ফুলের পাঁপড়িতে আন্দোলন

ফুলের পাঁপড়িতে আন্দোলন
– রমিত আজাদ

ভুল হয়ে গেছে কি?
ভুল তো হয়েই যাচ্ছে,
ক্রমাগত আরো ভুল হয়তোবা হবে।
ভুল করি বলেই তো আমরা মানুষ,
অথবা মানুষ বলেই আমরা ভুল করি।
বারবার ভুলে গেলে বলি ভুলো মন,
আর ভুল করে মন দিয়ে দিলে বলি,
মনের ভুল!!
মনের কারণে ভুল হতে দিলে
কতটুকু অপরাধ হবে?

মানব জীবনের পরতে পরতে কেবল বাধা,
মন কি অত শত বাধা মানে?
মনের বাঁধন বাধতে গিয়ে,
ভুলে যেতে হয় অজস্র বাঁধার পাহাড়।
দুরন্ত মন একবার যেদিকে ছুটে চলে,
সেদিক থেকে সহজে তাকে নিবৃত্ত করা যায়না ।

সকালের মিস্টি রোদে,
সমুদ্রের উদ্বেলিত ঢেউ গর্জে গর্জে আছড়ে পরে
জ্বলজ্বলে সৈকতের বুকে ।
চন্চল উর্মিমালায় নেচে নেচে ভেসে যায়
কোন্‌ স্বপ্নের অর্ণবতরী,
নিসর্গ শোভার মুগ্ধ দৃষ্টি নিয়ে
আমি অবলোকন করি
তোমার মায়া মুখ,
যেখানে সবটুকু জুড়ে আছে
একটি অপূর্ব শোভিত বাগান,
আর সেখানে ফুটে আছে
থরে থরে গোলাপ, জুঁই,
অলকানন্দা আর হাঁসনাহেনা

স্মৃতির আকাশটুকু এলোমেলো হয়ে যায়,
বিষণ্ণ মেঘ হয়ে ভেসে যাই হারানো পৃথিবীতে ।
প্রথম প্রেমের বিচ্ছেদের তীব্র জ্বালা,
হৃদয়ের সব উত্তাপ কেড়ে নিয়ে যাবার পর
ভেবেছিলাম, আর মন দেবনা ।
উচ্ছাসহীন, উদ্বেগহীন, এমনকি আবেগহীন
বড় সাদামাটা ছণ্দহীন কাটিয়ে দিয়েছি
কত ছণ্দময় বর্ষা, আর কত উন্মত্ত হেমন্ত ।

অনেক, অনেকগুলো বছর পর,
অনাকাঙ্খিতভাবে তুমি এলে,
সুবর্ণ রমণীয় দুহাত বাড়িয়ে বললে,
“আমি আপনার প্রথমার মত কিনা জানিনা,
তবে এই নিন, আমার হৃদয়ের সবটুকু উত্তাপ আপনাকে উপহার দিলাম”।
সেই নিবেদন আমার মনের ফুলের পাঁপড়িকে আন্দোলিত না করলেও,
তোমার ঐ করুন আকুতি প্রতিফলিত মুখের দিকে তাকিয়ে,
আমি না বলতে পারিনি।

আরও সত্যি কথা বলতে গেলে,
অমন অপ্সরির মত এক স্নিগ্ধ তরুনীকে
প্রত্যাখ্যান করার মত,
আমি নই কোন মহাপুরুষ,
আমি একজন অতি সাধারণ পুরুষ।
নারীর সৌন্দর্যে যে শেষ পর্যন্ত বিমোহিতই হয়।

২৩৭ বার দেখা হয়েছে

২ টি মন্তব্য : “ফুলের পাঁপড়িতে আন্দোলন”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।