(ক্যাডেট) কমলাকান্তের জবানবন্দী

সেই ইডিখোর কমলাকান্তের অনেকদিন কোনো সংবাদ পাই নাই।কলেজ থেকে বের হওয়ার পর অনেক সন্ধান করিয়াছিলাম,অকস্মাৎ সার্টিফিকেট নিতে এসে তাকে ভিপি অফিসের সামনে দেখিলাম।দেখি যে,এইচ পি ভিপি অফিসের সামনে দাঁড়াইয়া,দেয়ালে ঠেসান দিয়া চক্ষু বুজিয়া কি জানি ভাবিতেছে।মনে করিলাম তেমন কিছু না,এইচ পি লোভে পড়িয়া গাছ হইতে ফল-ফলাদী চুরি করিয়াছে।অন্য সামগ্রী কমলাকান্ত চুরি করিবে না নিশ্চিত জানি।একজন বেয়ারাও দেখিলাম।আমি বড় দাঁড়াইলাম না।কি জানি,চুরি বিদ্যা শিখাবার জামিন আবার আমাকেই বলে কিনা।তফাতে থাকিয়া দেখিতে লাগিলাম যে কান্ডটা কী হয়। কিছুকাল পরে কমলাকান্তের ডাক হইল।তখন বেয়ারা তাকে সাবধান করাইয়া তাহাকে সঙ্গে করিয়া অফিসে নিয়া গেল।দাঁড়াইয়া দুই একটি কথা শুনিয়া ব্যাপারখানা বুঝিতে পারিলাম। অফিসে,প্রথমত ডেস্কের পিছনে ভিপি বিরাজ করিতেছেন।ভিপি একজন সিনিওর শিক্ষক,পদে ও গৌরবে এসোসিয়েট প্রফেসর।কমলাকান্ত আসামী নয়,সাক্ষী।মোকদ্দমা ডিউটি মাস্টারের চায়ে বাটলারের লবণ দেয়া।ফরিয়াদি রাখাল স্যার। কমলাকান্তকে সামনে দাঁড়া করাইয়া দিল।তখন কমলাকান্ত মৃদু হাসিতে লাগিল।বেয়ারা ধমকাইল, “হাস কেন?” কমলাকান্ত জোড়হাত করিয়া বলিল, “বাবা,কার গাছে উঠেছি যে আমাকে এর ভিতরে আনিলে?”বেয়ারা কথাটা বুঝিলেন না।দাড়ি ঘুরাইয়া বলিলেন, “তামাশার জায়গা এ নয়।ওথ পড়।” একজন স্টাফ তখন ওথ পড়াইতে আরাম্ভ করিল।বলিল, “বল,আমি প্রিন্সিপালকে প্রত্যক্ষ জানিয়া………” কমলাকান্ত। (সবিস্ময়) কী বলিল?

স্টাফ। শুনতে পাও না- “প্রিন্সিপালকে প্রত্যক্ষ জেনে-”

কমলকান্ত। প্রিন্সিপালকে প্রত্যক্ষ জেনে!কী সর্বনাশ!

ভিপি দেখিলেন সাক্ষীটা কী একটা গন্ডগোল বাধাইতেছে।জিজ্ঞাসা করিলেন, “সর্বনাশ কী?”

কমলা। প্রিন্সিপালকে প্রত্যক্ষ জেনেছি এই কথা বলতে হবে?

ভিপি। ক্ষতি কি? ওথ এর ফারমই এই।

কমলা। স্যার সুবিচারক বটে।কিন্তু একটা কথা বলি কি,সাক্ষ্য দিতে দুই একটা সত্য কথা বলি,না হয় বলিলাম-কিন্তু গোড়াতেই এত বড় একটা মিথ্যা বলিয়া আরাম্ভ করিব,সেটা কি ভাল?

ভিপি। কেন?মিথ্যা কেন?

