কলম-ক্যামেরা আর বাস্তবতা

সম্প্রতি দেশের যশ-প্রতিষ্ঠিত নারীবিদ্যাপীঠ ভিকারুন্নিসার বেদনাদায়ক ঘটনা নিয়ে ‘মিডিয়ার ছিনিমিনি কৌশলী খেলায় চ্যাম্পিয়ন’ প্রথম আলো পত্রিকার উদাসীনতা সর্বসাধারণের অবগত। দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখে তারা যেভাবে চুনকালি মেখে দেয় তাতে এটা বিশ্বাস করা দায় যে তারাই কি করে আবার সেইসব প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা ও পসারে মুখ্য ভুমিকা পালন করে! হ্যাঁ, যে কোন বিষয়েই সমালোচনার অধিকার পত্রিকারই থাকে…তবে তা অনুসন্ধানভিত্তিক,যৌক্তিক এবং সত্য হবে এটাই সবার কাম্য। আর বহুল প্রচারিত এই দৈনিক পত্রিকাগুলো যদি এই ভেবে বসে থাকে যে তাদের ছাপানো প্রতিবেদন ব্যবচ্ছেদ করার প্রয়াস এবং পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার ও সামর্থ্য কোনটাই সাধারণ নাগরিকের নেই-তবে এটাই বলতে হয় যে কাক যখন বিষ্ঠা নির্গত করে তখন কাক নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে রাখে আর ভাবে শুধু কাক ই জানে যে কাজটি ওই করছে,আর কেউ তা দেখছে না।

ভিকারুন্নিসার প্রসঙ্গতে আমি আর যাচ্ছি না । এখন বলছি দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় ‘শেখ মুজিব মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রসঙ্গে । প্রথমেই বলে নেই যে উক্ত মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির কার্যক্রম এখনও প্রক্রিয়াধীন। এর একাডেমীক কার্যক্রম এখনো যাত্রা শুরু করে নি। এর আওতাধীনে রয়েছে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের একমাত্র ও বর্তমান বাংলাদেশের প্রথম একাডেমী(মিলিটারি বা নেভাল বা বিমানবাহিনী একাডেমীর পাইওনিয়ার) তৎকালীন মেরিন একাডেমী,চট্টগ্রাম বা বর্তমান বাংলাদেশ মেরিন একাডেমীর স্নাতক সমাপনি ও সনদ প্রদান (Bachelor of Maritime Science বা BMS,যা বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সমাপনযোগ্য) কার্যক্রম। ১৯৬২ সালে স্থাপিত যেই একাডেমী এদেশের অন্য সব একাডেমীর পাইওনিয়ার তার ট্রেনিং ব্যবস্থাপনা কেমন হওয়া উচিত তা আশা করি সবারই বোধগম্য। নৌবাহিনী এবং বানিজ্যিক জাহাজের কর্মজীবী-এই দুইয়ের ভিতর তফাত এটুকুই যে প্রথমটি সামরিক ও দ্বিতীয়টি বেসামরিক। সেই কথা মাথায় রেখেই এই দুই শ্রেণীর একাডেমীর ট্রেনিং এর একমাত্র এবং মূল পার্থক্য হল সামরিক প্রশিক্ষণ থাকা ও না থাকা। আর সবকিছুই এক ও অভিন্ন -কারণ দুই শ্রেণীকেই তাদের জীবন নিয়ে সামুদ্রিক বৈরি পরিস্থিতির সাথে বাজি ধরতে হয়। সমুদ্রজীবনের বৈরিতা সম্পর্কে আপনাদের সামান্য একটি ধারণা দেই- সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে জাহাজের গতি সম্পর্কিত একটি ইংরেজি টার্ম হল ” ROLLING & PITCHING “- যার অর্থ আপনি ডাঙ্গায় বসবাস করেই অনুধাবন করতে পারবেন……শুধু পাঁচ মিনিটের জন্য নৃত্য শিল্পীর মত নিজের দেহ টাকে বৃত্তাকারে দ্রুতগতিতে ঘুরাতে থাকুন…… থামা মাত্রই আপনার বমির বেগ অনিবার্য। একজন সমুদ্রচারীকে এ ধরনের অভিজ্ঞতা সমুদ্রে যতদিন যতক্ষণ ঢেউ থাকবে ততদিন ততক্ষণ সামাল দিতে হয়……হবে……এর কোন বিকল্প নেই……অতএব কঠোর শারীরিক প্রশিক্ষণই হতে পারে এর একমাত্র সমাধান। আর মানুষ তার শারীরিক সামর্থ্যকে সঠিক ও গবেষণালব্ধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অসাধ্য সাধনেও কাজে লাগাতে পারে………যার জন্যেই এই একাডেমি,যার জন্যেই এত কঠোর পরিশ্রমের অবতারণা। আর এই কঠোরতা অবশ্যই কোন ননির পুতুলের সহ্য হবার কথা নয়। তবে হ্যাঁ,ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। তাছাড়া জাহাজে কাজ করাটা সর্বদাই ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু নির্দিষ্ট এবং নিবিষ্ট নিরাপত্তাই ঝুঁকির প্রতিকারক। আর তাই যে কোন বানিজ্যিক জাহাজের মূলমন্ত্রই হল “safety first”। কিন্তু এই বাক্য মুখে বলে বলেই যদি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিধান সম্ভব হত তবে মানুষ কথা বলতে বলতেই চাঁদে চলে যেতে পারত। তাহলে আপনাদের কাছে প্রশ্ন যে কিভাবে একজন মেরিন কর্মকর্তাকে তার নিরাপত্তা বিধান করাটা শিখতে হবে? উত্তরটা আমিই নিচে তুলে ধরছি কেননা আমি একজন উক্ত একাডেমীর প্রশিক্ষণার্থী যাকে দুই বছরের প্রি-সী ট্রেনিং এ এই জিনিসটিই শিখানো হয় অন্যান্য প্রফেশনাল ও বৈষয়িক শিক্ষার পাশাপাশি। এক্ষেত্রে উক্ত একাডেমীর কিছু গতানুগতিক চিত্র ও তার ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে যেগুলো সমালোচনার শিকার।

