শাহরুখদের দুঃসাহস

মিডিয়াকে কীভাবে সামাল দেয়া উচিত এই বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড একটা কর্মশালার আয়োজন করেছিল কয়েক বছর আগে। ভারতীয় মিডিয়া জগতের জীবন্ত কিংবদন্তী প্রণয় রায় এলেন প্রধান বক্তা বা প্রশিক্ষক হয়ে। স্টার নিউজ করে তিনি জানিয়েছেন পাশ্চাত্যের মতো উপমহাদেশেও ২৪ ঘণ্টার নিউজ চ্যানেল করা সম্ভব। তারপর করলেন এনডিটিভি, দেখালেন সংবাদ কীভাবে রুচিশীর বিনোদন হতে পারে। সেই তারকা প্রণয় রায়ের বক্তৃতা, কাজেই ভারতীয় ক্রিকেটের মহাতারকারাও টিপসগুলো মন দিয়ে শুনছিলেন। তা বক্তৃতার এক পর্যায়ে প্রণয় রায় বললেন, ক্রিকেটারদের উচিত হবে শাহরুখ-আমিরের মতো সিনে তারকাদের অনুসরণকরা, মাথায় এমন প্রচণ্ড চাপ নিয়েও তারা যেভাবে মিডিয়া সামলান সেটা একটা ব্যাপার বটে। শুনে ফুঁসে উঠলেন তখনকার অধিনায়ক সৌরভ। তার বক্তব্য, সিনে তারকারা কখনোই ক্রিকেটার বা খেলোয়াড়দের মডেল হতে পারে না ,‘‘যারা দশটা শট দিয়ে তার সেরাটাই শুধু মানুষকে দেখায় তাদের সঙ্গে ক্রিকেটারদের তুলনা চলে কী করে, যেখানে আমাদের সুযোগ একটাই। একবার আউট হলেই সব শেষ। আর চাপ! খেলুক না ওরা মাঠের মধ্যে পক্ষ-বিপক্ষের লাখো দর্শকের সামনে।’’

নিয়তির পরিহাস এই যে, যে সৌরভ সিনে তারকাদের সঙ্গে ক্রিকেটারদের তুলনাটাকেই গৌরবময় মনে করেননি, আজ তাকে নিয়েই খেলছেন একজন সিনে তারকা। সিনেমার নায়করা হিট ছবির জন্য চান দারুণ স্ক্রিপ্ট, শাহরুখ সৌরভের জন্য সেই স্ক্রিপ্ট নিয়ে হাজির। ভারতের ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ক তিনি এবং কলকাতার ক্রিকেটের প্রতীকও। অথচ সবদিক থেকে সম্পূর্ণ বহিরাগত শাহরুখের দলের বহু অধিনায়ক তত্ত্বটা হলো এই যে তাকে বেশ কয়েকজন অধিনায়কের একজন হতে হবে। শাহরুখ বা তার পোষ্য হয়ে ওঠা কোচ বুকাননের যেদিন মন চাইবে সেদিন সৌরভ অধিনায়ক। অন্যদিন অন্যজন। সৌরভ জবাব অবশ্যই দেবেন। প্র্যাকটিস ম্যাচে দিলেন। ব্যাট হাতে ম্যাচ সর্বোচ্চ রান করলেন, অধিনায়ক হয়ে জয়যাত্রায় নেতৃত্বও দিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ক্রিকেট মাঠে এক অনুপ্রবেশকারী নায়কের কাছে কেন জবাব দিতে হবে সৌরভকে! হত যদি সিনেমা, এবং যদি সৌরভ যেতেন অভিনয়ে তাহলে ঠিক ছিল। সেখানে শাহরুখ বাদশা। সৌরভের শট ঠিক না হলে তিনি বারবার বলতেন। সৌরভকে তাই করতে হত। কিন্তু ক্রিকেটের অঙ্গনে! টাকা আর গ্ল্যামারের গরমে শাহরুখের ঔদ্ধত্য অবশ্য এতখানি বেড়ে গেছে যে তিনি সুনীল গাভাস্কারের ক্রিকেটজ্ঞান নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। এসব হচ্ছে এবং নিশ্চিতভাবেই হতে থাকবে। কারণ আইপিল হচ্ছে। এবং নিশ্চিভাবেই হতেই থাকবে।

