বোর-আইনস্টাইন বিতর্ক – পর্ব ৪

বোর-আইনস্টাইন বিতর্ক – পর্ব ৪
——————– ড. রমিত আজাদ
Post-revolution: Third stage
১৯৩৫ সালে পোদলস্কি ও রোজেন একটি নতুন আর্গুমেন্টে বিকশিত করেন যা বিখ্যাত জার্নাল ফিজিকাল রিভিউ-এ প্রকাশিত হয়। আর্টিকেলটির টাইটেল ছিলো ‘Can Quantum Mechanical Description of Physical Reality be Considered Complete?’ আর্টিকেলটি লেখা হয়েছিলো দুটি সিস্টেমের এনটেঙ্গেলড স্টেট-এর উপর ভিত্তি করে। বিতর্ক শুরু করার আগে আরেকটি হাইপোথিসিস ফর্মুলেট করা প্রয়োজন – এটা আসে আইনস্টাইনের থিওরী অব রিলেটিভিটির principle of locality থেকে। ভৌত বাস্তবতা (physical reality) অনুযায়ী দূরত্বে অবস্থিত দুটি (অথবা বেশি) কায়া তাৎক্ষণিকভাবে একে অপরের উপর প্রভাব ফেলতে পারবে না।

১৯৫৭ সালে এই EPR আর্গুমেন্টকে চয়ন করেছিলেন ডেভিড বোম ও ইয়াকির আহারনোভ। Physical Review-এ প্রকাশিত তাদের পেপারটির নাম ছিলো ‘Discussion of Experimental Proof for the Paradox of Einstein’। গবেষক দুজন আর্গুমেন্ট-টিকে পূণঃফর্মুলেট করে তার নাম দিয়েছিলেন ‘entangled state of two particles’। বিষয়টির সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ।

১। মনে করি দুটি ফোটন পরস্পর থেকে দূরত্বে A ও B এলাকায় (region) রয়েছে, তাদের মধ্যে সময়ের ব্যবধান t। তারা রয়েছে ‘entangled state of polarization-এ।
২। t সময়ে A এলাকায় থাকা ফোটনটির vertical polarization পরীক্ষা করা হলো। মনে করি পরীক্ষার ফলাফল নিম্নরূপ – ফোটনটির একটি ফিল্টারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। wave packet-এর reduction অনুযায়ী t+dt তম সময়ে সিস্টেমটি অন্য রূপ নেবে।
৩। এখানে A এলাকায় যেই পর্যবেক্ষক ১নং ফোটন-এ প্রথম পরীক্ষাটি করেছেন তিনি ২নং ফোটনটিতে বা তার এলাকায় কিছু না করার পরও ২নং ফোটনটি সম্পর্কে স্পষ্ট ভবিষ্যদ্বানী করতে পারবেন। এর অর্থ হলো ২ নং ফোটনে একটি ভৌত বাস্তবতা ঘটবে যা হলো vertical polarization।
৪। Locality-র assumption অনুযায়ী ১নং ফোটনের উপর সংঘটিত action ২ নং ফোটন-কে প্রভাবিত করতে পারেনা। এখান থেকে এই উপসংহার টানা যায় যে ২নং ফোটন ১নং ফোটন দ্বারা প্রভাবিত না হয়েই vertically polarized হয়েছে।
৫। A এলাকায় কোন পর্যবেক্ষক t-তম সময়ে ৪৫ ডিগ্রী কোনে polarization-এর একটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করলে তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন যে ২নং ফোটনও ৪৫ ডিগ্রী কোনে polarized হবে। অন্যথায়, যদি ফোটনে কোন পরীক্ষা চালানো না হয় তাহলে সে ভবিষ্যদ্বানী করতে পারবে যে ২ নং ফোটনে ১৩৫ ডিগ্রী কোনে polarization হবে। এই দুই সিদ্ধান্তকে একত্র করে বলতে পারি যে ২নং ফোটনটি নিশ্চিতভাবে ৪৫ ডিগ্রী বা ১৩৫ ডিগ্রী কোনে polarized হবে। ফর্মালিজম অনুযায়ী এই ধর্মাবলীগুলো অসঙ্গত (incompatible)।
৬। যেহেতু প্রাকৃতিক এবং সংশয়াতীত (obvious) দাবি এই উপসংহার টানতে বাধ্য করে যে ২ নং ফোটন একযোগে (simultaneously) অসঙ্গত ধর্মাবলী ধারণ করে, তার মানে, এই ধর্মগুলোকে একযোগে (simultaneously) যথাযথ বা নির্ভুলভাবে নির্নয় করা সম্ভব নাও হয়, তৎসত্ত্বেও সিস্টেমের ভিতরে ধর্মাবলীগুলো রয়েছে। কিন্তু কোয়ান্টাম মেকানিক্স এই সম্ভাবনাগুলোকে অস্বীকার করে, এই হিসাবে কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিজ্ঞানটি অসম্পুর্ণ।

