ক্লাস ইলেভেন ১৯৮২

৫ জানুয়ারী ’৮২।
উইন্টার ভ্যাকেশনে বাড়ি আছি। সামনে এস এস সি পরীক্ষা। পড়াশুনা ছাড়া আর কোনো কাজ নাই। কিন’ আমি আছি আমার রেডিও নিয়ে। শ্রীলংকা ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন থেকে আপকে ফরমাইশ অনুষ্ঠান যতক্ষণ চলে আর কিছু করিনা। শুধু গান শুনি।

১১ জানুয়ারী ’৮২।
আমার কোনো প্রিপারেশন নাই। একা একা নিজে রুটিন করে নিজে পড়ছি। তুহীন দুইজন মাস্টার রেখেছে।

২৮জানুয়ারী ’৮২।

Reported in College. I bought 390 taka from home. Now only 80 is in my hand.

২৯ জানুয়ারী ’৮২।
হাসি গানে ভরা এই দিন গুলি কাটছে। এভাবে চললে এস এস সির কি রেজাল্ট হবে বুঝতে পারছি না। আমাকে যে স্ট্যান্ড করতেই হবে। আমার রুমে এখন আমরা চারজন ক্যান্ডিডেট। আমি, আহমেদ, আলাউদ্দিন আর খাজা। আজ প্রিন্সিপাল্‌স ইন্‌সপেকশন হলো। প্রিন্সিপাল স্যার প্রিপারেশনের কথা জানতে চাইলেন। বললাম – তোষকে বেশ ছারপোকা আছে। স্যার ব্যবস’া নিবেন।

৩০ জানুয়ারী ’৮২।
আমাদের নতুন ক্লাসে বসার ব্যবস’া হয়েছে। ঠওও-অ তে সাইন্স গ্রুপ বসছি। বিকেলে ফুটবল খেলতে যেয়ে কাদেরের সাথে পা লেগে পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেলাম। সন্ধ্যায় পড়াশুনা না করে চেস খেললাম।

I promise that I will say prayer 5 times in a day till the SSC is finished.
৪ ফেব্রুয়ারী’ ৮২।

Ahmed does not know how to behave. No one likes him. In our room, he always quarrel with every one. As class XI was not present today, we are the senior most cadets of our college. Me, khaja and Alauddin punished the boys of class IX as they were talking in line during launch.

৫ ফেব্রুয়ারী’ ৮২।

I promise not to talk with Alauddin any more. He is a selfish. The ‘Pachu’ Shamim is the root of all evils. He encouraged Alauddin to behave ill with me.

৬ ফেব্রুয়ারী’ ৮২।
ইভনিং প্রেপ এ ফজলে কে শিখিয়ে রেখেছিলাম। সে অনুযায়ী আমি বারান্দায় গিয়ে বন্ধ দরোজায় একটা টোকা দিলাম। ফজলে নিরবতার মধ্যে জোরে বলে উঠলো- ‘হু ইজ দ্যাট?’
আমি বললাম – Exam
সবাই হো হো করে উঠলো।

Exam is knocking at the door.

৭ ফেব্রুয়ারী’ ৮২।

Ahmed says that he will not take any appointment. But actually he is strongly expecting. Thus he flatters all he seniors and teachars. But all ended in smoke. Khaja is enother person who says one and does enother. He is also looking for appointment. He wants to be popular with juniors and thus make fun with them. Ahmed also wants popularity, but nobody likes him.

৮ ফেব্রুয়ারী’ ৮২।

Once Hanif was my best friend. We used to do the somethings together. One evening I saw him in the conteen but I acted as I have not seen him. But when he saw me he bought two chocholets and gave one to me. We come back to class and in prep time we were talking about our past, boyhood and family. This is third time that we stopped talking just for mis understanding. I will try to solve it. I want to talk to him but I feel shy, Though Mosleh and Shamim tried to re build our ex-relation, but failed. I said, no. But now I want. I donot know how can I solve the problem.
১২ ফেব্রুয়ারী ’৮২।

Got letters from Amma and putul Bhai. Putul Bhai wrote that Amma is angry with me for my conduct in last vacation. Now I recall that one afternoon she came and asked me about my study. I shouted and said her not to interfere in my business. She than kept Shut, sat on the ground in a gloomy face keeping a hand under her cheek and was sheding tears. Now I realize that I was wrong. I will apologize to my mother.

১৪ ফেব্রুয়ারী’ ৮২।

Its one year that we do not talk each other. I feel bad all the time. I found no friend is as good as Hanif. He loves me so much and so I do. I am sorry for my behaviour, but I can not express it. That evening, Shamin and Mosleh called me in front of the gymneshium after prayer. When I saw that Hanif is there, I just went away. I could stay and shake hand with him. But I did not do. I donot know why.

১৯ ফেব্রুয়ারী ’৮২।
২৯ এপোয়েন্টমেন্টের পেছনে ধাওয়া করছে। আজ কথা প্রসঙ্গে বললো – ‘ক্লাস ইলেভেনে এসে যদি জুনিয়ার হাউজ প্রিফেক্ট পাই  . .. .. .’ তাকে সাথে সাথে বোল্ড আউট করে দিয়েছি।
ব্লাডি ২৬কে মেট্রিকে দেখাবোই। আর সে জন্য প্রস’তি নিচ্ছি।

২০ ফেব্রুয়ারী ’৮২।
Obstacle course competition আজ শেষ হলো। আমাদের হাউজের মধ্যে সবচেয়ে কম সময়ে আমি ১৯ প্রকার Obstacle cross করলাম আমার সময় লেগেছে ৪মিনিট ২৪ সেকেন্ড। আমার গ্রুপে আলাউদ্দিন আর আহমেদ ছিলো। ওদেরকেও পথে সাহায্য করেছি। যে ফাস্ট হলো, সে ৩ মিনিট ২৫ সেকেন্ডে ক্রস করেছে। আজ টিভিতে ‘ঘুড্ডি’ সিনেমা দেখানো হলো। বেশ ভালো লাগলো।