অমিতাভ না গাভাস্কার, শাহরুখ না শচীন ভারতীয় জনমানসে এমন বিতর্ক চিরদিনের। ওদের জীবনে গৌরবের দুটো জিনিস, একটা ক্রিকেট আর অন্যটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। প্রেম (রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে অমৃতা সিংয়ের) এবং স্ক্যান্ডালসূত্রে (সৌরভের সঙ্গে নাগমা বা যুবরাজের সঙ্গে শিল্পা) দুটো কখনও-সখনও মিলেছে যদিও বা, কিন্তু তার মধ্যে একটা সূক্ষè ইগোগত লড়াই আছেই। সেই গৌরবের লড়াইয়ে অগৌরবের হার নিশ্চিত করে দিচ্ছে আইপিএল। টোয়েন্টি-টোয়েন্টি নামের যে ক্রিকেট চলে সেটা চরিত্রে আমাদের ডাংগুলির কাছাকাছি। ফুটবলীয় উত্তেজনার কিছু উপাদান আমদানি করে হাস্যকর কিছু আইনের (এর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম অবশ্যই টাইব্রেকার, ফুটবলের অনুকরণ করতে গিয়ে যা হয়েছে তা লোক হাসানোর জন্য খুব আদর্শ) আওতায় একটা শক্তিরই প্রদর্শনী। ওটা কোনোভাবেই ক্রিকেট সংস্কারের কোনো রূপ নয়, ক্রিকেটজাত বিনোদন হতে পারে বড়জোড়। যেহেতু বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর ভোক্তা সব মানুষ, কাজেই সব মানুষকেই তাদের ক্রিকেট শেখাতে হবে, সবাইকে-ই ক্রিকেট ভালো লাগাতে হবে। তাই এমন একটা কিছু করো যাতে কিছু না বুঝলেও সব বোঝা যায়। জোরে-জোরে মারা আর অংকের হিসাব রাখা তো সবাই জানে। তাই টোয়েন্টি-টোয়েন্টি। আর এই বিনোদন আর বাণিজ্যের সূত্রে টাকার থলি নিয়ে মদ কোম্পানির মালিক থেকে শুরু করে সিনেমার রগরগে নায়িকারা এখানেও হাজির। সৌরভরা তাদের স্ক্রিপ্টের বিষয় হয়ে যাচ্ছেন। গাভাস্কারদের ক্রিকেট শিখতে হচ্ছে!

অর্থ জীবনের সবচেয়ে অর্থবোধক জিনিস যেমন তেমনি অর্থ অনর্থের মূলও। টাকা ছাড়া ক্রিকেটের বিস্তার সম্ভব নয়, কিন্তু টাকার বিস্তারের জন্যই যখন চলে সব কায়কারবার তখন খেলাটা হলো নিছকই একটা উপলক্ষ। আইপিএল-এ ক্রিকেটটাও ঠিক তেমনই। নইলে কীভাবে ‘ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ’ আয়োজিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়! টিভি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি আছে, তারা আবার অনেক-অনেক কোম্পানির কাছে স্পনসরশিপ বাবদ টাকা নিয়ে বসে আছে, কাজেই ভারতীয় সাধারণ জনগণ যখন ভোট দিয়ে ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা করবে তখন শাহরুখ-প্রীতি-শিল্পারা তাদের অর্থ-রূপ আর গ্ল্যামার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসাবেন মজলিশ। অবশ্য যেখানেই যান না কেন ভারতীয় আম-জনতাকে লাগবেই। তাই খেলা শুরু করতে হবে ভারতীয় সময়ের হিসাব করেই, যে সময়ে এখানকার মানুষরা টিভি দেখার সুযোগ পায়। এই টিভি যুগের আগেও ক্রিকেট ছিল, ছিল তার মহান গৌরবময়তাও, চায়নিজ রেডিও’র চুং-চাং এড়িয়ে আকাশবাণী ধরে নিবিড়চিত্তে ক্রিকেট উপভোগের মানুষও ছিল তখন। কেন যেন মনে হয় আজকের টিভিজাত এই সার্কাসের তুলনায় সেটাই ছিল নির্ভেজাল ক্রিকেট। তখনকার ক্রিকেটে রং ছিল না বটে, কিন্তু রূপে সে ছিল অপরূপ। মেকআপ করা নায়িকার মতো সেজে থাকা এই ক্রিকেটের ভীড়ে হৃদয়ের ক্রিকেটই না হারিয়ে যায়!

ভয় পাচ্ছি। আবার একটু নিশ্চিতও থাকতে পারছি। টেস্ট ক্রিকেটে যেহেতু বাণিজ্য নেই কাজেই টেস্টের আইপিএল নিশ্চয়ই হবে না। টাকা দিয়ে নিশ্চয়ই শাহরুখ খান-প্রীতি জিনতারা দলও কিনতে পারবে না। সৌরভদের নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলবে না। গাভাস্কারের ক্রিকেটজ্ঞান নিয়ে কথা বলার সাহসও পাবে না কেউ!

৩,২৬১ বার দেখা হয়েছে

৪৪ টি মন্তব্য : “শাহরুখদের দুঃসাহস”

    • জাহিদ (১৯৯৯-২০০৫)

      ওরে না রে। কতদিন পর ১ম হইলাম!! :party: :party:

      মেকআপ করা নায়িকার মতো সেজে থাকা এই ক্রিকেটের ভীড়ে হৃদয়ের ক্রিকেটই না হারিয়ে যায়!

