নির্ধর্মকথা- এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল, মিঠা নদীর পানি (শেষ পর্ব)

আগের পর্ব… … … তারও আগের পর্ব… … …

আর্গুমেণ্ট ফ্রম ব্যাড ডিজাইন

সৃষ্টির সুনিপুন নকশা বা ইন্টেলিজেণ্ট ডিজাইন নিয়ে মানুষের কী মাতামাতি! এই মাজেজা তারা স্কুল, কলেজের পাঠ্যপুস্তকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। আরে ভাই, নিজের শরীরের দিকেই একটু তাকিয়ে দেখুন না। এটা কী ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের কোনো নমুনা? একজন ইন্টেলিজেণ্ট ডিজাইনার কি তাঁর ডিজাইনে কখনও বিনোদন স্থানের পাশে পয়নিষ্কাশণ পাম্প রাখবেন? 1

কথাটা বলেছিলেন কৌতুকভিনেতা রবিন উইলিয়াম তাঁর অভিনিত চলচ্চিত্র “ম্যান অব দ্য ইয়ার” এ। চলচ্চিত্রে রবিন একজন নগণ্য টেলিভিশন টক-শো অনুষ্ঠানের উপস্থাপক থেকে নানা ঘটনা, দূর্ঘটনার মাধ্যমে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হয়ে যান। প্রথা অনুযায়ী প্রাক-নির্বাচন বিতর্কে তাঁকে যখন ইণ্টেলিজেন্ট ডিজাইন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় তখন এই ছিলো তাঁর উত্তর। কৌতুক করে বললেও কথাটা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও মানুষের শরীরের সব অংগ-প্রত্যংগ আপাতদৃষ্টিতে ভালোভাবেই কাজ করছে এবং আমাদেরও বিনোদনের জায়গায় কাছাকাছি অন্যকিছুর সহাবস্থানের ব্যপারে তেমন কোনো অভিযোগ নেই, তবুও আমাদের আজন্ম লালন করা “সুনিপুন নকশা” প্রবাদটি মানসিক ভ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়। ঠিক মতো বিচার করলে প্রতিটি প্রজাতির নকশায় কিছু না কিছু ত্রুটি আছে। কিউইর (Kiwi) অব্যবহৃত ডানা, তিমির ভেস্টিজিয়াল পেলভিস, আমাদের এপেণ্ডিক্স যা শুধু আকামের না বরঞ্চ পাপিষ্ট কারণ কারও ক্ষেত্রে এটি মৃত্যুর কারণও হয়ে দাঁড়ায় 2।

এই লেখার শুরুতে আমরা দেখেছি ইন্টেলিজেণ্ট ডিজাইনের প্রবক্তা প্যালে, বিহেরা মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংগের সাথে তুলনা করেছিলেন ডিজাইন করা একটি ঘড়ি বা ইঁদুর মারা কলের সাথে। বিহের ইঁদুর মারার কলে প্রতিটি যন্ত্রাংশ- কাঠের পাটাতন, ধাতব হাতুড়ি, স্প্রিং, ফাঁদ, ধাতব দণ্ড খুব সতর্কভাবে এমনভাবে জোড়া দেওয়া হয়েছে যেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এটি ইঁদুর মারার কাজটি করতে পারে। এখন প্রতিটা যন্ত্রাংশ আরও ভালোভাবে তৈরী করতে গেলে ইঁদুর মারার যন্ত্র বলুন আর ঘড়ির কথা বলুন মূল ডিজাইনে নতুন করে কিছু করার থাকেনা। এবং আরও মনে রাখা দরকার ঘড়ি, ইঁদুর মারার কল সহ মানুষের তৈরী প্রতিটি যন্ত্রে কখনও অপ্রোয়জনীয় যন্ত্রাংশের উপস্থিতি দেখা যায়না। আমাদের গবেষণাগারে চা বানানোর জন্য পানি গরম করার হিটার আছে। কিন্তু এই হিটারে পানি দিয়ে আমি, আমার তত্ত্বাবধায়ক স্যার সবসময়ই সেটা বন্ধ করার করার কথা ভুলে যাই। পরে ঠিক করা হলো, আমরা একটা টাইমার সার্কিট তৈরী করে হিটারের সাথে সংযুক্ত করে দিবো- সেটিতে তিনটি সুবিধা থাকবে। পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট, পনের মিনিট এই তিন সময়ে এটি বন্ধ করা যাবে। ফলে পানি দিয়ে আমাদের আর চিন্তা করতে হবেনা। যদি পাঁচ মিনিট দরকার হয় তাহলে আমরা একটা সুইচ টিপে দিয়ে বসে থাকবো, আর যদি অনেক পানি থাকে এবং সেটি গরম করার জন্য পাঁচ, দশ মিনিট পর্যাপ্ত নয় তাহলে আমরা পনের মিনিটের সুইচটি টিপ দিয়ে অন্যকাজে মন দিতে পারবো- কাজ শেষ হলে এটি নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে আমাদের জানান দিবে। স্যার আমাকে দায়িত্ব দিলেন সার্কিট তৈরি করে সেটির কার্যক্রম পরীক্ষা করে দেখতে। আমি মোটামুটি একটা উপায়ের কথা চিন্তা করে একটা সার্কিট তৈরী করলাম। ব্রেড বোর্ডে সেটি লাগানো হলো। তারপর দেখা গেলো, ঠিক পাঁচ, দশ, পনেরও মিনিটের টাইমিং সার্কিট না হলেও মোটামুটি কাজ চালানোর মতো হয়েছে। স্যারকে সেটা দেখানো মাত্র উনি একটি মুচকি হাসি দিলেন। কারণ আমার সার্কিটটা কাজ করলেও পুরা সিস্টেমটি বিশাল আকার ধারণ করেছে, অসংখ্য ক্যাপাসিটর, রেজিস্টেন্স। এই আইডিয়ায় টাইমার সার্কিট তৈরী করলে সেটা মোটামুটি মশা মারতে কামান দাগার মতো খরুচে ব্যাপার হয়ে যাবে। তারপর উনি কাগজ কলম দিয়ে একটা চমৎকার ডিজাইন এঁকে দিলেন। যেই সিস্টেমে মাথা খাটানো হয়েছে বেশি, তাই খরচ কমে গিয়েছে, মূল যন্ত্রটি সরল এবং আমারটার চেয়েও দক্ষ হয়েছে। স্যারও একজন ইঞ্জিনিয়ার, আমিও তাই। আমার সাথে তাঁর পার্থক্য হচ্ছে তিনি দক্ষ আর আমি শিক্ষানবিস। তিনি এমনভাবে একটি সিস্টেমের ডিজাইন করতে সক্ষম যেটার খরচ কম হবে, হাবিজাবি অপ্রয়োজনীয় জিনিসে ভরপুর থাকবেনা, সর্বোপরী সবচেয়ে ভালো কাজ করবে। এতদিন আমরা ঈশ্বরকে স্যারের মতোই চৌকস ডিজাইনার বলে মনে করতাম। কিন্তু এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা হলো তিনি তা নন। প্রকৃতিতে তার হাতে যেসব জিনিসপত্র ছিলো তা দিয়ে তিনি চাইলে আরও সুনিপুন নকশা করতে পারতেন। অপরদিকে বিবর্তন জ্ঞানে আমরা জানি, প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রানীদেহের এক অংগ বিবর্তনের পথ ধরে অন্য অংগে পরিবর্তিত হয়েছে। এভাবে পরিবর্তিত হলে স্বাভাবিক ভাবেই কিছু সমঝোতা করা আবশ্যক। প্রকৃতি জুড়ে আমরা তাই সুনিপুন ডিজাইনের পরিবর্তনে অসংখ্য সমঝোতা দেখতে পাই। যেহেতু আমার অজ্ঞতার সুযোগে এতোদিন স্রষ্ঠার অস্তিত্ত্বের প্রমানের হাতিয়ার হিসেবে আর্গুমেণ্ট ফ্রম ডিজাইন এতোদিন ব্যবহৃত হয়ে আসছিলো, তাই সেটির অনুকরণে বিবর্তন হবার প্রমান হিসেবে আমাদের আর্গুমেণ্ট ফ্রম ব্যাড ডিজাইন।