২১ ফেব্রুয়ারী ’৮২।
পরীক্ষার রুটিন এসেছে। মনে হচ্ছে স্ট্যান্ড করতে পারবো। আজ প্রভাত ফেরী হলো ভোর বেলা। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ভালো লাগলো। আলাউদ্দিন বলেছে- এস এস সিতে সে আমাকে দেখাবে। কিভাবে দেখায়, আমিও দেখে নেবো।

২৪ ফেব্রুয়ারী ’৮২।
নজরুল হাউজের সাথে ফুটবলে ২-২ গোলে ড্র। একটা গোল আমি দিয়েছি।

২৫ ফেব্রুয়ারী’ ৮২।
ফজলুল হক হাউজের সাথে ৩-১ গোলে হেরেছি। অবশ্য আমাদের হাউজের একমাত্র গোলটি আমার দেয়া।

২৬ ফেব্রুয়ারী ’৮২।
৩ মাইল সমতল ১মাইল পাহাড় ক্রস করে ইন্টার হাউজ ক্রস কান্ট্রি রেসে ২৬তম স’ান পেলাম। মোসলেহ ফজলুল হক হাউজের, তারপর ও রাস-ায় তাকে অনেক্ষণ টেনে টেনে আনলাম। ৪৮ এরপর যারা এসেছে, সবাইকে প্যানালাইজড্‌ করা হয়েছে।

২ মার্চ ’৮২।

‘R’ is a shameless creature. Last night BM quarrelled with me in such a manner that can not be explained. But today I saw that ‘R’ is talking with BM.
৪ মার্চ ’৮২।
হয়তো এমন একদিন আসবে, যেদিন শাকুর অনেক প্রতিষ্টিত হবে। বড়লোক হবে। হয়তো এমনও দিন আসবে, যেদিন শাকুরের ছেলে কাঁধে একটা ইয়াসিকা ইলেক্ট্রা থার্টি ফাইভ ক্যামেরা কাঁধে নিয়ে, গলায় বাইনোকুলার ঝুলিয়ে বন্ধুদের সাথে পিকনিকে যাবে। শাকুরের না হয় হলো না, শাকুরের ছেলের নিশ্চয়ই হবে।
৫ মার্চ ’৮২।
পড়াশুনা গোল্লায়। একটুও মন বসছে না। জানিনা কি হবে।

৬ মার্চ ’৮২।

Bloody Kaizer said that he will let me use his camera. But now, I think he is not interested. Oh! If I had a camera!

৭ মার্চ ’৮২।

A magic show was performed in our auditorium. It was optional for candidates. I found that there was none from our class. Everybody is busy with study. Only 3 days left for exam. But I do not like to study.

১০ মার্চ ’৮২।
কাল থেকে এস এস সি শুরু হবে। আজ হাউজ গার্ডেনে গিয়ে আমরা ১৩জন একসাথে গ্রুপ ছবি তুললাম।
সব জায়গায় আমাদের ছাড় দেয়া হচ্ছে। টাই পরে ডাইনিং এ না গেলেও দেখি কেউ কিছু বলছে না। লেট করে লাঞ্চে গেলেও অসুবিধা হচ্ছে না। বাহ! ক্যান্ডিডেটদের অনেক সুবিধা।

১১ মার্চ ’৮২।
আজ এস এস সি শুরু হলো। বাংলা ১ম ও ২য় পত্র। ২হফ চধঢ়বৎ বেশ ভালো হয়েছে।

১৩ মার্চ’ ৮২।
General Math finished একটা চলিত নিয়মের অংকে অর্ধেক ভুল হয়ে গেছে। মন খারাপ।
১৫ মার্চ’ ৮২।
English 1st and 2nd paper completed. All common.

১৮ মার্চ’ ৮২।
ফিজিক্স শেষ হলো। ৯০ এর উপর পাবো। আজ এমনি এমনি গিয়েছিলাম ফজলুল হক হাউজে। ফখরুল বললো-১১ নাকি ইচ্ছা প্রকাশ করেছে কথা বলার জন্য। আমি জানি, করবেই। কারণ আমাদেরতো আসলে কিছু হয়নি। ও যদি নিজে না আসে, বাড়ি যাবার আগে আমি নিজে থেকে গিয়ে ওর সাথে কথা বলে নেবো।

১৯ মার্চ’ ৮২।
আম্মার চিঠি পেলাম। দাদা আনোয়ার ভাই (টি.ডির ইন্‌স্ট্রাকটর)’র কাছে মানি অর্ডার করে ৫০ টাকা পাঠালেন। আনোয়ার ভাই আমাদের খুব হেল্‌প করেন। যাবতীয় বাসার কাজ আমরা আনোয়ার ভাইকে দিয়ে করাই। আম্মা চিঠিতে লিখেছেন, যে দিন আমার প্রথম পরীক্ষা হয, সেদিন সকাল দশটায় বাড়িতে মৌলানাদের এনে দোয়া করানো হয়।

২০ মার্চ’ ৮২।
ইলেকটিভ ম্যাথ পরীক্ষা হলো। ফুল কারেক্ট। আজ রাতে খাজার সাথে চাকমা, রায়হান ও আহমেদের ঝগড়া হলো। আমি এসে শান- করলাম। ঝগড়া শুরু হয়েছিল একটা টমেটো নিয়ে। শেষ পর্যন- খাজা চাকমার বেডে টমেটো ফেলে পা দিয়ে মেড়ে দেয়। খাজা বলেছিল রায়হান আর চাকমা রুমে সিগারেট খায়, এটা সে রিপোর্ট করবে। চাকমার হাত ভাঙা ছিলো বলে তাকে খুব শান- দেখাচ্ছিল। না হলে আজ খাজার অবস’া করুণ হতে পারতো।
সোহেল ২৮ কে ছ্যাক দিয়েছে।

