বিশ্বকাপ পোস্ট-৪ : রইল বাকি চার

এই বিশ্বকাপ নিয়ে আর কোন পোস্ট করব না বলে ঠিক করেছিলাম আমার আগের পোস্টেই (কেউ তো আমার লেখা পড়ে না সেটাই কারন), কিন্তু আসলে কোয়ার্টার ফাইনালে দুইটা বেশী জোস ম্যাচ আর আর্জেন্টিনা-ব্লাজিলের বাই বাই বলার কারণে না লিখে থাকতে পারলাম না। এই দু’দলের কেউ একজন থাকলে ব্লগ আর ফেসবুকে ঢুকা যায় না স্প্যামিং এর কারনে (ভুভুজেলার মত), মনে হচ্ছে বাকি বিশ্বকাপ একটু শান্তিতে দেখা যাবে।

চারটা ম্যাচ হয়ে গেল গত কয়দিনে, আর বাকি আছে চারটা ম্যাচ। এই পর্যায়ে এসে প্রেডিকশন করাটা অসম্ভব, প্রথম আলোর কপি-পেস্ট এক্সপার্টরা যদিও এখনো তাদের মতই চালায়ে যাবে আর এদের সাথে পাল্লা দিবে জার্মানীর একটা অক্টোপাস। এই বেচারা অক্টোপাস অনেক হিট হয়ে গেছে দুইটা ম্যাচে জার্মানীকে জিতিয়ে দিয়ে যদিও আমার বিবিসির নিউজ ক্লিপ দেখে মনে হয়েছে জার্মানীর পতাকার উজ্বল রঙের কারনেই জার্মানীর বক্সে বারবার অক্টোপাসের এত আকর্ষন। ইউ এস এ কিংবা সাউথ আফ্রিকার ফ্ল্যাগওয়ালা বক্স দিয়ে একবার দেখলে হত। অবশ্য অক্টোপাস যেন বারবার জার্মানীর বক্সে ঢুকে এই ট্রেনিং দেয়াটা খুব একটা কঠিন না, মাসলো সাহেব তো একটা থিওরী দিয়ে গেছেই।

যাইহোক, প্যাচাল বেশি হয়ে গেছে, প্যাচালের দ্বিতীয় পর্বে চলে যাই, ভূমিকা ছাড়াই।

নেদারল্যান্ডসঃ এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল, মিডিয়া এতদিনে বিশাল মাতামাতি শুরু করে দিয়েছে কিন্তু অনেক কারনেই এদের খেলা আমার কখনোই ভালো লাগে নাই। ব্রাজিলের সাথে যে ম্যাচটা জিতলো সেটাই কি খুব ভালো খেলেছে? প্রথম হাফের অর্ধেক খেলা দেখে টিভি থেকে উঠে গিয়ে গোল ডট কমের লাইভ কমেন্ট্রি দেখা শুরু করেছিলাম, এত ফাউল আর এলোমেলো খেলা হয়েছিল। পরে যদিও আবার দেখা শুরু করেছি কিন্তু কখনোই ভালো লাগে নাই। সবচেয়ে বড়ো কমপ্লেন হল যখন তারা ২-১ এ এগিয়ে আর ম্যাচের শেষের দিকে, সে সময় যেকোন বড় দলই ম্যাচ কন্ট্রোলে রেখে খেলতে পারে কিন্তু হল্যান্ড পারে নাই। প্রচুর ভুল পাস তো ছিলই, ব্রাজিল নার্ভাস না হয়ে পরলে গোল হয়ত খেয়েও যেত। শেষ দিকে ভ্যান বোমেলের চেহারা দেখেই বুঝা গেছে সেটা, রেফারীকে বারবার কত সময় আছে মনে করিয়ে দেয়া কি দরকার?

