বয়স: এক যুগ

[লেখাটি একক এর রিইউনিয়ন ২০০৮ এর স্যুভেনিরে প্রকাশিত। কুমিল্লা ছাড়া অন্যদের জন্য তুলে দিলাম]কোথায় যেন পড়েছিলাম, দিন যত যায়, স্মৃতি তত মলিন হতে থাকে। যেই পন্ডিত একথা লিখেছিলেন তিনি হয়ত তার জন্মে কোন ক্যাডেট দেখেননি। তা না হলে ক্যাডেটদের জন্য এর থেকে বড় ভুল উক্তি বোধকরি আর দ্বিতীয়টি হয় না। ক্যাডেট কলেজের সাথে সম্পর্কের এক যুগ হয়ে গেল। তার অর্ধেকটা স্মৃতি যোজনের, আর বাকী অর্ধেক রোমহন্থনের। আর সেই সব স্মৃতির যোগ বিয়োগ গুন ভাগ কে এক করলে যে তা “মেগাউপন্যাসে” পরিনত হবে তাতে আমাদের সকল এক্স-ক্যাডেটদের মতের অমিল হবে না। রবিঠাকুর ক্যাডেট কলেজে পড়লে সম্ভবত দুটি নোবেল পেতেন, যার একটি- এই রকম স্মৃতিচারনমূলক মেগাউপন্যাসের কল্যানে।

স্মৃতি হাতড়াতে যেই নামটি প্রথম মনে পড়ে যায় তিনি হলেন আমাদের অতি শ্রদ্ধেয় শাহীন বিন জামান স্যার। যিনি ছিলেন স্যারদের কাছে “বিশেষ ভাবে খ্যাত” আমাদের “এ ফর্ম”এর ফর্ম মাষ্টার। স্যারকে যারা চিনেন তারা সকলেই একটা ব্যাপারে একমত হবেন, স্যার ছিলেন ভীষন অন্যমনষ্ক। সবসময় কী যেন চিন্তা করতেন। তাঁকে দেখলে মনে হবে আইনিস্টাইন বুঝি ভুল করে ইংরেজীর শিক্ষক হয়ে গেছেন। তাঁর এ আত্নভোলা স্বভাবের কারনে আমরা হয়েছিলাম অনুপ্রাণিত এবং ফলাফলস্বরূপ কুখ্যাত। একবার আমাদের ফরহাদ, স্যারকে বলল, স্যার টয়লেটে যাই? স্যার অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে বললেন, যা। এবার ফরহাদ বলল, স্যার জানালা দিয়ে যাই? স্যার পুনরায় উত্তর দিলেন, যা।… আরেকবার নিয়ম অনুযায়ী আমাকে ফর্ম লিডার করলেন। একমাস পরপর যে নতুন কাউকে ফর্মলিডার বানাতে হবে সেটা সম্ভবত ভুলে গেলেন। যার কারনে আমাকে দীর্ঘ দুই টার্ম ফর্মলিডার থাকতে হয়েছিল আর প্রায় সময়ই “দায়িত্বে অবহেলা”র কারনে বিভিন্ন জনের কাছে . . .। স্যারের প্রিয় শাস্তি ছিল “ব্যান্ড”। তাতে ছিল নতুন মাত্রার সংযোজন। শাস্তি দেবার সময় তিনি বলতেন, “যা, বাইরে গিয়ে ব্যান্ড হয়ে বসে থাক”। শাস্তি পালন করতে গিয়ে “ব্যান্ড হয়ে বসে থাকার” অনেক চেষ্টা করতাম যা দফায় দফায় শাস্তির মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া আর কিছু করতে পারত না।

