সংখ্যা : কপিল, পিথাগোরাস

সংখ্যা : কপিল, পিথাগোরাস

আয়োনীয় গ্রিক দার্শনিক ও গণিতবিদ পিথাগোরাস সংখ্যা ও সংখ্যাসংক্রান্ত দর্শন সম্পর্কে কথা বলে ঝড় তুলেছিলেন। সেই হিসাবে উনাকে এই দর্শনের অগ্রণীও ধরা হয়। তবে সেটা কেবল পাশ্চাত্যেই। আসলে পিথাগোরাসের জন্মের একশত বছর আগেই এই সংখ্যা দর্শন প্রবর্তন করেছিলেন আমাদের বাংলারই সন্তান কপিল।

প্রথমে আমি পিথাগোরাস সম্পর্কে দুকথা বলবো তারপর কপিল সম্পর্কে কিছুকথা বলবো।

পিথাগোরাস

সামোসের পিথাগোরাস (প্রাচীন গ্রিক: Πυθαγόρας ὁ Σάμιος Pythagoras the Samian, অথবা শুধু পিথাগোরাস; খ্রিস্টপূর্ব ৫৭০ – ৪৯৫ অব্দ) ছিলেন একজন আয়োনীয় গ্রিক দার্শনিক, গণিতবিদ এবং পিথাগোরাসবাদী ভ্রাতৃত্বের জনক যার প্রকৃতি ধর্মীয় হলেও তা এমন সব নীতির উদ্ভব ঘটিয়েছিল যা পরবর্তীতে প্লেটো এবংএরিস্টটলের মত দার্শনিকদের প্রভাবিত করেছে। জ্ঞানগর্ভ ও অজ্ঞানগর্ভ এই উভয় প্রকার রচনার ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত দার্শনিকদের মধ্যে পিথাগোরাস ছিলেন একজন মেধাবী ও গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক। প্রতিপাদনমূলক (Proving) অবরোহী যুক্তি অর্থে যে গণিতশাস্ত্র, ইউরোপে তার সূচনা হয় পিথাগোরাস থেকে, এবং বিশেষ একধরনের মরমিবাদ (mystic) তাঁর দর্শনের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর কারণেই দর্শনের উপর গণিতের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। আবার অনেকে মনে করেন দর্শনের উপর গণিতের এই প্রভাব একদিকে যেমন গভীর তাৎপর্যপূর্ণ অন্যদিকে দুর্ভাগ্যজনক। তবে দর্শন ও গণিতের পারস্পরিক সম্পর্ক ওতপ্রোত। পিথাগোরাসের জীবন সম্পর্কে সামান্য যা তথ্য জানা যায় তা হলো, তিনি এজিয়ান সাগরের পূর্ব উপকূল অর্থাৎ বর্তমান তুরস্কের কাছাকাছি অবস্থিত সামোস দ্বীপে জন্মেছিলেন। কারো কারো মতে তিনি নিসার্কোস নামক জনৈক ধনাঢ্য ব্যক্তির পুত্র, আবার কারো কারো মতে তিনি এ্যাপোলো নামক দেবতার পুত্র ছিলেন। তাঁর সময়ে সামোস দ্বীপটি পলিক্রেটিস নামক জনৈক স্বৈরশাসক দ্বারা শাসিত হয়। এই পলিক্রেটিস ছিলেন একজন হিংস্র ব্যক্তি। ধারণা করা হয় পিথাগোরাস শৈশবে জ্ঞান অন্বেষণের তাগিদে মিশরসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছিলেন। ৫৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত গ্রিক কলোনি ক্রোতোনে চলে যান, এবং সেখানে একটি আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক ভ্রাতৃত্বমূলক সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন, তার নাম দেয়া হয় ভার্তৃসংঘ (Brotherhood)। । তার অনুসারীরা তারই নির্ধারিত বিধি-নিষেধ মেনে চলত এবং তার দার্শনিক তত্ত্বসমূহ শিখতো। এই সম্প্রদায় ক্রোতোনের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে যা তাদের নিজেদের জন্য বিপদজনক হয়ে দাড়ায়। এক সময় শহরের নাগরিকগণ তাদের বিরূদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ও তাদের সভাস্থানগুলো পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং পিথাগোরাসকে বাধ্য করা হয় ক্রোতোন ছেড়ে যেতে। ধারণা করা হয় জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি দক্ষিণ ইতালিরই আরেক স্থান মেতাপোন্তুমে কাটিয়েছিলেন।