প্রথমত, আপনি অবশ্যই আপনার শিক্ষা জীবন পার করে এসেছেন সিভিল লাইফে (ক্যাডেট কলেজ ব্যতীত) যেখানে এ ধরনের অভিজ্ঞতা হবার সম্ভাবনা শূন্যই বলা যায়। সুতরাং, একাডেমীতে যোগদান করা মাত্রই আপনাকে প্রথমেই সামুদ্রিক জীবনের তথা আপনার পেশাগত জীবনের কাঠিন্য সম্পর্কে ‘field idea’ দেয়া হবে, যার মাধ্যমে আপনাকে এটাই বুঝান হবে যে আপনি আর এখন আপনার সেই শিক্ষা জীবনের আরামপ্রিয়তা এই পেশাতে আশা করবেন না। কষ্ট দিয়েই আপনাকে সম্মান আর জীবিকা অর্জন করতে হবে,মোকাবেলা করতে হবে আপনার পেশার বৈরিতা। যার ফলশ্রুতিতে, সিনিয়র ক্যাডেটদের আওতায় সদ্য যোগদান করা জুনিয়র ক্যাডেটরা অতিবাহিত করে এমন একটি বৎসর যেখানে তাকে এটাই শিক্ষা দেয়া হয় যে কিভাবে সে তার সারা জীবন তার সিনিয়রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করবে;একই সাথে একজন সিনিয়র ক্যাডেটও তার নিজস্ব ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে কিভাবে তার অধীনস্থকে আনুগত্যশীল করে তুলতে হয় তার চর্চা করে- এক্ষেত্রে শাসন, নির্দেশ প্রদান,পরিস্থিতি-নিয়ন্ত্রণকরণ,​ অধীনস্থের সাফল্যকে প্রসংশা করা ইত্যাদি প্রাধান্যযোগ্য। আর এর সব কিছুই অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক কর্মকর্তাবৃন্দের নিবিষ্ট তত্ত্বাবধানে পরিচালিত।

প্রসঙ্গত,যেই ছেলেটি কখনই বুটজুতো পরিধান করেনি, প্রথম প্রথম তা করার কারণে এবং একটানা তা পরে থেকে সারাদিন ট্রেনিং করাতে তার নখ ও আঙুলে কাঁটা-ছেঁড়া, এমনকি নখে ইনফেকশান হয়ে নখ উঠে গিয়ে পরবর্তীতে পূর্ণ চিকিৎসার মাধ্যমে নতুন করে নখ তৈরি হবার ব্যাপারটি কঠোর প্রশিক্ষণ অবলম্বন করত শারীরিক অভিযোজন ছাড়া আর কিছুই নয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা অনিবার্য যার নির্দেশনা সে একাডেমীর কর্তব্যরত ডাক্তার এর মাধ্যমে পেয়ে থাকে। অতএব, এটিকে নখ উপড়ে ফেলা মনে করাটা আমি মনে করি নিছক বাস্তব উপলব্ধির অভাব।

