আঈক ম্যান ও গ্রামের ছেলের গল্প

সি.এইচ.এম ছিলেন আয়ুব স্টাফ। তাকে সবাই আঈক ম্যান বলে ডাকতো। কারণ যেকোনো কথা বলার আগে তিনি আইক বলতেন। যেমন, আইক তুমি এইদিকে আসো, আঈক সাবধান, আইক ডানে ঘুর।
গেমস টাইম এ একদিন প্যারেড মার্চ করার সময় এডজুট্যান্ট কে রিপোর্ট দেয়ার জন্য যেই উলটা ঘুরলেন, একটা পটকা ফাটার শব্দ শোনা গেল। সামনে দাঁড়ানো সব প্রিফেক্ট আর স্টাফরা হাসছে, আমরা বুঝতে পারিনি প্রথমে। এডজুট্যান্ট অনেকটা দূরে দাঁড়ানো ছিলেন। সাধারণত স্টাফরা এডজুট্যান্ট যেখানেই থাকু্‌ক, দৌড়ে গিয়ে সেখানে রিপোর্ট দেন। কিন্তু স্টাফ জায়গা থেকে নড়ছেন না। এডজুট্যান্ট ডাকছেন তাও না। এদিকে সিনিয়র ক্লাসের সবাই জোরে হাসছে। ক্যাডেট হাসছে দেখে এডজুট্যান্ট খেপে গিয়ে বললেন-
-সি.এইচ.এম, ফ্রন্ট রোল করে আসো।

স্টাফ নড়ছেনা দেখে এডজুট্যান্ট আবার শাউট করলো। স্টাফ তখন দুই হাতে তার প্যান্ট চেপে ধরে লজ্জায় লাল হয়ে জ়োরে বললেন

-স্যার,আইক,প্যান্ট ফাইটটা গেছে স্যার ।

তখন আর কারও বুঝতে বাকি রইলনা স্টাফ এর রহস্যময় আচরণের কারণ। পুরা কলেজ হাসিতে ফেটে পড়লো। অন্য এক স্টাফ তখন জোরে শাউট করে বলেন,

-হাসির কি আছে, এইটা একটা একসিডেন্ট।

এই গল্পটাও সি.এইচ.এম কে নিয়ে। তাহের স্টাফ একদিন গেমস টাইম এ আবহাওয়াবিশারদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। ঘন কাল মেঘে চারপাশ অন্ধকার হয়ে এল। সবাই মিলে অনেক অনুরোধ করল ব্রেক করে দেয়ার জন্য। কিন্তু না সে নাছোড়বান্দা, গেমস করিয়ে ছাড়বে। আবহাওয়াবিশারদ পুর্বাভাস দিলেন,

-আমি গ্রামের ছেলে, আমি জানি। আমি আকাশ দেখে বলে দিতে পারি, এই বৃষ্টি কখনও আসবেনা। যদি আসে আমি পুরা কলেজকে ১০ মণ মিষ্টি খাওয়াব।

বিধির কি লীলা, তখুনি ঝমঝম করে অঝোর ধারায় বৃষ্টি শুরু হল। সবার আগে তাহের স্টাফ ছুটে পালালো। পরের দিন আমরা কয়জন মিলে ধরলাম মিষ্টির জন্য। সে বললো-

-আল্লাহ গজব ঠেকাইতে এই বৃষ্টি দিছে। যদিও এইটা এক্টা একসিডেন্ট ……

এরপর তার সাথে কেউ কখনও কথা বলতে গেলে বা তর্ক করতে গেলে এইভাবে শুরু করত………

-স্টাফ, আমি গ্রামের ছেলে। আমি জানি…………।

১,৮২৭ বার দেখা হয়েছে

২৪ টি মন্তব্য : “আঈক ম্যান ও গ্রামের ছেলের গল্প”

  1. আমাদের ব্যাচের জনৈক ক্যাডেটের এটা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। প্রতিদিন গেমস টাইমে তাকে দেখা যেত পেছন দুহাত দিয়ে বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে গেমস টাইম শেষ হবার আগেই হাউসে চলে যাচ্ছে।

    শেষের দিকে এমন হল যে, গেমস না করে হাউজে যাবার জন্য মনে হয় ইচ্ছা করে প্যান্ট ফাটাত।

    জবাব দিন
  2. আলম (৯৭--০৩)

    হায়রে, আমার রীতিমতো কান্না আসতেছে।
    তাহের স্টাফের এই ঘাটনাটাই আমি আজকে লেইখ্যা বইসা ছিলাম পাবলিশ করার জন্য। আর সাইফুদ্দিন ভাই কিনা আমার আগেই লেইখ্যা ফেললো???

    জবাব দিন
  3. তানভীর (৯৪-০০)

    হাহাহাহাহাহাহা...... :))
    আলদিন...চালাইয়া যা... তাহের স্টাফ এর ঘটনাটা এখনো স্পষ্ট মনে আছে...... "আমি গ্রামের ছেলে"... হাহাহাহা... 😛
    আলম...ব্যাপার না...এরপরের বার তাড়াতাড়ি লেখা পোস্ট করে দিও 🙂

    জবাব দিন
  4. নওরীন (৯৪-০০)

    চরম হইছে!! হাসতেই আছি...হাসতেই আছি।
    আসলে বাইরের মানুষেরা এগুলা গল্প শুনলে বিশ্বাসই করবেনা। কত যে হাবিজাবি পুরাপুরি অপ্রত্যাশিত প্রাক্টিক্যাল জোক্‌স আছে ক্যাডেট কলেজের!ক্যাডেটরাই শুধু জানে।
    আর এগুলার মজাও শুধু ক্যাডেটরাই বুঝবে। স্যার ম্যাডাম স্টাফরা ক্যাডেটদের সাথে সারাদিন থেকেও এগুলার মজা নিতে পারেনা...আফসোস...!!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।