কমলাকান্ত মনে মনে বলিল, “এত বুদ্ধি থাকিলে কি আপনি ভিপি হইতেন?তাইলে তো আপনি ক্যাডেটই হইতেন।”প্রকাশে বলিল, “স্যার,আমার একটু একটু বোধ হইতেছে কি যে,প্রিন্সিপাল স্যার ক্যাডেটদের জন্য ঠিক প্রত্যক্ষের বিষয় নয়।আমার চোখের দোষই হউক আর যাই হউক,এ পর্যন্ত প্রিন্সিপাল এসেম্বলী বা ইন্সপেকশনেও ঘুমের কারণে তাহাকে প্রত্যক্ষ দেখিতে পারি নাই।আমি যখন তাহাঁকে এ ঘরের ভিতর প্রত্যক্ষ পাইতেছি না,তখন কেমন করিয়া বলি-আমি প্রিন্সিপালকে প্রত্যক্ষ জেনে-”

রাখাল স্যার চটিলেন।তাহাঁর মূল্যবান ক্লাসের সময়,যা সেকেন্ডে সেকেন্ডে হাস্যরসের প্রসব করে,তা এই সাক্ষী নষ্ট করিতেছে।স্যার তখন গরম হইয়া বলিলেন,সাক্ষী ক্যাডেট,Boring Jokes ক্যাডেটদের জন্য রাখিলে ভাল হয় না?এখানে ভিপি অফিসের মতে চলিতে স্থির কর।

কমলা। আপনি বোধ করিতেছি রাখাল স্যার?

রাখাল স্যার। (হাসিয়া) কিসে চিনিলে?

কমলা। বড় সহজে।সাদা শার্ট,ছাই প্যান্ট,কলেজ টাই ও আপনার ট্রেডমার্ক মুখ দেখিয়া।তা স্যার এ আপনাদের জন্য Boring Jokes নয়।আপনারা প্রিন্সিপালকে প্রত্যক্ষ দেখেন স্বীকার করি,যখন মিল্ক টাইম এ স্টাফ লাউঞ্জে যান।স্যার সরোষে উঠিয়া ভিপিকে বলিলেন, “I ask 5XED for this Cadet for the insult to me in the office” ভিপি বলিলেন, “O Rakhal,the Cadet is your own witness,and you are at liberty to send him away if you like” এখন কমলাকান্তকে বিদায় দিলে রাখাল বাবুর মোকদ্দমা প্রমাণ হয় না,তাই তিনি কিছু না বলিয়া চুপ করিয়া গেলেন। ভিপি গতিক দেখিয়া,স্টাফকে আদেশ করিলেন যে “ওথের প্রতি ক্যাডেটের objection আছে-উহাকে simple affirmation দাও।স্টাফ তখন কমলাকান্তকে বলিল, “আচ্ছা ও ছেড়ে দাও-বল আমি ওথ নিচ্ছি-”

কমলা। কী ওথ নিচ্ছি,তা জানিয়া ওথ নিলে ভাল হয় না? স্টাফ ভিপির দিকে চাহিয়া বলিল, “স্যার,ক্যাডেট বড় মখরা” রাখাল স্যার হাঁকিলেন, “Very Obstructive”

কমলাকান্ত। (রাখাল স্যারের প্রতি) সাদা কাগজে দস্তখত করিয়া লওয়ার প্রথাটা অফিসের বাইরে চলে জানি,ভিতরেও চলিবে কি?

রাখাল স্যার। সাদা কাগজে কে তোমার দস্তখত লইতেছে?

কমলা। কি ওথ নিতে হইবে তাহা না জানিয়া ওথ নেয়া,আর এপোলেট না দেখিয়া জুনিওর ঝাড়ি দেয়া একই কথা।

ভিপি তখন স্টাফকে আদেশ করিলেন যে “ওথ আগে ইহাকে শুনাইয়া দাও-গোলমালে কাজ নাই” স্টাফ তখন বলিলেন, “শোন,তোমাকে বলিতে হইবে যে,আমি ওথ নিচ্ছি যে একজন ক্রসবেল্ট হোল্ডার হইয়া আমি কোন কথা গোপন করিবনা-সত্য ভিন্ন আর কিছু বলিব না।

কমলা। থ্রী চিয়ার্স হিপ হিপ হুররে

স্টাফ। সে আবার কি?