ইংরেজীতে আমি বরাবরই দুর্বল। আমার কথা বাদ দিলাম, অনেক সবল ইংরেজী পারদর্শীরাও দুবর্লে পরিনত হয়েছিল “সুলেমানী আমলে”। সুলেমানী আমল হল ইংরেজীর সোলয়মান স্যারের আমল। সে আমলে আমাদের জুনিয়র ব্যাচগুলোতে এমনই ত্রাসের সঞ্চার হয়েছিল তার ব্যাখ্যায় যাওয়া যাবেনা। স্যার কথায় কথায় বলতেন, “ ও ফড়বংহ্থঃ পধৎব ধহুনড়ফু”(ও এর সাথে ফড়বং কিভাবে হয় সেটা জানিনা)। স্যারের এই পধৎবভৎবব ভাবের কারনে আমাদের ইনটেকের আটত্রিশ জনের ভেতর পাস করত ৫/৬ জন। অনেককে পাওয়া যাবে, যারা স্যারের কাছে কখনো কোন পরীক্ষায় পাসই করেনি। আমাদের অভিজিৎ একবার পাক্ষিক পরীক্ষায় “সহজ গার্ডের” সুবাদে বিখ্যাত ইংরেজী গাইড “ Potential” থেকে সবগুলো উত্তর copy-paste করেও কোন লাভ হয়নি। বরং অন্যবারের থেকে সেবার আরও কম পেয়েছিল। আশিক টার্ম পরীক্ষায় একবার পেল উনিশ। গুনে দেখে মার্কস হবে সাড়ে উনিশ। বিশে পাস হয়ে যাবে ভেবে খুশি মনে স্যারের কাছে গেল সে। স্যার আরও খুশি হয়ে খাতার ভিতর থেকে হাফ মার্কস কেটে দিয়ে বললেন, তুমি তো ফেল!

জুনিয়র থাকাকালে শংকর প্রসাদ দাশ স্যার ছিলেন খুবই জনপ্রিয়। ক্লাশে ঢুকেই বলতেন “ Talking and chalking is our business ” । তারপর শুরু হত তাঁর গল্প। কোন ছেলেকে বাঁ হাতের এক চড়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন, কোনদিন ফুটবল ম্যাচে একাই সবগুলো গোল করেছেন, কোন বড়ভাই তাঁকে নাসা থেকে রকেট এর রেপ্লিকা পাঠিয়েছেন, কুমিল্লার মানুষদের কু সমৃদ্ধ কীর্তি… আরো হাজারো কাহিনীতে তাঁর ক্লাশ থাকত জমজমাট। একবার আমাদের ক্লাশ নিচ্ছেন। বি-ফর্মের সবাই কোন কারনে একসাথে হেসে উঠল। স্যার বললেন, “এটা তো হতে পারে না, আমাদেরও মজা করতে হবে, তোমরা সবাই হাসো”। আমরা সবাই তুমুল উল্লাসে এমনই এক হাসি দিলাম যে পাশের ফর্ম থেকে স্যার পর্যন্ত বাধ্য হলেন এলেন কি হয়েছে দেখার জন্য।

