ক্ষুদ্রঋণ সম্পর্কে আমার কিছু (একজন অর্থনীতিবিদ হিসাবে) চিন্তা-ভাবনা

আমি নিয়মিত ব্লগার নই।ব্লগ লেখার চাইতে ব্লগ পরতেই বরং আমি পছন্দ করি। যাইহোক, আমার ফেসবুকের নোটস এ আমি এই লেখা টা লিখেছিলাম। সেটাই এখানে দিলাম।

অনেক দিন ধরেই ক্ষুদ্রঋণ (Microcredit) সংক্রান্ত একটা লেখা লিখব বলে ভাবছিলাম। লেখাটির কারন কিছুই নয়, ১) ক্ষুদ্রঋণ সম্পর্কে যে প্রশ্ন গুলো সাধারণ মানুষ, ব্লগিয় লেখায়, পলিসি মেকার বা মায় ইকনমিসট দের আলোচনায় যা উথাপিত হয় তার যথার্ততা এবং ২)একজন ইকনমিসট হিসাবে নিজের মতামত তুলে ধরা। লেখাটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত।

ক্ষুদ্রঋণ সম্পর্কে প্রথমেই যে প্রশ্ন গুলো বিভিন্ন আলোচনাতে আবির্ভূত হয় তা হল ক্ষুদ্রঋণ কি দারিদ্র্য বিমোচন/ দূরীকরণ করে?খুবই কঠিন প্রশ্ন। প্রশ্নটি আরও বেশি করে আলোচনা হয় যখন মানুষ শুনে বা সংবাদপত্র তে পড়ে যে অমুক গ্রামের অমুক ব্যক্তি বা পরিবার ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে খুবই খারাপ অবস্থায় আছে (এমনকি আত্মহুতি এর গল্পও শোনা যায়)। ক্ষুদ্রঋ ক্ষুদ্রঋণ কে কে মনে হয় সেই জোঁক গল্পের মতন, বিশেষ করে সম্মানিত প্রোফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস যখন নোবেল পান তখন মনে হয় গরিব বিক্রি করে তিনি নোবেল পেলেন,আর আমরা বাঙালি জাঁতি অভিমান করে তখন আরও কত যে খারাপ আর অশালীন কথা বলতে থাকি তাতে আমরা যে শিক্ষা পেয়ে সভ্য জাঁতি হিসাবে এগুচ্ছি তাতেই আমরা সন্দিহান হয়ে যাই। গরিব বেচে এই ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা কিভাবে আরও ধনী হয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েই তখন আমরা আরও একটা প্রশ্ন উথাপিত করি , তাহলো এই যে ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা গুলো গরীবদের কে ঋণ দিচ্ছে তার সূদের হার কেমন?এরা কি গরীব বেঁচে অনেক বেশি হারে সুদ নিচ্ছে না? দারিদ্র দূরীকরণই যদি ক্ষুদ্রঋণ এর লক্ষ্য হয়ে থাকে তাহলে ত সুদের হার অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেয়ার আগে এই প্রশ্ন গুলোর যথার্ততা টা আমার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়।কাজেই এই প্রশ্নগুলোর যথার্ততার গভীরে যাওয়ার আগে আমি ক্ষুদ্রঋণ আর সাধারন ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে কিছু বলতে চাই। সাধারন ব্যাংকিং সেবা তে জামানত নিয়ে ঋণ প্রদান করা হয় এবং সল্প সুদে সঞ্চয় এর সেবা প্রদান করা হয়। যেহেতু গরিব লোকজন জামানত এর টাঁকা দিতে পারবে না তাই ক্ষুদ্রঋণ আবিষ্কার এর পূর্বে গরীবদের কে এই সেবা প্রদান করা হত না। ঋণ দিতে গেলে জামানত এর টাঁকা কেন লাগে? কারন এটা একধরনের “Incentive compatibility constraint” হিসাবে কাজ করে যাতে ঋণগ্রহীতা স্বেচ্ছায় যেই কাজের কথা বলে ঋণ গ্রহন করেছেন শেই কাজেই ১০০ ভাগ ব্যয় করেন। এই জামানত না দেয়ার ক্ষমতার কারনে গরিবদের ব্যাংকিং সেবা এর কোনও মার্কেট ছিল না। প্রোফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস সেটা বুঝে ছিলেন এবং তিনি এই জামানত এর একটি বিকল্প আবিষ্কার করলেন আর তা হল “Group based lending”, এই খানে “peer pressure” এবং “Closed client based interaction” থেকে যে তথ্য পাওয়া যাবে তা “জামানত” এর মতনই “Incentive compatibility constraint” হিসাবে কাজ করবে। যেহেতু ক্ষুদ্রঋণ এর গ্রাহক দের সাথে ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, কাজেই ঋণ প্রদান এর পাশাপাশি সঞ্চয় এর সুবিধা প্রদানও করা যাবে। মদ্দা কথায়, গরিবদেরকে ক্ষুদ্র আকারের ঋণ আর সঞ্চয় সেবা প্রদান এর মাধ্যমে একধরনের গরিব দের ব্যাংকিং সেবা তিনি আবিষ্কার করলেন যেই মার্কেটটা আগে ছিল না।(এখানে মার্কেট ছিল না বলতে আমি বুঝাচ্ছি যে “চাহিদা” ছিল কিন্তু “যোগান” ছিলনা, বা যোগান থাকলেও তা ছিল মহাজন দের গ্রাম্য কারবার)। এখান পাঠক, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম একটি সেবা প্রদানকারী ব্যাবসা (বা প্রোফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর ভাষায় “Social Business”)। এটি কোন দাত্যব কার্যক্রম (Charity) নয়।

