জাস্ট হ্যাড এ ফার্স্ট হ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স অন লাইফ

এটা কোনও সমাজসেবার আহ্বান না, জাস্ট হ্যাড এ ফার্স্ট হ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স অন লাইফ।

পরিবাগ থেকে বর্তমান রুপসী বাংলা (সাবেক শেরাটন) হোটেলের কোনা দিয়ে ফুটপাথ ধরে হাটছিলাম হেয়ার রোডের দিকে, গন্তব্য সেগুন বাগিচা। পাশে এক লোক হাটছে, লুঙ্গি পরা, ঘমে ভেজা একটা ফুল সার্ট, গ্রামের লোক, বোধহয় পায়ে স্যান্ডেলও ছিল না, বয়স আমার চেয়ে বেশীই হবে। আমি বরাবরই দ্রুত হাটি, আমার পায়ের স্টেপ বড় বড়, এবং হাটার সময় পাশে অচেনা লোক থাকলে একটু বিরক্তও লাগে। অবাক হলাম কারন আমি তাকে হেটে পার হতে পারছিলাম না! এক পর্যায়ে আমিই ধীরগতি হয়ে তাকে আগে রাখলাম। একটু পড়ে সে থেমে আমাকে জিজ্ঞেস করলো “যাত্রাবাড়ী আর কতদূর?”। একটু বোকা বনে গেলাম, এখান থেকে যাত্রাবাড়ীর যা দূরত্ব তা কিভাবে বলবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তারপর বললাম “যাত্রাবাড়ী তো অনেক দূর, আপনি সামনে গিয়ে ডানে যাবেন, সেখান থেকে মৎস্য ভবনের সামনে থেকে বাস পাবেন”। লোকটা দুই হাত তুলে না না করে উঠলো, বাসে উনি যাবেন না, তারপর থেমে বললেন উনার কাছে টাকা নেই, আমি ইন ফ্যাক্ট বুঝলাম উনার কাছে আসলে এক টাকাও নেই। জিজ্ঞেস করলাম কোথা থেকে আসছেন? উত্তর দিলেন “গাবতলী” থেকে! যদিও বুঝতে পারছিলাম, তবুও জিজ্ঞেস করলাম “হেটে আসছেন?”, উত্তর “হ্যা, হেটেই”, আরেকবার অবাক হলাম। আমার শখের হাটার পাশে উনার টাকা না থাকার হাটাকে রাখতে পারছিলাম না সমানভাবে। গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পায়ে হেটে এই বয়সে! যাইহোক, আমার অবাক হওয়ার অভ্যাস কম, হলেও তা ক্ষনস্থায়ী। ঠিক করলাম উনার সাথে মৎস্য ভবনের মোড় পর্যন্ত গিয়ে উনাকে একটা বাসে উঠিয়ে দিব, এখানে থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত বাস ভাড়া এমন কিছু বেশী হওয়ার কথা না যেটা আমি দিতে পারবো না, ব্যাপার না। তারপর তার ঢাকার অভিজ্ঞতা শুনলাম। উনি যাবেন কুস্টিয়া, গাবতলী বাস টার্মিনালে কাউন্টারে অনেক অনুরোধ করেছিলেন প্রয়োজনে ছাদে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য, এমনকি, যেহেতু উনার কাছে টাকা নেই, প্রয়োজন থাকলে উনি বাস ধুয়েও দিতে চেয়েছিলেন, গায়ে খেটে ধার শোধ করার ব্যাপার, খুব একটা খারাপ অফার না, অন্তত যে দেশে আমরা মাগনা পেলে কাউকে দিয়ে পিঠটাও চুলকে নেই। যাই হোক, টাকা নেই শুনে উনাকে নিতে রাজী হয় নি কোনও বাসের লোক। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা যাকে সুস্থ্য সবল একজোড়া পা দিয়েছেন, তার আর ভয় কিসের, প্রয়োজনে ঢাকা থেকে কুস্টিয়া! তারপর বললেন, উনি এই প্রথম ঢাকা এসেছেন, আর কোনদিন আসবেন না, এমনকি কেউ যদি তাকে জিজ্ঞেস করে, উনি আসতে না করবেন, এখানে নাকি মানুষ থাকে না। কথাটা আমার কাছে খুব একটা খারাপ লাগে নি। অতঃপর আরো কিছু কথাবার্তা, আফটার অল এখন আমরা অন্তত মৎস্য ভবন পর্যন্ত সহযাত্রী, হোক না পায়ে হেটে, সো হোয়াট! উনারা পেশায় গাছী, খেজুড় গাছ থেকে রস আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। উনার বাবা গাছ থেকে পড়ে গিয়ে পা ভেঙ্গে ফেলায় যত বিপত্তি! গ্রামে চিকিৎসা হয়েছে ডেফিনিটলি গ্রামের মতই, তারপরে হয়তো আর দুই তিনটা জায়গায় অবমূল্যের চিকিৎসা, এখন আছেন ফরিদপুরের কোনও এক ২৫০ শয্যার হাসপাতালের বারান্দায়, মনে মনে ধরে নিলাম মেঝেতেই থাকা স্বাভাবিক। বেশ কয়েকবার জানতে চাইলাম হাসপাতালের নাম কি, বার বার উত্তর আসলো ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, ধরে নিলাম ওইটাই তাহলে নাম হবে হয়তো, সরকারী হাসপাতালের নাম এরকম হতেই পারে। ওখানকার এক ডাক্তার, লোকটার ভাষায় যিনি অত্যন্ত সজ্জন ব্যাক্তি, নামায রোযা করেন, যিনি উনার বাবাকে দেখছেন, তিনি বলেছেন অপারেসনের আর হাসপাতালের কোনও খরচ লাগবে না, কিন্তু ওষুধ কিনতেই হবে, সেটা তো আর ফ্রি পাওয়া যাবে না এবং সেটা এই লোকটাকেই কিনে এনে দিতে হবে। এইদিকে সময়ও কম, পাচদিনের সময়, রোগী দেখে ডাক্তার সাহেবেরই চোখ কপালে, হাত দিয়ে ধরেই বলেছেন, এতো আলরেডি মেরে ফেলেছেন, দেরী হলে পা কেটে ফেলতে হতে পারে, সম্ভাবনা বেশী। বুঝলাম ইনফেকসন হয়ে গেছে, এখন কাহিনী পচনের দিকে। গ্রামের মানুষ, গরিব মানুষ, না খেয়ে থাকেন না, কিন্তু এই অসুস্থতার চিকিৎসার সামর্থ্য উনার নেই। ওষুধের দাম কত? তা প্রায় বিশ হাজার টাকার মত। যে হাসপাতালেই আগে গেছেন, শুনেছেন “আগে কাউন্টারে পঞ্চাশ হাজার টাকা জমা দিয়ে আসেন, তারপরে কথা” (ধরে নিচ্ছি এখানে পঞ্চাশটা পঞ্চাশ নাও হতে পারে, কিন্তু কত কম হবে!), সেই তূলনায় বিশ হাজার টাকা তো জীবন বেচে যাওয়ার মত ব্যাপার। অলরাইট, তাহলে কি করা? গেলেন মাতব্বরের কাছে, কোনও সমস্যা নাই, ভিটের দলিলটা লিখে দিয়ে যাও, টাকা শোধ করে ফেরত নিও। গ্রামের একটা নেড়ি কুকুরও জানে এই কথার অর্থ কি, মাতব্বর কি আর নামে মাতব্বর! ঘটনা যখন এমন হিন্দি সিরিয়াল, তখন এই লোকের এক বন্ধু বললো ঢাকা চলো, সেখান থেকে তোমাকে টাকা দাদন নিয়ে দেয়া যাবে। দাদন মানে কি? আগে টাকা নিয়ে পড়ে গায়ে খেটে শোধ করা, চলবে, ব্যাপার না, বাবা সেরে উঠলে এটা কোনও ব্যাপার না। পরিবারেরও সম্মতি মিললো, বাবা সেরে উঠলে আর দুজনে মিলে কাজ করলে এটা কোনও ব্যাপার না। অতএব কি করা? গ্রামের কোথাও থেকে দুই হাজার টাকা ধার করলেন উনি ঢাকা আসার জন্য। কেমন ধার? ধারটা এমন যে এটার জন্য উনাকে প্রতি মাসে আটশো টাকা ইন্টারেস্ট দিতে হয়, এবং