২২ মার্চ’ ৮২।
কেমিস্ট্রিতে ৭৫ এ মধ্যে ৭৩ এর আনসার কারেক্ট করেছি।

২৪ মার্চ’ ৮২।
আজ ডিনারে হানিফ তার সুইট আমাকে পাস করে দিলো। মোসলেহ এসে নিয়ে গেলো ফজলুল হক হাউজে। হানিফের রুমে গেলাম। নাসরুল্লাহ, সলিমুল্লাহ চেষ্টা করলো আমরা যেনো কথা বলি। আমি লজ্জা পাই কথা বলতে। কথা না বলে চলে আসি। সকালে খবর পেলাম এরশাদ মার্শাল’ল জারি করেছে। ক্ষমতা তাদের হাতে। সাত্তারকে পদত্যাগ করিয়েছে। আজ সব কিছু বন্ধ। আজ বায়োলজী পরীক্ষা ভালো হয়েছে। লেটার পাবো।
টিভিতে সাত্তার ও এরশাদের ভাষণ দেখানো হলো। মনে হলো সাত্তারের জন্য এরশাদ ভাষণ লিখে দিয়েছে।

২৬ মার্চ’ ৮২।
আলী হায়দার ভাইয়ের ক্যাসেট প্লোয়ার নিয়ে ফজলুল হক হাউজে গেলাম। আমদের ক্লাসের প্রায় ৩০ জন এসেছিল। জিমনেশিয়ামে ক্লাস ফোর এমপ্লয়িজরা টিভি দেখে। ওদের ওখানে গিয়ে আমরা সবাই মিলে টিভিতে রুনা লায়লা স্পেশাল শো দেখলাম।
আজ বিকেলে আমাদের ক্লাস সী বিচে গেলো। মাইল খানেক দূরত্ব সমুদ্রের উপর হাঁটলাম। আমি অবশ্য হাঁটু পানির বেশী দূরত্বে যাইনি। সী বিচে ফুটবল খেললাম। ১১ প্রায়ই আমাকে বল পাস করলো। পরিসি’তি অনুকূল।

২৭ মার্চ’ ৮২।
বায়োলজী আর ফিজিক্স প্র্যাকটিকেল পরীক্ষা দিলাম।

২৮ মার্চ’ ৮২।

As we will have our dinner in improper dress, we had it later then the scheduled time. In night I went to Fazlul Haq House to enjoy music. But actually I went to see Hanif. At one stage, he come to me with his note book to write my postal address. I wrote in a dramatic way. He returned a magazine that he had taken from me when we talked each other. This is the last night for us in the college. After SSC, now life will he started here after 4 month.

২৯ মার্চ’ ৮২।
সকাল ৭টায় আমরা সিভিল ড্রেসে কলেজ থেকে চলে এলাম। আমি আর সাইফুল বাসে কওে রেল স্টেশন এলাম। হাসান আমাদের সাথে এলো না। তার চাচা গাড়ি পাঠিয়েছিলেন। সে ঐ গাড়িতে করে আসার কথা। আমরা বেলা ১১টা পর্যন- স্টেশনে তার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন’ হাসান এলো না। আমরা ওর খোজে ইমতিয়াজের বাসায় গেলাম। সেখানে নাই। গেলাম সোহেলের বাসায়। ওখানে লাঞ্চ করলাম। তারপর চলে গেলাম হাটহাজারী। সাইফুলের বাসা ওখানে। টিভি দেখলাম। হাসানের জন্য খারাপ লাগছে। ও যে কোথায় হারালো।

৩০ মার্চ’ ৮২।
জানা গেলো হাসান তার চাচার বাসা ক্যান্টনমেন্টে চলে গিয়েছিল। বিকেলে হাসানকে নিয়ে এলাম। ইচ্ছা হয়েছিল আগ্রাবাদ কলোনীতে হানিফের বাসায় গিয়ে দেখা করি। কিন’ হাসানের জন্য পারলাম না। রাতের ট্রেনে সাইফুলকে নিয়ে আমরা সিলেটের পথে রওয়ানা দিলাম। সাইফুল সিলেট দেখবে। ওকে নিয়ে জাফলং যাবো। আমাদের গ্রাম দেখার ও শখ করেছে সাইফুল।

১১ এপ্র্রিল’ ৮২।
খুব  এলোমেলো দিন কাটছে। প্রতিদিনই ভাবী একটা উপন্যাস বা একটা নাটক লেখা শুরু করবো। কিন’ প্লট পাচ্ছিনা। কিভাবে যে শুরু করবো, সেটাও বুঝতে পারছি না। আমার গ্রামের লোকজনের কাছে অনেক টাকা। তারা ধনী। আমরা ধনী নই। ধনীর ছেলেদের সাথে আমার মিশতে ইচ্ছা করে না। জানি না এই লম্বা ঠধপধঃরড়হ কি করে কাটাবো।

১৯ এপ্রিল’ ৮২।
বেকার জীবন কাটাচ্ছি। ভালো লাগছে না। গ্রামের ছেলেদের সাথে ও মিশতে পারছি না। আবার আমার কলেজের বন্ধুদের ও পাচ্ছি না। একা হয়ে গেছি।
২০ এপ্রিল’ ৮২।
আজ ছানুর বিয়ে হলো। আমি আর সেলিম একটা ৫০ সিসি মটর সাইকেলে চড়ে চন্দগ্রাম গেলাম। ছানুর বৌর জন্য একটা ভ্যানেটি ব্যাগ উপহার কিনলাম।

