আমার উপাসনা ?

আমি নাস্তিক নই। অর্থাৎ আমি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করি। তবে এই বিশ্বাস এর কারণ কোন হেদায়েতের বাণী বা গ্রন্থ বা কোন অলৌকিক ঘটনা নয়। তাই প্রচলিত ধর্মমতে আমি ধার্মিক নই। আমি সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করি তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্যে। আর এই কৃতজ্ঞতার উৎস হচ্ছে মানুষ হিসাবে আমার জন্ম। আমি বিবর্তনের অন্য কোন শ্রেণীতে বা সভ্যতার কোন প্রাথমিক পর্যায়েও জন্মগ্রহন করতে পারতাম। কিন্তু তা না হয়ে আমি এই সময়ের একজন মানুষ হিসাবে পৃথিবীতে অবস্থান করছি। এই জন্য আমি কৃতজ্ঞ বোধ করি। অনেকে এটাকে প্রাকৃতিক নিয়ম বলতে পারেন বা অন্য কোন সহজ ব্যখ্যা ও দিতে পারেন। যদি মানবজাতি সৃষ্টির কারন প্রকৃতি হয় তাহলে প্রকৃতির এই নিয়মই আমার ঈশ্বর। আর এই কৃতজ্ঞতাবোধের কারনে স্রষ্ঠার উদ্দেশ্যে আমার কিছু করতে ইচ্ছা করে। কিন্তু কোন উপাসনালয়ে গিয়ে বিজাতীয় ভাষায় স্রষ্ঠার তোষামুদি করাটা আমার কাছে আপাত অর্থহীন মনে হয়। কেউ কেউ হয়ত এতে মানষিক প্রশান্তি লাভ করেন কিন্তু আদতে ঈশ্বর এটাতে কিভাবে উপকৃত বা তৃপ্ত হন সে ব্যখ্যা এখনও আমার কাছে অস্পষ্ট। কারন আমার বিশ্বাসে তিনি কোন ইন্দ্রিয়কাতর জীব নন। তাহলে এক্ষেত্রে কি করণীয় ? যেহেতু আমার কোন কাজের মুখাপেক্ষী তিনি নন তাই আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে আমি নিয়েছি তার সৃষ্ঠিকে। ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ আমি করতে চাই তার সৃষ্ঠির প্রতি সদয় হয়ে। আর সে কারনেই আমার উপাসনা ফলপ্রসু মনে হয় একজন বিপদগ্রস্থকে সাহায্য করে, একজন নিরক্ষরকে শিক্ষা দিয়ে। একটি শুকিয়ে যাওয়া গাছে পানি দিয়ে। কাড়ীঁ কাড়ীঁ অর্থব্যয় করে তীর্থে যাওয়ার চেয়ে মানবকল্যানে তা ব্যয় করা আমার কাছে বেশী অর্থবহ। আমি কখনই দাবী করছিনা এটিই সর্বত্তোম পথ এমনকি কাউকে এপথ অনুসরনের আহ্বান ও করছিনা। আমার লেখার উদ্দেশ্য আপনাদের কাছ থেকে আমার বিশ্বাসের ফাঁক খুঁজে নেয়া। কিংবা সমমনা কারো সন্ধান পাওয়া। কারো ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়। তাই কোন ধর্মীয় বাণী বা আচার এর ব্যখ্যা বা অপব্যখ্যায় আমি যাচ্ছিনা। আমি বিশ্বাস করি ধর্ম সম্বন্ধে সবার নিজ নিজ বোধ বা বিশ্বাস রয়েছে । সেটা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট থাকলে তাকে বিতর্কের টেবিলে টেনে এনে ভুল প্রমান করার চেষ্টা করার পক্ষপাতি আমি নই। যদিও এখানে আমার বিশ্বাস ব্যক্ত করে আমি নিজেই আমার বিশ্বাসকে বিতর্কের টেবিলে তুলে দিচ্ছি , তাই বলতে চাই গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানানোর সৎ সাহস আছে বলেই এটা করছি। কিন্ত আমার খারাপ লাগে যখন নিজের বিশ্বাসকে জারী করতে গিয়ে কেউ অন্যের উপর জোর খাটায়। কিংবা অন্যের বিশ্বাসকে ছোট করার চেষ্টা করে। শুধুমাত্র ভিন্ন দর্শনের স্রষ্টাকে বিশ্বাস করে বলেই আমি কাউকে ঘৃণা করতে পারিনা বা তার বিরুদ্বে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারিনা । তেমনি শুধুমাত্র একই দর্শনের স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসের কারনে আমি আর একজনের সকল অপরাধ ভুলে গিয়ে বন্ধুত্ব করতে পারিনা। আমার কাছে ধর্ম একটি ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ব্যপার। তাই আমার রাগ লাগে যখন দেখি ধর্মের নামে আমার জাতিস্বত্তা খর্বিত হয়। যখন ধর্মের দোহাই দিয়ে আমার বাঙালী ঐতিহ্যকে অস্বীকারের / ধ্বংসের চেষ্টা চলে। সমগ্র পৃথিবীর যেখানেই যাই সর্বপ্রথম আমি মানুষ এবং এর পর বাংলাদেশী বলে পরিচিত হব। তাই বাঙালী ঐতিহ্য আমার অহংকার। তাই কোন অজুহাতেই এর অবমাননা সহনশীলভাবে মেনে নিতে পারিনা।