আমি জানি এটা প্রিন্সিপাল এমাউন্ট থেকে কাটা হয় না! আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেলাম মূহুর্তের জন্য, অনেকদিন পর কলেজ জীবনের ক্যালকুলেটরের অভাব বোধ করলাম। এই টাকা নিয়ে উনি আর উনার বন্ধু কুস্টিয়া থেকে ঢাকা আসলেন বাসে, নামলেন গাবতলী, সেখান থেকে বাকি টাকা চুরি করে উনার “বন্ধু” গায়েব! আমি আর জানতে চাইলাম না বন্ধুর খোজ খবর করেছেন কিনা, ইচ্ছা করলো না জিজ্ঞেস করতে, যদি উল্টো আমাকে বলে বসেন “খোজ করে লাভ? আমার ক্ষতি কিভাবে কমবে?”! উনার পাচদিনের চারদিন শেষপ্রায়, এখন কুস্টিয়া ছাড়া তো আর কোনও গন্তব্য উনার নেই, উনি সেখানেই যাছেন, যেখানে পরিবারের সবাই জানে উনি প্রয়োজনীয় টাকা নিয়ে ঢাকা থেকে ফিরছেন। এই পর্যন্ত ঘটনাটা দুর্ভাগ্যজনক, বাবার পা ভাঙ্গার চিকিৎসা আর তার ঢাকা আসার অভিজ্ঞতা দুইটাই। এইবার শুরু হলো দর্শন। মাতব্বরের কাছে জমিটা দিয়ে দিলে তার সন্তানেরা সারা জীবন ভেসে বেড়াবে, এটা মেনে নেয়া অসম্ভব, তাও আবার একজন পিতার পক্ষে, এখন আর কিছু না হোক, সারাদিন কাজ করে রাতে ঘুমানোর একটা জায়গা আছে, অত্যন্ত সত্য কথা। কিন্তু দর্শন এখানেক শেষ না! উনারা চার ভাই বোন, এক ভাই আর তিন বোন। বলে উঠলাম “আপনিই সবার বড়, তাই না?”, উত্তর আসলো “হ্যা”। আমি আর বললাম না যে আমার অভিজ্ঞতায় প্রথম সন্তান, বিশেষ করে ছেলে সন্তান, তাদেরকে আমি সবসময় সবার চেয়ে একটু বেশী বোকাই দেখতে পেয়েছি, বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে, মনে মনে নিজের জ্ঞ্যানে নিজেই একটু খুশীও হলাম, এক চিলতে হাসিও দিলাম অন্ধকারে, কিছুটা ব্যাঙ্গের হাসি অবশ্যই। তারপর শুনলাম, আমরা পুরুষ মানুষ, সমস্যা নেই, কিন্তু বোনগুলোর কবে কোথায় কেমন বিয়ে হবে কেউ তো জানে না, সবাই তো আর ভালো মানুষও না, ভিটেমাটি না থাকলে তাদের কি হবে! চুপ করে থাকলাম, এই লোকের সাথে কথায় পেরে ওঠা যাবে না। খানিকক্ষণ নীরবতা, হাঁটছি, কাকরাইল মসজিদের সামনে এসে উনাকে দাড়াতে বলে একটা সিগারেট কিনে ধরালাম, আবার দুইজনে হাটা। একটু পর আবার প্রশ্ন “আপনার বাবা মা আছে?”, এবার আমি বিরক্ত হলাম, খুবই সামান্য একটু সাহায্য করতে চেয়েছি বলে উনার সাথে গল্প করার কোনও ইচ্ছা আমার ছিল না। প্রথমে ভাবলাম বলব “সেটা তো কুকুর বিড়ালেরও থাকে”, সামলে উঠে বললাম “বাবা মা কার না থাকে!”, একটু অপ্রস্তুত হলেন, মনেহয় আমার বিরক্তিটাও বুঝতে পারলেন। আমি আসলে বিরক্ত হয়েছিলাম অন্য একটা কারনে, আমার শহুরে অভিজ্ঞতায় এই প্রশ্নটার মধ্যে একটা ইমোসোনাল ব্ল্যাকমেইলের গন্ধ পাচ্ছিলাম। যাই হোক, উনি ব্যাখ্যা দেয়ার চেস্টা করলেন যে উনি আসলে বুঝতে চেয়েছেন বাবা মা বেচে আছেন কিনা, এবং আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই যে কথাটা বললেন তার জন্য আমার বিরক্তিটা রেডি ছিলো না, “যাই খান, যতটুকুই খান, বাবা মাকে দিয়ে খাবেন, আমাদের দেশে তো বিয়ে করেই ছেলে বউ নিয়ে আলাদা হয়ে যায়, বাবা মা এতে কস্ট পায়। আর কিছু না পারি, দিনের শেষে বাবা মাকে কিছু না কিছু খেতে দিতে পারি।”