কলেজের মাঠের সাথে আমার সখ্যতা ছিল সবচেয়ে বেশি। আর সব হাউস কম্পিটিশনের মধ্যে ক্রিকেট কে আলাদা করে রাখতে হবে। আলাদার কারন আর কিছু নয়- “আম্প্যায়ারিং”। আমাদের শ্রদ্ধেয় স্যাররা শিক্ষকতায় ঠিক যতটুকু পারদর্শী ছিলেন, আম্প্যায়ার হিসেবে ছিলেন ঠিক ততটুকুই…। জুনিয়র গ্রুপে মেঘনা হাউসের সাথে গোমতীর খেলায়, তাওহীদ (১৬তম ইনটেক) ভাইকে, ওয়াইড হওয়া সত্ত্বেও, আশে পাশের ফিল্ডারদের জোরালো আবেদনে আম্প্যায়ার মামুন স্যার “কনফিউজড” হয়ে “কট’ আউট দেয়ার পর- তাওহীদ ভাইয়ের তীব্র কান্নার কারনে প্যাভেলিয়ান থেকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আবার ব্যাট করতে পাঠানোর নজির বোধহয় বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে আর দুটি নেই। যেমনটি নেই বিনা আবেদনে এল.বি.ডব্লিউ হ্বার ঘটনা। এবারের নায়ক স্বয়ং আমি। আর ভিলেন আমাদের শ্রদ্ধেয় মোকলেস স্যার। মেঘনা হাউস ২ ম্যাচ জিতে চ্যম্পিয়ন হয়ে যাওয়ায় সেবার ফিক্সিং হয়েছিল তিতাস হাউসের সাথে। আমাকে সেঞ্চুরী করতে দেয়ার জন্য বল করতে দেয়া হয়েছিল “কোন কালেও বল না করা” সাজ্জাদকে। ওর লেগস্পিন এতই স্লো যে ২বার ব্যাট চালিয়েও নাগাল না পাওয়া যায়না টাইপের। ওভার শুরু করার সময় আমার কানে কানে সাজ্জাদ বলে গেল “ দোস্ত, জুনিয়রদের সামনে সিক্স মারিসনা”। আমিও ওর কথা রাখতে গিয়ে, লেগদিয়ে প্রায় ওয়াইড হয়ে যাওয়া বলটা পা দিয়ে ঠেকালাম। যথারীতি কেউ কোন আপিল করল না। পরের বল ফেস করতে হিয়ে দেখি স্যার আঙুল তুলে ধরেই আছেন। মাঠের সবাই হতবাক! সাজ্জাদ সাহস করে বলেই ফেলল, “স্যার, আমরা তো আপিল করিনি”। স্যার উত্তর দিলেন, “কিরকেট বল দিয়ে ফুটবল খেলবা আর আমি আউট দিব না!” (আমরা হিসেব করেছিলাম,কারো পায়ে ৩ বার বল লাগলেই স্যার তাকে আউট দিয়ে দেন…)

স্যারদের কাছে আমরা নানা দিক থেকেই অনেকভাবে কৃতজ্ঞ ও ঋণী। এসএসসির সময় আমি আর মাহমুদ অংক পরীক্ষার সময় খাতা অদল বদল করি। গার্ড আমাদের সামনে এসে দাড়িয়ে থাকায় সেই অবস্থায়ই আমাদের খাতা সেলাই হয়ে যায়। মাহমুদ একটু অস্থির হতেই গার্ড বুঝে ফেলেন “ডাল মে কুচ কালা হেয়”। ডাল পুরাই কালা হয়ে গেল যখন সেই অবস্থায়ই গার্ড খাতা সিজ করল। এ অবস্থায় নিশ্চিত এক্সপেলড হবার হাত থেকে আমাদের বাঁচিয়েছিলে দেলোয়ার স্যার প্রচন্ড মারের বিনিময়ে। ধন্যবাদ স্যারকে। স্যার সেদিন সাহায্য না করলে হয়ত আজ আর ইঞ্জিনিয়ার হতে পারতাম না।

স্যারদের দিক থেকে বরং স্মৃতির তীরটা নিজেদের দিকে ফেরাই। হাসান ভাই (১৩তম ইনটেক) জুনিয়র হাউস প্রিফেক্ট থাকাকালীন অবস্থায় হঠাৎই আমাকে অন্যনামে ডাকা শুরু করলেন। প্রথম প্রথম উত্তর না দেয়ার অপরাধে বেশ কবার শাস্তি হবার পর মেনে নিলাম নিজের নতুন পরিচয়। বুকের সামনে নেইমটেকে আমার নামখানি জ্বলজ্বল করতে থাকলেও কেন যে আমাকে অন্যনামে ডাকা শুরু করলেন তা বোধগম্য ছিল না (হয়ত আমার নামটা ওনার পছন্দ ছিলনা… কী দুঃখজনক!)। কিছুদিন পর তার কাছে আমি আমার আসল নাম ঠিকই ফিরে পেলাম, কিন্তু ওই নামটি পেয়ে গেল আমারই আরেক ক্লাশমেট!