দ্বিতীয়ত, প্রথম এক সপ্তাহ তাকে এতটাই কঠোর পরিশ্রম অনুসরণ করতে হয় যে পানি পানের স্বল্পতার দরুন পানিশূন্যতা ও অতিরিক্ত ঘামানোর কারণে লবনশুন্যতায় ভুগে সে যেকোনো মারাত্মক শারীরিক জটিলতার সম্মুখীন হতে পারে; আবার ঐ একই সময়ে তাকে যেহেতু সময়ের মূল্য সম্পর্কে অবহিত করতে সকল ট্রেনিং activities সম্ভাব্য সর্বনিম্ন সময়ে সম্পাদনার নির্দেশ ও নির্দেশনা দেয়া হয়,সেহেতু পর্যাপ্ত পানি পান ও লবন গ্রহণ করা এড়িয়ে যাওয়া তার পক্ষে বিচিত্র কিছুনা। আর তাই এ দুইয়ের সমন্বয়টা করতে এগিয়ে আসে সিনিয়র ক্যাডেটরাই, যারা একই ট্রেনিং প্রাপ্ত। সুতরাং ডাইনিং হলে জুনিয়র ক্যাডেটদের যে অনেকটাই জোরপূর্বক লবণ-পানি খাওয়ানো হয় তা কি একেবারেই অযৌক্তিক? তাছাড়া বমি করার আগ পর্যন্ত যে পানি খাওয়ানো হয় সেই কথাটিও মিথ্যা না- এর দরকারও আছে বৈকি- জাহাজে চাকরির প্রথম দিকে রোলিং-পিচিং এর জন্যে আপনি কিছুই খেতে পারবেন না,এহেন অবস্থায় খালি পেটে বমি করতে করতে তা রক্তবমিতে পরিনত হতে পারে যার ফলাফল হতে পারে মৃত্যু। অথচ পানি পানে স্বাদ-বিস্বাদের কিছু নেই এবং বেচে থেকে নতুন পরিবেশ এর সাথে খাপ খাওয়ানোর অন্তর্বর্তী সময়ে তা পান করার পর বমি না করাটা অপরিহার্য। অতএব, একাডেমীতে এর দরকার কেন তা আশা করি সবাই বুঝবেন। কিন্তু অতি দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এই ব্যাপারটিকেই তিলকে তাল বানানো হয়েছে; World Maritime University-র সদস্য,বাংলাদেশের গর্ব এই একাডেমীটাকে যেমন খুশি তেমন সাজো-র মত পত্রিকাতে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।

তৃতীয়ত, সকলের শারীরিক সামর্থ্য এক নয়। সুতরাং, এহেন কঠোর প্রশিক্ষণ সকলেই সহ্য করতে পারবে তা কখনই দাবি করা হয় না। একাডেমীতে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় কেউ শারীরিকভাবে অযোগ্য প্রমাণিত হলে প্রশিক্ষণ ত্যাগ করাই তার জন্যে শ্রেয় যা সুনির্দিষ্ট মেডিকেল তথ্যাদির আলোকে বিবেচনা করা হয়। এই চিত্র আমরা এদেশের অন্যান্য সামরিক একাডেমীগুলোতেও দেখতে পাই। আর কঠোর প্রশিক্ষণের মাঝে স্বল্প সামর্থ্যের ছেলেরা অসুস্থ হয়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছুতো নয়ই বরং অহরহই তা হয়। এক্ষেত্রে তারা একদমই অপারগ হলে একাডেমী ত্যাগ করাটা তাদের জন্যে বাঞ্ছনীয়ই। যার কারণে প্রতি বছরই কিছু ক্যাডেট একাডেমী ত্যাগ করে যাদের শূন্য স্থানটি আবার অপেক্ষমাণ তালিকা হতে পূর্ণ করা হয়। অথচ পত্রিকাতে এটাই দেখান হয়েছে একটু ঘুরিয়ে যা আপনাকে-আমাকে ভুল বুঝানোর পক্ষে যথেষ্ট।

চতুর্থত, প্রশিক্ষণের প্রাক্কালে প্রশিক্ষণ-কর্মকাণ্ডের ধাঁচ বুঝতে না পারায় অনেক ক্যাডেটই নানা সময় আহত হয়,যেমন- হাত-পা মচকানো,ভেঙ্গে যাওয়া,লিগামেন্টে ইনজুরি,কেটে যাওয়া, ছিলে যাওয়া ইত্যাদি। এধরনের আহত হওয়াটা কি আপনি একাডেমীর বাহিরে থাকলে যে হবেন না তার কি কোন নিশ্চয়তা আছে? তার মানে এই নয় যে আমি বলছি ক্যাডেটদের আহত হওয়াটা কাম্য। কিন্তু ক্যাডেট এহেন আহতগ্রস্ত হলে কর্তৃপক্ষ তার সঠিক চিকিৎসার ব্যাবস্থা করেন। উল্লেখ্য,অবশ্যই একাডেমী কর্তৃপক্ষ এরূপ পরিস্থিতির জন্য দায়ী নয় কেননা এই নিমিত্তে অভিভাবক ও প্রশিক্ষণার্থীর সচেতন সম্মতি ভর্তির আগেই নিশ্চিত করা হয়। আর এই অনাহূত ইনজুরি যখন ক্যাডেটকে প্রশিক্ষণের অনুপযুক্ত করে তোলে তখনি তা বিবেচনায় আনা হয় যে ঐ নির্দিষ্ট ক্যাডেটকে বহিষ্কার করা হবে নাকি না। তবে এর নজির নেই বললেই চলে, যারা চলে যায় তারা স্বেচ্ছায় অপারগতা প্রকাশ করে ছাড়পত্র নিয়ে নেয়।

