iTunes এ প্রথম বাংলা সিনেমা: ‘দ্বন্দ’ ইতিহাস তৈরী করল

লিখেছেন – বিপ্লব পাল, ভিন্নমত নিউজ নেটওয়ার্ক
লেখকের অনুমতিক্রমে ভিএনএন এর ওয়েবসাইট থেকে এখানে প্রকাশিত

অনেকেই ভাবছেন আই টিউনে বাংলা সিনেমা “দ্বন্দ” রেন্টে বা ডাউনলোড হিসাবে পাওয়া যাচ্ছে– এই ঘটনাকে কেন আমি ঐতিহাসিক বলছি? টরেন্ট সহ নানান ডাউনলোড সাইটে অমন শত শত বাংলা সিনেমা বেআইনি ভাবে ডাউনলোড করা যায়!

1

এতে নতুনত্বটা কি?

এটা বুঝতে আমাকে ভিডীও প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে আই টিউন সাইটের মালিক আপলকে নিয়ে কিছু লিখতে হয়। আই ফোন বা আই পডের দৌলতে আপনার সবাই আপল কোম্পানীর নাম অবশ্যই শুনেছেন। আপল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উদ্ভাবক কোম্পানী হিসাবে গত তিন বছর ধরে প্রথম স্থানে। এরাই প্রথম হাই ডেফিনিশন ভিডিওর জনক-যা তাদের H-264 কোডেকের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে জন্ম নিয়েছিল আজ থেকে ছয় বছর আগে। কোডেক হচ্ছে কিছু গণিতিক এলগোরিদম যা দিয়ে ভিডীও ফাইলকে কম্প্রেস করে ছোট করা হয়। যেমন ধরুন একটা ১ঘন্টার সিনেমা হাই ডেফিনিশনে শুটিং করলে, তার ফাইল সাইজ দাঁড়াবে ১২ টেরাবাইটের ওপরে ( এক টেরাবাইট মানে ১০০০ গিগাবাইট)। ৩৫ মিলিমিটারের ফিল্ম থেকে ডিজিটাল মাস্টার ( ডিজি বিটা) বানালে, সেটার সাইজ হয় ১০০ গিগাবাইট। এবার সেটা দিয়ে না ডিভিডি হবে, না কেও ডাউনলোড করতে পারবে। কারন ডিভিডি তে ২-৮ গিগাবাইট আঁটে। ফলে অনেক গণিত কষে সেই ফাইলকে ছোট করে দেওয়া হয়, যাতে ভিডিওর রং, বা মোশন বা রিজল্যুশনের ক্ষতি না হয়। সেই গণিতকে বলে ভিডিও কোডেক-যার কোডেক যত উন্নত তার ভিডিও কোয়ালিটি তত উন্নত।

আই টিউন সাইট থেকে ভিডিও দেখার সাথে অন্য ডাউনলোড বা ডিভিডির পার্থক্য কোথায়?

প্রথমে ডিভিডির কথাতে আসি।ভিসিডি কোডেক কোয়ালিটি হচ্ছে MPEG1 । ডিভিডিতে যে কোডেক চলে তা MPEG2। আর আই টিউন তৈরী হয় H-264 নামে এপেলের কোডেক দিয়ে যা MPEG4 or MP4-অর্থাৎ তা ডিভিডি থেকে অনেকগুন উন্নত। ডিভিডির একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, এগুলো 8-bit encrypted. সেখানে আই টিউনে ৩২ bit বা 64 bit encrypted কোডেক চলে-ফলে ভিডিওর রঙ এবং মোশন অনেক উন্নত। তবে বাংলা সিনেমার ডিজিটাল মাস্টার অত ভাল হয় না-তবুও এই দ্বন্দ সিনেমারই ডিভিডি এবং আই টিউন ফাইলের কোয়ালিটির মধ্যে অনেক পার্থক্য। আই টিউনের ভিডিও দেখে আপনার অনেক বেশী ভাল লাগবে। সেই অর্থে দ্বন্দই হল প্রথম বাংলা সিনেমা যা আপনারা MPEG4 এ দেখতে পাবেন।

আর বে আইনি ডাইনলোড কোয়ালিটি? আমার কিছু বলার নেই। এগুলো ডিভিডি রিপ করে সস্তার WMV-9 কোডেকে করা ভিডিও। এমনিতে ডিভিডি কোয়ালিটিই আহামরি কিছু না-আবার সেটাকে ভেঙে WMV-9 এর মতন মাইক্রোসফটের পুরানো কোডেকের ভিডিও খুবই নিম্নমানের। খারাপ কোয়ালিটির ভিডিও আমাকে বিনা পয়সাতে কেও দেখালেও আমি দেখব না। কারন সেটা আমার কাছে অত্যাচার। তাছারা আই টিউন সাইটে পয়সা দিয়ে বাংলা সিনেমা দেখলে, সেই টাকার ৭০% বাংলা সিনেমা শিল্পে যাবে। যা বাংলার সংস্কৃতিকে উন্নত করবে।