কমলা। ওথ নেন,আমি নিচ্ছি। কমলাকান্ত তখন আর গোলযোগ না করিয়া ওথ পাঠ করিল।তখন তাহাকে জেরা করিবার জন্য রাখাল স্যার উঠিয়া দাঁড়াইলেন।কমলাকান্তকে চোখ রাঙ্গাইয়া বলিলেন,এখন আর বিটলামি করিও না।যা জিজ্ঞেস করিব ঠিক তাই বল।বাজে কথা ছাড়িয়া দাও। কমলাকান্ত তখন ভিপির দিকে ফিরিয়া বলিল,অথচ আমাকে ওথ নেয়াইলেন যে কোন কথা গোপন করিব না।স্যার,আজকে একটা হাউস কালচারাল ফাংশান ছিল,যাওয়ার ইচ্ছা ছিল,কিন্তু ইচ্ছা এখানেই মিটিল।রাখাল স্যার হাউস মাস্টার,আমি এইচ পি।উনি যা বলাইবেন তাহাই বলিব,যাহা বলাইবেন না তাহা বলিব না।যা না বলাইবেন,তা কাজেই গোপন থাকিবে।ওথ ভঙ্গের অপরাধ লইবেন না।

ভিপি। যাহা আবশ্যক বিবেচনা করিবে তাহা না জিজ্ঞেসা হইলেও বলিতে পার। কমলাকান্ত তখন সেল্যুট করিয়া বলিল, “বহুত খুব।” রাখাল স্যার তখন জেরা আরাম্ভ করিলেন “তোমার নাম কী?”

কমলা। ক্যাডেট কমলাকান্ত

রাখাল স্যার। ক্যাডেট নম্বর কত? কমলাকান্ত ক্যাডেট নম্বর বলিল।রাখাল স্যার তখন জিজ্ঞেসা করিলেন, “ক্লাস?”

কমলা। আমি কি একটা ক্লাস?

রাখাল স্যার। তুমি কোন মানের ক্যাডেট?

কমলা। নিম্নমানের

রাখাল স্যার। কোন ফর্ম?

কমলা। ডি ফর্ম

রাখাল স্যার। দূর হোক ছাই!এমন ক্যাডেটও কলেজে আছে!বলি,তোমার ক্লাস আছে?

কমলা। জী না স্যার।

ভিপি দেখিলেন,রাখাল স্যারের কথায় কাজ হইবে না। বলিলেন, “সেভেন এইট নাইন নানা ক্লাস আছে কলেজে।তুমি কোন ক্লাসের?”

কমলাকান্ত। স্যার,এ রাখাল স্যারের বোকামী।দেখিতেছেন আমার গায়ে ক্রসবেল্ট,এপোলেটে দুই স্টার,ইহাতেও যে স্যার বুঝেন নাই যে আমি ক্লাস টুয়েলভের ক্যাডেট,ইহা আমি কি প্রকারে জানিব?

ভিপি লিখিলেন, “ক্লাস টুয়েলভ।”তখন রাখাল স্যার জিজ্ঞেসা করিলেন, “কলেজে তোমার বয়স কত?”

অফিসে একটা ক্লক ছিল-তাহাঁর পানে চাহিয়া হিসাব করিয়া কমলাকান্ত বলিল “আমার বয়স ৬ বছর,৭ মাস,৪দিন,১০ ঘণ্টা……

রাখাল স্যার। আরে জ্বালা,তোমার ঘন্টা মিনিট কে চায়?

কমলা। কেন,এইমাত্র ওথ নেয়াইলেন যে কোন কথা গোপন করিব না।

রাখাল স্যার। তোমার যা ইচ্ছা কর,আমি তোমায় নিয়ে আর পারি না।তোমার নিবাস কোথায়?