      আমার কিন্তু মনে হয় সেই অপরূপ ক্রিকেট হারিয়ে যাবে। টাকার ঝঞ্ঝনানিতে আগের সেই উদ্যম আর উৎসাহ হারিয়ে যাবে। খেলা হবে শুধু টাকার জন্য, অর্থ আয় করার জন্য। মনরঞ্জনের ব্যাপারটা আর থাকবে না।

      জবাব দিন
    • সুব্রত

      অমার ধারণা তুমি আমার চেয়ে বেশি ক্রিকেট ভালোবাসো। যাই হোক চিন্তার কিছু নাই, অন্তত আমাদের জীবদ্দশায় টেস্টের কোনো সমস্যা হবে না!

      মোস্তফা মামুন

      জবাব দিন
  1. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    ক্রিকেটে সবকিছু ভারতকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে, এটাই মূল সমস্যা।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  2. সামীউর (৯৭-০৩)

    মামুন ভাই,
    এ ধরণের প্রসংগ আমার চিন্তাতেও আসছিলো কিন্তু ঠিকমতো সাজাতে পারছিলাম না। বেশ কিছুদিন আগে ঢাকায় বুস্ট নামের একটি সহায়ক খাদ্য অনুর্ধ ১৩ লেভেলে টুয়েন্টি ২০ টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিলো! আমি ক্রিকেট কর্তাদের প্রজ্ঞা দেখে অবাক হয়েছিলাম! যে বয়সে ক্রিকেটের বেসিক ডেভেলপ করার কথা তাদের দিয়ে আমরা টুয়েন্টু ২০ খেলাচ্ছি! কি আতংকের বিষয়! এম্নিতেই টেস্ট কূলের কলংক, টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তিতে কালিমা লেপন , আন্তর্জাতিক অবজ্ঞা তারপর টুয়েন্টি ২০ এর আগ্রাসন। জীবদ্দদশায় টেস্টের সমাধি না দেখলেও টেস্টের পঙ্গুত্বের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায়না।

    জবাব দিন
  3. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    আমি মনে করি খেলার জন্য দর্শক নয়, দর্শকের জন্য খেলা। দর্শক যে খেলাকে গ্রহন করবে বা ক্রিকেটের ক্ষেত্রে বলতে গেলে যে ফরম্যাটের ক্রিকেটকে গ্রহন করবে সে ক্রিকেটই টিকে থাকবে। সেটা যদি টেস্ট ক্রিকেট হয় তাহলে টেস্ট ক্রিকেট আর ২০/২০ বা ভবিষ্যতে আরও আশ্চর্যজনক কোন ফরম্যাট আসে সেটা।

    ক্রিকেটের অবস্থা অনেকটা কুয়োর ব্যাঙ্ এর মতো, সারা বিশ্বে ৯/১০টি দেশের মধ্যে যার সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলা(টেস্ট) সীমাবদ্ধ যার ভিতরে বাংলাদেশ এবং বেশির ভাগ সময় নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুধু অংশগ্রহন করে থাকে মাঠে হাজিরা দেবার জন্য, পাকিস্তান তো এক বছর হয়ে গেল কোন টেস্টই খেলেনি। অর্থাৎ সত্যিকারের আকর্ষনীয় টেস্ট ম্যাচ উপহার দেবার জন্য বাকি রয়ে যায় ৫/৬ টি দল, সেই আগের যুগের মত। যারা সত্যিকারের ক্রিকেটের ভক্ত তারা কিন্তু এখনো এই ক্রিকেটকে ভালবেসে যাচ্ছে এবং যাবে। কিন্তু নতুন কোন ভক্ত তৈরী হবে কিনা সেটা নিয়ে আশংকা থেকে যায়। তাই কিছু ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু ছাড়া টেস্ট ক্রিকেটের দর্শক সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতেই থাকবে, অবশ্য অনেক দেশে এখনই গ্যালারীতে দর্শক শূন্যের কোঠায় গিয়ে ঠেকেছে।

    আর এর পুরো বিপরীত চিত্র উপহার দিচ্ছে ডিজে মিউজিক, আতশবাজি আর চিয়ার গার্ল সমৃদ্ধ নতুন ক্রিকেট, সেটা আসলেই কতটুকু ক্রিকেট হচ্ছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়, কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে মাঠ ভর্তি দর্শক, যেখাবে একজন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিতে হাততালি দেবার জন্য ড্রেসিং রুমের নিজ দলের মানুষেরা বাদেও আরো হাজার হাজার লোক আছে।

    আর ক্রিকেটকে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক খেলা করে তুলতে হলে সাহায্য নিতে হবে এই রঙ চঙ্গে ক্রিকেটের, এই ক্রিকেট দিয়েই নতুন উপনিবেশ সৃস্টি করতে পারবে ক্রিকেট।

    তবে এ সকল কিছুর মাঝে হয়ত ঠিকই বেচে থাকবে ক্রিকেটের আদি ও অকৃত্রিম একটা ভার্সন, তবে সেটার দর্শকদের সাথে সাথে খেলোয়ারো হয়ত হ্রাস পেতে থাকবে।

