চুরি কাহিনী (২)

আগেরটা ছিল সত্য হাউজের আমচুরির ঘটনা। তারা যেহেতু ব্যর্থ তাই এবার সদাচার হাউজের সবচেয়ে দুষ্টু ক্যাডেট কিন্তু ট্যালেন্টেড আর সত্য হাউজের বাদরদের অন্যতম একজন উদ্যোগী হয়ে উঠল আম চুরির ব্যাপারে। নতুন এডজুটেন্টের অহেতুক ভাব আর সহ্য হচ্ছে না তাই তাকে ব্যস্ত রাখতে হবে নিয়ম ভেঙে আর সেটা শুধু ক্লাস 11-ই পারে।

এবার শনিবারে ক্লাস শেষে লাঞ্চ করে সবার শর্ট ওয়ে তে হাউজে ফেরার কথা, কিন্তু সিফু আর সনু এবং আরো কয়েকজন আবার গেল সেই আমগাছের দিকে। এখানে একটু বলিঃ সিফ ছিল আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে মোটা ক্যাডেট আর সনু ছিল সবচেয়ে লম্বা। যাই হোক, এবার আর ব্যাট দিয়ে ঢিলাঢিলির প্লান হল না। আবার এদিকে গাছ টা এমন ছিল যে, আমাদের পক্ষে ওঠাও সম্ভব ছিল না। তাই সিদ্ধান্ত হল সিফের কাঁধে সনু উঠবে। কাঁধে প্লেসমেন্ট করে নেবার পর সিফ উঠে দাঁড়াল, সনু তখনো কাঁধের উপর বসা। এবার বাকিদের সহায়তায় সে-ও উঠে দাঁড়াল। আমগাছের সবচেয়ে নীচু ডালটা সনুর নাগালে এল। ও খুব মজা করে আম পাড়ছে… না এবার কোন ইঞ্জুরি হবার চান্স নাই।

আম পাড়া যখন প্রায় শেষের পথে তখন হঠাৎ অযাচিতভাবে প্রিন্সিপাল স্যার বেরিয়ে এলেন। স্যার-এর বের হওয়াও শেষ, সহযোগীদের দৌড়ে হাউসে পালানোও শেষ, সিফ-ও দৌড় দিবে দিবে ভাব করছে। অবস্থা বেগতিক দেখে সনু গাছের ডাল ধরে ঝুলে পড়ল। সিফকে পালিয়ে যাবার সুযোগ করে দেবার জন্য। সিফ আবার গড়িমসি করছে সনুকে রেখে যাবে কি না… সনু গাছে ঝুলন্ত অবস্থাতেই বললঃ “সিফ, দৌড় দে, প্রিন্স (প্রিন্সিপাল) আসছে।“ সনু ভয়ে হাত ছাড়ার সাহস পাচ্ছেনা, আবার গাছে উঠতেও পারছেনা; ততক্ষণে প্রিন্সিপাল চলে এসেছেন গাছের নিচে। এবার সনু নিজের ভার আর রাখতে না পেরে আমের মতই ‘টুপ’ করে পড়ল, একেবারে প্রিন্সের সামনে। স্যার তো অবাক! আমি নিশ্চিত তিনি জীবনে কোন মেয়ে ক্যাডেটকে ইতিপূর্বে গাছে ঝুলে থাকতে দেখেননি। স্যার খেয়াল করলেন – ক্যাডেটটির অক্সফোর্ড শু একদিকে, খাকি ড্রেসের বেল্ট একদিকে, ক্যাডেট পড়ে আছে আরেকদিকে। দৃশ্যটি নির্দ্বিধায় হাস্যোস্পদ, কিন্তু স্যারের কেন মেজাজ খারাপ হল আমি এখনো ভেবে পাইনা। খবর চলে গেল এডজুটেন্ট এর কাছে।

