কিছু কৌতুক

প্রশ্নের চাপ

ছোট ছোট দুটি ছেলেকে নিয়ে ট্রেনে উঠেছেন এক ভদ্রলোক। একটির বয়স ৫ আরেকটির বয়স ৭। ভদ্রলোক ট্রেনের একটি বার্থে গিয়ে বসলেন। শিশু দুটি অবিরাম প্রশ্ন করে চলছে, এটা কি? ওটা কি? এমন কেনো? তেমন কেনো? প্রশ্নের চাপে বিরক্ত বাবা একটু পর পর বলছেন, “চুপ কর”। বড় ছেলেটি আবার পাল্টা বলছে, “কেনো চুপ করব?” তার দেখাদেখি ছোটটিও বলছে, “কেনো চুপ করব?” একই বার্থে বসে ছিল এক যুবক। সে বলল, “আংকেল, বাচ্চাদেরকে এভাবে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিতে হয়না, ওরা তো প্রশ্ন করবেই, ধৈর্য ধরে ওদের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে”। ভদ্রলোক বল্‌লেন, “তা ঠিকআছে, আপনিই ধৈর্য ধরে ওদের প্রশ্নের জবাব দিন”। “আচ্ছা”, হাসিমুখে বলল যুবকটি। এরপর আগ্রহ নিয়ে শিশু দুটির নানা প্রশ্নের জবাব দিতে লাগলো। আশ্বস্ত হলেন ভদ্রলোক, বেশ ভালো লোকই পাওয়া গেছে। যাক বাচ্চাদুটি ঐ যুবকের সাথে মশগুল থাকুক, আমি এই ফাকে একটু ঘুমিয়ে নেই, ভাবলেন তিনি। ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখলেন, ছোট ছেলেটি চুপচাপ, বসে আছে, এবং যুবকটি আর বড় ছেলেটি নেই। এরপর যা শুনলেন তাতে তার আক্কেল গুড়ুম! ছোট ছেলেটি বলল, ভদ্রলোক যখন ঘুমুচ্ছিলেন, শিশু দুটি তখন অবিরাম প্রশ্ন করে চলছিল যুবকটিকে। যুবকটি প্রথমে আগ্রহ নিয়ে সব প্রশ্নের জবাব দিলেও, পরে ভীষণ অস্থির হয়ে পড়ে। পরিশেষে ওরা প্রশ্ন করে, উড়োজাহাজ যখন আকাশে ওড়ে তখন ডিম পাড়ে কোথায়? আর রেলগাড়ির মা কোথায় থাকে? এই প্রশ্ন শোনার পর, দাড়িয়ে থাকা একটি স্টেশনে যুবকটি লাফ দিয়ে নেমে যায়, আর বড় ভাইয়া তাকে খুজতে গিয়েছে।