গভীর রাতের কাঠাল অপারেশন খুব মনে পড়ে। ক্লাশ টুয়েলভে একবার গাছপাকা এক কাঠাল এনে বাথরুমে রেখেছিলাম। লাঞ্চের পর কাঠাল পার্টি হবে। কিন্তু সকালে এমনই গন্ধ বের হল যে হাউস মাস্টার আনোয়ার স্যার হাউস এসেম্বলীর পর পাশ দিয়ে যাবার সময় বাথরুমে ঢুকতে বাধ্য হলেন। কাঠাল হল সিজড। রাখা হল স্টোর রুমে। হাউস বেয়ারা ইউনুস ভাই কে দায়িত্ব দেয়া হল পরদিন মেসে জমা দিয়ে আসতে। কাঠালের গন্ধ আমাদের এমনই মন কেড়েছিল যে গভীর রাতে স্টোর রুমের জানালা দিয়ে “বাশযোগে” অপারেশন চালিয়ে সেটা উদ্ধার ও ভোজপর্ব চলল। পরদিন সকালে ইউনুস ভাই কাদো কাদো হয়ে আমাকে খবর দিল কাঠাল চুরি করে খেয়ে ফেলা হয়েছে (আমাকেই কেন খবর দেয়…আমার চেহারায় কি কাঠাল চোর ভাব আছে!)। জমা দিতে না পারলে ওনার খবর আছে। আমি ভাল মানুষের মতন মুখ করে বললাম আমরা তো জানিনা। একটু পর ইউনুস ভাইকে এদিক ওদিক তাকিয়ে কাঠাল গাছ থেকে কাঠাল চুরি করে দৌড়ে হাউসে আসতে দেখা গেল। কে বলে ক্যাডেটরাই শুধু কাঠাল চোর!

ক্লাশ সেভেনে পড়ার সময় আমার রুমমেট ইফতেখার ভাই (১৬তম ইনটেক) আমার দাবা প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে প্রতিদিন থার্ড প্রেপ-এ গভীর রাতে করিডোরের আলোতে আমাকে তার সাথে দাবা খেলতে বাধ্য করলেন। কয়েকদিন টানা খেলে বারবার হারার পর প্রতিদিন ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে যেত লাগল। একদিন বুদ্ধি করে পরপর কয়েক দান ইচ্ছে করে হেরে যাওয়ায় আমার সাথে দাবা খেলার উৎসাহে তার ভাটা পড়ল। যাক, ঘুমের শান্তি ফিরে পেলাম।

আর একবার ফুটবল মাঠে আমাদের মনির রাইট থেকে ক্রসের অপেক্ষায় দৌড়তে দৌড়াতে গোলপোস্টে বাড়ি খেয়ে উঠে বলে, আমি কে? আমি কোথায়? আমরা ওকে ধরে ঝাকি দিতেই ও “গোল” বলে দৌড়ে মাঝমাঠে চলে গেল। পাগলে কি না বলে!

কোন এক পিকনিক থেকে আসার পরদিন দেখা গেল আমাদের ৮/১০ জনের একস্ট্রা ড্রিল। কারনের যায়গায় লেখা,“ … বারবার মানা করা সত্ত্বেও দুরে চলে যায়। কাছে আসে না… …২ ইডি” এ ধরনের কোন কারনে আজ পর্যন্ত কেউ একস্ট্রা ড্রিল খেয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

আমরা তখন ক্লাশ টুয়েলভে। একবার এ্যাডজুডেন্ট মেজর গাফফার স্যার সুদীর্ঘ ২ঘন্টা ISSB সম্পর্কে ব্রিফ করার পর বললেন, Do you have any questions?। আমাদের মুজিব হাত তুলে বলল, স্যার আমরা প্যারেন্টসডে তে কি বিস্কুট আনতে পারি?। স্যার কিছুক্ষন চুপ করে থেকে হতাশ কন্ঠে বললেন, Do you have any more questions?

মনে পড়লেই হাসি পায়, একবার মাশফিক ভাই (১৩তম ইনটেক) রেজোয়ান ভাইয়ের (১৬তম ইনটেক) কলার চেপে চিৎকার করে বলতে লাগলেন, How dare you! Look at me you bloody…!! রেজোয়ান ভাই অন্যদিকে তাকিয়ে কোন মতে বললেন, ভাইয়া আপনার মুখে গন্ধ! আরেকবার আসিফ ভাই (১২তম ইনটেক) হাউস প্রিফেক্ট থাকা অবস্থায় আমাদের লেট করার জন্য অনেক শাসাচ্ছিলেন। হঠাৎ ফার্স্টম্যান নাকিবকে চিৎকার করে বললেন, Nakib, do you have anything to say? নাকিব বলল, জ্বি ভাইয়া। আপনার দুই পায়ে দুই স্যান্ডেল। আসিফ ভাই ঠিক তেমনি স্বরে চিৎকার করে বললেন, থ্যাংক ইউ!

