আমাদের নেতারা চোর, আমরা সৎ নেতৃত্ব চাই

আমি কিছুদিন আগে ফেসবুকে দেখলাম যে বেশকিছু লোকজন ১লা মার্চ ভারতীয় পণ্য বর্জন করার জন্য সবাইকে আহবান জানাচ্ছে। আমি একমত হতে পারলাম না ব্যাপারটার সাথে। একদিন যদি আমরা ভারতীয় পণ্য বর্জন করি তাতে ভারত হয়ত অর্থনৈতিক ভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কিন্তু আমরা যে সমস্যাগুলির জন্য প্রতিবাদ জানাবো (টিপাই মুখ বাঁধ, সীমান্তে নির্যাতন, ইত্যাদি) তা কোন ভাবেই সমাধান হবে না। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি আমাদের সবচাইতে বড় শত্রু হল আমাদের অযোগ্য নেতৃত্ব (ক্ষমতাসীন এবং পূর্বের ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ), যাদের অদূরদর্শিতার কারনে আজকে আমরা একটা বৈদেশিক চাপে পিষ্ট দেশে পরিণত হয়েছি। হয়ত কোন একটা সময় আসবে, যখন সম্পূর্ণ অচল একটা রাষ্ট্রে পরিণত হব (এখন প্রায় হয়েই গেছি, কিছুটা বাকি আছে)। আমাদের যদি প্রতিবাদ জানাতেই হয় বা কোনকিছু বর্জন করতে হয় তবে সবার আগে আমাদের এই অযোগ্য নেতৃত্ব বর্জন করা উচিৎ।

 

পাঠক, আমারা এমন একটা গণতান্ত্রিক দেশে বাস করি যেখানকার ৯০ ভাগ মানুষ গণতন্ত্র বলতে বোঝে ভোট দেয়া। অর্থাৎ নাগরিক অধিকারগুলোর মধ্যে একমাত্র ভোটাধিকারই এই ৯০ ভাগ লোক স্বাধীন ভাবে প্রয়োগ করতে পারে। বাকি অধিকারগুলো এমন ভাবে কব্জা করে রেখেছে বাকি ১০ ভাগ লোক (সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত অংশ, মন্ত্রী থেকে পিয়ন) যে তাদের ঘুষ না দিয়ে আপনি আপনার কোন অধিকার আদায় করতে পারবেন না। উদাহরণ হিসেবে বলি, আপনি ঘুষ না দিয়ে কোন কাজটা সরকার (তা সে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন) এর কাছ থেকে আদায় করেছেন? গ্যাস, পানি বা বিদ্যুৎ সংযোগ, আদালতের কোন মামলা, কাস্টমস থেকে আপনার শিপমেন্ট খালাস, এমন কি থানায় জিডি করা। আমাদের সাধারন নাগরিক অধিকার আদায়ের জন্য আমাদের কষ্টার্জিত টাকা এমন লোকজনকে দিতে হয়, যারা আমাদের দ্বারা নির্বাচিত কিংবা আমাদের অর্থে বেতন ভুক্ত কিংবা দুটোই। এবং আমরা যারা সাধারন মানুষ তারা বেশীরভাগই এটাকে মেনে নিয়েছি। কেন??????? পাঠক আমরা কি তবে আর মানুষ নেই??? “জোর যার, মুল্লুক তার” তো আদিমযুগের আইন ছিল। আর পশুদের মধ্যে এটা দেখা যায়। মানুষ সমাজে তাদেরই নেতৃত্ব দেয়া উচিৎ যারা সেটার যোগ্য, যারা সৎ এবং শিক্ষিত । কিন্তু পশুদের নেতৃত্বর সাথে আমাদের নেতৃত্বর কয়টা পার্থক্য আপনি বের করতে পারবেন???

 

কিছুদিন আগে আমার উচ্চশিক্ষিত এক বন্ধু বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করে বিএনপি কে সমর্থন দিয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিল। আমি তার সাথে তর্ক করাতে সে বলল যে বিএনপি কম দুর্নীতি করে। আমি তাকে বললাম যে দুর্নীতি করে জানার পরেও কেন আমি তাদের ভোট দিব? বেপারটা কি এমন দাঁড়াচ্ছে না যে চোরের চাইতে পকেটমার ভাল? আমার বন্ধু একা না, আমাদের আশেপাশে অনেকেই এই মনোভাব পোষন করেন। আমরা হয়ত কোন একদিন দেখব সংসদে দুর্নীতি নীতিমালা পাশ হয়েছে।

 