প্র্যাকটিস:
কাহীনি লন্ডনে। এক শিখ প্রচুর রুটি খেতে পারে। বন্ধু-বান্ধব সবাইই জানে যে সে এক বসায় এক হাজার রুটি অনায়াসেই খায়। একবার তাকে চ্যালেন্জ করে বসল এক বৃটিশ।
: তুমি রুটি খাওয়ার প্রতিযোগিতায় আমার সাথে পারবে না।
শুনে ভীষণ ক্ষেপে গেল শিখ।
: প্রশ্নই ওঠেনা। আমি কেমন রুটি খেতে পারি বন্ধু-বান্ধব সবাইই জানে । তার উপরে আমি খাই দেশি রুটি, তোমার মত পাউরুটি না।
এই কথা শুনে বৃটিশটি মোটেও দমল না, বরং চতুর হাসি হেসে বলল, আমি তোমার সাথে বাজী ধরতে চাই। রুটি খাওয়ার প্রতিযোগিতা করব আমরা দু’জন, যে জিতবে সে অপরকে ১০০ পাউন্ড দেবে।
যুদ্ধংদেহী ভংগীতে বাজী গ্রহন করল শিখটি।
নির্দিষ্ট দিনে উভয়ে বসল। শিখ ও বৃটিশ দু’জনের পাশেই বিপুল পরিমান রুটি। উভয়ের বন্ধু-বান্ধব এই প্রতিযোগিতা দেখার জন্য তাদের চারদিকে গোল হয়ে বসেছে।
শিখটি একটানে ৩০০ টি রুটি খেয়ে ফেলল।বৃটিশটিও একটানে ৩০০ টি রুটি খেয়ে ফেলল। এরপর শিখটি আরও ২০০ টি রুটি খেয়ে ফেলল। এবার বৃটিশটি খেল ২৫০ টি রুটি ।এরপর শিখটি খেল ১০০ টি রুটি। বৃটিশটি খেল ১২০ টি রুটি । দর্শকরা একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছে। এমনটা তারা আশা করেনি। এরপর শিখটি খেল ২০ টি রুটি। তার পর পর বৃটিশটি খেল ৫০ টি রুটি। এরপর শিখটি অনেক কষ্টে ৩ টি রুটি খেল। বৃটিশটি আরও ১০ টি রুটি খেল। আর না পেরে হার মানল শিখ। বাজীতে হেরে ১০০ পাউন্ড দিয়ে দিল বৃটিশটিকে। বিজয়ের উল্লাস নিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেল বৃটিশটি ।
এহেন ফলাফলে হতবাক শিখটির বন্ধু-বান্ধব। বিস্মিত হয়ে তারা প্রশ্ন করল, ”কিরে তুই তো অনায়াসেই একটানে ১০০০টি রুটি খেতে পারিস, আজ এমন হলো কেন ?” চিন্তিত মুখে শিখটি বলল, ” আমিও কিছু বুঝতে পারছি না, কেন যে এমন হলো! আমি নিস্চিত আমি একটানে হাজারটি রুটি খেতে পারি, এমনকি এই প্রতিযোগিতায় আসার আগেও, আমি বাসায়, ১০০০টি রুটি খেয়ে প্র্যাকটিসও করে এসেছি

।”

বাঘ ও ইদুর

বনের রাজা বাঘ একবার ঠিক করল যে, বিয়ে করবে। রাজার আশেপাশে সারাক্ষন নানা রকম মোসাহেব জন্তু-জানোয়ার ঘোরাঘুরি করে । রাজা একদিন তাদের বললেন, “এই শোন আমি বিয়ে করব ঠিক করেছি, আমার জন্য মেয়ে দেখিশ।” এই কথা শোনার পর আর কেউ বাঘের কাছেই ভিড়ে না। সবাই মনে মনে ভাবে, কোন মেয়ে দেখে রাজার রোষের শিকার হয়ে আবার তার পেটে চালান হয়ে যাই, দরকার নাই। এভাবে কয়েক মাস কেটে গেল । বাঘ রাজা তো হতবাক, একি অবস্থা, আমার আশপাশেই তো কেউ ভেড়ে না! ছয় মাস পর এক ইদুর এল। বাঘ হুংকার দিয়ে উঠল,
: এই থাম।
ইদুর বলে,
: জ্বী হুজুর।
: তুই শুনেছিস, যে আমি বিয়ে করব বলে মনস্হির করেছি?
:জ্বী হুজুর শুনেছি।
: তা আমার কাছে কেউ আসেনা কেন?
: হুজুর তারা আপনাকে খুব ভালোবাসে তাই।
: ভালোবাসে বলে কাছে আসবে না এটা কেমন কথা?
এরপর ইদুরের দিকে তাকিয়ে বাঘ বলে,
: তুই বিয়ে করেছিস?
ইদুর বলে,
: জ্বী হুজুর, বিয়ে করেছি।
বাঘ আফসোস করে বলে,
: তুই একটা ইদুর, তুই বিয়ে করে ঘর-সংসার করছিস, আর আমি বাঘ হয়ে বিয়ে করতে পারবনা, এটা কেমন কথা!
ইদুর বলে,
: হুজুর আমি আসলে আগে বাঘই ছিলাম, বিয়ের পরে ইদুর হয়ে গিয়েছি।

