আদিবাসী-উপজাতি এবং বাংলার অধিবাসীঃ পর্ব ১

কিছু কথাঃ আমি জানি না আমার এই লেখাটি পোস্ট করা উচিৎ হচ্ছে কি না। এটি একটি বিতর্কিত বিষয়, এবং এর জন্যে বাংলাদেশের মানুষকে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে এবং সেইসাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। এবং ঠিক সেই জিনিসটিই আমার মাথার ভেতরে পোকার মত কামড়ানো শুরু করেছে। পোকাটাকে বের না করা পর্যন্ত কামড়াতেই থাকবে, তাই ভাবলাম বের করে ফেলি। এই লেখার জন্যে অনেকের অনেক রকম প্রতিক্রিয়া হতে পারে, সেটাই স্বাভাবিক। এমনকি আমার মেম্বারশিপ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই সবার কাছে একটা অনুরোধ, পুরোটা (কয়েক পর্বে লিখতে হবে, কারণ বিষয়বস্তু যথেষ্ট বড়, এক পর্বে শেষ করা সম্ভব না) পড়ে তারপরে প্রতিক্রিয়া দেখাই।

আসলে বাংলার ইতিহাস এত বড় যে, তাকে একটি পর্বে শেষ করা তো সম্ভবই না, দু’টি পর্বে শেষ করাটাও বিশাল ঝামেলার ব্যাপার। তাই চেষ্টা করছি লেখাটি যাচাই করার জন্য যতটুকু না বললেই না ততটুকু বলার।

বাংলার ইতিহাস জানার মূল উৎস হল মহাভারত, রামায়ন এবং সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে চর্যাপদ। এবং দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে যে, প্রাচীন বাংলার ইতিহাস অনেকাংশে অস্পষ্ট। বিশেষ করে গুপ্ত শাসনামল পর্যন্ত। গুপ্ত শাসনামলের আগ পর্যন্ত আমরা কোনকিছুই জোর দিয়ে বলতে পারি না। বাংলার ইতিহাস ঘাঁটলে মগধ শাসনামল থেকে বাংলার রাজাদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়। সে হিসেবে মগধদের প্রথম রাজা আবার আরেক কথায় বাংলার প্রথম রাজা হিসেবে বৃহদ্রথ ই সম্মানটা পান। তারপরেই সিংহাসনে বসেন জরাসন্ধ। কিন্তু জরাসন্ধ ঠিক কবে সিংহাসনে বসেছিলেন তা সঠিকভাবে বলা যায় না। আবার এদিক দিয়ে মগধ শাসনামল শুরু হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ১৭০০ সালের দিকে, এবং শেষ হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৭৯৯ সালে। বাংলার ইতিহাসে তারাই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে শাসন করেছিল। তারপরে আসে প্রাদ্যত বংশ। এবং তাদের একটা ভয়ানক নিয়ম ছিলো যে, যুবরাজ রাজাকে নিজ হাতে হত্যা করার পরেই সিংহাসনের দখল পাবে। তাদের পরে একে একে আসে শিশুং, নন্দ, মৌর্য। একটা কথা বলে রাখা দরকার যে, মৌর্য শাসনামলের স্থায়িত্ব কম হতে পারে কিন্তু তাদের সাম্রাজ্যের বিস্তার ছিলো অনেকদূর। পুরাণ ঘাঁটলে পাওয়া যায় যে, বর্তমান বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান তো বটেই সেই সাথে ভূটান, নেপাল, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, ইরান ও তাদের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ছিলো। তারপরে আসে শুং, কণভ, গুপ্ত। গুপ্ত শাসনামলের বিখ্যাত এক রাজার নাম আমরা হয়ত সবাই জানি, চন্দ্রগুপ্ত ২য়, যিনি বিক্রমাদিত্য উপাধি নিয়েছিলেন। তারপরে গৌড়, খড়গ, পাল, চন্দ্র এবং সেন। তারপরেই বাংলায় মুসলিম শাসনামল শুরু হয়। কিন্তু মুসলিম শাসনামলেও কিছু শাসক বাংলা শাসন করেছেন স্বাধীনভাবে। সেন বংশেরই দুজন রাজা বিশ্বরূপসেন এবং কেশবসেন ছিলেন সেন বংশের শেষ দু’জন রাজা। তারপরে আসে দেব বংশ। দেব বংশের দশরথদেব ১২৮১ সাল পর্যন্ত শাসন করেন। তারপরের ইতিহাস আমরা সবাই জানি। এই গেল আমাদের প্রাচীন বাংলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

বর্তমান বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে তাকালে আমরা যা দেখতে পাই তা হচ্ছে প্রাচীন বাংলার অনার্যদের বাসস্থান। এবং আমরাই এই অনার্যদের উত্তরসূরী। আরো ভালভাবে বলতে গেলে আমরাই বাংলার আদিম অধিবাসী বা আদিবাসী। তৎকালীন আর্য সমাজে কতগুলো ভাগ ছিলো ব্রাহ্মণ, বৌশ্য, কায়স্থ এবং শূদ্র। শূদ্ররা অপর তিন শ্রেণীর সেবা করত, মানে সহজ বাংলা কথায় চাকর বলা যায় আর কি। এবং এই চার শ্রেণীর বাইরে যারা ছিলো তারাই ছিল অনার্য। আর আর্যরা অনার্যদের মানুষ বলে গণ্যই করত না, তাদের ধারণায় অনার্যরা ছিলো অসভ্য, বর্বর। দেখুন তো কান্ড! আমাদের এলাকায় এসে আমাদেরই কিনা বর্বর বলে! আর আর্যদের উত্তরসূরীরা হচ্ছে বর্তমান ভারতের উচ্চবংশীয় ব্রাহ্মণ এবং যদি সরাসরি উত্তরসূরী দেখতে চান তাহলে জার্মানদের দিকে তাকান। হ্যাঁ, জার্মানরাই হচ্ছে তথাকথিত সভ্য আর্যদের সরাসরি উত্তরসূরী। আর ভারতের উচ্চবংশীয় ব্রাহ্মণদের সরাসরি উত্তরসূরী বলছি না কারণ, তারা হচ্ছে কনভার্টেড আর্য। বলা যায় আর্যায়িত আর্য। একটু চোখ খুললেই বোঝা যাবে। জার্মানদের শারিরীক গঠন আর ভারতীয়দের শারিরীক গঠন খেয়াল করুন, সহজেই বুঝতে পারবেন।

বাংলায় তখন গোষ্ঠীর নামে রাজ্যের নাম হত। যেমন বঙ্গ, পুন্ড্র ইত্যাদি। প্রাচীন বাংলায় মানে বর্তমান বাংলাদেশে সে সময়ে ৬টি জনপদের নাম পাওয়া যায়। বঙ্গ, পুন্ড্র, রাঢ়, গৌড়, সমতট এবং হরিকেল। তারমধ্যে প্রথম ৪ টি বর্তমানে তেতুলিয়া থেকে মেঘনার এপার পর্যন্ত, সমতট হল কুমিল্লা নোয়াখালী অঞ্চল এবং হরিকেল হচ্ছে চট্টগ্রাম অঞ্চল। তাই বলে সেখানকার উপজাতিদের হরিকেলের অধিবাসী ভেবে বসবেন না। কেন সেটা পরে বলছি। বঙ্গ এবং পুন্ড্র ছিলো দুই ভাই। অসুর রাজ বলির রানী সুদর্শনার গর্ভে দীর্ম্যতমা নামক এক অন্ধ ঋষির ঔরষে ৫ জারজ সন্তানের জন্ম হয়। এরা হচ্ছে অঙ্গ, বঙ্গ, পুন্ড্র, কলিঙ্গ এবং সূক্ষ্ণ। তারা রাজা বলির উত্তরসূরী না হওয়ায় ৫ ভাই পূর্বদিকে (বাংলার দিকে) যাত্রা শুরু করে। তারমধ্যে বঙ্গ এবং পুন্ড্র বাংলাদেশে এসে স্বাধীনভাবে শাসন আরম্ভ করে। একটি কথা বলে রাখা দরকার যে, বাংলার আদিম অধিবাসীরা অনার্য, এবং তাদের আর্যায়িত করার প্রক্রিয়া চলছে সেই প্রাচীনকাল থেকে। কবে থেকে তা জানা সম্ভব হয় নি। তবে বঙ্গ এবং পুন্ড্র, দুই আর্য ভ্রাতা বাংলায় এসে অনার্যদের আর্যায়িত করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু তেমনটা লাভ হয় নি। কারণ, ততদিনে বাংলার মানুষদের মাঝে অনার্য সংস্কৃতি দৃঢ়ভাবে বসে গেছে, তাই হাজার ঝাড়পোঁছ করেও কোন লাভ হয় নি। আমরা যে অনার্য সেই অনার্যই থেকে গিয়েছিলাম। বার বার নিজেদের অনার্য বলছি দেখে রাগ করবেন না, আমরা মোটেও বর্বর ছিলাম না, বরং আর্যদের মনোভাবই অসাড় ছিল, পরবর্তীতে প্রত্নতাত্ত্বিকদের খুঁজে পাওয়া তাম্রলিপির খোদাই থেকে বোঝা গিয়েছিলো আমরা কত উন্নত ছিলাম। এবং আরেকটি কথা, আমাদের আর্যায়িত করতে ততটা সফল না হওয়াতেই পরবর্তীতে বাংলায় ইসলাম প্রচার করাটা অনেক সহজ হয়েছিল।

এখন আসছি ভাষা প্রসঙ্গে। জেনে হয়তোবা অবাক হবেন যে, পৃথিবীর বেশিরভাগ ভাষাই এসেছে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশ থেকে। এমনকি ইংরেজি এবং বাংলা দু’জন দূর-সম্পর্কের ভ্রাতা। ইংরেজি ভাষা এসেছে ইন্দো-ইউরোপীয় কে প্রবল ভাবে ঘষামাজা করে, আর বাংলা সেই তুলনায় ইন্দো-ইউরোপীয় কে বেশি জ্বালাতন না করেই কোন একদিক দিয়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। বাংলা এসেছে ইন্দো-ইরানীয় গ্রুপের ইন্দো-আরিয়ান অর্থাৎ প্রাচীন ভারতীয় আর্য গ্রুপ থেকে। প্রাচীন ভারতীয় আর্যের বৈদিক সংস্কৃতের মাগধী প্রাকৃতের তিনটি শাখা বের হয়েছিলো, উড়িয়া, বিহারী এবং অসমীয়া। এই অসমীয়ারাই তিন ভাই অসমীয়া, বাংলা এবং চট্টগ্রামী। এবং এই চট্টগ্রামী ভাষাভাষীরাই হরিকেল জনপদের আদি-অধিবাসী। এবার আসি বাংলাদেশের অতি প্রাচীন অধিবাসীদের কথা নিয়ে। বাংলাদেশের আসল আদিবাসী হচ্ছে সাঁওতালরা। তারাই হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন আদিবাসী। সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী প্রোটো-অস্ট্রালয়েড জাতির বংশধর। সাঁওতালরা বাংলাদেশে দ্রাবিড়দের ও আগে বসতি স্থাপন করে।

বলতে গেলে এই আমাদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। যদিও অনেক খুঁটিনাটি জিনিস বাদ দিতে হয়েছে বেশি বড় হয়ে যাচ্ছে দেখে আর কিছু জিনিস বাদ দিতে হয়েছে সেগুলো নিয়ে মতভেদ আছে বলে। (চলবে) (বিষয়বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত ম্যাপ পরের পর্বে যোগ করব)

 

৮,৭৮৭ বার দেখা হয়েছে

১৭৯ টি মন্তব্য : “আদিবাসী-উপজাতি এবং বাংলার অধিবাসীঃ পর্ব ১”

  1. ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

    পোকাটি আমার মাথায়ও ঘুরছিল। একটা লেখা রেডী করছিলাম এই বিষয়ে। তাছাড়া লক্ষ্য করে থাকবে 'উত্তাল সাগর, উদ্বেল নদী, সোনার মাটি, প্রাণের দেশ' এই নামে একটি ধারাবাহিক পোস্ট দিচ্ছি, এখানে বাংলার ইতিহাস আসবে। যাহোক তুমি আদিবাসি বিষয়ে পোস্ট দিয়ে ফেলেছ, আমার কাজ কমে গেল। এখন শুধু কমেন্ট করব। আজ সময়ের অভাবে অল্প লিখব। পরে আরো বিস্তারিত লিখব। প্রথমে তোমাকে ধন্যবাদ পোস্টটি দেয়ার জন্য।
    তুমি সাওতালদের কথা লিখেছ, ঠিকআছে। আমার প্রশ্ন, পূর্ব বাংলায় সাওতালরা কবে এসেছে?
    বাংলাদেশে আদিবাসী কিন্তু আমরা বাঙালীরাই। আমরা হাজার হাজার বছর ধরে এই ভুখন্ডে আছি। এই ভুখন্ডকে বসবাসের উপযোগী করেছি। করেছি এর জন্য অবিরাম সংগ্রাম। ইতিহাসের ধারায় বিভিন্ন সময়ে বুকের রক্ত ঢেলে এই ভূমির সম্মান রক্ষা করেছি। আমাদের মন-প্রাণ ও আত্মা মিশে আছে এদেশের আকাশ-বাতাস-মাটি ও জলে। মনের সমস্ত মাধুরী দিয়ে গান লিখেছি ও গেয়েছি, 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি'। নিজ ভূমে পরবাসী হতেই কি আমরা অন্যদেরকে আদিবাসী বলব?

    জবাব দিন
  2. ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

    চাকমাদের নেতা সন্তু লারমা কি শহীদ মিনারে যান? এ দেশের ভাষাকে কি সম্মান জানান?

    চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় ছিলেন যুদ্ধাপরাধী। তিনি সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেন। দেশ স্বাধীনের পর পালিয়ে যান। তিনি এখনো পাকিস্তানে মন্ত্রী মর্যাদায় আছেন।

    ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে গেলে তারা ভারতের পতাকা তুলেছিলেন। পূর্ব পাকিস্তানের সাথে থাকতে চাননি।

    তারা সারা বিশ্বে বাংলাদেশের নামে অপপ্রচার চালায়। দেশকে কখনো ভালবাসে না।

    আমাদের দেশের তথাকথিত কিছু বাম সংগঠন আবার বিভিন্ন অনুষ্টানে তাদের দালালী করে। যারা গোলাম আযমের বিচার চেয়ে গলা ফাটালেও কখনো তার দোসর ত্রিদিব রায়ের বিচার দাবী করে না। তারা বাস্তবতা না বুঝে তাত্ত্বিক বক্তব্য দেন। এসব বাম নেতাদের কি করা উচিত?

    তারা কোটা পাবার সময় জন্য উপজাতি। আবার অন্যসময় উপজাতি বললে গোস্বা করে। তারা এখন আদিবাসী হতে চায়

    জবাব দিন
    • মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

      'ড.' রমিত আজাদ ভাই, আপনি রেসিজম বা বর্ণবাদকে একটা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। বড়ই বিনোদিত হই আপনার এ ধরণের ভয়াবহ সংকীর্ণ স্টেরিওটাইপিক মন্তব্যগুলো পড়ে। আধুনিক আইনের ভাষায় 'আদিবাসী' বা 'indigenous' শব্দের অর্থ ভুল বুঝলে যা হয় আর কী! ভাইকে অনুরোধ করব সংজ্ঞাটা একটু ঝালিয়ে নিতে।

      আদিবাসী বলে এটা বোঝানো হয় না যে তারাই সে অঞ্চলের আদিতম অধিবাসী। বরং কোন অঞ্চলে আগের কালের ঔপনিবেশিক শোষণ এবং পরবর্তীতে স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর মেইনস্ট্রিম বা সংখ্যাগুরু গোষ্ঠীর শাসন-শোষণের কারণে প্রাচীন সংস্কৃতি পুরোপুরি ধারণ করে আছে এমন যে গোষ্ঠীগুলো প্রান্তিক হয়ে পড়ে হয় তাদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি বিশেষ টার্ম। ওদেরকে আদিবাসী বললে মোটেই এটা প্রমাণিত হয় না যে আমরা ওদের পরে এসেছি বা আমরা ঔপনিবেশিক শক্তি, বরং কেবল এটাই প্রমাণিত হয় যে আমাদের দেশে এমন কিছু প্রান্তিক গোষ্ঠী আছে যারা তাদের আদিম সংস্কৃতি ধারণ করে আছে এবং সংখ্যাগুরুদের দ্বারা শাসিত হচ্ছে।

      জবাব দিন
      • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

        বেশী বুঝলে যা হয় আর কি। ‘indigenous’ শব্দের সংজ্ঞা আমার জানা আছে। পাশাপাশি আদিবাসী শব্দের অর্থও অজনা নয়। ‘indigenous’ আর আদিবাসী এক নয়। আদিবাসী শব্দটি অনেক আগে থেকেই বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে, এবং আদিবাসী মানেই কোন অঞ্চলের আদিতম অধিবাসীই বোঝান হয়। বিতর্কটা ওখানেই। indigenous-এর অন্য কোন অনুবাদ বাংলায় করা সমীচিন, অথবা ইনডেজেনিয়াসই রাখা যেতে পারে। আর তারা আদিম সংস্কৃতি ধারণ করে রেখেছে বড় হাস্যকর কথা বললে? আদিম সংস্কৃতি বলতে কি বুঝ?
        বড় কোন জাতি থেকে দল ছুট হয়ে আসা ক্ষুদ্র গ্রুপ 'উপজাতি'ই।
        ফ্যাশন করে অন্যান্য জাতির জন্য দরদ দেখানোর শিল্প তৈরীর আগে একটু নিজের জাতির জন্য একটু দরদ দেখাও। রাজাকাররা কিন্তু নিজের জাতির জন্য দরদ না দেখিয়ে অন্য জাতির জন্য দরদ দেখিয়েছিল। তাদের অনুসরণ করতে চাও?

        জবাব দিন
      • আপনি এমন কোনও প্রমান দেখাতে পারবেন, যাতে প্রমাণিত হয় যে পাহাড়ের নৃ গোষ্ঠীরা আদিম সংস্কৃতি ধারন করছে? আমি নিশ্চিত আপনি পারবেন না। পারলেও তা এতই গৌণ যে ব্যাতিক্রম ধরা চলে, আর ব্যাতিক্রম কখনই উদাহরণ হতে পারে না।

        আর যদি বলেন সংখ্যালঘু, সেক্ষেত্রে আপনি কোন অ্যাঙ্গেলে সংখ্যালঘুত্ব প্রকাশ করলেন, সেই প্রশ্ন কিন্তু থেকে যায়।

        জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      কিছুই বুঝলাম না রমিত ভাই।
      সন্তু লারমা শহীদ মিনারে যান কি যান না তাতে কি প্রমাণ হয়? (আমি যতদূর জানি তিনি গিয়েছেন)
      রাজা ত্রিদিব রায়ের সাথে আপনে গোলামে (নরপশু) আযম রে এক করলেন কোন হিসাবে?
      সোহরাওয়ার্দী, ফজলুল হকের ফ্যামিলি তো পাকিস্থানে; তাইলে?
      ভাসানী সব সরকারের বিরুদ্ধে জনসম্মুখে কথা বলেছেন আর পর্দার আড়ালে কোলাকুলি করেছেন, অর্থ নিয়েছেন।
      আপনি বা আরো অনেকে বলবে উপজাতি আর ওরা বলবে নিজেদের আদিবাসী সমস্যা তো হবেই।
      কিছুদিন আগে হিটলারের একটা বাণী দিছিলেন, মনে হচ্ছে আপনি সেটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন।
      করেন ভাই।
      :hatsoff:


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
    • রাব্বী (৯২-৯৮)

      এই কমেন্টটি পড়ে বার বার মনে হচ্ছিল সামাজিক বিজ্ঞানের ভাষায় এথনোসেন্টিজম নামে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যার একটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ পাওয়া গেলো। তবে এখন যে তথ্যটুকু জানি শুধু সেটুকুই বলি -

      ১. সন্তু লারমা শুধু চাকমাদের নেতা নন, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নামের একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান। আমি নিজে তাকে শহীদ মিনারে বক্তৃতা দিতে দেখেছি এবং শুনেছি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাশ করেন ষাটের দশকে। তারপর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হয়েছিলেন প্রথম জীবনে।

      ২. ত্রিদিব রায় ছিলেন পাকিস্থানপন্থী এবং পশ্চিম পাকিস্থানের শাষকদের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ধারণা তিনি সমর্থন করতেন না। তবে তিনি “যুদ্ধাপরাধী” ছিলেন এমন তথ্য কোথাও পাইনি। আপনার কাছে থাকলে উৎসসহ জানাবেন দয়া করে।

      ৩. পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ কেন সাতচল্লিশে ভারতের পতাকা উত্তোলন করেছিল এবং সেসময়ে কেন পূর্ব পাকিস্থানের সাথে থাকতে চায়নি তারজন্য দেশভাগের আগের ভূ-রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ইতিহাসটা খেয়াল করলেই সহজেই উত্তর পাওয়া যায়। অমুসলমান টেরিটোরিকে নতুন ইসলামিক রাষ্ট্রের সাথে জুড়ে দেয়াতে তারা আপত্তি জানিয়েছিল এবং দিল্লীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ডেলিগেটস পাঠিয়েছিল, কিন্তু তাদের মতামতকে কেউ তোয়াক্কা করেনি। তারা ভারতের সাথে থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু ভাগাভাগির মারপ্যাচে পার্বত্য চট্টগ্রাম ৪৭শে পূর্ব পাকিস্থানে পড়ে যায়।

      ৪. বাম সংগঠনকে নানা বিবেচনায় কাজের সমালোচনা করা যেতে পারে। তারা আদিবাসীদের দালালী করে কথাটা খুব যৌক্তিক হলো না। কারণ পাহাড়ে যে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয় সেটার নেতৃত্ব দুই ধারায় বিভাজিত ছিল – মস্কো এবং পিকিংপন্থী উপধারা – তাই যৌক্তিকভাবেই রাজনৈতিক এ্যালাইনমেন্টটি দাড়িয়ে যায়।

      ৫. কোটা যেকোন দেশের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠির জন্য রাষ্ট্রের একটি পজিটিভ ডিসক্রিমেনেশন। তাই ‘উপজাতি’ এবং ‘আদিবাসী’ সংক্রান্ত আপনার ঠেস দেয়া কথাটা ভাল লাগলো না। অন্য জাতিগোষ্ঠিকে অসম্মান করার ভিতর নিজের জাতির মর্যাদা শুধু খর্বই হয়। জানার ইচ্ছা আপনি পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন হলে কি বলতেন?