আমি এখন সর্ব-সাধারণের উদ্দেশ্যে শেখ মুজিব মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশের বহুল প্রচারিত দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত এরূপ আরও কিছু তথ্যের ব্যবচ্ছেদ করার প্রয়াস ব্যক্ত করা হল। এ লক্ষ্যে আপনাদের জ্ঞাতার্থে কিছু লিংক দেয়া হল যেখানে বিগত সময়ে পত্রিকার চোখে ধরা পরা বাংলাদেশ মেরিন একাডেমীর কর্মকাণ্ডের বিবরণ রয়েছে।
http://www.eprothomalo.com/ind​ex.php?opt=view&page=2&date=20​11-04-28
http://www.eprothomalo.com/ind​ex.php?opt=view&page=12&date=2​011-04-30
http://www.kalerkantho.com/epa​per/?archiev=yes&arch_date=28-​04-2011
http://www.kalerkantho.com/epa​per/?archiev=yes&arch_date=28-​04-2011

প্রথমত, কোন পত্রিকাতেই বিশ্ববিদ্যালয়টির বা একাডেমীটির সঠিক নাম প্রকাশ পায় নি যা প্রথমেই তাদের অপপ্রয়াসকে তুলে ধরে। সর্বত্রই উল্লেখ করা হয়েছে ‘চট্টগ্রাম মেরিন’, ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়’ ইত্যাদি নামে। নিজের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠানটির নাম নিয়ে দেশের নামকরা দৈনিকে ত্রুটি সহ্য করা নামজ্ঞানহীন ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, আমার উপরোক্ত সমালোচিত চারটি কথার প্রতিটিরই অতিরঞ্জন ও অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেই আলোকেই বলতে হচ্ছে- যে ছেলেটির কিডনি কিছুদিন আগে নষ্ট হয়ে গেল,ডায়ালাইসিস করা হল সেই সদ্য চিকিৎসা প্রাপ্ত ছেলে কি করে হেটে হেটে ড্রয়িং রুমে আসে তা কি সন্দেহজনক নয়? যাই হোক, ধরলাম তা কোনভাবে সম্ভব, কিন্তু তার অসুস্থতা এবং উপড়ানো নখের ব্যাখ্যা আমি আগেই দিয়েছি। তার পিঠে বুকে মারের দাগ……,কিডনি নষ্ট! অথচ, একাডেমীর কর্তব্যরত চিকিৎসকের কোন সাক্ষাৎকার বা জবানবন্দিই পত্রিকাতে তুলে ধরা হল না!! অতিরঞ্জনে ব্যাপারটি এভাবেই রঞ্জিত হল!!! অতিরঞ্জন কি একটু বেশিই হয়ে গেল না?

