ম্যাজিক বয় – ০৪

ম্যাজিক বয় – ০১০২০৩

আবাহনী ক্লাবের ফুটবল ম্যানেজার হীরু বললেন, আমরা তোমাকে এক লক্ষ টাকা দেবো!
রতন কিছু বলে না। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে।
এক লাখ টাকা প্রাপ্তির খবর শুনে ফ্যালফ্যাল করে থাকার নিয়ম নেই। লাফ দিতে হয়। রতন সেই প্রয়োজনীয় লাফটা দিচ্ছে না দেখে সেটা দিলেন বদরুল।
ধন্যবাদ। ধন্যবাদ। তাহলে সেই কথাই রইল…
রফিক কাকা বদরুলের বাড়াবাড়িকে ঠিক পছন্দ করছেন না। বহু দিন তিনি টাকা নিয়ে ভাবেননি, ইদানিং আবার ভাবতে শুরু করেছেন। আর ভাবতে গিয়ে দেখছেন টাকা জিনিসটা খুব মন্দ নয়। হাতে আসলে বেশ একটা শক্তিমান-শক্তিমান ভাব হয়। কিন্তু এই আমলে এক লাখ টাকায় ঠিক শক্তিটা যেন আসে না!
তিনি একটু আপত্তির স্বরে বললেন, এক লাখ টাকা খুবই কম টাকা। এই ছেলেকে দিয়ে আপনারা যে সার্ভিস পাবেন…
আপনি কে? হীরু কোনজন ঠিক অভিভাবক বুঝতে পারছেন না।
আমি ওর কাকা।
আপন কাকা?
জ্বি।
আর আপনি?
বদরুল লড়াইয়ে হেরে যাবেন নিশ্চিত। তবু হারার আগে লড়াই করতে হবে। বললেন, আমি ওর স্কুলের গেম টিচার। বুঝতেই পারছেন আমাদের সমাজে পরিবার থেকে খেলাধুলার উৎসাহ বলে কিছু নেই। যা হয় ঐ স্কুলেই..। আর আমিই তো! বল না রে রতন!
রতন কিছু বলে না। সে উঠে দাঁড়িয়ে গেছে। ঘুরে ঘুরে দেখছে আবাহনী ক্লাব।
হীরু বললেন, ছেলেটার ক্লাব পছন্দ হয়েছে। আর হবে না কেন? জানেন তো আমরাই এই দেশে আধুনিক ফুটবলটা এনেছি। আমাদের ক্লাবে খেলে গেছেন..
কাকা জানেন না। বদরুল জানেন। এই সুযোগটা নিয়ে বললেন, জানি না মানে সত্যি বললে আবাহনী ক্লাব না হলে তো আমাদের ফুটবল সেই জাম্বুরা যুগেই পড়ে থাকত?
জাম্বুরা যুগ কি? কাকা প্রশ্ন করেন।
বদরুল ফুটবল বিষয়ক আরও জটিল প্রসঙ্গে চলে যান। এখানে গেলে রফিক আর তার নাগাল পাবে না।
বললেন, হিট এন্ড রান ফুটবল থেকে আপনারাই তো ছোট ছোট পাসে…
সামান্য গেম টিচারের সঙ্গে ফুটবল-বিষয়ক আলোচনা আবাহনী ক্লাবের দুদে কর্মকর্তার আগ্রহ থাকার কথা নয়। এদের সঙ্গে ফুটবল বিষয়ে কথা বলা মানে একটু নীচে নেমে যাওয়া। তাছাড়া বেশি কথা বললে এরা তাকে তার সমতুল্য ধরে নেবে। ফাজলামি করবে। সিগারেট ধরিয়ে ফেলবে। কর্মকর্তা হিসেবে তার সম্মানটা নিজেকেই তুলে রাখতে হয়। আজকাল কেউ কাউকে সম্মান করে না। সম্মান ধরে রাখার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে যেতে হয়।
আবাহনী ক্লাবের ডাকটা রতন পেয়েছে কাল। বয়েজ ক্লাবের বিপক্ষে খেলা দেখতে ফেডারেশনের যে কর্তা উপস্থিত ছিলেন, তিনি আবাহনীর কর্মকর্তা। বলেছিলেন, তিনি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিকে খবরটা জানাবেন। কিন্তু ফেডারেশন সভাপতির আগে জানালেন নিজের ক্লাব সভাপতিকে। সেই সভাপতি রাতেই দুজনকে রতনের বাসায় পাঠিয়ে দিলেন। আজ দুপুরে রতনের সঙ্গে তিনি লাঞ্চ করতে চান।