      আমার বন্ধুয়া বিহনে

      জবাব দিন
      • রাব্বী (৯২-৯৮)

        ২. ত্রিদিব রায়ের পাকিস্থানপন্থী অবস্থানের কথা বললেন একটা প্রশ্ন জাগলো মনে, তাতে কি প্রমাণ হয়? গোলাম আযম রাজাকার তাতে বাঙালি জাতির সবাই তো রাজাকার হয়ে যায় না।


        আমার বন্ধুয়া বিহনে

        জবাব দিন
        • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

          ত্রিদিব রায় রাজা হিসাবে সকল প্রজাদের প্রতিনিধিত্ব করেন। গোলাম আযম রাজাকার কোন রাজা-বাদশা না। আর যে রাজনৈতিক দলটির সে প্রতিনিধিত্ব করে, সেই দলটিকেও আমরা দায়ী করি।

          উপজাতিদের কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত যোদ্ধাও রয়েছেন। এই মহান হৃদয় ব্যক্তিদের আমি স্যালুট জানাই।

          জবাব দিন
          • রাব্বী (৯২-৯৮)

            তর্কের খাতিরে হয়তো তর্ক করে যাবেন। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজার অফিস একটা টোকেন পজিশন। ক্ষমতা নেই। রাজারা মূলতঃ সার্কেল চিফ। এই রাজা রাজ্যের স্বার্বভৌম রাজা নন। তিনটি সার্কেল - চাকমা, বোহমাং এবং মং সার্কেল। ত্রিদিব রায় তার একটির রাজা ছিলেন। তার মত এবং পন্থা প্রজাদের প্রতিনিধিত্ব করে না। তাহলে তো একইভাবে বলা যেত গোলাম আযম রাজনৈতিক নেতা, তিনি জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করে তাই তার মত জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করে।

            উপজাতি কথাটা হয়তো ইচ্ছে করেই ব্যবহার করছেন সেটা আপনার পছন্দ। কোন জাতিতে একজন থাকলেও সেটা জাতি। উপজাতি টার্মটা একাডেমিক ভাষায় অপাংতেয় হয়ে গিয়েছে বহু আগে। টার্মটার জাতিগোষ্ঠিকে অবদমিত করে রাখার রাজনৈতিক উপাদান মিশে রয়েছে।


            আমার বন্ধুয়া বিহনে

            জবাব দিন
            • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

              তুমিও তর্কের খাতিরে তর্ক করে যাচ্ছ। ভালো করেই জান গোলাম আজম জনতার প্রতিনিধিত্ব করেনি, একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করেছে। সমগ্র বাঙালীদের কাছে আজমের গ্রহনযোগ্যতা কখনোই ছিল না। আর ত্রিদিব রায় তার প্রজাদের প্রতিনিধি হিসাবের ঐ স্ট্যান্ড নিয়েছিলেন। বিরোধের একটা পর্যায় তো ঐ স্ট্যান্ড নেয়া থেকে শুরু।
              বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে সংসদে পাহাড়ি বনাম বাঙালী একটা বিতর্ক হয়েছিল, জানো নিঃসন্দেহে।

              জবাব দিন
              • রাব্বী (৯২-৯৮)

                যে রাজার অফিস ডিসফাংশনাল - প্রসাশনিক এবং স্বার্বভৌম ক্ষমতা নেই কিভাবে তার অবস্থান দিয়ে প্রজাদের পুরোপুরি প্র্রতিনিধিত্ব হয়। আর আপনি যেমন গড়পড়তা বুঝাতে চাচ্ছেন ত্রিদিব রায় শুধুমাত্র রাঙামাটি সার্কেল চিফ/রাজা ছিল। বোমাং এবং মং সার্কেলে আরো দুজন রাজা ছিল। ত্রিদিব রায়ের একাত্তরে পাকিস্থানের পক্ষে অবস্থানটা ব্যক্তি হিসেবে দেখা সমীচিন।

                বিরোধের একটা পর্যায় তো ঐ স্ট্যান্ড নেয়া থেকে শুরু।

                আপনার কাছে এই তথ্যের কোন রেফারেন্স/ সলিড এভিডেন্স আছে? থাকলে রেফারেন্স দিন। তা না থাকলে আমি আপনার মনগড়া কথা গ্রহন করবো না। সংসদে জাতিসত্ত্বা বিষয়ক ডিবেটটি আমি জানি। বঙ্গবন্ধুর সরকার বিতর্কটি সুরাহা করতে ব্যর্থ হয়।


                আমার বন্ধুয়া বিহনে

                জবাব দিন
      • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

        ১। সন্তু লারমা শহীদ মিনারে যান কিনা সেটা আমার জানা ছিলনা, তাই প্রশ্ন করেছিলাম। এখন তোমার কাছ থেকে জানতে পারলাম। গেলে তো ভালই।
        ২। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা অত্যাচারী পাকিস্তানীদের পক্ষ নিয়েছিল তারা সবাই অপরাধী। চোখের সামনে এতবড় গণহত্যা দেখেও কি করে পাকিস্তানীদের পক্ষ নেয়া যায়!!!
        ৩। অমুসলিম টেরিটোরি বলতে কি বুঝ? পার্বত্য চট্টগ্রাম কি আমাদের টেরিটোরি নয়?
        ৪। বামপন্থিদের দ্বিধাবিভক্তির কথা আমার জানা আছে। তাদের রাজনীতির মধ্যে কিছু স্ববিরোধীতা রয়েছে।
        ৫। অন্য জাতির প্রতি আমার শ্রদ্ধাশীলতা রয়েছে। বহু বছর ভীনদেশে কাটিয়েছি। তাদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করেছি। সেই বন্ধুদের প্রায় সবাইই এখনও আমার সাথে যোগাযোগ রাখে। আমি বেদের বাক্যটি বিশ্বাস করি, 'ভূমি আমার মাতা, আমি পৃথিবীর সন্তান।' তবে অন্য কোন জাতির জাতীয় কার্য্যকলাপ যদি সমালোচনামূলক হয় আমি তার সমালোচনা করব।
        আমি উপজাতিদের একজন হলে কি করতাম? নিজের দেশকে ভালোবাসতাম। নিজের নৃ-গোস্ঠি টিকে যেমন ভালোবাসতাম, তেমনি ঐ ভূমির বৃহৎ জাতিটিকেও সম্মান করতাম।

        জবাব দিন
        • রাব্বী (৯২-৯৮)

          ২ নম্বরে আপনার কাছে ত্রিদিব রায়ে যুদ্ধাপরাধের কোন সলিড এভিডেন্স থাকলে উৎসসহ উপস্থাপন করতে বলেছিলাম। এড়িয়ে গেলেন এটাসেটা বলে।

          ১৯৪৭ সালের প্রেক্ষাপটে অমুসলিম টেরিটোরি কেন বলেছি জানতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসটা পড়ুন। পপুলেশনশ স্ট্যাট দেখুন।

          বামপন্থীদের সাথে সংযোগের জায়গাটা উল্লেখ করে বললাম আপনি যৌক্তিকভাবে কথাটা বলেননি সেটাও এড়িয়ে গেলেন।

          আপনি অন্য জাতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল সেটা আমিও বিশ্বাস করতে চাই। আপনার মন্তব্যগুলোই আপনাকে প্রতিনিধিত্ব করছে।

          আমি আপনাকে পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন হলে কি বলতেন সেটা জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনার কটাক্ষ এবং তাচ্ছিল্য করা মন্তব্যে কারণে -

          তারা কোটা পাবার সময় জন্য উপজাতি। আবার অন্যসময় উপজাতি বললে গোস্বা করে। তারা এখন আদিবাসী হতে চায়


          আমার বন্ধুয়া বিহনে

          জবাব দিন
          • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

            স্পষ্ট উল্লেখ করেছি এত বড় গণহত্যা দেখেও যারা পাকিস্তানের পক্ষ নেয় তারা সবাই অপরাধী। তুমি কি তাদের অবস্থানকে সমর্থন করতে চাও?
            টেরিটোরির আবার মুসলিম-অমুসলিম কি? পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের টেরিটরি, আপোষ করব না। তুমি কি ঐ টেরিটোরি হারাতে চাও?
            বামপন্থীদের বিষয়ে আর কি বলব বল? এদের স্ববিরোধিতা তো বহুকাল যাবৎই দেখে এসেছি। বামদের উৎস রাষ্ট্রেই ছিলাম বলে খুব কাছ থেকে ওদের দেখার সুযোগ হয়েছে।
            মন্তব্যগুলো ভালোভাবে পড়, অনেকেই অনেক রকম কটাক্ষ করেছে।

            জবাব দিন
            • রাব্বী (৯২-৯৮)

              এখানে আমার সমর্থন বা অসমর্থনের বিষয়টি মূখ্য নয়। বিষয় হচ্ছে কথাগুলো কতটুকু তথ্য নির্ভর হচ্ছে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষন করে কি উপসংহার আপনি টানছেন। আমি কোন কনক্লুসিভ কথা বলতে চাই না। আমি আপনার মতো দু'একজনের জন্য সমস্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষকে অপরাধী বলতে পারছি না। আমি শুধু যে ভুল/অন্যায় করেছে তার যতটুকু সঠিকভাবে জানি ততটুকুই বলতে পারি।

              টেরিটোরিয়ালিটির ধারণার অনেক উপাদান থাকে। ধর্ম তার মধ্যে একটি। ১৯৪৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংখ্যার স্ট্যাটস দেখলেই বুঝবেন কথাটা কেন বললাম।

              টেরিটোরির ম্যাপ কোন ধ্রুব ব্যাপার না - সময়ের প্রয়োজনে এর সংযোজন, বিয়োজন এবং পরিবর্তন হয়। আধুনিক রাষ্ট্রে টেরিটোরি শুধু ফিজিক্যাল স্পেস না, এটা একটা সাংস্কৃতিক স্পেস। আপনি পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কি আপোষ করবেন না? আর হটাৎ করে কথার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম হারানোর প্রসঙ্গ কই থেকে উদয় হলো। "হাইপোথেটিক্যালি" ধরেন পার্বত্য চট্টগ্রামের টেরিটোরি না চাইলেও হারাতে বসেছি আপনি তখন কি করবেন শুনি?


              আমার বন্ধুয়া বিহনে

              জবাব দিন
            • বাঙালি উগ্র জাত্যাভিমানের বিষফোঁড়ার দুষিত রক্ত ও পুঁজ শুধু ভাষাগত সংখ্যালঘু আদিবাসী জনজীবনকেই বিষিয়ে তুলছে না, এটি পঁচন ধরাচ্ছে বাঙালির গৌরবময় অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিতেও [দ্র. ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)-এর মন্তব্যসমূহ্র]।

              ত্রিদিব রায়ই আদিবাসী ইতিহাসে শেষ কথা নন, শুরু তো ননই। বিএনপি-জামাত-সম অধিকার তথা সেনা-সেটেলার কোং বরাবরই ত্রিদিবের ভূত সামনে এনে আদিবাসীর মুক্তিযুদ্ধের মহান আত্নত্যাগের ইতিহাস মুছে দিতে চায়; এদের লক্ষ্য সন্তু লারমা, উপলক্ষ ত্রিদিব মাত্র। চিন্তনটি ওই উগ্র জাত্যাভিমানেরই গর্ভজাত। [দ্র. পাহাড়ের মুক্তিযুদ্ধ: অন্য আলোয় দেখা //mukto-mona.com/bangla_blog/?p=21204]
              ____
              অহেতুক আদিবাসী বিতর্ক সৃষ্টি তথা 'এ দেশে কোনো আদিবাসী নেই, বাঙালিরাই আদিবাসী, উপজাতি/ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠির মানুষেরা বহিরাগত' [পূর্বসূত্র: 'তোরা সব বাঙালি হইয়া যা] — এমন বেসামাল সরকারি কথাবার্তায়–

              প্রথমত, আদিবাসীদের বিদেশী বানিয়ে এদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাদের চরম আত্নত্যাগ অস্বীকার করা হয়েছে, যা খুবই ন্যাক্কারজনক।

              দ্বিতীয়ত, বাঙালিদের বিপক্ষ শক্তি হিসেবে আদিবাসীদের দাঁড় করানো হয়েছে। এ কারণে এখন আদিবাসীদের কাছে যে সামান্য সম্পদ, যেমন জমি, জলা, বন বা পাহাড় আছে, সেটুকুও কেড়ে নেওয়া হবে।

              তৃতীয়ত, এর প্রতিক্রিয়ায় সারাদেশের আদিবাসীদের মনে চরম ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশের আনাচে কানাচে আদিবাসীরা এর প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন। প্রতিক্রিয়ায় সাইবার বিশ্বও তোলপাড়।

              চতুর্থত, অভিধায় সরকারের আপত্তি যখন তখন তারা সংবিধানে বাঙালিদের পাশাপাশি ভাষাগত সংখালঘু জনজাতিগুলোকে নিজ নিজ জাতির নামেই, যেমন চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, গারো, রাখাইন ইত্যাদি জাতিগোষ্ঠির নামেই স্বীকৃতি দেওয়া যেতো। আদিবাসীরা উপজাতি বা ক্ষু নৃ গোষ্ঠি বা এমন হীন অভিধায় চিহ্নিত হতে যাবেন কেনো?

              পঞ্চমত, আদিবাসীদের স্বায়ত্তশাসনের স্বীকৃতিটুকু দিতেই বা বাধা কোথায়? এই অধিকারটুকু তো আর বাঙালি অধিকার খর্ব করে দেওয়া হচ্ছে না।

              ষষ্ঠত, আদিবাসীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিলে সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে, এটি একটি হাঁটু বুদ্ধির যুক্তি। বিশ্বের অন্যান্য দেশ, এমন কি ভারতে সাংবিধানিক স্বীকৃতি তো আছেই, ভারত ও পাকিস্তানে আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও আছে। বাংলাদেশ বহু জাতি, বহু ভাষা, বহু ধর্মের দেশ। তাই আদিবাসীর স্বীকৃতি দেশকে আরো গণতান্ত্রিক ও মানবিক করে।

              অষ্টমত, কোনো রাষ্ট্র, দেশ বা সরকারের অধিকার নেই নিজস্ব পছন্দের অভিধায় জনজাতিগুলোকে চিহ্নিত করার। একটি জাতির পরিচয় স্বত্তাটুকু চাপিয়ে দেওয়া হবে কেন?
              ___

              বটমলাইন: অনুসন্ধান বলছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী থেকে চাপ এসেছে যে, যেসব দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওইসব দেশে আদিবাসী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে, শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। তাই আদিবাসীদের সংজ্ঞাটিও বদলে ফেলা হয়েছে। শুরু হয়েছে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অবহেলিত জনগোষ্ঠির আত্নপরিচয় নিয়ে সামরিক জান্তার টানা-হেঁচড়া।

              ভাবনাটিকে উস্কে দেওয়ায় [মাজহার (০৬-১২)]কে সাধুবাদ জানাই। চলুক।

              জবাব দিন
          • আপনি জানতে চেয়েছিলেন, ত্রিদিব রায়ের যুদ্ধাপরাধের কোনও সলিড প্রমান আছে কিনা। আমি দিচ্ছি, অমি রহমান পিয়ালের লেখা এই প্রবন্ধটি পড়ুনঃ //www.amarblog.com/omipial/posts/153188

            জবাব দিন
  3. মাজহার (০৬-১২)

    ভাই আমিও আপনার দু'টি কমেন্টের সাথে একমত।
    আপনি প্রশ্ন করেছেন যে, সাঁওতাল রা পূর্ব বাংলায় কবে আসল?
    আমি আগেই বলেছি যে, সাঁওতালরা প্রোটো-অস্ট্রালয়েড জাতির বংশধর, অর্থাৎ আমরা যাদের অস্ট্রেলিয়ান অ্যাবোরিজিনাল বলে জানি তাদেরই একটা শাখা। তাদের পূর্ব বাংলায় আগমন অর্থাৎ বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী এসব জায়গায় আগমনের সময়টা আজ থেকে প্রায় ১০,০০০ বছর আগে। শুধু সাঁওতালরাই নয় কোল, মুন্ডারী এরাও প্রায় একই সময়েই বাংলায় এসে বসতি স্থাপন করে। এবং অনার্যদের অর্থাৎ আমাদের পূর্ব পুরুষরাও প্রায় সাঁওতালদের কাছাকাছি সময়ে এখানে আসে। হয়তোবা কয়েকশ বছর আগে-পরে হতে পারে। আপনার হয়তো মনে আছে ছোটবেলায় আমরা পড়তাম বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডারের উৎপত্তি ৫টি। তার মধ্যে যে দেশি শব্দ ভান্ডার ছিলো সেটাই সেই সাঁওতাল, কোল, মুন্ডারী এদের ভাষা থেকে এসেছে। যেমন, ঢেঁকি, মূলা, কুলা এসব।


    MJ

    জবাব দিন
    • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

      আসলে পূর্ব বাংলায় আমরা (মানে বাঙালীরা) আগে না সাঁওতালরা আগে, এটা নিয়ে খুব সম্ভবতঃ মতবিরোধ রয়েছে। আমাদের দেশে ১০০০০ বছেরের পুরাতন মানুষের ব্যবহৃত অস্ত্র-সস্ত্র পাওয়া গিয়েছে, তবে কোন নরকঙ্কাল পাওয়া যায়নি। তাই ওগুলো আমরা ব্যবহার করেছি না সাঁওতালরা ব্যবহার করেছে বলা মুশকিল। পরবর্তিকালে এতদঞ্চলে আধিপত্য যেহেতু আমরাই বিস্তার করেছি, এটা আমাদের উন্নত সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।
      মাজহার, তোমার লেখাটি সুন্দর হয়েছে। পাশাপাশী রেফারেন্সগুলো দিয়ে দিও।

      জবাব দিন
      • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

        রমিত ভাই,
        আধিপত্যবাদ = উন্নত সংস্কৃতি?

        তারা সারা বিশ্বে বাংলাদেশের নামে অপপ্রচার চালায়। দেশকে কখনো ভালবাসে না।

        বাংলাদেশে তাদের যে পরিমাণ নির্যাতিত হতে হচ্ছে সেটা দেশের গন্ডির বাইরে বললেই বুঝি অপপ্রচার হলো? দেশকে যে তারা ভালোবাসেনা এমন একটা কথাই বা বললেন কিসের ভিত্তিতে।

        আপনার বলার এই টোনটি হচ্ছে উগ্র জাতীয়তাবাদ। এর অহম্‌ অন্যকে ক্ষুদ্রতর করে দেখতে উৎসাহ যোগায়। এই পোস্টে লেখক এখনো মূল বক্তব্যে আসেনি, কেবল ভূমিকা দিয়েছে - তার আগেই আপনার অতিউৎসাহী এই কনক্লুশন দুঃখজনক এবং বেমানান।

        জবাব দিন
        • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

          আমি আমার মত প্রকাশ করেছি, ব্যাসড অন ফ্যক্টস। আধিপত্য বিস্তার করাটা নেগেটিভ অর্থে নিলে কেন? মানবজাতি পৃথিবীতে আধিপত্য বিস্তার করেছে অন্যান্য যেকোন প্রাণীর চাইতে উন্নত বলেই। উগ্র জাতীয়তাবাদ খারাপ, কিন্তু জাতীয়তাবাদ ভালো। এই জাতীয়তাবাদের অভাবেই আমরা পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলাম। সেই জাতীয়তাবাদে উদ্ধুদ্ধ হয়েই আবার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেছিলাম। জাতীয়তাবাদি চেতনা না থাকলে আমরা '৭১-রে দেশ স্বাধীন করতে পারতাম না। যারা '৭১-এ জাতীয়তাবাদি ছিলনা তারাই রাজাকার। মূলতঃ এখনো আমাদের দেশে জাতীয়তাবাদ পূর্ণ প্রতিস্ঠা পায়নি বলেই দেশ দ্রুত এগুতে পারছে না।
          দেশের জাতীয়তাবাদ বিরোধী কথা বলা দুঃখজনক, হয়তো উদ্দেশ্যমুলক।

          জবাব দিন
            • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)
              ব্যাসড অন ফ্যক্টস

              সেই ফ্যাক্টস-এর দু' একটা উদ্ধৃত করুন না প্লিজ, যে তারা দেশকে কখনোই ভালোবাসেনা!
              আধিপত্যবাদের যে অংশটা 'নেগেটিভ' আপনি যে তারই গুণগান গাইছেন! নেগেটিভ অর্থে না নিয়ে উপায় কি।

              উগ্র জাতীয়তাবাদ খারাপই তো, আপনার বক্তব্যে সেই উগ্রতাই প্রকাশ পাচ্ছে। বারেবারে।আপনার জাতীয়তাবাদের সংগে জেনারেল জিয়ার জাতীয়তাবাদী চেতনার ভয়াবহ মিল খুঁজে পাচ্ছি।

              জাতীয়তাবাদি দর্শনের উপর ভিত্তি করেই কিন্তু বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি গঠিত।

              বুঝলাম।তা সংবিধান কি বলছে? সবাইকে বাঙালি হয়ে যেতে বলছে? না বাঙালি আধিপত্যবাদের 'উন্নত' সংস্কৃতি অপরাপর নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দিতে বলছে।

              'এরা' যে অপপ্রচার চালাচ্ছে বাংলাদেশ নিয়ে, এদের কি করা উচিত বলে আপনি মনে করেন।বাংলাদেশ রাষ্ট্র যা করছে তা কি পরিমাণে/মাত্রায় ঠিক আছে না কমবেশি হচ্ছে।

              আর বাংলাদেশের উন্নতির জন্যে কোনটা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন - ধর্মনিরপেক্ষ না ধর্মীয় মোড়কে আবৃত জাতীয়তাবাদ।আফটার অল, আধিপত্যবাদ = উন্নতির সমীকরণ এক্ষেত্রেও খাটে।

              আগেও আপনাকে প্রশ্ন করে ঠিকঠাক উত্তর পাইনি। এবারো পাবার আশা রাখিনা, তবু করে রাখলাম আর কি।

              জবাব দিন
              • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

                বেশ উঠেপড়ে লেগেছ দেখা যাচ্ছে। তোমার উদ্দেশ্যটা কি? বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদকে ধ্বংস করা?
                তোমার সম্পর্কে কিছু ইনফর্মেশন আমার প্রয়োজন।
                তুমি লেখাপড়া ভারতে করেছ জানি। কোন বিষয় নিয়ে পড়েছ?
                এখন কোন দেশে আছ? সেখানে কি করছ? সেখানে কি সাময়িকভাবে আছ, না স্থায়ী হয়েছ?

                বাকী আলাপগুলো এই সব ইনফর্মেশন পাওয়ার পর হবে।

                নোটঃ ব্লগ এডজুটেন্ট কর্তৃক সম্পাদিত। এমন ধরণের মন্তব্য সিসিবির কোনো সদস্য করবেন সেটা আমরা আশা করি না। ভবিষ্যতে এমন ধরণের মন্তব্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে ব্লগ নীতিমালা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

                জবাব দিন
                • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

                  রমিত ভাই,
                  আপনার এ সমস্ত প্রশ্নমালা দেখে আমি স্তব্ধ বললেও কম বলা হবে।
                  প্রথম দুটো প্রশ্নের নীচতা নিয়ে নাইবা বললাম।
                  পরের প্রশ্নগুলোর উত্তর সহজেই দিতাম, কিন্তু আমার সম্পর্কে 'ইনফর্মেশন' প্রয়োজন এই পোস্টের বিষয় সংক্রান্ত আলাপ চালানোর জন্যে, এটা মানতে পারলামনা।
                  এগেইন, প্রশ্নগুলোর উত্তর কিন্তু পেলামনা।

                  জবাব দিন
                • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

                  :frontroll: দুঃখিত ভাই। :dreamy:
                  কিন্তু আমার অবস্থান জানিয়ে দিলাম :thumbdown:


                  এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

                  জবাব দিন
                • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

                  নুপুর ভাইয়ের উদ্দেশ্যে করা 'ড' রমিত আজাদের বক্তব্য অপ্রাসঙ্গিক, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রসূত নীচুমন মানসিকতার প্রকাশ। মন্তব্যটির প্রতি মডারেটরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। নূন্যতম সভ্যতা-ভব্যতাবোধহীন এমন মানুষের সিসিবিতে লেখার এবং কোনো মন্তব্য করার অধিকার থাকা উচিত না।

                  জবাব দিন
                • রাব্বী (৯২-৯৮)

                  তাজ্জব বনে গেলাম! মন্তব্যগুলো পড়লাম। সত্যি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি ...

                  রমিত ভাই, নিজেকে এভাবে প্রকাশ না করলে কি এমন ক্ষতি ছিল? এটুকুই বলবো, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে সবাই সুবিবেচনাসম্পন্ন, পরমতসহিষ্ণু এবং উদার দৃষ্টিভঙ্গি আশা করে। এটুকু তো আশা করতে পারি, নাকি?