এডজুটেন্ট ভিপি প্রিন্সিপাল দফায় দফায় বৈঠক করছেনঃ “হ্যা? গার্লস রাও গাছে ওঠা শুরু করল? এটা তো মেনে নেয়া যায়না। দুইদিন আগে তাদের বুঝিয়ে ছেড়ে দেওয়া হল কোন পানিশমেন্ট না দিয়ে। এবার তো আর মাফ করা যায়না।“ দফায় দফায় বৈঠক শেষে নতুন এডজুটেন্ট পানিশমেন্ট দিল EXTRA DRILL… মগকক-তে এই প্রথম এক্সট্রা ড্রিল হল। আর সনু তো কোনভাবেই তার সহযোগীদের নাম বলছে না। স্যার ফর্মে এসে বললেন – যারা যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা নিজে থেকে যদি নাম না বলে তাহলে সনুকে বহুদিন এক্সট্রা ড্রিল খেতে হবে সবার পক্ষ থেকে। বন্ধুর শাস্তি কমাতে গিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে পড়ল। সবাইকে ৩ দিনের ইডি দেওয়া হল।

আমাদের আনন্দ দেখার মত ছিল- কারন আমগুলা ফেলে আসা লাগেনি, আর কলেজে প্রথম ইডি চালু করে দেওয়া গেছে বলে। পরে আমরা স্যার-ম্যাডামদের আলোচনার সেন্টার পয়েন্টঃ এত ভাল রেজাল্ট করে তারা কেন আম চুরি করতে গেল? আমাদের বললেই হত, ডাইনিং এ দিয়ে দিতাম।

কলেজে এক্সট্রা ড্রিল চালু করে দিয়ে আমাদের ক্লাস 11 -এ উঠা সার্থক মনে হতে লাগল!!

১,৯০৮ বার দেখা হয়েছে

২৭ টি মন্তব্য : “চুরি কাহিনী (২)”

  1. আদনান (১৯৯৭-২০০৩)
    কাঁধে প্লেসমেন্ট করে নেবার পর সিফ উঠে দাঁড়াল, সনু তখনো কাঁধের উপর বসা। এবার বাকিদের সহায়তায় সে-ও উঠে দাঁড়াল।

    এক্রবেটিক কায়দা এক্কেরে!!

    জবাব দিন
  2. আদনান (১৯৯৭-২০০৩)
    কলেজে এক্সট্রা ড্রিল চালু করে দিয়ে আমাদের ক্লাস 11 -এ উঠা সার্থক মনে হতে লাগল!!

    ইডি না খাইলে রিয়েল ক্যাডেট হওন যায়না!
    কংগ্রাটস তোম্রা ক্যাডেট হইতে পারস। :thumbup:

    জবাব দিন
  3. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    ১৯ নম্বর ব্যাচে আইসা পয়লা ইডি......... ক্যাম্নে কি?

    আমাদের বললেই হত, ডাইনিং এ দিয়ে দিতাম।

    এভাবে খেলে তো মজা নাই।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  4. সাজিদ (২০০২-২০০৮)

    মগকক এর ইডিতে কি করায়? আমাদের এক ক্লাসমেট বলসিল ওদের নাকি হাইএস্ট পানিশমেনট কান ধরা অথবা টাচ এন্ড ব্যাক, মাইন্ড কইরেন না, ছুট মানুষতো কৌতুহল বেশি, তাই জিগেশ করলাম আর কি 😀 😀 😀

    জবাব দিন
  5. সামিয়া (৯৯-০৫)

    সুরভী আপা কেমন আছেন? :salute:
    আপনার পোস্টে কমেন্ট কাউন্ট বাড়ানোর জন্য আদনান ভাইয়ের ব্যাঞ্চাই (আমি কিছু বলি নাই :guitar: )
    ময়মনসিংহের পোস্ট বারাইতে থাকেন :grr:

    জবাব দিন
  6. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    হুম,

    এইবার লেখাটা হইছে পুরা মারদাংগা। :gulli2: :gulli2:

    এক্সট্রা-ড্রিল না খাইলে আবার কিসের ক্যাডেট। ১৯তম ব্যাচে এসে অবশেষে মগকক ক্যাডেট হইল।
    :clap: :clap: :clap:


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  7. আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)

    ইডি ত 'এফ সি সি' তে প্রাত্যহিক ঘটনা। ক্লাস টেন এ আল্লাহর অসীম দয়ায় একেবারে ৩ টা ইডি খাইলাম আমরা ৩ জন ফ্রেণ্ড মীল্ক ব্রেক এর পরে কেমিষ্ট্রি গ্যালারি তে ঘূমানোর জন্য।ইডি দিলেন খ ল র (মেছো মামা) স্যার । আমাদের দিয়ে শেল ইডি(৬৫ পাউণ্ড শেল ক্যারী করা) শূরূ হ্ল। ইডি খাইছো তোমরা - সাবাস !

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।