লটারীর টিকেট ও কলেজ পিকনিক

“রাফায়েত!!!!!! কয়টা টিকিট কিনবা তুমি? ”
ক্লাস টুয়েল্ভের বড় ভাই হঠাৎ এতো সোহাগ করে কথা বলছে! বিশ্বাস হচ্ছে না। একটু ইতস্ততঃ করে বললাম, কিসের টিকিট ভাই?
আরে বেটা পিকনিক না শুক্রবার! শোন, পিকনিকে লটারি হবে, অনেক বড় বড় পুরষ্কার আছে! আর ক্যাডেট তো মাত্র তিনশো, কিনলেই পাবা!
সিনিয়র ভাই বলছে,তাইলে তো শিউর পামু! আগ্রহ নিয়ে বললাম, ভাই টিকিট কত করে?
২০ টাকা মাত্র। কয়টা নিবা?
মানে,ভাইয়া বিশ টাকা একটু বেশি হয়ে যায় না? চিন্তা করলাম এই টাকায় তো দুইটা কোক খাওয়া যায়।
আরে পুরষ্কার পাবা ১০ লিটারের বোতল! তখন বুঝবা কেন সিনিয়র ভাইদের কথা শুনতে হয়!
অতি যৌক্তিক কথা, বললাম ৬ টা কিনব।
সম্বলের ১২০ টাকাই শেষ। সিনিয়র ভাই অত্যন্ত খুশি। খুশির চোটে আমাকে আরও ৩ টা টিকিট ফ্রী দিয়ে গেলেন। টিকিট খানা হাতে নিয়ে দেখলাম, মূল্য মাত্র ৩ টাকা! এইডা কিছু হইল?
দৌড়ায় সিনিয়র ভাইয়ের রুমের সামনে গিয়ে “মে আই কাম ইন প্লিজ ” বলে চিল্লাচ্ছি। ভেতর থেকে আওয়াজ, আরে রাফায়েত! কি ব্যাপার?
আমি একটু ভয়ে ভয়ে বললাম, ভাই টিকিটের দাম তো তিন টাকা লেখা!
শুনে উনার আর হাসি থামেনা। আরে বেটা যাই দেখ তাই বিশ্বাস কর? টিকিট দেখবা অনেকে পঞ্চাশ টাকা দিয়াও কিনবে! তুমি জিতছ। আস্তে আস্তে দেখবা দাম কেমনে বাড়ে! যাও ঘুমাও গিয়া। আর পুরষ্কার পাইলে কি খাওয়াবা চিন্তা কর!
কিছুটা অবিশ্বাসের সাথে রুমে গেলাম,তখন দেখি আরেক বড় ভাই টিকিট বেচতেছেন ১৫ টাকা পিস!! মাথা তো আমার আউট! আবার দৌড়ালাম সেই রুমে, ভাই টিকিটের দাম তো ১৫!
“তুমি আমার রুমে পারমিশন ছাড়া আসলা কেন? স্টার্ট ফ্রগজাম্প!”
ফ্রগজাম্প করে করে রুমে যাচ্ছি আর ভাবছি এতোটাই বেকুব আমি?

শুক্রবার আসল।
পিকনিক এর বাসে বসে আছি। আমার পাশে বেস্ট ফ্রেন্ড। সে এখনো টিকিট কিনেনাই। এমন সময় সেই বড় ভাই আসল আবার, হাতভর্তি টিকিট, ” আখলাক টিকিট কিনবা? ”
“কত করে?”
“চার টাকা! ”
“ঠিক আছে দশ টা দেন। ”

দুই বন্ধু পাশাপাশি বসে আছি। আমি সম্বলের সব টাকা দিয়ে ৯ টা টিকিট আর আখলাক ৪০ টাকায় ১০ টা টিকিট নিয়ে বসে আছে এমন সময় কালচারাল প্রিফেক্ট আসলেন “স্টার টিকিট “নিয়ে যার মর্মার্থ হল পুরস্কার নিশ্চিত! বন্ধু আখলাক ৫০ টাকায় একটা স্টার টিকিট কিনল আর আমি আমার টিকিট গুলোর দিকে তাকায় ভাবছি, ঈমানদারের টাকা জলে যায় না!

পিকনিক শেষ, লটারী ও শেষ। ফেরার পথে বাসে বসে আছি। আমার পাশে আখলাকের ৩য় পুরস্কার সহ আরো তিনটা প্যাকেট। সাবান, কোক, শেভিং ফোম বের হলো, খুব খুশি সে।

আমিও খুশি। সাবান তো আমি দেইইনা। কোক কে খায়? সব দুই নাম্বার জিনিস! আর শেভ করার তো বয়স ই হয় নাই!

যাবার পথে আমাদের বাস টা ক্লাস টুয়েল্ভের বাস কে ক্রস করল। তাকিয়ে দেখলাম সেই বড় ভাই খুব হাসছে আর কি যেন বলছে।
কি বলছে? হয়তো বলছে রাফাইত্তা রে কি একটা মফিজ বানাইলাম! মফিজ হয়তো হইছি, কিন্তু এইটা চীরসত্য না। চীরসত্য হইলো, আংগুর ফল টক।
আর চির শিক্ষা হইলো, কখনোই লটারীর টিকিট কিনবো না।

৭৯৮ বার দেখা হয়েছে

২ টি মন্তব্য : “লটারীর টিকেট ও কলেজ পিকনিক”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।