পিথাগোরাস কিছু লিখেননি এবং সমসাময়িক কারও রচনাতেও তার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায় না। উপরন্তু ১ম খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে তাকে বেশ অনৈতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হতে থাকে। সে সময় ভাবা হতো পিথাগোরাস একজন স্বর্গীয় স্বত্তা এবং গ্রিক দর্শনে যা কিছু সত্য (এমনকি প্লেটো এবং এরিস্টটলের অনেক পরিণত চিন্তাধারা) তার সবই তিনি শুরু করেছেন। এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত করতে এমনকি কিছু গ্রন্থ পিথাগোরাস ও পিথাগোরাসবাদীদের নামে জাল করা হয়েছিল। তাই তার সম্পর্কে সত্যটা জানার জন্য মোটামোটি নির্ভেজাল এবং প্রাচীনতম প্রমাণগুলোর দিকে তাকাতে হবে কারন স্পষ্টতই পরবর্তীরা তার ব্যাপারে তথ্য বিকৃতি ঘটিয়েছিল। বর্তমানে পিথাগোরাস প্রধাণত গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত হলেও প্রাচীনতম প্রমাণ বলছে, তার সময় বা তার মৃত্যুর দেড় শত বছর পর প্লেটো ও এরিস্টটলের সময়ও তিনি গণিত বা বিজ্ঞানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন না। তখন তিনি পরিচিত ছিলেন, প্রথমত, মৃত্যুর পর আত্মার পরিণতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ যিনি ভাবতেন আত্মা অমর এবং একটি বিশেষ চক্রের বিবর্তন ধারায় তার অনেকগুলো পুনর্জন্ম ঘটে (উল্লেখ্য যে প্রায় ঐ একই সময়ে ভারতবর্ষে গৌতম বুদ্ধ ঐ একই কথা বলেছিলেন।), দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় আচারানুষ্ঠান বিষয়ে পণ্ডিত, তৃতীয়ত, একজন ঐন্দ্রজালিক যার স্বর্ণের ঊরু আছে এবং যিনি একইসাথে দুই স্থানে থাকতে পারেন এবং চতুর্থত, একটি কঠোর জীবন ব্যবস্থা যাতে খাদ্যাভ্যাসের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং আচারানুষ্ঠান পালন ও শক্ত আত্ম-নিয়ন্ত্রয়ণের নির্দেশ আছে তার জনক হিসেবে। পিথাগোরাস প্রাণীকে ধর্মোপদেশ দিতেন।

সঙ্গীতের ক্ষেত্রে পিথাগোরাসের অবদান গভীর। যে কোনও একটা গান একটা স্কেলের স্বরগুলি নিয়ে তৈরি হয়। ওই গোটা স্কেলটার প্রতিনিধি করে কর্ড। যে কোনও স্কেলের সা- গা- পা; এই স্বর তিনটি নিয়ে তৈরি হয় কর্ড। একটা স্কেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন স্বর হচ্ছে সা, তারপর, পা তারপর গা। গানিতিক ভাবে এই সা গা পা-র দূরত্ব আবিস্কার করার কৃতিত্ব পিথাগোরাসের। আসলে ইউরোপের সঙ্গীত পদ্ধতিই পিথাগোরাসের এই আবিস্কারের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে। এমন কথা প্রচলিত রয়েছে যে, গ্রিক দার্শনিক প্লেটোকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন পিথাগোরাস। পিথাগোরাস বলেছিল- “অল থিংস আর নাম্বারস।” সব বস্তুই আসলে সংখ্যা। কথাটি তুমুল মরমী। আবার পিথাগোরাসের জীবনে কিছু নিষ্ঠুর কাজ করেছিলেন এমন কথাও প্রচলিত রয়েছে। উল্লেখ্য যে ভার্তৃসংঘের আইন লঙ্ঘন করার দায়ে তার শিষ্য হিপাসাস ইশ্বরের রোষানলে পড়ে জাহাজডুবিতে মারা গিয়েছে বলে কথা প্রচারিত হলেও, অনেকেই মনে করে যে যৌক্তিক (rational) ও অযৌক্তিক (irrational) সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের কারণে পিথাগোরাসের নির্দেশে হিপাসাস -কে হত্যা করা হয়েছিলো। এগুলোকে পিথাগোরাসের অন্ধকার দিক বলা হয়।