আমি যেটা লিখলাম-সেটা শুধু পড়ে বুঝতে পারবেন না। আপল সাইট থেকে দ্বন্দ রেন্ট করে দেখুন ( এখানে ক্লিক করুন)। তাহলেই পার্থক্যটা খুব ভাল করে বুঝতে পারবেন।

ডেটাবাজারের কর্নাধারন অনি শীল যখন আমাকে ইমেল করে জানালেন, দ্বন্দ আইটিউনে পাওয়া যাচ্ছে-আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার আই টিউন একাউন্ট থেকে দ্বন্দ রেন্ট করে নিলাম। বাংলা সিনেমার জন্যে উনি যা করে দিয়ে গেলেন, ইতিহাসই তার উত্তর দেবে। কারন সমগ্র বিশ্বের সিনেমা এখন আই টিউনে পাওয়া যায়। বাংলা সিনেমাকে আন্তর্জাতিক হতে গেলে আই টিউনে আসতেই হত। ডেটাবাজার মিডিয়া ভেঞ্চারের মাধ্যমে উনি যুগান্তকারী সেই পথটা খুলে দিয়ে গেলেন। তবে বাংলা সিনেমাকে আরো উন্নত করতে হবে। বাংলা সিনেমার ক্যামেরা, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, পোষ্টপ্রোডাকশন এখনো বেশ নিম্নমানের।

হয়ত আই টিউনে বাংলা সিনেমাটা যাবে, সেই চাপেই বাংলা সিনেমা এবার উন্নত প্রযুক্তির আঁচল ধরবে।

২,১৫০ বার দেখা হয়েছে

১৫ টি মন্তব্য : “iTunes এ প্রথম বাংলা সিনেমা: ‘দ্বন্দ’ ইতিহাস তৈরী করল”

  1. রিজওয়ান (২০০০-২০০৬)
    হয়ত আই টিউনে বাংলা সিনেমাটা যাবে, সেই চাপেই বাংলা সিনেমা এবার উন্নত প্রযুক্তির আঁচল ধরবে।

    আই টিউনে বাংলা সিনেমা পাওয়া খুব ভালো খবর, MP4-এ এখন ফাটাফাটি কোয়ালিটির ভিডিও দেখা যায় সত্য। তয় বাংলা সিনেমা এতে করে উন্নতির দিকে এক ধাপ আগাইলো কিনা সন্দেহ আছে। আমাদের মধ্যবিত্ত আর নিম্ন মধ্যবিত্তের নাকউঁচু ভাব না কমলে, হিন্দি সিরিয়াল দেখা না কমলে, বড় বাজেটের ভালো চলচিত্র নির্মাণ হবে না, লোকে প্রেক্ষাগৃহে যাবে না, অল্প কয়টা কম বাজেটের বিকল্প ধারার মুভিই তৈরী হবে খালি। তবে তাও ভালো, কেউ তো শুরু করতেছে, এটাই ভবিষ্যতের প্ল্যাটফর্ম তৈরী করে দেবে।

    জবাব দিন
    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

      আমি ঠিক করছি বন্ধু-বান্ধব-ফ্যামিলি নিয়া খোঁজ-দা সার্চ দেখতে যামু।এইটা নাকি বর্ন আইডেন্টিটি,র‌্যাম্বো আর হলিউডের সব হিট এ্যাকশন সিনেমার বাংলাদেশী সংমিশ্রণ।হোক,টুকলিফাই-তার পরেও যামু।বলিউডের ১০ টার মধ্যে ৯ টাই হলিউডি মুভি থেকে টুকলি করা ছিঃনেমা যদি বাঙ্গালি সোনামুখ করে দেখতে পারে তাইলে এইটা দেখতে না পারার কোন কারণ নাই।

      জবাব দিন
  2. আন্দালিব (৯৬-০২)

    দারুণ খবর। বাংলা চলচ্চিত্র এখন আইটিউনেও পৌঁছে যাচ্ছে, এটা অবশ্যই একটা ভালো উদাহরণ। কোনো জায়গায় গিয়ে দাঁড়ানোর আগে সেখানে পা রাখতে হয়। সেটা হলো, এখন সেখানে উৎকর্ষতা এবং অন্যান্য উন্নত চলচ্চিত্রের সাথে প্রতিযোগিতার বিষয়টা দেখা জরুরি।

    ===
    বানান নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়লাম। দ্বন্দ্ব বানান তো শিরোনামে বা পোস্টে "দ্বন্দ" দেখলাম। এটা কি তোমার ভুল, না পরিচালকের ভুল, নাকি ইচ্ছাকৃত?

    জবাব দিন
  3. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    প্রথমে ভেবে ছিলাম এটা আমাদের দেশি কোন সিনেমা, পরে গুগলে গিয়ে দেখলাম এটা ভারতীয় বাংলা সিনেমা। তাতে উচ্ছাসটা কিছুটা হলেও কমে গেল। এমনিতে আমার মনে হয় না ভারতীয় বাংলা সিনেমার উন্নতি অবনতির সাথে আমাদের দেশীয় সিনেমার উন্নতি বা অবনতির কোন সম্পর্ক আছে, যে যার নিজের গতিতেই চলছে।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।