বিফোর মিডনাইট (২০১৩)

২০১৩ সালে এসে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি রিচার্ড লিংকলেটারের “বিফোর” ট্রিলজি ইতিহাসে একটা বিশেষ জায়গা করে নেবে। ট্রিলজিটা শুরু হয়েছিল ১৯৯৫ সালে, বিফোর সানরাইজ-এর মাধ্যমে, যেখানে অভিনয় করেছিলো ২৪ বছর বয়সী মার্কিন অভিনেতা ইথান হক (জেসি চরিত্রে) ও ২৫ বছর বয়সী ফরাসি অভিনেত্রী (১৯৯০ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত) জুলি দেলপি (সেলিন চরিত্রে)। এর নয় বছর পর ২০০৪ সালে বিফোর সানসেট-এ ইথান ও জুলি আবার একত্রিত হয়, এবার অবশ্য চিত্রনাট্য রচনায়ও লিংকলেটারের সাথে তারা দু’জনে অংশ নেয়। আরও নয় বছর পর ২০১৩ সালে বিফোর মিডনাইট-এর মাধ্যমে জেসি ও সেলিনকে আবার দেখা গেল এবং যথারীতি এবারও ইথান ও জুলি চিত্রনাট্য রচনায় অংশ নিলো। শুরুর ধারণাটি লিংকলেটারের হলেও সানসেট ও মিডনাইটের মাধ্যমে জেসি ও সেলিন চরিত্রকে পূর্ণতা ও বর্তমান রূপ দেয়ার পেছনে ইথান ও জুলির অবদান পরিচালকের চেয়ে কোন অংশ কম নয়।

তিনটা সিনেমাই যার যার বছরের সেরা সিনেমার তালিকায় থাকার মতো। বিশেষ করে মিডনাইট দেখে মনে হয়েছে লিংকলেটারের উদ্দেশ্য এই সিনেমাগুলোর মাধ্যমে মানুষের পুরো জীবনকে “অখণ্ড”-ভাবে জানার, বোঝার বা অন্তত দেখার চেষ্টা করা। এবং সম্ভবত তার মতে “নিজেকে জানা”-র সবচেয়ে সহজ উপায় অন্যকে জানা, এজন্যই বিফোর ট্রিলজির সব সিনেমা কথোপকথন-নির্ভর। মিডনাইট-এ ডিনারের দৃশ্যের সময় বয়োঃজ্যেষ্ঠ এক নারীকে বলতে শোনা যায়, তিনি তার প্রয়াত স্বামীকে ক্ষণে ক্ষণে হারিয়ে ফেলেন, এজন্য মাঝে মাঝে তার মুখমণ্ডলের প্রতিটি অংশ আলাদা আলাদাভাবে মনে করার মাধ্যমে পুরো মুখটি কল্পনা করার চেষ্টা করেন, সফল হলে স্বামীর মুখ মেঘলা আকাশে হঠাৎ দেখা সূর্যের মতোই আবির্ভূত হয়, কিন্তু সেই সূর্যের মতোই আবার হারিয়ে যায়। মেঘলা আকাশ না থাকলেও আমরা দিনে অন্তত একবার সূর্যের দেখা দিয়ে আবার হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা অবলোকন করি। “মানুষও সূর্যের মতো কিছুক্ষণের জন্য দেখা দিয়ে আবার হারিয়ে যায়”- এই কথাটা আসলে সিনেমার বাকি অংশের জন্য হুশিয়ারি বা সান্ত্বনাবাণী হিসেবে কাজ করে।