লাঞ্চ করতে এসে অবশ্য তাকে পাওয়া যায়নি। কারণ তিনি জরুরী একটা মিটিংয়ে আটকে গেছেন। তার নাকি কিছু বিদেশী বায়ার এসেছে, এখন তারা পুরান ঢাকা দেখতে চায়।
ফোনে তিনি রফিক কাকাকে বললেন, বুঝলেন রে ভাই। এইসব কোরিয়ান-জাপানিদের সঙ্গে বিজনেস করে শান্তি নেই। অদ্ভুত সব বায়নাক্কা। একবার জাপানি একজন বলল, সে সূর্যোদয় দেখবে। তাও পাহাড়ে গিয়ে। আমি বললাম, চলুন ২৪ তলার ছাদ থেকে দেখি। সেখান থেকে অনেক ভালো দেখা যায়। তাছাড়া ওঠার লিফটও আছে। পাহাড়ে ওঠা তো চাট্টিখানি কথা নয়। কিসের কী! পাহাড়ে উঠবে।
এখন যাচ্ছি পুরান ঢাকায়। শাখারিবাজারে।
এক নাগাড়ে ক্যাসেট প্লেয়ারের মতো কথাগুলো বলে গেলেন, রফিক শুনছে কিনা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে। রফিক জানলেন, বড় ব্যবসায়ীরা বোধহয় শুধু বলতে চায়। শুনতে চায় না। জগতে ফিরে আসার পর তার ভালোই লাগছে। মানুষ সম্পর্কে অনেক জানা আছে। কতো কিছু জানার রয়ে গেছে।
তার পক্ষ হয়েই মিটিংয়ে বসলেন হীরু। কৃপণ প্রকৃতির লোক। দুপুরের লাঞ্চটা নাস্তার ওপর দিয়ে চালিয়ে দিলেন। চা খাওয়ার পর হঠাৎ বলে উঠলেন, চা খেয়ে ফেললাম। আমাদের তো লাঞ্চ করার কথা। আমি আবার চা খাওয়ার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে কিছু খেতে পারি না।
রফিকের মনে হচ্ছে, এক লাখ টাকার মধ্যেও ঘাপলা আছে। সভাপতি হয়ত আরও বেশি বলেছিলেন সে এক লাখেই ম্যানেজ করে। বদরুলটা যত ঝামেলার মূলে। একে ঝেড়ে ফেলতে হবে।
বদরুলের টাকা পাওয়ার আনন্দ এবং বদরুলের কিছু টাকা হারানোর আফসোস দুটোই সমানে চলল ফেরার সময়।
রফিক বললেন, তুমি না একটা মুর্খ।
মুর্খামির কী করলাম!
এক লাখে এমন লাফ দিলে…
তা হলে এক লাখ পেয়ে কাঁদব নাকি? কীরে রতন তুই খুশি হসনি!
রতন হাসে শুধু। সে তো জানে এই এক-দুই লাখ ব্যাপার নয়। আরও কত কী অপেক্ষা করে আছে।
হাসিটাকে বদরুল নিজের জয় ধরে নেন।
দেখলে রতন খুশি। তুমি বড় বেশি লোভী।
আর তুমি বড় বেশি মুর্খ।
লোভী।
মুর্খ।
লোভী আর মুর্খের এই তর্কের ঠিক মীমাংসা হলো না। তার আগেই বাসা এসে পড়েছে।
ঊাসায় ফিরে দেখলেন বসার ঘরে বিরাট ভীড়। কিন্তু পিনপতন নীরবতা। ফরিদা আধশোয়া হয়ে আছেন বিছানায়, শেফালি তার মাথা টিপে দিচ্ছে। পাশের বাসার সোবহান আবৃত্তির মতো করে পত্রিকা পড়ছে। স্রোতারা সব তন্ময় হয়ে শুনছে। যেন কোনো ধর্মগ্রন্থ পাঠের আসর। কোনো জায়গা কারো বিশেষ পছন্দ হলে সে বলছে ‘বাহ। বাহ!’
এই হেডিংটা অবশ্য বাহবা দেয়ার মতোই। ম্যাজিক বয়।
সোবহানের পড়ার ভঙ্গিটাও আকর্ষণীয়। যেসব জায়গায় প্রশংসাসূচক বিশেষণ সেগুলো সে একটু থেমে থেমে জোর দিয়ে পড়ে। যাতে একটা অক্ষরও স্রোতাদের কান ফসকে না যায়।
‘এই ক্ষুদে বালকের ফুটবলকুশতাকে বিস্ময়কর বলা হলেও কম বলা হয়। বল নিয়ে যা খুশি তা করতে পারে। যেন কোনো যাদুকর যাদু দেখাচ্ছে, পুরোটাই বিভ্রমের জগত। একটু পরই মোহ কেটে গেলে..’