পিথাগোরাস হিপাসাস বিতর্কটি ছিলো মূলত সংখ্যা সংক্রান্ত পিথাগোরাসের একটি দর্শনকে নিয়ে। পিথাগোরাস মনে করতেন “জগতের সবই সংখ্যা, পূর্ণসংখ্যা, যাদের রয়েছে বাস্তব, স্বকীয় অস্তিত্ব।” “সংখ্যা-ই জীবন, সংখ্যা-ই মরণ, সংখ্যা গড়েছে জগত-সংসার। মহাবিশ্বের সবকিছুই পূর্ণসংখ্যায় পরিমাপযোগ্য (commensurable), এমনকি শরীর বলো, আত্মা বলো, ন্যায়বিচার বলো, সবই সংখ্যা। যেকোনো দুটি সংখ্যাকে সর্বদা সুবিধামতো তৃতীয় একটি ক্ষুদ্রতর সংখ্যার পূর্ণ গুণিতক আকারে প্রকাশ করতে পারা যায়। যেমন , ক্রোটনের বাজার থেকে ৫ ড্রাকমা ২ অবোলি দিয়ে কিছু জলপাই কিনলে , সম পরিমাণ জলপাই কিনলে সামোস থেকে ৪ ড্রাকমা ৪ অবোলি দিয়ে। তাহলে অবোলি হিসেবে পাওয়া যাবে দুটি সংখ্যা: ৩২ [অবোলি] ও ২৮ [অবোলি], যেহেতু ১ ড্রাকমা=৬ অবোলি। এখন যদি একটি ক্ষুদ্রতর সংখ্যা, ১৬ [অবোলি] নেয়া হয়, তাহলে মূল সংখ্যা দু’টি কিন্তু পরিপূর্ণ বিভাজ্য তথা পূর্ণ গুণিতক হচ্ছে না, কারণ ৩২÷১৬=পূর্ণ সংখ্যা, কিন্তু ২৮÷১৬=পূর্ণ সংখ্যা নয়। এবার আরেকটু ক্ষুদ্রতর সংখ্যা নিয়ে চেষ্টা করলে: ধরা যাক, ১৪। না, এবারও দুটি পূর্ণ গুণিতক হচ্ছে না। কিন্তু এভাবে ক্ষুদ্রতর সংখ্যাটি কমিয়ে যেতে থাক, এক সময় দেখবে সেটি ৪ ধরলে দুটি সংখ্যাই পূর্ণ বিভাজ্য হচ্ছে: ৩২÷৪=৮, ২৮÷৪=৭। ৪ হচ্ছে ৩২ ও ২৮-এর সাধারণ পরিমাপক (common measure)। এভাবে ক্ষুদ্রতর সংখ্যাটি যত ক্ষুদ্র নেবে, এক সময় না এক সময় সেটি দিয়ে মূল সংখ্যাদ্বয়কে ভাগকরলে ভাগফল হিসেবে পূর্ণ সংখ্য পাবেই— মহাবিশ্বের সবকিছুই পূর্ণ সংখ্যায় পরিমাপযোগ্য। পিথাগোরাসের এই এতগুলো বছরের সযত্নে লালিত দর্শনের হঠাৎ বিরোধিতা করলেন তারই শিষ্য হিপাসাস। “না, এ সত্য নয়, জগতের সবকিছুই এভাবে পূর্ণ সংখ্যায় প্রকাশযোগ্য নয়। অনেক সংখ্যাযুগল আছে দুনিয়ায় যাদের এরূপ তৃতীয় কোনো সাধারণ পরিমাপক পাওয়া যাবে না, তা যত চেষ্টাই করাই হোক, আর পরিমাপকটি যত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্রই নেয়া হোক না কেন।” এই বিরোধিতা ছিলো বিদ্রোহের সামিল। এমন বিদ্রোহে স্তম্ভিত পিথাগোরাসকে শুধু বলেই নয় ব্যাতিরেকী প্রমাণের (proof by contradiction) মাধ্যমে হিপাসাস তা প্রমান করেও দেখিয়েছিলেন। এবং এই প্রমানে ব্যবহার করেছিলেন পিথাগোরাসেরই সেই বিখ্যাত উপপাদ্য, ‘কোন সমকোণী ত্রিভূজের অতিভূজের উপর অংকিত বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল অপর দুই বাহুর উপর অংকিত বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফলদ্বয়ের যোগফলের সমান।’ যদি অপর বাহু দুইটির প্রত্যেকের দৈর্ঘ্য হয় ১ একক করে তাহলে অতিভুজের দৈর্ঘ্য হবে ২-এর বর্গমূল, এবং ১ যেহেতু পরিমেয়, ২-এর বর্গমূল কখনো চূড়ান্ত পরিমেয় নয়। একে কোনভাবেই দুটি পূর্ণ সংখ্যার কোনো অনুপাতে প্রকাশ করা যায় না। হিপাসাসের এই আবিষ্কারের নিগূঢ় অর্থ হলো, ‘যে কোন দৈর্ঘ্যের এককই নেই না কেন এমন কিছু দৈর্ঘ্য আছে যেগুলো এককের সঙ্গে কোন সাংখ্যিক সম্পর্ক বহন করেনা।’

ক্ষিপ্ত পিথাগোরাস যদিও শিষ্য হিপাসাসকে হত্যা করেছিলেন (যেরকম মনে করা হয়) কিন্তু পরবর্তিকালীন গ্রীক দার্শনিকরা ভুলটা ধরতে পেরেছিলেন। তা হলো, ‘পাটিগণিতের উপর নির্ভরশীল না করেও জ্যামিতিকে স্বতন্ত্র শাখা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।’

পিথাগরাসের শিক্ষকদের একটা লম্বা তালিকা পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে কেউ পুরাদস্তুর গ্রীক, আবার কেউ পুরাদস্তুর মিশরীয় কিংবা পূর্বদেশীয়। তালিকায় রয়েছেন Creophylus of Samos, Hermodamas of Samos,বায়াস, থেলেস, আনাক্সিম্যান্ডার,এবং Pherecydes of Syros.। শোনা যায় তিনি Themistoclea নামের এক আধ্যাত্মিক সাধুর কাছে নীতিশাস্ত্রের প্রথম পাঠ নিয়েছিলেন। [১৪][১৫] বলা হয়, মিশরীয় দের কাছে তিনি শিখেছিলেন জ্যামিতি, ফনিশিয়ানদের কাছে পাটিগনিত, ক্যালডীয়ানদের কাছে জ্যোতির্বিজ্ঞান, মাগিয়ানদের কাছে শিখেছিলেন ধর্মতত্ব এবং জীবনযাপনের শিল্প।অন্যান্য সকল শিক্ষকদের মধ্যে তার গ্রীক শিক্ষক Pherecydes এর নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যায়।