১ মে’ ৮২।
আমাদের ক্লাবের আয়োজনে কেরাম টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। আজ টেইলার টীম, রাইস মিল টিমকে হারিয়ে দিয়েছে।

১১ মে’ ৮২।
আজ শুনলাম শুয়েব লন্ডনের ভিসা পেয়েছে। ও নিশ্চয়ই লন্ডন চলে যাবে।

১৪ মে’ ৮২।
আজ আমরা সবাই ইটাউরী গেলাম। আম্মা, নুরু, লতিফ, সবু, রাসেল। ওখানে খসরু নামক একটা ছেলের সাথে পরিচয় হলো। আমাকে খুব খাতির করলো। কিন’ আমি কেনো যেনো তার সাথে Adjust করতে পারলাম না। আমার manner বদলে গেছে। তাদের manner এর সাথে আমারটা মিলাতে পারি না। সেলিমের চাচার একটা এয়ার গান নিয়ে খসরু আর আমি সকাল বেলা পাখী শিকার করতে গেলাম। খসরু একবারও গুলি করলো না।  সবগুলি আমি করলাম। কিন’ একটা পাখী ও মারতে পারলাম না।
১৫ মে’ ৮২।
স্বপ্নে দেখি প্লেস পেয়েছি। আবার দেখি প্লেস পাইনি। বুঝতে পারছি না। জেনারেল ম্যাথ খারাপ হয়েছে। প্লেস নাও থাকতে পারে।

৫ জুন’ ৮২।
ছানুর বাড়ি গেলাম। ও কাল দুবাই চলে যাবে। বিয়ানীবাজার থেকে একজন ফটোগ্রাফারকে আনিয়েছে। আমার সাথে পুরো ১ রোল ছবি উঠালো।

১৪ জুন ’৮২।
আমি এখন মিস হেলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রনি নামক একছাত্র ‘মিস হেলেন প্র/ শাকুর, মাথিউরা, সিলেট।’ এই ঠিকানায় চিঠি লিখে। আমি পাই। ও চিঠি লিখে আর জবাবে আমি বানানো গল্প পাঠাই। নাটক জমে গেছে। সে আমাদের বাড়ি আসতে চায়। বলে দিয়েছি, ট্রেনে বিয়ানীবাজার নেমে স্টেশনে আমার নাম বললেই চলে আসতে পারবে। বিয়ানীবাজারে রেল লাইন নাই, এটা সে জানে না।

২২ জুন’ ৮২।
আজ হানিফের চিঠি পেলাম। এই প্রথম তার চিঠি। লিখেছে, গত মাসের ১৮ তারিখ আমাকে চিঠি লিখেছিল। ঠিকানা ভুল হওয়াতে চিঠি ফেরত গেছে। তাই তো বলি, হানিফ কি চিঠি না লিখে পারে? ৮পৃষ্ঠা চিঠি লিখলাম।

২৮ জুন’ ৮২।
আজ সবু (শবনম) রোজা রেখেছে। জীবনের প্রথম রোজা। ওর বয়স ৬। লতিফের বয়স ৯, সেও রেখেছে ২টা।

৯ জুলাই’ ৮২।
রেজাল্ট আউট হতে মোটেও দেরী নাই। যে কোনো দিন আউট হতে পারে। মন বলছে স্ট্যান্ড করবো। আবার ভাবি না, ৩টা লেটার সহ ফার্স্ট ডিভিশন হবে। হানিফ লিখেছে- আমি নাকি কনফার্ম স্ট্যান্ড করবো। রায়হানও লিখেছে। হাসান সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে- আমি স্ট্যান্ড করবোই।

১১ জুলাই’ ৮২।
আজ রেডিওতে ৬টার খবরে বলা হলো- সকল বোর্ডের এস এস সি রেজাল্ট আউট হয়েছে। নিজের কানে শুনলাম সাইফুল সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছে। অথচ টেস্ট পরীক্ষায় সে আমার চেয়ে পরে ছিলো। জানি না আমার ভাগ্যে কি আছে। কাল জানতে পারবো। নাভিদ সেকেন্ড, আলাউদ্দিন থার্ড।

১২ জুলাই’ ৮২।
বৃষ্টির মধ্যে খালেদকে নিয়ে বিয়ানী বাজার গেলাম। দু’জনের দুই ছাতা। ৩ মাইলের মত পথ হেঁটে যেতে হয়। বিয়ানী বাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জ থেকে তুহীনকে ফোন করলাম রেজাল্ট জানার জন্য। তুহিনের মন খারাপ। স্টার মার্ক পায়নি। আমার স্টার মার্ক, ৬টা লেটার। পজিশন দশের মধ্যে নাই। দশের মধ্যে যারা ছিলো তাদের নাম পত্রিকায় এসেছে। দশের বাইরে যারা আছে তাদের খবর গেজেটে প্রকাশ করা হবে। সিলেট মেডিক্যালের প্রিন্সিপালের কাছে রেজাল্ট আছে। আমি মন খারাপ করে বাড়ি ফেরত গেলাম। কাল সিলেট যাবো।

১৩ জুলাই’ ৮২।
সিলেট এসে জাবেবের বাসায় গেলাম। জাবেরের গাইড ছিলাম আমি ক্লাস এইটে। সে আমাকে খুব খাতির করে। নিজে গাড়ি চালায়। সেই গাড়ি নিয়ে তার বাবার কাছে নিয়ে গেলো। জাবেরের বাবা সিলেট মেডিক্যাল কলেজের একটিং প্রিন্সিপাল। তিনি রেজাল্ট দেখলেন এবং খুব খুশী হলেন। স্টার মার্ক ও ৬টা লেটার। কিন’ আমি খুশী হতে পারলাম না। কারণ তুহীন বলেছে বোর্ড থেকে সে জেনেছে আমি ৭৭০ নম্বর পেয়েছি। দেখলাম মেধা তালিকায় যে ২০ তম স’ান পেয়েছে, সে ৭৬৮ নম্বর পেয়েছে। তাহলে আমার স’ান কোথায়?