শেষ করে আরেকটা পত্রিকা নেয় সোবহান। তাকে এক গ্লাস শরবত দেয়া হয়। গলা ভিজিয়ে সে আবার শুরু করে,‘উফ। আমি কাল যা দেখেছি এখনও মনে হচ্ছে সত্যি দেখেছি তো! আমাদের দেশে ফুটবলের তৃতীয় দেবতা…’
পাশের বাসার ইমরানের মা নামাজ-কালাম করেন, তিনি পড়ার মাঝখানেই বলে উঠলেন, কী ধরনের নাফরমানি কথাবার্তা। আমাদের রতন দেবতা হবে কেন? সে হবে ফেরেশতা।
সবাই মাথা নাড়ে। তাই তো! রতন তো দেবতা নয়। ফেরেশতা।
পরের পত্রিকাটা ফরিদা থামিয়ে দেন। কারণ ওখানে দেশের সেরা এক ফুটবলবোদ্ধা লিখেছেন,‘পুরো বিষয়টাই আমার কাছে গাঁজাখুরি মনে হচ্ছে। একটা ছেলে হঠাৎ করে যা ইচ্ছা তাই করে বেড়াচ্ছে আর আমরা সবাই তার পেছনে লাইন দেবো। আমার মনে হয় এর পেছনে কোনো কারসাজি আছে। ফুটবল ফেডারেশনের উচিত তদন্ত করা।’
ফরিদা থামিয়ে দেয়ার পরই দুজন লোক উঠে দাঁড়ায়। এতক্ষণ ওরা বসেই ছিল, কেউ আলাদা করে খেয়াল করেনি। এখন উঠে দাঁড়ানোর পর দেখা গেলো, এরা ঠিক চেনা নয়। পোষাক-আশাক দেখে মনে হচ্ছে সম্ভ্রান্ত শ্রেণীর লোক। আরও বোঝা যাচ্ছে কোনো উদ্দেশ্যে এসেছে।
রফিক এগিয়ে যান।
আমি রতনের কাকা।
আপনিই কি অভিভাবক?
জ্বি।
ওর বাবা নেই।
আছেন। উনি কোর্টে গেছেন।
কোর্টে কেন?
উনি এডভোকেট।
ও তাই বলুন।
লোক দুটো ভীড়টা দেখিয়ে বলে, চলুন বাইরে আপনার সঙ্গে নিরিবিলিতে একটু কথা বলি।
বাইরে দরকার নেই। আমার ঘরেই চলুন।
রফিক উপরে তার ঘরের দিকে রওনা হলে একজন একটু থামে। রতন কোথায়?
রতন! আছে। এই তো আমাদের সঙ্গেই ফিরল।
সেটা আমরা জানি।
জানেন! রফিক একটু অবাক। লোক-দুটো একটু হেসে বলে, রতনকেও ডাকুন। ওরও আলোচনায় থাকা দরকার।
রফিক কাকা রতনকে ডাকতে গিয়ে দেখেন সে সামনের বারান্দায় বসে। একটু বিষন্ন যেন।
রফিক কাকা যে জগতে ফিরে এসেছেন তার কারণ শুধু রতনের কীর্তি নয়। হ্যা, ওটা দেখে তিনি আকর্ষণ বোধ করেছেন, কিন্তু সবসময় তার সঙ্গে না থাকলে তো তদন্তটাও হবে না। তার তদন্তও চলছে। তিনি রতনের মনস্তত্ব বিশ্লেষণ করছেন এখন। প্রতিটা মুহূর্তে রতন কী করছে সেটা একটা খাতায় নোট রাখছেন। তারপর মনোবিজ্ঞানের বই ঘাটছেন।
এই বিষন্নতারও নোট রাখতে হবে। তার মনে হচ্ছে, পুরো ঘটনা যা ঘটছে রতন সেটা জানে, কিন্তু সে কাউকে বলবে না। তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখে বুঝতে হবে। অবশ্য বোঝা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। অশরীরি, অপার্থিব কোনো একটা ব্যাপার আছে নিশ্চয়।
রতন অবশ্য এখন হাসি-মুখে উঠে এল।
লোক দুটোর একজন আরেকজনকে দেখিয়ে বলল, ওনাকে চেনো?
রতন মাথা নাড়ে। চেনে না।
চিনতে হবে না? তোমার আগে যে উনিই ছিলেন বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ফুটবলার।
কাকা বলেন, তাই তো বলি আপনাকে চেনা চেনা মনে হচ্ছিল। কিছু মনে করবেন না, আমি অনেক বছর ঠিক…
লোক দুটো কাকাকে পাত্তা না দিয়ে এখন রতনকে নিয়ে ব্যস্ত।