প্রজাতির ডিজাইনের ত্রুটি নিয়ে আলচনায় সবার আগেই আসবে স্তন্যপায়ী প্রানীদের বাকযন্ত্রের স্নায়ুর (recurrent Laryngeal nerve) কথা। মস্তিষ্ক থেকে বাকযন্ত্র পর্যন্ত আবর্তিত এই স্নায়ুটি আমাদের কথা বলতে এবং খাবার হজম করতে সাহায্য করে। মানুষের ক্ষেত্রে এই স্নায়ুর মস্তিষ্ক থেকে বাকযন্ত্র পর্যন্ত আসতে একফুটের মতো দুরত্ব অতিক্রম করা প্রয়োজন। কিন্তু কৌতুহল উদ্দীপক ব্যপার হলো, এটি সরাসরি মস্তিষ্ক থেকে বাকযন্ত্রে যাওয়ার রাস্তা গ্রহণ করেনি। মস্তিষ্ক থেকে বের হয়ে এটি প্রথমে চলে যায় বুক পর্যন্ত। সেখানে হৃদপৃণ্ডের বাম অলিন্দের প্রধান ধমনী এবং ধমনী থেকে বের হওয়া লিগামেণ্টকে পেঁচিয়ে আবার উপরে উঠতে থাকে। উপরে উঠে তারপর সে যাত্রাপথে ফেলে আসা বাকযন্ত্রের সাথে সংযুক্ত হয়। হাত মাথার পেছন দিয়ে ঘুরিয়ে ভাত খাওয়ার ব্যাপারের মতো এই যাত্রাপথে স্নায়ুটি তিনফুটের চেয়েও বেশি দুরত্ব অতিক্রম করে। আরেক স্তন্যপায়ী জিরাফের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। মস্তিষ্ক থেকে বের হয়ে সে লম্বা গলা পেরিয়ে বুকের মধ্যে ঘোরাঘুরি শেষে আবার লম্বা গলা পেরিয়ে উপরে উঠে বাকযন্ত্রে সংযুক্ত হয়। সরাসরি সংযুক্ত হলে যে দুরত্ব তাকে অতিক্রম করতে হতো, তার থেকে প্রায় পনের ফুট বেশি দুরত্ব সে অতিক্রম করে।