                  আমার বন্ধুয়া বিহনে

                  জবাব দিন
                  • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

                    রাব্বি, শিক্ষক হিসাবে আমার ইমেজ কেমন একটু ইস্ট-ওয়েস্ট অথবা এ আই ইউ বি-তে খোঁজ নিলেই জানতে পারবে। ফেসবুকে আমার পেইজে গেলেও দেখতে পাবে (পেইজটি আমি নয়, আমার স্টুডেন্টরা খুলেছিল)। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করেছি সেখানেও খোঁজ নিতে পার। আমি কি ভাবে নিজেকে প্রকাশ করলাম, একটু বুঝিয়ে বলবে কি? বেশ কয়েকজন মিলে আমাকে একটি দর্শন বোঝানোর চেষ্টা করছে, আমি সেটা গ্রহন না করাতেই বোধ হয় সমস্যা হয়ে গেল।
                    উদার দৃষ্টিভঙ্গি বলতে কি বুঝ? মাপকাঠিটা কি? এই পর্যন্ত যতজন মন্তব্য করেছে এর মধ্যে কে উদার, কে অনুদার। শুরুটা কোথায় ভালোভাবে খেয়াল করে দেখতো, চট করে আগ বাড়িয়ে আমাকে উগ্র জাতিয়তাবাদী আখ্যা দিয়ে ফেলা কি উদারতা?
                    আমি আমার দেশকে ভালোবাসব, জাতিকে ভালোবাসব। অন্য যে কোন দেশ বা জাতির স্বার্থ দেখার আগে আমার দেশ বা জাতির স্বার্থ দেখব। একে অনুদারতা বল আর যাই বল না কেন। যারা আমার দেশ ও জাতির স্বার্থ বিরোধী কথা বলবে (যেমন একজন পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজদের বিজয়কে পজিটিভলি দেখছে) তাদের সাথে আমার কোন আপোষ নেই।

                    জবাব দিন
                    • সামিয়া (৯৯-০৫)

                      আপনার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এই পোস্টে সকলে এসে আপনার মন্তব্যটিকে নিয়েই গুতোগুতি করছে দেখে সম্ভবত আপনার মেজাজ খারাপ হয়েছে। নূপুরদাকে কেন কেউ কিছু বলছে না, সেটা নিয়েও সম্ভবত।

                      উগ্র জাতীয়তাবাদ খারাপই তো, আপনার বক্তব্যে সেই উগ্রতাই প্রকাশ পাচ্ছে।

                      এই কথাটাকে আপনি আপনার বক্তব্য দিয়ে থামাতে পারতেন, কেন উগ্রতা প্রকাশ পাচ্ছে সেটা জিজ্ঞেস করতে পারতেন। নিজের কাঁধে উগ্র জাতীয়তাবাদী তকমা না টেনে নিয়ে আগের মত আলোচনা চালিয়ে যেতে পারতেন। তা না করে চট করে এমন একটা কথা বলে ফেলেছেন, সম্ভবত জিদের বশে যেটা থেকে আপনি সরে আসছেন না। এই ব্লগে এর আগে কেউ, সম্ভবত এত খারাপ ভাবে আর কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি।

                      বেশ কয়েকজন মিলে আমাকে একটি দর্শন বোঝানোর চেষ্টা করছে

                      আমি তো তা দেখলাম না, আমার মত আরও অনেকেই আপনাদের আলোচনা ফলো করছিল।

                    • রাব্বী (৯২-৯৮)

                      রমিত ভাই, আপনি নিজেকে বেশ কয়েক জায়গায় শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তাই শিক্ষকের কাছে প্রত্যাশা সেটা বলেছি। সবার প্রত্যাশিত হতে হবে এমন কোন কথা নেই। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের "ইমেজ"টা আসলে ততোটা প্রাসঙ্গিক না। আপনি সিসিবিতে যা লিখছেন এবং মন্তব্য করছেন তাতেই আমি আপাতত আশ্বস্ত।

                      নিজেকে প্রকাশ করা বলতে বলেছি, নূপুরদার প্রতিমন্তব্যে যুক্তিতর্ক বাদ দিয়ে কথা বলার আগে হটাৎ করে তার ব্যক্তিগত তথাকথিত "ইনফরমেশন" জানতে চাওয়া প্রশ্নমালা কি ইঙ্গিত করে এবং তার সাবটেক্সট কি সেটা বুঝিয়েছি। নিচে দেখুন ব্লগ এ্যাডজুটেন্টের হুশিয়াশি বার্তা পেয়েছেন।

                      আমার কিছু কথা উপরে সামিয়া বলে দিয়েছে। দেশ-জাতিকে ভালবাসুন, দেশ-জাতির স্বার্থ রক্ষা করুন, কোন সমস্যা নেই কিন্তু সেটা করতে গিয়ে এথনোসেন্ট্রিক হয়ে পড়লে তো বিপদ। তখন সেটা অন্যদের কাছে ভুল বার্তা পৌছায়।


                      আমার বন্ধুয়া বিহনে

                • ব্লগ এডজুট্যান্ট

                  ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮), একটি মন্তব্যে অসুস্থ ইঙ্গিত করার জন্য আপনাকে হুশিয়ার করা হলো। এরপর এধরণের মন্তব্য আপনার কাছ থেকে আর আসবে না, ক্যাডেট কলেজ ব্লগ সেই আশাই করে।

                  জবাব দিন
                  • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

                    আমার কোন মন্তব্যে অসুস্থ ইঙ্গিত আছে?
                    আমি ছাড়াও অনেকেই অনেক আপত্তিকর মন্তব্য করেছে ও ব্যাক্তিগত আক্রমণ করেছে। ব্যাক্তিগত আক্রমণএর শুরুটা কিন্তু আমি করিনি।
                    ব্লগ এ্যাডজুট্যান্টের কাছ থেকে একপেশে হূশিয়ারি দুঃখজনক।হুশিয়ার করলে সবাইকেই করা উচিৎ।
                    নিজের জাতিকে ভালোবেসে ভালোই বিপদে পড়লাম দেখা যাচ্ছে।

                    জবাব দিন
                    • "নিজের জাতিকে ভালোবেসে ভালোই বিপদে পড়লাম দেখা যাচ্ছে।"
                      ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮), এখানে যারা লিখছেন সবাই দেশকে ভালো বাসেন বলেই আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস। কিন্তু আপনার মন্তব্যে মনে হয় আপনি আপনার ”জাতিকে” একটু বেশিই ভালো বাসেন। এখানে কেমন যেনো অন্ধ-দরদ দেখানোর প্র্রবণতা আছে। অন্ধত্ব ও জাত্যাভিমান কখনো ভালো কিছু দেয় না। অত্যন্ত বিণয়ের সাথে জানতে চাই, আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে কি বিষয় পড়ান? বা আপনার নামের আগে লাগানো “ড.” টা কোন বিষয়ের উপর?

          • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

            পলাশীর যুদ্ধে ইংরাজদের বিজয় আমি পজিটিভলি দেখি। আমার অনেক আগের এক লেখায় আমি সিরাজ রে নিয়া লিখছিলাম।
            ৭১ এ বাঙালি যেটা করেছে তা হলো ৪৭ এর প্রায়চিত্ত।


            এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

            জবাব দিন
            • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)
              পলাশীর যুদ্ধে ইংরাজদের বিজয় আমি পজিটিভলি দেখি

              বৃটিশরা তোমার ব্রেইন তো ভালোই ওয়াশ করেছে দেখা যাচ্ছে।
              তা বৃটেনে কি নাগরিকত্ব পেয়েছ?
              তোমাকে কি হিসাবে দেখব, বাংলাদেশী না বৃটিশ?
              তুমি কি প্রোটেস্টান্ট সাম্রাজ্যবাদের সমর্থক? সাবাস!!!
              আমার দাদা বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন করে জয়লাভ করেছিলেন, আমার পিতা ও পিতৃব্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। আমার আন্দোলন ইঙ্গ-মার্কিন তথা যেকোন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে।

              জবাব দিন
          • রমিত সাহেবের কথা বার্তায় উগ্রজাতীয়তাবাদে ভরা শব্দমালা দেখে কেমন যেন মনে হচ্ছে- লোকটা জামাত-শিবিরপন্থী নন তো? বামদের প্রতি বিষোদগীরন, দেশের সকল আদিবাসীকে চাকমা হিসেবে দেখার চোখ (যেভাবে তিনি বারবার রাজা ত্রিদীপ রায়কে গোটা পাহাড়ের প্রতিনিধি বা আদিবাসীদের গালাগাল করার সময় যুক্তি হিসেবে দাঁড় করান), পলাশী যুদ্ধের প্রতি মেকী ভালবাসা/হাহুতাশ ইত্যাদি দেখে আমার কেন যেন মনে হচ্ছে লোকটির মাথায় অশুভ শক্তি চেপে বসে আছে।

            তিনি একজন শিক্ষক?!
            শিক্ষার্থী পড়ান?!
            অবাক লাগে আমার!

            রমিত সাহেব, পলাশীর বিপর্যয় নিয়ে হা-হুতাশ করছেন? নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা যে বাঙালী ছিলেন না তা নিশ্চয়ই জানেন?

            জবাব দিন
            • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)
              লোকটা জামাত-শিবিরপন্থী নন তো?

              এই জাতীয় অনেক ব্যক্তিগত আক্রমনে ভরা মন্তব্য। মডারেটরের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

              পলাশীর বিপর্যয় নিয়ে হা-হুতাশ করছেন?

              পলাশীর বিপর্য কেবল বাঙালী নয় গোটা উপমহাদেশের জন্যই সব চাইতে বড় ট্রাজেডি।

              নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা বাঙালী ছিলেন কি ছিলেন না, এই বিষয়ে পরবর্তিতে একটা পোস্ট দেব।

              জবাব দিন
        • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

          বেশ ভালো একটা ইকুয়েশন পেয়েছেন দাদা।
          আপনার এবং রমিত ভাইয়ের বহিঃবিশ্বে অপপ্রচার নিয়ে বেশ মজার একটা কথা মনে পড়েছে।
          ২০০১ সালে জামাত-বি এন পি ক্ষমতায় আসার পর শাহরিয়ার কবীরকে দেশদ্রোহী করা হয়।
          এর চেয়ে হাস্যকর আর কি হতে পারে নিজামী- মুজাহিদের গাড়িতে তখন ছিলো বাংলাদেশের পতাকা। হায়রে কই যাই?

          আওয়ামী লীগ দেশের বাইরে গিয়ে তাদের সমস্যা বা দেশের সমস্যা নিয়ে বলতে থাকে।
          সারা দেশে রব উঠে যায় দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে, ইত্যাদি, ইত্যাদি।
          হুমায়ুন আজাদ তখন এ বিষয়ে বেশ চমৎকার একটা কথা বলেছিলেন।

          যাই হোক ২০০৮ এর পর খালেদা জিয়া অসঙ্খবার বাইরের দেশগুলোর হাম্বাসেডরদের সাথে বসেছেন, আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে গান গেয়েছেন।
          আর ইউনুস মিয়া তো বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তুলছেন।
          লন্ডন স্কুল অফ ইকনোমিক্সে তার আগে বক্তারা কি বলেছেন দেখেলেই বুঝবেন। প্লাস হাসিনা লন্ডনে আসলে তার যে সাক্ষাতকার নেয়া হয় তাতে ইউনুস প্রসঙ্গ একটা বড় স্থান জুড়ে ছিলো।

          আমার ছোটভাই একটা বাণী দিতো;
          ভাত পায় না চা খায়
          হোন্ডা লিয়া -গবার যায়।
          ভাবমূর্তি একটা জিনিস বটে।


          এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

          জবাব দিন
        • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

          অপপ্রচার নিয়া একটা মজার কথা মনে পড়লো দাদা।
          আপনি কি মাইকেল ডগ্লাসের দ্যা আমেরিকান প্রেসিডেন্ট দেখছেন?
          নায়িকার পতাকা পোড়ানো নিয়া প্রেসিডেন্ট সাহেব কি বলছিলো মনে আছে?


          এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

          জবাব দিন
          • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

            না ছবিটি মনে পড়ছে না।
            মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে। অনেক দেশে নিজ দেশের পতাকা পোড়ানোকে প্রতিবাদ হিসাবে দেখা হয় অনেক দেশে অপরাধ হিসাবে দেখা হয়। এসব আইনি ও দৃষ্টিভঙ্গীজনিত পার্থক্য তো আছ

            জবাব দিন
          • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

            না ছবিটি মনে পড়ছে না।
            মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে। অনেক দেশে নিজ দেশের পতাকা পোড়ানোকে প্রতিবাদ হিসাবে দেখা হয় অনেক দেশে অপরাধ হিসাবে দেখা হয়। এসব আইনি ও দৃষ্টিভঙ্গীজনিত পার্থক্য তো আছেই। মত ভিন্নতার কারণেই পৃথিবীতে এত রকম দর্শন, এত রকম ধর্ম ও এত রকম আইডিওলজি। যার যার টা তার তার কাছে সঠিক। তুমি সর্বজনগ্রাহ্য কোন মতামত দেখাতে পার?

            জবাব দিন
  4. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    চমৎকার বিষয়বস্তু। :clap: :clap: :clap:
    কিন্তু শুরুতে নিজের যে কথাগুলো লিখেছো সেটা ক্যানো হবে?
    সদস্যপদ নিয়া টানাটানি?

    ক্যান রে ভাই!

    আর আর্য, অনার্য নিয়া যারা ব্যাথিত তাদের গঙ্গায় ডুবে মরা উচিত।
    পৃথিবীটা মানুষের।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  5. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    চলুক।

    বাংলার ইতিহাস জানার মূল উৎস হল মহাভারত, রামায়ন এবং সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে চর্যাপদ।

    বাংলার ইতিহাস জানার মূল উৎস কেন মহাভারত বা রামায়ণ হবে বুঝলামনা।আমার জানামতে এসব ঘটনা তো ঘটেছিলো বাংলা থেকে বহুদূরে।

    জবাব দিন
  6. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    মাজহার,
    দুঃখিত ভাই, তোমার লেখা পরিণতিতে গড়ানোর আগেই তর্কাতর্কি শুরু করে দিলাম। আপাতত ক্ষান্ত দিয়ে গ্যালারিতে মজা দেখতে বসলাম।
    তুমি শেষ করো তোমার লেখা।

    জবাব দিন
    • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

      লেখকের লেখার মূল সুর তুমি সম্ভবত ধরতে পারনি। লেখক এই প্রশ্নটি করেছেন, বাংলাদেশে আদিবাসী কারা? আবার উত্তর দিয়েছেন, বাংলাদেশে আদিবাসী আমরা বাঙালীরা ও সাঁওতালরা (প্রধানত:), কিন্তু কোন ক্রমেই চাকমা-মার্মারা নয়। তারই সুর ধরে আমি পরপর দু'টি মন্তব্য করেছি। ভালো করে লক্ষ্য করেলে দেখবে লেখক আমার সাথে সহমত প্রকাশ করেছে।

      আমি জাতীয়তাবাদি কিনা এই প্রশ্ন যদি কর, তাহলে সরাসরিই বলব হ্যাঁ মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মত আমিও জাতীয়তাবাদী। তবে আংশিক, কোন অর্থে আংশিক? দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে ও পৃথক সত্তা হিসাবে টিকে থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে জাতীয়তাবাদের প্রয়োজন আছে। আবার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকতাবাদেরও প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। কোন জাতিই আইসোলেটেডভাবে টিকে থাকতে পারেনা। একে অপরের হাত ধরে মানবজাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এটা তুলনীয় ঘুর্ণন গতির কেন্দ্রমূখী ও কেন্দ্রবিমূখী বলের সাথে। এই দুটি বল সহাবস্থান করে। এই সহাবস্থানের প্রয়োজন আছে। এটা প্রকৃতির নিয়ম।

      আরেকটা কথা প্রত্যেকেরই একটা নিজস্ব দর্শন আছে। আমারও আছে। আমার দর্শনের সাথে তুমি একমত হতে নাও পার, আমি সেই দাবীও করিনা। অনুরূপভাবে আমিও তোমার দর্শনের সাথে একমত হতে নাও পারি। এতে কিছু আসে যায়না।

      জবাব দিন
  7. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    পোষ্ট পড়লাম। বাংলার ইতিহাস নিয়ে লিখার সাহস করার জন্য মাজহারকে ধন্যবাদ। তবে উৎস হিসেবে যেসব গ্রন্থকে নিয়েছো, সেগুলো যথেষ্ট ত' নয়ই, ক্ষেত্রবিশেষে বিভ্রান্তীকর- কেন, সেটা উপরে নূপুর ভাই খানিকটা বলে দিয়েছেন। শুরু করার জন্য সিরাজুল ইসলামের বাংলার ইতিহাসের কথা মনে পড়ছে। এছাড়াও 'ফোর ডক্টরস' নামে একটা বই আছে, যা'র উপর ভিত্তি করে আমাদের নবম-দশম শ্রেণীর ইতিহাস টেক্সট বইটা লিখিত; সেটাও দেখতে পারো (চারজন লেখক বলে বইটা এই নামে পরিচিতি, ঢাবির ইতিহাসের কাউকে বললে পেয়ে যাবে এটা)।

    ব্যক্তিগত 'কাইজ্যা' দেখে বেশ মর্মাহত হলাম।

    জাতীয়তাবাদ নিয়ে বেশ বিভ্রান্তি দেখছি সিসিবি'তে। শীঘ্রই আসছি এই নিয়ে আলাপে 🙂 (সম্পাদিত) (সম্পাদিত)


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  8. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    আরে ধুর!
    তর্কাতর্কি করতে গিয়ে লেখককেই ভড়কে দিলাম মনে হচ্ছে।ওর দেখাই নাই!
    সাধারণ তর্কাতর্কিতে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যাপারটা বেশ একটু অন্যদিকে গড়িয়ে গেলো বলে আমি মাজহারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি আবার।সেইসাথে সিসিবির সব পাঠকের প্রতিও, সিসিবির পরিবেশ যেটুকু ক্ষুণ্ণ করলাম তার জন্যে।
    সবার প্রতি আমার অনুরোধ, বিশেষত ছোট ভাইবোনদের প্রতি: যদি কোনদিন কোন পোস্টে/মন্তব্যে ভুল, অযৌক্তিক কথা বলি/আচরণ করি, তাহলে আমার সিনিয়রিটির দোহা্ই দিয়ে প্লিজ এড়িয়ে যাবেননা/যেয়োনা। চোখে আঙুল দিয়ে আমার সীমাবদ্ধতাটুকু দেখিয়ে দিতে/নতুন কিছু শেখাতে কার্পণ্য না করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।

    চিয়ার্স!

    জবাব দিন
  9. রাব্বী (৯২-৯৮)

    মাজহার, ইতিহাস নিয়ে লেখার আগ্রহটা দারুণ উৎসাহব্যঞ্জক একটা কাজ। যে কথাটা উৎস নিয়ে বলতে চাচ্ছিলাম মাহমুদ ভাই বলে দিয়েছেন। সাথে যেটা বলবো ইতিহাস জানার আগ্রহ এবং সেটা চর্চার পিছনে যদি সেটা কোন পূর্বধারণা তাড়িত ব্যাপার ঘটে থাকে তাহলে সেটা থেকে দূরে থেকে সরে এসে তুলনামূলক নৈবত্তিক অবস্থান নিয়ে চর্চাটা করা শ্রেয় এবং খালি উৎস থাকলেই হবে না সেটা কতটুকু অথেনটিক তা যাচাই করে নিতে হবে।

    আমার জানার আগ্রহ, তোমার ব্লগের শিরোনামের আদিবাসী এবং উপজাতি বলতে কি ধারণা রাখো।


    আমার বন্ধুয়া বিহনে

    জবাব দিন
  10. মাজহার (০৬-১২)

    এতোদিন ব্যস্ত ছিলাম তাই পিসিতে বসতেই পারি নি। আজকে বসেই দেখলাম ২০০+ বার পঠিত, বেস্ট টার্ন আউট পোস্ট, ৫০+ মন্তব্য আরো হ্যান ত্যান। ব্যাপক মজা পাইলাম, যাক আমার পোস্টও মানুষ পড়ে।
    কিন্তু পোস্ট খুলে আমি আক্ষরিক, বাস্তবিক সব অর্থেই লজ্জা পাইলাম। স্বয়ং অ্যাডজুটেন্ট স্যার এর কমেন্ট, আরো কত কি। :brick: :brick: :brick:
    রাজীব ভাইকে বলছি,

    কিন্তু শুরুতে নিজের যে কথাগুলো লিখেছো সেটা ক্যানো হবে?

    ভাই এই জন্যেই আমি প্রথমে কথাগুলা বলসিলাম, জিনিসটা যথেষ্ট স্পর্শকাতর, দেখলেন তো কেমন আপনা থেকে তালগোল পাকায়া গেলো?

    আর আমার পুস্টের লাইগা ভাইগো মইদ্যে কথা কাটাকাটি অইসে, এই লাইগা আমি ক্ষমা চাইতেসি।


    MJ

    জবাব দিন
  11. এই আলোচনাটি মাত্র শুরু হয়েছে, বিস্তৃত হবে আশা করছি। সেক্ষেত্রে কোনো প্রকার একপেশে দৃষ্টিভঙ্গী শুরু থেকেই না থাকলে ভালো হত।
    কিচু জায়গায় তথ্য আরো গভীরভাবে যাচাই করার প্রয়োজন আছে।

    "বর্তমান বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে তাকালে আমরা যা দেখতে পাই তা হচ্ছে প্রাচীন বাংলার অনার্যদের বাসস্থান। এবং আমরাই এই অনার্যদের উত্তরসূরী। আরো ভালভাবে বলতে গেলে আমরাই বাংলার আদিম অধিবাসী বা আদিবাসী। তৎকালীন আর্য সমাজে কতগুলো ভাগ ছিলো ব্রাহ্মণ, বৌশ্য, কায়স্থ এবং শূদ্র। শূদ্ররা অপর তিন শ্রেণীর সেবা করত, মানে সহজ বাংলা কথায় চাকর বলা যায় আর কি। এবং এই চার শ্রেণীর বাইরে যারা ছিলো তারাই ছিল অনার্য। আর আর্যরা অনার্যদের মানুষ বলে গণ্যই করত না, তাদের ধারণায় অনার্যরা ছিলো অসভ্য, বর্বর। দেখুন তো কান্ড! আমাদের এলাকায় এসে আমাদেরই কিনা বর্বর বলে! আর আর্যদের উত্তরসূরীরা হচ্ছে বর্তমান ভারতের উচ্চবংশীয় ব্রাহ্মণ এবং যদি সরাসরি উত্তরসূরী দেখতে চান তাহলে জার্মানদের দিকে তাকান। হ্যাঁ, জার্মানরাই হচ্ছে তথাকথিত সভ্য আর্যদের সরাসরি উত্তরসূরী। আর ভারতের উচ্চবংশীয় ব্রাহ্মণদের সরাসরি উত্তরসূরী বলছি না কারণ, তারা হচ্ছে কনভার্টেড আর্য। বলা যায় আর্যায়িত আর্য। একটু চোখ খুললেই বোঝা যাবে। জার্মানদের শারিরীক গঠন আর ভারতীয়দের শারিরীক গঠন খেয়াল করুন, সহজেই বুঝতে পারবেন।"

    "বাংলা এসেছে ইন্দো-ইরানীয় গ্রুপের ইন্দো-আরিয়ান অর্থাৎ প্রাচীন ভারতীয় আর্য গ্রুপ থেকে। প্রাচীন ভারতীয় আর্যের বৈদিক সংস্কৃতের মাগধী প্রাকৃতের তিনটি শাখা বের হয়েছিলো, উড়িয়া, বিহারী এবং অসমীয়া। এই অসমীয়ারাই তিন ভাই অসমীয়া, বাংলা এবং চট্টগ্রামী। "

    উপরের কোটেড অংশে এক ধরণের স্ববিরোধিতা আছে, খেয়াল করেন। এই স্ববিরোধিতার জায়গাটিই মূল সংকট এই আলোচনার পরিণতিতে যাবার ক্ষেত্রে, স্ববিরোধিতা ঘোচাইতে হলে এমন কিছু সিদ্ধান্ত আপনাকে মানতে হবে যেটা উগ্র জাতীয়তাবাদী চিন্তা-চেতনা থাকলে মানা মুশকিল যে কারো জন্য। 🙂
    একটা অঞ্চলের বসবাসকারী নাগরিক আর জাতি এক না। শুধু ভাষাই নয়, একইসাথে স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, আচার, প্রথা, জীবন ব্যবস্থা ইত্যাদি নানা উপাদান সাধারণভাবে সকলের মধ্যে না থাকলে একই অঞ্চলে শত সহস্র লোকের বসবাস থাকলেও তাদেরকে জাতি বলা যায় না বলেই জানি। এছাড়াও আপনার লেখা দেখে মনে হচ্ছে নীহাররঞ্জন রায় এর "বৃহৎবঙ্গ" বইটি আপনি ফলো করেছেন (অনুমান), কিন্তু ভাষাকেন্দ্রিক আলোচনায় কোন কোন বই অনুসরণ করেছেন, তা বুঝতে পারছি না। "এই অসমীয়ারাই তিন ভাই অসমীয়া, বাংলা এবং চট্টগ্রামী।" এই বক্তব্যের তথ্যসূত্র কী?! ডায়ালেক্টের আলোচনায় গেলে মজার আলোচনা পাচ্ছি উইকি তে - দেখুন-
    //en.wikipedia.org/wiki/Chittagonian_language
    //www.ethnologue.com/show_language.asp?code=ctg
    আপনার তথ্যসূত্রে অনুসরণকৃত বইগুলো নাম দিয়ে দিলে পাঠকের জন্য একটু যাচাই করে দেখে নিতে সুবিধে হতো। আর আর্য অনার্য নিয়ে যে আলোচনা করছেন, তাতে কিছু আপত্তি আছে। এটা কলোনিয়াল ডিস্কোর্স পুরোপুরি। মিশ্রণ ঘটে নাই এমন জাতি কম আছে, এবং এই মিশ্রণটাই স্বাভাবিক। তবে কিছু জাতি এক পর্যায়ে এই মিশ্রণ নিষিদ্ধ করে অন্য জাতির লোকজনের সাথে। কিন্তু পরবর্তীতে সেটাকে আর অক্ষুন্ন রাখতে পারে নি, তখন সেইটা সীমিত করে রাজপরিবার , সম্ভ্রান্ত বংশ ইত্যাদিদের জন্য। বাঙালি জাতির বিকাশের একটা মজার বিষয়ই হইলো এই মিশ্রণ। একটা মিশ্রিত জাতি। আর যত বেশি জাতি মিশ্রিত হইছে, সংকরায়ন ঘটেছে, তত বেশি তার সভ্যতা ও চিন্তার উন্নয়ন ঘটেছে, এটাই স্বাভাবিক।
    আর ড. রমিত আজাদ আদিবাসী বিষয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণার "শিকার" হইছেন বলে মনে হচ্ছে। আশা করি নিম্নোক্ত নোটের লিঙ্কটিতে তার অনেক প্রশ্নের উত্তর রয়েছে-
    //www.unmochon.net/node/1731