কমলা। রুমে।

রাখাল স্যার। রুম কোথা?

কমলা। কলেজে

রাখাল স্যার। কলেজে কোথা?

কমলা। হাউসে।

রাখাল স্যার। কোন হাউসে?

কমলা। যখন যে হাউসে সুবিধা।

রাখাল স্যার। একটা কাবার্ড তো আছে?

কমলা। ছিল যখন আগের এইচ পি ছিলেন,এখন নাই।

রাখাল স্যার। এখন আছ কোথা?

কমলা। কেন,এই অফিসে।

রাখাল স্যার। কাল ছিলে কোথা?

কমলা। বাথরুমে,পরীক্ষা আছে আজকে।

ভিপি বলিলেন, “আর বকাবকিতে কাজ নাই-আমি লিখিয়া লইতেছি,ইন্টার হাউস ভিসিটিং কেস।পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে এ ব্যাপারে।তার পর?”

রাখাল স্যার। তোমার এপয়েন্টমেন্ট কি?

কমলা। আমার কি চাকরি আছে নাকি আপনার মত,যে আপনার মত আমার সময় সময় এপয়েন্টমেন্ট থাকবে?

রাখাল স্যার। খাও কি করিয়া?

কমলা। হাই টেবিলে চামচ দিয়া।নিচে বসলে হাত দিয়া।

রাখাল স্যার। সে খাওয়া পাও কি করিয়া? কমলা। বেয়ারা দিয়ে গেলে জোটে, নইলে জোটে না।

রাখাল স্যার। তবে কি এক্সট্রা খাও?

কমলা। তবে তো অনেক আগেই আপনার শরণাগত হইতে হইত।আপনি তো মেস ও আই সি।আপনি ও কিছু ভাগ পাইতেন।

রাখাল স্যার তখন হাল ছাড়িয়া দিয়া আদালতকে বলিলেন,আমি এ সাক্ষী চাই না।আমি ইহার জেরা করিতে পারিব না।

১,৬৯১ বার দেখা হয়েছে

১৯ টি মন্তব্য : “(ক্যাডেট) কমলাকান্তের জবানবন্দী”

  1. সোহান (২০০৪-১০)

    ব্যাপক লিখছ 😀 =))
    তা এটা দেখি প্রথম ব্লগ। লাগায় ফেল ১০ টা ফ্রন্টরোল। ভাইরা আসুক। তাদের জন্য নাহয় আবার দিও।


    আমি সিগারেটের ছাই, জানালার ধুলো। চাইলেই ফু দিতে পার। ঊড়ে যাব।

    জবাব দিন
  2. শাফি (০৬-১২)

    ক্লাস টুয়েলভের বয়স ৬ বছর,৭ মাস,৪দিন,১০ ঘণ্টা। সে কি মায়ের পেট থেকে নেমেই কলেজে জয়েন করছে? =)) =)) =))
    একই সাথে হাউস মাস্টার ও মেস ওআইসি। উল্লেখিত রাখাল স্যারের নিশ্চয়ই হেড কোয়ার্টারের সাথে সূক্ষ্ণ আঁতাত ছিল। =)) =)
    অস্থির আনন্দ পাইলাম :)) (সম্পাদিত)


    তোমাকে সালাম ^:)^

    জবাব দিন
  3. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    "কষ্ট করতে হয়েছে কিন্তু মজা পাইছি। কষ্টটা ফরম্যাটিং এর জন্য।
    লেখাটা কথোপকথন স্টাইলে লাইন ব্রেক দিয়ে দিয়ে লেখলে সুখপাঠ্য হত।" :-B

    ব্লগে স্বাগতম, এবার ১০টা লাগিয়ে দাও, হ্যাপি ব্লগিং :grr:


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  4. মুয়াজ (২০০৭-২০১৩)