২৪ জুলাই’ ৮২।
আজ বিকালে নৌকা বাইচ দেখতে বেজগ্রাম পর্যন- গিয়েছিলাম। আমি, খালেদ, পুতুল ভাই, বস (ফারুক চাচা) বেশ enjoy করলাম। তিনবার বিলে মধ্যে নৌকা ডুবি হলো। সব বারই নুরুল নৌকা তুললো। ভেজা কাপড়ে যখন বাড়ি আসি, তখন রাত ৮টা।

২৬ জুলাই’ ৮২।
আজ সারাদিন সেলিমের বাড়িতে টুয়েন্টি নাইন খেললাম। খুব মজার খেলা। ইশ। যদি কলেজে গিয়ে খেলতে পারতাম! আজ ‘ব্রে’ খেলা শিখলাম। আমার সাথে নুরুল ও খালেদ ছিলো।
২৭ জুলাই’ ৮২।
৪মাস পর আজ আবার হাসানকে নিয়ে রাতের ট্রেনে কলেজে রওয়ানা হলাম।

২৯ জুলাই’ ৮২।
কলেজে এসে সবচেয়ে ভালো লাগলো হানিফকে পেয়ে। সারাদিন আমরা ঘুরে বেড়ালাম। যতদিন বাড়িতে ছিলাম, মনে হতো হানিফকে পেলে কত কথা বলবো। অথচ এখন বলার মতো কথা খুঁজে পাই না। রাতে অনেক দেরীতে ঘুমালাম।

৩০ জুলাই’ ৮২।
ইলেভেন ক্লাসে প্রথম ক্লাস শুরু হলো। কলেজ বুক রুম থেকে এখনও বই ইস্যু করা হয় নি। মিস্টার বড়-য়া প্রথম ক্লাস নিলেন। ‘প’র আচরণ ভালো লাগছে না। এস এস সি ও আগে ওকে গরুর মতো পড়তে দেখেছি। সিম্পল ফার্স্ট ডিভিশন পেয়েছে, লেটার মনে হয় ২টা মাত্র। এজন্য অন্যদের ভালো রেজাল্ট সে সহ্য করতে পারছে না। সুপিরিওরিটি কমপ্লেক্সে ভুগছে।

৩১ জুলাই’ ৮২।

Issued books from Bookroom. I want to take English medium. I have taken biology with optional Mathmatics.
১ আগষ্ট’ ৮২।
আজ এস এস সির মার্ক শীট এলো। আমার নম্বর ছিল নিন্মরূপ:
বাংলা – ১ম -৬৪, ২য় – ৬৩, ইংরেজী ১ম -৫৫, ২য় -৬৬, সাধারণ অংক -৮৮, নৈবক্তিক অংক -৯৪, পদার্থ ৮৫, রসায়ণ-৮৭, জীব বিজ্ঞান ৮৭, ইসলামিয়াত ৮১, মোট ৭৭০। পজিশন : বিজ্ঞান বিভাগে মেধা তালিকায় ১৮। আমার রেজাল্টে আমি মোটেও খুশি নই। খুব মন খারাপ। আমি যে স্ট্যান্ড করেছি, তা প্রাথমিক তালিকায় প্রকাশ হয়নি। আমার আর নওশাদের একই নম্বর। নওশাদের নামও প্রকাশ হয়নি।

১৮ আগষ্ট’ ৮২।
ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান- হয়ে ভোর ৬টায় হাসপাতালে ভর্তি হই।

২১ আগষ্ট’ ৮২।
আজ বিকালে হাসপাতাল থেকে হাউজে চলে আসি। টিভিতে ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ দেখি। খাজা আমার সাথে বেট ধরেছে। সে নাকি এপোয়েন্টমেন্ট পাবেই। আমি বলেছি, সে পাবে না।

২২ আগষ্ট’ ৮২।
আজ টিভিতে একটা ভালো সিনেমা দেখি। নাম ছিলো ‘মবি ডিক’।
২৩ আগষ্ট’ ৮২।
ইদানিং কিছু ছেলেকে দেখি ফিটফাট করে কাপড় চোপড় পরে। হুইসেলের সাথে সাথে লাইনে চলে আসে। সামনে এপোয়েনমেন্ট দেয়া হবে। এজন্য আহমেদ, আশরাফ, পাঠান আলাউদ্দিন খুব সিরিয়াস।

২৬ আগষ্ট’ ৮২।
আজ বাবার চিঠি পেলাম। লিখলেন, রেজাল্ট শুনে খুশী হয়েছেন। কিন’ খুশী হবার মতো রেজাল্টতো আমি করিনি!

