মাননীয় মাথামণ্ডলী সমীপেষু

বরাবর
মাননীয় মাথামণ্ডলী,
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ,

জনাব,
সবিনয়ে বিনীত নিবেদন এই যে আমি আপনাদের দ্বারা পরিচালিত এই বঙ্গদেশের একজন অতি নগন্য নাগরিক। যদিও আমি নিতান্তই নগন্য, তথাপি আজ আমি আপনাদের কর্মকলাপ সম্পর্কে কিছু কমেন্টস করার দুঃসাহস দেখাচ্ছি।
বিরোধীদল সংসদে ফেরার পর, আমরা আশা করেছিলাম(এবং প্রতিবারেই যে আশা করে থাকি) যে আপনারা,সরকারি এবং বিরোধীদল,পূর্বের বিভেদ কলহ ভুলে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধানে সচেষ্ট হবেন। কিন্তু দেখা গেল, যাহাই ’৯৮ এবং ’০৪,’১০ সেপথেই এগুচ্ছে। সংসদে ফিরেই শুরু দুদলের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি। একজন বলে, আপনার স্বামী ছিল স্বৈরাচারী,তো আরেকজন বলে,আপনার বাবার আমলে তো লোকে না খেয়ে মরসে। একদল বলে আপনাদের সিনিওর মহাসচিব একজন চোর,তো আরেকদল বলে আপনারা তো দূর্নীতি করে সব চোর ডাকাতদের জেল থেকে বের করে দিচ্ছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের একটা প্রশ্নের উত্তর দেন ত মাননীয় সাংসদবর্গ, ক্যারেক্টার এভালুয়েশনের জন্য বা স্মৃতিচারন করার জন্য তো আপনাদের আমরা সংসদে বসাইনি। আগে দেশে কি হয়েছে সেটাই যদি আপনাদের কাছে এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে সংসদে না বসে ঘরে বসে স্মৃতিচারণমূলক কোন বই লিখলেই পারেন।
আমাদের গরিব দেশ। আমাদের আয় খুবই সীমিত। সেই সীমিত আয় দিয়েই দেশের সব কার্যক্রম চলে। কোথায় জানি পড়েছিলাম, সংসদে প্রতি মিনিটের কার্যনির্বাহের জন্য প্রায় লাখ টাকা খরচ হয়। বাংলাদেশের জনগন কি আপনাদের পেছনে মিনিটপ্রতি ১ লাখ টাকা খরচ করছে আপনাদের এইসব আজাইরা পেঁচাল শোনার জন্য? আমার মনে পড়ে, ছোটবেলায় আমাদের বাড়ির পাশে একটা বস্তি ছিল। সেখানে প্রতিদিনই ঝগড়া লেগে থাকত। তখন তারা,বিশেষ করে মহিলাগুলান একে অপরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত। আপনাদের ইদানিংকার কথাবার্তা শুনে আমার ঐ বস্তির মহিলাদের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।

সরকার,বিরোধীদল এবং অন্যান্য দলগুলার প্রতি আমার কিছু বলার আছে।
সরকারঃ
১. দেশের বর্তমান আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবস্থা খুব খারাপ। দ্রুত এর প্রতিকারের ব্যবস্থা করুন।
২. আপনাদের ছাত্র সংগঠন আউট অফ কন্ট্রোল হয়ে যাচ্ছে। এদের খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রনে আনুন। নইলে পরে এর জন্য আপনাদের পস্তাতে হতে পারে।
৩. আপনাদের কারো কারো মধ্যে একটা প্রবনতা দেখা যায় যে সুযোগ পেলেই তারা বিরোধীদলের সিনিওর মহাসচিব এবং অন্যান্য যারা দূর্নীতি বিষয়ে তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সাজা খেটেছেন,তাদের নামে উলটাপালটা কথা বলা। তারা অলরেডি তাদের কৃতকর্মের জন্য সাজা খেটে ফেলেছেন। তাদের নিয়ে উলটাপালটা কমেন্টস করার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? বিরোধীদল যদি কিছু চিহ্নিত লোকেদের নিজেদের দলে রাখে,সেটা তাদের জন্য নেগেটিভ পয়েন্ট। আপনারা কেন সেধে গায়ে কাদা মাখতে যান?
বিরোধীদলঃ
১. বিরোধীদলের দায়িত্ব সরকারের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর সমালোচনা করে তাদের সঠিক রাস্তা দেখানো। আপনারা এখন পর্যন্ত আপনাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ।
২. চিহ্নিত ব্যক্তিবর্গকে দলে রাখাটাই বড় ভুল। আপনারা আপনাদের চিহ্নিত ব্যক্তিদের বড় পোস্টে বসিয়ে রেখেছেন। জনগনের সমর্থন অর্জনের জন্য কিছু ত্যাগ স্বীকার করার বোধহয় সময় এসেছে।
ইসলামী সংগঠনসমূহঃ
১. সময়ের সাথে সভ্যতা এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখনো মধ্যযুগে বাস করি না। সভ্যতার সাথে সাথে আপনাদেরও এগুতে হবে। আরো উদারপন্থী হতে হবে।
২. জিহাদ কোন সলুশন না। যারা ইসলামের নিয়মাবলীর ভুল ইন্টারপ্রিটেশন করেন, তাদের বর্জন করুন। ইসলামের পসিটিভ দিকগুলোর প্রতি বেশি জোর দিন।
৩. ছোট ছোট বাচ্চাদের ব্রেইনওয়াশ করা থেকে বিরত থাকুন। আপনাদের যদি গ্রহনযোগ্যতা থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাদের দলে মানুষ যোগ দিবে। দলের সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর জন্য ছোটবেলা থেকেই শিশুদের প্রস্তুত করার অর্থ ভবিষ্যত সম্ভাবনা ধ্বংস করা।

বাংলাদেশ গনতান্ত্রিক দেশ। গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমেই আমরা সরকার নির্বাচন করি। সুতরাং আপনাদের চেষ্টা করা উচিত জনগনের কাছে গ্রহনযোগ্যতা বাড়ানোর। এত হতাশা, ব্যর্থতার পরও জনগন আপনাদের দিকে তাকিয়ে থাকে, যে আপনারা এ সমস্যা থেকে উত্তরন করবেন,দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তাই,এই গরিব মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকিয়ে, আপনারা এসব কালিমা পেছনে ফেলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেবার পদক্ষেপ নিন।
বিনীত,
বাংলাদেশের একজন ক্ষুদ্র নাগরিক।

( আমার বয়স নিতান্তই কম। ছোট মুখে অনেক বড় কথা বলে ফেলেছি। কোন ভুল করে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।)

১,৪০৬ বার দেখা হয়েছে

১৩ টি মন্তব্য : “মাননীয় মাথামণ্ডলী সমীপেষু”

  1. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)
    বিশেষ করে মহিলাগুলান একে অপরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত। আপনাদের ইদানিংকার কথাবার্তা শুনে আমার ঐ বস্তির মহিলাদের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।

    :boss: :boss: :boss:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।