আমি এমন একটা বিষয় নিয়ে লিখছি যা আমরা সবাই জানি এবং লিখতে থাকলে লিখে শেষ করা যাবে না। তাই এবার শেষ করব। সবকিছুর শেষে কিছু শেষের কথা থাকে। আমার শেষের কথা হল আমরা এই বিশাল অব্যবস্থা অল্পদিনে বা অল্পকিছু লোক মিলে ঠিক করতে পারবে না। আমাদের সবার করতে হবে। শুরুটা আমরা এভাবে করতে পারি যে আমরা আর কাউকে ঘুষ দিব না। উদাহরনঃ গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির সংযোগের জন্য আমরা ঘুষ দিব না। তাতে আমার বাসায় গ্যাস বা পানির লাইন দুদিন পরে আসুক। আমরা যদি এভাবে নিজেরা কিছু কষ্ট স্বীকার করি তাহলে হয়ত ঘুষ বেপারটা আর থাকবে না। আর যখন আমরা আমাদের নেতাদের, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টাকা দেয়া বন্ধ করব, তখন এই উদ্দেশ্যে আসা নেতারা রাজনীতি থেকে সরে যাবে। যারা সরকারী চাকরী তে ঢুকত কারন প্রচুর উপরি উপার্জনের সুযোগ আছে, তারা আর আসবে না। তখন যারা থাকেবে, তারা সত্যিকার ভাবেই দেশের ভাল চায়। আর তাদের মধ্যে থেকেই আমরা আমদের কাঙ্ক্ষিত নেতা পাব। তখন আর আমাদের ভারতীয় পণ্য বর্জন করতে হবে না। সঠিক নেতৃত্ব আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে সম্মানজনক সহবস্থান নিশ্চিত করবে।

১,২১৯ বার দেখা হয়েছে

৮ টি মন্তব্য : “আমাদের নেতারা চোর, আমরা সৎ নেতৃত্ব চাই”

  1. আজিজুল (১৯৭২-১৯৭৮)

    গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির সংযোগের জন্য আমরা ঘুষ দিব না। তাতে আমার বাসায় গ্যাস বা পানির লাইন দুদিন পরে আসুক।

    ব্যপারটা ওই ভাবে না দেখে বলতে হবে " গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির সংযোগের জন্য আমরা ঘুষ দিব না। কিন্তু আমার বাসায় গ্যাস বা পানির লাইন অবিলম্বে দিতেই হবে,এই সুবিধা প্রাপ্তি আমার নাগরিক অধিকার। "
    এবং যেদিন জনগণ ঐক্য বদ্ধ হয়ে ঘুষ- দুর্নীতি প্রতিরোধ করবে, সেদিন থেকেই সূচনা হবে নতুন যুগের।

    পুনশ্চঃ সিংগাপুরের বয়স্ক/বৃদ্ধরা জানেন "হরতাল" বা "ঘুষ-দুর্নীতি" বলতে কি বুঝায়। যুবা বয়সের কেউ কখনো হরতাল দেখেনি বা কাউকে দুর্নীতি করতে দেখেনি, তাই জানেও না এর মাহাত্ম! (সম্পাদিত) (সম্পাদিত)


    Smile n live, help let others do!

    জবাব দিন
  2. রুহুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    ধন্যবাদ আজিজুল ভাই। আমি আসলে আপনার কথাটাই বোঝাতে চেয়েছিলাম। আনাড়ি লেখক আমি , তাই ভাবের প্রকাশ ঠিকভাবে করতে পারিনি। ব্লগটা পড়ার জন্য আবারও অসংখ্য ধন্যবাদ।

    জবাব দিন
  3. আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

    রূহুল ভাই, আপনাকে ব্লগে দেখে ভালো লাগলো। লেখাটা পড়েও ভালো লাগলো।

    তবে ভাই বিড়ালের গলায় ঘন্টাটা কে বাধঁবে? তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোন থেকে আপনার কথা যথার্থ। কিন্তু প্রায়োগিক দিক থেকে এর বাস্তবায়ন যথেষ্টই কঠিন। কারন সবাই ক্যাডেট নয় আর এই ধরনের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সবাইকে প্রতিশ্রুতিশীল এবং দৃঢ় হতে হয় যা আমাদের জাতিস্বত্তার মাঝে বড়ই অভাব। বাংগালী হুজুগে জাতি এবং সত্যি বলতে মন্দ হুজুগেই বেশি নাচে। এই দেখেন প্রথম আলো কিছু ভালো হুজুগ চালু করতে চেষ্টা করলো। কিন্তু কিসের কী? ঐসব দিকে বাঙ্গালী যায় না। এর উপর আবার সীমান্তে যন্ত্রনা। ভিক্ষা দিবে এই জাতি না কুত্তা সামলাবে?????

    জবাব দিন
  4. রুহুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    ভাই শিশির ও রেজা,

    বেড়ালের গলায় ঘন্টা আমাদের সবাই কে বাঁধতে হবে। একজন বাঁধলে হবে না। ঘণ্টাতা এত বড় যে একজন বাঁধতেও পারবে না. তোমার কথা ঠিক যে এই ধরনের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সবাইকে প্রতিশ্রুতিশীল এবং দৃঢ় হতে হয় যা আমাদের জাতিস্বত্তার মাঝে বড়ই অভাব। কিন্তু তুমি আর আমি/শুধু আমি/শুধু তুমি যদি শুরু করি তবেই শুরুটা হবে। আমাদের আশে পাশের মানুষজন কে আমরা বোঝাতে পারি। হয়ত সংখ্যাটা হবে খুব নগন্য। কিন্তু বাড়তে থাকবে।

    আমার কথা হল আমরা সবাই যদি আমাদের নিজেদের জায়গায় থেকে দূর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেই তবেই আমরা মূল সমস্যা (বা সকল সমস্যা) সৃষ্টিকারীদের থেকে মুক্তি পাব। আমি এই জিনিসগুলো নিয়ে আরেকটা ব্লগ লিখছি। আশা করি ২/৩ দিনের মধ্যে শেষ হবে।

    তোমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ আমার ব্লগ পড়ার জন্য।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।