আমার প্রেমিকারা-১১

আজকাল প্রেমের বাজার আর শেয়ারবাজারের অবস্থা একইরকম, দু-জায়গাতেই ক্ষুদ্রবিনিয়োগকারীদের বড্ড বেহাল দশা। কর্তৃপক্ষ ( উপরওয়ালা ) খুব একটা সুনজরে রাখেননা। যেটা ধরে রাখবেন তার বাজার দাম যেন পড়তেই থাকে। মূল্য সংবেদনশীল তথ্য না পেলে ভালো কিছু কপালে জুটবেনা। ব্যক্তিজীবনে মূল্য সংবেদনহীন আমার এক প্রেমিকা ও শেয়ার ব্যবসায় ইদানীং খুব মনোযোগ দিয়েছে। তিনি আবার এক কোম্পানীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সেই কোম্পানী আবার কিছুদিন আগে শেয়ার মার্কেটে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ও আমাকে তাই একদিন বলে, জানো আমাদের কোম্পানীর চেয়ারম্যান সাহেব শেয়ার বাজার থেকে যে মূলধন তুলেছে তাই-ই নাকি আবার শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করেছে, খুব তো পন্ডিত হয়েছ এবার বলো দেখি এই ব্যাপারটা তোমার প্রেমের বাজারের সাথে মিল কই? আমি হেসে বলি এ আর এমন কি কঠিন ? প্রেমিকা জুটিয়ে তাই আবার বিনিয়োগ করা। ও জানতে চায়, ব্যাপারটি কিরকম? আমি বলি আরে পাকিস্তানের ছেলে শোয়েব মালিককে চিননা, ওতো সানিয়াকে বিয়ে করে তাই করেছে। ব্যাটার আত্নীয়স্বজন ও বিয়ের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রনপত্র বিক্রি করে বেশ টাকা কামিয়েছে। কি ব্যবসায়ী বুদ্ধিরে বাবা। আমার কপালে এমনটি হলে ও মন্দ কি? এই উত্তর শোনার পর গত একসপ্তাহ তিনি আমার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছেন। অবশ্য যা উত্তর দিয়েছি এখন মনে হচ্ছে বাজারে ধস অবশ্যম্ভাবী।

না এভাবে আর কত মান-আভিমান ভাঙ্গার খেলা খেলব? কিন্তু গুরু বলেন- শোন শেয়ার মার্কেটের মত এখানেও ধৈর্য্য ধরতে হয়। অত অস্থির হলে চলবে না। মন নিয়ে খেল। আমি এতে আপত্তি জানাই, বলি- গুরু এই মন মন খেলা খেলে আমি এটা বুঝতে পারি প্রেমিকারা সব খোলে কিন্তু মনতো খোলেনা। কিভাবে যে মন খোলা যায়? খাঁটি মনের অঙ্গীকার নিয়ে কে যে আমাদের পাশে দাঁড়াবে? কে যে মন খুলে মনের ভাষা বুঝে নিবে? গুরু বলেন, আরে এ জন্য নিজেকেই এগিয়ে আসতে হবে, জানিসই তো বাচ্চা না কাঁদলে মা ও আজকাল দুধ খাওয়ায় না। আমি গুরুর ইশারা বুঝেছি, পথ অনেক কিন্তু আমরা বারবার যাব প্রেমের পথে।

প্রেম হতে আজকাল অবশ্য বেশী সময় লাগেনা, শুধু জায়গা লাগে। এর নাম অবশ্য জড় প্রেম। আরেক প্রকার প্রেম হছে গতি প্রেম। এই প্রেমে গাড়ি লাগে। জড় প্রেম ও আবার দুধরনের, একটা হল স্থিতিজড়ীয় আরেকটা গতিজড়ীয়। এর বিশদ ব্যাখ্যায় না যাওয়াই বোধহয় ভালো। বরং আমার এক বন্ধুর জীবনে ঘটে যাওয়া নিউটনের তৃতীয় সুত্রের ব্যাপারটিই আলোচনা করি। আমার বন্ধুটি একসাথে তখন দু’দুটো প্রেম করে যাচ্ছে। কদিন পর টের পেল ওর প্রেমিকাদের ও নাকি একই হাল, তারাও সমানতালে তাদের পারদর্শিতা প্রদর্শন করে যাচ্ছে। আমাকে এটা বলার পর আমি বলি ঠিকই তো আছে, প্রত্যেকটি ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। বন্ধুটি বলে সেটা নিয়ে আপসোস নেই, আপসোস হল এক প্রেমিকা সেদিন ওকে নাকি বলেছে- “তোমাকে ছাড়া আমি একদমই থাকতে পারবোনা, আবার কাইয়ূমকে* (আরেক প্রেমিক) ছাড়াও আমি থাকতে পারবনা। কি যে করি? বলনা। আচ্ছা শোন, একসাথে দু’জনকে ভালোবাসা যায় না”? বন্ধু আমাকে এই বলে জানতে চায় এখন কি করা যায়? আমি বলি এ আর এমন কি সমস্যা, বিদেশে তো এটা মামুলি ব্যাপার। ওরা মানুষ আর পোষা প্রানীকে তো একসাথেই ভালোবাসে যাচ্ছে। এখন তুইই ঠিক কর, তুই কি হতে চাস?

[ *বি.দ্র.- এই কাইয়ূম ভাই আমাদের প্রিয় কাইয়ূম ভাই নয়, দুষ্টরা এটা নিয়ে দুষ্টুমি করো না।]

১,৬৪৫ বার দেখা হয়েছে

৩০ টি মন্তব্য : “আমার প্রেমিকারা-১১”

  1. আছিব (২০০০-২০০৬)

    m@nna ভাই এর প্রেমকাহিনী মানেই নয়া নয়া ডায়লগস :boss:
    ভাই,ভালো আছেন? :salute:
    ইয়ে মানে, দ্রষ্টব্য দিয়েও লাভ হয়নি,ফ্লাডলাইট,সার্চলাইট বা টর্চলাইট যাই বলেন সব কাইয়ূম ভাই এর দিকে ঘুরে গেছে :grr: কুথায় গেলেন তিনি? :dreamy:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।