তারমানে কি এই যে গরিব বান্ধব কার্যক্রম, প্রোফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নোবেল পাওয়া এইগুলর কি কোনই দাম নেই?অবশ্যই আছে। অর্থনীতির ছাত্র-ছাত্রি বিন্দ্র ব্যাপারটা আর ভাল বুঝবেন। ব্যষ্টিক-অর্থনীতিতে যেকোনো নতুন মার্কেট যদি সমাজে খুলে যায়, তাহলে সমাজের খুব “direct” লাভ হয় যাকে অর্থনীতির ভাষায় বলে “ Pareto Improvement”। আমার এই যুক্তি গুলো যদি মেনে নেন, তাহলে আমি আমার পূর্বের করা প্রশ্নে ফিরে আসি- “ক্ষুদ্রঋণ কি দারিদ্র্য বিমোচন/ দূরীকরণ করে?” এতক্ষন আলোচনার পর এর যথার্ততা টা বেশ ভাল ভাবে বোঝা যাবে যদি আমি আপনাদের একটু ঘুরিয়ে অন্যভাবে প্রশ্ন করি “ যেকোনো লোক যদি ব্যাংক থেকে কোনও ঋণ নেয় তাহলে কি সে বড়লোক হয়ে যাবে?” আপনারা বলতে পারেন এইটা আবার কোনও প্রশ্ন হল? ঠিক তাই। শুধুমাত্র ঋণ নিয়ে একটি লোকের অর্থনৈতিক অবস্থা কি হবে তা কেউ বলতে পারে না, আর দারিদ্র একেবারে দূর হবে কিনা তা তো বলতে পারা দূরের কথা। কাজেই ক্ষুদ্রঋণ কি দারিদ্র্য দূর করবে কিনা এই প্রশ্নটাই আমার মতে ফালতু মানে যথার্ততা না। কিন্তু পুরো সমাজে ক্ষুদ্রঋণ না থাকার চেয়ে, ক্ষুদ্রঋণ থাকলে কি দারিদ্র কমবে? অবশ্যই কমবে যা, আমরা আগে বলেছি নতুন “ Market Orientation” এর জন্যে এটা একটি “ Pareto Improvement”. কাজেই ক্ষুদ্রঋণ ভাল না খারাপ এটাও বোকার মত প্রশ্ন। এছাড়া ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এর প্রতিষ্ঠান গুলো যেহেতু ব্যাংকিং সেবা প্রদান ছাড়াও আরও অনেক কাজ করে থাকে তাতে সমাজে ২ টা জিনিস হয়েছে যা রীতিমত প্রতিষ্ঠিত- ১) কাজের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন (Women’s Empowerment) এবং ২) সঞ্চয় সংহতির (Savings Mobilization) এর মাধ্যমে আসেট গড়ে তোলা।

