকাভূক্ত বিষয়গুলোকে দেখার। নিঃসন্দেহে আমি এখনও নিরপেক্ষ দৃষ্টি অর্জন করতে পারিনি। এবং কোনোদিন হয়ত পারবোও না। কেননা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গীর সীমাবদ্ধতার দেয়াল ডিঙ্গিয়ে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গতানুগতিক গন্ডীর বাইরে বেরুনোর এ প্রচেষ্টায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে তা প্রচেষ্টাটা যত সৎ ও আন্তরিকই হয়ে থাকুকনা কেন। কাজেই তালিকাভূক্ত বিষয়গুলোতে আমার সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গী স্বপক্ষীয় অথবা ভিন্নপক্ষীয়- যে কারো দিকেই অধিক ঝুঁকা হতে পারে। তবে এটুকু অন্তত আশা রাখি, মৃত্যু পর্যন্ত নিরপেক্ষ দৃষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে যাবো ইনশাল্লাহ।

ধর্মীয় রক্ষণশীলতা, ধর্মীয় উদারপন্থা ও ধর্মচর্চা- এই ত্রিমুখী সমীকরণ নিয়ে ভবিষ্যতে কখনও সুযোগ হলে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে রইলো। এই তিনের টানাপোড়েন নিয়ে একটা সত্য ঘটনার কথা বলে আজকের লেখা শেষ করবো।

মেট্রো ফিনিক্সের চ্যান্ডলার শহরে অবস্থিত আইসিইভি মসজিদ ফিনিক্সের অন্যতম বৃহৎ, সুদৃশ্য ও ওয়েল-অরগানাইজড্‌ মসজিদগুলোর একটা। এই মসজিদের ‘সানডে ইসলামিক স্কুল’-এর প্রিন্সিপাল ‘এক্স-ওয়াই’ ভাই একজন বাংলাদেশী। ব্যক্তিগত জীবনে একজন উচ্চ শিক্ষিত (এবং কাকতলীয়ভাবে একজন এক্স-ক্যাডেট), উচ্চ পেশাজীবী, অত্যন্ত ধার্মিক ও একজন নিবেদিত প্রাণ কমিউনিটি ওয়ার্কার হিসেবে নিজ যোগ্যতা বলেই তিনি উক্ত স্কুলের প্রিন্সিপাল পদে স্থলাভিষিক্ত। দীর্ঘদিন ধরে মেট্রো ফিনিক্সে বসবাসকারী বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেকে ওনাকে ‘বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব ফিনিক্স’ তথা ‘বাপ’-এর প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্যে অনুরোধ করে আসছিলেন। ঘুরেফিরে পরিচিত মুখগুলো থেকে প্রতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া কিম্বা তুলনামূলক কম যোগ্যতাসম্পন্ন কারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া- কারন যেটাই হয়ে থাকুকনা কেন, পরিচিতদের অনুরোধে ভদ্রলোক সম্ভবত বছর খানেক বা বছর দেড়েক আগে শেষপর্যন্ত ‘বাপ’-এর প্রেসিডেন্ট হতে রাজী হলেন। তবে পরিচিত কারো কারো অনুরোধ রক্ষা করতে গিয়ে তিনি ‘বাপ’-এর প্রেসিডেন্ট হওয়ায় গোল বাঁধলো অন্যখানে। আইসিইভি মসজিদের ‘সানডে ইসলামিক স্কুল’-এ ছেলেমেয়েকে প্রেরণকারী বেশ কতগুলো বাংলাদেশী পরিবার তাদের ছেলেমেয়েকে স্কুল থেকে প্রত্যাহার করলেন কিম্বা প্রত্যাহার করার হুমকী দিলেন। কারনটা ছিল মেট্রো ফিনিক্সে প্রতিবছর যে একুশের অনুষ্ঠান, বৈশাখী মেলা, পিঠা উৎসব, ইত্যাদি অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়, তাতে অন্যান্য বাংলাদেশী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি ‘বাপ’ও জড়িত থাকে এবং সেটার রানিং প্রেসিডেন্ট হিসেবে ‘এক্স-ওয়াই’ ভাইকেও নিশ্চয় এসব অনুষ্ঠানে কমবেশী জড়িত হতে হবে। মজার ব্যাপার হলো, ধর্মীয়ভাবে বিতর্কিত (আরও একধাপ এগিয়ে কারো কারো অভিমতে হিন্দুয়ানী) এসব অনুষ্ঠানের সাথে ‘সানডে ইসলামিক স্কুল’-এর প্রিন্সিপালের জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা ও আশংকায় ইসলামিক স্কুল থেকে নিজ নিজ বাচ্চাকে প্রত্যাহার করলেন কিম্বা প্রত্যাহার করার হুমকী দিলেন যেসব বাংলাদেশী বাবা-মায়েরা, তাদের অনেকেই ধর্মীয় জ্ঞানে এবং দৃশ্যত ধর্ম-কর্ম পালনে ‘এক্স-ওয়াই’ ভাইয়ের ধারে-কাছেও নন। প্রতিবছর বন্যায় ও শীতে স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশে প্রায় নিয়মিতভাবে আর্থিক সাহায্য পাঠায় যে ‘বাপ’ এবং ‘এক্স-ওয়াই’ ভাইয়ের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা এবং কমিউনিটি ওয়ার্কের পূর্ব-অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যে সংগঠনটা উত্তরোত্তর আরও সংগবদ্ধ ও সুসংহত হতে পারতো যা বাংলাদেশে সম্ভবত আরও অধিক আর্থিক অনুদান ও মানবিক সাহায্য পাঠাতে সমর্থ হতো, শুধু একুশের অনুষ্ঠান বা বৈশাখী মেলা আয়োজনে বা উদযাপনে অংশগ্রহনের দায়ে তেমন একটা সংগঠন ‘এক্স-ওয়াই’ ভাইয়ের মত একজন যোগ্য মানুষকে ধরে রাখতে পারলো না। আমার জানা মতে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মাস কয়েক পরেই ‘এক্স-ওয়াই’ ভাই ‘বাপ’ থেকে পদত্যাগ করেন মূলত ইসলামিক স্কুলের প্রিন্সিপালের পদখানা ধরে রাখতে, যে স্কুলটা তার নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত সম্ভবত।