একজন বলল, উনি সেলিম ভাই। এক সময় ওনাকে দেখার জন্য দুপুর ১২টা থেকে কড়া রোদে লোকজন স্টেডিয়ামের গেটে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত। একবার হলো কী, উনি গেছেন নীলফামারি!
সেলিম ধমক দিলেন, আরেফীন তুমি বড় বেশি কথা বলো। আর বেশিরভাগই অকাজের কথা।
না। এরা যখন আপনাকে চেনে না। চেনাতে হবে না।
সে পরে চেনালেও চলবে। বাড়িতে যখন এসেছি তখন চেনা তো হবেই।
কাকার ঘরে বসার খুব সুবন্দোবস্ত নেই। কাকা ইচ্ছা করেই রাখেননি। বসার জায়গা দেখলেই লোকে বসে, কথা বলে এবং কাজে বিঘœ ঘটায়। বাংলাদেশের সব জায়গা থেকে চেয়ার নামের জিনিসটা তুলে দেয়া যায় কিনা সেটা নিয়েও তিনি কিছুদিন ভেবেছেন। এখন অবশ্য মনে হচ্ছে চেয়ার জিনিসটা খুবই প্রয়োজন। কিন্তু তার ঘরে কোনো চেয়ার নেই। খাটও নেই। একটা তোষক পাতা শুধু আর রাজ্যের বই এদিক-ওদিক ছড়ানো।
সেলিম ভাই-ই সব সমস্যার সমাধান করে দিলেন। তিনি সোজা বসে গেলেন তোষকে। একটা বালিশও এমনভাবে বগলে নিয়ে নিলেন যেন এটাই সবচেয়ে আদর্শ আয়োজন। এবং বসেই আর দেরি করলেন না।
সোজা ঘোষণা করলেন, এই মৌসুমে রতন মোহামেডানে খেলবে?
আপনারা-আপনি মোহামেডান ক্লাবের?
আরেফীন বলল, উনি মোহামেডান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা..
আরেফীন তুমি কাজের কথার চেয়ে বাজে কথা বেশি বলো। রতন তোমার কোনো আপত্তি আছে।
রতন কিছু বলার আগেই কাকা বলেন, কিন্তু আমরা তো আবাহনী ক্লাবের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। ওরা বলেছে…
কত বলেছে?
এক লাখ টাকা।
আমরা দুই লাখ টাকা দেবো।
কিন্তু ওদেরকে যে কথা দিয়ে এসেছি।
কোনো কাগজ-পত্রে চুক্তি হয়েছে।
তা হয়নি। মানে…
এই দেশে দুটো জিনিসের দাম নাই। একটা হচ্ছে মানুষ আরেকটা হচ্ছে কথা।
দুটো কথাই খুব আপত্তিকর। কাকার পুরনো দিন থাকলে একেবারে দম বের করে দিতেন। কিন্তু এখন তার একটাই বিষয়। রতন। কাজেই অনেক আজেবাজে কথাও মেনে নিতে হচ্ছে। এটা হজম করতে একটু সময় লাগল তবু।
সেলিম বললেন, দুই লাখ টাকা পাবে। এক লাখ টাকা এখনই এডভান্স। আরেফীন।
এতক্ষনে বোঝা গেলো আরেফীনের সঙ্গে যে ব্রিফকেস সেটা আসলে টাকার থলি। সে তড়িঘড়ি টাকা বের করে। সঙ্গে একটা কাগজও। কাকা খেয়াল করেন, ওটা দেড়শ টাকার স্টাম্প। চুক্তিপত্র এখনই সই হবে।
কাকা একটু মুগ্ধ হন। ওদের তৎপরতায়। কোনো ফাক রাখেনি।
কাকাকে ভাবতে দেখে সেলিম বলেন, আপনি ভাবছেন আবাহনীর চেয়ে আমরা কতো পেশাদার তাই না! বিষয়টা সেরকম নয়। ওরা আগে আলাপ শুরু করেছিল, এখন পেছন থেকে এসে আমাদের জিততে হলে বাড়তি কিছু করতে হবে না। আমরাও যদি এক লাখ বলতাম আপনি উড়িয়েই দিতেন না। আবার আমরা আগে বললেও এক লাখ বলতাম। এত কাগজ-পত্রের ধার ধারতাম না।
কাগজপত্রে সব লেখা। শুধু রতনের একটা স্বাক্ষর লাগবে। না। রতেনর নয়। নাবালক হিসেবে ওর পক্ষে ওর অভিভাবক সই করবেন।
রতনদের আপত্তি করার যেন কোনো কারণ থাকতেই পারে না এমন ভঙ্গিতে তিনি কাগজটা ঠেলে দিলেন সইয়ের জন্য। আরেফীন দিল কলম।