২৭ আগষ্ট’ ৮২।
আজ EBR এর শিক্ষা সমাপনী কুচাকাওয়াজ দেখার জন্য আমাদের ক্লাস XI কে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে নেয়া হয়। সেখানে CMLA এরশাদ এসেছিলেন। আজ তাকে প্রথম সচক্ষে দেখলাম।

২৮ আগষ্ট’ ৮২।
আজ ক্লাস সেভেনের নবীন বরণ ছিলো। সিনেমা দেখানো হলো-মার্চেন্ট অব ভেনিস। সিনেমার সময় কথা বলার কারনে BDR (Mr. Badrudduza) আমাকে স্নেপ করেছে বাইরে নিয়ে। আমি প্রতিশোধ নেবো। উনার সাথে কথা বলবো না, সালাম ও দেবো না।

২৯ আগষ্ট’ ৮২।
আজ প্যারেন্টস ডে ছিল। ইশতিয়াক ভাইর আব্বা আম্মা এবং লাল নানারা এসেছিলেন। লাল নানাকে আমি কখনো দেখিনি। শুনেছি উনি আমার মা’র চাচা হন। ঢাকায় থাকেন। ইশতিয়াক ভাইর আব্বা লাল নানার মামা হোন। সে হিসাবে ইসতিয়াক ভাই আমার নানা হোন। লাল নানার স্ত্রী আমার হাতে ২০ টাকা গুজে দেন। তাদের ব্যবহার খুব ভালো লাগলো। আমাকে তাদের গাড়িতে নিয়ে অনেক কিছু খাওয়ালেন। হাউজে বন্ধুদের জন্য আপেল নিয়ে যেতে বললেন, আমি নেই নি।

৩০ আগষ্ট’ ৮২।
BDR এর ক্লাস বয়কট করা হলো। ক্লাসে আসার পর সবাই মাথা নীচু করে রাখলো, কেউ কথা বলে না, বই এগিয়ে দেয় না। আমাদের ক্লাসের সবাই আমার জন্য BDR কে এই শাসি- দিলো। কিন’ শাসি- বেশী সময় স’ায়ী ছিলো না। উনি বুঝতে পেরেছেন, আমার জন্য পুরো ক্লাস তাকে বয়কট করেছে। তিনি আমার কাছে এসে বললেন, সরি। প্রথমে আমি কিছু বলি নি। পরে সবাইকে ইশারা করলাম। সবাই নর্মাল হয়ে গেলো। বেশ শাসি- হয়েছে। BDR এমনিতে খুব রসিক, খুব পপুলার। মজার মজার কথা বলেন। বিয়ে করেন নি। একবার ইমতিয়াজ জিজ্ঞাস করলো- স্যার বিয়ে করছেন না কেন? তিনি বলেন ‘হুয়েন মিল্‌ক ইজ এভেইল এবল ইন দ্য মার্কেট, হোয়াই স্যুড বাই এ কাউ।’ মানে বুঝি না।

২ সেপ্টেম্বর’ ৮২।
ইন্টার হাউজ কুইজ কম্পিটিশনে আমাদের হাউজ ফার্স্ট হয়েছে।

৪ সেপ্টেম্বর  ৮২।
আজ আমাদের ক্লাস ফয়েজলেক পিকনিকে গেল। আমরা খুব মজা করলাম। এক সময় খাকী ড্রেস খুলে খালি গায়ে ছবি তোললাম অনেক পোজ মেরে। একবার এক লেকের একটা সাইকেল পেয়ে ওটা চালাতে শুরু করলাম। আমাদের গায়ে খাকি পোশাক ছিল দেখে লোকটা কিছু বললো না।  সে ভেবেছিল, সাইকেলটা বোধ হয় আর ফেরত পাবে না। যখন ফেরত দিলাম তাকে সরি বললাম। লোকটা খুশী হয়ে গেল।

৬ সেপ্টেম্বর ৮২।
গতকাল আহমেদ অনেক যত্ন সহকারে বেল্টসু ওয়াটার পলিশ করলো, শেভ করলো, হেয়ারকাট নিল, প্যারেডর ইনসপেকশনের সময় মুর্তির মতো খড়া হয়ে রইলো, খোখও নাড়লোনা, কিন’ লাভ হলোনা। ওর ধারনা ছিলো বেস্ট টার্নড আউট ক্যাডেট হিসাবে আজ তার নাম ঘোষনা হবে। All ended in vain.
আজ আলী হায়দার ভাইকে বললাম শংকিটাকে সরিয়ে ওর জায়গায় লুৎফুলকে আমার রুমে চাই। কাজ হলো না।

৭ সেপ্টেম্বর ৮২।
আজ ভাবছি, আমি আমার বন্ধুদের চাইতে এক জেনারেশন পিছিয়ে আছি।

১১ সেপ্টেম্বর ৮২।
আজ প্রচন্ড মন খারাপ। কাপড়ের ভাঁজের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলাম ১৭৫ টাকা। তন্ন তন্ন করে দেখি- টাকা নেই। কবে হারালো ? কাউকে বলাও যাচ্ছে না। টাকা রাখার কোনো নিয়ম নাই। কাউকে জানালে টাকা পাওয়া দূরের কথা, কলেজ থেকে আউট হতে হবে।

২৭ সেপ্টেম্বর ৮২।
প্রিনায়িকা ববিতা ইফতেখারুল আলমের সাথে গতকাল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

৩০ সেপ্টেম্বর ৮২।
সুয়েবের সাথে তার বাড়িতে আজ দেখা করতে গেলাম। সে আমাকে একটা ডানহীল সিগারেট খেতে দিল। আজ জীবনের প্রথম সিগারেট টানলাম। সুয়েব বললো, সামনের মাসের ১৭ তারিখ সে একেবারে লন্ডন চলে যাবে।

৩ অক্টোবর ৮২।
জীবনের একটা স্মরনীয় দিন। বিকাল বেলা খালেদ আর সেলিমকে নিয়ে গেলাম সুয়েবের ফুফুর বাড়ি। সুয়েব গাড়ি চালানো শিখেছে। আমাদের দেখাতে চাইলো। আমরা তার গাড়িতে উঠে বিয়ানীবাজার থেকে কয়েকমাইল উত্তরের দিকে গেলাম। ফেরার পথে সুয়েব গাড়ি ঘুরানো সময় একটা দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাকে গুতো দিয়ে ফেলে দিল।  সাথে রিকশাওয়ালাও। খুব বিপদ পারতো। রিকশাওয়ালাকে টাকা দিতে হবে কিন’ কারো কাছে টাকা নাই। আমার কাছে ৪০ টাকা ছিলো, সেটা সেটা হলো। আরো ৩০০ টাকা সুয়েব দেবে এই প্রতিশ্রুতিতে আমরা ফেরত এলাম।