Diogenes Laertius প্রদত্ত তথ্য অনুসারে পিথাগোরাস বিপুল পরিমানে ভ্রমন করেছিলেন। জ্ঞান আহরন আর বিশেষত সূফী দলগুলোর কাছ থেকে ইশ্বরের স্বরূপ সন্ধান এর উদ্দেশ্যে তিনি মিশর, ছাড়াও আরবদেশগুলো, ফোনেশিয়া, Judaea, ব্যাবিলন, ভারতবর্ষ পর্যন্ত ভ্রমন করেন। প্লুতার্ক তার On Isis and Osiris নামক বইতে জানান, মিশর ভ্রমন কালে পিথাগোরাস Oenuphis of Heliopolis এর কাছ থেকে মূল্যবান নির্দেশনা পান। অন্যান্য প্রাচীন লেখকরাও তার মিশর ভ্রমনের কথা উল্লেখ করেছেন।

কপিল
কপিল এর জন্ম যিশুখ্রিস্টের জন্মের সাত শ বছর আগে প্রাচীন বাংলায় কোনও এক মাতৃতান্ত্রিক কৌমগ্রামে। সেই কৌমগ্রামটি কোথায় ছিল? আজ আর তা বলা সম্ভব নয়। তবে যশোরের কপোতাক্ষ নদের পড়ে কপিলমুনি নামে একটি গ্রাম রয়েছে। হয়তো কপিলমুনি গ্রামেই জন্ম নিয়েছিলেন কপিল। পরে … পরিনত বয়েসে উত্তর ভারতের কোনও নগরে তাঁর দর্শন প্রচার করেছিলেন। তারপর সাংখ্যদর্শন তার তীব্র আকর্ষনের কারণেই ভারতীয় দর্শনের অর্ন্তভূক্ত হয়ে যায়। তবে কপিলের মতবাদ বেদবিরোধী হওয়ায় উত্তর ভারতের ব্রাহ্মণ্যবাদীরা পরবর্তীকালে সাংখ্যদর্শনকে ঠিক ধ্বংস না-করলেও বিকৃত করে ফেলেছিল। যেমন নিরেশ্বরবাদী সাংখ্যদর্শনকে বিজ্ঞানভিক্ষু নামে এক পন্ডিত বলেছেন: কপিন ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিলেন! এসব সত্ত্বেও আর্যসমাজে কপিলকে অত্যন্ত সম্মান করে বলা হয়েছে ‘আদিবিদ্যান’।

কপিল (সংস্কৃত: कपिल) ছিলেন একজন বৈদিক ঋষি। তাঁকে সাংখ্য দর্শনের অন্যতম প্রবর্তক মনে করা হয়। ভাগবত পুরাণে তাঁর সাংখ্য দর্শনের আস্তিক্যবাদী ধারাটির উল্লেখ পাওয়া যায়। হিন্দুদের প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, তিনি ব্রহ্মার পৌত্র মনুর বংশধর। ভগবদ্গীতায় কপিলকে সিদ্ধযোগী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভাগবত পুরাণের তৃতীয় স্কন্দে কপিলের জীবনের বর্ণনা পাওয়া যায়। এখানে তাঁকে কর্দম মুনি ও দেবাহুতির পুত্র বলা হয়েছে। তিনি সতী অনুসূয়ার ভ্রাতা ও গুরু। কপিলকে সর্বোচ্চ দেবতা বিষ্ণুর একটি অবতার বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ভাগবত পুরাণে অবতারদের তালিকায় তাঁর নামও পাওয়া যায়। পিতা গৃহত্যাগ করলে কপিল নিজের মা দেবাহুতিকে যোগ ও বিষ্ণু-ভক্তি শিক্ষা দেন। এর ফলে দেবাহুতি মোক্ষ লাভ করেন। ভাগবত পুরাণের একাদশ অধ্যায়ে কপিলের সাংখ্য দর্শন কৃষ্ণ উদ্ধবকে শিখিয়েছিলেন। এই অংশটি উদ্ধব গীতা নামে পরিচিত।

কৃষ্ণ ভগবদ্গীতায় কপিলের উল্লেখ করেছেন:

বৃক্ষের মধ্যে আমি বট, ঋষিগণের মধ্যে আমি দেবর্ষি নারদ, গন্ধর্বগণের মধ্যে আমি চিত্ররথ ও সিদ্ধগণের মধ্যে আমি কপিল।

ভগবত পুরাণ-এ লিখিত আছে : “এই জগতে আমি এসেছি সাংখ্য দর্শন শিক্ষা দিতে। যাঁরা অপ্রয়োজনীয় জাগতিক কামনার হাত থেকে মুক্তি পেতে চান, তাঁরা এই দর্শন শিক্ষা করবেন। এই আত্ম-উপলব্ধির পর বোঝা কঠিন। কালের স্রোতে তা হারিয়ে গিয়েছে। তাই আমি কপিলের দেহ ধারণ করে তা পুনরায় প্রবর্তন করতে এবং মানবসমাজে সেই দর্শন আবার শিক্ষা দিতে এসেছি।” (৩।২৪।৩৬-৩৭)
“যখন কেউ কামনা ও লোভ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়, ‘আমি’ ও ‘আমার’ এই ভ্রান্ত দেহবোধ নষ্ট হয়, তখন তার মন শুদ্ধ হয়। সেই শুদ্ধ অবস্থায় সে কথাকথিত জাগতিক সুখ ও দুঃখকে অতিক্রম করে যায়।”

