‘আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আঙ্গিকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব’

আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক আঙ্গিকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব’

আগামী ২০১৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশের রাজনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে রাজনীতিবিদসহ কেউ তা বলতে পারেন না মন্তব্য করেছেন তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেস্টা  ড. আকবর আলি খান।
‘আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আঙ্গিকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি  বলেন, বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে একটি অস্থিতিশীল দেশ এবং এখানে দুর্নীতি চরম সীমানায় পৌঁছে গেছে। তত্বাবধায়ক বা অন্য কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন আদৌ হবে কিনা তা নিয়েও রাজনৈতিকগুলো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। এই সংকট সৃষ্টির জন্যে রাজনৈতিক দলগুলোই দায়ি। তাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান ও সমজোতার পথ তাদেরকেই বের করতে হবে।

অংকুর মেধা বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। শাহ আবদার রাজ্জাকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিয়াস করিম, মেজর জেনারেল  (অ.) আমিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেঃ  সৈয়দ মোঃ ইব্রাহীম,ড. তুহিন মালিক. সাংবাদিক মনির হায়দার প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করে শোনান ড. রমিত আজাদ।

সেমিনারে  বক্তাদের  স্পস্ট অভিমত হচ্ছে রাজনীতি দুই পরিবার  এবং গোষ্ঠীর মধ্যে আটকে গেছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব মুজিব কোট  এবং জিয়াউর রহমানের সাফারির মধ্যে বন্দি হয়েছে। এই  ধারা থেকে রাজনীতিকে বের করে আনতে হলে দুই প্রধান  রাজনৈতিক দলের বিপরীতে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক ত্যাগ স্বীকারের জন্যে কিছু লোককে রাজনীতির মাঠে নেমে আসতে হবে। ইতিবাচক ধারার রাজনীতি সৃষ্টি করতে হবে। বক্তাদের অনেকেই বলেছেন, তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন  করা  সম্ভব নয়।
ড. আকবর আলি খান মনে করেন দেশে রাজনীতিতে আলো- ছায়ার খেলা চলছে। মানুষ কখনো আশান্বিত, আবার কখনো হতাশ। এর তরতজা  কোন সমাধান নেই। আছে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্প মেয়াদি দুই ধরনের সমাধান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ।

সেমিনারে বক্তাদের অভিমতম হচ্ছে দেশের রাজনীতি আর রাজনীতিবিদদের হাতে রাখা যাবে না, সাধারণ মানুষের  হাতে  দিতে হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা নেই। একে অপরকে বিশ্বাস করে না। এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা খারাপ ও দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম দিন দিন বাড়ছে। রাজনৈতিক দল এবং সরকারের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হলে তৃণমূল থেকে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। নিচের দিকেও পরিবর্তন হওয়া আবশ্যক। তৃতীয় রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টি  না  করে কেনো  দুই দলের  মধ্যে পরিবর্তন আনা যাবে না। দুই প্রধান দল কেনো অন্যায়-অত্যচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না। এজন্য তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন দরকার। ভিতরে ও বাইরে থেকে চাপ সৃষ্টি করতে পারলে কায়েমী স্বার্থবাদিদের প্রাসাদ একদিন ভেঙ্গে পড়বে। তিনি  বলেন, অধিকার অর্জন করতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।  যে চেতনা  জাগ্রত হয়েছে তাকে শানিত করতে হবে। এভাবেই নতুন রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন,বাংলাদেশর মতো এতো বেশী দুর্নীতি পৃথিবীর অন্যসব দেশে নেই। এসব কারনে এখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব। তিনি বলেন,সব দলের কাছে গ্রহনযোগ্য নির্বাচন করতে হলে তত্বাবধায়ক বা অন্তবর্তী সরকারের প্রয়োজন রয়েছে। তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি বিকৃত ও ত্র্রুটিপূর্ণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের জন্যেইতো আইন। প্রয়োজনে সংবিধান ও আইনের পবির্তন আনতে হবে। সকলের কাছে গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের জন্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় আসতে হবে। তিনি বলেন, বংশভিত্তিক রাজনীতির কোন ভবিষ্যৎ থাকে না। অতীতই তাদের কাছে বড়। দেশবাসি সোচ্চার হলে এই সংকট কাটনো সম্ভব।

মেজর জেঃ আমিন আহমদ চৌধুরী মনে করেন দেশে এখন আদর্শিক রাজনীতি নেই। তাই রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হয়েছে। মন্ত্রী হবো এমন মানসিকতায় রাজনীতিতে আসছে সবাই। রাজনীতি থাকবে কিভাবে? তিনি দুই প্রধান দলের রাজনীতি প্রসঙ্গে বলেন, প্রধান দুই দলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নয়, সরাসরি দুজন প্রধান হয়েছেন। এই দুই দলের প্রতিটি গ্রামে ১০ জনে করে লাঠিয়াল বাহিনী রয়েছে।  প্রতিটি গ্রামে নিজেদের লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলা  ছাড়া  এদের চ্যালেঞ্জ  করা যাবে না।  তিনি বলেন, দুই দলের ৫ জন করে নিয়েও একটি অন্তবর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন করা যেতে পারে। দুইবারের বেশী কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না সংবিধানে এই ধারা সংযোজন করতে হবে। বিবাদ করে দেশ চালানো যাবে না।
মেজর জেঃ সৈয়দ মোঃ ইবরাহীম বলেন, রাজনীতির  চিরচরিত ধারার পরিবর্তন আনতে হবে। রাজনীতি পচে গেছে-এই মানসিকতায় রাজনীতি থেকে দূরে থাকা বাঞ্চনীয় নয়। তাহলে  দেশে  রাজনৈতিক সংকট আরও  প্রকট হবে।
অধ্যাপক পিয়াস করিম বলেন, রাজনীতি দুই পরিবার ও গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এক নেত্রী রুচিহীন গালাগাল করেন, আরেক নেত্রী  বিশ্বব্যাংকের সাথে কিভাবে  কথা বলতে হয় তাও জানেন না। এই কারনে বুঝতে হবে দেশে রাজনৈতিক সংকট প্রকট। দুই নেত্রী নেতৃত্ব দিতে পারছেন না। তিনি বলেন, যিনি দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন না, তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে দাবি করতে পারেন না। এর বিপরীতে দেপ্রেমিকদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ড. তুহিন মালিক বলেন, বিচার বিভাগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গণতন্ত্রের নামে জুডিসিয়ারির ক্ষতি  করা হয়েছে। একসময় বিচার বিভাগও গনতন্ত্রের ক্ষতিসাধন করতে পারে। ওই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

http://bestnewsbd.com/index.php?view=details&data=Download&news_type_id=1&menu_id=2&news_id=7786

 

 

২৪৬ বার দেখা হয়েছে

৫ টি মন্তব্য : “‘আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আঙ্গিকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব’”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।