    এসবই আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত, আর ক্রিকেট আমার প্রিয় খেলাধুলার তালিকায় কিছুটা পিছনের দিকেই আছে, তবে সুযোগ পেলে খুব কম খেলাই আমি মিস করি, সেটা টেস্ট ই হোক কিংবা আইপিএল। আর আমার দেখা সেরা/প্রিয় ক্রিকেট ম্যাচগুলোর মধ্যে টেস্ট ম্যাচের সংখ্যাই বেশি হবে 😀


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
    • সুব্রত (৯৪-০০)

      ক্রিকেট সম্পর্কে আমারও কিছু ব্যক্তিগত মতামত আছে।ঢাকার ক্রিকেটের সঙ্গে জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছি একজন এমেচার ক্রিকেটার হিসেবে।ক্রিকেটকে নানাভাবে,নানা ভংগিমায় দেখেছি সেই কয়বছর।চোখের সামনে দেখেছি বছরের পর বছর ব্যাট বল হাতে পরে থাকা কিছু অসহায় ক্রিকেটারের অর্থাভাবে ঝরে পরা,আর সদ্য শেখা ২০-২০ বুলি আওরানো কয়েকটা জাভাগাল শ্রিণাথের চোখ বন্ধ শট খেলা ফালতু ক্রিকেটারদের টাকার সাগরে ভেসে যাওয়া।এর নাম ক্রিকেট নয়।সারাদিন শেষে একটা ক্রিকেট গেমের রেজাল্ট একজন ক্রিকেটারের কাছে ssc,hsc result er চেয়ে কম নয়।পয়সা খরচ করে যেসব দর্শক ২০ ২০ দেখে তারা কখনও বুঝবে না টেস্ট ক্রিকেটের পঞ্চম দিনের জয় পরাজয়ের টান টান উত্তেজনা,তারা বুঝবে না ব্রায়ান লারা ক্রিকেটের গন্ডি ছাড়িয়ে মানুষ হিসেবে কেন এত মহান।
      আমরা আসলে মোবাইল ফোনের মত নিজেদের স্বাদ,রুচি এগুলকেও প্রিপেইড করে ফেলছি।কিছুদিন পর হয়ত এমনও দিন আসবে মাথায় মেশিন বসিয়ে মানুষের ssc,hsc r এক্সাম নেয়া হবে এক ঘন্টায়।মেশিনের মাধ্যমে জানা যাবে কে কতটুকু জ্ঞান ধারন করে এবং এগুলো আমাদের মত মানুষরাই নির্দিধায় মেনে নেব।
      আমরা সবসময় ভুলে যাই ক্রিকেট যে মাঠের বাইরেও একটা খেলা যে খেলাটা প্রতিটি খেলোয়াড় তার প্রতিটি মুহুর্ত নিয়ে চিন্তা করে।প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতিটি বল,কিম্বা ব্যাটিং সট তার মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা একটা সহজাত reflection যা নিয়ে তাকে চিন্তা করতে হয়,সাধনা করতে হয়।সহজাত প্রবৃত্তিগুল কে সুক্ষ করে তোলার জন্যই তাকে প্র্যাক্টিস করতে হয় প্রতিদিন।
      আর ২০ ২০ মানেই হল জাভাগাল স্রীনাথের চোখ বন্ধ শট। সবসময় মনে রাখা উচিত রাজার খেলা ক্রিকেট। সুধুমাত্র পয়সার জন্য ক্রিকেট খেললে এই উক্তি পরিবর্তন হয়ে গিয়ে হবে ফকিরে খেলে ক্রিকেট যা ক্রিকেট দর্শক,ক্রিকেটপ্রেমিক কারুরি কাম্য নয়। আসুন আমরা ক্রিকেটের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সচেষ্ট হই।

      জবাব দিন
      • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

        সুব্রত, তোমার কথা আমি মেনে নিলাম, তুমি আমার কথা মেনে নাও। ক্রিকেট যেহেতু রাজার খেলা, এটা নিয়ে বানিজ্য বন্ধ কর। নিজেরা চাদা তুলে রাজার মত খেল। ঐতিহ্য ধরে রাখ।

        পারবে তোমরা?


        পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

        জবাব দিন
      • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

        সুব্রত
        জাভাগাল শ্রীনাথ কি ২০/২০ জেনারেশনের খেলোয়াড়? ওর জায়গায় অন্য নাম বললে উদাহরণটা ভালো হতো। 😀

        ফয়েজ ভাই
        সব খেলাধুলায়ই বানিজ্যিকীকরণ হচ্ছে কিন্তু ক্রিকেটকে ভারত যেভাবে বানিজ্যিকীকরণ করছে সেটা মানা যায় না। এটা রীতিমতো আগ্রাসন। চাঁদা তুলে খেলতে হবে কেনো? ফুটবল নিয়ে কি কম বানিজ্য হয়? কিন্তু তাতে কি চিরন্তন ফুটবলের ঐতিহ্য শঙ্কার মুখে পড়েছে কখনো? কিম্বা অন্য যেসব খেলা অনেক কম লোকজন খেলে(যেমনঃ বাস্কেটবল) , সেগুলিতেওতো আজকাল টাকার ব্যাপার চলে এসেছে, কিন্তু তাতে কি সেই খেলার মূল আবেদন হারিয়ে যাচ্ছে? মনে হয় না। কারন যিনি বা যারা পৃষ্টপোষকতা করছেন তারা নিজেরদের বানিজ্যের পাশাপাশি খেলাটাকেও ভালো বাসছেন। কিন্তু ক্রিকেটকেই দেখি শুধু পৃষ্টপোষকতার নামে ব্যাবসার ফাঁদে পড়তে হচ্ছে।