মার্চ, ২০১২

১,৬৮৭ বার দেখা হয়েছে

১৩ টি মন্তব্য : “আমি কেন ব্লগে লেখালেখি কমালাম?”

  1. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    প্রথম অংশটা যেহেতু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার পতিপ্রেক্ষিতে বলা তাই তেমন ধরতে পারিনি। চোখ বুলিয়ে গেছি। তবে শেষের অংশটার সাথে খুব ভালো ভাবে নিজেকে রিলেট করতে পেরেছি। আরিজোনার যেমন 'বাপ' ঠিক তেমনি বে-এড়িয়াতে আছে 'বাবা' (বাংলাদেশ এসোশিয়েশন অব বে-এড়িয়া)। এই বছর 'বাবা' থেকে আমাকে প্রেসিডেন্ট বানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম কাজই ছিল একুশের অনুষ্ঠান অরগানাইজ করা। যতদূর সম্ভব চেষ্টা করেছি পোলারাইজেশন দূর করতে। আমার অনেক পরিচিত রক্ষণশীল ধার্মিক বাংলাদেশি এসেছিল এবং বলেছে আমি অরগানাইজ করছি বলেই তারা এসেছে। কথা সেটা না - যে যেভাবে থাকতে চায় সেভাবে থাকার ব্যাপারে তো কারও কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। আমিস জাতির থেকে রক্ষণশীল আর কেউ নেই। তাতে ক্ষতি কি? প্রী-আরবানিক জীবনযাপন করে আমিসরা তো দিব্যি তাদের মতো ভাল আছে। এখন সেই সিনিয়র ভাই বাপের থেকে ইসলামিক স্কুলের প্রেসিডেন্ট হওয়াটাকে গুরুত্ব দিলে তাতেও তো কোন প্রশ্ন থাকার কথা নয়। আমাদের এখানেও অনেক মহিলা আছেন যারা সত্যিকার অর্থেই অসূর্যাস্পর্শা জীবনযাপন করেন। সেটা তাদের চয়েস। আমি আসলে বুঝতে চাচ্ছি আপনি কি বলতে চাচ্ছেন লেখাটায়।


