‘বিতংস’-এর বঙ্গবিজয়

বইটিকে দু’মলাটের মধ্যে রেখে পড়া হয়নি, আদ্যোপান্ত-পড়াও হয়নি।
এই সিসিবিতেই উঁকি দিয়ে পড়ে গেছি কখনো সখনো; ফাঁকিবাজ বলে, পরিশ্রমী পাঠক নই বলে সযত্ন মন্তব্য বা পাঠপ্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি সেভাবে।
তবু, ‘বিতংস’ উপন্যাসটি কি করে যেন আমার হয়ে গেছে, নিজের অজান্তেই। অত্যন্ত আগ্রহের সাথে অনুসরণ করছিলাম ব্লগপাতায় প্রকাশিত হতে থাকা কালো কালো অক্ষরসমূহের বিবর্তন।

সিসিবির পাতায় উপন্যাসটির নানান পর্বগুলোতে আমাদের সদস্যরা আগ্রহোদ্দীপ্ত মন্তব্য দিয়ে লেখকের সংগে সক্রিয় কথোপকথন চালিয়ে গেছেন। সবথেকে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হচ্ছে এ বইয়ের প্রচ্ছদশিল্পী সামিয়া।

অত্যন্ত আনন্দের সংগে সিসিবিকে জানাচ্ছি যে, ‘বিতংস’ ২০১৩ সালের কালি ও কলম পত্রিকা প্রবর্তিত তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার অর্জন করেছে। ওয়াহিদা আফজা(যাকে আমরা অনেকেই শান্তা বলেও জানি)-কে সিসিবির পক্ষ থেকে অশেষ অভিনন্দন।
তুমি আমাদের অহংকার শান্তা! তোমার সাফল্যের মুকুটে অগণণ পালক যুক্ত হতে থাকুক।

সিসিবিকেও অভিনন্দন শান্তার সাফল্যমণ্ডিত এ প্রয়াসের সংগে শুরু থেকেই যুক্ত থাকার জন্যে। এ প্রাপ্তি আমাদের সবার! আসুন উল্লাস করি, শ্যাম্পেন খুলে পথে নামি।

১,০৫০ বার দেখা হয়েছে

৭ টি মন্তব্য : “‘বিতংস’-এর বঙ্গবিজয়”

  1. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    ধন্যবাদ নূপুর'দা। নানাবিধ কারণে চেয়েছিলাম ব্লগ থেকে দূরে থাকব - অন্তত ছয় মাসের জন্য। তা কী আর পারা গেল?
    এই ব্লগের জন্য আমার লেখক হওয়ার প্রচেষ্ঠা এখনও রয়ে গেছে। খবরটা শুনে একটা কিছু লিখেছিলাম। তবে তা আর ব্লগে পোষ্ট করতে ইচ্ছে করেনি। এখন করলাম।