তৃতীয়ত, নির্যাতনের আলামতের প্রাথমিক সত্যতাতেই
যেন সব মামলার নিষ্পত্তি,অথচ আপনারাই ভেবে দেখুন পত্রিকাতে উল্লেখিত ঐ তদন্তের ফলাফল আপনারা এখনো অবগত নন। হাড় ভেঙ্গে যাওয়া একটি ছেলেকে প্লাস্টার করা পা নিয়ে হাঁটতে দেখলে পা ভাঙ্গার প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয় তা ঠিক, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তার পা কোন মানুষ পিটিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে। কারণ জানতে প্রয়োজন সুষ্ঠু তদন্তের সুষ্ঠু ফলাফল। না জেনে অন্যায় ভাবে কাউকে দোষারোপ করাটা বিধিসম্মত নয়। অতএব, এত আগেই সিনিয়র ক্যাডেটদের উপর আপনাদের খাড়ার ঘা না আনলেই কি নয়?-পত্রিকাগুলোর ঐ জনৈক সাংবাদিকগণের কাছে সেই প্রশ্নটিই থাকলো।
চতুর্থত, যে সকল ক্যাডেট ধকল সইতে না পেরে একাডেমী ত্যাগ করে তারা যদি বাহিরে যেয়ে একাডেমীর ভাবমূর্তি এভাবে ক্ষুণ্ণ করে তবে কিছু বলার অপেক্ষা থাকে না। কিন্তু তাদের এটাও স্বীকার করা উচিত যে তারা অপারগ বলেই চলে এসেছে। না হলে বাকিরা কি করে একাডেমীতে থাকছে তার উত্তর কি আপনারা (সাংবাদিকরা) পত্রিকা অফিসেই বসে পাবার আশা করেন?
পঞ্চমত, সাধারণ জনগণকে বলছি, আপনারা একবার ভাবুন তো যদি আপনাদের সামরিক একাডেমীগুলোতে বিদ্যমান ট্রেনিং সরেজমিনে দেখান হয় তখন আপনাদের কাছে কি তা সুখকর মনে হবে? উত্তর অবশ্যই না এবং একই সাথে এটাও বলবেন যে ওদের পেশা ও কর্মস্থলের বৈরি-পরিস্থিতি মোকাবিলার বিচারে তা মানা যায়। তাহলে আমার প্রশ্ন,মেরিনের ক্ষেত্রে কেন আপনারা বা সংবাদমাধ্যম তা মানবেন না? আমাদের কর্ম-পরিস্থিতি ও পেশা অতিসুখকর কিছু কি? প্রশ্ন রইল। তাছাড়া, যার মাসের পর মাস দিগন্তহীন জলরাশির বুক চিরে ভেসে ভেসে দিন পার করতে হবে তার বুকটা যে ছেড়ে আসা স্বজনদের কথা মনে করে করে চিরতে বসে তা কি এত সহজেই উপলব্ধি করা সম্ভব? সেজন্য কি কঠোর মানসিকতা অপরিহার্য নয়? আর সেই নিমিত্তেই মানসিকতা দৃঢ়করতঃ কোন ক্রিয়াকলাপকে কি আপনি এক নিমিষেই জঘন্য মানসিক প্রহার বলে আখ্যায়িত করতে পারেন? আগেই বলেছি,আপনি অবশ্যই আপনার শিক্ষা জীবন পার করে এসেছেন সিভিল লাইফে (ক্যাডেট কলেজ ব্যতীত) যেখানে এ ধরনের অভিজ্ঞতা হবার সম্ভাবনা শূন্যই বলা যায়। সুতরাং, একাডেমীতে যোগদান করা মাত্রই আপনাকে প্রথমেই সামুদ্রিক জীবনের তথা আপনার পেশাগত জীবনের কাঠিন্য সম্পর্কে ‘field idea’ দেয়া হবে। এটিকে আপনার মনন স্বাগত জানাবেনা এটাই স্বাভাবিক, অযথা দোষারোপের তো কিছুই নেই।
ষষ্ঠত, ১৯৯৪ সালে আমি মেরিন একাডেমীতে ছিলাম না। তাই মৃত/নিহত ক্যাডেটের ব্যাপারে কোন মন্তব্য করছিনা। কিন্তু এটা ঠিকই বলব যে মধ্যযুগীয় বরবরতা প্রদর্শন করে সিনিয়র ক্যাডেট কর্তৃক জুনিয়র ক্যাডেটদের উপর শারীরিক নির্যাতনের কোন নজির মেরিন একাডেমীতে নেই, ভবিষ্যতে থাকবেও না। যা আছে বা থাকবে তা হল নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে ৪৯ পেরিয়ে ৫০ বছরের ইতিহাসের সুষ্ঠু চর্চা; যা কোন নোংরা র‍্যাগিং বা তথাকথিত খবরদারি নয়। এটা সকলের মনে রাখা উচিত যে, অফিসের ডেস্কে বসে যে নেতৃত্ব চর্চা করা হয় তাকে যেমন যুদ্ধময়দানের নেতৃত্বের সাথে তুলনার মানে হয় না, তেমনি সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে আপনাকে যে নেতৃত্ব দিতে হবে তার তুলনা শুধু সেটি নিজেই হতে পারে। আর সেই নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ধরণ কেমন হওয়া প্রয়োজন তা এতটি বছর আগেই তৎকালীন সরকার কর্তৃক গবেষণাপূর্বক নির্ধারিত এবং এর আধুনিকায়নও গতিয়মান। অতএব, হাতে কলম আর কাঁধে ক্যামেরা ঝুলিয়ে সুষ্ঠু নেতৃত্ব বিকাশের ঐ চর্চাটিকে অযথা খবরদারি বলে হেয় করার আগে একটিবার ভেবে নেয়াটা আপনার সম্মানীয় পেশাটাকে আরও মর্যাদাশীলই করে তোলা বৈ হেয় করে তুলবে না -সাংবাদিকদের বলছি।
সপ্তমত, যারা প্রশিক্ষণকালে আহত হয়ে একাডেমী ত্যাগ করে তারা কেউ যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য এপোলোর মত হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়, এমনকি সিঙ্গাপুর থেকেও চিকিৎসার জন্যে ঘুরে আসে তার মানে এই নয় যে ঐ ক্যাডেট গুরুতর অসুস্থ। এদেশে কয়জন সামর্থ্যবান তাদের অসুস্থতা নিরাময়ে সর্বাগ্রে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কথা চিন্তা করেন? তারা তো ল্যাব এইড, এপোলো বা বিদেশে উন্নত সেবার প্রতিই বেশি আস্থাশীল। তার মানে কি এই যে তারাই শুধুমাত্র গুরুতর অসুস্থ? অতএব, ওই সকল ক্যাডেটদের অসুস্থতাজনিত গুরুতরতার প্রমাণ হিসেবে অন্তত একাডেমীর কর্তব্যরত চিকিৎসকের মতামত বা প্রেস্ক্রিপশান অগ্রগণ্য। অথচ অত্যন্ত সযত্নেই তা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এর কী ব্যাখ্যা আছে আমাদের ওইসব জাতীয় দৈনিকগুলোর কাছে?!!!

