ডায়লগঃ ময়মনসিংহ পর্ব

*ক্লাস সেভেনে প্রথম গেছি, ফল ইনে যে ঠিকমত দাঁড়ায় থাকতে হবে এইটাই মাথার মাঝে কেন জানি ঢুকতে চায় না। মাঝে মাঝে এক লাইনে চারজনও দাঁড়ায় পড়তাম, গল্পের তালে খেয়াল থাকত না। এরকম একদিন কোন এক ক্লাসমেট জানি ফলইন থেকে আগায় গেছে। বেরসিক জুনিয়র প্রিফেক্ট (নাম দিতে চাচ্ছি না) ফায়ার হয়ে চিৎকার:
ক্লাস সেভেন, কোন ক্লাসে পড়??

*প্রিন্সিপাল ইন্সপেকশনে লাস্ট মোমেন্টে হাউস প্রিফেক্ট রাউন্ডে আসছে, আমার রুমে জুনিয়রটা একটু আলাভোলা। সে পরিষ্কার মোজা ব্যাগের ভেতর রেখে কালো হয়ে যাওয়া সাদা মোজা পরে আছে। সেটা দেখে এসিস্ট্যান্ট হাউস প্রিফেক্টের চিৎকারঃ
আমার মোজার দিকে তাকাও…
(উনার মোজা ছিল হলুদ ডালের মত, এরকম কেমনে করে হল এখনো একটা বার্নিং কোয়েশ্চেন)

*প্রথমবার হাউসডিউটি ক্যাডেট হয়ে টুয়েল্ভের ব্লকে হুইসেল দিতে গেছি, কলেজ প্রিফেক্ট রুম থেকে বের হয়ে দাবড়ানি দিলেনঃ
ডিউটি ক্যাডেট, হুইসেল দিতে সাত সেকেন্ড লেইট করস
(স্টপ ওয়াচ হাতে বসে ছিলেন কিনা আমি জানি না)

*আমাদের জামির সাথে কোন ফাইজলামী করলেই সে অগ্নিমূর্তি হয়ে চড় দেখাত আর মুখে বলত,
লাত্থি লাগাব, গুল মারবি না

*কমন রুমের পাশ দিয়ে কয়েক ক্লাসমেট যাচ্ছি, কয়েকজন একসাথে মানেই…খেয়ালই নাই, কমন রুমে ক্লাস টেনের কয়েকজন সিনিয়র পড়ছিলেন। আমাদের হাউকাউ এ বিরক্ত হয়েঃ
ক্লাস এইট, তোমাদের সিম্পল নরমাল কমনসেন্স নাই??

*ফিজিক্সের এক ম্যাডাম মহাপ্রাণ ধ্বণিকে অল্পপ্রাণ হিসেবে উচ্চারণ করতেন। উদাহরণ স্বরূপঃ
তোমারও বর (ভর) আছে আমারও বর আছে
একবার রেগে গিয়ে বলেছিলেনঃ
তোমরা ঘুঘু দেখেছ ফাঁদ দেখোনি
(ইয়ে, ঘ এর জায়গায় গ এবং ফ এর জায়গায় প পড়তে হবে)

*আমাদের ওস্তাদজীও(স্টাফ) প্যারেড শেষে বলতেন
গুড, বালো ছিল

*প্রতি বক্তৃতার শেষে আমাদের মাননীয় প্রিন্সিপাল ইতি টানতেন এভাবেঃ
struggle, survive and succeed

*এতাল বেতাল দেখলেই কামরুজ্জামান স্যার খাতা দিতে বাড়ি মারতেন আর বলতেনঃ
হাড্ডি চূর্ণ করে দেব, অপদার্থ

*লুৎফর রহমান স্যারের বকা ছিল একটাই…
অখাদ্য কোথাকার

*ক্লাসে এসে ভিপি ম্যাডামের প্রথম বক্তব্য ছিলঃ
আমার নামের আগে অবশ্যই ডক্টর লিখবে

*ম্যাথের হাই স্যার একবার খুব রেগে গিয়ে বলেছিলে,
এক দাঁতে পাটির সব চড় ফেলে দিব

*প্রেপ্টাস্ক জমা না পরাতে মিনমিন করে ফ্ররম লিডার সিতারা ম্যাডামকে বোঝানোর চেষ্টা করছে, ম্যাডাম, কালকে জমা দিব।
ম্যাডামঃ
অই অই, কালকে কেয়ামত হবে কিনা তুমি জান?

*একবার কেমিস্ট্রির মাহফুজ স্যার প্রচন্ড ধমক দিয়ে দাঁড় করালেনঃ
তোমার বংশ মর্যাদা নাই? তোমার জীবনের কোন সম্মান নাই? খতিবুন্নেসা স্কুলের ছাত্রী তুমি? পিটি শুর সাথে মোজা পর না যে!!