আমার মতে হল্যান্ড এখনো টীম হিসেবে খেলতে পারে নাই, স্নাইডারের ছাড়া ছাড়া ঝলক আর কিউটের লক্ষ্যহীন দৌড়াদৌড়ির মাঝে রোবেন একাই যা সামলিয়ে যাচ্ছে। মিডফিল্ডে ভ্যান বোমেল আর ডি জং – এই দুজন অবশ্য তাদের কাজ ভালো মতই করছে এখন পর্যন্ত, ডাচ ডিফেন্স কখনোই ভালো কিছু ছিল না তাই মিডফিল্ডের এই কাভারটা যথেস্ট বলতে হবে। ডি জং মনেহয় সেমিফাইনাল খেলবে না, এজাক্সের ডি জিউকে দেখা যেতে পারে সেখানে অথবা ভ্যান ব্রঙ্কহর্স্টও শিফট করে চলে আসতে পারে। উরুগুয়ের সাথে হল্যান্ড হয়ত ফেভারিট, কিন্তু ম্যাচটা একতরফা হবে না বলেই বিশ্বাস।

ব্রাজিলঃ প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ আর ব্রাজিল বাদ, চিলির সাথে ম্যাচটা ছাড়া ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের দল বলে মনে হয় নাই আমার কখনো। এই ম্যাচটা হেরেছে অবশ্যি নার্ভাসনেসের কারনে, কিন্তু ডুঙ্গাকে আমি এর অনেকখানি দোষ দিব। প্রথমত, রিজার্ভ বেঞ্চের অবস্থা খুব বাজে ছিল ব্রাজিলের, ডুঙ্গা হয়ত শুধু ১১টা প্লেয়ার নিয়েই সব প্ল্যান করেছিল। না হলে এলানোর বদলে আলভেসকে খেলতে হয় না, আনফিট কাকাকেও আউট অফ পজিশন খেলতে হয় না, পিছিয়ে পড়ার পরেও যে ফর্মেশন টুইক করে খেলা গুছানো যায় বেঞ্চের বাজে অবস্থার কারনে সেটাও ডুঙ্গা করে নাই।একটা সেন্ট্রাল মিডফিল্ড জেনারেলের অনেক দরকার ছিলো জাভি কিংবা পিরলোর মত, ডুঙ্গা তো এরকম কোন প্লেয়ার নেয়ই নাই বিশ্বকাপে কিভাবে নামাবে! ব্রাজিলকে নিয়তে ডিটেইল একটা পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা আছে পরে। আর একটা কথা, পরের বিশ্বকাপের হোস্ট ব্রাজিল, সেখানে মনে হয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেতে পারে।

উরুগুয়েঃ ধারাবাহিক ভাবেই ভালো খেলে এরা এখন শেষ চারে, এবং শুধু ঘানাকেই দেখলাম উরুগুয়েকে মাঝে মধ্যেই বিপদে ফেলতে। লুগানো, ফোরলান, সুয়ারেজ এরা যার যার মত ভালো পারফর্ম করলেও উরুগুয়ের কিছুটা এলোমেলা খেলার কারন আমার কাছে মনে হয়েছে নার্ভাসনেস। মাঝের সারির একটা দলের জন্য সেমিফাইনালে যাওয়া অনেক বড় ব্যাপার, নার্ভাসনেস অবশ্যই খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে। আশা করি সেমিফাইনালে এরকম কিছু দেখা যাবে না। আর একটা কথা, পেনাল্টিতে এদের পারফরম্যান্স বেশ ভালো, সেমিতে হল্যান্ডকে ১২০ মিনিট ঠেকিয়ে দিতে পারলে উরুগুয়ে টাইব্রেকারও জিততে পারে, আর স্টেকেলেনবার্গের চেয়ে মুসলেরা যে ভালো এ ব্যাপারে কারো কোন দ্বিমত থাকার কথা না। সেমিতে উরুগুয়ের দুর্বলতা হল সুয়ারেজ না খেলা, প্লাস লুগানো আর গোডিনও শুনলাম ইনজুরিতে। ফোরলানের উপর দিয়ে অনেক ঝড় যাবে, প্রচুর বাজে ট্যাকল খেতে হবে।