মহাভারতে বর্ণিত আছে: কপিল বলেন, “কর্মের মাধ্যমে শুধু দেহ শুদ্ধ হয়। জ্ঞান (জ্ঞানীর কাছে) সর্বোচ্চ। (কর্মের মাধ্যমে) মনের কলুষতা দূরীভূত হল এবং ব্রহ্মের সন্তোষ জ্ঞান, দয়া, ক্ষমা, শান্তি, প্রেম ও সততায় পরিণত হলে কর্ম থেকে মুক্তি আসে। এই পথে ব্রহ্ম লাভ করা যায়। এই পথে কেউ সর্বোচ্চ সত্য জানতে পারে।” (মহাভারত, শান্তিপর্ব)।

ভীষ্ম (যুধিষ্ঠিরকে) বললেন, “হে শত্রুজয়কারী যুধিষ্ঠির, কপিলের অনুগামী সাংখ্য-মতাবলম্বীরা বলেন, মানবদেহে পাঁচটি দোষ আছে। এগুলি হল: কামনা, ক্রোধ, ভয়, নিদ্রা ও শ্বাস। এগুলি সকল জীবের দেহেই দেখা যায়। যাঁরা জ্ঞানী, তাঁরা ক্ষমার দ্বারা ক্রোধকে জয় করেন। সকল কর্মের উদ্দেশ্যকে ছেঁটে ফেলে কামকে জয় করা যায়। সত্ত্বের চর্চার মাধ্যমে নিদ্রাকে জয় করা যায়। সতর্কতার মাধ্যমে জয় করা যায় ভয়কে। আর শ্বাসকে জয় করা যায় নিয়ন্ত্রিত আহারের মাধ্যমে। (মহাভারত, শান্তিপর্ব)

সে যাই হোক। কপিল সংসারে মানুষকে দুঃখ ভোগ করতে দেখেছেন। একই সঙ্গে দুঃখ থেকে মুক্তি লাভের উপায় ভেবেছেন। কপিল লক্ষ্য করেছেন যে- মানুষ সংসারে ত্রিবিধ দুঃখ ভোগ করে। (এক) আধ্যাত্মিক (দুই) আধিভৌতিক এবং (তিন) আধিদৈবিক। আধ্যাত্মিক দুঃখ হল: কাম, ক্রোধ , লোভ -এসব রিপুতে তাড়িত হলে যে দুঃখ সেটি। মানব, পশু, পাখি, সরীসৃপ এবং জড়বস্তু থেকে যে দুঃখ পায় কপিল তাকে আধিভৌতিক দুঃখ বলেছেন । এবং আধিদৈবিক দুঃখ হল ভূকম্পন, বন্যা বা অপ্রাকৃত শক্তি ইত্যাদি।
কপিল চিন্তাশীল বলেই প্রশ্ন করেছেন: কিন্তু, কে দুঃখ ভোগ করে?
কেন মানুষ দুঃখ ভোগ করে। কেননা, সুখ কিংবা দুঃখের অনুভূতি হয় মানবদেহে।
এই উত্তরের সঙ্গে কপিল একমত নন। কেননা, কপিল মনে করেন যে, ‘যে দুঃখ ভোগ করে, সে স্বতন্ত্র। সেই তুমি। তোমার দেহ তুমি নহে। যে সুখদুঃখ ভোগ করে সেই আত্মা। সে হল পুরুষ। পুরুষ ছাড়া জগতে আর যা যা আছে সে হল প্রকৃতি। দেহ প্রকৃতি বলে প্রকৃতি দুঃখভোগ করে না। দুঃখভোগ করে পুরুষ।’
কেন? কেন পুরুষ দুঃখভোগ করে ?
কপিল বলছেন যে, ‘প্রকৃতির সহিত সংযোগই পুরুষের দুঃখের কারণ।’
এর মানে কী?
এর মানে হল প্রকৃতির সঙ্গে পুরুষের সংযোগ হলে বিশ্বের উদ্ভব হয়- সেই সঙ্গে দুঃখেরও উদ্ভব হয়।

এবার আমরা সংক্ষেপে সাংখ্যদর্শনের সৃষ্টিতত্ত্ব ব্যাখ্যা করে পরে আবার কপিলের দুঃখতত্ত্বে ফিরে যাব।

প্রকৃতির সঙ্গে পুরুষের সংযোগ হলে বিশ্বজগতের উদ্ভবই কেবল না- বিশ্বজগতের বিবর্তনও শুরু হয়। The chain of evolution begins when purusha impinges on prakriti, much as a magnet draws unto itself iron shavings (Encyclopedia Britannica ). এই বির্বতনের কারণ হল প্রকৃতির সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ এই তিনটি গুণ। কপিল মনে করেন … এই গুণগুলি প্রকৃতির আত্মস্বরূপ। যে কারণে তিনি বলেছেন: এক ত্রিগুণাত্মিকা নিত্য জড় প্রকৃতিই জগৎকারণ। কাজেই বিশ্বজগতের সৃষ্টি ব্যাখ্যা করার জন্য ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই! কেননা, Purusha and prakriti being sufficient to explain the universe, the existence of a god is not hypothesized (Encyclopedia Britannica).