৬ অক্টোবর ৮২।
গ্রামে দুইটা অঘটন ঘটলো। ১. নিমারকে পূর্বপারের জালাল টর্চ দিয়ে জোরে বাড়ি মেরেছি। ২. বিকেলে বিবি অজ্ঞান হয়ে যান।

৭ অক্টোবর ৮২।
বাড়ি থেকে সিলেট এলাম হাসানের বাসায়। সিনেমা দেখলাম ‘কথা দিলাম’।

৮ অক্টোবর ৮২।
টিচাগাং এসে হলে হিন্দি সিনেমা দেখলাম। আলী বাবা ও ৪০ চোর। মোসলেহর বাসায় দুপুরে খেয়ে পরে হানিফের বাসায় গেলাম।

১৮ অক্টোবর ৮২।
আজ চট্টগ্রামের মুসলিম ইনস্টিটিউট হলের ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ‘চট্টগ্রাম জেলা কৃতি ছাত্র সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান ‘৮২’ অনুষ্ঠিত হয়। আমারা যারা বোর্ডে স্ট্যন্ড করেছি তাদেরকে সম্বর্ধনা দেয়া হয়। আমাদেরকে ৬খানা বই উপহার দেয়া হয়। মেয়েদের মেধ্যে প্রথম স’ান পাওয়া দীনার জাবিনের ছবি তুললাম।

২১ অক্টোবর ৮২।
আম্মার চিঠি পেলাম। তিনি লিখলেন, ৭ই অক্টোবর নিমার আর ৮ অক্টোবার বেগম মারা গেছে।

২৫ অক্টোবর ৮২।
কলেজে রাতগুলো এখন অন্যরকম। এ কলেজে যে যত সিনিয়র সে ততো দেরীতে ঘামাবে। দশটায় লাইটস আউট হয়ে গেলে পাড়াশুনা করার নাম করে রিডিং রুমে চলে যাই। চলে আড্ডা। রাত ১টার নিচে নেমে এসে রাতটাকে অন্য রকম লাগে। হাঠাৎ করেই গার্ডের হুইসেল শোনা যায়। কখনো কখনো রেল লাইনের উপর দিয়ে ভোঁ ভোঁ মালগাড়ি গুলো যায়। অবশ্য আমাদের হাউজের পেছটায় পাহাড়। এদিকে কান পাতলে শোনা যায় ঝি ঝির আওয়াজ।

২৬ অক্টোবর ’৮২।
আজ থেকে ৫দিনের ছুটি। এতো দীর্ঘ ছুটি! কেমন যেনো বোরিং লাগবে মনে হয়। ছুটির দিনে বিকালে গেমস্‌ অপশনাল। গেমস কম্পলসারি থাকলে সবাইকে মাঠে পাওয়া যায়। তবে ছুটির দিনের শেষ বিকালটা বড় মধুর। আফটারনুন টি’র পর পাজামা পাজ্ঞাবী পরে প্যারেড গ্রাউন্ডের পাশের বেঞ্চিতে বসে থাকতে ভালো লাগে। পশ্চিমের আকাশে আসেত্ম আসেত্ম সূর্য হেলে পড়ে। চমৎকার বাতাস আসে সামনের আধ মাইল দূরের সমুদ্র থেকে।
ইভনিং প্রেয়ারের পর ছুটির দিনে হাউজে যাবার তাড়া থাকে না। কারণ প্রেপ নাই। ভালো ছেলেরা এসময় হাউজে বসে বসে পড়ে। আমার পড়তে ইচ্ছা করে না। আমি প্রায়ই অন্ধকারের মধ্যে এই বেঞ্চ গুলোতে সন্ধ্যার পরও বসে থাকি।
২৭ অক্টোবর ’৮২।
শ’ একটা দু’মখো শাপ। এতো দিন সে আমার পক্ষ নিয়ে বাদরের সাথে বিরোধিতা করেছে। আজ আমি শ’এর একটু বিপক্ষে গেছি তো সে দেখি বাদরের সাথে মিশে গেছে।

২৮ অক্টোবর ’৮২।
আজ প্রথম বারের মতো রাতের বেলা কলেজ থেকে পালিয়ে ফৌজদারহাট বাজারে গেলাম। প্রতিদিনই শুনি অনেকেই ফৌজদারহাট বাজারে যায়, দোকানে গিয়ে সিংগারা খায়। আজ তুহিন সহ মোট ৬জন মিলে বাজারে গেলাম পার্সনাল ড্রেস পরে। বাজারের লোক গুলো আমাদেরকে খুব খাতির করলো।

৩ নভেম্বর ’৮২।
আজ আবার রাতে ফৌজদারহাট বাজারে গেলাম। আমি, সাইফ, মোসলেহ আর আমিনুল। ৪নং ফুটবল মাঠ পার হতেই ফৌজদারহাট স্কুল। সেই স্কুলের দারোয়ান আমিনুলকে ঝাপটে ধরলো। আমিনুল আমাদের পেছনে ছিলো। হঠাৎ শুনি আমিনুল বলছে- ’চাচা, আমরা চোর না চাচা, ক্যাডেট, আমাকে ছেড়ে দেন।’ গার্ড পরে আমিনুলকে ছেড়ে দিল।
ফৌজদারহাট বাজার থেকে বিসিকট খেলাম, চা খেলাম আর পান খেলাম। রাত একটায় হাউজে ফিরে এলাম।

