আমার প্রেমিকারা-৭

লোকে আমার নাম নিয়ে ঠাট্রা-মশকরা করে বেশ মজা পায়।আর প্রেমিকারা ও তা থেকে বাদ যাবে কেন? এ সুযোগ কি আর ওরা হাতছাড়া করে? আমার বাপজান কত শখ করে আয়োজন করে নাম রাখার জন্য লোকবল খাইয়েছে আর সেই নাম নিয়ে মশকরা !এতো হবেই কারণ উনি কি আর জানতেন,ভবিষ্যতে এই নামে রুপালী-পর্দা কাঁপানো এক নায়কের আবির্ভাব হবে,যার জনপ্রিয়তা নিম্ন-মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে এতটাই প্রবল হবে যাতে আমাদের মত ড্রইংরুমকেন্দ্রিক দর্শক তাতে নাক সিঁটকাবেন?
তাই আমার প্রেমিকাদের বলি-বাবা খুব সঙ্গীতপ্রেমী কিনা,মান্না দের বড্ড ভক্ত।
কাউকে বলি-হিব্রু আর আরবী,দুটো থেকেই বাপ ধার করেছেন।উনি বহুভাষাবিদ কিনা?
নিছক অবুঝ হলে ধর্ম ব্যবসায়ীদের মত আশ্রয় নেই দ্বীনের ছায়াতলে,বলি-নাম নিয়ে মশকরা করা গুনাহ, আর এটা তুমি পাবে সূরা আল-বাকারা,আয়াত-৫৭।সূরা আল-আরাফ-১৬০।সূরা ত্বা-হা-৮০।সূতরাং জেনেশুনে কেন পাপ করবে?

যাই হোক প্রেমিকাদের সাথে এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের ও একটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কাজের সময় ঠিকই তারা আবেগ নামের মানবীয় ধর্মকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে একটু ও দ্বিধাবোধ করেনা।তাতে হয়ত ভালোবাসার মৌলবাদ রুপ প্রকাশ পায়,কিন্তু স্বার্থ হাসিলে তা পুরোপুরি লক্ষ্যভেদী।স্রষ্টার কী আজব সৃষ্টি,কখনও মমতাময়ী মা,কখনও প্রেমময়ী স্ত্রী কিংবা স্নেহময়ী বোন-এই নিঃস্বার্থপরতার সম্পর্ক ও তো একধরনের স্বার্থপরতা।সম্পর্কে কোন কিছু চাওয়া না পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার চেয়ে বড় স্বার্থ আর কীবা হতে পারে?
এই ভেবে দার্শনিক হয়ে যাইনি,বরং এতে আমার উৎসাহের ঘাটতি নয় বরং ভালবাসা থোক বরাদ্দের মত জমতে থাকে।আমার এই থোক বরাদ্দে মন্ত্রণালয়ের মত কোন দূর্নীতির স্থান নেই আছে শুধু বুকভরা ভালোবাসা।যার শক্ত বাঁধনে জনগন মানে আমার প্রেমিকাদের এমনভাবে জড়িয়েছি যাতে প্রয়োজনে প্রাণবায়ু বেরুবে কিন্তু টুঁ-শব্দটি করবেনা আমার লক্ষীটি।