        ---------------------------------------------------------------------------
        বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
        ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

        জবাব দিন
        • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

          কামরুল,

          ব্যাপার কি জান, জীবন এখন অনেক দ্রুত, একজন মানুষকে অনেক কষ্টে ভালো থাকার উপকরন জোগার করতে হয়, আর এটার জন্য সময় লাগে আগের থেকে বেশি । তাই বিনোদনের জন্য বরাদ্দ করা সময় কমে যাচ্ছে মানুষের জীবন থেকে। মূল সমস্যাটা এখানে। টেষ্ট ক্রিকেট অনেক সময়ের ব্যাপার। এত সময় মানুষের নেই এখন, এখন মানুষ "ডিজিটাল" বিনোদন খুজে।

          একটা জিনিস দেখ, আমেরিকায় ফুটবলও কিন্তু জনপ্রিয় নয়, কারন আমেরিকার জীবনের চেয়ে ফুটবলের গতি অনেক ধীর। তারা ভালোবাসে বাস্কেটবল, রাগবি, বেসবল, দ্রুত গতির খেলা। তারা গলফও খেলে। রাজার খেলা। অনেক সময় নিয়ে অনেক ধীর গতির খেলা। কিন্তু ওদের রাজার সংখ্যা অনেক বেশি, তাই গলফের স্পন্সর আছে। ক্রিকেট রাজার খেলা হলেও যারা এটা ভালোবাসে তারা কেউ আর রাজা নয়। তাই এটা ছোট হয়ে যাচ্ছে।


          পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

          জবাব দিন
          • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

            ফয়েজ ভাই

            আপনার কথাগুলি ঠিকই আছে, আমিও একমত যখন আমি ভোক্তা হিসেবে দেখবো নিজেকে।
            কিন্তু আবার আপনি আমার সাথে একমত হবেন যখন আপনি একজন ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে দেখবেন নিজেকে।
            এমনকি শুধু ক্রিকেট না যদি ফুটবলের ক্ষেত্রেও এমন আশঙ্কা তৈরী হতো বা অন্য কোন খেলার ক্ষেত্রে আমার ধারণা আমরা যারা খেলাপ্রেমী আছি তারা দুঃখ পেতাম।
            সব খেলারই সবার আগে একটা শৈল্পিক আবেদন আছে, তারপর বাকি সব। সেই শৈল্পিক আবেদন ছাপিয়ে অন্যকিছু যখন মুখ্য হয়ে যায় তখন ভয় লাগে, দুঃখ হয়।


            ---------------------------------------------------------------------------
            বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
            ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

            জবাব দিন
        • আহসান আকাশ (৯৬-০২)
          কিম্বা অন্য যেসব খেলা অনেক কম লোকজন খেলে(যেমনঃ বাস্কেটবল) , সেগুলিতেওতো আজকাল টাকার ব্যাপার চলে এসেছে, কিন্তু তাতে কি সেই খেলার মূল আবেদন হারিয়ে যাচ্ছে? মনে হয় না।

          @ কামরুল ভাই, টাকার খেলা তখনই হচ্ছে যখন টাকা বিনিয়োগ করে লাভ করার সম্ভাবনা থাকে। অন্যান্য খেলাগুলো তার মূল রুপের বা ধরনের মাধ্যমেই দর্শক ধরে রাখতে পারছে, বিনিয়োগকারীরাও লাভবান হচ্ছে, তাই সেখানে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন হচ্ছে না। কিন্তু ক্রিকেটের সনাতন রুপ বজায় রেখে এর পিছনে টাকা ঢালা হলে তা থেকে লাভবান হবার সম্ভাবনা খুবি সীমিত, তাই ক্রিকেটকে বদলে যেতে হচ্ছে 'মার্কেট ফ্রেন্ডলি' ভার্সনে।


          আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
          আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

          জবাব দিন
  4. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    আমি তো দেখি ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পুরাই ধূসর। ভারত ক্রিকেটে বিশ্বসেরাদের কাতারে, তাই ভারতের লোক ক্রিকেট নিয়ে মাতে, ভারতের ক্রিকেটে টাকা আছে, তাই নতুন প্রজন্ম ক্রিকেট খেলে, ফুটবলে যদি ভারত বিশ্বসেরাদের কাতারে চলে আসে, ক্রিকেট তাদের বানিজ্যের একটা বড় অংশ হারাবে। এটাকে ঠেকানোর জন্যই আইপিএল, আমার ধারনা। ক্রিকেটের সংগে গ্ল্যামার মিলিয়ে ফেলা। নতুন ভালো ক্রিকেটার তৈরী, এটা তো বাই-প্রোডাক্ট, মূল প্রোডাক্ট না। বরং পাব্লিকের সামনে মূলা ঝুলানো, আইপিএল বল আর আইসিএল।