৪ নভেম্বর ’৮২।
আজ সেভেন্‌থ বিএমএ লং কোর্সের পাসিং আউট প্যারেড দেখতে বিএমএ তে গেলাম। এরশাদ এসেছিলেন স্যালুট নিতে। আমাদেরকে খুব খাতির করা হলো। ওখানে সবাই লাঞ্চ করলাম। লাঞ্চের পর এক ভাই আমাদেরকে কেণ্ট সিগারেট খাওয়ালেন।

৬ নভেম্বর ’৮২।
আজ ডাব চুরি করতে গিয়েছিলাম টিচার্স কোয়ার্টারে। আশরাফ, রায়হান, গিয়াস, লৎফুল, প্রসেনজিৎ ও আনোয়ার। হাউজ থেকে অনেক গুলো কম্বল নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গাছ থেকে ডাব পাড়ার পর উপর থেকে ওগুলো এই কম্বলের উপর ফেলতে হয়। বেশী না, আজ মাত্র ১৩টা ডাব নারিকেল নিয়ে এলাম।
১৮ নভেম্বর ’৮২।
আজ কলেজে একটা অঘটন ঘটে গেলো। এমনিতে উইকএন্ড, মানে বৃহস্পতিবার টিভি স্টেশন যতক্ষণ খোলা থাকতো, ততোক্ষণ টিভি দেখতে দিত।। আজকের বৃহস্পতিবার থেকে নতুন নিয়ম হয়েছে, রাত ১০টার পর আর টিভি দেখা যাবে না। ক্লাস টুয়েল্‌ভ ডিউটি মাস্টারকে অগ্রাহ্য করে টিভি দেখতে অডিটরিয়ামে ছিল, এমন সময় এডজুটেন্ট স্যার এসে টিভি বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে অনেক চেঁচামেচি শোনা যায়। ক্লাস টুয়েল্‌ভ মিছিল করেছে, কেউ নাকি অডিটরিয়ামের দরোজায়ও লাথি দিয়েছে। রাত বারোটায় তাদেরকে প্রিন্সিপাল ডেকেছিল।

১৯ নভেম্বর ’৮২।
আজ জিল্লু ভাই আর হাবিব শামস ভাইকে বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কয়েকজন হাসপাতালে আছে, কোয়ার্টার গার্ড।

২১ নভেম্বর ’৮২।
সম্মিলিত সামরিক বাহিনী দিবস উপলক্ষে আজ আমরা চট্টগ্রাম শহরে যাই। ওখানকার আউটার স্টেডিয়ামে আর্টিলারি একজিবিশন দেখি।

২৫ নভেম্বর ’৮২।
আজ ফিজিক্স এর মি. মান্নান ক্লাসে একটা ঘোষণা পড়ে শোনান। আমি আর নওশাদ কুমিল্লা বোর্ডে মেধা তালিকায় যুগ্নভাবে ১৯ তম স’ান পেয়েছি। বোর্ড থেকে সংশোধিত সার্কুলার এসেছে। লাঞ্চের সময় এটা ঘোষণা দিয়ে বলা হয়। আবার হাউজ নোটিশ বোর্ডে গিয়ে দেখি এর নোটিশটাও টাঙানো আছে।
রাতের প্রেপে মিস্টার নজরুল ইসলাম দেখান যে, কলেজ ম্যাগাজিনে আমার লেখা ’রং তুলীর রবীন্দ্রনাথ’ ছাপা হয়েছে।

২ ডিসেম্বর ’৮২।
রুম চেঞ্চ করে ৮ নং রুম থেকে ৩ নং রমে চলে এলাম। থ্রী সিটেড রুম। আমার সাথে লুৎফুল আর শামীম। আগের রুমের ক্লাস টেনের ছেলেরা আমাদেরকে ফেয়ারওয়েল দিল ক্যান্টিনে। একটা রম্বস বিস্কুট আর একটা ফান্টা।

১৩ ডিসেম্বর ’৮২।
আলাউদ্দিন, আশরাফ আর চাকমাকে নিয়ে নৈশ অপারেশন। নজরুল হাউজের ছেলেদের ডজ দিয়ে পাহাড়ে চলে গেলাম। নিজে ৩টা গাছে উঠেছি। ২ কলসী ভরা রস।

৭১৬ বার দেখা হয়েছে

৩ টি মন্তব্য : “ক্লাস ইলেভেন ১৯৮২”

  1. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    অসাধারণ।
    মেট্রিক পরীক্ষার সময় আর ফলাফলের বর্ণণা খুব উপভোগ করলাম।নিজের ওই সময়টার কথা ভেবে কষ্টও হলো একটু।
    উত্তাল ৮৪-র অপেক্ষায় রইলাম।

    জবাব দিন
  2. সামি হক (৯০-৯৬)

    কেমন জানি মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে, ক্লাস ইলেভেনে উঠে গেলেন শাকুর ভাই আর কয়েকদিন পরেই কলেজ থেকে বের হয়ে যাবেন।

    আমার জীবনে যদি বলে একটা বছর কেউ আমাকে ফিরিয়ে দিবে আমি চোখ বন্ধ করে বলব আমাকে ক্লাস ইলেভেনের লাইফটা ফিরিয়ে দেওয়া হোক। যখন সারা দুনিয়ার আমিই রাজা, কোন চিন্তা নাই (অ্যাপায়ন্টমেন্ট পাওয়ার চিন্তা ছাড়া 😀 )।

    ভালো লাগল খুব, ধন্যবাদ আমার কলেজ লাইফ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যে।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।