    এই নোটে আলোচনাকারী ক্যাডেটের সকল বন্ধুদের জন্যই শুভকামনা। লেখকের কাছে হতে দ্রুতই পরবর্তী পর্বগুলো প্রত্যাশা করছি। 🙂

    জবাব দিন
  12. ড. রমিত আজাদ আদিবাসী বিষয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণার “শিকার” হইছেন বলে মনে হচ্ছে।

    এটিই তাদের বিশ্বাস, একে অন্ধ জীবন দর্শনও বলা যায়।

    আগেই বলেছি, বাঙালি উগ্র জাত্যাভিমানের বিষফোঁড়ার দুষিত রক্ত ও পুঁজ শুধু ভাষাগত সংখ্যালঘু আদিবাসী জনজীবনকেই বিষিয়ে তুলছে না, এটি পঁচন ধরাচ্ছে বাঙালির গৌরবময় অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিতেও [দ্র. ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)-এর মন্তব্যসমূহ্র]।

    ত্রিদিব রায়ই আদিবাসী ইতিহাসে শেষ কথা নন, শুরু তো ননই।

    বিএনপি-জামাত-সম অধিকার তথা সেনা-সেটেলার কোং বরাবরই ত্রিদিবের ভূত সামনে এনে আদিবাসীর মুক্তিযুদ্ধের মহান আত্নত্যাগের ইতিহাস মুছে দিতে চায়; এদের লক্ষ্য সন্তু লারমা, উপলক্ষ ত্রিদিব মাত্র। চিন্তনটি ওই উগ্র জাত্যাভিমানেরই গর্ভজাত। [দ্র. পাহাড়ের মুক্তিযুদ্ধ: অন্য আলোয় দেখা //mukto-mona.com/bangla_blog/?p=21204]

    জবাব দিন
    • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

      মহান মুক্তিযুদ্ধে চাকমা, মার্মা তথা পাহাড়ীদের অনেকেই অংশ নিয়েছিলেন এটা আমি আগেই উল্লেখ করেছি। তাদের প্রতি আমার স্যালুটও প্রদর্শন করেছি। একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখুন।

      জবাব দিন
      • @ রমিত
        [মহান মুক্তিযুদ্ধে চাকমা, মার্মা তথা পাহাড়ীদের অনেকেই অংশ নিয়েছিলেন এটা আমি আগেই উল্লেখ করেছি]

        সাথে সাথে এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছি- সব আদিবাসী `চাকমা' নয় এবং চাকমা রাজার প্রজাও নয়।

        @ বিপ্লব
        [ত্রিদিব রায়ই আদিবাসী ইতিহাসে শেষ কথা নন, শুরু তো ননই]
        তা-তো অবশ্যই নয়। অধিকন্তু, একটি পরিবারের একজনের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধি অবস্থানের মাধ্যমে পরিবারের সকলে রাজাকার হয়ে যায় না।

        জবাব দিন
        • @ ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

          মহান মুক্তিযুদ্ধে চাকমা, মার্মা তথা পাহাড়ীদের অনেকেই অংশ নিয়েছিলেন এটা আমি আগেই উল্লেখ করেছি। তাদের প্রতি আমার স্যালুটও প্রদর্শন করেছি। একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখুন।

          আদিবাসী বিষয়ক তর্ক-বিতর্কে ত্রিদিব রায়ের রাজাকারিত্ব বা সন্তু লারমার জাতীয় পতাকায় ঈমানী পরীক্ষার প্রশ্নটি অপ্রসঙ্গ। কিন্তু এরপরেও বিএনপি-জামাত-সম অধিকার তথা সেনা-সেটেলার কোং বরাবরই ত্রিদিবের ভূত সামনে এনে আদিবাসীর মুক্তিযুদ্ধের মহান আত্নত্যাগের ইতিহাস মুছে দিতে চায়; এদের আসল লক্ষ্য সন্তু লারমা, উপলক্ষ ত্রিদিব মাত্র। চিন্তনটি উগ্র জাত্যাভিমানেরই গর্ভজাত; এর আদি উৎস সামন্তবাদে, মোল্লাতন্ত্রে।

          জবাব দিন
        • @ রাইদাং,

          আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ। পাহাড়ের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে একটি তিন পর্বের নোট লিখেছিলাম, সেখানে ত্রিদিব রায় প্রসঙ্গও আছে। পড়ার বিনীত অনুরোধ রইলো।

          পাহাড়ের মুক্তিযুদ্ধ: অন্য আলোয় দেখা
          //mukto-mona.com/bangla_blog/?p=21204

          চলুক।

          জবাব দিন
  13. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    মন্তব্যে বিপ্লব রহমান ও কামরুস সালামের অংশগ্রহণে বোঝাই যাচ্ছে এই পোস্টের পরবর্তী পর্বগুলোর দায়বদ্ধতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেলো।
    বাংলার ইতিহাস ও পাহাড়ি/আদিবাসী/উপজাতি ইস্যুতে শুধু সিসিবির পাঠকদের কথা মনে রাখলেই চলবেনা, অন্তর্জাল/ব্লগের বৃহৎ পাঠককূলের কথা মাথায় রেখে লেখককে পরিশ্রমী ও সতর্ক হতে হবে।
    পাশাপাশি পাহাড়ি বন্ধুদের আরো সরব অংশগ্রহণ আশা করছি। বিশেষ করে আমরা যখন তাঁদের স্বদেশপ্রেম নিয়ে ঢালাওভাবে অভিযোগ করছি, বলছি দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন এবং দেশকে কখনোই ভালোবাসেননা।

    জবাব দিন
    • আমিতো এটাই বুঝলাম না আজও, দেশপ্রেমহীনতা বা দেশের বিরুদ্ধতা করার মত কি ঘটল?? নিজের দেশতো নিজের মায়ের মত, নিজের আশ্রয়, নিজের ভূমি এবং সর্বোপরি নিজের অস্তিত্ত্ব………এর বিরুদ্ধে আমরা কেন, কোন ব্যক্তিরইতো যাওয়া উচিত নয়।
      মূলত রাষ্ট্রের উপাদান সরকারকে (যেই দল প্রতিনিধিত্ব করে) নিয়ে সমালোচনা করা হয়, সেতো পদলেহনকারীরা ছাড়া সবাই করে। আর আরেকটা কথা নিজের দেশের অভিভাবকের কাছে যখন কেউ সুবিচার পাবেনা, সে কি করবে?! আমার মতেতো দুটোই রাস্তা – ১।বিশ্ব মানবিকতার কাছে গিয়ে তার না পাওয়া সুবিচারটুকু চাইবে, অথবা ২।অভিভাবকের অধীন থেকে সরে গিয়ে সাবালক হবার চেষ্টা করবে।
      প্রথম পয়েন্টে আসি, বাংলাদেশ নিশ্চয়ই বিশ্ব থেকে আলাদা কোন ভূখন্ড নয়। সমগ্র বিশ্বের এথনিক মাইনরিটিরা রয়েছে ভালনারেবল অবস্থায়, যেকোন মূহুর্তেই একটি জাতিস্বত্তা বা একটি ভাষা হারিয়ে যেতে পারে পৃথিবীর বুক থেকে। এটা কেবল সেই জাতিস্বত্তা বা ভাষা অবস্থাকারী রাষ্ট্রেরই একক সমস্যা ভাবলে তা সঙ্কীর্ণ মনের পরিচয় হয়ে যাবে। এটা সমগ্র মানবজাতির সম্মিলিত সমস্যা এবং অপূরণীয় ক্ষতি। তাই সম্মিলিত এই লক্ষ্যের ফসল জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক স্থায়ী আদিবাসী ফোরাম (সরকারতো আবার এই সংস্থার বৈধতা নিয়েও চ্যালেঞ্জ করেছে ইকোসকের কাছে)। যেখানে আমাদের অধিকারের কিছু কথা বলা হয়েছে আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের মঙ্গলের জন্য। সেটা কিভাবে দেশবিরোধী প্রচার হল, যারা বলেন তারাই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। আর গ্লোবালাইজেশন ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার যুগে আন্তর্জাতিক বিশ্বে খবর পৌঁছার জন্য এখন কোন কমপ্লেইন লেটার লাগেনা। আমার নিজের ভাষাইতো হারিয়ে গেছে। যেই চাকমা ভাষা আমরা বলি সেটাতে চাটগাইয়া শব্দের পেনাট্রেশনটা অনেক বেশী, তারপর লেখার হরফ থাকলেও কেউইতো লিখতে পারিনা। আর এই অঞ্চলের অন্যান্য সমস্যা - জমি দখল, পরিকল্পিত সংঘর্ষ, হত্যা, ধর্ষণ সেগুলো নয় তুলেই রাখলাম।
      আসি দ্বিতীয় পয়েন্টে, দ্বিতীয় পথটা কিন্তু আমাদের কেউই চায়না। যদিও আমরা ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ এই হাইপথেটিকেল কন্সেপ্ট আবহমান কাল ধরে চলে আসছে। শান্তিবাহিনী যখন বর্তমান ছিলো তখন এই ধারণা বলা যায় সমগ্র বাংলাদেশেরই ছিলো (তখন রাইট টু ফ্রিডম অফ স্পিচ ফর প্রেস এবং প্র্যাক্টিস অফ হিউম্যান রাইটস কতটুকুই বা ছিলো, আমজনতা যা জানতো তা ছিলো প্রেস মিডিয়ার ভুল সংবাদ ও বিকৃত উপস্থাপন এবং মিলিটারিদের প্রেসব্রিফিং এর নিউজ)। আজ শান্তিচুক্তির এত বছর পরে যখন আর আন্ডারগ্রাউন্ড হবার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা তখন এই দাবী কমে এসেছে। তবুও সরকার, রাজনৈতিক দল, মিলিটারিবাহিনী এবং একাংশ বাঙ্গালী (সে যতই শিক্ষিত ডিগ্রীধারী হোক না কেন) সন্দেহ মুক্ত হতেই পারছেননা কোন মতে। মাঝেমধ্যে করুণাও হয়, কেন যে আমাদের মত স্বল্প সংখ্যক জনসংখ্যার জন্য তারা এত ইন্সিকিওরিটি ফিল করেন! আমরা স্বাধীনতা চাইলে নতুন সংবিধান চাইতাম, এই সংবিধানের প্রয়োজন হতনা। কিন্তু এই সংবিধানেই সঠিক পরিচয় স্ট্যাবলিশ করার জন্যই আমাদের আজকের আকুল দাবী।
      কাজেই বিশ্বমানবতার মত বৃহত্তর কোন বিষয় (আমিত্ব টাইপের জাতীয়তাবাদের তুলনায়তো বটেই) কেবল জাতীয়তাবাদের আলোকে বিবেচনা করলে (বিভিন্ন উপাদান যেমনঃ মানবাধিকার, মানব ইতিহাস, সভ্যতা ইত্যাদি বাদ দিয়ে) ফলাফল যে ভুল আসবে সেটাতো স্বাভাবিকই।

      জবাব দিন
  14. ধন্যবাদ মডারেটর আমার লিঙ্ক ও কমেন্ট পোস্ট করার জন্য । মুক্তি যুদ্ধ কেবল বাংঙালীরা করেনি। অনেক আদিবাসীরা করেছে । আমার লেখাটা পড়ুন ।

    জবাব দিন
  15. মিঃ মাজহার কে ধন্যবাদ আলোচনার ক্ষেত্র সৃষ্টির জন্য।

    ১) পুরো আলোচনাটি আগ্রহ ব্যঞ্জক;
    ২) সিংহভাগ অংশগ্রহণকারীর তর্ক - যুক্তি নির্ভর, উদার, আশাউদ্দীপক;
    ৩) যারা "তাল গাছটি আমার" দর্শন নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন তারা আমজনতাকে ভুল পথে পরিচালিত করেন।

    জবাব দিন
    • ডঃ রমিত আজাদ,

      আপনি যেই মেজর জেনারেলের প্রসংগ নিয়ে এসেছেন তিনিই যে উগ্র জাতীয়তাবাদের দোষে দুষ্ট। পার্বত্য চট্টগ্রামের সব ইস্যুই তিনি মিলিটারীয় দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখেন এবং সমাধান ও দেন সেভাবেই। আদিবাসী দিবসের প্রায়ই সকল টক শোতে তিনি আসেন এবং একই ভাংগা রেকর্ড বাজাতে থাকেন। জীবনেওতো শুনলাম না কোন গঠনমূলক আলোচনা করতে। সহজ কথায় উনি একজন উন্নাসিক ব্যক্তি।

      আলোচনার একটা পর্যায়ে আপনি নিজেই লিখলেন মানুষের আইডিওলজি আলাদা হতেই পারে, চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়েরও ছিল, তার মানে কি তাকে যুদ্ধাপরাধী বলা যায়!? তিনিতো আলবদর বাহিনী গড়ে তুলেননি, মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দেননি, লুঠ, হত্যা বা ধর্ষণের মত কোন ঘৃণ্য কাজে মদদ দেননি। তাহলে, শুধু আদর্শিক পার্থক্যই কি মানবতাবাদী অপরাধ হতে পারে?!

      ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আজ যদি বাংলাদেশ যুদ্ধে পরাজিত হত তাহলে বর্তমান ইতিহাস কি হত? তখন গোলাম আজম, নিজামীরা হত পূর্বপাকিস্তানের নায়ক আর যারা পাকিস্তান শোষকগোষ্ঠীর বিপক্ষে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন এবং শহীদও হয়েছেন তাদের সংজ্ঞা হত ভিন্ন। সব বিষয়ই কিন্তু একই আছে কেবল মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। যাহোক কথাটা সেভাবে প্রাসংগিক নয় তবুও বললাম এই কারণে যে প্রতিটা জিনিষেরই/ বিষয়েরই পয়েন্ট অব ভিউ বেসিস এ ভিন্ন ব্যাখ্যা থাকতে পারে। রাজা ত্রিদিব রায়ের ভালো পলিটিকেল টার্ম ছিল সেই দলের সাথে এবং সেটা এমন নয় যে কেবল ৭১ এর অল্প আগে থেকে, সেই টার্মস বহু আগে থেকেই ধারাবাহিকভাবে চলে এসেছে, সেটারই ধারাবাহিকতায় তিনি পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলেন, তার মানে এই নয় যে বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধচারণের জন্যই পাকিস্তানের পক্ষে গিয়েছিলেন। যাই হোক তাকে সমর্থন করাটাও আমার উদ্দেশ্য নয়। যেটা বলতে চাচ্ছি, তার সেই কার্যকলাপকে ওভারহাইপ করে আমাদের পাহাড়ী আদিবাসীদের মানবাধিকারকে অস্বীকার করাটাতো অমানবিক তাইনা?

      আরাকান থেকে এসে চাকমাদের দক্ষিণ চট্টগ্রাম বিজয় তারপর মোঘলদের দাপটে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করে বসতি স্থাপন করা এগুলোতো অস্বীকার করার নয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই শ্বাপদসঙ্কুল পার্বত্য চট্টগ্রামে কি আর কোন মানুষের (বিশেষত মূল বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী) বসতি এর আগে ছিল (দয়া করে কেউ জানলে ইতিহাস শেয়ার করবেন প্লীজ, আর গঠনমূলক মন্তব্যতো বটেই)?! আজ যারা বাংলাদেশের মূল আদিবাসী, অনার্য দের বংশধর বলে বর্তমান বাংলাদেশ ভূখন্ডের আসল মালিকানা দাবী করছেন তাদেরকে সবিনয়ে বলি বাংলাদেশের বয়স তো মাত্র ৪১ বছর, পাহাড়ীরা এই অঞ্ছলে (পার্বত্য চট্টগ্রাম) এসেছে নিদেন পক্ষে ৫০০ বছরতো বটেই, তখন কি কেও জানতো যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নামের একটি দেশ হবে এবং এই সদা স্বাধীন থাকা ভূখন্ড এই রাষ্ট্রযন্ত্রেরই অংশ হবে। তিব্বত, নেপাল, মায়ানমার, নর্থইস্ট ইন্ডিয়া – এসকল অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং তার মানব জনগোষ্ঠীসমূহের মাইগ্রেশনের ইতিহাস দেখলেইতো বোঝা যায় যে মাইগ্রেশনের ট্র্যাক পার্বত্যচট্টগ্রামে আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। মানব সভ্যতার ইতিহাসের একটা অংশইতো বোধ করি মাইগ্রেশন। তার মানেতো এই নয় যে ইতিহাসের এই প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করে আমাদের বর্তমানকে দমন করে একটি বিকৃত ভবিষ্যত গড়া উচিত।

      আমরা কিন্তু কখনই বলিনা যে সমগ্র বাংলাদেশের আদিবাসী আমরা পাহাড়ীরা, কেবল যেটা বলি পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী। রাষ্ট্রের সীমানা যেহেতু পরিবর্তিত, সঙ্কুচিত অথবা পরিবর্ধিত হতে পারে তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন বাংলাদেশের অংশ……সেই অর্থে (ব্রডার সেন্স এ) আমরা বাংলাদেশের আদিবাসী। বোধহয় কনফিউশন থাকলে বলা ভালো বাংলাদেশের পার্বত্যঞ্চলের আদিবাসী।

      জবাব দিন
      • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

        আমার কিছু ভুল ধারণা ছিল। আমি নতুন করে ভাবব।
        আসলে, আমি এই সংক্রান্ত লিটারেচার পাইনি। না পেলে পড়ব কি করে। তাছাড়া আপনাদের সাথেও তো কম্যুনিকেশন হয়নি। যে দু'একজনার সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে তারা কখনোই কিছু বলেনি। তবে একটি কথা বলতে পারি, তাদের কাছ থেকে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে কোন অভিযোগ পাবেন না।

        আপনাদের অনুরোধ করব, আরো বেশী বেশী লিখুন, যাতে আমরা জানতে পারি।
        আমি আপনাদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে দুঃখিত।
        একটু আমাকে বোঝার চেষ্টা করুন, আপনার মত আমিও আমার জাতিকে ভালোবাসি।

        জবাব দিন
        • না ভাইয়া, আপনার লেখায় সেই অর্থে তেমন কষ্ট পাইনি, কারণ, এরচেয়েও অনেক খারাপ পরিস্থিতি আমাদের face করতে হয়।
          আর উপলদ্ধি মানুষকে মহৎ করে বলে আমি মনে করি। তাই অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।

          জবাব দিন
          • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

            এই লেখায় আমি সহ অনেকেই খুব এ্যাগ্রেসিভ কমেন্ট করে বসেছে। ক্ষেপে গেলে যা হয় আর কি। আপনি অনেকটাই নিরপেক্ষ ও সংযত কমেন্ট করার চেষ্টা করেছেন। আপনার এই বুদ্ধিদীপ্ত কমেন্ট আমার ভালো লেগেছে। অনেক কিছু শিখতে ও জানতে পেরেছি, যা আমার জানা ছিল না। এই তর্ক-বিতর্ক করে ভালোই হলো। শেষ পর্যন্ত আপনারা অংশ নিলেন, এটার প্রয়োজন ছিল সবচাইতে বেশী। তা নইলে এত গভীর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতাম না। আপনাদের মনে আঘাত দেয়ার জন্য, আমি আবারও দুঃখ প্রকাশ করছি। এটা মূলতঃ ছিল মিস-ইনফর্মেশনের জন্য। আমি চেষ্টা করব, আপনাদের সম্পর্কে আরো বেশী করে পড়তে, বেশী করে জানতে এবং নতুন করে ভাবতে। আপনারাও এগিয়ে আসুন, আপনাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। আপনাদের সম্পর্কে আমাদেরকে জানান।
            এই ব্লগে আমার লেখা, 'পাহাড়, সমতল ও হৃদয়ের গল্প' লেখাটি পড়বেন আশা করি। আপনার কমেন্ট আমার কাজে লাগবে।

            জবাব দিন
            • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

              আলোচনায় সহনশীলতা থাকলে যে সকলেই উপকৃত হয় তা'র উদাহরণ হয়ে থাকল মাজহারের এ'ই ব্লগটি।

              আদিবাসীদের সম্পর্কে অনেক তথ্যও জানা হলো নানাজনের মন্তব্যের মাধ্যমে।

              মাজহারসহ সকলকেই আন্তরিক ধন্যবাদ।


              There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

              জবাব দিন
      • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

        ইব্রাহীম সাহেব আজকাল রাজাকারদের হাত থেকে পুরষ্কার নেন।


        এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

        জবাব দিন
      • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)
        আরাকান থেকে এসে চাকমাদের দক্ষিণ চট্টগ্রাম বিজয় তারপর মোঘলদের দাপটে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করে বসতি স্থাপন করা এগুলোতো অস্বীকার করার নয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই শ্বাপদসঙ্কুল পার্বত্য চট্টগ্রামে কি আর কোন মানুষের (বিশেষত মূল বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী) বসতি এর আগে ছিল (দয়া করে কেউ জানলে ইতিহাস শেয়ার করবেন প্লীজ, আর গঠনমূলক মন্তব্যতো বটেই)?! আজ যারা বাংলাদেশের মূল আদিবাসী, অনার্য দের বংশধর বলে বর্তমান বাংলাদেশ ভূখন্ডের আসল মালিকানা দাবী করছেন তাদেরকে সবিনয়ে বলি বাংলাদেশের বয়স তো মাত্র ৪১ বছর, পাহাড়ীরা এই অঞ্ছলে (পার্বত্য চট্টগ্রাম) এসেছে নিদেন পক্ষে ৫০০ বছরতো বটেই, তখন কি কেও জানতো যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নামের একটি দেশ হবে এবং এই সদা স্বাধীন থাকা ভূখন্ড এই রাষ্ট্রযন্ত্রেরই অংশ হবে। তিব্বত, নেপাল, মায়ানমার, নর্থইস্ট ইন্ডিয়া – এসকল অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং তার মানব জনগোষ্ঠীসমূহের মাইগ্রেশনের ইতিহাস দেখলেইতো বোঝা যায় যে মাইগ্রেশনের ট্র্যাক পার্বত্যচট্টগ্রামে আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। মানব সভ্যতার ইতিহাসের একটা অংশইতো বোধ করি মাইগ্রেশন। তার মানেতো এই নয় যে ইতিহাসের এই প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করে আমাদের বর্তমানকে দমন করে একটি বিকৃত ভবিষ্যত গড়া উচিত।

        সাধু সাধু


        এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

        জবাব দিন
      • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)
        আমরা কিন্তু কখনই বলিনা যে সমগ্র বাংলাদেশের আদিবাসী আমরা পাহাড়ীরা, কেবল যেটা বলি পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী।

        :boss:


        এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

        জবাব দিন
    • রায়হান রশিদ (৮৬ - ৯০)

      @ ড. রমিত আজাদ,

      উপরে আপনি মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম এর উল্লেখ করায় ভাল হয়েছে, তাতে অবস্থানগুলো বুঝতে আরও সুবিধা হল। জেনারেল ইব্রাহিমের নিচের এই ছবিটি ভালভাবে লক্ষ্য করুন:

      জেনারেল ইব্রাহীম মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি নিচ্ছেন ছাত্র-শিবিরের কাছ থেকে

      উপরে যুদ্ধাপরাধ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে আপনার মন্তব্যগুলো পড়লাম, এর সাথে ত্রিদিব রায়কে জড়িয়েও কিছু মন্তব্য করেছেন দেখলাম। আপনার নিজের মাপকাঠিতেই এই ছবি দেখবার পর জেনারেল ইব্রাহিম (বীর প্রতীক)-কে নিয়ে এখন কি ভাবেন তা জানার আগ্রহ হচ্ছে।

      উপরে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে আপনি আরও একটি মন্তব্য করেছেন, (সবিনয়ে বলি) যেখানে রাজনৈতিক অবস্থানকে যুদ্ধাপরাধের সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে বলে মনে করি। স্বাধীনতার পক্ষে থাকা বা না থাকা একটা রাজনৈতিক অবস্থান। শুধু রাজনৈতিক অবস্থান নেয়া হলেই "আন্তর্জাতিক অপরাধ" সংঘটিত হয়ে যায় না। আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটিত হয় তখনই যখন সুনির্দিষ্টভাবে 'মানবতাবিরোধী অপরাধ', 'গণহত্যা', 'যুদ্ধাপরাধ' সংঘটন করা হয়। আর উল্লেখ করা এই প্রতিটি অপরাধেরই রয়েছে নিজস্ব সংজ্ঞা, এবং মাপকাঠি। মনগড়াভাবে এবং ঢালাওভাবে স্রেফ রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য কাউকে "আন্তর্জাতিক অপরাধ"-এর জন্য দায়ী করার সুযোগ নেই।
      আমাদের ইতিহাসের আলোকে ১৯৭১ সালে সংঘটিত অপরাধগুলোর বিচারের তাৎপর্য আসলে কি তা নতুন করে ব্যাখ্যা করা নিষ্প্রয়োজন। প্রায় আড়াই বছরের বেশী হয়ে গেল বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার চলছে। এই বিচারকে এবং অপরাধগুলোকে ভালভাবে অনুধাবন করা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য, শিক্ষিতদের ভাগে সে দায়, স্বাভাবিকভাবেই, আরও বেশী। কোনটা অপরাধ আর কোনটা অপরাধ নয় ইত্যাদি প্রাথমিক বিষয়গুলোর ব্যাপারে এখনও কারও মধ্যে কোনো ধরণের বিভ্রান্তি বা অজ্ঞতা থাকাটা আসলেই অনভিপ্রেত। এই বিষয়গুলো আরও ভালভাবে জানতে আগ্রহী হলে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (ICSF) এর নিয়মিত ওয়ার্কশপগুলোর একটিতে অংশগ্রহণের আহ্বান থাকলো, সবার প্রতিই।

      ধন্যবাদ।

      জবাব দিন
      • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

        ধন্যবাদ রায়হান ভাই।
        ঐদিন আমি ইব্রাহিম সাহেব রাজাকারদের সাথে ক্যানো বলায় কোন এক এক ক্যাডেট গ্রুপে আমাকে বলা হয়, আগে তার মতো যোগ্য হয়ে তার ব্যাপারে কথা বলতে।
        আমি আর কথা বাড়াই নাই।


        এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

        জবাব দিন
  16. ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

    জনাব মডারেটর/ব্লগ এ্যাডজুট্যান্ট, প্রচুর মন্তব্য হচ্ছে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক, কটাক্ষমূলক ও ব্যঙ্গবিদ্রুপসম্পন্ন। এই বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

    জবাব দিন
  17. জাতিবিদ্বেষ পৃথিবীতে নতুন নয়। পৃথিবীর প্রায় সব কয়টি দেশেই ছিল Racism নামের দুর্গন্ধ ময় জিনিসটি এবং আছেও। কেউ অতীত ইতিহাসের জন্য apologies করেছে আর কেউ হয়ত সে পথে হাঁটছেন। এবং যুগে যুগে সংখালঘুরাই নির্যাতনের শিকার।

    বাংলাদেশে ও কেন Racism ছিল বলছি তার কারন জানতে চাইলে পরে দেখুন
    //www.internal-displacement.org/8025708F004CE90B/(httpDocuments)/71D8A2D94AB475FC802570B70058779C/$file/Life+is+not+ours+-+UPDATE+4.pdf

    মাঝে মাঝে তো মনে হয় পূর্ব পাকিস্তানের কাছে পশ্চিম পাকিস্তানের কাছে ঠিক যেমন ছিল, জুম্ম দের কাছে বাঙ্গালিরা ও ঠিক তেমনি। যাই হোক সংবিধানের সংশোধনী আসার আগে চিন্তা করেছিলাম মনে হয় বাংলাদেশ তার পথেই হাঁটছে। কিন্তু আমি হুট করেই জানতে পারলাম আমার চিন্তা টা কতোটা ভুল ছিল। বাংলাদেশ তো এখনও পরে আছে সেই আদিম ভাবনাই যে বাঙ্গালিরাই বাংলাদেশের আদিবাসী। মাঝে মাঝে না হেসে পারি না।

    হাসির কারন আমরা এখনও বুঝে উঠেই পারি নি যে আদিবাসী কিংবা Indigenous শব্দটি কি প্রকাশ করে।
    জাতিসঙ্গের আদিবাসী শব্দটির প্রয়োগ করার প্রধান কারন ছিল সব দেশে পিছিয়ে পরে সংখালঘু জাতিদের ঐতিহ্য এবং অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একটি রাস্তা আবিস্কার করা।
    আর বাংলাদেশের বাঙ্গালিরা কি চমৎকার এই রাস্তা কে দেখছে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্তের প্রতি হুমকি। আর তার কারণেই এত কিছু।

    এই বিষয়ের জন্য মন্তব্য উঠে আসছে ইতিহাস, জাতীয়তাবাদ আরও কতো কিছু। পরিস্কার ভাবে বলে দিলেই তো হয় বাংলাদেশ এখনও এতোটা উদার হতে পারে নি। তার জন্য আমি চাকমা হয়ে এখন পরিচয় দিতে হবে বাঙালি হিসেবে।

    এত কিছু করছেন, দেখছেন, শিখছেন, একটু কি দেখেছেন আমাদের প্রতি ৭৬ ঠেকে আজ অবধি কিরকম নির্যাতন করেছেন। তার জন্য কি একটিবার ক্ষমা চেয়েছেন? লজ্জিত হয়েছেন সরকারের এই কাজ দেখে??

    এই মন্তব্য করার কিছুক্ষন আগে জানতে পারলাম খাগড়াছড়ি তে জায়গা দখল নিয়ে মারামারি এক চাকমা পরিবারের ৩ জন আহত। বাঙালি ভাইটি চাকমা পরিবারের জায়গায় গিয়েছিল বাড়ি তুলতে তাও আবার পুলিশের প্রহরায়।
    বিস্তারিত পড়ুন //www.samakal24.com/details.php?news=16&action=main&menu_type&option=single&news_id=286434&pub_no=1150&type

    //www.samakal24.com/details.php?news=16&action=main&menu_type&option=single&news_id=286434&pub_no=1150&type

    আমরা নাকি স্বাধীন বাংলাদেশে থাকি, যেখানে জীবনের নিরাপত্তা নেই, নেই বসতভিতার নিরাপত্তা।

    আজও আমাকে মুখোমুখি হতে হয় ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮) এর মত শিক্ষিত ব্যক্তিত্তের সাথে। জুক্তির জোরে আমি কিভাবে পারবো বলুন। আমি অসহায়, আমি অশিক্ষিত, আমি জংলি, আমরা সাপ খাই, আমরা ব্যাঙ খাই।

    তাই কিছু মনের কথা প্রকাশ করা। যদি কোনও বাংলালি বন্ধু বুঝতে পারে আমার বেদনা। হয়ত মনের সুখে পার্বত্য চট্টগ্রামে একদিন গেংগুলি হবে কোনও দুচিন্তা ছাড়া। আর আমাকে মা বলবে না, "বাড়ি আসিস না, মারামারি হচ্ছে"

    জবাব দিন
    • চাকমা,
      আপনার আবেগ এবং দুঃখের সাথে আমিতো একমত হবোই স্বাভাবিক, এবং এও জানি মূল বাঙ্গালী স্রোতের সাথে যখন মিশতে হয় বিভিন্ন কারণে (পড়াশুনা, চাকুরি ইত্যাদি) তখন এমন কোন পাহাড়ী নেই যে কিছু অস্বস্তিকর মূহুর্ত, অপমান, হিউমিলিয়েশন বা কটাক্ষের শিকার হয়না এবং সেইটা করে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাঙ্গালী………কিন্তু তারপরও বলবো সব বাঙ্গালীদের জেনারেলাইজ করাটা হবে অন্যায়। প্রত্যেক পাহাড়ীদের যেমন খারাপ অভিজ্ঞতা আছে তেমনি প্রত্যেকেরই কমবেশী ভালো বাঙ্গালী বন্ধু-বান্ধব ও আছে। আর যারা এই ব্লগে লিখছেন সবাইতো মানবাধিকার এবং ইতিহাসের পক্ষেই কথা বলছেন, তাদেরকে তো ছোট করা উচিত নয় নিশ্চয়! কারণ আমাদের পক্ষে বলার খুব একটা প্রয়োজনতো তাদের নেই, তাও বলছেন মানবিকতা বেঁচে আছে দেখেই। জেনারেলাইজ করাটা (যেমনঃ বাঙ্গালীরা এই সেই) খুবই অন্যায় হবে।

      জবাব দিন
      • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

        মুক্তি চাকমা,
        বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের মধ্যে আমরা যারা আছি তারা প্রত্যেকেই রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে সমান দৃষ্টিভংগী এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করতে পারি।কিন্তু এদেশে দুর্বলেরা সবসময়েই বৈষম্যের শিকার হয়ে এসেছে এবং এটা একটা সর্বজনগ্রাহ্য পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে।
        এহেন পরিস্থিতিতে মানুষের জন্যে মানুষের কথা বলার প্রয়োজন কখনো ফুরিয়ে যায়না।
        সেখানে হিন্দু-মুসলমান, বাঙালি-পাহাড়ি, নারী-পুরুষ, সাদা-কালো ইত্যাকার বেষ্টনী থেকে বেরিয়ে গিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এক দল মানুষকে দাবিয়ে রেখে আরেক দল মানুষ শেষ পর্যন্ত ভালো থাকতে পারেনা - ইতিহাস তাই বলে। কাজেই আপনার ভালো থাকাটা আমার, আমার সন্ততিদের ভালো থাকার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

        জবাব দিন
        • নূপুরদা,

          প্রয়োজন নেই বলতে আসলে বোঝাতে চাইছিলাম -

          ১। একটি সংখ্যার ব্যক্তি যারা আমাদের সম্পর্কে জানেইনা বা আমাদের উন্নয়ন তাদের সম্পর্কিত সমস্যা নয় বলে হাত ঝেড়ে বসে থাকেন বা হঠাৎ করে নাজানা থেকে জানায় পর্যবসিত হয়ে নিজেদের গভীর wisdom এবং philosophy ঝাড়ার ঠেলায় আমাদের নাস্তানাবুদ করার চেষ্টা করেন (অল্প বিদ্যা আসলেই যে কত ভয়ঙ্কর হতে পারে এর শিকার না হলে বোঝা যায়না, আর ভুল বিদ্যার কথাতো বাদই দিলাম),

          ২। অপর আরেকটি সংখ্যা যারা অল্প জানেন, বেশী জানেন বা ভুল জানেন কিন্তু অনড় যুক্তি নিয়ে গেড়ে বসে থাকেন যে আমাদের উন্নয়ন মানে তাদের অবনতি, আমরা দেশের শান্তিতে জঞ্জালের স্তূপ তৈরী করছি, আমরা জংলী, বাংলা ভাষা পারিনা, শিক্ষিততো নইই সভ্যও নই, মেয়েরা ফর্সা - আকর্ষণীয় কিন্তু সস্তা - এক কাপ চা খাওয়ালেই গলে যায় - তাদের পাওয়া যায় (এটি কেবল স্বল্প শিক্ষিতদের বিচার নয় স্বয়ং বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে)। আর এসবের ঠেলায় আমাদের অস্থির করে রাখেন।

          আমার আট মাস বয়স থেকে বেড়ে উঠেছি চট্টগ্রামে, সেখানকার স্কুলের গন্ডি পেড়িয়ে ক্যাডেট কলেজ তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুব বেশী হয়নি আমি রাঙ্গামাটি এসেছি আর আমাদের সংস্কৃতির সাথে প্রথমবারের মত পরিচিত হচ্ছি। মেধা তালিকায় স্থান পেয়ে ভার্সিটিতে 'আইন' পেয়েছিলাম তাও কোটার খোটা সবসময়ই পেয়ে গেছি, খোটা পেয়েছি আমরা নাকি সরকার আর আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে শুধুই সুবিধা আর সুবিধাই পাই (তাও আহাম্মকের মত অভিযোগের শেষ নেই আমাদের)। পাহাড়ীতো বটেই পাহাড়ী 'মেয়ে' হিসেবে টিজিং এর অত্যাচারের শিকার হওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। আমার বাবার চাকুরি সূত্রে যখন চট্টগ্রামে আসি সে সময় আমি আট মাস, আমার মা যুবতী, দুই বোন টিনেজ পেরিয়ে যৌবনের দিকে, আর চাকমারা বলতে গেলে কেউই তখনো পাহাড়ী অঞ্চল ছেড়ে বাংলাদেশের সমতলের দিকে পা বাড়ায়নি। চিল আর বাজপাখিদের শ্যেন দৃষ্টি থেকে যেমন শিকার তার সন্তানদের আগলে রাখে তেমনি আমার বাবাও মেয়েদের আগলে রেখেছিলেন সেভাবে। প্রথমদিকের পাহাড়ী হিসেবে প্রথমবার বাঙ্গালী অধ্যুষিত অঞ্চলে এসে বসবাস করা আমরা কি face করেছি আমরাই জানি। আমরা ছিলাম চলমান চিড়িয়াখানা – যেখানেই যাই পিছনে বড় gathering থাকতো সাথে অদ্ভুত আর অমানবিক সব মন্তব্য। এমনো গেছে দুবার দুটি দল রাত্রে বাসার মধ্যে ঢুকতে চেয়েছে – একবার ভুলিয়ে ভালিয়ে আরেকবার দরজা ভাংগার চেষ্টা করে (এই সময় দরজার বাইরে থেকে pressure দিয়ে ভাঙ্গার চেষ্টা করা হয় আর ভিতর থেকে দরজায় ঠেস দিয়ে তা প্রতিহত করা হয়, দীর্ঘক্ষণ চলে এই ধস্তাধস্তি। ঘটনা চক্রে এই দিন সকালেই দরজায় extra ছিটকিনি লাগানো হয়) – ঢুকতে পারলে কি হত তা সহজেই অনুমেয়।ভাবলেই গা শিউরে উঠে।cadet college, varsity কোথায় পাইনি পাহাড়ী হওয়ার জন্য খারাপ আচরন!! এ যেন এক আজন্ম পাপ!!

          এই বৃহৎ অংশের আচরনকেই আসলে বোঝাতে চাচ্ছিলাম। তারা তো প্রয়োজন বোধ করছেননা, তাগিদ অনুভব করছেননা আমাদের মানুষ ভাবতে। তারপরওতো জীবনটা কেটে যাচ্ছে, আমাদের বক্তব্য, আমাদের মানুষ প্রমাণ করার সংগ্রাম আমরা আমাদের তাগিদেই করে যাচ্ছি।

          আর যারা আপনার মত মুক্তচিন্তার অধিকারী, মানবাধিকারের অনুসারী (বেশ অনে…ক বাঙ্গালী আমি পেয়েছি, দেখেছি – কখনো বন্ধু হিসেবে, কখনো শুভাকাংখী হিসেবে) তাদেরকে আমি কোন শ্রেণীর মধ্যেই ফেলতে চাইনা, কারণ তারা সকল শ্রেণীর ঊর্ধে গিয়ে কেবলই মানুষ যারা আর বাকীদেরও ভাবে ‘মানুষ’।

          একটি মাত্র লাইন বর্ণনা করতে গিয়ে আসলে একটু বেশীই বোধহয় আবেগী হয়ে পড়লাম আর একগাদা কথা লিখেও ফেললাম ।।।।।।। :shy:

          ধন্যবাদ দাদা আপনাকে

          জবাব দিন
          • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

            মুক্তি চাকমা,
            আপনার মন্তব্যটি পড়ে আনন্দ-বেদনামাখা মিশ্র প্রতিক্রিয়া হলো।
            পাহাড়ি হিসেবে, নারী হিসেবে আপনি যে নিগ্রহ, বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন তার কথা কি আর বলবো বলুন! লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে আমি বাঙালি বলে, পুরুষ বলেও।
            মনে আছে, মেডিকেল কলেজের ক্লাসে আমাদের পাহাড়ি সহপাঠী পড়া পারেনি বলে তাকেও পুরো ক্লাসের সামনে শুনতে হয়েছিলো, পারবে কি করে, করো তো শান্তিবাহিনী! আমাদের অনেকের প্রচণ্ড খারাপ লাগলেও কেউ প্রতিবাদ পর্যন্ত করিনি, চুপ থেকে 'শিক্ষকের' অন্যায় আচরণে 'সায়' দিয়ে গেছি।

            আর পাহাড়ি মেয়েদের প্রতি অসম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি তো ছোট থেকেই দেখছি।

            এতকিছুর মধ্য দিয়েও আপনি ক্যাডেট কলেজে পড়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন - আপনাকে স্যালুট। এতকিছুর পরেও আপনার বিবেচনাবোধ লুপ্ত হয়নি - বাঙালিমাত্রেই আপনার বিদ্বেষের কারণ হয়ে ওঠেনি।এ মানসিকতা অর্জন করতে হয় - এমনি এমনি আসেনা।

            সমাজ, দেশ অথবা ভৌগলিক সীমারেখার ভিন্নতা থেকে (কিংবা লিংগ বা সক্ষমতার ভিন্নতা থেকেও) আমরা বিভিন্ন মানুষ হয়ে উঠেছি। কিন্তু এ ভিন্নতা বৈচিত্র‍্যের হোক, বিভেদের না হোক।

            আমরা যত কথা বলবো, জড়তা ভেঙ্গে নিজেদের যত প্রকাশ করবো তত ভুল বোঝাবুঝিগুলো কমে আসবে, দূরত্ব একদিন মিলিয়ে যাবে।এটা খুব প্রয়োজন।
            আপনার যদি কোন ক্ষোভ থাকে, অকপটে বলুন।আমার থাকলে আমিও বলবো।

            রমিত ভাইয়ের অনেক কথা মেনে নিতে পারিনি বলে এখানে বললাম। ভেবে দেখুন, তিনিও কিন্তু যেটুকু জানতেন বা মানতেন তা অকপটে বললেন, লুকিয়ে রাখেননি - শেষে নিজের কিছু ভুলের কথা, কিছু তথ্য না জানার কথা বলেছেন। ঢেউ উঠবে ভেবে চুপও করে থাকতে পারতেন কিন্তু।তাতে আমরা এই আলোচনাটা পেতামনা।

            শেষে: যখন জানছি আপনি ক্যাডেট ছিলেন, তখন আপনাকে অনুরোধ করছি সিসিবিতে যোগ দিন। ক্যাডেট কলেজ এবং আরো অনেককিছু নিয়ে এখানে আমরা কত আড্ডাবাজিই না করে চলেছি, দেখছেন নিশ্চয়ই। প্লিজ এখানে আসুন।

            জবাব দিন
            • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

              নূপুর তোমার মন্তব্য যথাযথ ও সুন্দর হয়েছে। আমার সম্পর্কে যা বলেছ, সেটাও ঠিক আছে। তথ্যের ঘাটতির কারণেই আমার কিছু ভুল ধারণা ছিল। আমার ভুল ভেঙেছে। তাছাড়া মুক্তি (যিনি আমাদেরই একজন) কিন্তু আমাদের দিকটাও বোঝার চেষ্টা করেছে, তাদের দিকটাও তুলে ধরেছে। এটাই তো প্রয়োজন। একে অপরকে বুঝতে পারলেই তো অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়; যেমন ব্যাক্তি জীবনে তেমনি সমাজ জীবনে।
              মুক্তি, বাঙালীদের অনেক আনকালচারড ব্যবহারের কথা আমি জানি। সেটা তারা বাঙালী-বাঙালীতেও করে। বদমাসরা দুর্বলদের (সামাজিক বা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল বাঙালী, বাঙালী হিন্দু, পাহাড়ী) সাথে একটু বেশী করে। আমি নিজেও তো এগুলো ফেইস করেছি ও করছি। এইসব সম্পর্কে পরবর্তি কোন এক সময় একটা পোস্ট দেয়ার চেস্টা করব।

              জবাব দিন
              • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

                মুক্তি উপরে আপনার যে অভিজ্ঞতার কথা শুনলাম তা রোমহর্ষক। ঐসব নরপশুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ। তবে আপনার স্বান্তনার জন্য বলছি, আমরা বাঙালীরাও ঐসব পশুদের কাছ থেকে এহেন আচরণ পেয়ে থাকি। আমাদের পরিবারও কয়েকবার এটা ফেস করেছে। একটা আপনার সাথে শেয়ার করছি। আমি সেখানে সশরীরে উপস্থিত ছিলাম না। ঘটনাটা আমার ফুপার বাসায় ঘটেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলগুলোর অপতৎপরতা পছন্দ করতেন না, ছাত্রবৎসল ছিলেন, আবার নীরিহ ছিলেন। এই সব কিছু তাঁর জন্য কাল হলো। একদিন রাতে উনার বাসভবনে হামলা করে বসল, কিছু ছাত্র (অথবা ছাত্র নামধারী গুন্ডারা)। প্রধান দরজা ভেঙে, ড্রয়িংরূম ও ডাইনিংরূমের আসবাবপত্র তছনছ করে। ফুপা-ফুপু ও আমার বোন পিছনের দিকে একটা রূমে আশ্রয় নিয়ে কোনক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন। অথচ এই ফুপার ছোট ভাই, মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবির মর্যাদা পেয়েছিলেন। ফুপা নিজেও ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সততার জন্য পুরষ্কার পেয়েছিলেন। এরকম ভালো মানুষদের এই প্রতিদান দেয় আমাদের সমাজ!!!

                জবাব দিন
          • Dear Mukti apa,
            I am shocked and disappointed to know that, you were badly treated in your cadet college for being a pahari. I feel sorry about that. In my entire cadet life I never felt the same. I was never cornered in my college for being a chakma. My batch mates, seniors, teachers, staffs never showed any discriminatory or negative attitude. There was no prejudicial or distinguishing treatment of any individual based on this fact; no treatment or consideration of, or making a distinction in favor of or against anyone based on our different identities. Dear sister, I assure you that, the fellowship bond among all the faujians is beyond this shitty idea of differentiation. Somebody mentioned to have treated badly and called frog eaters or something. Well, I have a funny feeling about that because, there were occasions during our vacations my batch-mates, alternative seniors and alternative immediate seniors used to enjoy small or large get-together parties in our houses randomly and they all preferred (at one point it became permanent) my house for they loved to enjoy delicious frog meals, bamboo shoot, cidol tigon and other many different chakma cuisine. Haha… my good old days! Sis, I don’t know about girls but if you have a boy kid and if you are worried they will be treated as you were, I think now you know a place where you can send him.
            Now I would like you to consider some other facts too regarding the relationship between indigenous and Bengali population. Whenever we discuss this issue politically, we are meant to generalize as all political observations are based on general facts. It is ok to say ‘Bengalis’ treat us bad, they are racists, they are communal and so and so on. Obviously, it is a natural political expression as we all know the state is run by Bengalis. But when it comes to personal and different social levels, it is certainly unfair to generalize in a negative way based on some individuals’ actions. When people mix-up these ideas in discussions, the discussions are not mature enough to participate politically. It gets very difficult, sensitive to handle and obviously in the end it will make no sense at all.

            জবাব দিন
            • Dear Sourav,

              With the word ‘Cadet College’ I actually did not mean my entire friends or the entire cadet college. But yes I was badly treated by 2 or 3 female teachers. One of them was very much interested to point me as a Shanti Bahini and she was really over enthusiastic to talk on this topic rather than lecturing for studies. You won’t believe that this did not happen in only one or two classes. It happened in every class and I was just a class eight kid then. And so far my friends are concerned it was just one classmate who liked to vex me.