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন
    • আব্দুর রহমান আবিদ (৮০-৮৬)

      নীচে মাহমুদ যেমনটা বলেছে- "নিজের যুক্তিপূর্ণ মতামত প্রকাশ করার জন্যে অন্যের দেখাদেখি অসহনশীল হওয়ার আসলে প্রয়োজন নেই"। আমার লেখার অন্যতম উদ্দেশ্য এটাই। এছাড়া বে-এরিয়ায় একুশের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে যেয়ে তোমাকে যে পোলারাইজেশন দূর করতে হয়েছে বলছো, আমি সেই অধূনা পোলারাইজেশনের কথাও খানিকটা দেখানোর চেষ্টা করেছি। জীবন-যাপনে নিজস্ব চয়েস অবশ্যই কাম্য। তবে দৃষ্টিভঙ্গীর সীমাবদ্ধতা সেই চয়েসকে ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণ করে তাকে আরও সীমিত পরিসরে আবদ্ধ করে ফেললে সেটা অনেক ক্ষেত্রে অকল্যানের দিকে অগ্রসর হয়। নইলে পোলারাইজেশন বৃদ্ধি পেতনা। ধন্যবাদ।

      জবাব দিন
      • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)
        জীবন-যাপনে নিজস্ব চয়েস অবশ্যই কাম্য। তবে দৃষ্টিভঙ্গীর সীমাবদ্ধতা সেই চয়েসকে ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণ করে তাকে আরও সীমিত পরিসরে আবদ্ধ করে ফেললে সেটা অনেক ক্ষেত্রে অকল্যানের দিকে অগ্রসর হয়।

        এটা একটা খুবই বাস্তব কথা। আজ যে উপজাতি বা আদিবাসীরা মার খাচ্ছে এবং নিজের অধিকার আদায়ে অসমর্থ হয়ে পড়ছে তার কারণ হাজার হাজার বছর আগে সেই সুদূর অতীতে তারা ঠিক করেছে তারা সময়ের সাথে বদলাবে না। একই রকম থাকবে। ঠিক তেমনি আজকে যারা ধর্মের নামে বলেন বা অন্যকোন মতাদর্শের কারণে বলেন অতিমাত্রায় রক্ষনশীল হয়ে যাচ্ছে তারা আসলে তাদের বংশধরদের জন্য আগামীতে কঠিন সময় রেখে যাচ্ছে। সচেতন মানুষ হিসেবে তাদের সামনে এই ব্যাপারটা তুলে ধরা দায়িত্ব মনে করি। কেউ না বুঝলে তো আর তাকে জোর করে বোঝানো যাবে না। জীবন আসলে নির্ভর করে আমি কোন চয়েসটা বেছে নিচ্ছি তার ফলাফলের উপর।


        “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
        ― Mahatma Gandhi

        জবাব দিন
        • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

          বাংলাদেশের উপজাতিদের বেশীরভাগই আদিবাসী নয়। বাংলাদেশে বাঙালীরাই আদিবাসী । কোন একটি জাতি বা এথনিসিটির মার খাওয়ার মূল কারণ তার সংস্কৃতি-ঐতিহ্য বা রক্ষণশীলতা নয়। তার সামরিক, এ্যাকাডেমিক ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা।

          জবাব দিন
          • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

            বিষয়টা নিয়ে আমার তেমন কোন লেখাপড়া নেই। তবে সাধারণ জ্ঞানে যা বুঝি খুব রক্ষণশীল মানুষ পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হতে পারে না। এতে সে সামাজিক যোগাযোগ হারায় ফলে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। আর অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষ ক্রমশ লেখাপড়া, সামরিক সবক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ে। শু্রুটা তাহলে রক্ষণশীলতা দিয়ে হলো না?