ঘানাঃ কোয়ার্টারে না জেতা ঘানার জন্য দুর্ভাগ্য সুয়ারেজ স্ট্রাইকার থেকে গোলকীপার হয়ে যাওয়ার পর, যেখানে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন অনেকখানিই নিজেদের কাছে রেখে দেয়ার পর। যদিও মিডফিল্ডে পারে নাই, কিন্তু দ্রুত এটাকে গিয়ে ভালোই সুযোগ বের করতে পেরেছে। সত্যি কথা বলতে, ঘানা হাফ চান্স থেকে গোল বানাতে পারে না আর ফুল চান্স অনেক গুলা মিস করে, তাই সেমিতে ঘানা খেলবে এটা ভাবতেও ঠিক ভালো লাগে না। গ্রুপের ম্যাচগুলোতে তো কিছুই খেলে নাই ঘানা, নকআউট রাউন্ড থেকে ঘানাকে একটু গুছিয়ে উঠতে দেখা গেছে। যাই হোক, বেটার লাক নেক্সট টাইম, আফ্রিকা থেকে ঘানা আর আইভরি কোস্ট এই দুটা দলই যা ভালো খেলে। মুনতারি আর আপ্পিয়াফ যে দলের বেঞ্চে থাকে, ঘানার শক্তি এখানেই বুঝা যায়। এছাড়া ক্যামেরুন কিংবা টোগো তো পুরাই ওয়ান ম্যান টিম। এই বিশ্বকাপের পর কয়েকজন প্লেয়ারের ভালো কোন ক্লাবে যাওয়া অবশ্যই উচিত, যেমন জন মেনসাহ (লিওন), প্যান্টসিল (ফুলহাম), বোয়েটাং (পোর্টসমাউথ)। ডমিনিখ আডিয়াহ এসি মিলানে খেলবে সামনের সিজনে, চার বছরে আসোমোয়াহ গিয়ানের চেয়ে অনেক ভালো ফিনিশার হবে ছেলেটা।

জার্মানীঃ খেলার শেষে গোল ডট কম একটা রিপোর্ট করেছিল, যার হেডলাইন ছিল অনেকটা এরকম – আমরা আর কতবার জার্মানীকে ফেভারিট হিসেবে ধরব না? আসলেই, জার্মানী খুব কমবারই ফেভারিট হয়েছে কিন্তু বিশ্বকাপে এরা পুরাই আলাদা একটা দল। জোয়াকিম লো একজন ম্যাজিশিয়ান, ক্লোসা আর পোডলস্কি কে নেয়ার ঝুকি তো ছিলই, কিন্তু আমি লো কে কৃতিত্ব দিব জার্মান ফুটবল স্টাইল অনেক চেঞ্জ করে দেয়ার জন্য। গতবারের চেয়ে সুয়ানস্টাইগার এখন অনেক বেশী কন্ট্রোল্ড, আর সামনের ওজিল, মুলার আর পোডলস্কির সাথে মনেহয় টেলিপ্যাথি আছে না হলে এতো সুন্দর ম্যাচ রিড করতে আমি খুব কম প্লেয়ারকেই দেখেছি (লিভারপুল/রিয়ালের জাবি আলোনসো এরকম একজন)। ওজিল আর মুলারকে নিয়ে তো সবাই বলছে, আমি সবচেয়ে অবাক হয়েছি পোডলস্কির খেলা দেখে, এই প্লেয়ারটার নাকি ফর্ম নাই! জার্মান ডিফেন্সও অসাধারন, সবাই রোল প্লে করে এখানে। লাম, মার্তেসাকার আর নয়েয়ারকে নিয়ে চিন্তা নাই, লেফটে বোয়েটাং কোন ভুল না করলে স্পেনের দৌড় সেমিফাইনালের পরে আর যাবে না। জার্মানীর আর একটা প্লাস পয়েন্ট হল এদের স্মার্ট পাসিং, ইংল্যান্ডের সাথে বেশ কয়েকবার দেখা গেছে যেটা, স্পেন বা যে কারো ডিফেন্স কোন ভুল না করলেও এরা সুযোগ বের করে নিয়ে আসতে পারবে।