বাকযন্ত্রের স্নায়ুর এই আবর্তিত পথ শুধু মাত্র খুব বাজে ডিজাইনই নয় এটি ভয়ংকরও। স্নায়ুটির এই অতিরিক্ত দৈর্ঘ্যের কারণে এর আঘাত পাবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ধরা যাক, কেউ আপনাকে বুকে আঘাত করলো। এই ব্যাটার বুকে থাকার কথা ছিলোনা, কিন্তু আছে এবং যার ফলে ঠিকমতো আঘাত পেলে আমাদের গলার স্বর বন্ধ হয়ে আসে। যদি কেউ বুকে ছুরিকাহত হয় তাহলে কথাবলার ক্ষমতা নষ্টের পাশাপাশি খাবার হজম করার ক্ষমতাও ধ্বংস হয়ে যায়। বুঝা যায় কোনো মহাপরিকল্পক এই স্নায়ুটির ডিজাইন করেননি, করলে তিনি এই কাজ করতেন না। তবে স্নায়ুর এই অতিরিক্ত ভ্রমণ বিবর্তনের কারণে আমরা যা আশা করি ঠিক তাই।

bad design

মানুষ তথা স্তন্যপায়ীদের বাকযন্ত্রের এই চক্রাকার পথ আমরা যে মাছের মতো প্রানী হতে বিবর্তীত হয়েছি তার এক চমৎকার প্রমান। মাছের শরীরের নাড়ি-ভুড়ি ঢেকে রাখার কাঠামোর ষষ্ঠ শাখাটি (6th branchial arch) ফুলকায় রুপান্তরিত হয়েছিল। ফুলকায় রক্ত সরবাহ করতো হৃদপিণ্ডের বাম দিকের প্রধান ধমনীর দ্বিতীয় ভাগ যা Aortic Arch নামে পরিচিত। এই ধমনীর পেছনে ছিলো ভেগাস স্নায়ুর (Vagus Nerve) এর চতুর্থ শাখা। প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেকটা মাছের ফুলকা সামগ্রিক ভাবে এগুলো নিয়েই ছিল। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে মাছের নাড়ি ভুড়ি ঢেকে রাখার ষষ্ঠ শাখার একটি অংশ বিবর্তিত হয়ে বাকযন্ত্রে রুপান্তরিত হয়েছিল। সেই সময় যেহেতু ফুলকাই বিলুপ্ত, সুতরাং ফুলকাকে রক্ত সরবরাহকারী, হৃদপিন্ডের বামদিকের প্রধান ধমনীর প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে গিয়েছিল। কাজ না থাকায় এটি মূল গঠন থেকে একটু নীচে নেমে বুকের কাছে চলে এসেছিলো। আর যেহেতু এই ধমনীর পেছনে ছিলো স্নায়ুটি, তাই একেও বাধ্য হয়ে নেমে যেতে হয়েছিলো বুকের দিকে। তারপর বুকে থাকা বাম অলিন্দের প্রধান ধমনী এবং ধমনী থেকে বের হওয়া লিগামেণ্টকে পেঁচানো শেষ করে সে আবার উপরে উঠে এসে বিবর্তিত বাকযন্ত্রের সাথে সংযুক্ত হয়েছিলো। বাকযন্ত্রের স্নায়ুর অতিরিক্ত ভ্রমনের কারণ এটাই। বোঝা গেলো, বাকযন্ত্রের স্নায়ুর এই চক্রাকার ভ্রমন কোনো মহাপরাক্রমশালীর সৃষ্টিকর্তার ইংগিতের পরিবর্তে আমাদের বলছে আমাদের পূর্বপুরুষদের কথা।

এই লেখার শুরুতেই প্যালের করা মানব দেহের সাথে ঘড়ির তুলনা সম্পর্কে আমরা জেনেছি। যুক্তিগত ফ্যালাসিতে এই তুলনার মাধ্যমে অনেক মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হলেও সত্যিকার অর্থে মানব দেহের সাথে ঘড়ির কোনও ধরনের তুলনাই হয়না। সায়েন্টিফিক আমেরিকায় প্রকাশিত “If Humans Were Built to Last” প্রবন্ধে লেখক এস. যে. ওলসানস্কি, ব্রুস কারনস এবং রবার্ট এন. বাটলার বিস্তারিত আলোচনা মাধ্যমে মানব দেহের ডিজাইন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন 3। এই বিস্তারিত আলোচনায় আমাদের ডিজাইনের নানা ত্রুটি তুলে ধরার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, যদি একজন দেহ প্রকৌশলী সত্যিকার অর্থেই আমাদের দেহের ডিজাইনার হয়ে থাকেন, তাহলে সামান্য একটু মাথা খাটানোর মাধ্যমে তিনি ডিজাইনটিকে কীভাবে সুনিপুন করতে পারতেন। আর এই সুনিপুনতা করা হলে লাভ হতো আমাদের, অত্যন্ত সু- স্বাস্থ্য বজায় রেখে আমরা শতবছর আরাম করে বেঁচে থাকতে পারতাম।

