অন্য বসন্ত

ছেলেটি অসম্ভব চুপচাপ ধরনের ছিলো।।কিন্তু প্রচন্ড ভালোবাসতো মেয়েটিকে।।মেয়েটির কোনো আবদার কখনো অপূর্ণ থাকতে দিতোনা সে।।শুধু একটা হাসিকে জুড়ে ছিলো তার জগতের সব চাওয়া পাওয়া।।তার মুখে হাসি ফোটাবার জন্য এমন কিছু নেই যা সে করতোনা।।তার মলিন মুখ দেখলে ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে উঠতো ছেলেটি।।সত্যিই অনেক বেশি লাকি ছিলো মেয়েটি।।আজকালকার যুগে কেই বা এমন করে ভালোবাসতে পারে।
মেয়েটি ছিলো বড্ড বাচ্চা বাচ্চা।।জগত সংসার সম্পরকে খুব কম বুঝতো।।ছোট্ট কারনেই মন খারাপ করতো আবার অনেক কিছু হলেও যেনো কিছুই হতোনা।।তার মায়াকাড়া মুখের দিকে চাইলে যে কেউই তার সরলতাকে অবলোকন করতে পারবে।।ভালোবাসা বোঝার মত ক্ষমতা তার ছিলোনা।।তবে এটা বুঝতো যে কেউ একজন তাকে অনেক care করে,তার সুখে হাসে,দুঃখে কাদে।।এই মায়াটাকে সে ছাড়তে পারতোনা কখনো।।কিংবা হয়তো তার অবচেতন মন অপেক্ষা করতো যে ছেলেটা তাকে কিছু বলবে!!
ছেলেটির কোনো তাড়া ছিলোনা।।মেয়েটার সাথে কাটানো কিছু মুহূরত,কিছু ভালো লাগা ঘেরা সন্ধ্যা,একটুখানি দুষ্টুমি তার কাছে ছিলো অনেক বেশি কিছু।।সে তাকে ভালোবাসে কি বাসে না তা দিয়ে তার কিছু আসতো যেতো না।।সে নিজে ভালোবাসত আর এটাই তার কাছে ইম্পরট্যান্ট ছিলো যে মেয়েটা যাতে কোনোভাবেই কোনো কষ্ট না পায়।।সেদিকেই ছিলো তার পূর্ণ মনোযোগ।
একদিন পাগলিটা এসে বললো যে সে ইনাম কে ভালোবাসে,ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিলো ছেলেটির।বুঝতে দেয়নি।।অন্যান্য সব আবদারের মতো এবারো তার হাসি ফেরাতে এই আবদার টাকেও রেখেছিলো ছেলেটি।।ইনাম কে বলে এবং মেয়েটির সাথে ইনামের সম্পর্কের শুরু হয়।।মেয়েটা ইনাম কে পেয়ে অনেক খুশি হয়,তা দেখে ছেলেটিও।।তবে রাতগুলো তার কাছে অসম্ভব যন্ত্রণাময় হয়ে ওঠে।।তার ভালোবাসায় তো কোনো খাদ ছিলোনা।।তবে কেনো বুঝলোনা ও।খুব বেশি খারাপ লাগতো ওর।।প্রকাশ করতোনা।
ইনাম আর মেয়েটি অনেক ঘুরাঘুরি করতো।।পাগলি মেয়েটা ছেলেটাকে আর আগের মতো সময় দিতোনা।।কেননা যেটুকু ফ্রি টাইম পেতো বেশিরভাগ সময় ইনামের সাথে থাকতে শুরু করলো।।ছেলেটি একা একা বসে থাকতো।।রাতে নিজের ঘরে মুখ লুকিয়ে কাদতো।।মেয়েটার জন্য প্রতি মাসে সে একটা করে গিফট কিনতো টিউশানির টাকার থেকে।কারন মেয়েটি সারপ্রাইজড হতে অনেক পছন্দ করতো।।হয়তো ইনাম কে পেয়ে এখন আর এগুলো লাগেনা তার আর।।
মেয়েটির যে ঠিক ছেলেটির কথা মনে পড়তোনা তাও না।।বসন্তের কাঁঠালিচাঁপার গন্ধ শুনতেই মনে পড়ে গেলো যে ছেলেটি ভালোবাসে এই ঘ্রাণ,ইনাম পছন্দ করেনা যদিও!!বলতে গিয়েও বললোনা।।পরে ইনাম কষ্ট পাক তাও চায়না সে।।এর আগের বসন্তগুলো ছেলেটির সাথেই কাটিয়েছিলো মেয়েটি।।কিন্তু আজকাল আর তার দেখা মেলেনা খুব একটা।।একসাথে পুকুর পাড়ে বসে কোকিলের গান শুনতো ওরা।।সেই বসন্তগুলো অনেক সুন্দর ছিলো।।কোনো বাঁধা ছিলোনা,যা খুশি তাই করতে পারতো,কেনোনা সাথে ছিলো ছেলেটির আহলাদ আর প্রশ্রয়।।এগুলোকে খুব মিস করতে শুরু করলো মেয়েটি।।ইনাম কে সে পেয়েছে ঠিকই কিন্তু হারিয়ে ফেলেছে তার অনেক বড় একটা সম্পদ,তা সে খুব ভালো ভাবেই বুঝতো।।কিছুই করার ছিলোনা,বাসস্তবতা তো এমনই।।<