আর্জেন্টিনাঃ আসলে আর্জেন্টিনার বেশী দোষ নাই, জার্মানী এদের খেলার জন্য কোন স্পেস ছাড়ে নাই। ম্যারাডোনা একজন গ্রেট মোটিভেটর, কিন্তু ট্যাকটিকালি জার্মানদের চেয়ে পিছিয়ে ছিল কোন সন্দেহ নাই। এখনকার যুগে আসলে ইমোশন বেসড ফুটবলের কোন দাম নাই, বরং নিজেরা কেমন খেলব সেটা ভাবার চেয়ে অপোনেন্টকে কিভাবে আটকাতে হবে সেটাই প্ল্যান করতে হয় (ব্রাজিলের জোগা বোনিতোতে আহামরি কোন ফল আসতো না)। জ্যানেত্তি আর ক্যাম্বিয়াসোকে আর্জেন্টিনা মিস করবে বলেছিলাম আগের কোন এক পোস্টে, আসলেই করেছে। গুতিয়ারেজ আর ওটামেন্ডি দুজনেই ক্লাস সি ডিফেন্ডার। ডেমিচেলিসের কি হল বুঝলাম না, বায়ার্নে তো সে একটা হিরো। ডিফেন্স পুরোটাই অবহেলা করে গেছে ম্যারাডোনা, ডিফেন্সে ভালো প্লেয়ারের চেয়ে আন্ডারস্ট্যান্ডিং লাগে বেশী, যেটাই ছিল না আর্জেন্টিনায় আর এই আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে বলেই উরুগুয়ে কিংবা সার্বিয়া অথবা নিউজিল্যান্ড ম্যাচ পার করে দিতে পারে। দেখি পরে একটা ডিটেইল পোস্ট দিব আর্জেন্টিনাকে নিয়ে।

স্পেনঃ বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে এসে আবার সেই পুরনো স্পেন, ভুল পাস আর আলফাজ একসাথে। দ্বিতীয় হাফে পেনাল্টির ওই নাটক না হলে একটা ভুয়া ম্যাচ হত এটা। পেনাল্টির আগে পরেই কিন্তু খেলা অনেক জমে গেছে। স্পেন তো এমনিতেই নার্ভাস নকআউট স্টেজের কুখ্যাত টিম, দেখা যাক কি হয় জার্মানীর সাথে। নো প্রেডিকশন (ওই অক্টোপাসটা নাকি বলছে এবার স্পেন জিতবে?)। আমি পার্সোনালি বিশ্বাস করি স্পেন এবার বাদ পরবে, এই বিশ্বাসটা আসলে এসেছে পেলের কাছ থেকে। বেটা যাই প্রেডিকশন করে, তাই ১০০% ভুল হয় তাই আমিও নিশ্চিন্তে পেলের উল্টাটা বিশ্বাস করে থাকি। যেমন, এই বিশ্বকাপের আগে পেলে বলছিল ব্রাজিল আর স্পেন ফাইনালে খেলবে, আর ইংল্যান্ডও নাকি অনেক ভালো খেলবে। হেহেহেহে আমার আর কিছু বলার আছে? পেলের প্রেডিকশন নিয়ে একটা লিঙ্ক দিয়েছি নিচে, দেখতে ভুলবেন না।

ম্যাচে আসি, স্পেন খুব একটা ভালো না খেললেও কাজ চালায়ে নিচ্ছে ভিয়া, ইনিয়েস্তা আর জাবি আলোনসোর জন্য, ডিফেন্সও অনেক ভালো। পুয়োল তো তার মতই, পিকেও ভালো খেলছে। কাপডেভিলা অনেক আন্ডাররেটেড প্লেয়ায় রামোসের জন্য, নেক্সট ম্যাচে একে ভালো মত দেখেন, কাপডেভিলাকে আমি কখনো খারাপ খেলতে দেখি নাই। রামোসের কথা যেহেতু আসলো, আমি মুগ্ধ আবার রামোসকে দেখে, যেরকম ওভারল্যাপ করে উঠে (স্পেনের অর্ধেকের বেশী এটাক রামোসের বানানো), আবার দ্রুত নিচে এসে কাউন্টার এটাক ক্লোজ করে। আর একজন পাওলো মালদিনি ইন মেকিং। স্ট্রাইকফ্রন্টে নাকি আনফিট তোরেসকে না খেলিয়ে ফাব্রেগাসকে খেলাবে শুনলাম। আমার মতে ফর্মেশন না ভেঙ্গে তোরেসের জায়গায় ফার্নান্দো লরেন্তেকে খেলানো উচিত, জার্মানদের কে কমপক্ষে ৪৫ মিনিট নাচাতে পারবে আর পরে ফ্যাব্রেগাসকে নামাতে পারে। বাসকোয়েতের বদলে ফ্যাব্রেগাস নামলে কেমন হয়? ৪-৪-২ তে তাহলে জাভি আর জাবি আলোনসো একটু নিচে নেমে পাস থ্রো করতে পারে, আবার সামনে তো ইনিয়েস্তা আর ফাব্রেগাস থাকবেই। ভিলা বাম দিকে লাম আর মার্তেস্যাকারের কড়া মার্কিংএ থাকবে বলে ডান দিক থেকেই সেফ বেশি। ৪-৪-২ একটু রিস্কি হয়ে যায় জার্মানীর সাথে অবশ্য, পুয়োল আর জাভির মাঝের স্পেস একটু বেশি হয়ে গেলেই ওজিল ম্যাচ ঘুরায়ে দিবে।