পরিশেষে এই বলে উপসংহার টানতে চাই যে, আমাদের দেশে দুর্নীতির যাদুমন্ত্র দিয়ে সামান্য তিলকে জনসম্মুখে তুলে ধরার জন্য অতিকায় তালে রুপান্তর করা হয়,আর অতিরঞ্জনের অলঙ্কার দিয়ে সেই তালকে এতোটাই রঞ্জিত করা হয় যে বাজারে তার কদর রাতারাতি বেড়ে যায়। সাধারণ জনগণের সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে কোন বিষয়ে প্রমাণ সংগ্রহের স্বাভাবিক অপারগতার সুযোগ নিয়ে ও কিছু অসদুপায়ীর সাথে হাত মিলিয়ে সাংবাদিকতার সম্মানটিতে চুনকালি লেপে দিতে ঐ কতিপয় সাংবাদিক গুলোর বিন্দুমাত্র দ্বিধা হয় না। অথচ জনগণ তাদেরকেই তথ্যের বিশ্বস্ত সূত্র মনে করে, কিন্তু তারা যে পক্ষপাতিত্ব ও দুর্নীতি দ্বারা মিথ্যা খবর রটায় তার কতটুকুই বা আমরা সাধারণরা জানতে পারি? আসুন, অবাধ তথ্যের সঠিক প্রবাহকে কাম্য করে আমরা ঐ কতিপয় দুষ্কৃতিকারীদের রুখে দাড়াই। আমাদের সচেতনতা ও সম্যক প্রতিবাদই এর জন্য যথেষ্ট। তাই দেশ ও দশের সুনামকে রক্ষা করতে আমাদেরকেই আজ জেগে উঠতে হবে। ধন্যবাদ।

২,৪৪৯ বার দেখা হয়েছে

২৮ টি মন্তব্য : “কলম-ক্যামেরা আর বাস্তবতা”

  1. আসিফ খান (১৯৯৪-২০০০)

    আবেগের উর্ধ্বে উঠে অত্যন্ত সাবলীল ও যুক্তিনি্র্ভর চমৎকার লেখা হয়েছে। মিডিয়া যেহেতু অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠছে,মিডিয়াকর্মীদের প্রখর দায়িত্বজ্ঞান সম্পনন হওয়া উচিত। x-(
    ভাই তুমি সত্যি সুন্দর লেখো। নিয়মিত লেখা পাবার অনুরোধ রইল। :dreamy:
    তবে,
    "সম্প্রতি দেশের যশ-প্রতিষ্ঠিত নারীবিদ্যাপীঠ ভিকারুন্নিসার বেদনাদায়ক ঘটনা নিয়ে ‘মিডিয়ার ছিনিমিনি কৌশলী খেলায় চ্যাম্পিয়ন’ প্রথম আলো পত্রিকার উদাসীনতা সর্বসাধারণের অবগত। " এই অংশটা বুঝতে পারিনি।

    জবাব দিন
    • Habib Shamim

      ” ভাইয়া, ভিকারুন্নিসার পরিমল জয়ধর নামের এক শিক্ষক কর্তৃক এক ছাত্রীর সম্ভ্রমহানির ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদমূলক কোন কিছুই প্রথম আলো পত্রিকা প্রথমে লিখতে চায় নাই, বরং যে সব ছাত্রী আন্দোলন করছে ওদের নামে পত্রিকা তে অপবাদ দেয়া হইছিল। কারণ পরিমল এর ভিকারুন্নেসায় চাকরির বেপারটা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে হয়।। এটাই বুঝাইছি ওই লাইন টা দ্বারা। আপনার প্রশংসা আমার প্রেরণা… 🙂

      জবাব দিন
  2. Habib Shamim

    " ভাইয়া, ভিকারুন্নিসার পরিমল জয়ধর নামের এক শিক্ষক কর্তৃক এক ছাত্রীর সম্ভ্রমহানির ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদমূলক কোন কিছুই প্রথম আলো পত্রিকা প্রথমে লিখতে চায় নাই, বরং যে সব ছাত্রী আন্দোলন করছে ওদের নামে পত্রিকা তে অপবাদ দেয়া হইছিল। কারণ পরিমল এর ভিকারুন্নেসায় চাকরির বেপারটা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে হয়।। এটাই বুঝাইছি ওই লাইন টা দ্বারা। আপনার প্রশংসা আমার প্রেরণা... 🙂

    জবাব দিন
  3. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    ভাল লিখেছ হাবিব, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ডিশকাসন ভাল লেগেছে।