বস্তুত প্রাকৃতিক নির্বাচন নিপুনতা এবং সুস্বাস্থ্যের সাথে দীর্ঘদিন টিকে থাকাকে থোরাই কেয়ার করে। একটা প্রজাতি বংশধর রেখে যাবার মতো সময় টিকে থাকলেই হলো। হারিয়ে যাওয়ারা হারিয়ে গেছে কারণ তারা বংশধর রেখে যেতে পারেনি, টিকে থাকারা টিকে আছে কারণ তারা বংশধর রেখে যেতে সমর্থ হয়েছিলো প্রকৃতির সাথে খাপ খাওয়ানোর মাধ্যমে। দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার সাথে এর কোনও সম্পর্ক নেই। এবার দেখা যাক, সায়েন্টিফিক আমেরিকানের লেখকরা মানব যন্ত্রের ডিজাইনের কী কী ক্রুটির কথা আলোচনা করেছেন। আমাদের হাড়গুলো বয়স ত্রিশ হবার পর মিনারেল হারাতে থাকে যার ফলে খুব অল্পতেই হাড় ভেঙ্গে যাবার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আমাদের বুকের খাঁচা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়না এবং সকল অভ্যন্তরিন অংগ-প্রত্যংগকে রক্ষা করেনা। আমাদের পেশী ক্রমশ ক্ষয় হয়। আমাদের পায়ের শিরা সময়ের সাথে বড় হয়। হাড় গোড়ের সংযোগস্থল লুব্রিকেণ্টের অভাবে সংকুচিত হতে থাকে। পুরুষের প্রস্টেট বড় হয়, সংকুচিত হয় এবং মূত্র বের হওয়ায় প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে। ওলসানস্কি, কারনেস এবং বাটলার দেখিয়েছেন একজন সুনিপুন ডিজাইন করা মানুষ দেখতে হওয়া উচিত ছিল এমন- বড় বড় কান, বাঁকানো ঘাড়, স্বল্প দৈর্ঘ্যের অংগ-প্রত্যংগ, প্রতিটি সংযোগ স্থলে অতিরিক্ত প্যাডিং, অতিরিক্ত পেশি এবং চর্বি, পুরু মেরুদন্ড, বিপরীতমুখী হাঁটুর সংযোগ ইত্যাদি, ইত্যাদি।

আদম- হাওয়া ও নূহের মহাপ্লাবন

আমার খুব প্রিয় একটা বাক্য আছে। ইয়ুটিউবে এক ব্লগার নিজের পাতায় লিখে রেখেছিলেন কথাটি। “সত্য কখনই কাউকে আঘাত করে না যদিনা সেখানে আগে থেকেই একটা মিথ্যা অবস্থান করে।” বিবর্তনের জন্য কথাটি গুরুত্বপূর্ণ। ১৮৫৯ সালে ডারউইন এবং ওয়ালেস যখন বিবর্তন তত্ত্বটি প্রকাশ করেন তখন চার্চের বিশপের স্ত্রী আর্তনাদ করে বলেছিলেন, 4

“বন মানুষ থেকে আমাদের বিবর্তন ঘটেছে। আশাকরি সেটা যেন কখনই সত্য না হয়। আর যদি তা একান্তই সত্য হয়ে থাকে তবে চলো আমরা সবাই মিলে প্রার্থনা করি সাধারণ মানুষ যেন কখনই এই কথা জানতে না পারে। ”

যে প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই সেই প্রশ্নগুলোর মনগড়া উত্তর দেওয়া এবং তা মানুষকে বিশ্বাস করানোই ধর্মের কাজ। বিবর্তনের ফলে প্রজাতির ক্রমবিকাশ হয়েছে এই কথা মানুষ জানতে পেরেছে দুই শতকও হয়নি। উত্তরটা যদিও একেবারে নতুন কিন্তু প্রশ্নটা নয়। তাই দীর্ঘসময় ধরে মানুষ নানা উত্তর কল্পনা করে নিয়েছে। আর ধর্ম এসে সেই উত্তরগুলোকে খোদার উত্তর বা খোদা থেকে প্রাপ্ত উত্তর বলে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধর্মগুলো, ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং মুসলমানদের বিশ্বাস করা সৃষ্টিবাদ সেইরকমই একটি জিনিস। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের লাইন উদ্ধৃত করে লেখাটা দীর্ঘ করবো না, কারণ মূল কাহিনী আমাদের কমবেশি সবারই জানা। বর্ণনাভেদে ধর্মগ্রন্থগুলোতে পার্থক্য থাকলেও মূল কাহিনী মোটামুটি একইরকম এবং এই দুই ক্ষেত্রেই সৃষ্টিবাদ দুটি অংশে বিভক্ত।

১। আল্লাহ প্রথম মানুষ হিসেবে আদমকে সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর পাজরের হাঁড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছিলো বিবি হাওয়াকে। অতঃপর শয়তানের প্ররোচনায় ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করায় তাঁদের বেহেশত থেকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হয়। তারপর তাঁদের থেকেই সৃষ্টি হয় মানব সভ্যতা। (জেনেসিস ১), কুরআন- আল- আরাফ ৭:১৮৯, আল- ইমরান ৩:৫৯, আল- আরাফ ৭:১১-২৭।

২। মানব সভ্যতার এক পর্যায়ে হযরত নূহ- নবীর নবীর পৃথিবীর সকল মানুষ পাপে নিমজ্জিত হয়, ভুলে যায় ইশ্বরকে। ঈশ্বর ক্রোধান্বিত হয়ে নূহকে একটি নৌকা বানানোর হুমুক দেন। সেই নৌকায় নির্বাচিত কয়েকজন মানুষ এবং পৃথিবীর সকল ধরণের প্রজাতির এক জোড়া তুলে নেওয়া হয়। বাকীদের মহাপ্লাবনের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। পাপের দায়ে ধ্বংস করা হয় মহাপ্লাবনের আগের রাতে জন্মগ্রহণ করা শিশুকেও। (জেনেসিস ৭-৮)