আমার এ পর্যন্ত যুক্তি গুলো যদি মেনে নেন, তাহলে কি ক্ষুদ্রঋনের কোনই সমস্যা নেই? আছে, কিন্তু তারমানে এই নয় যে যেহেতু রোগী এর সমস্যা দেখে রোগী এর মাথা কেটে ফেলতে হবে।একটি দিক হলো সেই আমার আগের প্রশ্ন ক্ষুদ্রঋনের সুদের হার কি বেশি?এটিও এক্তি জটিল প্রশ্ন এবং প্রশ্নের যথার্ততাটাও আলোচনার দাবি রাখে।তবে লেখা যেহেতু বড় হয়ে যাচ্ছে বিধায় এ সম্পর্কে আলোচনা থাকবে আমার পরের কোন লেখায়। ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র কমানোর এবং উন্নয়নের জন্য একটা ‘টুল’। কিভাবে এই ‘টুল’ ব্যাবহ্রত হচ্ছে তার উপর নির্ভর করবে এই ‘টুল’ টির কার্যকারিতা। সেখানে সুদের হার কীরকম হবে, লোন ডিসবার্সমেন্ট কেমন হবে ইত্যাদি হোলও পলিসি লেভেল প্রশ্ন।আর যথার্ত প্রশ্ন ক্ষুদ্রঋণ নামক ‘টুল’ টির যথার্ত ব্যবহারের নিয়ামক। ধৈর্য সহকারে লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।

৬৭৫ বার দেখা হয়েছে

১০ টি মন্তব্য : “ক্ষুদ্রঋণ সম্পর্কে আমার কিছু (একজন অর্থনীতিবিদ হিসাবে) চিন্তা-ভাবনা”

  1. নঈম (৮৭-৯৩)

    বড় বেশী এ্যাকাডেমিক বা তত্ত্বীয় হয়ে গেল। আমাদের মতো সাধারণ অনর্থনীতির (অ-অর্থনীতি) ছাত্রদের জন্য কঠিন। 🙂
    তাহলে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম দাতব্য নয়; ব্যাবসা, হুম। 🙁
    Pareto Improvement জিনিষটা কি? আমাদের জন্য অর্থনীতির সংজ্ঞার বাহিরে বুঝিয়ে বলা যাবে কি? উন্নয়নের মাপকাঠি কি?
    অনুরূপ ভাবে Savings Mobilization টাও বুঝিয়ে বললে ভাল হয়।

    জবাব দিন
    • রুবাইয়াত (৯৫-০১)