বোর-এর প্রতিক্রিয়া (Bohr’s Response):
EPR প্রকাশিত হওয়ার পাঁচ মাস পরে বোর-এর ঐ একই জার্নাল Physical Review-এ আর্গুমেন্ট প্রকাশিত হয়, এবং আর্টিকেলের টাইটেল ছিলো ঐ একই। বোর-এর উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো পরবর্তিতে ফুটে উঠেছিলো Paul Arthur রচিত ‘Albert Einstein, Scientist-Philosopher’ নামক বইটিতে। বইটি প্রকাশিত হয়েছিলো আইনস্টাইনের ৭০-তম জন্মদিনে। বোর EPR-কে নিম্নরূপে আক্রমণ করেছিলেন।

‘প্রশ্নে উত্থাপিত নির্ণায়ক (criterion)-সমূহের বিবরণ অস্পষ্ট (ambiguous) নিম্নোক্ত অভিব্যক্তির সাপেক্ষে “without disturbing the system in any way” । প্রাকৃতিকভাবেই, পরীক্ষণের যেকোন পর্যায়ে mechanical dusturbance হতে পারে। এই পর্যায়ে উদ্ভুত হয় প্রভাব সৃষ্টিকারী প্রয়োজনীয় সমস্যা যা যথাযথ শর্তের উপর প্রভাব বিস্তার করে। যা সম্ভাব্য ভবিষ্যদ্বানীকে নির্ধারণ করে, যে ভবিষ্যদ্বানী সিস্টেমটির পরবর্তি আচরণ সম্পর্কে বলবে —— তাহাদের আর্গুমেন্ট (EPR বিজ্ঞানীদের) তাদের উপসংহারের ন্যয্যতা প্রতিপাদন করে না যে, quantum description অসমাপ্ত। এই বর্ণনাকে এইভাবে চরিত্রায়ন করা যায় যে, ইহা একটি অদ্ব্যর্থক (unambiguous) ব্যাখ্যার সম্ভাব্য যৌক্তিক ব্যবহার ব্যাখ্যাটি সেই পরিমাপন পদ্ধতির যা সসীম ও অনিয়ন্ত্রনযোগ্য মিথষ্ক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মিথষ্ক্রিয়া হলো যেই যন্ত্রাবলী ব্যবহার করে পরিমাপ করা হচ্ছে সেই যন্ত্রাবলী ও পরীক্ষণের অবজেক্ট-এর মধ্যে।

Post Revolution: Fourth Stage
এই বিষয়ের উপর আইনস্টাইনের লিখিত সর্বশেষ লিখনে তিনি তার অবস্থান অধিকতর পরিমার্জন করে বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার করে দেন যে, কোয়ান্টাম মেকানিক্স-এর যে বিষয়টি উনাকে সব চাইতে বেশি পীড়া দেয় তা হলো বাস্তবতার ন্যুনতম মানদন্ডগুলোকে সম্পুর্ণরূপে বর্জন করা। এটা ঘটছে এমনকি আণুবীক্ষণিক পর্যায়েও, তাতে তত্ত্বটির সম্পূর্ণতার গ্রহনযোগ্যতা ঊহ্য থাকে। যদিও এই বিষয়ের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞরাই বলে থাকেন যে আইনস্টাইন সঠিক বলেননি, তারপরেও চলমান বিচারবুদ্ধি এখনওসম্পূর্ণ নয়। এখন পর্যন্ত এমন কোন বৈজ্ঞানিক ঐক্যমত নেই যে determinism-কে নিরসন (refute) করবে।

৬০৩ বার দেখা হয়েছে

৫ টি মন্তব্য : “বোর-আইনস্টাইন বিতর্ক – পর্ব ৪”

  1. রমিত ভাই,

    আপনার লেখাটা আইনাস্টাইন আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ন।

    আইনাস্টাইনের ওপর একটি বিশেষ সংখ্যা বের করছে, বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা মহাকাশ বার্তা। আপনার অনুমতি পেলে এই লেখাটা সেখানে যেতে পারে।

    ভাল থাকবেন।

    মিজান/বরিশাল/84-90

    জবাব দিন
  2. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    আপনার এই সিরিজটা সিসিবি তে একটা মূল্যবান সংযোজন হয়ে থাকবে।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।