ছেলেটি একা একা পুকুর পাড়ে বসে থাকতো।।আর মেয়েটির কথা মনে করে একা একা কাদতো।।কোকিলের গান ও আর ভালো লাগতো।।চারপাশে এতো রং,এতো সুর অথচ কোনো কিছুতেই ছেলেটির অতৃপ্তি ঘুচতোনা।।ওর কিছুই ভালো লাগতোনা।।ধীরে ধীরে নিজেকে অন্যরকম করে বদলে ফেলতে লাগলো।।ফেলে আসা দিন গুলির জন্য হাহাকার তার সব সময়ি তাকে বিমর্ষ করে রাখত।।ছেলেটি প্রচন্ড ভালোবাসতো মেয়েটিকে।।অনেক বেশি।।

সৃষ্টিকর্তা কাউকে কাউকে সৃষ্টি ই করেন একে অপরের জন্য।।মাঝে মাঝে পরীক্ষা করেন আর কি!!৩ বছরের রিলেশন ওদের,অথচ হঠাত মেয়েটি শুনতে পেলো যে ইনাম ঢাকায় গিয়ে কোন এক মন্ত্রীর মেয়েকে বিয়ে করে ফেলেছে।।কি পাঠক,ভাবছেন যে মেয়েটির সেদিন খুব খারাপ লেগেছিলো??
আশ্চর্যজনক ভাবে তা মোটেও লাগেনি।।এই ৩ বছরে সে আর সেই বাচ্চাটি নেই।।সে বুঝতে শিখে গেছে কোনটা শুধুই বন্ধুত্ব,কোনটা মোহ আর কোনটা ভালোবাসা।।বরং মুক্তির আনন্দে সে ছুটে গেলো পুকুর পাড়ে,সেই পুকুর পাড়ে যেথায় সে ছেলেটির সাথে বসে বসে কাঁঠালিচাঁপার ঘ্রাণ শুনত আর কোকিলকে দুজনে মিলে ভেঙ্গাতো।।ছেলেটিও বসে ছিলো,কাদছিলো।।দেখে খুব খারাপ লাগলো মেয়েটির।।কথা দিল আর কখনো ছেলেটিকে একা একা কোকিলকে ভেঙ্গাতে হবেনা।।
সেদিন থেকে আর কোনো বসন্ত ওদের আলাদা দেখেনি…………………।
২,৯২১ বার দেখা হয়েছে

৯ টি মন্তব্য : “অন্য বসন্ত”

  1. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    ছোট্ট ছিমছাপ প্রেমের গল্প।

    কিন্ত তোর প্রতিটি লাইনের পর ডাবল দাড়ি কেন?
    আর যদি কোন ইংরেজী শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজে না পাস, শব্দটা বাংলা হরফেই লিখে দিবি। যেমন কেয়ার! পুরো বাংলা লেখায় একটি শব্দ ইংরেজিতে দেখতে খারাপ লাগছে।

    সিসিবিতে স্বাগতম।
    নিয়মিত থাকিস।


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  2. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    সিসিবি তে সুস্বাগতম! এখানে তোমার বিচরণ দীর্ঘ হোক, স্বচ্ছন্দ হোক, আনন্দময় হোক!
    গল্পের শিরোনামটা সুন্দর হয়েছে। নিটোল, মিষ্টি প্রেমের গল্পটা সবার ভালো লাগবে আশাকরি।
    কথা দিল আর কখনো ছেলেটিকে একা একা কোকিলকে ভেঙ্গাতে হবেনা।।
    সেদিন থেকে আর কোনো বসন্ত ওদের আলাদা দেখেনি…………………।
    -- মধুরেন সমাপয়েৎ।
    গল্প ভালো হয়েছে। :clap: :clap: :clap:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।