কাকা মুগ্ধ হচ্ছেন বটে, তবু মনে হচ্ছে অন্যায় একটা হয়েই যাচ্ছে। হঠাৎ তার মাথায় একটা বুদ্ধি এল। বললেন, আমার ভাবীকে ডাকি। মানে রতনের মা। উনি তো!
এসব ব্যাপারে মেয়েমানুষ আমার পছন্দের তালিকায় থাকে না কখনো। কিন্তু আপনারা যখন বলছেন। ডাকুন।
ডাকতে হলো না। ফরিদা বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঘরে ঢুকেই বললেন, আমার ছেলের দাম মাত্র দুই লাখ টাকা। হবে না!
হবে না! কাকা অবাক।
হু। ৫ লাখ টাকা দিতে হবে।
আরেফীন একটু চমকে গিয়ে বলে, ৫ লাখ! বলছেন কি?
সেলিম ভালো করে একটু ফরিদাকে দেখেন। দেখে কী যেন একটা সিদ্ধান্ত নেন। নিয়ে বলেন ৫ লাখ হলেই চলবে তো!
আরেফীন বলে, ৫ লাখ! আমরা তো আমাদের দলের কাউকেই এই মৌসুমে ৫ লাখ দেইনি। া
আরেফীন তুমি কাজের কথার চেয়ে বাজে কথা বেশি বলো।
এই প্রথম কাকার মনে হল কথাটা ঠিক। আরেফীনটা বাজে কথা বলে।
সেলিম বললেন, কিন্তু ৫ লাখ হওয়ার পর আর কারো সঙ্গে কোনো কথাই চলবে না। ৫০লাখ হলেও না। এই কথাটা আপনি মা হিসেবে আপনাকে দিতে হবে। মানুষের কথার কোনো দাম নাই, কিন্তু মায়ের কথার দাম আছে। আমি জানি।
এক কথায় ৫ লাখ হয়ে গেছে দেখে ফরিদাও খানিকটা বিস্মিত। কাকা বললেন, আপনি ওনার কথা রাখলে অবশ্যই ভাবী আপনার কথা রাখবে। তাই না ভাবী!
ভাবী নয়, আমি রতনের মায়ের কথা চাই।
ফরিদা মাথা নাড়েন।
সেলিম বলে, এক লাখ টাকা এডভান্স হিসেবে ক্যাশ দিয়ে যাচ্ছি। আপনারা যদি চান বিকেলের মধ্যেই বাকি টাকা চলে আসবে। ক্যাশ বা চেক যাই চান।
ওরা চলে গেলে কাকা বলেন, ভাবী তুমি তো খেল দেখিয়ে দিলে! ৫ লাখ টাকা!
কিন্তু আবাহনীর লোকদের আমি কি বলব? রতন তোর কোনটা পছন্দরে। আবাহনী না মোহামেডান? অবশ্য এখন পছন্দ দিয়ে আর কিছু হবে না। তোকে মোহামেডানেই খেলতে হবে। তুই এখন মোহামেডানের খেলোয়াড়। কাল দুপুরে তোকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন।
কি সম্মেলন? গলাটা শুনেই থেমে যান রফিক। মনে হয় ভুল শুনেছেন। এখানে তো বড় ভাইজানের আসার কথা না। কিন্তু তাকিয়ে দেখেন তিনিই। তাদের সবচেয়ে বড় ভাই।
ভাইজান তুমি কখন এলে?
ও মোহামেডানে খেলবে? তোমরা শুরু করেছো কি? তোমাদের মতো অপদার্থ দুই ভাই একটা ঝামেলা তৈরি করবে জানা ছিল। তাই বলে…
কি ঝামেলা করলাম?
তুই ঘরে যা। গিয়ে ঘুমা। সেটা তবু ভালো। নিজেরই ক্ষতি করবি। অন্য কারো ক্ষতি অন্তত হবে না। এটুকু বাচ্চা ছেলে তাকে নিয়ে এই টানাটানি।
কিন্তু এটা তো প্রতিভার মূল্য…
প্রতিভা! তোরা দেখছিস না ছেলেটার চেহারা। আমি তো পত্রিকায় ওর চেহারা দেখেই বুঝেছি?
কি বুঝেছেন ভাই সাহেব? এতক্ষণে ফরিদা কথা বলেন।
আরে ছেলেটার চোখ দেখছো না। ও অসুস্থ। ওকে জ্বীনে ধরেছে।
জ্বীন!
হু। ওর চিকিৎসা লাগবে। সমস্যা নেই। চিকিৎসক চলে আসছে। ফ্লাইটের টিকেট ছিল না বলে আমার সঙ্গে আসতে পারেনি। এসি বাসে তুলে দিয়েছি। এখন যাত্রাবাড়িতে।