    এই পোস্টের লেখক একটু আগে আমাকে কল দিয়ে বলল যে তার নেট কানেকশন চলে গেছে। আগামীকাল সে তার কাজ সম্পাদন করবে। এবার আমার কথা বলি। বাসে বসে পড়ার সময় অনেক কষ্ট করেও হাসি আটকাইতে পারতেছিলাম না। হয়ত অনেকে পাগল মনে করতে পারে।

    জবাব দিন
  5. তাশরীফ (২০০৭-১৩)

    আমি কপি পেস্ট করতে গিয়ে উল্টাপাল্টা করে ফেলসি। দুঃখিত। আর রাখাল স্যার হাউস মাস্টার না। কমলাকান্তের জবানবন্দি পড়লে একটা জায়গা আসে,বলা আছে জে উকিল বাবু জাত্রার অধিকারী। ওটার নকল


    আমাকে আমার মত থাকতে দাও...

    জবাব দিন
  6. 'কমলাকান্তের জবানবন্দী' গল্পের প্যারোডি (অনেকদিন আগের একটা পোস্ট):
    .
    মারাত্বক Crime!
    মোস্তফা আজীজের জবানবন্দী
    I mean “Mustafa Aziz’s Statement.”
    সেই কুখ্যাত মোস্তফা আজীজের অনেক দিন কোনো সংবাদ পাই নাই। অনেক সন্ধান করিয়াছি, আকস্মাত সম্প্রতি একদিন তাহাকে Staff Lounge- এ দেখিলাম। দেখি যে, মোস্তফা এক সোফায় বসিয়া, পায়ের উপর পা ফেলিয়া, মনের সুখে তাহার Smart Phone চালাইতেছেন। মনে করিলাম, আর কিছু না, মোস্তফা হয়ত Clean Shave করিয়া, Magnifying Glass- টি হাতে লইয়া উহাকে গালের সঙ্গে ঠাসিয়া ধরিয়া, Selfie তুলিয়া সেটি ফেসবুকে Upload মারিতেছেন- অন্য কোনো কাজ যে এখন মোস্তফা করিবেন না- ইহা নিশ্চিত জানি। নিকটে একজন জলপাইকোর্তা এডজুট্যেন্টকেও দেখিতে পাইলাম। আমি বড় একটা দাড়াইলাম না- কি জানি দেখলে কিনা আবার বলে Front roll লাগা! তফাতে থাকিয়া দেখিতে লাগিলাম যে, কান্ডটা কি হয়।
    কিছুকাল পর মোস্তফার ডাক হইল। তখন একজন সি. এস. এম. রুল ঘুরাইয়া তাহাকে সঙ্গে করিয়া লইয়া গেল। আমি পিছু পিছু গেলাম। দাড়াইয়া দুই একটি কথা শুনিয়া ব্যাপারখানা বুঝিতে পারিলাম।
    প্রথমত, Staff Lounge- এর পশ্চিম দিকের সোফার মাঝখানে অধ্যক্ষ বিরাজ করিতেছেন। এডজুট্যেন্টটি একজন হাটু বাহিনীর মেজর পদের ও একজন গৌরবের এক্স ক্যাডেট। মেস্তফা আজীজ আসামী নহে- সাক্ষী ।মোকাদ্দমা ফুটবলের support. ফরিয়াদি মি. নুর মোহাম্মদ।
    মোস্তফা আজীজকে অধ্যক্ষের সামনে হাজির করা হইল। তখন মোস্তফা মৃদু মৃদু হাসিতে লাগিলেন। ভিপি স্যার ধমকাইলেন- হাস কেন?
    মোস্তফা জোরহাত করিয়া বলিলেন- আরে....! আমি আবার কার বাশ মারিয়াছি যে আমাকে এখানে ডাকিলেন? ভিপি স্যার কথাটা বুঝিলেন না। ঘুছি মারিয়া বলিলেন- তামাসার জায়গা এটা নয়, হলফ পড়। মোস্তফা বলিল- পড়ান না মহদয়!
    একজন হাউস মাস্টার তাহাকে হলফ পড়াইতে আরাম্ভ করিল। বলিল- বল, আমি পরমেশ্বরকে প্রত্যক্ষ জানিয়া.....