            “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
            ― Mahatma Gandhi

            জবাব দিন
            • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

              "অর্থনীতির সাথেই সবকিছু জড়িত", এটা মার্কসবাদী কথা। মার্কসবাদ অনেক আগেই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত জীবনেইতো রক্ষণশীল অনেক মানুষকেই অর্থনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী দেখেছি। পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হওয়া খুব প্রয়োজনীয় কিছু না। মানুষ উদ্ভিদকূল ও প্রাণীকুল থেকে পৃথক; অভিযোজন তাদের ক্ষেত্রে বেশী প্রযোজ্য। এই আমিই সতের বছর ইউরোপে কাটিয়েছি, কোনদিন মদ্য স্পর্শ করিনি, তার মানে দাঁড়ালো, আমি অভিযোজিত হইনি। এই অভিযোজিত না হওয়ায় আমার কোন সমস্যা হয়নি। রক্ষণশীলতা খারাপ কি ভালো এটা বুঝতে হলে আগে রক্ষণশীলতার সংজ্ঞা দাঁড় করানো প্রয়োজন।

              জবাব দিন
  2. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    :clap: :clap: :clap:
    এখন পড়লাম। পরে মন্তব্য করছি।
    তবে আপাতত এক্টা কথাই বলবো সহনশীলতার বড় অভাব আজ।
    সুন্দরভাবেও যে তরক করা যায় এটা মনে হয় আমরা হাসিনা-খালেদাকে অনুসরণ করে ভুলে গেছি।
    ওরাই আজ আমাদের আদরশ।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  3. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    আবিদ ভাই,
    পোষ্টের সম্ভাব্য মূল বক্তব্য হিসেবে কয়েকটা লাইনের মধ্য থেকে আমি বেছে নিচ্ছি নিচেরটাঃ

    নিজের যুক্তিপূর্ণ মতামত প্রকাশ করার জন্যে অন্যের দেখাদেখি অসহনশীল হওয়ার আসলে প্রয়োজন নেই

    - আর ধর্ম নিয়ে আলাপ করতে গিয়ে ধার্মিক+নিধার্মিক+নাস্তিকদের মধ্যে বেশিরভাগই যে রকম উগ্র প্রতিক্রিয়াশীলতা প্রকাশ করে তা' রীতিমত আশংকাজনক।

    তবে এদের সকলের কাছে আমি অনেকাংশে ঋণী। বিজ্ঞান বিষয়ে আমার জানাশোনা খুব একটা ভালো ছিল না। বিজ্ঞান সম্পর্কে পড়াশুনার জন্য এদের তৎপরতা অনেক অনুপ্রেরণা দেয়। তাই কিছুদিন ধরে epistemology নিয়ে পড়া করছি।

    আপনার পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় থাকলাম।


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  4. সুমন্ত (১৯৯৩-১৯৯৯)

    অনেক ভাল লাগল আবিদ ভাই লেখাটা পড়ে। যত দিন যাচ্ছে সমাজ থেকে সহনশীলতা দূরে সরে যাচ্ছে। এমনকি অনেক উচ্চশিক্ষিত লোকজনের সাথে কথা বলতে গেলেও বিশ্বাসই হতে চায় না যে তারা উচ্চশিক্ষিত। ধর্মের কথা এলেই যেন মাথার মধ্যে একটা দরজা বন্ধ হয়ে যায়।

    জবাব দিন
  5. ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

    ধর্মের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে মূলতঃ ইহুদীরা। তাদের প্রচারণা: ধর্ম প্রাচীনপন্থী ব্যাপার-স্যাপার, এ যুগে ধর্ম অচল। অথচ ধর্মের মধ্যে রয়েছে নৈতিকতা বোধ ও শালীনতা বোধ। যা ব্যক্তি ও জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইহুদীদের উদ্দেশ্য সব কয়টি বিশ্ব ধর্ম ধ্বংস করে দেয়া। কাজটি কমপ্লিট হয়ে যাওয়ার পর 'দে উইল কাম উইথ দেয়ার ওউন'।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।