২,০২৩ বার দেখা হয়েছে

৩০ টি মন্তব্য : “আমার উপাসনা ?”

  1. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    'যার যার ধর্ম তার তার কাছে'...ছোট্ট একটা কথা অথচ কত অর্থবহ...এইটা বুঝলে আমাদের অনেক বিবাদ এড়ানো সম্ভব... :-B


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  2. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)
    আমার কাছে ধর্ম একটি ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ব্যপার।

    আমার কাছেও। আপনার সাথে একমত।

    আপনার চিন্তার কথা শুনে খুব ভাল লাগল। খুব পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি, কোন পঙ্কিলতা নেই।

    জবাব দিন
    • রাজীউর রহমান (১৯৯৯ - ২০০৫)

      ধর্ম একটা ব্যাক্তিগত বিশ্বাসের ব্যাপার

      কোন একটি অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যখন একই বিশ্বাস ফলো করে তখন সেটা আর ব্যাক্তি পর্যায়ে থাকে না ।

      জবাব দিন
      • হোসেন (৯৯-০৫)

        তারমানে ধর্ম একটা ডেমোক্রেটিক ব্যাপার? এইটা কি পলিটিক্যাল ক্ষমাতার অক্ষ নিয়েও টান দিবে না? তাহলে ইকুয়াল রাইটস নিশ্চিত হবে কি?

        অবশ্য যদি ইকুয়াল রাইটস কে তোর নিজস্ব সংজ্ঞায়নে "উত্তরাধুনিক প্রগতিশীলতা " বলিস তাহলে আমার কিছু বলার নেই।


        ------------------------------------------------------------------
        কামলা খেটে যাই

        জবাব দিন
      • সাব্বির (৯৮-০৪)

        রাজী,
        তোমার কমেন্ট দেখে তোমার ব্লগ দেখতে কৌতূহ্লী হই। সেখানে তোমার প্রিয় পোষ্ট এর তালিকা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং মনে বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়। যেহেতু ব্যাক্তিগত চিঠি পাঠানোর কোনো উপায় নেই তাই বাধ্য হয়ে এখানেই লিখছি। আশা করি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আমার কৌতূহ্ল নিবৃত করবে।

        লেখাটির নীচে ব্লগ এড এর মতামত

        বিষয়বস্তু আপত্তিকর হওয়ায় পোস্টটি প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেয়া হলো।
        ভাবিষ্যতে লেখক কে বিষয়বস্তু নির্বাচনে আরো সতর্ক হতে অনুরোধ করা হলো।

        এর সাথে আমি একমত নই এবং আমি মনে করি একজন লেখকের অধিকার আছে যে কোনো বিষয়ে লেখার। তবুও আমার ব্যাক্তিগত দৃষ্টিতেও আমি কোনো ব্যাখ্যা পাচ্ছি না।

        এ ধরনের বিষয়ে সাহিত্যে অনেক ভালো কাজ হয়েছে। থমাস মান এর "ডেথ ইন ভেনিস", যেখানে লেখক দর্শনের একটি বিশাল শাখা খুলে দিয়েছেন এবং যার হাত ধরেই কাফকা, জোলা, সাত্রে এর মত সাহিত্যিকদের আবির্ভাব হয়েছে। পড়াশোনার খাতিরে এ ব্যাপারে আমি কিছু সময় দিয়েছি এবং আমার ধারনা আমি ব্যাপারটা ধোয়া ধোয়া বুঝি।