    মোস্তফা: (সবিস্ময়ে) কি বলিব?
    হাউস মাস্টার: শুনিতে পাও না- পরমেশ্বরকে প্রত্যক্ষ জানিয়া-
    মোস্তফা: পরমেশ্বরকে প্রত্যক্ষ জানিয়া! কি সর্বনাস!
    হাউস মাস্টার দেখিলেন সাক্ষীটা কি একটা গন্ডগোল বাধাইতেছে। জিজ্ঞাসা করিলেন- সর্বনাস কি?
    মোস্তফা: পরমেশ্বরকে প্রত্যক্ষ ফারমই এই।
    হাউস মাস্টার: ক্ষতি কি? হলফের ফারমই এই।
    মোস্তফা: হুাজুর সুবিচারক বটে। কিন্তু সাক্ষ্য দিতে দিতে দু চারটা মিথ্যা না হয় বলিলাম, তাই বলিয়া গোড়াতেই একটা মিথ্যা দিয়া শুরু করা- এ তো আরো মারাত্বক crime.........!!!
    হাউস মাস্টার: এ আর মিথ্যা কি?
    মোস্তফা মনে মনে বলিল, এত বুদ্ধি থাকিলে তোমার কি এ পদবৃদ্ধি হইত? প্রকাশ্যে বলিল, হাউসমাস্টার মহদয়! পরমেশ্বর ঠিক দেখার বিষয় নয়। অমার চোখের দোষেই হোক আর যাই হোক না কেন- আমি এ পযন্ত তাহাকে কখনও দেখিনি। ফরিয়াদির উকিল (ইজ্জত আলী...u- যাহাকে ক্যডেটরা টয়লেট সম্পর্কিত একটি নামে ডাকে) তখন চটিলেন।তাহার মূল্যবান সময় যাহা সে মিনিটে মিনিটে বড় সাহেবদের তেল মারিবার নিমিত্তে ব্যায় করিয়া থাকেন তাহা আজ এই কুখ্যাত আজীজ নষ্ট করিতেছে।উকিল তখন পরম হইয়া বলিলেন- সাক্ষী মহাসয়...u! Theological Lecture- আপনার ইসলাম শিক্ষা ক্লাসে করলে ভালো হয় না...u! এখানে সরকারী আদেশের উপর চলিতে মন স্থির করুন...u।
    মোস্তফা তাহার দিকে ফিরিল। মৃদু হাসিয়া বলিল- আপনি মনে হয় উকিল।
    উকিল: (হাসিয়া) কিসে চিনিলে...u?
    মোস্তফা: বড় সহজে। এসব তিন নম্বরি কাজ আপনি ছাড়া আর কে করিতে পারে! তা মহাশয়- আপনাদের জন্য এটা Theological Lecture নয়। অপনারা পরমেশ্বরকে প্রত্যক্ষ দেখেন ঠিকই, যখন সরকারি আদেশ আসে।
    উকিল তখন সরোষে উঠিয়া অধ্যক্ষকে বলিলেন, I ask the protection of the court against the insult of this witness.......u
    uuuuuuu...........
    অধ্যক্ষ বলিলেন, O Baboo! The witness is your own witness and you are at liberty to send him away if you like.
    এখন মোস্তফাকে বিদায় দিলে উকিলের মোকাদ্দমা প্রমান হয় না- সুতরাং উনি চুপ করিয়া বসিয়া রইলেন।আর মনে মনে ভাবিলেন -ওরে খালি একবার বাইরে পাই- একেবারে হানদাইয়া হালামু......u!
    অধ্যক্ষ মোস্তফাকে বিদায় দিলে উকিলবাবুর মোকাদ্দমা যে- ওদের প্রতি সাক্ষীর objection আছে- উহাকে simple affirmation দাও। তখন হাউস মাস্টার মোস্তফাকে বলিল- আচ্ছা, ও ছেড়ে দাও, বল- আমি প্রতিজ্ঞা করিতেছি.....।
