ইবনে খলদুনের ‘আল মুকাদ্দিমা’ ও বিবর্তনবাদ

 

ইবনে খলদুনের ‘আল মুকাদ্দিমা’ ও বিবর্তনবাদ

———————————— ড. রমিত আজাদ

 

(চার্লস ডারউইনের পাঁচশত বছর আগেই বিবর্তনবাদ সম্পর্কে বলেছিলেন ইবনে খলদুন)

অতঃপর সৃষ্টি জগতের দিকে লক্ষ্য করুন, কিভাবে খনিজ পদার্থ হইতে আরম্ভ করিয়া এক অপূর্ব ধারাবাহিকতায় উদ্ভিদ ও প্রাণী পর্যন্ত সুবিন্যাস্ত রহিয়াছে। খনিজ পদার্থের শেষ দিক উদ্ভিদের প্রথম দিকের সহিত সংযুক্ত, যেমন ঔষধি ও বীজহীন গুল্ম; উদ্ভিদের শেষ দিক যেমন খেজুর গাছ ও আঙুর লতা, প্রাণীর প্রথম দিকের সহিত সংযুক্ত, যেমন শামুক ও ঝিনুক – ইহাদের কেবল স্পর্শশক্তিই বিদ্যমান। এই সৃষ্টি জগতের পরস্পর সংযুক্তির অর্থ হইলো ইহাদের যেকোন একটির শেষ দিক পরবর্তিটির প্রথম দিকে পরিবর্তিত হইবার জন্য অদ্ভুতভাবে উন্মুখ হইয়া রহিয়াছে। অতঃপর প্রাণীজগৎ বিস্তৃতি লাভ করিয়া বহু শাখায় বিভক্ত হইয়াছে এবং পর্যায়ক্রমিক সৃজনশীলতার মধ্য দিয়া মনন ও দর্শনের অধিকারী মানুষে আসিয়া উপনীত হইয়াছে। মানুষের এই পর্যায় সেই বানর জগৎ হইতে উন্নীত হইয়াছে, যে জগতে অনুভূতি ও উপলদ্ধি একত্রিত হইয়াছিলো কিন্তু বাস্তব মনন ও দর্শনে পৌছিতে পারে নাই। ইহার পরই মানুষের প্রথম দিকের আরম্ভ এবং ইহাই আমাদের অভিজ্ঞতার শেষ পর্যায়। (কিতাব – আল মুকাদ্দিমা, লেখক – ইবনে খলদুন, পৃষ্ঠা ১৮৩, চৌদ্দ শতকে লেখা )

 

One should then look at the world of creation. It started out from the minerals and progressed, in an ingenious, gradual manner, to plants and animals. The last stage of minerals is connected with the first stage of plants, such as herbs and seedless plants. The last stage of plants, such as palms and vines, is connected with the first stage of animals, such as snails and shellfish which have only the power of touch. The word “connection” with regard to these created things means that the last stage of each group is fully prepared to become the first stage of the next group.

The animal world then widens, its species become numerous, and, in a gradual process of creation, it finally leads to man, who is able to think and to reflect. The higher stage of man is reached from the world of the monkeys, in which both sagacity and perception are found, but which has not reached the stage of actual reflection and thinking. At this point we come to the first stage of man after (the world of monkeys). This is as far as our (physical) observation extends. (Al Muqaddimah, Ibn Khaldun, page 75)  14th century.

 

http://en.wikipedia.org/wiki/Ibn_Khaldun#cite_note-22

 

মুসলিম সভ্যতা জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যেসব মৌলিক প্রতিভার জন্ম দিয়েছে ইবনে খলদুন তাঁদের মধ্যে বিশিষ্ট । উনার জন্ম উত্তর আফ্রিকার তিউনিসে, ১৩৩২ খ্রিস্টাব্দে । কর্মজীবনে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তার প্রতিভার যথার্থ প্রকাশ ঘটেছে সমাজবিদ্যা, অর্থনীতি, ইতিহাস ও ইতিহাসের তত্ত্ব সম্পর্কে রচিত সুবিশাল ‘আল-মুকাদ্দিমা’ নামক গ্রন্থে । আরব ও অন্যান্য জাতিসমূহের বিবরণমূলক ইতিহাসের সঙ্গে ইতিহাসপাঠের তাত্ত্বিক দর্শনের আলোচনাতেই ইবনে খালদুনের সৃষ্টিশীলতা ও মৌলিক চিন্তার প্রকাশ ঘটেছে । সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক, পরিবেশগত প্রভাবে আর্থ-সামাজিক ও ধর্মীয় বিধি-বিধানে সংঘটিত পরিবর্তন সম্পর্কিত আলোচনায় তিনি করেছেন। আর্নল্ড টয়েনবি প্রমুখ কয়েকজন পাশ্চাত্য ইতিহাসবিদের মতে ইতিহাসের দর্শনতত্ত্বের ব্যাখায় ইবনে খালদুনের সমকক্ষ প্রতিভা বিরল । ইবনে খালদুনের মৃত্যু কায়রোতে ১৪০৬ খ্রিস্টাব্দে । ইবনে খলদুনকে সমাজবিদ্যার জনক বলা হয়।

 

 

 

 

১,১৫২ বার দেখা হয়েছে

৭ টি মন্তব্য : “ইবনে খলদুনের ‘আল মুকাদ্দিমা’ ও বিবর্তনবাদ”

  1. সাইদুল (৭৬-৮২)

    ইবনে খালদুনের এই বইটি আমার আলমারিতে অনেকদিন ধরে পড়ে আছে, তোমার লেখা পড়ে এবার পড়ার ইচ্ছে জাগছে


    যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।