একবার এরকম এক লক্ষীকে অর্জন করতে গিয়ে আমার কী অমানুষিক পরিশ্রমই না করতে হয়েছিল,তাতে ও পুরষ্কার জোটেনি,বরং জুটেছে গাল-মন্দ আর তিরষ্কার।তবে কাজের কাজ যা হয়েছে আমি পিং-পং নামে একটা খেলা শিখে ফেলেছি।এত ভূমিকা না দিয়ে ঘটনাটাই বলি-আমার সেই লক্ষীর খোঁজ নিতে গিয়ে টের পেলাম ওর এক লতায়-পাতায় সম্পর্কে ভাই হয় যে কিনা আমারই সহপাঠী।আমরা এক ক্লাসেই পড়ি।ওর কাছে সরাসরি গিয়ে বললাম দোস্ত এই ব্যাপার,তুই আমাকে সাহায্য কর।ব্যাটা মুচকি হেসে বলে,কোন ব্যাপারনা ওর নম্বরটাই আছে তোকে দিবোনে।(আমি যেসময়ের কথা বলছি তখন কিন্তু মোবাইল ছিলনা,টিএন্ডটি নম্বরই ভরসা)।তারপর এক শর্ত জুড়ে দিয়ে আমাকে বলে,মামা ভালোবাসা এত সস্তা ব্যাপার নয়,একে অর্জন করে নিতে হয়।তোকে আমি ছয় ডিজিটের নম্বরটা ঠিকই দিব,তারজন্য প্রত্যেকটা ডিজিটের জন্য একটা একটা করে আমার সাথে ছয়টা টেবিল টেনিস ম্যাচ জিততে হবে।হতচ্ছাড়ার মাথায় যে এই শয়তানি মন্ত্র আসবে তা টের পেলাম যখন আমি খেলাটা শিখতে শুরু করলাম।আমিও রূপকথার ডালিমকুমারের মত সোনার কাঠি,রূপোর কাঠি জয় করে রাক্ষসের প্রাণভোমরা নিয়েই ছাড়ব বলে পণ করেছি।লক্ষীদেবীকে পাবার আশায় আমি আর বাদ-বাকি সব প্রতিমাই তখন বিসর্জন দিতে রাজি।দিন নেই রাত নেই,খালি পিং-পং আর পিং-পং।রাতে ঘুমের মধ্যে ও পাশে শুয়ে থাকা ছোট ভাইয়ের ঘাড়ে কত যে স্ম্যাশ আর চপ করেছি। আমার সেই ধনুক-ভাঙ্গা পণ বৃথা যায়নি,প্রায় ছ-মাসের মাথায় আমি একটা একটা করে ছয়-ছয়টা গেম জিতলাম। ছয়-ছয়টা ডিজিট জয় করে আমি যখন বিজয়ীর বেশে হাসছি,হতচ্ছাড়াটা তখন আমাকে বলে-মামা,তোমাকে তো খালি ডিজিট দিলাম,পারমুটেশান-কম্বিনেশানটা নিজে করে নিও।
সেই থেকে শিখেছি সব না পাওয়ার মধ্যেও কিছু আশা থাকে,আর আমি এর নাম দিয়েছি পিং-পং।

৪,২২৯ বার দেখা হয়েছে

৫০ টি মন্তব্য : “আমার প্রেমিকারা-৭”

  1. রুম্মান (১৯৯৩-৯৯)

    ওই বন্ধুর দাঁতগুলা থাকার কোন কারন দেখি না


    আমার কি সমস্ত কিছুই হলো ভুল
    ভুল কথা, ভুল সম্মোধন
    ভুল পথ, ভুল বাড়ি, ভুল ঘোরাফেরা
    সারাটা জীবন ভুল চিঠি লেখা হলো শুধু,
    ভুল দরজায় হলো ব্যর্থ করাঘাত
    আমার কেবল হলো সমস্ত জীবন শুধু ভুল বই পড়া ।

    জবাব দিন
  2. "ছয়-ছয়টা ডিজিট জয় করে আমি যখন বিজয়ীর বেশে হাসছি,হতচ্ছাড়াটা তখন আমাকে বলে-মামা,তোমাকে তো খালি ডিজিট দিলাম,পারমুটেশান-কম্বিনেশানটা নিজে করে নিও"

    পারমুটেশান-কম্বিনেশান এর চেষ্টাটা করেচ্সিস ? :bash:

    জবাব দিন
  3. হুমায়রা(২০০২-২০০৮)

    অই বন্ধুরে পিডায় পিঠের চামরা তুলে দেয়া হয় নাই??? x-( x-(
    "মামা,তোমাকে তো খালি ডিজিট দিলাম,পারমুটেশান-কম্বিনেশানটা নিজে করে নিও।" ;)) ;))
    আহারে এত কস্টের পর এই জিনিশ :bash: :bash:

    জবাব দিন
  4. আছিব (২০০০-২০০৬)

    ভাই,আপনি তো তাইলে বিন্যাশ-সমাবেশে মাস্টার হয়ে যাওয়ার কথা :grr: 😛

    ''একাদশ/দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র/ছাত্রী -বিজ্ঞান বিভাগ
    অত্যন্ত যত্নের সাথে গণিত ১ম পত্রের বিন্যাস-সমাবেশ পড়িয়ে থাকি''
    ---------নায়ক মান্না (এখনও জীবিত!!)

    ভাই............সাইনবোর্ড বানিয়ে দিলাম,ফার্মগেটে ঝুলিয়ে দিয়েন
    প্রচারেই প্রসার। :goragori:
    আর টিটি খেলায় জাতীয় দলে ট্রাইয়াউট দিয়েন প্লিয।আপনার ভবিষ্যত উজ্জ্বল।বাংলাদেশেরও উজ্জ্বল 😉 😀

    জবাব দিন
  5. তাইফুর (৯২-৯৮)

    বিশ্ব সংসার তণ্য তণ্য করে খুজে এনেছি ১০১ টা নীলপদ্ম

    (তোর প্রতি পূর্ণ সমবেদনা নিয়ে বলছি ...
    মাইয়ার ভাই পোলাটা জিনিয়াস বটে ... :pira: )


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  6. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    চালাইয়া যা। টেন্ডুলকার এখনো রিটায়ার্ড করে নাই, তুই করবি ক্যান? 😉


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।