এই ঈশ্বর ইব্রাহিমের ঈশ্বর বা গড অফ আব্রাহাম। পৃথিবীর প্রধান তিনটি ধর্ম এই ঈশ্বরের পুজারি। বিবর্তন বিজ্ঞানী এবং এর লেখকরা বিবর্তন এবং নানা ধরণের সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম ব্যাপার নিয়ে অসংখ্য বই, নিবন্ধ লিখলেও এই সৃষ্টিবাদকে অযৌক্তিক ব্যাখ্যা করতে খুব একটা সময় দেননি। কিন্তু সময় দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাঁদের কাছে একটি একটি পৌরানিক কাহিনী হলেও পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ আক্ষরিক ভবে এই গল্পে বিশ্বাস করে। আর এই গল্পে অগাধ বিশ্বাস তাদের মনের কপাট বন্ধ করে রাখে ফলে বিবর্তনের হাজারো প্রমান তাদের মাথায় ঢুকেনা।

ধর্মগ্রন্থে আমরা আদম হাওয়ার কথা পড়েছি, পড়েছি তাঁদের দুই সন্তান হাবিল, কাবিলের কথা। তবে আমাদের পড়াশোনা ঠিক এখানেই শেষ, আমরা ধরে নিয়েছি দুটো মানুষ, তাঁদের সন্তানরা মিলে সারা পৃথিবী মানুষে মানুষে ছেয়ে ফেলেছে। তবে এখানেই থেমে না যেয়ে আরেকটু সামনে আগালে, আরেকটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই একটা গভীর প্রশ্নের সন্মুখীন আমাদের হতে হয়। সন্তান উৎপাদনটা ঠিক কীভাবে হলো?

20091210_22

গুগল ডিকশেনারী ইনসেস্ট বা অজাচার এর অর্থ বলছে এটি ভাই-বোন, পিতা- কন্যা, মাতা- ছেলের মধ্যে যৌন সংগমের দরুন একটি অপরাধ। ধর্ম নিজেকে নৈতিকতার প্রশাসন হিসেবে পরিচয় দেয়, অথচ তারা আমাদের যে গল্প শোনায় তা মারাত্মক রকমের অনৈতিক। আদম হাওয়ার গল্প সত্যি হয়ে থাকলে পৃথিবীতে আমরা এসেছে মারাত্মক এক পাপের মধ্য দিয়ে।

পাপ- পূন্যের কথা থাক। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে ব্যাপারটি বিবেচনা করা যাক। ইনসেস্ট বা অজাচারকে বৈজ্ঞানিক ভাবে অভিহিত করা হয়ে থাকে ইন-ব্রিডিং হিসেবে। নারী ও পুরুষের আত্মীয় হওয়া মানে তাদের মধ্যে জিনেটিক গঠনে পার্থক্য কম। এখন তারা যদি একে অন্যের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে সন্তান উৎপাদন করে তাহলে সেই সন্তানের মধ্যে ব্যাড মিউটেশনের সম্ভাবনা প্রবল। এর ফলে সন্তানটি বেশিরভাগ সময়ই হবে বিকলাংগ। আর এই কারণেই প্রকৃতিতে আমরা ইন-ব্রিডিং দেখতে পাইনা। কারণ ইন- ব্রিডিং হলে প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা কমে যায়, তারা খুব দ্রুত প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাবে। কিন্তু যদি ভিন্ন পরিবার থেকে এসে দুইজন সন্তান উৎপাদন করে তাহলে সন্তানের মধ্যে যথেষ্ট পরিমান জিনেটিক ভ্যারিয়েশন হবে। আর যথেষ্ট পরিমান জিনেটিক ভ্যারিয়েশন প্রজাতির টিকে থাকার জন্য অবশ্য দরকার। প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে পৃথিবীর চিতাবাঘের সংখ্যা নেমে এসেছিল ত্রিশ হাজারে। ত্রিশ হাজারকে একটা বড় সংখ্যা হলেও জনপুঞ্জের জনসংখ্যা হিসেব করলে সেটা খুব একটা বড় নয়। আর এই কারণেই চিতাবাঘকে ইনব্রিডিং এর আশ্রয় নিতে হয়েছিল। যার পরিমান আজকে আমরা দেখতে পাই, প্রকৃতিতে চিতাবাঘ বিলুপ্ত প্রায়। সুতরাং দুইটি মানুষ থেকে সমগ্র মানব জাতির সৃষ্টি হয়েছিল এটার মতো হাস্যকর কথা নেই। পৃথিবীতে কখনই আদম, হাওয়া নামে দুইটি মানুষ ছিলোনা।

এবার আশা যাক নূহের মহাপ্লাবন নিয়ে। সিলেট থেকে প্রকাশিত যুক্তি পত্রিকার সম্পাদক এবং ২০০৬ সালে মুক্তমনা ড়্যাশনালিস্ট এওয়ার্ড পাওয়া অনন্ত বিজয় দাশ “মহাপ্লাবনের বাস্তবতা” নামে একটি সুলিখিত প্রবন্ধে বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থে বর্নিত নূহের মহাপ্লাবন সম্পর্কিত আয়াত লিপিবদ্ধ করেছেন 5। আলোচনার সুবিধার্থে সেখান থেকে কয়েকটি তুলে ধরা হলো।

ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল-এর ওল্ড টেস্টামেন্টের (পুরাতন নিয়ম) অন্তর্গত তৌরাত শরিফে হযরত নুহ্ (আঃ) সম্পর্কে বলা হয়েছে-