    আমাদের পত্রিকাসমূহের উপর থেকে আস্থা সম্পূর্ণ উঠে গেছে। যেকোন রিপোর্ট দেখলেই মনে হয় এর পিছনে নিশ্চয়ই মালিক পক্ষের কোন না কোন স্বার্থ জড়িত। আগে শুধু ছিল রাজনৈতিক স্বার্থ, এখন এর সাথে যোগ হয়েছে ব্যবসায়িক স্বার্থ। আর ছোট খাট ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাঙ্গবাদিকের সাথে বনিওবনা না হওয়া তো আছেই।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  4. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    একটু দীর্ঘ হলেও খুব গুছিয়ে লেখা।আমি আসলে পুরো ঘটনা জানিনা তাই আগে থেকে কোন মন্তব্য করছিনা।তবে অন্য একটা বিষয়ে একটা ছোট কারেকশন দিচ্ছিঃ

    মেরিন একাডেমী অন্য সব একাডেমীর পাইওনিয়ার-এই ধরণের তথ্য একটু বিভ্রান্তিকর।এক একাডেমির সাথে অন্য একাডেমির তুলনা করতে যাওয়াটা ক্লাসিক অর্থনীতির ভাষায় "কমপেয়ারিং বিটুইন এ্যাপেল এ্যান্ড অরেঞ্জ" এর মত।তুমি অবশ্য ওভাবে তুলনা করতে যাওনি,আর লেখার মূল ফোকাসও সেটা নয়।বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী,সারদা- প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯১২ সালে-আগামী বছর এর শতবর্ষপূর্তি উদযাপিত হতে যাচ্ছে।দেখতেই পাচ্ছ- বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী মেরিন একাডেমীর চাইতে প্রতিষ্ঠার দিক দিয়ে কাটায় কাটায় ৫০ বছরের "সিনিয়র"!

    তুমি চমৎকার লেখ-এ জাতীয় ছোটখাটো ভুলত্রুটি ভবিষ্যতে একটু যত্ন নিয়ে এড়িয়ে গেলে আশা করি আরো ভাল লিখতে পারবে।নিজ একাডেমীর প্রতি তোমার মমত্ববোধ এবং এর অসম্মানের প্রতি তোমার প্রতিবাদের ধরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে।তোমার সাফল্যমণ্ডিত ভবিষ্যত কামণা করছি।

    জবাব দিন
    • Habib Shamim

      ধন্যবাদ ভাইয়া, আপনি একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়াতে উপকৃত হলাম......কিন্তু ভাইয়া সারদা পুলিশ একাডেমীটা কিন্তু প্রথমে পুলিশ স্কুল, পরবর্তীতে পুলিশ কলেজ এবং সব শেষে একাডেমীতে রূপ নেয় যা সারদায় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৪ সালে, স্কুল টি স্থাপিত হয় ১৯১২ সালে, তার আগেই ১৯০২ সালে বা তারও আগে ওই স্কুলটি স্থাপিত হয়েছিল ঢাকার মিল-ব্যারাকে, সারদায় নয়। যাই হোক, পুরো ব্যাপারটা বিশ্লেষণ করলে তৎকালীন মেরিন একাডেমী, চট্টগ্রাম ই ছিল পূর্বপাকিস্তান বা বর্তমান বাংলাদেশের প্রথম একাডেমী (এখানে একাডেমী অর্থে ' প্রফেশনাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট' যেমনঃ BMA, BNA, BAFA, POLICE ACADEMY,sharda, BANGLADESH MARINE ACADEMY,ctg ইত্যাদি বুঝান হয়েছে, বুলবুল ললিতকলা একাডেমীর মতো কোন প্রতিষ্ঠান নয়)। আর ভাইয়া, আপনি ঠিকই ধরেছেন- আমি ক্লাসিক অর্থনীতির পরিভাষায় তুলনা করিনি; উপরে উল্লেখিত 'একাডেমী' শব্দটির অর্থ অনুযায়ী বাংলাদেশ মেরিন একাডেমীকে পাইওনিয়ার বলা হয়েছে, স্বভাবতই, প্রতিটি একাডেমীরই রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। আপনার উপদেশ টা ভাইয়া আমি অবশ্যই মাথায় রাখবো। আপনার প্রশংসা ও প্রেরণার জন্য ::salute:: ::salute:: ::salute:: ::salute:: ::salute::