        এ লেখায় আমি তার কিছুই খুজে পাই নি। পড়ে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে দেখার চেষ্টা করেও পাচ্ছিনা।তুমি কী বিশেষ কিছু খুজে পেয়েছো?!!!পেলে তা কী? জানালে খুশি হবো কারন পড়াশোনা করার সময় আমি হয়তো কিছু এড়িয়ে গিয়েছি যা তুমি ধরতে পেরেছো।

        এবং আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি শিক্ষামূলক বিষয়ে আমাদের সকলের আলোচনা করা উচিত।ধ ন্য বা দ।

        মাসুম ভাই,
        আপনি বেশ অসময়ে এমন একটি লেখা দিয়েছেন যা নিয়ে অনেক কিছু বলার ইচ্ছা থাকলেও বলতে পারছি না কারন কান টানলে মাথা আসে।

        তাই আমার রাগ লাগে যখন দেখি

        আমি বোধহয় শব্দটা অন্যকিছু ব্যবহার করতাম। আপনাকে অনুরোধ করবো
        বাংগালীর ইতিহাস নিয়ে কিছু লেখা দিতে কারন এ সম্বন্ধে আমাদের ধারনা খুব কম বলেই আমি মনে করি।

        শেষ ৬ টি বাক্যের জন্য ধন্যবাদ। কোনো ভাবে আমার মাথা থেকে চুরি করতে সক্ষম হয়েছেন :(( ।

        লিখতে থাকুন।অপেক্ষায় রইলাম।

        বিষয়বস্তু আপত্তিকর হওয়ায় পোস্টটি প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেয়া হলো।
        ভাবিষ্যতে লেখক কে বিষয়বস্তু নির্বাচনে আরো সতর্ক হতে অনুরোধ করা হলো।

        জবাব দিন
  3. রায়হান (৯২-৯৮)

    দোস্ত,
    মরার পর সব জলবত তরলং হইয়া যাইবে।অতএব এত bitorko অরথহীন। :no:
    তবে কিছু কিছু language না use করাই সমীচীন।যেমন
    ' উপাসনালয়ে গিয়ে বিজাতীয় ভাষায় স্রষ্ঠার তোষামুদি '

    জবাব দিন
    • মাসুম (৯২-৯৮)

      দোস্ত তোমার কি "তোষামুদী" শব্দটা খারাপ লাগসে? ঐটা চেন্জ কইরা "বন্দনা" লিখলে কি ঠিক হবে? আমি নির্দিশ্ট কোন ধর্মের কথা বুঝাইতে চাইনাই। তাই চেষ্টা করছি General Terms ব্যবহার করতে। Mainstream এর প্রায় সবগুলা ধর্ম কিন্তু Prayer Hall এ গিয়া এই কাজই করে।

      জবাব দিন
  4. পাভেল (১৯৯৩-৯৯)

    মাসুম ভাই, আমরা সবাই যদি আপনার মত করে নিজস্ব উপাসনা/ধর্মপালন করতাম দুনিয়ায় আর কোন সমস্যা থাকত কিনা সন্দেহ।
    কিন্তু যখন দেখি যৌনসম্পর্কের জন্যে পাথর ছুড়ে মারা হচ্ছে, বিধবাদের উপর চলতেছে অত্যাচার, সারাজীবন কাউকে হাড়িচাচা-ডোমের জীবনযাপনে বাধ্য করা হচ্ছে, হাফপ্যান্ট পরে ফুটবল খেলার জন্য পিটানো হচ্ছে গাছে বেধে, ধর্মত্যাগের জন্য মুরতাদ ঘোষনা দিয়ে মৃত্যুদন্ডের ফতোয়া দিচ্ছে - আমি প্রশ্ন করতে পারিনা সে কোন ধর্মের ছিল, কোন দেশের লোক ছিল, সেকি ছেলে না মেয়ে, আমি শুধু দেখি যে আমার মত সেও একজন মানুষ ছিল। তার ও মা ছিল বাবা ছিল ঘর ছিল কষ্ট ছিল দশজনকে না ঘাটিয়ে সুখী হওয়ার ইচ্ছা ছিল। তার জন্যে আমার বুকে ব্যথা হয়, আমি ক্ষেপে উঠি ঐসব ভন্ড ধর্মের উপরে, চীৎকার করি ঐসব ভন্ড ধর্মের ধ্বজাবাহকদের বিরুদ্ধে। আমার চীৎকারে যদি কারো ঘুম ভাঙে এই আশায় থাকি। এর বেশি আমি আর কিছুই করতে পারি না।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।