লিখতে গিয়ে ভীষন বিপদে পড়ে গেলাম। স্মৃতিগুলো একেরপর এক এসে ভীড় করছে। কোনটা রেখে কোনটা লিখব ভেবে পাচ্ছিনা। কত গল্পই না বাদ পড়ে গেল। এক্সকারশানে সিলেট ক্যাডেট কলেজ রাতে থাকলে তপুদের সাথে দেখা করার জন্য রাতের আধারে হাউস পালানোর গল্প, ইকবাল স্যারের “ write a principal to the application ”এর গল্প, তাহের স্টাফের এর “athletics রা athlete practice করবে”র গল্প, ssc candidates থাকা অবস্থায় টেস্ট পেপার ছিড়ে বানানো এ্যারোপ্লেন প্রতিযোগীতা এবং পরবর্তীতে শাস্তি খাওয়া ও অভিযোগপত্রে এ্যারোপ্লেনের “হেলিকপ্টার” এ রুপান্তরের গল্প, হাউসের ছাদের তালা চুরি করে সেটার ডুপ্লিকেট চাবি বানানোর গল্প, গভীর রাতে তালা অপারেশন করে টিভি রুমে বস্তপচা কোন হিন্দি সিনেমা দেখে জীবন সার্থক হবার গল্প, শাহীনের লেখা আঠাশ পৃষ্ঠার ‘আমার জীবনের লক্ষ্য’ রচনায় মাহিন ম্যাডামের শূন্য দেবার গল্প, ১৪ই ফেব্রুয়ারী পানি দিয়ে মারামারির অভিযোগে principal’s love letter পাবার গল্প, রাতের বেলায় ভয় দেখাতে গিয়ে পা টিপে টিপে বের হওয়া night duty master (NDM)দেখে নিজেরাই ভয় পেয়ে যাবার গল্প, গভীর রাতে হাউস প্রিফেক্ট মাসুদ ভাইয়ের রাউন্ড দেয়ার গল্প (যিনি এতই কালো ছিলেন যে মনে হত একটা পাঞ্জাবী বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে), সদ্য যৌবনে হাতেগোনা কিন্তু অনেকের হৃদয় হরন করা কলেজের কতিপয় সুন্দরী (!) কিশোরীর/তরুনীর গল্প, parents day তে সুন্দরী বোন সমৃদ্ধ জুনিয়রদের অতিরিক্ত খোঁজখবর নেবার গল্প, শুক্রবারে সিনবাদ দেখার জন্য মাত্র ৫মিনিটে ডিনার শেষ করে দেবার গল্প,ক্যালকুলেটরের খাপে ভরে রেডিও তে ক্রিকেটের কমেন্ট্রি শোনার গল্প, সিগারেটের দালাল হয়ে বেনসনের প্যাকেটে গোল্ডলীফ চালান দেবার গল্প, . . . . এর কি কোন শেষ আছে?

বাংলার সাইফুল ইসলাম স্যার শিখিয়েছিলেন হঠাৎ করে শুরু হলে সেটা হয় ছোট গল্প। কিন্তু হঠাৎ করে শেষ হলে? উত্তরটি জানা নেই। তাই যবনিকা টানতে হবে বলেই টানছি। আমি আমার আশেপাশের মানুষদের সবসময় একটা কথা বলি, আমি যদি পরজন্মে বিশ্বাস করতাম, তাহলে প্রতিবারই সৃষ্টিকর্তার কাছে এই বলে প্রার্থনা করতাম যে, আমি যেন প্রতি জন্মেই ক্যাডেট হয়ে জন্মাতে পারি । অনেকের মতে ক্যাডেটরা নিজেদের ঢাক নিজেরাই পেটায়। আর আমি বলব আমাদের সার্থকতা অন্যরা তা শুনতে পায়। তাই নয় কি?