      Savings Mobilization সোজা বাংলায় সঞ্চয় করার সুবিধার জন্য সমাজে সঞ্চয়ের বৃদ্ধি। Pareto Improvement এর ধারনা একটু জটিল। অর্থনীতির সংজ্ঞাতে একটি প্রাথমিক অবস্থা থেকে কারও কোন ক্ষতি না করে যদি সমাজে কারও লাভ হয় তাহলে তাকে Pareto Improvement বলে। ধরুন, সমাজে কোন ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নেই। এখন সমাজে যদি এমন একজন ব্যক্তিও পাওয়া যায় (গরিব লোকজন) যিনি কিনা এই সেবা পেতে ইচ্ছুক , এবং তিনি এই সেবা পেতে যেই দাম দিতে ইচ্ছুক তার থেকে সমান বা তার কম দাম এ সেই সেবা পান সেটা সমাজে এর পক্ষে লাভজনক এবং একেই Pareto Improvement বলে। আবার যদি যারা এই সেবা প্রদান করছেন তারাও যদি এই সেবা প্রদান এর মাধ্যমে লাভ করেন সেটাও একধরনের Pareto Improvement। Pareto Improvement খালি সমাজের লাভ হল কিনা তাই বলে , ধনী -গরিব এর বৈষম্য বারলো কিনা সে সম্নধে কিছু বলে না।খালি বলে যে সমাজের উন্নতি/লাভ হলো কিনা।গরিব দের যেহেতু হারানোর কিছুই নেই, কাজেই যেকোন সুবিধা পাওয়াএর ক্ষেত্রে সমাজের ঊন্নতি হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। সহজ ভাবে বুঝতে চাইলে এভাবে ভাবুন যে, overall, সমাজে যদি সব গরিব দের বলা হয় যে, তোমরা কি ক্ষুদ্রঋণ চাও?এতে কি তোমাদের লাভ হয়? বেশির ভাগ গরিব যদি ক্ষুদ্রঋণ এর পক্ষে কথা বলে তাহলে আমরা ধরে নিব যে, সমাজে ক্ষুদ্রঋণ আসাটা হল Pareto Improvement।
      জানি না কতটা বুঝাতে সক্ষম হলাম, না বুঝাতে পারলে , আমার এই অক্ষমতা কে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি তে দেখে নিবেন আসা করি। 😀

      জবাব দিন
  2. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    লিঙ্ক দিলাম একটি, না আমার কিছুই বলার নেই।
    কেবল সত্তিটা জানতে চাই।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  3. রুবাইয়াত (৯৫-০১)

    সকল কে ধন্যবাদ লেখাটি পড়ার জন্য এবং মন্তব্য করার জন্য।@ রাজীব ভাইঃ আপনার লিঙ্ক টা পড়লাম।ভালো লেখা।যদিও ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস কে একক ভাবে দায়ী করার বাপারটা তে সহমত জানালাম না।আমার কাছে ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র দূর /মুক্তি করবে এই জিনিষ টাকেই মনে হয় পুরটা 'Marketing Gimmick'। ক্ষুদ্রঋণ হয়ত দারিদ্র কমাতে পারবে একটা লেভেল পর্যন্ত, কিন্তু দারিদ্র দূর /মুক্ত করতে পারবে না।আমেরিকা এর ২০০৮ সনের ' Housing Financial Crisis' অথবা 'Sub Prime', ধারনা থেকে এই জিনিষ টা বোঝা যেতে পারে।' Prime' হলো তারাই যারা খুব সহজে ঋণ শোধ করতে পারে এবং যাতে বাঙ্কের খুব লাভ হয়। ক্ষুদ্রঋণ এর বেলায় প্রথম যখন ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস যাদের ঋণ প্রদান করলেন তারা আগে থেকেই 'entrepreneur' ছিলেন, এবং গ্রাম্য মহাজন্দের কারনে দারিদ্র থেকে বের হয়ে আসতে পারছিলেন না।তাই ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস ভাবলেন দেখিত এদের কে ঋণ দিয়ে কি হয়। যখন এদের ঋণ দিয়ে দেখলেন এরা দারিদ্র থেকে বের হয়ে আসছে তখন ধরে নিলেন সকল গরিব রাই এভাবে দারিদ্র থেকে বের হয়ে আশ্তে পারবে।এরা যে ' Prime' সেটা তিনি বুঝেন নি বলেই আমার ধারনা।কাজেই দারিদ্র দুরিকরন এর লক্ষ্য নিয়ে আমাদের দেশে খুব সহজে ঋণ বিতরন করা হচ্ছে আর ব্যাঙ এর ছাতার মতন ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা গড়ে উঠছে।আমার ধারনা এই দারিদ্র দুরিকরন এর ধারনা নিয়ে এই 'Sub prime' গরীব দের ঋণ দেয়া হচ্ছে দেখেই ক্ষুদ্রঋণ এর আজকের এই অবস্থা।এই গরীব লোকজন গুলোও ঋণ নিয়ে পরছে বিপাকে। ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস আমার ধারনা একটা অসাধারন জিনিষ আবিষ্কার করেছেন।এই জন্যে আমি তার নোবেল পাওয়া কে সাধুবাদ জানাই, কিন্তু ক্ষুদ্রঋণ যে পথে এগুচ্ছে, তা নিয়ে আমি সন্দিহান।কারন ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র কমাতে পারবে কিন্তু ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র দুরিকরন কখনই করতে পারবে না।কাজেই ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র দুর করবে এই ধারনা থেকে আমাদের দুরে সরে আসতে হবে এবং ক্ষুদ্রঋণ কে সঠিক পথে নিয়ে যেতে হবে না হলে ক্ষুদ্রঋণ এর ভবিষ্যত অন্ধকার।

    জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প শুধুমাত্র গ্রামীণ বাঙ্কেরই নেই, আরো কয়েকশত বা হাজার বাজারে আছে।
      তাহলে ইউনুস মিয়ার নাম আসে কেনো?
      তিনি প্রথম শুরু করেছেন এটি এটা একটা প্রধান কারণ।
      আমার জানামতে বি আর ডি বি সবচেয়ে কম সুদে ঋণ দিয়ে থাকে। এবং কখনো সখনো ঋণ মওকুফের সুযোগ ও থাকে।
      মূলত ২ টি জিনিস ইউনুস মিয়াকে এতোটা পরিচিত করেছে
      ০১; গ্রামীণ ফোনের সাথে যোগসূত্র (আমি কাউকে খাটো করছি না, কিন্তু শহুরে পোলাপান কতটুকু জানে গ্রামে কিভাবে ঋণ দেয়া হয়!)
      ০২; আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তার বন্ধুবান্ধব (বিশেষ করে ক্লিন্টন পরিবারের সাথে তার সখ্য)
      আর শেষে নোবেল।
      শান্তি আর অর্থনীতি কিভাবে এক হয় তা আমি জানি না তাই সে বিষয়ে কথা বলতে চাই না।
      হুমায়ুন আজাদ একটা কথা বলেছিলেন, নোবেল পাওয়া দরকার ছিলো, বাঙলা সাহিত্যের, রবীন্দ্রনাথের নয়।
      নোবেল না পেলেও রবীন্দ্রনাথ একই গুরুত্ব পেতেন। যেমন পান তলস্তয়।
      আগে, সেই ব্যাবিলনের যুগে একটা কথা শুনতাম নজরুল কে নাকি নোবেল দেবার কথা ছিলো, কিন্তু বৃটিশ বিরোধিতার জন্য তা তিনি পান নি। উল্লেখ্য রবীন্দ্রনাথ নোবেল পান ১৯১৩ তে, আর সেসময় নজরুলের বয়স ছিলো ১৪।
      ঠিক এখন যেমন শেখ হাসিনার আর সন্তু লারমার কথা বলেন যে তাদের শান্তিতে নোবেল পাওয়ার কথা ছিলো পার্বত্য শান্তি চুক্তি করার জন্য।
      একথা ঠিক শান্তি চুক্তি হাসিনার একটি বড় অবদান। কিন্তু এর সাথে ইউনুস মিয়ার নোবেলের কি যোগ থাকতে পারে!
      তবে রাজনীতিতে আসতে চাওয়াটাও ইউনুস মিয়ার জন্য কাল হতে পারে। আর বি এন পি এই সুযোগটা নিচ্ছে। একবার শোনা গিয়েছিলো বি এন পি তাদের অর্থমন্ত্রী হিসাবে ইউনুস মিয়াকে ভাবেন। যদিও ইচ্ছা থাকে কিন্তু ভবিষ্যতে ইউনুস মিয়া সেদিকে যেতে পারবেন না।