বিফোর মিডনাইটে সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং মাঝরাতের মধ্য দিয়ে দিনের একটি চক্রের সাথে মানুষের পুরো জীবনের তুলনা করা হয়েছে। এই তিন লগ্নের মাধ্যমে যেমন একটি দিন শৈশব থেকে বার্ধক্যে বিবর্তিত হয়, বিফোর ট্রিলজির সিনেমাগুলোর মাধ্যমে সেলিন ও জেসি তেমনি আমাদেরকে জীবনের সকল আঙিনায় ঘুরিয়ে নিয়ে আসে। একটি সৌরদিবস রাত বারোটায় শুরু হয়, সূর্যোদয়ের মাধ্যমে হয়তো সে যৌবনে পদার্পণ করে, সূর্যাস্তের মাধ্যমে পূর্ণবয়স্ক হয় এবং এরপর মধ্যরাতের মৃত্যুর অপেক্ষা। লিংকলেটারের সিনেমা তিনটাতেও জেসি-সেলিন স্বপ্নকাতর প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে প্রাপ্তবয়স্ক জুটি এবং সবশেষে পরিবার ও নিজেদের শেষ জীবন নিয়ে চিন্তিত অ্যাডাল্টে বিবর্তিত হয়।

১৯৯৫ সালে জেসি ও সেলিন ক্ষণিকের প্রেমের তাগিদে দিনের স্বাভাবিক চক্র ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কাকতালীয় সাক্ষাতের পর তারা সারা রাত একটি স্বপ্নের জগতে কাটায়। তখন তারা খুব প্রণয়কাতর ছিল, তাদের চোখ ছিল স্বপ্নালু। সূর্যোদয়ের পর তারা বাস্তব পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং ছয় মাস পর আবার দেখা করবে বলে আলাদা হয়ে যায়। নয় বছর পর প্যারিসে তাদের আবার দেখা হয়, এবার তাদেরকে আরও পরিপক্ক মনে হয়, এবং ত্রিশের কোঠায় যাদের বয়স তাদের স্বাভাবিক অনেক পিছুটানেই তারা আবদ্ধ থাকে। সেলিনের তখন একজনের সাথে কোনরকমের সম্পর্ক আছে এবং বিবাহিত জেসি স্ত্রীর কাছ থেকে মুক্তির দিন গুনছে। সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে রোমান্টিক একটি দৃশ্যে তাদের শেষ সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে কিছু না জানিয়েই বিফোর সানসেট শেষ হয়ে যায়।

মিডনাইটের প্রথম দৃশ্যে আমরা দেখি জেসি গ্রিসের একটি বিমান বন্দরে নিজের ছেলেকে বিদায় দিচ্ছে, ছেলে মা-র সাথে যুক্তরাষ্ট্রে থাকে, আর সে থাকে ইউরোপে। তখনই সানসেটের পরিণতি অনুমান করা যায়। ছেলের সাথে তার কথোপকথন এই ট্রিলজির সব সিনেমার মতোই খুব বাস্তবধর্মী- টিপিক্যাল বাবার মতোই সে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করে দেশে ফিরে সে প্রথম কোন কাজটা করবে, এবং ছেলে যথারীতি প্রশ্নটির অর্থ খুঁজে পায় না। বিমান বন্দর থেকে বেরোনোর পরই সব পরিষ্কার হয়- সেলিনও জেসির ছেলেকে বিদায় দিতে এসেছিল, সে গাড়ি নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছে। তারা একসাথে প্যারিসেই থাকে, তাদের দুটি ফুটফুটে কন্যা আছে, গ্রিসে এসেছে গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে এবং শীঘ্রই ফিরে যাবে।