ভাষা বিভ্রাট

ইটালির এক সাগর তীরে, একবার এক ইটালিয়ান তার স্যান্ডেল হারিয়ে ফেলেছে। সে ভাবল কেউ হয়তো নিয়েছে। কাছে পিঠে দেখল এক বাংলাদেশী তরুণ বসা। ইটালিয়ানটি ভাবলো এই বাংলাদেশীই হয়তো তার স্যান্ডেল নিয়েছে। কিন্তু কথা বলে বোঝা গেল যে বাংলাদেশীটি ইটালিয়ান ভাষা বোঝেনা। মহা সমস্যা! একবার অপর এক ইটালিয়ান এগিয়ে এল তার সাহায্যে। বলল আমি অনুবাদকের কাজ করি সামান্য বাংলাও জানি। আপনাকে সাহায্য করার চেষ্টা করতে পারি। খুশী হলো ইটালিয়ানটি, চেষ্টা করুন।
অনুবাদক : তুমি কি এই ইটালিয়ানের স্যান্ডেল নিয়েছে?
বাংলাদেশী : (ক্ষিপ্ত হয়ে) হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমার তো খুব দরকার।
ইটালিয়ান : কি বলে?
অনুবাদক : বলে যে, আপনার স্যান্ডেল তার খুব দরকার।
ইটালিয়ান : খুব দরকার। তাহলে, সে স্যান্ডেলের দাম দিক।
অনুবাদক : তুমি এই ইটালিয়ানের স্যান্ডেলের মূল্য দাও।
বাংলাদেশী : (অধিকতর ক্ষিপ্ত হয়ে) আরে বাপরে!!
ইটালিয়ান : কি বলে?
অনুবাদক : বলে আপনি নাকি তার বাবা।
ইটালিয়ান : বাবা যখন ডেকেছে, তখন অর্ধেক দাম মওকুফ করে দিলাম, বাকি অর্ধেক দাম দিক।
অনুবাদক : তুমি এই ইটালিয়ানের স্যান্ডেলের অর্ধেক মূল্য দাও।
বাংলাদেশী : (রাগত স্বরে) ঘোড়ার ডিম দেব।
ইটালিয়ান : কি বলে?
অনুবাদক : শেষ কথাটি ঠিক বুঝতে পারলাম না। তবে যা মনে হচ্ছে, সে টাকা-পয়সা কিছু দেবে না, খাবার জাতীয় কিছু দিতে পারে।

পাগলা বৃষ্টি
এক দেশে এক ন্যায়পরায়ণ বাদশা ছিলেন। দেশের মানুষও সুখেই ছিল। হঠাৎ সেই দেশে দুর্যোগ নেমে এলো। অনাবৃষ্টি ও খরা চলল দীর্ঘদিন। প্রজাদের ত্রাহী ত্রাহী অবস্হা।
প্রজাবৎসল বাদশা গণক ডাকলেন, এই দুর্যোগ থেকে দেশ কবে মুক্তি পাবে, কবে বৃষ্টি হবে তাই জানতে। গণক গণনা করে বলল, যে খুব শীগগিরই একটা বৃষ্টি আসবে, তবে সাবধান! এটা পাগলা বৃষ্টি। এই বৃষ্টির পানি যেন কেউ না খায়, কেউ যেন এই পানিতে গোসল না করে। করলেই সর্বনাশ! যে করবে সে পাগোল হয়ে যাবে। তবে তার একমাস পরে আরেক দফা বৃষ্টি হবে, যা হবে স্বাভাবিক। এবং এর পর থেকে সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
বাদশা, গণকের সাবধানতা উল্লেখ করে সারা রাজ্যে ঢোল বাজিয়ে দিলেন। ‘ প্রজাসকল খুব শীগগিরই বৃষ্টি আসবে, তবে সাবধান এই বৃষ্টির পানি কেউ খাবেন না, বৃষ্টির পানিতে গোসল করবেন না, এটা পাগলা বৃষ্টি। তবে পরবর্তি বৃষ্টি হবে স্বাভাবিক। আপনারা ধৈর্য্য ধরুন’।
এদিকে বাদশা তার মন্ত্রিকে বলে রাখলেন বৃষ্টির এক বালতি পানি ধরে রাখতে।