              I really do not think Bengalis are racist. A portion of them may treat us like we are savage..or whatever …… worst possible. But that really does not give the conclusion that a whole nation is racist and unkind. That particular portion is actually driven by some fallacies and some of them are really not enlightened enough (whatever the level of their education is) to respect a human being, that’s all.

              And one thing I do believe from the bottom of my heart that, the way women cannot establish Women Rights without men’s participation by their side, Bangalis’ participation and support in our movement will bring deliverance for our Adivasi Right

              জবাব দিন
  18. রমিত আজাদ সাহেব খুব করেই কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান জেনারেল ইব্রাহিমের লেখা প্রবন্ধের লিঙ্ক দিলেন ! এই কুখ্যাত জেনারেল ইব্রাহিম নিজেই একজন জাত্যাভিমানি, বর্ণবাদি পার্বত্য অঞ্চলে কুখ্যাত লোগাং এবং লংগদু গণহত্যা র সময় হাজার নিরীহ পাহাড়ি হত্যার নেতৃত্ব দিয়েছিল সে। তাঁর মুখে এসব প্রপাগান্ডা মূলক কথা থাকবেই।

    একজন মানুষ নিজ থেকে জাতি হতে পারলে কেন আরেক জন উপ জাতি !!!! হবে ??????

    দয়া করে বাঙালি দের দ্বারা পার্বত্য অঞ্চলের গণহত্যা ইতিহাস গুলো দেখবেন , সেখান কার নজির এমন হয়ে গেছে যে বাঙালি রা পাকি দের থেকে কোন অংশে কম যায় নি।

    জবাব দিন
    • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

      জনাব রসি, নিরীহ নিরাপরাধ মানুষ হত্যাকে আমি কখনোই সমর্থন করিনা। আমার কোন লেখা বা মন্তব্যে সেটা পাবেন না। নিরাপরাধ মানুষ হত্যা ঘৃণ্য ও পাপাচার। আমি থাকি পার্বত্য অঞ্চল থেকে অনেক দূরে। তাছাড়া বহু বছর দেশের বাইরেই ছিলাম। আমি পার্বত্য অঞ্চলে কখনো যাইনি। সেখানকার ভিতরের খবর আমি জানি না। দেশের পার্বত্য অঞ্চলে নিরীহ মানুষ হত্যা হয়ে থাকলে আমি তার কঠোর সমালোচনা করছি।

      জবাব দিন
  19. যে ব্যাক্তি স্বয়ং দেশের আর বাকি ৪৫ টি ভিন্ন জাতি সত্ত্বা কে উপজাতি কোটা সুবিধাভোগী বলে কটাক্ষ করতে পারে , সে নিজেই আবার ব্যাক্তি আক্রমণের ধোঁয়া তুলছেন !! কি চমৎকার দেখা গেল !!! তার প্রতি শুধু কটাক্ষ নয় অজস্র ঘৃণা বর্ষণ হোক

    জবাব দিন
    • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

      ব্যাক্তিগতভাবে আমি চাকুরী নিয়োগে যে কোন ধরণের কোটা বিরোধী। আমি মনে করি যে, সকল প্রকার কোটা সিস্টেম তুলে দিয়ে কেবলমাত্র মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া উচিৎ।

      জবাব দিন
      • ডঃ রমিত আজাদ,

        আগে একটা প্রশ্ন করি মেধা জিনিষটা কি??!! কিভাবে গড়ে ওঠে এই মেধা??

        সাধারণত কোটা (শিক্ষার ক্ষেত্রেই হোক বা চাকুরীর ক্ষেত্রেই হোক) নিয়ে অনেক জনমনে ক্ষোভ দেখা যায় যে তারা এত কষ্ট করে competitive পরীক্ষায় বসে কিন্তু কোথা থেকে যেন একটি শ্রেণী কোটার মাধ্যমে ছোঁ মেরে সেই সুযোগ নিয়ে যায়। ব্যক্তিগতভাবে আসলে যে এই ক্ষতির সম্মূখীন হয় তার আবেগের বিরুদ্ধে বলার মত জ্ঞান আমার নেই কারণ সেটা আমার জানা কোন theory বা strategyর মধ্যে পড়েনা।
        তবে কোটা কেন দেয়া হয় তা বলার চেষ্টা করতে পারি। Development fieldএ একটা রূপক ব্যবহার করা হয় তা হল – আপনি একটা সীমানা নির্ধারণ করলেন যেখানে সবাই দৌঁড়ে পৌঁছাবে, কিন্তু, যারা দৌঁড় শুরু করল তারা ট্র্যাকের একই point থেকে নয় বরং ভিন্নভিন্ন দূরত্ব (আগে পিছে) থেকে দৌঁড় শুরু করল। তাহলে যে আগে আছে সেইইতো প্রথমে পৌঁছাবে, সেই দৌঁড়ের result কি ন্যায্য হবে?

        অথবা

        অন্যভাবে বলতে গেলে একটা নির্দিষ্ট দূরত্বের দৌঁড়ে আপনি দাঁড় করিয়ে দিলেন শিশু, বৃদ্ধ, নারী এবং পুরুষকে – তাহলে সেইতো জিতবে যে সবচেয়ে fit, কারণ এখানে সবার fitness সমান নয়, এক্ষেত্রেও কিন্তু competitionটা অসম, ফলাফল ন্যায্য হবেনা।

        তাই যে কোন শিক্ষা এবং চাকুরীতে কোটার ব্যবস্থা করা হয় কিন্তু, অসম competitionএর ফলাফলকে ন্যায্যতা প্রদানের জন্য, to establish equity and equality before social justice. নারী, আদিবাসী, দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী, পেছনে পড়ে থাকা সম্প্রদায়, সংখ্যালঘু, পিছিয়ে পরা অঞ্চল - তাদের জন্যতো primary, secondary, post secondary পড়াশুনা সকলের মত সহজসাধ্য নয়। আর পড়াশুনা মানেই যে কেবল পাঠ্যবই তা নয় কিন্তু, আরও অনেক শিক্ষার উপাদান থাকে যে গুলো মানুষ দেখে দেখে শিখে (নগরজীবনে যেমন এর অভাব নেই), কিন্তু অঞ্চলের বা বাসস্থানের backwardness এর কারনে সেখানকার স্থানীয়রা এসব থেকে বঞ্চিত হয়। আপনিই বলুননা শহরের কোন স্কুলের সাথে কি সেই অঞ্চলের স্কুলের তুলনা হবে যেখানে শিশুদের প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয় ৫/৬ ঘন্টা দুর্গম পাহাড়ের রাস্তায় পা মাড়িয়ে। বা তুলনা করুননা আপনার স্কুল এবং এই অঞ্চলের স্কুল – কেবল বলার মত একটিই বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরী ক্লাসরুম, এই গ্রামে পৌছাতে লাগে ৭/৮ দিনের টানা হাঁটা (যেকোন মূহুর্তে সম্ভাবনা থাকে পাহাড়ের খাদে পড়ে যাওয়ার), চিকিৎসা সেবা পাওয়ার বালাই নেই, শিক্ষক সাকুল্যে একজন বা দুজন যারা নিজেরাই বাংলাভাষায় অদক্ষ। তাহলে আপনিই বলুন এদের মধ্যে থেকে কেউ যদি ভুলক্রমেও নগরজীবন পর্যন্ত উঠে আসে তাহলে কি তার অধিকার নেই উচ্চশিক্ষার বা একটি চাকুরির? আর সে যদি নাগরিক জীবনের সুবিধাদি প্রাপ্তদের সাথে competitionএ বসে তাহলে যা ফলাফল আসবে তাতে কি ন্যায় থাকবে??!! আপনি হয়তো জানেননা কোটার সুবিধা থাকলেও অনেক সময় minimum requirements ও fulfil হয়না বিধায় তারা eligible হননা এবং কোটার সীট খালি থেকে যায়।

        একটা দেশ কিন্তু তার সকল শ্রেণীর নাগরিকের উন্নয়নের মাধ্যমেই সমৃদ্ধ হয় (উন্নয়নের measurement কিন্তু এখন অনেক বিস্তৃত), তার মানবসুচক উন্ন্ত হয়। তাই এই কোটা কেবল কারো ব্যক্তিগত উন্নয়ন বা কেবল একটি গোষ্ঠীর একক উন্নয়ন তা ভাবাটা কিন্তু ভুল, কারণ এটা সমগ্র দেশ এবং জাতির উন্নয়ন। আর Developmentএর ভাষায় কেউই অযোগ্য নয়, যে সুযোগ সুবিধা পাবে, পুষ্টি পাবে, সঠিক শিক্ষা পাবে সেই উন্নত হবে। কারণ মেধা জাতি হিসেবে, বর্ণ হিসেবে বা ধর্ম হিসেবেতো আর আসেনা। যেইই সুযোগ সুবিধা পাবে সেই polished হবে।

        যেই extra advantage দেয়া হচ্ছে তা কিন্তু আপনি যদি ব্যক্তি স্বার্থের কথা চিন্তা করেন অবশ্যই extra, কিন্তু mainstreamএর (সুবিধা প্রাপ্ত) সাথে তুলনা করে collective interest এর কথা যদি ভাবেন তাহলে কিন্তু অবশ্যই বলতে হয় এটা extra কিছু নয়। জীবনের সুযোগ-সুবিধাগুলো আপনারা পেয়েছেন, আমাদের পায়নি, তাই কোটা সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে আমাদের আপনাদের সমকক্ষ করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশও কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে কোটার সুবিধা ভোগ করে থাকে। যে অবস্থানুসারে উন্নত, তাকে, পেছনের জনকে টেনে তুলতে ছাড় দিতেই হয়।

        আমার বাংলার তো বেশ প্রশংসা করেছেন আগে- সেসব কিন্তু নাগরিক জীবনের এবং অর্থনৈতিক সুবিধা প্রাপ্তির সৌভাগ্যের ফল। বরং আমি বলব কেবল আদিবাসীদের নয়, তৃতীয়লিঙ্গ (একজন মানুষের মগজের চেয়ে লিঙ্গের বেশী গুরুত্ব তা বোধ করি এই অভাগা উপমহাদেশেই কেবল দেখা যায়), হরিজন, পিছিয়ে থাকা এলাকা – যাদেরকেই mainstreamএ তুলে আনার প্রয়োজন তাদেরই কোটা সহ অন্যান্য সুবিধা দিতে হবে।যখন একটা সময় আসবে সকলে একই point থেকে দৌঁড় শুরুর জন্য সমান যোগ্য হবে, তখন আর এই অতিরিক্ত সুবিধাদির প্রয়োজন পড়বেনা, কিন্তু তত দিন পর্যন্ত যে মনঃকষ্ট নিয়েও এই বিষয়টা মানতে হবে।

        জবাব দিন
        • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

          অনেক বড় মন্তব্য। মনযোগ দিয়ে পড়ে অনেক চিন্তা ভাবনা করে উত্তরটা দিতে হবে। এখানে দুদিক থেকেই যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে।
          আমি আপাততঃ কেবল চাকুরী ক্ষেত্রে যেকোন ধরনের, সেটা নারী-পুরুষ, জেলা, ইত্যাদি কোটা বিরোধী। আমি মনে করি এক্ষেত্রে মেধাই একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিৎ। এটা আমার প্রাপ্তির জন্য নয়। রাষ্ট্রযন্ত্রের উন্নয়নের কথা ভেবেই। ওয়েল কোয়ালিফাইড লোকজন দ্বারা রাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত ভালো চলার কথা। আর বিভিন্ন স্তরের মানুষের মেধার বিকাশের জন্য যা প্রয়োজন (মূলত: ভালো শিক্ষক তথা ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা) তা সমাজ/রাষ্ট্র-কে করতেই হবে। কেউ যেন সুযোগ-সুবিধার অভাবে পিছিয়ে না থাকে।

          জবাব দিন
        • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)

          বাংলাদেশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব কম। আমাদের জাতীয় উন্নয়ন শ্লথ হওয়ার এটা অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করি। আমি আমার জীবনে দেশে ও বিদেশে বহুবার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছি (এই প্রতিযোগিতার মনোভাব ক্যাডেট কলেজ আমাকে শিখিয়েছে )। সেই সব প্রতিযোগিতায় কখনো সফল হয়েছি কখনো ব্যর্থ হয়েছি। সফলতায় আনন্দ হয়েছে, ব্যর্থতাকে মেনে নিয়েছি। এই ভেবে মেনে নি্যেছি যে, যারা সফল হয়েছে তারা আমার চাইতে অধিক গুনাগুন সম্পন্ন। আমাকেও ঐ গুনাগুন অর্জন করার চেষ্টা করতে হবে। বাংলাদেশ যে কোটা সুবিধাগুলি ভোগ করে এটা আমার পছন্দ নয় (অনেকেই আমার সাথে একমত হবেনা জানি ), আমি চাই বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা করতে শিখুক। প্রতিযোগিতা করেই বিশ্বের দরবারে স্থান করে নিক। কেবলমাত্র তখনই আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।

          জবাব দিন
  20. আমাদের ইতিহাস চর্চা খুবই খণ্ডিত ভাবে হয়েছে। লেখক, ড. রমিত আজাদের সমমনষ্ক যারা আছেন, যারা ভাবেন আদিবাসী মানে আদিবাসিন্দা, অথবা Indigenous শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে বেঠিকভাবে আদিবাসী শব্দটি নতুন প্রচলন হয়েছে, বা উপজাতিদের(!) সুবিধা আদায়ের নতুন ষড়যন্ত্র (!!!) হচ্ছে নিজেদের আদিবাসী পরিচয়ে পরিচিত করা, তাদের জন্য উপরে একটি লিঙ্ক শেয়ার করেছিলাম লেখায়, কিন্তু সেটি হয়তো কেউ কেউ গিয়ে পড়ার মত যোগ্যই মনে করছে না। ফলে কিছু আলোচনা সরাসরিই এখানে তুলে দেওয়া প্রয়োজন মনে করছি-

    মূলত, নৃতত্ত্ববিদরা "উপজাতি"র বদলে "আদিবাসী" শব্দটি ব্যবহার করেন শব্দটি "বৈষম্যমূলক" নয় বলেই, "উপজাতি" শব্দটির মধ্যে একধরণের উপনিবেশিক বৈষম্যমূলক চিন্তারই প্রকাশ ঘটে, কিন্তু আদিবাসী শব্দটি অনেক আগে থেকেই এই অঞ্চলে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রচলিত ছিলো। এবং এখন যাদের বলা হয়, তাদেরকে চিহ্নিত করতেই!!! তাহলে এই শাব্দিক ও পরচয়ভিত্তিক বিতর্ক কেনো এবং কোন উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে সেটা একটা প্রশ্ন।

    এই ব্যাপারে আমার এক পোস্টে (//mukto-mona.com/bangla_blog/?p=18389) খুবই মজার আলোচনা করেছেন অডং চাকমা, তার আলোচনাটিই এখানে তুলে দিচ্ছি সরাসরি-

    "" আদিবাসী কারা – এ ব্যাপারে সংজ্ঞা খুঁজা অনর্থক। বাংলাদেশ সরকার তথা তথাকথিত বাঙালি সুশীল সমাজের একটা বড় অংশ এ অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিতর্ক টেনে এনেছেন বা কুটতর্ক করতে চাচ্ছেন। “আদিবাসী” ধারণা নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কারা আদিবাসী আর কারা আদিবাসী নয়, সংশ্লিষ্ট জনগণই ঠিক করবে। সরকার বা কারোর অন্য কাউকে জোর করে পরিচিতি চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।বরং কারোর উপর জোর করে পরিচিতি চাপিয়ে দেওয়াটা অনধিকার চর্চা, যেই চর্চাটা সরকার বা তথাকথিত বাঙালী বুদ্ধিজীবিদের বড় অংশ করতে চাচ্ছেন।

    এখানে আরো একটা কথা বলা ভালো, যারা এখন “আদিবাসী”, “উপজাতি” ইত্যাদি নিয়ে আবোল তাবোল বকছেন, আর আদিবাসী স্বীকৃতি দিলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হবে ইত্যাদি যুক্তি দাঁড় করাতে চাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য কখনো সৎ ছিলো না, এখনো নেই। বরং তারা শব্দগত ধাঁধা বা শব্দ নিয়ে ভেলকিবাজী খেলতে চাচ্ছেন।কয়েকটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা পরিস্কার হয়ে যাবে।

    ১) আদিবাসী শব্দটি বাংলাদেশে নতুন নয়। অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন আইনে আদিবাসী শব্দ ছিলো এবং এখনো বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে লেখা আছে। যেমন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’, ‘বঙ্গীয় প্রজাসত্ত্ব আইন ১৯৫০, ও আয়কর সংক্রান্ত আইন। আয়কর আইনের আওতায় পাহাড়ের মানুষকে পার্বত্য অঞ্চলে আয়কর দিতে হয় না। এসব আইনে indigenous hillmen ও aboriginals লেখা আছে। এসব শব্দের বাংলা অনুবাদ “আদিবাসী” লেখা হয়।

    ২) বাংলাদেশের সমগ্র তথাকথিত “উপজাতি”দের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও বাঙালরা বহিরাগত হয়ে যাবে না। কারণ, জনবল, ধনবল, রাষ্ট্রক্ষমতা সব বাঙালদের হাতে। অর্থাৎ পুরো রাষ্ট্রক্ষমতা বাঙালদের হাতে। কাজেই আদিবাসীরা তাদের ক্ষীণ বল নিয়ে বাঙালদের রাষ্ট্র থেকে কিছু একটা খাবলে ছিনিয়ে নিতে পারবে – এমন ধারনা যারা নিজের মধ্যে পোষণ করেন, তাদের মধ্যে মানসিক সুষ্ঠুতা বা মানব উপযোগী যৌক্তিকতা (human rationality) আছে কী না বড়ই সন্দেহ হয়। মানুষকে যে যুক্তিবাদী প্রাণী বলা হয়, তারা সেই বর্গের মধ্যে তারা পড়ে কী না তা নিয়েও সন্দেহ জাগে।

    ৩) বিভিন্ন অজুহাতে যারা আদিবাসী মানতে নারাজ তাদের উছিলার শেষ নেই। তারা আসলে “আদিবাসী”, “উপজাতি” বা অন্য কোন দাবী মানেন না বাঙালদের দাবী ছাড়া। এ বিষয়টা ঐতিহাসিকভাবে পরিস্কার। যেমন, দেখুন ১৯৭২ সালে জেএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও তঃকালীন সংসদ সদস্য (বলা যায় একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য) এম এন লারমা যখন সংসদে দাঁড়িয়ে “উপজাতি” হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি চাইলেন, তখন বাঙালি নেতারা এম.এন লারমাকে তিরস্কার করেছিলেন। তারা “উপজাতি” মানতে রাজী ছিলেন না। শেখ সাহেব ও তার দলের নেতারা (বর্তমান সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীও ছিলেন) এম এন লারমাকে বললেন, “তোরা উপজাতি না। তোরা বাঙালি জাতির অংশ।মানে সবাই “বাঙালি”। এম.এন লারমা বোঝাতে চাইলেন, “আমরা বাঙালি নয়, বাপ দাদা চৌদ্দপুরুষ কেউ বলেনি আমরা বাঙালি”। তিনি জোর দিয়ে বললেন, “আমরা বাংলাদেশী। একথা বলাতে তৎকালীন আওয়ামীলীগের নেতারা এম.এন লারমাকে সংসদে তুলো ধুনো করেছিলেন। এক এমপি তো (বর্তমান পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী) রীতিমত অসৌজন্যমূলকভাষায় সংসদে এম.এন লারমাকে হুমকি দিয়েছিলেন।

    এম. এন লারমার সেই “উপজাতি” হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবী তৎকালীন নেতারা মানেননি। শেখ সাহেব রাঙামাটির এক সভায় বলেছিলেন, “আজ থেকে তোমাদের উপজাতি থেকে [বাঙালি] জাতিতে প্রমোশন দেয়া হল”। সংবিধানে এরকম অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে তা পুরোপুরি পাকাপোক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়।

    এরপর এম.এন লারমা জেএসএস নামক রাজনৈতিক দল গঠন করে জুম্মজাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে পাহাড়ী জনগণকে সংগঠিত করলেন। জুম্ম হিসেবে স্বীকৃতির দাবী করলেন। বলে রাখা ভালো, জুম্ম শব্দটা চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাঙালরা গালি হিসেবে ব্যবহার করতো।এই গালি যখন আত্মপরিচিতির একটা ভিত্তি পেলো তখন বাঙাল রাষ্ট্রের নেতারা কী বললেন? বাঙাল নেতারা ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা ধুঁয়া তুলতে লাগলেন, “না, জুম্ম হলো চাকমা শব্দ। আর এ শব্দের কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। তাছাড়া জুম্ম শব্দটি একটি সেকেলে ও আদিম চাষ পদ্ধতি থেকে নেওয়া হয়েছে। কাজেই পাহাড়ের মানুষ “জুম্ম” হিসেবে পরিচিতি পাবে সেটা মেনে নেওয়া যায়। তাদেরকে আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ানদের মত খোঁয়াড়ে আবদ্ধ রাখা হবে। এটা “আধুনিক” বাংলাদেশ রাষ্ট্রে সম্ভব হতে পারে না। দেখুন তো কী যুক্তি!

    বেশ বাঙালরা “উপজাতি” মানে না, “জুম্ম”ও মানে না। তাহলে কী মানে? শেষমেশ ’৯০-এ এসে পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হতে লাগলো। ক্রমে সেটা আরো সুদৃঢ় হতে লাগলো। সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে এসে জড়ো হতে লাগলো। বিভিন্ন সংগঠন হতে লাগলো। সমতলের লোকরা নিজেদের আদিবাসী বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। অন্যদিকে পাহাড়ের লোকজন পাহাড়ী বা জুম্ম হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। কিন্ত একটা জায়গায় একটু সমস্যা দেখা দিচ্ছিলো। ‘আদিবাসী’ বললে পাহাড়ের লোকজন বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম কেমন কেমন করতো, অন্যদিকে ‘পাহাড়ী’ বা ‘জুম্ম’ বললে সমতলের লোকজন বাদ পড়ে যায়। কিন্তু একত্রিত হওয়ার তো একটা জায়গা লাগবে। শেষমেশ পাহাড়ের নেতারা দেখলো, আদিবাসী বা indigenous বা aboriginals শব্দ তো অনেক আগে ছিলো। কাজেই আদিবাসী পরিচিতির মধ্যে কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। আদিবাসী শব্দটা পরে সবার গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে গেলো। আদিবাসী ব্যানারে বাংলাদেশের সকল তথাকথিত “উপজাতিরা” একত্রিত হতে লাগলো। এক স্বরে “আদিবাসী” হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতির দাবী জানাতে লাগলো। এই ন্যায্য দাবীর প্রতি দেশে বিদেশে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া গেলো। এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

    এই “আদিবাসী” দাবী যখন জোরালো হলো, তখন বাঙাল নেতারা, আমলা-সেনাতন্ত্র ও বাঙাল বুদ্ধিজীবিদের একটা অংশ বলতে লাগলো, “ওরা আদিবাসী হবে কেন? আমরাই আসল আদিবাসী। ওরা তো বাইরে থেকে এদেশে এসেছিল অর্থনৈতিক অভিবাসী হিসেবে”। বেশ, আর কী করা! এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত আদিবাসী মানেন না। সরকারীভাবে বলা হচ্ছে, “বাংলাদেশে আদিবাসী নেই, যারা আছে সবাই উপজাতি”। হা! হা! ‘উপজাতি’ হিসেবে যদি এখন মানেন তাহলে ‘৭২ সালে মানেননি কেন? তখন ‘উপজাতি’ থেকে বাঙালি জাতিতে প্রমোশন দিতে চাইলেন কেন?