      জবাব দিন
  5. :)) =))
    আপনার লেখা দেখে মনে হচ্ছে মেরিন একডেমি তে ফেরেশতারা থাকে, যারা জুনিয়রদের কিচ্ছু বলে না। কিন্তু বাস্তবতা কি তা আমি ভালো করেই জানি, কারণ, আমার ছোটভাই সেখানে একজন জুনিয়র। সে আমাকে অনেক কিছুই খুলে বলেছে, আপনাদের ৩৮ব্যাচ কি জন্য রেলিগেট হয়েছে, তা সবাই জানে। সেখানে শুরুর দিন থেকে ক্যাডেট দের সাথে কেমন ব্যবহার করা হয়, সেটা ইউটিউব এ ঢুকলেই দেখা যায়। মানলাম সীলাইফ এর সাথে মানাতে অনেক কিছুই করা হয়, তাই বলে রাত ২টায় জুনিয়র এর ডোর্ম এ উঠে তাদেরকে নির্যাতনের কোন মানে হয় না। মানলাম একাডেমী কে অনেক ভালোবাসেন, তাই একাডেমী যেন এইগুলা না হয়, সেই লক্ষ্যে কিছু পরামর্শ দেবেন দোয়া করে।

    জবাব দিন
    • Habib Shamim

      অনেক দিন ব্লগ থেকে দূরে থাকায় লাস্ট কমেন্ট এর উত্তর দেয়া হয়নাই, যাই হোক, ফয়সাল আমির, আপনি আমার সিনিয়র না জুনিয়র জানিনা, আর আপনার ছোট ভাই কোন ব্যাচের তাও জানিনা, নিতান্ত গোবেচারা টাইপের নিরীহ না হইলে প্রত্যকে যেখানে জুনিয়র লাইফে এই টাফ সিচুয়েশন হেইট করে সেখানে এই তারাই সিনিয়র হইতে হইতেই বুঝে যায় যে এটা ক্যান এবং কতটা দরকার। এটা বলি যে আগেকার পরিস্থিতি এখনকার চেয়ে অনেক টাফ ছিল, দিন দিন আরও ইজি হয়ে যাবে, ৪০-৫০ বছরের ট্র্যাডিশন তো আর রাতারাতি চেঞ্জ হবেনা,...... অতিরিক্ত অনেক কিছুই করা হয়, রাত ২ টায় জাহাজে আপনাকে কখনো কি ইমারজেন্সি সিচুয়েশন ফেইস করতে হইছে? উপরের ব্লগ টা আমি আমার জাহাজের অভিজ্ঞতা হবার আগেই লিখেছিলাম, আর জাহাজে যেয়ে বুঝেছিলাম যে কন ট্রেনিং ক্যান দরকার ছিল, তাই বলে অতিক্রিত পেইন দিয়ে কাউকে ফিজিক্যালি ইনেবল করে দেয়া ঠিক নয়, মেরিন একাডেমী তে এমন টা কেউ করলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়না, আমি শুধু এতাই বলছি যে পত্রিকাতে যা লিখা হইছিল সেটা ছিল অতিরঞ্জন, আর ৩৮ ব্যাচে কি হইছিল টা ৩৮ ব্যাচের কারো মুখে শুনলে আপনার সব পরিষ্কার হয়ে যাবার কথা।

      ধন্যবাদ।

      জবাব দিন
      • =)) 😮

        আমার কমেন্টের জবাব পেয়ে ভালো লাগলো। তবে মেরিন একাডেমিতে শুধু আমার ছোট ভাই না, আমার খুব কাছের এক বন্ধুও ছিল,এবং অনেক পরিচিতও আছে। তাই, আমাকে এখানে উল্টাপাল্টা বুঝ দেওয়ার কিছু নাই। আগেই বলেছি, সী লাইফ অনেক কঠিন মানছি, কিন্তু রাত বিরাতে জুনিয়রকে ডেকে দেওয়ালের সাথে উল্টা করে রেখে দেওয়ার সাথে জাহাজের যে কোন পরিস্থিতির কি সম্পর্ক এইটা মাথায় আসছে না। এর সাথে বডি ফিটনেসের অবশ্যই কোন সম্পর্ক নেই। আরও অনেক কিছু শুনেছি, কিছুর বাস্তব প্রমাণ ও দেখেছি। আপনার নিশ্চয়ই লজ্জাবতির গাছ গুলোর কথা মনে আছে। ওই আর কিছু মনে করুন, আমার মনে আপনার ছেলে কেও মেরিন একাডেমিতে দিতে আপনি তখন ১০ বার ভাববেন।

        জবাব দিন
        • আবারো অনেকদিন পর.... যাই হোক, চাচ্ছি এ তর্কের ইতি টানতে, কোন প্রশিক্ষণের/শাস্তির কি উপকার তা আর আপনাকে নাই ব্যাখ্যা করলাম...শুধু এটাই বলব যে, আপনার ভাষ্যমতে ঐসব অহেতুক কর্মকান্ড ঐ একাডেমীতে পালন করে কয়জন এই মেরিন পেশায় টিকে আছে আর কয়জন মুকুলেই ঝরে গেছে তার তুলনামূলক পরিসংখ্যান টা আমি আন্দাজ করতে পারি, আপনি পারছেন কিনা তা আপনিই ভালো জানেন..ভাল থাকবেন, আর আপনার কাছের মানুষগুলোর ঐ কষ্টগুলির প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল...

          জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।