দীর্ঘ একটানা দৃশ্য তৈরিতে লিংকলেটারের (এবং হক ও দেলপির) দক্ষতা বিমান বন্দর থেকে তাদের বন্ধুবর প্যাট্রিকের বাড়িতে ফেরার দৃশ্যে সবচেয়ে ভালভাবে বোঝা যায়। জেসি গাড়ি চালাচ্ছে, পাশের সিটে সেলিন, পেছনে দুই মেয়ে ঘুমাচ্ছে। যাত্রা শুরুর পর থেকে মেয়ে দুটির ঘুম ভাঙার আগ পর্যন্ত প্রায় ১৩ মিনিট ক্যামেরা একটি জায়গায় প্রায় স্থির থাকে, আমরা কেবল তাদের কথা শুনি। আব্বস কিয়রোস্তামির “টেন” সিনেমাতেও একেকটি স্থির ক্যামেরার শটের দৈর্ঘ্য ছিল ১০ মিনিট, কিয়রোস্তামির সব দর্শকেরই এমন শটের কার্যকারিতার কথা জানা। সেলিন-জেসি কোথায় কেমন আছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ কি হতে পারে সবকিছুরই একটা ইঙ্গিত এই দৃশ্যে পাওয়া যায়। সেলিন একটা নতুন চাকরির অফার পেয়েছে কিন্তু জেসি তাকে নিরুৎসাহিত করে। একটু আগে ছেলেকে বিদায় দেয়ার সময় বোঝা যাচ্ছিল জেসির খুব ছেলের কাছে থাকার ইচ্ছা। এই নিরুৎসাহিত করার পেছনে হয়তো সবাই মিলে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার আশা কাজ করছে। দৃশ্যটির শেষে সেলিন জেসি-র মনোবাসনা বুঝতে পেরে বিচলিত হয়, তার মতে সকল বিচ্ছেদ এভাবেই শুরু হয়। আমাদের মনে আসে, রূপকথার প্রেম দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও প্রতিটি জুটিকে পুরো “বাস্তব জীবন”-টা আসলেই অতিবাহিত করতে হয়; প্রেম ও “যৌথ”-মৃত্যুই তাদের জীবনের একমাত্র ঘটনা নয়। সহস্র বছরের ট্র্যাজেডির দেশ গ্রিস সেলিন-জেসি-কে আচ্ছন্ন করে কিনা সেটাই এরপর দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

সানসেট-এ যেমন উডি অ্যালেনের অ্যানি হল-এর কিছুটা প্রভাব আছে, মিডনাইট-এ তেমনি রোবের্তো রোজেলিনির জার্নি টু ইটালি-র প্রভাব আছে। এছাড়া কথার জাদুতে বিশ্বাসী ফরাসি নবতরঙ্গের চলচ্চিত্রকার এরিক রোমার-এর নামও এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে যায়। বিফোর ট্রিলজির প্রতিটা সিনেমাতেই কথা জাদু হয়ে উঠেছ; তাও বিশেষ কোন কথা নয়, কোন সমস্যা সমাধান বা লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কথা নয়, কেবল কথার জন্য কথা। মানুষের প্রাত্যহিক কথাবার্তা কিভাবে থ্রিলার বা কমেডির মত কাজ করতে পারে সেটা মিডনাইট না দেখলে বিশ্বাস করা কষ্টকর। ২৩ বছর বয়সী জেসি ও ইথান সানরাইজ-এ বেনামীদের গোরস্থানে একটি খরগোশ দেখে চঞ্চল হয়ে উঠতো, মৃতদের চিরযৌবন লাভের কথা ভেবে ঈর্ষান্বিত বা হয়তো আশান্বিত হতো; ৩২ বছর বয়সে তারা মনে করতো জীবনের ভাল সবকিছু হয়তো মুমূর্ষু এক বুড়ির দেখা শেষ স্বপ্ন; আর এখন, ৪১ বছর বয়সে, তারা ভাবে, সেই মুমূর্ষূ বুড়ি তাদেরও একদিন হতে হবে, তখন তারা কী স্বপ্ন দেখবে, নাকি তাদের জীবনটা এখনও কারও স্বপ্নই রয়ে গেছে!