    মোস্তফা। কি প্রতিজ্ঞা করিতেছি সেটা জানিয়া লওয়াটা কি ভালো নয়!
    হাউস মাস্টার তখন অধ্যক্ষের দিকে তাকালেন। বলিলেন- ধর্মবতার! সাক্ষি বড় সেরকস।
    উকিলবাবু অধ্যক্ষের দিকে তাকিয়ে- Very obstructive........uuuuu......
    ......!
    মোস্তফা: সাদা কাগজে দরখাস্ত লওয়ার প্রথাটা বইরে চলে জানি, ভিতরেও চলে কি?
    উকিল: সাদা কাগজে কে তোমার দরখাস্ত লইতেছে...u? আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার স্মৃতীশক্তি যদি আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করে থাকে, তাহলে আমি ইমান নিয়ে বলতে পারি- এখানে কোনো সাদা কাগজ নেইuuuuuuuuuuuuu............
    মোস্তফা: (উকিলের প্রতি) কি প্রতিজ্ঞা করিতে হইবে তাহা না জানিয়া প্রতিজ্ঞা করা আর সাদা কাগজে দরখাস্ত করা একই।
    অধ্যক্ষ তখন হাউস মাস্টারকে আদেশ করিলেন- প্রতিজ্ঞা আগে ইহাকে শুনাইয়া দাও, গোলমালে কাজ নাই।
    হাউস মাস্টার বলিলেন- শোন, তোমাকে বলিতে হইবে যে, আমি প্রতিজ্ঞা করিতেছি যে, আমি যে সাক্ষ দিব তাহা সত্য হইবে, আমি কোনো কথা গোপন করিব না, সত্য ভিন্ন আর কিছু হইবে না।
    মোস্তফা: আরে...! মা-রা-ত্ব-ক.....!!!!
    হাউস মাস্টার: সে আবার কি?
    মোস্তফা: পড়ান, আমি পড়িতেছি।
    মোস্তফা আজীজ তখন আর গোলমাল না করিয়া পড়িতে লাগিল।তখন তাকে জিজ্ঞেস করার জন্য উকিল গোত্রত্থান করিলেন। মোস্তফাকে চোখ রাঙাইয়া বলিলেন- এখন আর বদমায়েশি করিও না...u। আমি যাহা জিজ্ঞেস করি তাহার উত্তর দাও...u। বাজে কথা ছাড়িয়া দাও...u।
    মোস্তফা: যাহা জিজ্ঞেস করিবেন তার বাহিরে কিছু বলিতে পারিব না!
    হাউস মাস্টার: না। সরকারি আদেশ অমান্য করিতে পারিবে না। ইহা undeniable.
    মোস্তফা এ কথা শুনিয়া সচরআচর যাহা টানিয়া থাকেন তাহা সক্রোধে টানিয়া বলিলেন- আন্ডি নাই মানে....!!!
    হাউস মাস্টার সম্ভবত কথাটা শুনিতে পাইলেন না। অথবা শুনিতে পাইলেও মালুম করিলেন না।
    মোস্তফা আজীজ তখন অধ্যক্ষের দিকে ফিরিয়া বলিলেন- অথচ আমাকে বলিলেন যে কোনো কথা গোপন করিতে পারিব না! ধর্মাবতার! বেয়াদবি মাফ হয়। স্টেজে আজ একটা ডেমোর অনুষ্ঠান হইবে। দেখিতে যাইবার ইচ্ছা ছিল, সে সাধ এখানেই মিটল। উকিলবাবু অধিকারি- আমি ডেমো ম্যান, যাহা বলাইবেন- শুধুমাত্র তাহাই বলিব, যাহা বলাইবেন না- তাহা বলিব না!
    হাউস মাস্টার: যাহা আবশ্যক মনে করিবে তাহা না জিজ্ঞাসা হইলেও বলিবে। তখন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হইল----
    হাউস মাস্টার: তোমার নাম কি?