সাংখ্যদর্শন এই কারণেই বেদবিরোধী। কেননা, বেদ এর মুলে রয়েছে পরম ব্রহ্মার ধারণা। বেদান্ত আর্যদর্শন। কপিলের সাংখ্যদর্শন অনার্য। এ কারণেই বেদবিরোধী। তপোব্রত সান্যাল যে জন্য লিখেছেন: ‘সনাতন ধর্মাবলম্বী আর্যশাস্ত্রীরা কপিলের লোকায়ত সাংখ্যশাস্ত্রকে কখনোই মেনে নেন নি, কারণ কপিল বেদকে প্রমাণ বলে স্বীকার করেননি। মনে হয় এই কারণেই বৌদ্ধ-অধ্যুষিত বঙ্গ আর্যদের দ্বারা অবহেলিত হয়েছে।’উত্তর ভারতীয় আর্যদের সাথে বঙ্গ দেশীয় বাঙালীদের সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বটি বহু প্রাচীন।

কপিল ছিলেন- ‘সৎকার্যবাদী’। এর মানে কপিল বিশ্বাস করতেন যে … কোনও কার্য উদ্ভবের আগেই তার কারণে অব্যক্ত অবস্থায় থাকে। পরে ব্যক্ত হয় মাত্র, নতুন আরম্ভ হয় না। এই দৃশ্যমান বিশ্বজগৎ স্থূল। এর কারণ সূক্ষ্ম হতে পারে না। এই যুক্তিতে কপিল কেবল ঈশ্বর নয়- জগতের মূলে পরমাণুর অস্তিত্বও অস্বীকার করেছেন। তাঁর মতে জগতের মূল হল প্রকৃতি। এবং প্রকৃতির মূল হল শূন্য। কপিল এই জন্য প্রকৃতিকে ‘অমূল -মূল’ বলেছেন। তার মানে প্রকৃতির মূল শূন্য। পরবর্তীকালে গৌতম বুদ্ধ এই শূন্যতাকে আরও গভীর তত্ত্বীয় রূপ দিয়েছেন। যে কারণে তপোব্রত সান্যাল লিখেছেন: ‘বৌদ্ধধর্মের মূলতত্ত্বের উৎসও এই সাংখ্যদর্শন। বস্তুত, বুদ্ধের দু’জন গুরুই ছিলেন সাংখ্যমতাবলম্বী।’

কপিল বলেছেন, অচেতন জড় প্রকৃতির বিকার বা পরিণামের ফলেই সমস্ত বিশ্ব ব্যাপার উৎপন্ন হয়েছে। সুতরাং বিশ্বভ্রহ্মান্ড হল ত্রিগুণা প্রকৃতির পরিণাম বা অভিব্যক্তি। প্রকৃতির সহিত পুরুষের সংযোগের ফলে প্রথমে উৎপন্ন হয় মহৎ; এর পর অহঙ্কার; এরপর পঞ্চ তন্মাত্র; এরপর একাদশ ইন্দ্রিয় এবং এরপর স্থূল ভূত।

মহৎ অর্থ চেতনা। অহঙ্কার হল: ‘আমি জ্ঞান’। পঞ্চ তন্মাত্র হল: শব্দ, র্স্পশ, রূপ, রস ও গন্ধ। একাদশ ইন্দ্রিয় হল: পাঁচটি কর্ম্মেন্দ্রিয়; পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয় এবং অন্তরিন্দ্রিয়। এবং স্থূল ভূত হল: ক্ষিতি, জল, তেজ, মরুৎ এবং আকাশ। সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ – প্রকৃতির তিনটি গুণের কারণেই বিভিন্ন ধরনের পদার্থ সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। কপিল মনে করেন: মহা বিশ্ব হল প্রকৃতির তিনটি গুণের পরিণাম বা বিকার।
কপিলের মতে বিশ্বজগতে সব মিলিয়ে জাগতিক পদার্থ রয়েছে পঁচিশটি।

১. প্রকৃতি ।
২. পুরুষ।
৩. মহৎ
৪. অহঙ্কর
৫ ৬ ৭ ৮ ৯ পঞ্চ তন্মাত্র
১০ ১১ ১২ ১৩ ১৪ ১৫ ১৬ ১৭ ১৮ ১৯ ২০ একাদশ ইন্দ্রিয়
২১ ২২ ২৩ ২৪ ২৫ স্থূল ভূত