    শাহরুখের সংগে সৌরভের ব্যাপারে একটা জিনিস মানতে পারিনি। আমাকে বল, পুরান ক্রিকেটার কেউ কেন কোন টিম কিনে নিল না। তাদের কি টাকা নেই? নাকি তারা টাকা লগ্নি করতে ভয় পায়। নাইট রাইডার্সে শাহরুখ কে আমি একজন লগ্নিকারী (এন্ট্রারপ্রেনার) হিসেবেই দেখি, নায়ক হিসেবে নয়। সে সাহস করে টাকা খাটিয়েছে, কোন প্রাক্তন ক্রিকেটার এই সাহস পায়নি। এখন যেহেতু সে কোম্পানীর মালিক, তার কথাই আইন। কারন দিনের শেষে সবাই লাভ আর বোনাস নিয়ে যার যার ঘরে চলে যাবে, লাভ-ক্ষতি শুধুমাত্র মালিকের। সৌরভ কিংবা অন্যরা এতে অংশ নিবে না।

    আমি ব্যক্তিগত ভাবে টেস্ট ক্রিকেটের ভক্ত নই। এত সময় নেই। সেই অর্থে বিশুদ্ধ ক্রিকেট আমার ভালো লাগে না। আমি যদি নিজেকে একজন ভোক্তা হিসেবে দেখি, তবে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আমি নিজের গাটের কোন পয়সা বা সময় খরচ করব না। বরং বিনোদনের জন্য যদি আমাকে "রাং দে বাসন্তী" আর "নাইট রাইডার্সের" খেলার মধ্যে যে কোন একটা বেছে নিতে বলা হয়, আমি পরেরটা নেব। এটার জন্য নিজের পয়সা বা সময় খরচ করব। কর্পোরেট দুনিয়া যেটা দিয়ে ব্যবসা করে।

    হায়রে কর্পোরেট দুনিয়া, "জেনারেল ইলেক্ট্রিক" এর মত কোম্পানী শুধু ব্যবসায়ীক লাভের (পাব্লিক খাবে) কথা বিবেচনা করেই আমেরিকান বাস্কেটবল লীগে টাকা লগ্নি করে।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
    • সুব্রত (৯৪-০০)

      ফয়েজ ভাই,
      আসলে টাকাই ২০/২০র অবস্থানকে খুবি শক্ত করে দিয়েছে।তাই আমার কথাগুলোর আপনার কাছে নিছক আবেগ ছাড়া আর কিছু মনে হবার কথা নয়।আমি আর সবার মত বাজারজাত ক্রিকেট বিস্লেষন করতে অক্ষম।আমি শুধু ক্রিকেট মাঠে ঘটে যাওয়া কিছু কমন fact নিয়ে আলাপ করতে চাই,যে ঘটনাগুলো যেকনো লেভেল ক্রিকেটে প্রতিটি খেলোয়াড়কে প্রতি মিনিটে ফেস করতে হয়।
      প্রথমত,ক্রিকেট একটি দলীয় খেলা।যে প্লেয়ারটি থার্ডম্যানে ফিল্ডিং করে তার সঙ্গে দলের অনান্য প্লেয়ারদের interactioner উপর নির্ভর করে সেই দলটির সেই দিনের ফিল্ডিং।কারন একমাত্র সেই প্লেয়ারটিরই সম্ভাবনা থাকে খেলাতে অন্যমনস্ক হয়ে গিয়ে গুরুত্বপুর্ন কোনো catch ফেলে দেয়ার।যেখানে মনসংযোগ এতটা জরুরি একটা বিষয় সেখানে শুধুমাত্র দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য আধাপোষাক পরিহিতা রমনীদের দাড় করিয়ে দিয়ে ক্রিকেটেরি ক্ষতি করা হচ্ছে।মাঠে একটা dolly ক্যাচ উঠলে দর্শকের সারি থেকে ব্যাপারটা খুব সহজ বলেই মনে হয়,কিন্তু আসলে বাস্তবে তা ধরা খুবি কঠিন।
      দ্বীতিয়ত,যারা ২০ ২০ খেলছে তারা নিতান্তই ক্ষনস্থায়ী ক্রিকেটার।কারন কোনো প্লেয়ারই ধারাবাহিকভাবে সব ইনিংন্সএ ভাল খেলতে পারবে না।এরা বানের জলের মত আসবে কিছুদিন খেলবে আবার চলেও যাবে।শচীণ,লারার মত স্টারডম তৈরী করতে সক্ষম হবে না।আর ক্রিকেট হল reputation নির্ভর খেলা।ধারাবাহিকভাবে consistency যাদের থাকে তারাই শুধু টিকে থাকে ক্রিকেটের দুনিয়ায়।
      তৃতিয়ত,আমরা যারা ২০/২০ দেখছি,খেলা না বুঝে হই হই করছি তারা যে কতভাবে প্রতারনার স্বীকার হচ্ছি তা আমরা নিজেরাই জানি না। হাফ প্যান্ট পরা ১০ জন গলির পোলাপাইনরে অলাউট করতেও ২০ ওভার লাগে।আবার এসব পোলাপাইন কোনোরকমে ২০ ওভার পার করে ফেল্লেও স্কোরবোর্ডে ৭০/৮০ রান চলে আসে।তাই আমরা ২০/২০ র নামে যে মুখরোচক খেলাটা দেখছি তা গলির ক্রিকেটেরি নামান্তরমাত্র।তাই inetrnational ক্রিকেট অবশ্যই খতিগ্রস্ত হচ্ছে।