মিডনাইট ভয়ংকর বাস্তববাদী যার সবচেয়ে ভাল উদাহরণ প্যাট্রিকের বাসায় ডিনার। এখানে সেলিন-জেসি তরুণ ও বৃদ্ধ দুই ধরণের জুটির সাথেই কথা বলে, নিজেদেরকে “মাঝখানে” কল্পনা করে হয়তো একটা সেতু তৈরির চেষ্টা করে। ১৬ মিনিটের এই দৃশ্যে ট্রিলজির অনেক মৌলিক থিম গড়ন পায়। তারা কথা বলে খুব অ্যাডাল্ট ও বাস্তব সব বিষয় নিয়ে খুব বাস্তব ভঙ্গিতে, একটা কথাও অপরিচিত লাগে না এবং পুরোটাই শ্বাসরুদ্ধকর, এক মুহূর্তের জন্য মনোযোগ নষ্ট হয় না। স্বাভাবিকভাবেই সেলিন ও জেসি এখন একে অপরকে নিজের দর্পণ প্রতিবিম্বের মতই চেনে, কার কোথায় খোঁচা দিলে কতটুকু লাগবে সে নিয়ে তাদের পি-এইচ-ডি করা হয়ে গেছে, খোঁচা দেয়ার কিছুক্ষণ পর অপরের মুখ দেখে আঘাত-টার কার্যকারিতাও অনুভব করার চেষ্টা করে, অনুভব করে বেশ তৃপ্তিই পায়। সিনেমার প্রথম দিকে দর্শক ও শ্রোতা হিসেবে আমরা অভিজ্ঞ হই, যতোটা অভিজ্ঞ হলে সেলিন-জেসি-র ব্যক্তিগত জীবনে প্রবেশ করা যায় ততোটুকুই।

এরপর সেলিন-জেসি-র মহাকাব্যের সূচনা। সমুদ্রে নামার পর সন্তানরা কতোদূর গেল, কোথায় পানি কতটুকু গভীর?- এরকম শত-সহস্র দুশ্চিন্তা এখন তাদেরকে আষ্টেপিষ্টে বেঁধে রাখে, অনেকদিন তারা কেবল কথার জন্য কথা বলে নি। কিন্তু সেটা শুরু না করলে তো বিফোর ট্রিলজি-র সার্থক সমাপ্তি সম্ভব হবে না! তাই তারা শুরু করে; তারা একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করে এবং এক সময় দেখতে পায়, দীর্ঘ সময় একসাথে থাকার পরও একে অপরকে চেনা পুরোপুরি সম্ভব নয়, এবং একই কারণে নিজেকে জানাও পুরোপুরি সম্ভব নয়। আয়নার “আমি”-টা যে অবাস্তব সেটা বোঝার পর আমরা শঙ্কিত হই, কিন্তু তারপর সেই শঙ্কা দিয়েই নিজেদের লাগামহীন কল্পনাকে বৈধতা দেই। মিডনাইটে হোটেলের ঘরটিতে এইসব শঙ্কা একসাথে জড়ো হয়। এই দৃশ্যের সাথে কেবলমাত্র স্ট্যানলি কুবরিকের আইস ওয়াইড শাট (১৯৯৯) এর বেডরুম দৃশ্যেরই তুলনা চলে। বিষয়বস্তু অনেক দিক দিয়ে এক হলেও দুই পরিচালকের চিন্তাপদ্ধতি আলাদা হওয়ার কারণে দৃশ্য ২টির পরিণতি একেবারে আলাদা।

আইস ওয়াইড শাট-এ যেমন গাঁজার প্রণোদনা দিয়ে বেডরুম দৃশ্যটি শুরু হয়, এখানেও সূচনা তেমনি এক রকমের প্রণোদনা দিয়ে। কিন্তু কুবরিক সেই উত্তেজনার স্বাভাবিক গতি যতোটা ভয়ংকরভাবে থামিয়ে দিয়েছিলেন, লিংকলেটার থামিয়েছেন ততোটাই কমিক-ভাবে। কুবরিক আরও অন্ধকার দিক নিয়ে কাজ করেছেন, তিনি মানুষের মনের এমন দিকটা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন যা অন্য কেউ জানতে পারে না, যে কারণে সেখানে অনেক পরাবাস্তব এবং স্বপ্নের দৃশ্য আছে; গাঁজার প্রভাবেই হয়তো মনের কোণের সেই অজানা কথাগুলো উঠে আসে এবং স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে খুব করুণভাবে আঘাত করে; এরপরও পরিবার টিকে থাকে, কিন্তু বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে। জেসি ও সেলিনেরও যে অন্য কারও সাথে এক রাতের কোন ব্যাপার ঘটেনি তা নয়, কিন্তু এখানে তাদের তর্কটা কখনও অতোটা নিষ্ঠুর হয় না। তাদের কথাতেও করাতের ধার, সবচেয়ে কঠোর কথাটি বলতেও দ্বিধা করে না, ‘আর ভালবাসি না’ বলাও বাদ যায় না; কিন্তু এখানে মানুষের মনের কথা ও মুখের কথার মধ্যকার পার্থক্যে আমাদের ভরসা থাকে।