(চলবে………………)

৪,২৭০ বার দেখা হয়েছে

৬২ টি মন্তব্য : “ম্যাজিক বয় – ০৪”

  1. অনেকেই বইমেলায় যেতে পারেনি। তাদের জন্য একটা বিশেষ ঘোষণা!

    যে ৫ জন প্রথম হাত তুলবে তারা ঘরে বসেই `হ্যালো ক্যাডেটস' বইটা পেয়ে যাবে।

    কামরুল তুমি একটু বিষয়টা তদারক করবে। মানে প্রথম ৫ জনের নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি।

    কামরুল (তপু) এরপর নিশ্চয়ই আমাকে ব্যান করতে চাইবা না।

    মোস্তফা মামুন

    জবাব দিন
  2. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    আমার জন্য সবাই বই পাইল আমার কি হবে? আমি বিদেশ থাকি আমার জন্য একটা বই লাগব। আমি প্রথম বিদেশি। বাকিরা সবাই দেশি। আমি প্রবাসী কোটায় একটা বই চাই।

    জবাব দিন
  3. কামরুল তুমি এইখানে ঢুকলা কেন! তুমি তো তত্ত্বাবধায়ক। যাই হোক অামরা একটা আপোষে আসি। কামরুলকে ধরে হোক ৬ জন। তার মানে তালিকাটা এরকম

    তুহিন
    ফয়েজ
    রায়হান আবীর
    মুহাম্মদ
    তানভীর
    কামরুল

    কামরুল তুমি কি একটু সবার বতর্মান ঠিকানার বিষয়ে একটু সাহায্য করবা! মানে যে ঠিকানায় কুরিয়ার করতে হবে। এবার এর বেশি আর কোটা নেই। বাকিদের নেক্সট টাইম।

    মোস্তফা মামুন

    জবাব দিন
  4. তাইফুর (৯২-৯৮)

    মোস্তফা মামুন ভাই ...
    ক্যাম্নে কি ??
    আমি ভাব্লাম হাত তুইলা ঠিকানা দিমু আর কুরিয়ারে বই চইলা আসবে ... কিন্তু লেট কইরা দেখি দেরী হয়া গেল ...
    ঠিক আছে ... তাইলে আমারে বস এমন একটা ঠিকানা দেন যেইখান থিকা আপনার বইগুলা কিনতে পারব।
    নাকি ঠিকানা পাইতেও "টেন্ডার" ...


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  5. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    থ্রি চিয়ার্স তো কেউ দিলো না? ঘটনা কি? ক্যাডেটরা সব অভদ্র হইয়া গেল নাকি? 😡 😡 😡

    সিনিয়র হইয়াও আমিই কই :
    থ্রি চিয়ার্স ফর মোস্তফা মামুন
    হিপ হিপ হুররে.........................

    ভালো আছো মামুন? বহুত দিন দেখি না তোমারে।
    কারওয়ানবাজার আইলে :just: চা খাইয়া যাইও।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  6. সেলিনা (১৯৮৮-১৯৯৪)

    থ্রী চীয়ার্স ফর মামুন ভাই
    হিপ হিপ হুররে।
    হিপ হিপ হুররে।
    হিপ হিপ হুররে।

    আমিও হাত তুললাম,
    মগকক কোটা
    প্রবাসী কোটা
    আর
    নারী কোটা
    একটা না একটা আশা করি কাজে লাগবোই 😀

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।