    এসব উদাহরণ থেকে এখন আপনারাই বলুন, বাঙাল নেতারা বা বাঙালরা আসলে কোন শব্দটা মানেন? “উপজাতি”, না “আদিবাসী? অবশ্য সরকার আরো একটি শব্দের প্রতি স্বীকৃতি দিয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। এই শব্দটা যদি আগে থেকে “উপজাতিরা” গ্রহণ করতো তাহলে কী সরকার মেনে নিতো? ""

    এরপরে যে বিষয়টি আলোচনায় আসে, তা হলো জাতিসঙ্ঘের আদিবাসী বিষয়ক সনদে বাংলাদেশের স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকা এবং এদেশের আদিবাসীদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি না দেওয়া। এক্ষেত্রে অনেক পাগলই এটাকে বাইরের চক্রান্ত, আমেরিকা ইন্ডিয়ার ইত্যাদি ইতং বিতং দের চক্রান্ত বলে চিহ্নিত করে এক্ষেত্রে সরকারের অবস্থানকে সঠিক বলে চিহ্নিত করতে চান। বলি, আপনি না জেনেই লাফাচ্ছেন কেন ভাই? কারা আদিবাসী ঘোষণার বিরোধীতাকারী, কে সমর্থনকারী, কার যুক্তি কি, সেটা না জেনেই অন্যের কথা শুনে লাফ দেওয়াতো ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার কথা মনে করিয়ে দেয় আমাদের!!!
    এই দেখুন জাতিসংঘের আদিবাসী কনভেনশনের ব্যাপারে কার কী অবস্থান ছিলো এবং কে কি বলছে! এখানে ডিক্লারেশনের বিরোধিতাকারীদের (কারা বিরোধিতা করেছে খেয়াল করেছেন কী? Against: Australia, Canada, New Zealand, United States.) বক্তব্যগুলো একটু দেখে নিন! এদেশের শাসকশ্রেণির আদিবাসীদের বিরোধীতা করা কথার সাথে কেমন জানি মিলে যাচ্ছে, প্রায়ই একই যুক্তি কাঠামো দেখছি!!! কী আশ্চর্য্য...

    "Countries voting against the Declaration said they could not support it because of concerns over provisions on self-determination, land and resources rights and, among others, language giving indigenous peoples a right of veto over national legislation and State management of resources.

    Speaking in explanation of vote before the text was adopted, Canada's representative said that, unfortunately, the provisions in the Declaration on lands, territories and resources were overly broad, unclear, and capable of a wide variety of interpretations, discounting the need to recognize a range of rights over land and possibly putting into question matters that have been settled by treaty.

    The representative of the United States said that it was disappointing that the Human Rights Council had not responded to his country’s calls, in partnership with Council members, for States to undertake further work to generate a consensus text. The Declaration had been adopted by the Council in a splintered vote “…and risked endless conflicting interpretations and debate about its application, as already evidenced by the numerous complex interpretive statements issued by States at its adoption at the Human Rights Council, and the United States could not lend its support to such a text”.

    Australia’s representative said his Government had long expressed its dissatisfaction with the references to self-determination in the text. Self-determination applied to situations of decolonization and the break-up of States into smaller states with clearly defined population groups. It also applied where a particular group with a defined territory was disenfranchised and was denied political or civil rights. Australia supported and encouraged the full engagement of indigenous peoples in the democratic decision-making process, but did not support a concept that could be construed as encouraging action that would impair, even in part, the territorial and political integrity of a State with a system of democratic representative Government."

    একইসাথে সাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ভারতের ডিপ্লোমেটিক পজিশনটাও লক্ষ্য করতে পারেন-
    "AJAI MALHOTRA ( India) said his country had consistently favoured the promotion and protection of indigenous peoples’ rights. The fact that the working group ha
    d been unable to reach consensus was only reflective of the extreme complexity of the issues involved. While the Declaration did not define what constituted indigenous peoples, the issue of indigenous rights pertained to peoples in independent countries who were regarded as indigenous on account of their descent from the populations which inhabited the country, or a geographical region which the country belonged, at the time of conquest or colonization or the establishment of present State boundaries and who, irrespective of their legal status, retained some or all of their socio-economic, cultural and political institutions.

    Regarding references to the right to self-determination, it was his understanding that the right to self-determination applied only to peoples under foreign domination and that the concept did not apply to sovereign independent States or to a section of people or a nation, which was the essence of national integrity. The Declaration clarified that the right to self-determination would be exercised by indigenous peoples in terms of their right to autonomy or self-government in matters relating to their internal and local affairs, as well as means and ways for financing their autonomous functions. In addition, article 46 stated clearly that nothing in the Declaration might be interpreted as implying for any State, people, group or person any right to engage in any activity or to perform any act contrary to the Charter. It was on that basis that India had voted in favour of the adoption of the Declaration."

    কেউ কেউ দেখছি আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেওয়ার সাথে আমাদের ভাষা আন্দোলনের চেতনা, স্বাধীনতা যুদ্ধ, মুক্তির সংগ্রামের বৈপরীত্যমূলক সম্পর্ক নির্ধারণের চেষ্টা করছেন!!! কি কারণে ভাই? একটা বিষয় আগে ভাবেন তো আপনারা। পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টির পেছনে বড় ধরণের ভূমিকা তো এই পূর্ব বঙ্গের বঙ্গীয় মুসলমান সমাজই রাখছিলো, অথচ পাকিস্তান রাষ্ট্র হওয়ার পরে বাঙ্গালিরা কি তাদের অধিকারগুলো পাইছিলো? কেনো পায় নাই? ভাষার দাবি, স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবি- এগুলোকে বাদ দিয়াই কি এখানে স্বাধীনতার দাবি উঠছিলো? ক্রমান্বয়ে এই দাবিগুলো কেনো উঠে আসছিলো এই জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে? তার কি কোনো ভিত্তি ছিলো না? নাকি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র পাকিস্তান সৃষ্টির প্রথম থেকেই এখানকার বঙ্গীয় মুসলমান সমাজের মধ্যে ছিলো!!! ভাবেন, উত্তরটা আমার সাথে মেলে কিনা দেখেন। ‎"স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদ্বয় কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হয় নি। ১৯৪৭ এর ভুল শোধন হয় ১৯৭১ এ। যে এটাকে ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করে সে হয় মূর্খ, না হয় জারজ।" সাব্বাস!!! এইতো, আপনি লাইনে আসতেছেন! এবার সিধা কথা কন, কেনো ৪৭'এ পাকিস্তানের পক্ষে পূর্ব বঙ্গের মানুষের অবস্থানকে আপনি ভুল ভাবতাছেন? ৪৭'এ এদেশের মানুষ, রাজনীতিবিদ কেনো সেটা বোঝে নাই? ওরা কি এরপরে একদিনেই সব ভুল বুঝতে পারলো? নাকি ভুলের বিষয়ে আকাশ থেকে ওহী নাজিল হওয়াতে তা বুঝতে পারে? নাকি ৪৭ থেকে ৭১ অবধি পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক নানা প্রকার অত্যাচার, নিপীড়ণ, শোষণের মধ্য দিয়ে তা স্পষ্ট হয়? কেনো ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিপরীতে চরমভাবে রুখে দাঁড়ানো বাঙালি তখনই স্বাধীনতার সংগ্রামে নামে নি? কেনো ৭০ এর নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত্বশাসন দাবি করা হয়, স্বাধীনতা নয়? কেনো একাত্তরের ২৫ মার্চের পরে স্বাধীনতার সংগ্রাম অনিবার্য হয়ে পড়ে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ভাবতে থাকেন এবং আজকের প্রেক্ষাপটে আদিবাসীদের প্রতি বাঙালি শাসকগোষ্ঠীর অবস্থান চিন্তা করতে থাকো। দেখেনতো, মিল খুঁজে পান কিনা? এরকমটা এদেশের শাসকগোষ্ঠী চালাতে থাকলে কোনো একসময় আদিবাসীদের স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবি যদি স্বাধীনতার দাবিতে পরিণত হয়, তাতে অন্যায়টা কি হবে? আমাদের শাসকশ্রেণী, এই আমরা বাঙ্গালিরাই কি তাদের সেই দিকে ক্রমেই ঠেলে দিচ্ছি না? অতএব, সময় থাকতেই, সাধু সাবধান... 😉

    মূলত, আজকে বাংলাদেশে বাঙালি ও অপরাপর জাতিগুলোর মাঝে বিদ্বেষের বিষ ছড়িয়ে কার লাভ আসলে? একজন খেটে খাওয়া বাঙালি আর একজন খেটে খাওয়া কোনো সাঁওতাল, হাজং, মারমা... এদের মাঝে কোনো পার্থক্য আছে কি? এদের স্বার্থগত কোনো দ্বন্দ্ব থাকে কি? আমি দেখিনি। এই দ্বন্দ্ব শাসক শ্রেনিই তার প্রয়োজনে সৃষ্টি করে, লালন করে এবং তাতে ইন্ধন জোগায় কৌশলে। আমাদের সকলেরই এই বিষয়ে সচেতন থাকাটা জরুরী। আর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার যে ষড়যন্ত্রের যে ইঙ্গিত আমাদের কিছু নামকা ওয়াস্তে বুদ্ধিজীবিরা দেন, তা পুরাটাই গাঁজাখুরি গল্প মনে হয় আমার কাছে। ইন্ডিয়াতে তো আদিবাসী/ জনজাতির সংখ্যা আমাদের থেকেও বেশি! ওখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন-ও চলছে কিছু প্রদেশে অনেক বছর যাবত, এবং তা বেশ শক্তিশালীও বটে, তাহলে ওরা এই চার্টারে সই করে কিভাবে?

    আমরা যে রিস্ক ফিল করি, ওদের তো আরো বেশি সেই রিস্ক ফিল করার কথা ছিলো!!! কিন্তু যদি আমরা আমাদের দেশের আদিবাসীদের বিষয়টি, তাদের আবেগকে বুঝতে না শিখি, পরষ্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল না হই, তাহলে আমরা নিজেরাই নিজেদের পরষ্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন করবো, অধিকারের দাবীতে বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তখন, যে কারণে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য হয়েছিল... চক্রান্ত হলে, এটাই হলো সেই চক্রান্ত যে আমরা পরষ্পর নিজেদের মধ্যে সংঘাত করে এই রাষ্ট্রিটিকে বিভক্ত করবো, একজন মানুষ আরেকজনকে রক্তাক্ত করবে। তাহলেই ইঙ্গ-মার্কিন দক্ষিন এশিয়ায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যে পরিকল্পনা সহজে সফল হয় তা, অন্য কিছুই লাগে না। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই যে শব্দগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এটাকে যতদ্রুত সম্ভব দূর করা প্রয়োজন কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে, তা না হলে আমরা পারষ্পরিক বোঝাপড়ার ঘাটতিতে অনাবশ্যকভাবে পরষ্পর পরষ্পরের মুখোমুখি অবস্থান করবো হয়তো, এবং অনর্থক রক্তপাতের হাত থেকে আমাদের আদিবাসী ও বাঙালি ভাই-বোনদের রক্ষা করতে সক্ষম হবো না, যা হবে সবচেয়ে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জন্যই।

    সর্বোপরি, একটি স্বাধীন, সার্বোভৌম ভূখন্ডে অবস্থিত জাতিসমূহের মাঝে বিদ্বেষ জিইয়ে রাখা হয় কার স্বার্থে!?! কী সাঁওতাল, কী বাঙালি, কী চাকমা, কী হাজং, মারমা, রাখাইন- প্রত্যকেরই তো মূল পরিচয় আসলে মানুষ... নষ্টদের উদ্দেশ্য আমরা নির্বোধেরা আরো কতদিন সময় নিবো বুঝতে?!

    জবাব দিন
    • ড. রমিত আজাদ (৮২-৮৮)
      সাধারণ মানুষের মধ্যে এই যে শব্দগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এটাকে যতদ্রুত সম্ভব দূর করা প্রয়োজন কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে, তা না হলে আমরা পারষ্পরিক বোঝাপড়ার ঘাটতিতে অনাবশ্যকভাবে পরষ্পর পরষ্পরের মুখোমুখি অবস্থান করবো হয়তো, এবং অনর্থক রক্তপাতের হাত থেকে আমাদের আদিবাসী ও বাঙালি ভাই-বোনদের রক্ষা করতে সক্ষম হবো না, যা হবে সবচেয়ে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জন্যই।

      সহমত

      জবাব দিন
  21. প্রথমের লেখককে ধন্যবাদ এত কষ্ট করে এত সুন্দর লেখার জন্য।আরো ধন্যবাদ এই নগন্য মানুষ গুলোকে লেখার বিষয় মনে করার জন্য।আমি একজন চাকমা এবং বাঙালিদের ভাষায় উপজাতি ।তবে অনেকদিন ধরে জানার চেষ্টা করছি কোন জাতির উপজাতি আমরা(চাকমারা)?আমরা(চাকমারা)?এখনো খুজে পাইনি!!! কারণ অন্য কোন বৃহঃ অথবা ক্ষুদ্র জাতির সাথে মিল খুজে পাইনি! কেউ যদি খুজেঁ পান একটু ডাক দিয়েন। এবার একটু বাংলার ইতিহাস নিয়ে বলার চেষ্টা করি। আমার অবাক লাগে যখন দেখি সমগ্র পৃথিবী এবং উন্নতবিশ্ব মিশ্র কালচারাল সমাজের দিকে এগোচ্ছে তখন বাঙালি জাতি এগোচ্ছে ফ্যাসিজমের দিকে অথচ বাঙালি জাতিই যেখানে মিশ্র কালচারাল জাতির জলজ্যান্ত উদাহরণ।এইটা বাঙালিদের অস্বীকার করার কোন জো-নেই বাঙালি জাতি একটি মিশ্রজাতি। হুমায়ুন আজাদ স্যারের মতে বাঙালি জাতির পূর্বপুরুষ ভেজ্জারা তিনি বলেছেন, “বাঙালি জাতির শরীরে যুগেযুগে নানা জাতির রক্ত এসে ভালোবাসারর মতো মিশে গেছে”। আর বাংলার বিভিন্ন ঐতিহাসীকদের মতে “বাঙালি জাতির উদ্ভব নেগ্রিটো,অস্ট্রিক,দ্রাবিড়,ভোটচীনীয় ও আর্য জাতির মিশ্রন”। তাই আমরা বলতেই পারি নৃতাত্ত্বি পরিচয়ে বাঙালি জাতির উদ্ভব নয়,এই জাতির উদ্ভব মিশ্র জাতি ও সংস্কৃতিক মিশ্রনে। আর বাংলার প্রাচীন জনপদ গুলো সর্ম্পকে যে ধারনা পাওয়া যায় যেমন-পুন্ড্র,বরেন্দ্র,রাঢ়,বঙ্গ,গৌড়,সমতটও হরিকেল।সেখানে ঐতিহাসীকদের মধ্যে কেউ দাবি করতে পরেনি এগুলো বাঙালিদের জনপদ বলে।বরং ঐতিহাসীকদের মতে তখন বাঙালি জাতির উদ্ভব হয়নি।হয়নি।যেহেতু বাঙালি জাতির উদ্ভবে মিশ্র জাতি ও সংস্কৃতিক মিশ্রনে তাই আমরা বলতে পারি এর উদ্ভব বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিক উদ্ভবের সময়,যার শুরু খ্রীষ্টিয় ৯০০/১০০০ শতকে যদিও তখন বাঙালি জাতি বা ভাষার ধারনা আসেনি।১৫৭৬ সালে বাংলা বিজয়ে পর সম্রাট আকবরই প্রথম এই মিশ্র জাতিকে বাঙালি/বাংলার ধারনা দেন, যা সম্রাটের “আইন-ই-আকবরী”গ্রন্থে লেখা আছে। ঐতিহাসীকদের মতে, বাঙালি জাতির উদ্ভব ভাগীরতী নদীর আসেপাশের এলাকায় যা বর্তমানে ভারতের পশ্চিম বভ্গে। এবার আসি চট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্রগ্রামের ঐতিহাসীক বিচারে, সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় শায়েস্তা খান ১৬৭৮ সালের দিকে চাকমা রাজ্যে সামরিক অভিযান চালিয়ে বর্তমানের নিযামপুর রোড পর্যন্ত দখল করেন আর নাম দেন “ইসলামাবাদ”,ঐ সময়েই মোঘলদের মাধ্যমে বাঙালীরা চট্রগ্রাম এলাকায় প্রবেশ করে ।আর চাকমা রাজা তার রাজধানী রাঙ্গুনীয়া থেকে রাঙামাটি নিতে বাধ্য হন।তাই এখনো রাঙ্গুনীয়া ও চট্রগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাকমা রাজার প্রাসাদের অনেক পত্নতার্থিক নিদর্শন পাওয়া যায়।কাজেই ১৬৭৮ সালের আগ পর্যন্ত “হরিকেলের” মধ্যে বাঙালী জনপদের ধারণা করা বোকামি ও নিজেদের ঐতিহাসীকদের অস্বীকার করার সমান।আর চট্রগ্রাম ,বাংলা ও চাকমা রাজ্যের সীমান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল ইংরেজরা ১৮শতকে চাকমা রাজ্য দখলের আগ পর্যন্ত। এবার আসি আদিবাসী প্রসঙ্গে, UN এর মতে আদিবাসী হল যারা “কোন অঞ্চলে আগের কালের ঔপনিবেশিক শোষণ এবং পরবর্তীতে স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর মেইনস্ট্রিম বা সংখ্যাগুরু গোষ্ঠীর শাসন-শোষণের কারণে প্রাচীন সংস্কৃতি পুরোপুরি ধারণ করে আছে এমন যে গোষ্ঠীগুলো প্রান্তিক হয়ে পড়ে হয় তাদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি বিশেষ টার্ম” । আর যদি আদি বাসীন্দা হিসেবেও ধরা হয় তার পরও আমরা আদিবাসী। কারণ যেহেতু চাকমা রাজ্য বর্তমানে বাংলাদেশের ভিতরে আর আমরাই চাকমা রাজ্যের নাগরিক সেই হিসেবেও আমরা আদিবাসী।আর মিশ্রজাতী হিসেবে বাঙালীরা শুধু বাংলাদেশের নয়,শ্রীলঙ্কা(ভেজ্জারা শ্রীলঙ্কান),মালয়েশিয়া (অস্ট্রিকরা মালয়েশিয়ান), তিব্বত ,চীন, তুরস্ক, আরব,আফগান,ইউরোপ(আর্যরা ইউরোপিয়ান)বৃটেন,পর্তুগাল ইত্যাদি দেশের আদিবাসী হিসেবেও দাবি করতে পারে। তাই বলে আমাদের অস্বীকার করা মুর্খতা ছাড়া কিছুই না!!! আর আমি বুঝিনা ইউরোপ থেকে আমদানি ফ্যাসীবাদ কিছু কিছু বাঙালীরা কিসের ভিত্ত্বিতে ধারন করে । যেখানে তাদের রক্ত আর DNAএর মধ্যে লেখা আছে “মোরা মিশ্র” । আর চাকমাদের করে ঘৃনা,অথচ নিজেদের রক্তে/DNAতে চাকমাদের (ভোটচীনীয়) অটোজম(বংশগতির বাহক) বহন করে।

    জবাব দিন
  22. মাজহার (০৬-১২)

    আপনি কেন চাকমাদের কথাই কেন বললেন সেটা বুঝলাম না। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী তো অনেক আছে। যাই হোক আপনার নাম নেই তাই আপনাকে কিছু বলে সম্বোধন করতে পারছি না। হ্যাঁ, বাংলাদেশের নৃ-গোষ্ঠীদের ইতিহাস আসবে এর পরের কোন পর্বে। তবে এই কয়েকদিনের মাঝে আমি পারছি না, কারণ আমি আবারো ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছি, কারণ এখনো কোথাও আমার ভর্তি পরীক্ষাই হয় নি। তাই সময় পেলেই লেখবো।
    ধন্যবাদ।


    MJ

    জবাব দিন
    • মাজহার প্রথমে আপানাকে ধন্যবাদ জানাই সুন্দর লেখা অবতারনার জন্য । আমার অভ্র কাজ করেনি তায় অনেক কিছু লিখতে পারিনি। আপনাদের সবার জন্য সুপ্রাকাশ রাই এর বাংলার মুক্তি সংরামের ইতিহাস বইতি পরতে বলছি সেখানে সান্তাল, চাকমা ও অন্যান্য দের ইতিহাস আছে। এইটি পড়লে কিছু বিভ্রান্তি দূর হবে বলে মনে হয়।
      মুক্তা চাকমা আপনাকে ধন্যবাদ যুক্তিপূর্ণ লেখার জন্য।

      জবাব দিন
    • মাজহার,
      Tumbas কেবল চাকমাদের কথা বলার কারণ হল সে নিজে চাকমা এবং চাকমা প্রসঙ্গেই জানে (তার স্থানে নিজেকে রেখে বলছি)। কারণ পার্বত্য অঞ্চলে ১৪টি জাতিস্বত্তা, প্রত্যেকের ইতিহাস এবং উৎসও কিন্তু আবার আলাদা আলাদা। তাই প্রত্যেকেরটা জানা যেমন কঠিন, মনে রাখা আরও কঠিনতর। প্রচুর পড়তে যেমন হয়, তেমনি তথ্যের উৎসওতো যোগাড় করতে হবে, এবিষয়ে লিটারেচার পাওয়া সহজসাধ্য নয়।
      Anyway, wish you all the best for your admission……… 🙂

      জবাব দিন
  23. মুখ বন্ধঃ (মারমা, মগ, রাখাইন বিতর্ক এবং বোমাং রাজার ইতিহাস সম্পর্কিত একটি গবেষণা ধর্মী প্রবন্ধ,)

    রাখাইন , মারমা , মগ এই জাতি শব্দ তিনটি নাম নির্দেশ করলে ও এর নৃ ত্বাত্তিক গঠন ইতিহাস (Anthropological Profile) একই সুত্রে গাথা !! বচন উচ্চারণ ভঙ্গি এবং সাংস্কৃতিক কিছু ভিন্নতা থাকলে ও মুলতঃ এটি এক জাতি ! নৃ বিজ্ঞান এর সুত্র অনুযায়ী প্রতি ৭ বর্গ মাইল অন্তর অন্তর ভাষা উচ্চারণ এ ভিন্নতা, পরিবেশ এর জন্য সাংস্কৃতিক ভিন্নতা পরিলক্ষিত হতে পারে । উদাহারন স্বরূপ। বাঙালি জাতির, সিলেটি, চাটগাইয়া, ঢাকাইয়া, বরিশাইল্যা, নোয়াখাইল্যা, ইত্যাদি ভাষা ভিন্নতা এবং স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়, তেমনি, প্লেইং সা, ককদইং সা , রিগ্রিসা, সবই আমাদের আঞ্চলিক ভিন্নতা ও বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে !! মারমা, রাখাইন, মগ যে যে নামেই নিজেকে ডাকুক, নৃ ত্বাত্তিক ভাবে এক জাতি, কিন্তু রাজনৈতিক ভাবে আজ দুটি মতান্তরে তিনটি জাতি হিসেবে নির্দেশ করা যায় । Refferences: //en.wikipedia.org/wiki/Marma_people , //en.wikipedia.org/wiki/Rakhine_people , //en.wikipedia.org/wiki/Magh_people , //www.ethnologue.com/show_language.asp?code=mhv

    বোমাং রাজবংশের ইতিহাস আর মারমা রাখাইন মগ জাতির নৃ ত্বাত্ত্বিক লিনেজ কক্ষনই এক নয়, কারণ একটি রাজবংশ একটি নৃ তাত্ত্বিক জাতির পূর্বপুরুষ হতে পারে না । বোমাং রাজ বংশের তথ্য অনুযায়ী ১৫০০ সাল থেকে আজ ২০১২ সাল নাগাদ একটা পুরা জাতি ৫০০ বছরে এভাবে এক জায়গা থেকে অন্য স্থানে মাইগ্রেশন করা সম্ভব নয়। এছাড়া পেগু বা বর্তমান বাগো সে সময় মোন জাতির অধিকারে ছিল!! সেক্ষেত্রে আমাদের ভাষা মোন ভাষার সাথে না মিলে রাখাইন দের সাথে মিল পাওয়া যায়। গেজেট অনুযায়ী ব্রিটিশ রা পার্বত্য অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করেছে ১৮৬৯ সালে ক্যাপ্টেন টি এম লিউন এর নেতৃত্বে ( রেফারেন্স বইঃ Between the blood and hope ) সেখানে চাকমা ভিন্ন মগ বা মারমা জাতির কথা উল্লেখ আছে কুকি এবং ম্রো জাতির, আবার কক্সবাজার এবং আরাকানে রাখাইন বা মগ জাতির উল্লেখ। বস্তুতঃ তারা আমাদের সিনো টিবেটি ভাষা ভাষী কে মগ হিসেবেই অভিহিত করতো !! এন্সাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এবং ইথানোলগ (একটা নৃ তাত্ত্বিক সাইট)তাই তথ্য নির্দেশ করে । পার্বত্য চট্টগ্রাম কে নিয়ে লেখা রবার্ট হাচিনসন এর বই Account of the Chitagong Hill (একাউন্ট অফ দ্যা চিটাগাং হিল ট্রাক্টস) বইতে উল্লেখ করেছিলেন বোমাং রাজা দের ইতিহাসের বিভিন্ন ক্রনিকলস/ রাজোয়াং এর কথা কিন্তু এখানকার তৎকালীন অধিবাসিদের নৃ ত্বাত্তিক শিকড় কোথায় প্রোথিত তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন নি। তেমনি সেনা ক্যাপ্টেন লিউন এর বইতে নৃ ত্বাত্তিক বিষয়ের চাইতে এই এলাকার প্রশাসনিক বিষয় ইতিহাস সংস্কৃতি ও ভূগোল স্থান পেয়েছে।