সেলিনের তুলনায় জেসি যে খামখেয়ালি তা আমরা গোড়া থেকেই জানতাম; সেলিনের উপমাটা অবশ্য আরও সুন্দর, সে জেসির মত বার্ট্রান্ড রাসেলদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে চায় না, তার মতে ছেলেদের তুলনায় সেটা মেয়েরা এমনিতেই কম করে; এটাই হয়তো ভাল, নিজেকে আসমানে কল্পনা করলেও ও খুব নারী-আসক্তি দেখালেও তো জেসি আসলে কোন হেনরি মিলার (“ট্রপিক অফ ক্যান্সার”-এর লেখক) নয়। এর মাধ্যমে সে হয়তো নিজেকেই সান্ত্বনা দেয়, তাই এখানে সে প্রতিনিধিত্ব করে পরিবারের কারণে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দেয়া অগুনতি নারীর। ঝড়-ঝঞ্ঝার পর মন ঠাণ্ডা করার জন্য লিংকলেটারের সেই পুরনো চাল এখানেও দেখা যায়। সানরাইজ-এর শেষ দৃশ্যে বেনামী গোরস্থানের সুনসান নিরবতা বা ভিয়েনায় জেসি-সেলিনের ছুঁয়ে যাওয়া জায়গাগুলোর চিরন্তন উপস্থিতির দৃশ্যের মত এখানে আমরা দেখি ফেলে যাওয়া ওয়াইনের বোতল, সাথে গ্লাস।

তবে এই তিন সিনেমা মিলিয়ে যে দৃশ্যটা আমার সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে তা হল, টাইম মেশিনে করে ভবিষ্যৎ থেকে ৮২ বছর বয়সী সেলিনের চিঠি নিয়ে জেসির প্রত্যাবর্তন। এটা বিফোর মিডনাইট-এর সবচেয়ে অলৌকিক দৃশ্য। ভাবতে ইচ্ছা হয়, সত্যিই যদি চিঠিটা ৮২ বছর বয়সী সেলিনের হয়, সত্যিই যদি জেসি-র একটা টাইম মেশিন থাকে, সত্যিই যদি ইগোর সাথে যুদ্ধে জীবন শেষ পর্যন্ত জিতে যায়, স্বর্গের অস্তিত্ব যদি শুধুমাত্র একটি রাতের উন্মাতাল তাংগো-র মধ্যেই নিহিত থাকে! বা হয়তো সবই রূপকথা, সবই ১৯৯৫ সালে ছয় মাস পর দেখা করবে বলে বিদায় নেয়া জেসি ও সেলিনের কল্পনা, বা পুরোটা মৃত্যুশয্যায় থাকা সেলিনের শেষ স্বপ্ন হলেই ক্ষতি কী! এই আজগুবি কল্পনাগুলোর কোন একটা বা সবগুলো সত্যি হলেও কিছু যায় আসে না, সবদিক থেকেই বিফোর ট্রিলজি সফল।

২,১৯২ বার দেখা হয়েছে

১৮ টি মন্তব্য : “বিফোর মিডনাইট (২০১৩)”

  1. নাফিস (২০০৪-১০)

    বিফোর সিরিজের মুভি গুলো অদ্ভুত। মনে দাগ কেটে যায়.. এই বছর রিলিজ পাওয়া মুভিটি এখনো দেখিনি। দেখতে হবে তাড়াতাড়ি। এই মুভি নিয়ে পড়া আমার বেস্ট লেখা এটি... :hatsoff:

    জবাব দিন
  2. রাব্বী (৯২-৯৮)

    অস্থির লিখছো মুহাম্মদ! এই বিফোর ট্রিলজি আসলেই অসাধারণ। বেডরুম সিন আইস ওয়াইড শাটের দৃশ্যের তুলনাটা যথার্থ মনে হইছে।

    মিডনাইট আমার কাছে দারুণ লেগেছে। আবার দেখতে হবে ডায়ালগগুলোর জন্য।


    আমার বন্ধুয়া বিহনে

    জবাব দিন
  3. সামিয়া (৯৯-০৫)

    মুভিটা দেখে সমগ্র পুরুষ জাতিকে আমার পিটাইতে ইচ্ছা করসে। হয়ত এটাই এই মুভির স্বার্থকতা। আমি সারা মুভিই কেবল একটা মেয়ের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দেখতে পারসি, আরও সুবিধা হইছে কারণ সদ্য বিবাহিত। সেলিনের একটা মন্তব্য আমার মন থেকে দূর হচ্ছে না, ডায়লগটা মনে নাই, মোদ্দা কথা হচ্ছেঃ 'আমি এখন মিটমাট করবো, আর পরদিন সকালে উঠে দেখবো শিকাগোতে পাউরুটি কিনতেসি'।

    জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)
      'আমি এখন মিটমাট করবো, আর পরদিন সকালে উঠে দেখবো শিকাগোতে পাউরুটি কিনতেসি'।

      😛


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
    • মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

      হুম, মেয়েদের গোটা পুরুষ জাতিকে পিটাইতে ইচ্ছা করাটা খুবই যৌক্তিক, তাই সিনেমার সার্থকতা সেটা হলেও ক্ষতি নাই। তবে পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও বিফোর মিডনাইট দেখা যায় মনে হয়, রায়হানকে জিজ্ঞাস করতে হবে।
      'আমি এখন মিটমাট করবো, আর পরদিন সকালে উঠে দেখবো শিকাগোতে পাউরুটি কিনতেসি'-টাইপের কথাগুলোর কারণেই মনে হয় বিফোর ট্রিলজি এতো বাস্তবধর্মী।

      জবাব দিন
  4. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    লিঙ্কলেটার ব্যাটার বেশ কয়েকটা সিনেমা দেখে সিনেমা বানানো একই সাথে খুবই সোজা আবার ব্যাপক কঠিন একখান জিনিস মনে হয় 😛
    আইএমডিবি তে দেখলাম আপ টু স্পীড নামে একটা ডকুমেন্টারি সিরিয়াল বানাইসে সে রিসেন্টলি। সিরিয়ালের সাগরে আপাততঃ হাবুডুবু খাওয়ার মধ্যে এইটা নামায়া দেখা লাগবে মনে হচ্ছে।

    খান মুহাম্মদের খবরাখবর কি? ইউরোপ চষা কমপ্লিট? 😀


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  5. মনজুর (৮৯-৯৫)

    দারুন রিভিউ। :clap: :clap:
    'বিফোর মিডনাইট' দেখা হয়নি। আগের দুইটা দেখেছিলাম, কিন্তু রিভিউটা পড়ে মনে হচ্ছে আসলে অনেক কিছুই দেখা হয়নি। আরও একবার আগের দুইটা দেখে ট্রিলজির শেষ পর্ব দেখতে হবে।

    জবাব দিন
  6. কোন এক অজানা কারণে বিফোর সিরিজের ছবিগুলো হাতের কাছে থাকা সত্ত্বেও দেখা হয় নাই।
    এবার আগ্রহ বোধ করছি। হয়তো একসাথে তিনটা পার্টই দেখে ফেলতে হবে হঠাৎ একদিন। সিনেমা নিয়ে রেগুলার লিখছেন এবং লিখবেন জেনে ভালো লাগল। চেষ্টা করবো সাথে থাকার জন্য।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।