কিছুদিন পর ঠিক ঠিক বৃষ্টি এলো। অনেক দিন পর বৃষ্টি পেয়ে, কে শোনে বাদশার কথা, সবাই মহা উল্লাসে বৃষ্টির পানিতে গোসল করল, পানি খেল। তারপর যা হওয়ার তাই হলো। দেশের সবাই পাগল হয়ে গেল।
এখন প্রজারা কোন একটি বিচার নিয়ে বাদশার কাছে গেলে, বাদশা ন্যায়বিচার করে দেন। আর প্রজারা দরবারের বাইরে এসে বলে, “বাদশাটা একটা পাগল!’
এরকম করতে করতে যখন বিষয়টা চরমে পৌছালো, বাদশা তখন মন্ত্রিকে ডেকে বললেন, ঐ এক বালতি পাগলা বৃষ্টির পানি কি ধরে রেখেছিলেন? মন্ত্রি বললেন, “জ্বী জাঁহাপনা”। বাদশা বললেন, “তবে নিয়ে আসুন পানি, আমিও খাই আপনিও খান”।
দুজনেই খেলেন এবং যথারিতি পাগোল হলেন। এবার প্রজারা কোন একটি বিচার নিয়ে বাদশার কাছে গেলে, বাদশা পাগলা বিচার করে দেন। আর প্রজারা দরবারের বাইরে এসে বলে, “এতদিনে বাদশার মাথা ঠিক হয়েছে”।

মূল্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত

ক্রেতা: তোর আমের দাম কত?
বিক্রেতা: ২০০ টাকা কেজি।
ক্রেতা: বলিস কি! আগে তো ১০০ টাকায় দিতি।
বিক্রেতা: আগে দিতাম স্যার, এখন আর দেওন যায়না।
ক্রেতা: ঠিক আছে দে, ২ কেজি আম দে।
বিক্রেতা ২ কেজি আম মেপে দিল। আম নিয়ে নি:শব্দে ক্রেতা চলে যাচ্ছে। পিছন থেকে বিক্রেতা ডাক দিল।
বিক্রেতা: স্যার
ক্রেতা: কি?
বিক্রেতা: দাম দিলেন না? ক্রেতা মৃদু হেসে বলেন
ক্রেতা: আগে দিতাম, এখন আর দেয়া যায়না।

(বহু বছর আগে কৌতুকটি বিটিভিতে দেখেছিলাম)

জ্বীন ও গুলশানে একটা বাড়ী
অল্পবয়সী একটি ছেলে একদিন নির্জন একটি রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিল। যেতে যেতে পথের ধারে একটি খালি বোতল পরে থাকতে দেখল। তারপর যা করে অল্পবয়সীরা, বোতলে মারলো এক লাথি। ‘হু হু হা হা হা, বিকাটাকৃতি এক জ্বীন বেরিয়ে এসে বলল, “আমি জ্বীন ৫০০ বছর ধরে এই বোতলের মধ্যে আছি, বল তোর কি চাই?”
ছেলেটি প্রথমে ঘাবরে গেলেও, জ্বীনের কথা শুনে তো ভীষণ খুশী। ভাবলো, এইতো আমার কপাল খুলে গেল। এখন তো যা চাইব, তাই পাব। একটু ভেবে ছেলেটি বলল, ” কি চাই? গুলশানে একটা বাড়ী চাই”। জ্বীন বলল, “গুলশানে একটা বাড়ী ? ‘হু হু হা হা হা”। তার পরপরই সজোরে একটি চড় কষিয়ে দিল ছেলেটির গালে। ছেলেটিতো হতবাক, “চড় মারলেন কেন?” জ্বীন বলে, “ব্যাটা গর্ধভ, গুলশানে একটা বাড়ীই যদি করতে পারতাম, তবে কি ৫০০ বছর ধরে বোতলের মধ্যে থাকতাম?”

মন্তব্য

৭৪১ বার দেখা হয়েছে

১১ টি মন্তব্য : “কিছু কৌতুক”

  1. রকিব (০১-০৭)

    :)) :)) :))
    বাচ্চা ভয়ংকর, কাচ্চা ভয়ংকর। কাছেই এক বড় ভাই থাকেন, উনার দুটো ছানা আছে, এদুটোকে আমি প্রশ্নবাণের কারণে নিদারুণ ভয় পাই। 😕


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।