। ক্ষণিকের জন্য মনে হলো আজকে এই কথাটা আমাকে শিক্ষিত কেউ বা আমার পরিচিত কেউ বা এই লোকটার সামাজিক অবস্থানের মত কেউ যদি আমাকে বলতো, আমি অফেন্ডেড ফিল করতাম। সিগারেটে একটা টান দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বললাম “আপনার চেয়েও খারাপ কপালের লোক আছে”। আমার শুধু মনে হচ্ছিলো যে যেমন দেয় সে তেমন পায়, এর বাইরে কিছু নেই। আবার নীরবতা, তারপর জিজ্ঞেস করলাম ভাত খেয়েছেন কিনা, আমরা ততক্ষণে মোটামুটি আমার বাসার কাছাকাছি, মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটের সামনে, বললেন ইফতার করেছেন, রোযা ছিলেন। থ্যাঙ্ক গড, ইফতারটা অন্তত এখনও বিনা পয়সাতেই করা যায় যদি সামর্থ্য না থাকে। মসজিদে ইফতার করেছেন এবং যে লোক উনাকে ইফতার দিয়েছে সে কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছে বেশী করে নিয়েছেন কিনা, লোকটার বলার মধ্যেই কৃতজ্ঞতা! আমি বললাম আমি জানতে চেয়েছি আপনার ক্ষুধা লেগেছে কিনা, উত্তর আসলো না লাগে নি। আর কথা বারালাম না খাওয়ার ব্যাপারে, এই ব্যাপারে বেশী কথা বলতে আমার নিজেরও বিরক্ত লাগে। এইবার আসলাম কাজের কথায় “আপনার সাথে যোগাযোগ করার উপায় কি?”, উনি পালটা জিজ্ঞেস করলেন আমার মোবাইল আছে কিনা, যদিও উনি অনেক আগে থেকেই আমার হাতের মোবাইল ফোনটা দেখতে পাচ্ছেন। আমি বললাম আমি আমি আমার ফোন নাম্বার উনাকে দিতে চাচ্ছি না, উনি বললেন তাহলে তো কোন উপায় নেই, কারন উনার ফোন নেই, উনার বাসায় যার কাছে ফোন আছে সেটার নাম্বার উনার মুখস্ত নেই, আমাকে দিতে হলেও সেটা উনার কুস্টিয়া গিয়েই দিতে হবে! উনি যদিও আমাকে আশ্বস্ত করার চেস্টা করলেন যে আমার বিরক্তি উদ্রেক করে উনি আমাকে ফোন দিবেন না, তারপরেও আমি আমার ফোন নাম্বার উনাকে দিতে ইচ্ছুক না, মানুষের অভিজ্ঞতা মানুষকে অনেক কিছুই শেখায় আবার অনেক কিছু বুঝেও না বোঝার ভাণ করার শক্তি দেয়, সেটা ভালোর জন্যই। যাই, হোক, রাস্তা পার হয়ে উনাকে আমার বাসার সামনের দোকান পর্যন্ত হাটিয়ে আনলাম, তারপর নীতিবিরুদ্ধভাবেই একটা কাগজে আমার ফোন নাম্বার লিখে উনাকে দিয়ে বললাম বাসায় পৌঁছে আমাকে জানাবেন যে আপনি ঠিকমত পৌঁছেছেন, তারপরে আর নিজে থেকে আমাকে ফোন করবেন না, উনি আমাকে ব্যাপারটা নিশ্চিত করলেন, ভালো। এবার হাটতে হাটতে জানতে পারলাম উনার খুব শখ বড়লোক হবার, মোটামুটি হতেই হবে এমন একটা বা তার কাছাকাছি, একটা পাওয়ার টিলার কিনতে পারলে আর রাতদিন পরিশ্রম করতে পারলে উনি বড়লোক হয়ে যাবেন, আবার