*প্র্যাকটিকাল ল্যাবে ডেমনস্ট্রেটর স্যার বলতেনঃ
এসিড ফোট ফোট করি ঢালবা

*ডান্সিং কম্পিটিশনে ধর্ম স্যারঃ
নাউজুবিল্লাহ

*বাংলার আবুল হোসেন স্যারঃ
নিজে নিজে চড় খাও

এরকম আরও আরও আরও অনেক…

৩,৮৩৮ বার দেখা হয়েছে

৫৪ টি মন্তব্য : “ডায়লগঃ ময়মনসিংহ পর্ব”

  1. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)
    ক্লাস সেভেন, কোন ক্লাসে পড়??
    ক্লাস এইট, তোমাদের সিম্পল নরমাল কমনসেন্স নাই??
    অই অই, কালকে কেয়ামত হবে কিনা তুমি জান?

    :gulli2: :gulli2: :gulli2: :gulli2:

    গুড, বালো ছিল

    জবাব দিন
      • অর্চি (৯৯-০৫)

        ওই ম্যাডামের সবচেয়ে ভয়ংকর বাক্যটা (...প্রান্তরে)লিখার মত সাহস আমার নাই!! 😕

        তোমার বংশ মর্যাদা নাই? তোমার জীবনের কোন সম্মান নাই? খতিবুন্নেসা স্কুলের ছাত্রী তুমি? পিটি শুর সাথে মোজা পর না যে!!

        :gulli2:

        একবার "এসিড ফোট ফোট করে ঢালো" শুনে সংক্রা্মক হাসি চাপতে না পারায় আ্মাকে আর পলেনকে সার ক্লাস থেকে বের হয়ে যেতে বলসিলেন। সেটা শুনে পলেন আমাকে বলে "চট চট করে বের হয়ে যাই চল, নাইলে ফোট ফোট করে হাসতে হবে..." 😛

        সুষম, ডিসি তে এখন রাত ২টা বাজে। তোর লিখা পড়ে হাসতে হাসতে আমি টেবিলের সাথে মাথা ঠুকা খাইসি!! আর আমার রুমমেট ধরফর করে ঘুম থেকে উঠে বলে-
        "Oh Jesus! What's going on!! Did you just have a heart attack?!!" =)) =))

        জবাব দিন
  2. ভাই ম্যাডাম প্রসঙ্গে একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল -
    আমরা তখন নতুন নতুন ক্লাশ ১১। কলেজে গিয়া দেখি রণচন্ডী এক ম্যাডাম সারা কলেজ লেফট-রাইট করে বেরাছেন। আর যখন তখন যাকে তাকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন।তিনি আবার ক্লাশ ৭ এর ফর্ম মাষ্টারও। একদিন এডজুটেন্ট এর ঝারি খাইয়া ক্লাশে ফিরার পথে মন ভাল করার বাসনায় অডিটোরিয়ামে উকি দিলাম কারণ তখন ক্লাস ৭ তাদের ট্যালেন্ট শো এর রিহার্সেল করছিল। ভাবলাম গানটান শুনলে মন ভাল হইয়া যাবে। কিন্তু যা দেখলাম তাতে মন ভাল খারাপ কিছুই না হইয়া বরং উদাস হইয়া গেল। কারণ উকি দেয়া মাত্রই দেখলাম স্টেজের উপর একমাত্র ম্যাডাম দাড়াইয়া আছেন আর তার হাতে একটা স্টীলের স্কেল। নিচে ক্লাস ৭ বাচ্চা কাচ্চা গুলা হই চই করছে, ম্যাডাম বেশ কয়েকবার ওদের quite, quite বলেও যখন থামাতে পারলেন না তখন তিনি একহাতে মাইক্রোফোন আর অন্যা হাতে স্কেল উচিয়ে ঘোষণা দিলেন-
    "এর পরে কেউ আর একটা কথা বললে হাত কেটে গলায় ঝুলায়া দিব" ।
    সাথে সাথে পুরা অডিটোরিমের সব কয়টা পিচ্চি চুপ হয়ে গেছিল। সম্ভবত হাত হারানোর ভয়টা তারা সত্যি সত্যি পেয়েছিল ।
    যাইহোক মূল কথায় ফিরি, ইনিই সিতারা ম্যাডাম ।

    জবাব দিন
  3. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    সুষমা আপু বহুৎ মজা পাইলাম :)) :)) :))


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  4. হাসনাইন (৯৯-০৫)
    এসিড ফোট ফোট করি ঢালবা
    তোমরা ঘুঘু দেখেছ ফাঁদ দেখোনি
    (ইয়ে, ঘ এর জায়গায় গ এবং ফ এর জায়গায় প পড়তে হবে)
    ডান্সিং কম্পিটিশনে ধর্ম স্যারঃ
    নাউজুবিল্লাহ

    :)) :)) হো হো...
    ফর্মে আছিস... ধইরা রাখ। 😛

    :gulli2: :gulli2: :gulli2:

    জবাব দিন
  5. এক দাঁতে পাটির সব চড় ফেলে দিব

    :gulli2: :gulti: :gulli2: :gulti:
    সুষমা একাই তো ব্লগ জমাইয়া ফেলছে দেখি। সাবাস।
    হাসনাইনের মতো আমিও বলি...

    ফর্মে আছো… ধইরা রাখো।
    জবাব দিন
  6. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    ওই সুষমা, অংকের হাই স্যার কিন্তু আমার পাড়াত ভাই, স্যাররে কইয়া দিমু, "সুষমা আপনারে টিজ করছে স্যার, ওরে পিডান", ঈদে তো দেখা হইব মনে হয়।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।