    একটা বিষয় মানব ইতিহাসে খুবই স্পর্শ কাতর ব্যাপার, তা হলো আত্ম পরিচয় অধিকার। একই রকম ভাষা বৈশিষ্ট্য থাকা স্বত্তেও ইংলিশ এবং স্কটিশ রা একই জাতি নয় কারণ কিছু সাংস্কৃতিক পার্থক্য । কিন্তু নৃ ত্বত্তের ভিত্তিতে তারা একই জাতি হিসেবে নির্দেশ করে, প্রত্ন ত্বত্তিক গবেষণা তে পাওয়া যায় যে হাজার বছর আগে ঐ অঞ্চলের বাসিন্দা রা ছিল স্যাক্সন পরবর্তী তে ভাইকিং , নরম্যান, রোমান বিবিধ জাতির আগ্রাসনে মিশ্র হয়ে তারা আজকের ইংলিশ, স্কটিশ, ওয়েলস, আইরিশ জাতি তে বিভক্ত হয়েছে !! তেমনি আবার নৃ গোষ্ঠী বাঙাল দের সাথে অসমীয়া দের ঠিক এরুপ মিল আছে !!! সে ক্ষেত্রে রাখাইন এবং মারমা কে এক জাতি হিসেবে না বললে ও চলে। কিন্তু রাজ বংশের ইতিহাসের ভিত্তি তে দুটি জাতি গড়ে উঠেছে এ ধারনা অবাস্তব ।

    পার্বত্য অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রাচীন ইতিহাসে বর্মি রাজারা শাসন করেছে তার ইতিহাস নেই !! বরং আরাকানি রাজারা শাসন করতো মোঘল শাসনের ও পূর্বে । সে সময় রাজধানী ছিল ম্রাউক উ যা বর্তমান সিত্তওয়ে বা চইতে শহরের কাছেই । অন্যদিকে বোমাং রাজাদের ইতিহাস অনুযায়ী তাদের আদি রাজধানীর নাম ছিল পেগু/ বাগো বা বর্তমান বাগান। এটি ১৫৩০ সালে রাজা মিনি ঞো এর অধিপতি হয়ে উঠেন, সে সময় এটি ছিল মোন জাতি অধ্যুষিত অঞ্চল।***** সে সুবাদে বোমাং রাজার পূর্ব পুরুষ অবশ্যই মোন ছিলেন বর্মি ছিলেন না ***** সেক্ষেত্রে আজকে পার্বত্য অঞ্চলে রাজার ইতিহাসের সাথে সবার মারমা হয়ে উঠার কাহিনী একদম মিল পাওয়া যায় না। বরং চ বর্তমান মারমা জাতি এবং রাখাইন জাতি নৃ- ত্বাত্তিক মিল পাওয়া যায়। সে সময় কার পূর্বসূরি রাজ বংশের নাম ছিল তংগো রাজবংশ(Taungoo Dynesty) (শাসন কাল ১৫৩০-১৫৯৯) বোমাং রাজাদের ইতিহাস অনুযায়ী তাদের পূর্ব পুরুষ বিখ্যাত রাজা বায়িন নঙ পুরা বার্মা একত্রিত করেছিলেন ( উল্লেখ্য তিনি দ্বিতীয় রাজা তাবিন শোয়েথি এর শ্যালক ছিলেন)!! বায়িন নঙ এর সন্তান চতুর্থ রাজা নাইন্দা বায়িন আরাকান রাজার সাথে যুদ্ধে পরাজিত এবং নিহত হয়েছিলেন। পরবর্তী তে আরাকান রাজার অনুগ্রহে তার পুত্র প্রথম বোমাং রাজা মং চ প্রু/ প্যু পার্বত্য অঞ্চলে একজন সামন্ত রাজা হিসেবে আরাকান শাসনের অধিনে পার্বত্য অঞ্চলে চলে আসেন (শাসন কাল ১৬০০-১৬৩১)।Refferences: Taungoo dynesty //en.wikipedia.org/wiki/Taungoo_Dynasty

    একটি রাজ বংশ পার্বত্য অঞ্চলে চলে আসা মানে একটি জাতি পুরা মাইগ্রেসন করা নয় । পেগু বা বাগো সে সময় মোন জাতি শাসিত অঞ্চল ছিল। দ্বিতীয় রাজা তাবিন শোয়েথি পরবর্তী তে প্রায় সমস্ত দক্ষিন বার্মা দখল করেছিলেন। এটি বার্মার মাহা রাজোয়াং এ উল্লেখ আছে যা পরবর্তী তে বর্মি আরকিওলজিস্ট (প্রত্ন ত্বাত্তিক ) ট সেইন কো (Taw Sein Ko) বর্ণিত ডকুমেন্টরি তে দেয়া হয়েছে।কিন্তু সে সময়কার ইতিহাস ও ভূগোলিক মানচিত্র তে উল্লেখ্য যে ম্যাক উ/ ম্রাউক উ (অর্থাৎ বানরের ডিম) ছিল স্বাধীন আরাকান রাজার অধীন রাজধানী। রাজা তাবিন শোয়েথি আরাকান রাজ্য দখল করতে পারেন নি। আরাকান ১৭৮৪ সালে বর্মি বংশদ্ভুত কোনবুং (konbaung dynesty) রাজ বংশের নিকট পরাজিত হবার আগ পর্যন্ত স্বাধীন ছিল, সে সময় আমাদের পার্বত্য অঞ্চলে আরাকান শাসনের অবসান হলে মোগল দের হস্তগত হয়, তবে এটি কক্ষণই দিল্লি হয়ে সরাসরি শাসিত হতো না। সেক্ষেত্রে পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী জাতি হিসেবে বর্তমান মারমা এবং অন্যান্য জাতি সমূহ বহুকাল আগে থেকে অবশ্যই এখানে বসবাস করতো। সে সময় কাল হতে আমাদের সিনো টিবেটিয়ান ভাষী( সোজা কথায় মারমা বা রাখাইন ভাষা ভাষী) দের কে মগ বলে অভিহিত করা হয় । যা বলতে পার্বত্য মারমা এবং উপকূলীয় রাখাইন উভয় বোঝাতো। Mrauk U and Arakan Kingdom //en.wikipedia.org/wiki/Mrauk_U

    বর্তমানে পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী আমরা নই কিংবা বোমাং রাজা অং শুই প্রু এর কথা অনুযায়ী তাদের বংশ হাইসাওয়াদি রাজ্য রাজধানী পেগু হতে এসেছেন তা সত্য , কিন্তু পুরো জাতি উড়ে এসে জুড়ে বসার চাইতে এটি সহজেই অনুমেয় যে এ অঞ্চলে আগে হতেই সিনো টিবেটিয়ান ( মারমা/ রাখাইন ভাষা ভাষী মানুষের অস্ত্বিত্ব ছিল ।যুগ যুগ ধরে মানব সম্প্রদায় সমূহের মাঝে মিশ্রণ হয়ে এসেছে ! এ জন্যই পৃথিবীতে এত জাত এবং জাতির উদ্ভব ! এবং আরও হচ্ছে !! এই বিবর্তন প্রক্রিয়া হয় ধীরে বংশ পরম্পরায় ! যা এক যুগে এক মানবের জীবনে প্রতক্ষ্য করা সম্ভব নয় ! কিন্তু উপলদ্ধি করা যায় !!

    মগ শব্দের উদ্ভবঃ মগ শব্দটি বাঙ্গালিদের নিকট নেতি বাচক ভাব (গালি বিশেষ) পোষণ করে থাকে !! মগ নামটি মোগল দের দেয়া ! এটি বলতে উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যু (মারমা/ রাখাইন শব্দ -দাম্রাহঃ) বোঝাত !! এর মানে তখন কোন নির্দিষ্ট জাতি বোধক ছিল না ! এটি বোঝাত বর্মি , থাই, আরাকানি, ফিলিপিনো , চাইনিজ , মংগোলয়েড নৃ গোষ্ঠী ভুক্ত মানব দের। তাদের ভাষায় বাগধারা আছে 'মগের মুল্লুক' যার অর্থ অরাজক (anarchy) অবস্থা ! যা মিশ্র জাতি জলদস্যুদের অরাজগতা নিয়ম হীনতা ! ওই বর্বরতা নির্দেশ করে থাকে।

    মারমা জাতি যুগ যুগ ধরেই পাহাড়ি জুম চাষা। তাদের সাথে সমুদ্রের কাছের জীবন যাপনের ইতিহাস নেই। রাখাইন এবং মারমাদের পার্থক্য ও সেখানেই পরিলক্ষিত হয় মারমা জনগোষ্ঠী পাহাড়ি এবং রাখাইন জনগোষ্ঠী উপকুল বর্তি। এভাবেই ভৌগলিক পার্থক্যের ফলে। ঐতিহ্য ও জীবন যাপন ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এতে করে ককদইং সা, প্লেইং সা , রিগ্রিসা এর মত রাখাইন সা ক্লান বা গোত্র ভেদ চলে আসে। রাখাইন রা আজ মিয়ানমারে পুরো স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে স্বীকৃত।

    মগ বলতে বাঙাল দের কাছে সে সময় রাখাইন এবং মারমা দুই বোঝাত !! দুটিই আরাকানি গোষ্ঠী , ইতিহাসের ভিত্তিতে এভাবে ও মারমা দের রাখাইন জাতির অংশীদারি বলা যেতে পারে। আরাকান প্রদেশের রাখাইন কে নিজেকে মগ বলে চিহ্নিত করে না । সে রেকর্ড ও নেই তাই মগ একটি স্বতন্ত্র জাতি এই ধারনা ভুল। কেউ কেউ মগ টাইটেল ব্যাবহার করেন আজকাল কিন্তু এটি সে রুপে কোন ঐতিহাসিক নির্দিষ্ট জাতি পরিচয় বহন করে না। মারমা শব্দটি ম্রাইমা থেকে আগত যার অর্থ বর্মী। এবং আমরা নিজেদের কে অন্যা ভাষা ভাষীর কাছে পরিচয় দিই এই রুপে, ঙা মারমা সাহঃ বা ঙা রাখাইন সাহঃ ঙা প্লেইং সা। কিন্তু ঙা মগ সাহঃ এরুপ কি আমরা সচরাচর বলি না । কারণ ইতিহাসে মগ বলতে মিশ্র ককেশয়েড (যা বর্মী, থাই , রাখাইন, মোন ,শান, রোহিঙ্গা)মিলিত দস্যুতা কে নির্দেশ করে থাকে। কিন্তু মারমা বা রাখাইন নামটি জাতি গত স্বাতন্ত্র‍্য নির্দেশ করে।

    বর্তমানে বাংলাদেশের ইতিহাসে আদিবাসী নিয়ে যে বিতর্ক ,তাতে বাঙাল বুদ্ধিজীবীদের দাবি অনুযায়ী আমাদের কে বহিরাগত চিহ্নিত করে স্বীকৃতি না দেয়ার প্রবনতা দেখা দিয়েছে। কিন্তু ম্যাক উ/ ম্রাউক উ শহরের নামকরণের মিথলজি তে দেখা যায় এটি গৌতম বুদ্ধের সময় কাল হতেই আবহমান ছিল ( কোন এক বানর গৌতম বুদ্ধ কে ডিম ছোয়াইং দান করেছিল বলে এর নাম ম্যাক উ বা ম্রাউক উ) এবং পার্বত্য অঞ্চল ছিল সে শাসনের অধীন। সেক্ষেত্রে পার্বত্য অঞ্চল এবং বাংলাদেশে মারমা এবং রাখাইন জাতির ইতিহাস অবশ্যই আড়াই হাজার বছরের কিংবা তার ও বেশি পুরানো। চট্টগ্রামের পথ দিয়ে সেসময় বর্মি সহ অন্যান্য জাতি রা মগধ, বিহার , দাক্ষিনাত্য প্রভৃতি অঞ্চলে বানিজ্য করতে যেতেন এবং চই ত গং (যুদ্ধে ক্ষেত্রের মাথা চিটাগাং) ছিল আরাকানের অধীন।তিন হাজার বছর পূর্বে আজকের বাঙাল জাতির ইতিহাস অনুযায়ী এবং ঊয়ারি বটেশ্বর অঞ্চলে গঙ্গা রিডাই রাজ্যের ইতিহাস পাওয়া যায় যা যেখানে মিশ্র দ্রাবিড় জাতির আবাস ছিল যেখান থেকে বাঙালি জাতির সৃষ্টি। গঙ্গা রিডাই এর নাম ইতিহাস অনুযায়ী এটি গঙ্গা অববাহিকা অঞ্চল। পার্বত্য অঞ্চলে কোন দ্রাবিড় বা বর্তমান বাঙাল নৃ গোষ্ঠীর বসবাস ছিল না ১৯০০ সালের আগ পর্যন্ত ।এমনকি বাঙাল পাল বংশ এবং সেন বংশ ইতিহাস এবং সে সময় কার ভৌগলিক রাজনৈতিক মানচিত্র তাই নির্দেশ করে থাকে সেক্ষেত্রে মারমা/ রাখাইন রা অবশ্যই এ পার্বত্য এবং কক্স বাজার অঞ্চলের ভুমি পুত্র এবং আদিবাসী। এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রাখেনা !!//en.wikipedia.org/wiki/Rakhine_State //en.wikipedia.org/wiki/Bengali_people

    হিস্টরি (ইতিহাস) এবং এনথ্রোপলজি ( নৃ বিজ্ঞান ) ও আরকিওলজি ( প্রত্ন ত্বত্ত)সম্পূর্ণ এক বিষয় নয় ! ইতিহাসের বিকৃতি শাসক দের দ্বারা হতে পারে ! । যেমন টি ডঃ আলমগির তার পার্বত্য অঞ্চলের ইতিহাস বইতে জনগোষ্ঠী সম্পর্কে কিছু অসঙ্গতি পুর্ন তথ্য দিয়েছেন শুধু মাত্র রাজ বংশের ইতিহাস কে ভিত্তি করে। কিন্তু নৃ বিজ্ঞান ও প্রত্ন ত্বত্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা এটি বিকৃতি হবার সম্ভাবনা কম । কে আদিবাসী কে বহিরাগত নির্ধারণে ইতিহাস পর্যালোচনা তে রাজনতিক বিষয় এর চাইতে নৃ তাত্ত্বিক এবং প্রত্ন তাত্ত্বিক রেফারেন্স আরো বেশি গুরুত্ব বহন করে থাকে।

    পরিশিষ্টঃ আমার মূল বক্তব্য হচ্ছে একটি রাজ বংশের ইতিহাস একটি নৃ ত্বত্তিক জাতির ইতিহাস হতে পারে না এর জন্য নৃ বিজ্ঞান এবং প্রত্ন ত্বত্ত বিশ্লেষণ আবশ্যক । রাজাদের ইতিহাস একটি জাতির ইতিহাস নয় বরং একটি জাতির ইতিহাসে রাজাদের ইতিহাস অংশ মাত্র ।

    লক্ষ্যনীয়ঃ প্রাপ্ত রেফারেন্সের মানচিত্র গুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় তংগো রাজ বংশের সময় কাল মানচিত্র পার্বত্য অঞ্চল এবং আরাকান তাদের অধীনস্ত ছিল না ! এর থেকে মাইগ্রেসন করে পুরা জাতি পেগু থেকে চলে আসা টা সমর্থন করে না। কারণ এ অঞ্চলে তখন থেকেই মানুষের বসবাস ছিল রাজাদের নয়।

    পাল বংশের মানচিত্র থেকে পাওয়া যায় ভারতের মধ্য ও উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের প্রায় পুরোটা অধীনে থাকলে ও সে ৮৭০ সালের মানচিত্র বোঝা যায় পার্বত্য অঞ্চল সহ সম্পূর্ণ দক্ষিন চট্টগ্রাম কক্ষণও বাঙাল দের অধিকৃত ছিল না বরং চ সুবেদার ইসলাম খান (১৬০৮) এর সময় চট্টগ্রাম মোগল দের কাছে চলে যায় । তার পূর্বে এ অঞ্চলে বাঙাল নৃ গোষ্ঠীর অস্তিত্ব ছিল না। (মধ্যযুগ //en.wikipedia.org/wiki/Bengali_people
    //tanmoy.tripod.com/bengal/mughal.html )

    জবাব দিন
  24. গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)

    এখানে নিজের কিছু মতামত দিতে চেয়েছিলাম। ভাবলাম, তার আগে বিষয়টা আরও ভালভাবে জানা দরকার। সেজন্য কিছু পড়ার চেষ্টা করলাম। তারপর দেখলাম এসব নিয়ে কথা বলতে হলে আরও অনেক জানা লাগবে। তাই থাক আপাতত। তবে একটা কথা। আমার মনে হয়, কোন শব্দের প্রয়োগ যথার্থ আর কোনটা নয়, কোন নাম ব্যবহার করা উচিত, এসব বিতর্ক নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়। আসল গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, প্রাপ্য অধিকারটুকু সবাই পাচ্ছে কিনা। তবে অধিকারের সাথে শব্দের বিশেষ সম্পর্ক থাকলে আলাদা কথা।

    জবাব দিন
    • ভাই, আপনার এই চিন্তাটার মূল্যটাই অমূল্য। জানার এই চিন্তা বা কাজটা সাধারণত কেউ করতে উৎসাহী হননা, তবে না জেনে কোন ইস্যুতে (সে যতই গুরুত্বপূর্ণ এবং গভীর হোকনা কেন) মনগড়া কথা বলতে বা কটাক্ষ করতে তাদের উৎসাহে কোনদিনই ভাটা পড়েনা। একশ্রেণীর এহেন আচরণের জন্যই পারস্পরিক বিতৃষ্ণা এতটা বাড়ছে। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

      শুধু আপনার নয়, আমাদেরও কথা যে শব্দের কলহ অপ্রয়োজনীয়, মানুষ হিসেবে প্রাপ্য সকল অধিকার এবং সম্মান পাওয়াটাই বড় কথা। কিন্তু তারপরও একটা বিষয় আছে, সেটা হল শব্দের খেলা, আরো specify করলে রাজনৈতিক ময়দানে শব্দকে football বানিয়ে খেলা করা, মানবেন নিশ্চয়ই। সরকার, মিলিটারী, রাজনৈতিক দল এবং তাদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত সমতল থেকে পাহাড়ে বসতি স্থাপন করা বাঙ্গালীরা শব্দের এই খেলা খেলছেন কিন্তু ‘অধিকার’ ট্রফিটার জন্যই। আশির দশকে জিয়ার সরকার উগ্র জাতীয়তাবাদের দর্শনকে পুঁজি করে, ট্রাকে ভরে ভরে যখন সমতল থেকে এই পাহাড়ী অঞ্চলে প্রান্তিক পর্যায়ের বাঙ্গালীদের এনে বসতি স্থাপন করে দিয়েছিলেন তখন থেকেই তীব্র ভূমি সমস্যার সূত্রপাত। কারণ ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যগতভাবে এই অঞ্চলের ভূমি-মালিকানার ব্যবস্থা (আর এটাই শাষক শ্রেণী তুরি মেরে উড়িয়ে দিতে চায়)পাহাড়ীদের হাতে এবং এই ব্যবস্থা বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের ভূমি আইন হতে পৃথক। ভূমির উপর 'দখল' থেকেই বাকি সকল প্রকার সমস্যার মূল, কান্ড, শাখা-প্রশাখা শুরু অর্থাৎ ভূমিই সকল সমস্যার শেকড়। শব্দের খেলাটা এই বৃক্ষের বিস্তৃতির একটা অংশ মাত্র।

      যেই সংখ্যক মানুষ তারা এখানে এনে বসিয়েছে আর তাদের সেই সংখ্যা multiply করে এখন যেই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, পরিস্থিতি এখন এমন যে আমদেরকে আমাদের ঐতিহাসিক, ঐতিহ্যগত অধিকার ও মানবাধিকার দিলে settle করা বাঙ্গালীদের সমতলে সরিয়ে নিতে হবে এবং সুষ্ঠু পূণর্বাসন করতে হবে নতুবা তাদেরও অবস্থা মানবেতর হয়ে যাবে। কিন্তু সরকার তার জন্য প্রস্তুত নয়। কখনো কি দেখেছেন আমাদের দলীয় সরকারেরা তাদের কৃত কর্মের জন্য repentance করেন?? বরং সেই ভুলকে validate করার জন্য যত প্রকার ক্রিয়াকলাপ প্রযোজ্য তা করতে কসুর করেননা। তাই সরকার এই ক্ষেত্রেও শব্দের জাল বুনতে গায়ের জোর খাটাচ্ছেন। তাই না চাইলেও শব্দের ব্যবহার এখন অধিকারের সাথে অবিচ্ছিন্ন অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তবতাটা হল, ভূমি হল বিজয় ট্রফি, এর একপাশে আমরা আরেক পাশে সমতল থেকে আসা বাঙ্গালীরা। সরকার হচ্ছে পক্ষপাতদুষ্ট রেফারি কারণ এই খেলা তিনিই নির্ধারণ করেছেন।

      জবাব দিন
    • আমার মনে হয়, কোন শব্দের প্রয়োগ যথার্থ আর কোনটা নয়, কোন নাম ব্যবহার করা উচিত, এসব বিতর্ক নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়।

      তাই? বিষয়টির সঙ্গে মৌলিক মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আইনগতভিত্তি জড়িত। এটিকে শাব্দিক বির্তক ভাবলে মারাত্নক ভুল হবে।

      যা হোক। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এখন জাতিসংঘ "আদিবাসী" অভিধাটি বাদ দিয়ে যদি শুধু "উপজাতী" অভিধা ব্যবহার শুরু করে, তাহলে হাসিনা-ফুপুমনি গং বাঙালি থেকে উপজাতি হওয়ার জন্য আবারো নেচেকুঁদে অস্থির হবেন। তখনও জে. ইব্রাহিম/ড. আজাদের নৃ-তাত্ত্বিকদের অভাব পড়বে না। (খুব খেয়াল করে)

      =)) =)) =))

      জবাব দিন
  25. আলীম (২০০১-২০০৭)

    noakhalir lok dhaka te basa kore, boeisal er lok rangpur a kore, dunajpur er lok bogra te kore.... hill tracks ki bangladesh er baire maki! j, oikhane r-karo jawa jabe na... !! jotto sob dhandabaji !! indigenous is word which carries a lot of business, nothing else. nationalism sara kono nation darate pare na, zia ja korese valoi korese, naile !! seta r bollam na. na buijhai oto kotha koitese jara, tader sathe debate korar issa nai. hazar bosorer ithihas nia asi amra.


    -আলীম হায়দার.1312.

    জবাব দিন
  26. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    মাজহার না দেখে থাকলে দেখো। লিঙ্ক
    //www.youtube.com/watch?v=gMVb7e1hPnQ&feature=related (সম্পাদিত)


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  27. সিয়াম (০৬-১২)

    কিছুদিন আগে একটা জরীপ দেখলাম-
    আদিবাসী আর অধিবাসী নিয়ে এত বিতর্কের কোন কারণ দেখি না। সবচেয়ে বড় কথা আমরা বাংলাদেশী। সকল বাংলাদেশীই সমান- হোক সে বাঙ্গালি অথবা চাকমা অথবা অন্য যেকোনো উপজাতি। সবাই নিজ সংস্কৃতি ধারণ করবে, নিজ ভাষা রক্ষা করবে। কে আদিবাসী আর কে অধিবাসী এসব নিয়ে বিতর্ক করা টা যুক্তিহীন।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।