    মোস্তফা: মোস্তফা আজীজ 007.
    হাউস মাস্টার: তোমার বাবার নাম কি?
    মোস্তফা আজীজ তার বাবার নাম বলিল।
    হাউস মাস্টার তখন জিজ্ঞেস করিল – তুমি কোন দল?
    মোস্তফা আজীজ: আমি কি একটা দল.......?!?!?!
    হাউস মাস্টার: বলছি যে ফুটবল টিমের মধ্যে যে কয়েকটা মারাত্বক club আছে, যেমন- চেলসি, বায়ার্ন মিউনিখ, আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার সিটি...... ইত্যাদি। তুমি কোন টিমের supporter?
    মোস্তফা আজীজ: আরে....! জার্সিতে লেখা CR7, I mean 007, sponsor Fly Emirates, এতেও যদি আপনি না বুঝেন যে আমি Real Madrid- এর supporter ইহা আমি কি প্রকারে জানব........!?!?!?
    হাউস মাস্টার: তুমি কোন বর্ণ?
    মোস্তফা আজীজ: উজ্জ্বল শ্যামলা বর্ণ।
    হাউস মাস্টার: তোমার বয়স কত?
    মোস্তফা আজীজ: ৫১ বছর, ২ মাস, ১৩ দিন, ৪ ঘণ্টা, ৫ মিনিট, ০০৭ সেকেন্ড।
    হাউস মাস্টার: তোমার ঘণ্টা-মিনিট কে চায়?
    মোস্তফা আজীজ: আপনিই প্রতিজ্ঞা করাইলেন যে কিছু গোপন করিব না।
    হাউস মাস্টার: তোমার নিবাস কোথায়?
    মোস্তফা আজীজ: আরাপপুরে।
    হাউস মাস্টার: আরাপপুরে থাক কোথায়?
    মোস্তফা আজীজ: যেখানে সেখানে।
    হাউস মাস্টার: একটা আড্ডা তো আছে?
    মোস্তফা আজীজ: ছিল, যখন মেডিকেল ভাই ছিল, এখন আর নেই।
    হাউস মাস্টার:এখন আছ কোথায়?
    মোস্তফা আজীজ: কেন, এই staff lounge- এ।
    হাউস মাস্টার: গতকাল ছিলে কোথায়?
    মোস্তফা আজীজ: হুনাইন হাউসে।
    হাউস মাস্টার: তোমার পেশা কি?
    মোস্তফা আজীজ: Crime Patrol করা, I mean, কলেজে এবং কলেজের বাহিরে যতগুলো মারাত্বক crime ঘটে সেগুলো তদন্ত করা এবং সেগুলোর উপরে statement লেখানো।
    হাউস মাস্টার: এগুলো কি তোমাকে কোনো বেতন দেয়?
    মোস্তফা আজীজ: এক পয়সাও না।
    হাউস মাস্টার: তবে খাও কি করিয়া?
    মোস্তফা আজীজ: Dining Hall- এ প্রবেশ করিয়া, হাই টেবিলে বসিয়া, দক্ষিণ হস্তে গোল চামুচ আর বাম হস্তে কাটা চামুচ লইয়া প্লেট হইতে rice আর curry উঠাইয়া মুখে গ্রস তুলিয়া ভক্ষণ করি।আর এতেও যদি পেট না ভরে, তাহলে ক্যাডেটদের কাছে নিয়মিত sound খাওয়ার ব্যাবস্থা তো আছেই......!!
    উকিল তখন হাল ছাড়িয়া দিয়া অধ্যক্ষকে বলিলেন- আমি এ সাক্ষি চাহি না...u।আমি ইহার জবানবন্দি করাইতে পারিব না...u।কশ্মিনকা
    লেও না...uuuuuuuuuu.............!!!!
    (সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত)

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।