এবার আবার দুঃখের প্রসঙ্গে ফিরে যাই।

কপিল বলছেন যে, ‘প্রকৃতির সহিত সংযোগই পুরুষের দুঃখের কারণ। এবং এই সংযোগের উচ্ছেদই দুঃখ নিবারণের উপায়। সুতরাং তাহাই পুরুষার্থ। প্রকৃতি-পুরুষের সংযোগের উচ্ছেদই দুঃখ মুক্তি।’
কিন্তু, কী ভাবে?
কপিল বলছেন যে বিবেকজ্ঞান- এর মাধ্যমে। বিবেকজ্ঞানই দুঃখ থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে।
কিন্তু, বিবেকজ্ঞান কি?
আমি অচেতন প্রকৃতি নই, আমি হলাম চৈতন্যময় পুরুষ। এ উপলব্দিই হচ্ছে বিবেকজ্ঞান। এই বিবেকজ্ঞান হলেই দুঃখ থেকে মুক্তিলাভ সম্ভব। তার মানে আমরা যদি অচেতন জড় প্রকৃতিকে ‘আমি’ বলে ভুল না করে নির্লিপ্ত সাক্ষীমাত্র চৈতন্যস্বরূপ পুরুষকে ‘আমি’ বলে বুঝি তবে পরিনামী প্রকৃতিতে জন্ম মৃত্যু আঘাত ব্যাধি জরা যাই হোক না কেন সে দুঃখ আমাতে আরোপিত হয়ে আমাকে কষ্ট দেবে না। গীতায় সাংখ্যের মূলতত্ত্ব ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে: যার জন্মও হয় না, মৃত্যুও হয় না, যে অগ্নিতে দ্বগ্ধ হয় না, অস্ত্রেতে আহত হয় না, সেই অবিনাশী আত্মাকে জানলে আর দুঃখ থাকে না।
আজ থেকে ২৭০০ বছর আগে কপিল যেন আমাদের নির্দেশ করেই বলছেন: ত্রিগুণা প্রকৃতিতে পরিণাম হচ্ছে। আমাতে নয়। এই বিবেকজ্ঞানের ফলেই দুঃখের আত্যন্তিক নিবৃত্তি ঘটে।
এই নিগূঢ় তত্ত্বটি আজও বাংলার মরমি লোকগান ধারণ করে আছে।
তবে এত দীর্ঘকাল পরে দর্শনটি আর বাংলার মানসজগতে অবিকৃত নেই। বাংলার দার্শনিক জগতে আদি সাংখ্যদর্শন অনেকটাই ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। যেমন আমরা দেখেছি সাংখ্যদর্শনের একটি প্রধান কনসেপ্ট হল ‘প্রকৃতি ও পুরুষ’। কপিল ‘প্রকৃতি ও পুরুষ’ কে জগতের দুটি নিত্য পদার্থ বলেছেন। অথচ পরবর্তী সময়ে বাংলার ভাবজগতে প্রকৃতি নারী হিসেবে এবং পুরুষ পুরুষ হিসেবে উপস্থিত। কপিল প্রকৃতিকে অচেতন জড় বললেও বাংলায় প্রকৃতি কেবল সচেতনই নয়- প্রকৃতি (বা নারী) আদ্যশক্তি। আসলে বাংলার ভাবজগৎ সাংখ্যদর্শনের পরিভাষা গ্রহন করেছে এবং সেই পরিভাষা নিজের মত করে ব্যাখ্যা করেছে। যেমন: কপিল- এর মতে সচেতন পুরুষ যখন অচেতন প্রকৃতির সংর্স্পশে আসে তখন বিশ্বজগতের উদ্ভব হয়; একই সঙ্গে বস্তুর উৎপত্তি এবং বিবর্তন আরম্ভ হয়। সেই সঙ্গে দুঃখেরও সৃষ্টি হয়। অথচ, মধ্যযুগের বজ্রযানী তান্ত্রিক বৌদ্ধরা মনে করতেন যে প্রকৃতি ও পুরুষের মিলনে মহাসুখ উৎপন্ন হয়। এই মহাসুখই শূন্য নিরঞ্জন। এবং এই শূন্য নিরঞ্জনই বজ্রযানী তান্ত্রিক বৌদ্ধ সাধকের পরমার্থ বা জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।

ভগবত গীতা-য় কপিলা-র উল্লেখ রয়েছে।
Of all trees I am the banyan tree, and of the sages among the demigods I am Narada. Of the Gandharvas I am Citraratha, and among perfected beings I am the sage Kapila.(10.26)

বৌদ্ধ ও জৈন দর্শনে সাংখ্য দর্শনের প্রভাব রয়েছে। কোনো কোনো বৌদ্ধ পণ্ডিত দাবি করেন, গৌতম বুদ্ধ পূর্বজন্মে কপিল ছিলেন। অশ্বঘোষ তাঁর বুদ্ধচরিত গ্রন্থে লিখেছেন বুদ্ধ সাংখ্যবাদী শিক্ষকের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর মতবাদের কিছু অংশ সাংখ্য প্রভাবিত। অনেকে বলে থাকেন যে, কপিল গৌতম বুদ্ধের আগমণের ভবিষ্যদ্বানী করেছিলেন। ‘বুদ্ধচরিতা’ গ্রন্থে লেখা আছে যে, গৌতম বুদ্ধের সাংখ্য দর্শনে পন্ডিত শিক্ষক ছিলেন।

সাংখ্য শব্দের অর্থ যেহেতু সংখ্যা (numbers) বা অভিজ্ঞতালদ্ধ (empirical )। এই দর্শনে জগৎসংসারকে নিয়মানুগ (systematic) বা যৌক্তিক (rational) বলা হয়েছে। সাংখ্য দর্শনের সবচাইতে পুরাতন গ্রন্থ হলো সাংখ্য কারিকা (Samkhya Karika) ।

সাংখ্যদর্শন বাংলার সবচে প্রাচীন ভাবদর্শন। এই দর্শন ২৭০০ বছরের পুরনো। কেননা, সাংখ্যদর্শনের প্রবক্তা কপিল- এর জন্ম ৭০০ খ্রিস্টপূর্ব। সাংখ্যদর্শন নিয়ে ব্যাপক গবেষনা করেছেন অধ্যাপক রিচার্ড গার্বে। অধ্যাপক গার্বে কপিলের সময়কাল Seventh century b.c. বলে উল্লেখ করেছেন।

সাংখ্যই ভারতের প্রাচীনতম দর্শন। বৌদ্ধধর্মের মূলতত্ত্বের উৎসও এই সাংখ্যদর্শন। সাংখ্য দর্শনের প্রবর্তক কপিল প্রাচীন বঙ্গবাসী ছিলেন। এবং এই তথ্যে বিস্ময়ের কিছু নেই। তার কারণ আবহমান কাল থেকেই বাংলা দার্শনিক চিন্তার লীলাভূমি।