    -------------------------

    মাঝে মধ্যে ভোরটা অন্যরকম হয়ে যায়। ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কোন এক বর্ষায় রোপা শেফালি গাছের তলাটা সাদা হয়ে গেছে। চারদিকে আলতো মৌ মৌ সুগন্ধ - জেসমিন সেন্ট অনবরত যার অনুকরণ করে চলছে। না, এই ক্যালিফোর্নিয়ায় নানান জাতের জেসমিন দেখলেও কখনও শেফালির দেখা মেলেনি। তারপরও আমার কল্পনায় বার বার ফিরে আসে সেই ছোট্ট কমলা বোঁটার মাথায় লাগানো নরম, সিগ্ধ, সতেজ, নরম আর শুভ্র অনুভূতি। এই প্রবাসে আমরা আসলে নিজেদের অলক্ষ্যে অনুভূতির মোড়কে ছোট্ট এক টুকরো বাংলাদেশকে আমাদের সাথে করে নিয়ে আসি। নিত্য-নৈমত্তিকভাবে আমাদের ডাইনিং টেবিলে রান্না করা নানান পদের মাঝে সে বাংলাদেশ ভেসে উঠে; আমাদের ক্লজেটে হ্যাঙ্গারে ঝুলে থাকা লাল পাড় দেওয়া সাদা, সবুজ আর বাসন্তি শাড়ির মধ্যে দিয়ে এক ঝলক সে বাংলাদেশ উঁকি দিয়ে যায়। আমরা স্ট্রবেরির সাথে লবণ-মরিচ মাখিয়ে কামরাঙ্গার স্বাদ খুঁজে নিই; এ্যসপ্যারাগ্যাস দিয়ে লতি-শুঁটকীর সিমুলেশন করি; বীট কুঁচি-কুঁচি করে কেটে লাল শাকের পদ বানাই; স্পিনাচ আমাদের পালং শাকের দুঃখ ভুলিয়ে দেয়। আর চারপাশের পরিচিত বাংলাদেশী মুখগুলো আমাদের খুব আপন হয়ে যায়। প্রবাসীদের সপ্তাহান্তের দাওয়াতগুলো আসলে এক ঝলক বাংলাদেশে ডুব দিতে চাওয়ার ভ্যারচ্যুয়াল রিয়েলিটি। আমরা কখনও খুব আমেরিকান হতে চেয়েছি, কখনও খুব অ্যারাবিয়ান হতে চেয়েছি - কিন্তু কখনও কি পেরেছি সম্পূর্ণভাবে শেকড়ের টান অস্বীকার করতে? চাইলে খুব সহজেই খোলস বদলে ফেলতে পারবে - স্রষ্টা বোধহয় মানুষকে সে ক্ষমতা দেননি। তাই একটা সময় আমরা অনুভব করি সাফল্য মানে শুধু উপরের দিকে বেড়ে চলা নয়, নিজের ভেতর এক উপলদ্ধির গভীরতা সৃষ্টি করাও। নইলে এক ধরণের অস্থিরতা আমাদের ভ্যারচ্যুয়াল বন্দর থেকে বন্দরে ভিড়িয়ে নেয়, আমরা কোথাও সুস্থির হয়ে নোঙ্গর ফেলতে পারিনা। কিন্তু যখন পারি তখন আমাদের উপলদ্ধি তার গভীর সুরঙ্গ শেষে এক ঝলক আলোর দেখা পায়। আমরা অনুভব করি এক অনাবিল প্রশান্তি, নিরবিচ্ছিন্ন সুখ ক্রমশ আমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলছে।

    এই লেখাটা শুধু করেছিলাম এক ভোরের গল্প দিয়ে। আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে আমার ভোরের গল্প। প্রায় প্রতিদিনই আমি ভোর হওয়া দেখি। তখন আমার চারপাশ থাকে নিস্তব্ধ। বর-বাচ্চা সবাই অঘোর ঘুমে। সেইসব ভোরগুলোতে কখনও কখনও ল্যাপটপে ঠুকঠাক করতে করতে গল্পের আসর বসিয়েছি। কখনও পুবের গল্প করেছি, কখনও পশ্চিমের। সেসব গল্প সেকাল আর একাল দুই'ই উঠে এসেছে। কখনও বলেছি আমার গল্প, কখনওবা দেয়া বা হিরণ ভাইয়ের গল্প। আমার সেসব গল্পের আসরে তোমরা কখনও উঁকি মেরেছ - কিম্বা কখনও দু'হাত গালে দিয়ে বসে পরেছ। কেন এই গল্প বলা তার উত্তর জানা নেই। শুধু জানা আছে আমার সেই গল্পে তোমরা যখন আগ্রহ দেখাও আমার খুব ভালো লাগে। আজ ভোরটা অন্যরকম ভালো লাগার। হঠাৎ একটা নিমন্ত্রণ পত্র পেলাম। বিতংসের জন্য।


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন
  2. সামিউল(২০০৪-১০)

    আপার "বিতংস" পড়ে ফেলেছি কয়েকদিন আগে। অদ্ভুত সুন্দর লেগেছে। খুব ব্যস্ত থাকার কারণে ওনাকে জানাতে পারিনি।
    তবে উনি আমাকে ঠিকই উনার পুরস্কার পাওয়ার খবর জানিয়েছেন।

    উনি আমাদের গর্ব। অনেক অনেক অনেক অভিনন্দন আপা। :clap: :boss: :boss:


    ... কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।