এক চিলতের জন্য আমার অভিজ্ঞতা আমার মাথায় ঘন্টা বাজিয়ে দিল। জিজ্ঞেস করলাম বড়লোক হলে কি হবে? বললেন, কপালে কি আছে তা তো জানা নেই, তবে আমার মত এমন করে কেউ বিপদে পড়লে তাকে সাহায্য করার জন্য টাকা দিয়ে বলবো যেদিন সামর্থ্য হবে সেদিন যেন শোধ করে দেয়, এর জন্য জমি লিখে নিবো না। অভিজ্ঞতার ঘন্টাটা থামিয়ে দিলাম, পারলে ঘন্টাটা লুকিয়ে ফেলতাম। রাত সাড়ে এগারোটা, প্রেস ক্লাবের সামনে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি, উনাকে যাত্রাবাড়ির বাসে তুলে দিয়ে কন্ডাক্টরের হাতে ভাড়া দিয়ে তারপর বাসায় যাবো, হাল্কা বৃষ্টি শুরু হচ্ছে এর মধ্যে। এতো রাত, তার উপর রোযার মাস, রাস্তায় গাড়ি ঘোড়া নেই বললেই চলে। এখন আমি একটু উদ্বেগ বোধ করা শুরু করলাম, আফটার অল এটা উনার ঢাকা শহর, এতো রাতে এইভাবে হেটে যাবেন, ছিনতাইকারীর জানার কথা না উনার কাছে টাকা নাই, আর চেহারা দেখে তার মাফ করলেও পুলিস কি মাফ করবে? দশ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে উনাকে নিয়ে সামনের দিকে এগোতে থাকলাম, নয়া পল্টনের মোড়েও বাসের কোনও ছায়াও দেখলাম না! এই পর্যায়ে আমি যারপরনাই বাসের উপর বিরক্ত এবং আমার গাড়িতে গ্যাস থাকলে আমি ডেফিনিটলি তাকে ড্রাইভ করেই যাত্রাবাড়ী দিয়ে আসতাম, হালকা আফসোস লাগলো, কিন্তু ব্যাপার না। এর মধ্যে উনি বললেন আপনি চলে যান আমি হেটেই যাবো, আমি বললাম আমি আমার বাসা অনেক আগেই ফেলে এসেছি, হালকা অপরাধবোধের ছায়া দেখলাম এই অন্ধকারে। একটা সময় বুঝলাম লোকটা আসলে অধৈর্য হয়ে যাচ্ছে যাওয়ার জন্য, উনার কুস্টিয়া যাওয়া দরকার, বলা দরকার উনার টাকা ম্যানেজ করা হয় নি! অলরেডি বাসের কথা বলে তাকে আমি দুইবার রাস্তায় দাড় করিয়ে রেখেছি। বাড়োটা বাজতে আর দুই মিনিট বাকি, আর তো দাঁড়িয়ে থাকা যায় না, কয়েকটা টাকা উনার হাতে দিয়ে বললাম সেহরির সময় কলা পাউরুটি খেয়ে নিয়েন, আই উইশ আই কুড পে হিস ডিমান্ডস!

এখন মাথায় ঘুরছে বাবার ভাঙ্গা পা, যা কেটে ফেলতে হতে পারে, প্রতি মাসে দুই হাজার টাকার জন্য আটশো টাকা ইন্টারেস্ট, বাবার চিকিৎসার টাকা যোগাড় না হওয়া, শেষ ভিটেমাটি সম্বল রক্ষা করা, বোনগুলোর বিয়ের পড়ে কি হতে পারে সেটাও ভেবে রাখা… মনে হচ্ছে আই জাস্ট মেট দি লাইফ ইটসেলফ!

৯৬৭ বার দেখা হয়েছে

৫ টি মন্তব্য : “জাস্ট হ্যাড এ ফার্স্ট হ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স অন লাইফ”

  1. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    ও ইয়েস।
    এতো নির্মম আর নির্বিকার ক্রুর গল্প আমাদের চারপাশে বয়ে চলেছে। নিরাপত্তা আর নির্লিপ্ততা থেকে একটু শরীরটা বার করে দিলেই হল্কা লাগে --- পুড়ে যায়।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।