তথ্যসূত্র:
1. ইমন জুবায়ের-এর বাংলা ব্লগ (অধিকাংশ তথ্য উনার ব্লগ থেকে নেয়া) (এক বছরের অধিক কাল আগে সামুর জনপ্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়ের মাত্র ৪৪ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি)
2. ম্যাভেরিক (সামু-র ব্লগার, তিনি একজন জনপ্রিয় ব্লগার গণিত বিষয়ে বাংলায় উনার অনেক চমৎকার লেখা রয়েছে। তবে বছর খানেক যাবৎ তিনি একদমই লিখছেন না) এই লেখার পিথাগোরাস সংক্রান্ত প্রচুর তথ্য ম্যাভেরিক-এর লেখা থেকে নেয়া।
3. কনকপ্রভা বন্দ্যোপাধ্যায়; সাংখ্য-পতঞ্জল দর্শন।
4. Wikipedia

১,৩০৫ বার দেখা হয়েছে

৯ টি মন্তব্য : “সংখ্যা : কপিল, পিথাগোরাস”

  1. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    শুভসন্ধ্যা, মিঃ আজাদ
    জাগতিক ক্রিয়াকলাপ শিকেয় তুলে অখন্ড মনোযোগের সাথে তোমার এই জ্ঞানকোষ পড়লাম। লেখাটি অসাধারণ বলতেই হবে।
    তুমি উল্লেখ করেছো,
    তথ্যসূত্র:
    1. ইমন জুবায়ের-এর বাংলা ব্লগ (অধিকাংশ তথ্য উনার ব্লগ থেকে নেয়া) (এক বছরের অধিক কাল আগে সামুর জনপ্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়ের মাত্র ৪৪ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি)
    2. ম্যাভেরিক (সামু-র ব্লগার, তিনি একজন জনপ্রিয় ব্লগার গণিত বিষয়ে বাংলায় উনার অনেক চমৎকার লেখা রয়েছে। তবে বছর খানেক যাবৎ তিনি একদমই লিখছেন না) এই লেখার পিথাগোরাস সংক্রান্ত প্রচুর তথ্য ম্যাভেরিক-এর লেখা থেকে নেয়া।
    3. কনকপ্রভা বন্দ্যোপাধ্যায়; সাংখ্য-পতঞ্জল দর্শন।
    4. Wikipedia

    প্রথমতঃ তথ্যসূত্রের কোন লিংক এখানে নেই। গুগলে গুতোগুতি করে যা পাওয়া গেল সেটি পড়ে মনেহলো তুমি সিসিবিয়ানদের লেজবিশিষ্ট মগজবিহীন চতুষ্পদ জন্তু জানোয়ার জ্ঞান করে নিশ্চয়ই এই কাজটি করেছো। যাকে তুমি তোমার প্রাপ্ত তথ্যসূত্র বলছো সেটি নির্লজ্জ কপি পেস্ট ছাড়া আর কিছু নয়। লাইনের পর লাইন মেরে দেয়া হয়েছে।
    ডিসক্লেইমারঃ ইহা চুরি নয় কেবল, ইহাকে ডাকাতি বলা হয়

    http://www.somewhereinblog.net/blog/benqt60/29669294

    এখানে উইকি থেকে প্রাপ্ত তথ্য মানে হলো, গোটা উইকির কপিল ভার্সনের কপি পেস্ট।

    https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%95%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%B2

    পিথাগোরাস অংশটুকুর জন্য আবারও উইকির দ্বারস্থ হলে; আবারও লাইনের পর লাইন।

    https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8

    তথ্য ব্যবহার করার মানে কি দাঁড়ালো তবে? তথ্যসূত্র মানে হলো কপি এন্ড পেস্ট!
    বুঝাতে কি পেরেছি, ডাক্তর সাব?

    জবাব দিন
    • অরূপ (৮১-৮৭)

      সাবিনা, এত বড় ধাক্কা আত্মস্থ করতে কষ্ট হচ্ছে, আমার নিজের।
      সত্য নির্মম জানি। কতটা নির্মম চোখের সামনে দেখটা ভয়ংকর। 🙁 🙁


      নিজে কানা পথ চেনে না
      পরকে ডাকে বার বার

      জবাব দিন
      • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

        অরূপদা, মিঃ আজাদের তথ্যসূত্রের নমুনা তো দেখলে। লিংক পর্যন্ত দেয়া হয়নি ব্লগে। প্রতিটি লিংক প্রথমে খুঁজে পেতে বের করতে হয়েছে। তারপর লাইন ধরে যাচাই করতে হয়েছে। এখানে আমার স্বার্থ অথবা প্রাপ্তি কি বলতে পারো, দাদা?

        সত্যি কথা বলতে গেলে মিঃ আজাদের ব্লগ আমি আগে পড়িনি বলতে গেলে, জানো। প্রথমে রাব্বীর অভিযোগ এবং পরে নূপুরেরটা শুনে দেখতে এসেছিলাম ব্যাপারটি কি। সোনামানিক্য ব্লগে মিঃ আজাদের মন্তব্যগুলো পড়ে দেখো কি করে তিনি টুকলিবাজির সাফাই গাইছেন, জাস্টিফাই করছেন।

        সিসিবিতে মিঃ আজাদ চুরি নয় কেবল সিনা চুরি করছেন!

        জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।