প্যারাগুয়েঃ যে কারনে স্পেনকে আবার পেনাল্টি নিতে হয়েছে, সেই একই কারনে রেফারীরও উচিত ছিল প্যারাগুয়েকে আবার পেনাল্টি দেয়া। যাই হোক, যদিও আগের ম্যাচটা ক্লোজ ছিল অনেক, কিন্তু বিশ্বকাপের পারফর্মেন্স অনুযায়ী তাদের কোয়ার্টার ফাইনাল ঠিকই আছে, সেমিফাইনাল একটু বেশী হয়ে যেত। আর একটা কথা, ভালদেসের যে গোলটা বাতিল হল অফসাইডের জন্য, সেটা নাকি অফসাইড ছিল না। আমি এই জিনিষটা ভালো বুঝি না, কিন্তু রিপ্লে থেকে অফসাইড কেন হবে না এটাই বুঝলাম না। কারদোসো অফসাইডে ছিল, আর বলের জন্য লাফও দিয়েছে ক্যাসিয়াসের সামনে থেকে, সো ভালদেস পাওয়ার আগেই তো অফসাইড। কমেন্টেটররা কি কি বুঝে কে জানে!

শেষ করার আগে আর একটা কথা, মেক্সিকোর সালসিদোর খেলা কেমন লেগেছে সবার? আমার কাছে এই বিশ্বকাপের সেরা লেফট ব্যাক, আর রামোস সেরা রাইট ব্যাক। এত কিছু বাদ দিয়ে উইং ব্যাকের কথা বললাম এর কারন হল, আমার মতে, মিডফিল্ড আর স্ট্রাইকার যত ভালো হোক, উইং ব্যাক হল একটা দলের প্রপেলার।

পেলের সেই বিখ্যাত প্রেডিকশন সমগ্র

বা বাই আজকের মত।

১,৩২৩ বার দেখা হয়েছে

৯ টি মন্তব্য : “বিশ্বকাপ পোস্ট-৪ : রইল বাকি চার”

  1. তানভীর (৯৪-০০)

    স্পেনের খেলা এখনও আমাকে মুগ্ধ করতে পারেনি, একই কথা প্রযোজ্য নেদাল্যান্ডস এর জন্যও। আরও বেশি ছন্দ আশা করেছিলাম দুই দলের কাছ থেকে। স্পেনে টরেসের অফ ফর্ম মনে হয় এর জন্য কিছুটা দায়ী, আর নেদারল্যান্ড-এ ভ্যান পার্সির ফর্ম।

    জার্মানীর খেলা মুগ্ধ করেনি এমন দর্শক খুব কম পাওয়া যাবে। ওদের খেলার ধরণ ভালো লেগেছে আমার, তার চেয়েও বেশি ভালো লেগেছে কম বয়সী খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত পার্ফরমেন্স। এরা সামনে অনেকদিন একসাথে খেলার সুযোগ পাবে, যা ওদেরকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

