আবাহনী এবং মোহামেডান ঘরোয়া খেলা।

খেলা নিয়ে এটা আমার প্রথম পোস্ট। অতি সম্প্রতি আবাহনী ও মোহামেডানের দল গঠন ও খেলা নিয়ে সমর্থকদের উত্তেজনা ৯০ দশকের উত্তেজনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। এটা সত্যি যে এবার ফুটবল ও ক্রিকেট উভয় জায়গায় আবাহনী হতে মোহামেডানের দল গঠণে অনেক বেশি চমক দেখিয়েছে।

তবে ক্রিকেটে আবাহনী হতে অধিক টাকা খরচ করেও বালান্সড দল গড়তে পারেনি মোহামেডান। তাদের বোলিংআক্রমনে দুর্বলতা আছে। এছাড়াও কোটার বাইরের খেলোয়ারগুলো আবাহনীর খেলোয়ারদের মত দক্ষ ও প্রতিভাবান নয়। ওয়ান ডে ফরম্যাটে সর্বোচ্চ টাকা খরচ করলেও তারা ৩য়তম শক্তিমত্তার দল। তবে ২০/২০ ক্রিকেটে তারাই ছিল ফেভারিট কারন তাদের দলে হিটার ব্যাটসম্যান অনেক বেশী। তবুও তারা উজ্জীবিত আবাহনীর কাছে সেমিফাইনালে পরাজিত হয়েছে। আবাহনীর বোলিং এট্যাক খুব স্ট্রং এবং বৈচিত্রময়। এছাড়াও ওয়ান ডে খেলার উপযোগি ব্যাটসম্যান আবাহনীর বেশি। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাঠ সাধারনত লো এবং স্পিন উপযোগী হয়। আর স্পিন আক্রমনে আবাহনী এবার সব থেকে বেশি বালান্সড দল। এবার আবাহনীর বোলিং আক্রমনের বিপরীতে ভালো দলগুলোর ১৮০+ রান করাই অনেক কষ্টকর ব্যাপার হবে।

ফুটবলে নিখাদ একটি দল পেয়েছে মোহামেডান। সেরা আক্রমনভাগ, স্ট্রং মধ্যভাগ এবং দেশ সেরা গোলরক্ষক। তবে মোহামেডানের রক্ষন অনেকটাই রিয়াল মাদ্রিদের মত নড়বড়ে। কিন্তু এখানে দুশ্চিন্তার কিছু নাই কারণ একমাত্র আবাহনী ছাড়া অন্য কোনো দলের গোল করার মত স্কোরার নাই। তাই দুর্বল রক্ষনভাগ মোহামেডানকে মাদ্রিদের মত ভোগাবেনা। আবাহনির দলটি ভালোই, খারাপ না; তবে যে কোনোদিন ড্র বা ন্যুনতম ব্যবধানে হেরে যেতে পারে। তবে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা মোহামেডানের ক্ষেত্রে এবার খুবই কম। তারপর সাধারণ বিচারবোধে বলা যেতে পারে আবাহনী বনাম মোহামেডান দ্বৈরথে যে এগিয়ে থাকবে লীগ শিরোপা তার হাতেই উঠার সম্ভাবনা বেশী।

ফুটবলে করপোরেট বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক কম। এবার মোহামেডান ফুটবলে যে পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করেছে তা রীতিমত বিষ্ময় জাগানীয়া। তাদের এমনতর দল গঠণের পিছনে গতবারের কোটি টাকার টুর্নামেন্ট জয় এবং এবার সেইরকম ঘটনারপুনরাবৃত্তি করে খেলোয়ারদের বোনাস দেওয়ার পরিকল্পনা কাজ করেছে বলে মনে হয়। তবে এবার যদি কোনো কারনে কোটি তাকার টুর্নামেন্ট না হয়। অথবা দৈবাত মোহামেডান হেরে যায় তবে আগামী মৌসুমে মোহামেডানের দল গঠনের মত প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করাই কঠিন হবে। আদতে এবার তারা আবাহনীর হ্যাট্রিক শিরোপা আটকাতে বড় ধরনের ঝুকি নিয়েছে।

ক্রিকেটে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ২০ লাখ টাকা এবং খেলোয়াড়ের তালিকায় নাম আছে তামিম, মাশরাফি এবং সাকিবের। তবে এগুলো সবই কাগজে কলমে। বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা মিলিয়ে এই লীগে সর্বাধিক টাকা পাচ্ছেন আশরাফুল তার টাকার পরিমাণ ২৪ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। তবে আশরাফুলের ব্যাট ধারাবাহিক না হলে মোহামেডানের জন্য তা বিপদের বার্তাই বয়ে আনবে। এক কথায় বলা যেতে পারে এ মৌসুম মোহামেডানের অগ্নি পরিক্ষার মৌসুম।

১,৩৭৯ বার দেখা হয়েছে

২০ টি মন্তব্য : “আবাহনী এবং মোহামেডান ঘরোয়া খেলা।”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    মোহামেডান ফুটবল টিমটা ফাটাফাটি করেছে। তবে ফেডারেশন কাপে বা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ লীগে সেভাবে খেলতে পারেনি। আবাহনীর মধ্যমাঠ আমার পছন্দ হইছে... দেখা যাক কে কতদুর যেতে পারে। তবে এবার শেখ রাসেল সহ অন্যান্য দলগুলো আরো দূর্বল হয়ে যাওয়ায় লীগ কিছুটা আকর্ষন হারাবে মনে হয়।

    ক্রিকেটে গাজী ট্যাঙ্ক ( আইসিএল পাট্টি ) বড় ধরা খাক এটা আমার প্রথম প্রত্যাশা। ইতিমধ্যে ওল্ড ডিওএইচএস এর কাছে হারছে। আবাহনীর সম্ভাবনা ক্রিকেটে বেশি মনে হয়। ২০/২০তে মোহামেডানের নতুন বা হাতি পেসারকে পছন্দ হয়েছে, নাম মনে পড়ছে না, ঐ পোলা ভাল করবে মনে হয়।

    আশা করি এবার মাঠে গিয়ে খেলা দেখব।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।