      সবশেষে,আমরা হারাচ্ছি মেধাজাত,ধীশক্তিপুর্ন এবং খেলার সময় বুঝে প্রয়োজনীয় শট দেখার সুযোগ।আমরা দেখছিনা স্পিনিং ট্রাকে সেই মাটি কামড়ে পরে থাকা ব্যাটস্ম্যানের স্ট্রাগল,দেখছিনা শীশিরভেজা সকালে শচিন টেন্ডুল্কারের নিকড থেকে স্লিপে দাঁড়ানো মার্ক ওয়ার দুর্দান্ত ক্যাচ,দেখছিনা সোয়েব আখতারের সেকেন্ড স্পেলে সৌরভ গাঙ্গুলীর দুরুদুরু বুক।
      ফয়েজভাই,লেখায় কোনপ্রকার গোস্তাখি থাকলে ক্ষমা করবেন।আমি ২০/২০ কখনও বাক্তিগতভাবে মেনে নিতে পারব না।

      জবাব দিন
      • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

        আরে না বোকা, ক্ষমা চাচ্ছ কেন। 😀

        তোমার আবেগের জায়গাটা বুঝতে পারছি। এক্ষেত্রে আইসিসি এর এগিয়ে আসা দরকার, টেষ্ট ক্রিকেটকে বাচিয়ে রাখতে। আর শক্তিশালী ভূমিকা থাকা দরকার বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট সংস্থা গুলোর।

        তোমার বিব্রত লাগে না যখন টেষ্ট ক্রিকেটের খুব বড় কেউ একজন মেতে উঠেন ২০/২০ নিয়ে। আবেগ আর উচ্ছাসে ভেসে যান।

        নিজেকে বেধে রাখছ কেন? ছেড়ে দাও না। জাত গেল জাত গেল বলে কেন কাদছো তুমি? কষ্ট পাবে খামোখা।


        পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

        জবাব দিন
      • সুব্রত ভাই...আপনার মন্তব্য পড়েই বুঝলাম......আপনি ক্রিকেট সম্পর্কে অনেক উচুঁ মানের জ্ঞান রাখেন।আপনার analytic জ্ঞান ক্রিকেটের জন্য খুবই ভাল।আপনার মত সূক্ষ জ্ঞানসম্পন্ন ক্রিকেট বোদ্ধা এখন পাওয়া দুষ্কর হয়ে পরেছে।তার প্রমান দেখাই;

        আমরা হারাচ্ছি মেধাজাত,ধীশক্তিপুর্ন এবং খেলার সময় বুঝে প্রয়োজনীয় শট দেখার সুযোগ।আমরা দেখছিনা স্পিনিং ট্রাকে সেই মাটি কামড়ে পরে থাকা ব্যাটস্ম্যানের স্ট্রাগল

        এটাও ১০০% সত্য

        আমরা যারা ২০/২০ দেখছি,খেলা না বুঝে হই হই করছি তারা যে কতভাবে প্রতারনার স্বীকার হচ্ছি তা আমরা নিজেরাই জানি না। হাফ প্যান্ট পরা ১০ জন গলির পোলাপাইনরে অলাউট করতেও ২০ ওভার লাগে।আবার এসব পোলাপাইন কোনোরকমে ২০ ওভার পার করে ফেল্লেও স্কোরবোর্ডে ৭০/৮০ রান চলে আসে।তাই আমরা ২০/২০ র নামে যে মুখরোচক খেলাটা দেখছি তা গলির ক্রিকেটেরি নামান্তরমাত্র।

        আপনাকে

        :salute:

        জবাব দিন
          • সুব্রত ভাই......আপনি যে লেখা লিখেছেন.........স্পষ্টতই বোঝা যায় আপনার মনের অন্তঃস্থল থেকে লেখাটি বেরিয়েছে।অন্য খেলার সমালোচনা আমার সহ্য হয়,কিন্তু ক্রিকেট নিয়ে ছেলেখেলা কিংবা বানিজ্য কখনও আমি মেনে নিতে পারি না।নিজে যদিও খুব ভাল খেলা খেলি নাই,তবুও একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ হলে এখনও মনটা উজাড় করে দেখি।এখনকার খেলাগুলিতে কেন জানি সেই ১৯৯০-২০০০ যুগের কারুকাজ,উত্তেজনা,শিহরন মেলে না।কারন লারার ক্ল্যাসিক্যাল শট,ওয়াসিম আকরামের সাথে শচিনের লড়াই,শেন ওয়ার্ণের স্পিনে শচীনের ছক্কা,ম্যাকগ্রার ইনসুইংয়ে ব্যাটসম্যানের বোল্ড হউয়া মেলে না,মেলে শুধু মরা পিচে চার আর ছয়।

            জবাব দিন
  5. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    আমি একটু বেশিই অবাক হচ্ছি যে, তরুণরা পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারছে না! অথচ তরুণরাই সব পরিবর্তনের রূপকার। ওয়ানডে যখন এসেছিল, তখনও এরকম গেল গেল রব উঠেছিল অনেকের মধ্যে। কিন্তু পরিবর্তনকে আটকানো যায়নি।

    আমি বরং অনেকটা ফয়েজের পক্ষে। সময় বদলাচ্ছে। মানুষ বদলাচ্ছে। রুচি বদলাচ্ছে। টেস্ট আছে, ওয়ানডে আছে, টুয়েন্টি-টুয়েন্টি এসেছে।
    ফুটবলের সুবিধা এটা ৯০ মিনিটের খেলা। যখন ১২০ মিনিট বা তার বেশিতে গড়ায় তখন অনেকে বিরক্ত হয়। মানুষ ফল চায় এবং দ্রুত।

    টেস্ট শ্রীহীন হয়ে যাচ্ছে। অবশ্যই দর্শক প্রধান কারণ। বাণিজ্যও তাই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

    ওয়ানডে এখনও জৌলুশ ধরে রেখেছে।

    কিন্তু আমি মনে হচ্ছে যদি আর দশ বছরও বাঁচি দেখবো টুয়েন্টি-টুয়েন্টি হবে গ্ল্যামার। এটাই বাস্তব। অর্থ-বিত্ত, গতি আর চট-জলদি আনন্দ সব এতে পাওয়া যাবে। ইনডোরেও ঢুকে যাবে। বৃষ্টির ভয় আর থাকবে না।

    বুড়োদের মতো গেল গেল করো না। পরিবর্তন মেনে নাও।

    বিশেষ দ্রষ্টব্য : ভারতীয় বোর্ডকে এড়ানো যাবে না। সোয়াশ কোটি মানুষের বাজার। আমরা ক্ষিপ্ত হবো, কিন্তু কিছুই করতে পারবো না কামরুল!!


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
    • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

      না, লাবলু ভাই, পরিবর্তনের পক্ষেই আছি। কিন্তু সেটা কেন এবং কিভাবে হচ্ছে সেটা দেখে ঠিক ভালো লাগছে না।

      টাকা ছাড়া ক্রিকেটের বিস্তার সম্ভব নয়, কিন্তু টাকার বিস্তারের জন্যই যখন চলে সব কায়কারবার তখন খেলাটা হলো নিছকই একটা উপলক্ষ।

      ঠিক এই জায়গাটাতেই আমার দুঃখ। নইলে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন কিছু গ্রহন করতে আপত্তি নেই। শুধু ক্রিকেটকে সংস্কার করতে গিয়ে ২০/২০ আনলে আমার আপত্তি ছিলো না, কিন্তু এটা স্রেফ টাকা বানাবার জন্যে করা হচ্ছে।
      ভারত ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাজার আর সেই সুযোগটা ওরা যাচ্ছেতাই ভাবে নিচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনার কথাই সত্যি- ভারতীয় বোর্ডকে এড়ানো যাবে না। সোয়াশ কোটি মানুষের বাজার। আমরা ক্ষিপ্ত হবো, কিন্তু কিছুই করতে পারবো না


      ---------------------------------------------------------------------------
      বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
      ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

      জবাব দিন
      • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

        আর এই ভারতীয় বোর্ড তথা ডালমিয়ার রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ এত দ্রুত টেস্ট স্ট্যাটাস পেল...উপযুক্ত হবার আগেই হয়তোবা ( ব্যক্তিগত মতামত)


        আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
        আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

        জবাব দিন
  6. শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

    আমিও ২০/২০-র বিরুদ্ধে না। কিন্তু কেউ যখন বলবেন টেস্ট ক্রিকেট ভালো না আমি প্রতিবাদ করব(সম্মান প্রদর্শ স্বরূপ)। টেস্টের যে আবেদন তা কখনই অন্য কোন ক্রিকেট দিয়ে পুরন করা সম্ভব নয়।

    জবাব দিন
  7. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    এই বিতর্কের সূত্র ধরে আমার দ্রূপদী সঙ্গীত আর "কোলোজ-আপ" সঙ্গীতের কথা মনে পড়ে গেল। :grr: :grr:


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।