২,৩৮৯ বার দেখা হয়েছে

২৬ টি মন্তব্য : “বয়স: এক যুগ”

  1. কালকে পরীক্ষা। তাই ভাবছিলাম এখন লেখাটা পড়বো না। কিন্তু প্রথম কয়েক লাইন পড়ে আর থাকতে পারলাম না। অনেক অনেক গল্প থেকে প্রতিবারই এমন কিছু লিখে যেতে থাকেন। পাঠক হিসেবে আমরা তো আছিই।

    জবাব দিন
  2. আসলেই প্রতিবারই একটা করে ব্লগ পড়ি আর একবার করে ব্লগটার প্রতি কৃতজ্ঞবোধ করি। সেই সাথে ব্লগটার পেছনের সবগুলো মানুষকে মনে মনে একবার ধন্যবাদ দেই। মনে মনে দেই কারন নইলে তো আবার সিনিয়র সিনিয়র ভাব থাকে না (ওরা সবাই বোধহয় জুনিয়র)...হা হা হা। কনক আমাদের সুভ্যেনির দেখেছিস? লেখাগুলো খুব ভাল হয়েছে। তপুকে লিংকটা দিয়েছি। নিয়ে নিস।

    জবাব দিন
  3. লেখাটা পড়তে পড়তে তিনদিন পার করে ফেললাম। অবশ্য এরকম লেখা যে শেষ পর্যন্ত পড়লাম সেটাও কম কিছু নয়।

    ভাই আপনার পায়ে পড়ি নিয়মিত লেখা দেন।পড়তে পড়তে আমি যে কত বার হাসছি নিজেও জানিনা।

    অসাধারণ বলছিনা। সেটা বললেও কম বলে ফেলার ভয় থেকে যায়...

    জবাব দিন
  4. জামিল IUT থেকে EEE তে পাস করে একটা ফার্মে চাকরি করতেসে। ফরহাদ টেক্সটাইল থেকে পাস করসে মাত্র। ওরা আসলেই বস। ওদের জন্য কুমিল্লা মিউজিকে ২বার চ্যাম্পিয়ন আর ৩ বার রানার আপ হয়েছিল (আমার হিসাব যদি ঠিক থাকে)। মিউজিকে গার্লস কে হারানো সোজা ব্যাপারনা!

    জবাব দিন
  5. আমি কবিতা লিখিনাই তো...
    sam এর গানের নেক্সট দুই লাইন কইলাম আর কি, ও মনে হয় নেক্সট দুই লাইন ভুইলা গেসিল।

    শামস ভাই,আপনার নিক টারে আমি samjhang ভেবে বার বার ভুল করতেসি।চেঞ্জ করে বাংলা নাম দিলে বাধিত হব।

    আর আমি কোক খাইনা,সেভেন আপ।

    ধন্যবাদ

    জবাব দিন
  6. জিহাদ
    বাধিত করে দিলাম।

    আলম
    খবর কি? পাকিস্তান থেকে বঙ্গদেশে আসা হয় না? আর কত দিন? তোমার তো লেখালেখির হাত খুব ভাল যতদুর মনে পড়ে।

    ঝ্যাং এর বাচ্চা স্যাম (samjhang)
    CCC রে ছি ছি ছি কইলে কিন্তু CCB তে রক্তব্ন্যা বয়ে যাবে কইলাম!!! be careful next tym (একটু সিনিয়রগিরি দেখাইলাম আর কি....)

    জবাব দিন
  7. এই দেখেন, যার মনে যা...আমি ccc রে ছি ছি কইসি কে বলসে? আপনার মনে নিজের কলেজ নিয়া খারাপ চিন্তা আসে তাই এইসব ভেবে নিসেন...আমি তো ফেরেশতা।
    ছি ছি ছি, নিজের কলেজকে নিয়া খারাপ ভাবা ঠিক না শামস ভাই। a cadet must hav collge feelngs.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।