এই অবস্থা দেখে ঈশ্বর নোয়া কে বললেন, “গোটা মানুষজাতটাকেই আমি ধ্বংস করে ফেলব বলে ঠিক করেছি। মানুষের জন্যই দুনিয়া জোরজুলুমে ভরে উঠেছে। মানুষের সঙ্গে দুনিয়ার সবকিছুই আমি ধ্বংস করতে যাচ্ছি। তুমি গোফর কাঠ দিয়ে তোমার নিজরে জন্য একটা জাহাজ তৈরি কর। তার মধ্যে কতগুলো কামরা থাকবে; আর সেই জাহাজের বাইরে এবং ভিতরে আল্কাত্রা দিয়ে লেপে দিবে। জাহাজটা তুমি এইভাবে তৈরি করবে; সেটা লম্বায় হবে তিনশো হাত, চওড়ায় পশ্চাশ হাত, আর উচ্চতা হতে ত্রিশ হাত। জাহাজটার ছাদ থেকে নীচে এক হাত পর্যন্ত চারদিকে একটা খোলা জায়গা রাখবে আর দরজাটা হবে জাহাজের একপাশে। জাহাজটাতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থাকবে। আর দেখ, আমি দুনিয়াতে এমন একটা বন্যার সৃষ্টি করব যাতে আসমানের নীচে যে সব প্রাণী শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে বেঁচে আছে তারা সব ধ্বংস হয়ে যায়। দুনিয়ার সমস্ত প্রাণীই তাতে মারা যাবে (পয়দায়েশ, ৬:১৩-১৭)।

“কিন্তু আমি তোমার জন্য আমার ব্যবস্থা স্থাপন করব। তুমি গিয়ে জাহাজে উঠবে আর তোমার সঙ্গে থাকবে তোমার ছেলেরা, তোমার স্ত্রী ও তোমার ছেলেদের স্ত্রীরা। তোমার সঙ্গে বাঁচিয়ে রাখবার জন্য তুমি প্রত্যেক জাতের প্রাণী থেকে স্ত্রী-পুরুষ মিলিয়ে এক এক জোড়া করে জাহাজে তুলে নেবে। প্রত্যেক জাতের পাখী, জীবজন্তু ও বুকে-হাঁটা প্রাণী এক এক জোড়া করে তোমার কাছে আসবে যাতে তুমি তাদের বাঁচিয়ে রাখতে পার; আর তুমি সব রকমের খাবার জিনিস জোগাড় মজুদ করে রাখবে। সেগুলোই হবে তোমার ও তাদের খাবার।” নুহ্ তা-ই করলেন। আল্লাহ্র হুকুম মত তিনি সবকিছুই করলেন (পয়দায়েশ, ৬:১৮-২২)।

কোরান শরিফে হযরত নুহ্ এবং মহাপ্লাবন সম্পর্কে বর্ণিত তথ্য

অতপর আমি তার কাছে ওহি পাঠালাম যে, তুমি আমার তত্ত্বাবধানে আমারই ওহি অনুযায়ী একটি নৌকা প্রস্তুত করো। তারপর যখন আমার (আজাবের) আদেশ আসবে এবং (জামিনের) চুল্লি প্লাবিত হয়ে যাবে, তখন (সব কিছু থেকে) এক এক জোড়া করে নৌকায় উঠিয়ে নাও, তোমার পরিবার পরিজনদেরও (উঠিয়ে নেবে, তবে) তাদের মধ্যে যার ব্যাপারে আল্লাহতায়ালার সিদ্ধান্ত এসে গেছে সে ছাড়া (দেখো), যারা জুলুম করেছে তাদের ব্যাপারে আমার কাছে কোনো আরজি পেশ করো না, কেননা (মহাপ্লাবনে আজ) তারা নিমজ্জিত হবেই (সুরা আল মোমেনুন, ২৩:২৭)।

তুমি আমারই তত্ত্বাবধানে আমারই ওহির আদেশে একটি নৌকা বানাও এবং যারা জুলুম করেছে, তাদের ব্যাপারে তুমি আমার কাছে (কোনো আবেদন নিয়ে) হাজির হয়ো না, নিশ্চয়ই তারা নিমজ্জিত হবে (সুরা হুদ, ১১:৩৭)।

(পরিকল্পনা মোতাবেক) সে নৌকা বানাতে শুরু করলো। যখনই তার জাতির নেতৃস্থানীয় লোকেরা তার পাশ দিয়ে আসা-যাওয়া করতো, তখন (নূহকে নৌকা বানাতে দেখে) তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করে দিতো; সে বললো (আজ) তোমরা যদি আমাদের উপহাস করো (তাহলে মনে রেখো), যেভাবে (আজ) তোমরা আমাদের ওপর হাসছো (একদিন) আমরাও তোমাদের ওপর হাসবো (সুরা হুদ, ১১:৩৮)।

অবশেষে (তাদের কাছে আজাব সম্পর্কিত) আমার আদেশ এসে পৌঁছল এবং চুলো (থেকে একদিন পানি) উথলে উঠলো, আমি (নুহকে) বললাম, (সম্ভাব্য) প্রত্যেক জীবের (পুরুষ-স্ত্রীর) এক একজোড়া এতে উঠিয়ে নাও, (সাথে) তোমার পরিবার-পরিজনদেরও (ওঠাও) তাদের বাদ দিয়ে, যাদের ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত (ঘোষিত) হয়েছে এবং (তাদেরও নৌকায় উঠিয়ে নাও) যারা ঈমান এনেছে; (মূলত) তার সাথে (আল্লাহর ওপর) খুব কম সংখ্যক মানুষই ঈমান এনেছিলো (সুরা হুদ, ১১:৪০)।