      সুদখোর ইত্যাদি বলে হাসিনা ইউনুস মিয়াকে উদ্দেশ্য করে কটু কথা বলেছেন এটা সত্যি; কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না যুদ্ধাপরাধী জোয়ারে এবার কিন্তু খোদ বদরুদ্দোজাও জিততে পারেননি। কামাল হোসেনের কাহিনী তো সবাই জানি। হামিদ কারজাই ছাড়া অন্য কোনভাবেই ইউনুস মিয়া ক্ষমতা বা রাজনীতিতে আসতে পারবেন না, অথবা তাকে নৌকা বা ধানের শিষ নিয়ে লড়তে হবে।
      কতো মাইনাস প্লাস হইলো কিন্তু মানুইষ এখনো হাসিনা- খালেদাই বোঝে।
      কিছুদিন আগে ই সি এফে মিকু ভাইয়ের পোষ্ট কি দেখছিলা, কোন এক এন জি ওর লোন নিয়া এক এক্স ক্যাডেট ফ্যামিলির কি হইছে!
      বেশিরভাগ এন জি ও এমনকি জামাত পরিচালিত এন জি ও র ও একই দশা।
      আর হাসিনা তো পুরাই ইউনুস মিয়ারে বাগে পাইছে; তার নিয়মের বেড়াজালে তারে ধরছে।
      আমাদের কি খেয়াল আছে রিপাবলিক আসার পরে মাইক্রোসফট ভাগ হইলো। সবাই জানে বিল ভাইয়া ডেমোক্রেটদের পয়সা দেয়। কিন্তু যা হইছে তা কিন্তু নিয়ম মাইনাই হইছে। আর হাসিনাও এখন নিয়ম মাইনা খেলতেছে।
      ইউনুস মিয়া পদে পদে প্রমাণ করতেছে তার কাছে পদ কতো বড়।
      এর মাঝে হাসিনা আরো ভালো একটা চাল দিছিলো বিশ্বব্যাঙ্কের প্রধান হিসাবে ইউনুস মিয়ারে মনোনয়ন দিতে চাইয়া।
      ইউনুস মিয়াও পাকা খেলোয়াড়; তিনি সুন্দর পাশ কাটাইয়া গেছেন।
      আমরা জনগণ আমোদিত এই রকম খেলা দেখতে পাবার জন্য।
      ইউনুস মিয়া ছাড়া যদি গ্রামীন ব্যাংক না চলে তাইলে সেটা হবে ইউনুস মিয়ার ব্যার্থতা।


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
  4. রুবাইয়াত (৯৫-০১)

    @রাজিব ভাইঃ ডঃ মুহম্মদ ইউনুস গ্রামীন ব্যাঙ্ক এ না থাকলেও গ্রামীন ব্যাঙ্ক যেভাবে চলছে সেভাবেই চলবে বলে আমি মনে করি।ভদ্রলোক এই রাজনীতি তে নামতে যেয়ে, আর এই পদ আকরে ধরে রাখতে চেয়ে নিজের সম্মানেরই ক্ষতি করেছেন। যেহেতু নোবেল পেয়ে গিয়েছেন, কাজেই একটু উধ্যত হয়ে গিয়েছিলেন বলে মনে হয়।যাহোক এটা যার যার ব্যাক্তিগত ব্যাপার, উনি কি ভেবে এসব করে কাদা ছোরাছুরি করলেন উনিই জানেন।(তবে বাঙালি জনগন এতে ব্যাপক আমোদিত হইসে, এতে সন্দেহ নাই। 😀 )

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।