    বাসকোয়েটস এর জায়গায় ফাব্রেগাসকে নামালে খুব বেশি রিস্ক হয়ে যাবে, কারণ তখন স্পেনের রক্ষণভাগ একটা দুর্বল হয়ে যাবে। পুয়োল খুব ভালো ফর্মে নাই, ওকে কাভার দেয়ার জন্য বাসকোয়েটস বেশ ভালো খেলছে, তাছাড়া পিকে প্রায়ই উপরে উঠে যায়- ওকে কাভার দেয়ার জন্যও বাসকোয়েটসকে একটু নিচেই খেলতে হয়! আমি বরং জাভি এলোনসোর পার্ফরমেন্স ওর চেয়ে নিস্প্রভ মনে করি। চেইঞ্জ করলে বরং জাভি এলোনসোকেই করা উচিত।

    সালসিডোর খেলা ভাল লেগেছে, বেশ ভালো খেলেছে ও। এই বিশ্বকাপে লেফট-ব্যাকদের চেয়ে রাইট-ব্যাকদের পার্ফরমেন্স অনেক বেশি ভালো, বিশ্বে এই মুহূর্তে ভালো লেফট-ব্যাক কম আছে বলেই এই অবস্থা!

    দেখা যাক, সামনে কি হয়! হয়তো কোন অঘটন ঘটেও যেতে পারে! 🙂

    জবাব দিন
    • রাকেশ (৯৪-০০)

      ভ্যান পার্সির বদলে হান্টেলার কেমন হয়? বেচারা গত সিজনে বেশী ম্যাচ খেলে নাই, তারপরও হল্যান্ডের সেকেন্ড স্ট্রাইকার। জার্মানী নাকি আন্ডার-১৯, ২১, ২৩ সবগুলাতেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শুনলাম, তাহলে তো খুব ভাল। তাই যদি হয়, তাহলে বলব একমাত্র জার্মানীই ইউরোপে নতুন প্লেয়ার বানানোর ফ্যাক্টরি হিসেবে কাজ করছে, যেটা ভালো হবে না সেটা হবে ওজিল, মুলার কিংবা সুয়েনি যদি বুন্দেসলীগাতে না খেলে।

      জাবি আলোনসোর কথা বললাম কারন মিডফিল্ড থেকে প্রচুর পাস জেনারেট করে সে, আর বাসকোয়েটকে বসালে তো আলোনসো আর জাভি দুজনকেই নিচে নেমে খেলতে হবে, যেটা এরা পারেই। একটা সম্ভাবনা, তোরেস কিংবা লরেন্তে যেকোন কাউকে দেখতে চাই তাই।

      জবাব দিন
  2. আন্দালিব (৯৬-০২)

    স্পেনের খেলা পর্তুগাল আর প্যারাগুয়ে দু'জনের সাথেই আমার কাছে একটু একঘেঁয়ে মনে হয়েছে। ফর্মেশনের প্যাঁচ বেশি বুঝি না, তবে মনে হয়েছে সব আক্রমণগুলো তৈরি হয়ে ডিবক্সের কাছে গিয়ে হারায় যায় (এটা পর্তুগালের ডিফেন্সের কৃতিত্ব হতে পারে)। আর ইনিয়েস্তা-জাভি-ভিয়া এই তিনজনের পাসিং দুর্দান্ত, খালি একটু ধীরে সুস্থে করে বলে বেশিরভাগ সময়ই ডিফেন্স মাঝখানে এসে ক্লিয়ার করে দেয়। জার্মানির তিনজনের (ওজিল-মুলার-পোডোলস্কি) পাসিং এই দিক দিয়ে অনেক দ্রুত।

    হল্যান্ডের গ্রুপের খেলাগুলো কেমনে কেমনে জানি মিস করেছি নানান কাজে। নকআউটের দুইটা ম্যাচেই আমার মনে হলো ওরা অনেক প্র্যাকটিক্যাল খেলা খেলে, কারিগরি নাই, সৌন্দর্য নিয়ে মাথাব্যথা নাই। খালি 'মেইক দ্য জব ডান" ধরনের। এক কথায়, হল্যান্ড এই বিশ্বকাপের 'জার্মানি', আর জার্মানি এই বিশ্বকাপের 'ব্রাজিল' (দল হিসাবে)।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।