নূহের মহাপ্লাবন সম্পর্কিত পৌরানিক গল্পের সূচনা এই ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে নয়। এই গল্পের শেকড় খুঁজতে যেয়ে আমরা সবচেয়ে পুরাতন যে ভাষ্য বা বর্ননা পাই সেটা ২৮০০ খ্রিস্টপূর্ব সময়কার। সুমিরিয়ান পুরানে এমন এক বন্যার বর্ননা পাওয়া যায় যার নায়ক ছিল রাজা জিউশুদ্র, যিনি একটি নৌকা তৈরীর মাধ্যমে একটি ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে অনেককে রক্ষা করেছিলেন। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ থেকে ১৮০০ এর মধ্য বিখ্যাত বেবেলনিয়ান পৌরানিক চরিত্র গিলগামেশ তার এক পূর্বপুরুষের য়ুতনাপিসটিমের কাছ থেকে একই রকম এক বন্যার কথা শুনতে পান। সেই গল্পানুসারে পৃথিবীর দেবতা আ (Ea) রাগান্বিত হয়ে পৃথিবীর সকল জীবন ধ্বংস করে ফেলার অভিপ্রায়ের কথা য়ুতনাপিসটিমকে জানান। তিনি য়ুতনাপিসটিমকে ১৮০ ফুট লম্বা, সাততলা বিশিষ্ট এবং প্রতিটি তলায় নয়টি কক্ষ থাকবে এমন একটি নৌকা তৈরী করে তাতে পৃথিবীর সকল প্রজাতির এক জোড়া করে তুলে নেবার আদেশ দেন। 6

গিলগামেশের এই মহাপ্লাবন মিথটিই লোকেমুখে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে। আব্রাহামিক গডের আবিষ্কারক এবং পুজারি হিব্রুরা প্যালেস্টাইনে আসার অনেক থেকেই সেখানকার মানুষদের কাছে এই গল্প প্রচলিত ছিলো। আর সেই গল্পের প্রভাবই আমরা দেখতে পাই, পরবর্তীতে হিব্রুদের গড অফ আব্রাহামের বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ তৌরাত, বাইবেলে। আর এই তৌরাত, বাইবেলের গল্প থেকেই অনুপ্রানিত হয়েছে আরবের ইসলাম ধর্মের কুরআনের নূহের মহাপ্লাবন কাহিনী।

একটা সংস্কৃতিকে এর ভৌগোলিক অবস্থান বেশ প্রভাবিত করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি সংস্কৃতি যাদের ভৌগলিক অবস্থান নদ-নদী বিধৌত, যেগুলো প্রায়শই বন্যার ঘটিয়ে জনপদ গিলে ফেলে সেইসব সংস্কৃতিতে নদ-নদী সম্পর্কিত কিংবা বন্যা সম্পর্কিত বিভিন্ন গল্প চালু থাকে। সুমেরিয়া এবং ব্যবিলনিয়া জনপদ টাইগ্রিস এবং ইউফ্রাটিস নদী দিয়ে আবৃত ছিল। এইসব অঞ্চলে প্রায়শই বন্যা হতো। এখন এর মানে কী এই তৌরাত, বাইবেল, কুরআনের সকল গল্প মিথ্যা? অবশ্য এই প্রশ্ন করা মানেই পৌরানিক কাহিনীর সত্যিকারে বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করা। জোসেফ ক্যাম্পবেল (১৯৪৯, ১৮৮৮) তাঁর সারাজীবন অতিবাহিত করেছেন এই বৈশিষ্ট্য সঠিকভাবে মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করতে 7। তাঁর মতে, মহাপ্লাবন সম্পর্কিত পৌরানিক কাহিনীগুলোকে আমরা যেভাবে দেখি তার থেকে এর অনেক গভীর মর্মার্থ রয়েছে। পৌরানিক কাহিনী কোন ঐতিহাসিক সত্যকাহিনী নয়, এটি হলো মানব সভ্যতার প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সংগ্রাম। প্রতিটা মানুষের মনেই তাঁর জন্মের উদ্দেশ্য, সে কীভাবে এলো, কেমন করে এলো এইসব প্রশ্ন ঘুরে ফিরে। আর এই প্রশ্ন থেকে মুক্তি পেতে সে বিভিন্ন উত্তর দাঁড়া করায়। আর তা থেকেই জন্ম নেয় পৌরানিক কাহিনীর। পৌরানিক কাহিনীর সাথে বিজ্ঞানের বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু ধর্ম এসে এই শ্বাশত কাহিনীগুলোকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে যেয়ে একে বিজ্ঞান বলে প্রচার করেছে। এটা বিজ্ঞান এবং পৌরানিক কাহিনী দু’টির জন্যই অপমানজনক। সৃষ্টিবাদীরা পৌরানিক কাহিনীর চমৎকার সব গল্পকে গ্রহণ করেছে, তারপর সেটাকে ধ্বংস করেছে।

পৌরানিক কাহিনীকে বিজ্ঞানে রূপান্তর করার আহাম্মকীর উদাহরণ দিতে গেলে নূহের মহাপ্লাবনই যথেষ্ট। ৪৫০ (৭৫* ৪৫) বর্গফুটের একটি নৌকায় কয়েক কোটি প্রজাতিকে জায়গা দিতে হবে। তাদের খাবারের ব্যবস্থা কী হবে? পয়নিষ্কাশন, পানি? ডায়নোসোররা কোথায় থাকবে, কিংবা সামুদ্রিক প্রানীরা। এক প্রাণীর হাত থেকে অন্যপ্রানীকে রক্ষার উপায় কী? আর সমুদ্রে থাকা প্রানীরা বন্যায় মারা যাবে কীভাবে? এই সকল প্রশ্নের উত্তর বিশ্বাসীদের কাছে একটাই। ঈশ্বর চাইলে সব হবে। তবে সেক্ষেত্রে ঈশ্বরের নূহকে দিয়ে নৌকা বানিয়ে খেলাটা খেলার দরকার কী ছিলো? তিনি চাইলেই তো এক হুকুমেই পৃথিবীর তাবত পাপীকে মেরে ফেলতে পারতেন। তাতে করে অন্তত আগের দিন জন্ম নেওয়া নিষ্পাপ শিশুগুলো বেঁচে যেতো।

ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত ইন্সটিউট অফ ক্রিয়েশন রিসার্চ মিউজিয়ামে নূহের নৌকার ছবি। মানুষকে জোর করে গালগল্প বিশ্বাস করানোর জন্য আলাদা আলাদা কম্পার্টমেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক উত্তরদানের চেষ্টা (!!) করা হয়েছে। ছবি সূত্রঃ বার্নাড লে কাইন্ড যে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত ইন্সটিউট অফ ক্রিয়েশন রিসার্চ মিউজিয়ামে নূহের নৌকার ছবি। মানুষকে জোর করে গালগল্প বিশ্বাস করানোর জন্য আলাদা আলাদা কম্পার্টমেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক উত্তরদানের চেষ্টা (!!) করা হয়েছে। ছবি সূত্রঃ বার্নাড লে কাইন্ড যে।

নৌকার কথা বাদ দিলেও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে পৃথিবীতে এমন কোনও মহাপ্লাবন হয়নি, যাতে করে বাড়ি- ঘর থেকে শুরু করে সকল উঁচু পর্বত ডুবে গিয়েছিলো। এছাড়া মহাপ্লাবন এর ফলে মৃত প্রাণীদের জীবাশ্মগুলো সব মাটির একই স্তরে থাকার কথা ছিল (যেহেতু তারা সবাই একই সময়ে মৃত্যু বরণ করেছে) তেমন প্রমানও খুঁজে পাননি ভূ-তত্ত্ব বিদরা। দেখা যাচ্ছে সৃষ্টিবাদীরা শুধু বিবর্তনীয় জীবনবিজ্ঞানকে অস্বীকার করছেন না, তারা অস্বীকার করছেন পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ইতিহাস, ভূ-তত্ত্ব, ফসিল বিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রানীবিদ্যা সহ সকল বিষয়কে।

নূহের মহাপ্লাবনের অসাড়তা আব্রাহামিক গডকে বেশ বিড়ম্বনায় ফেলে দেবার জন্য যথেষ্ঠ। এমন ঘটনা যেহেতু কোনোদিনও ঘটেনি এবং তিন দাবী করেছেন ঘটেছে তাই আমরা সহজের সিদ্ধান্তে আসতে পারি আব্রাহামিক গড বলে আসলে কেউ নেই, এটা মানুষের মন গড়া কল্পনা, ধর্মগ্রন্থগুলো মানুষের লিখিত।

মগজ ধোলাই

ঈশ্বরের ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখার জন্য সৃষ্টিবাদীদের বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে প্রচারিত সন্দেহ (!) নিয়ে আলোচনা আর দীর্ঘায়িত করে লাভ নেই। কারণ ডারউইন তাঁর “অরিজিন অফ স্পেসিজ” বইটিতেই সকল ভুল ধারণা কবর দিয়েছিলেন। তারপর আরও শত জীববিজ্ঞানী সেগুলো আলোচনা করেছেন। এর কোনোটিই সৃষ্টিবাদীদের এবং ইণ্টেলিজেণ্ট ডিজাইন সমর্থকদের চোখে পড়েনি, তারা একই জিনিস বারবার চর্বন করে যাচ্ছেন। লেখার এই পর্যায়ে পাঠকদের উদ্দেশ্যে মুক্তবাজার অর্থনীতির সাথে প্রাকৃতিক নির্বাচন পক্রিয়ার সাথে সাদৃশ্য তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের মনকে এই তত্ত্ব গ্রহণে কিংবা বাস্তবতা গ্রহণে প্রস্তুত করার চেষ্টা করবো। কারণ আদতে বিবর্তনকে কোয়াণ্টাম মেকানিক্সের মতো বিমূর্ত মনে হলেও বিবর্তন তত্ত্ব তা নয়। সৃষ্টিবাদীদের হাজার বছরের মিথ্যার কারণে আমাদের মাথায় প্রলেপ পড়েছে, তাই সেখানে একটি শিরিষ কাগজের ঘষা বাঞ্চনীয়। একবার মন প্রস্তুত হয়ে গেলে বিবর্তন তত্ত্বকে সঠিক ও যৌক্তিক মনে করাটাই স্বাভাবিক হয়ে পড়বে। বিখ্যাত জীববিজ্ঞানী এবং অক্সফোর্ড প্রফেসর রিচার্ড ডকিন্স বলেন, একবার ভালোভাবে বুঝতে পারলে এই পথটাকেই (বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা) অধিক যুক্তিসঙ্গত মনে হতে বাধ্য 8 । ডারউইনের বুলডগ নামে খ্যাত টমাস হাক্সলি ‘অরিজিন অব স্পিসিজ’ পড়ে মন্তব্য করেছিলেন, “আমি কতবড় গাধা, এই ব্যাপারটা আগে চিন্তাই করি নি”। 9

কলেজে থাকাকালীন সময়ে বিতর্কের ঝোঁক ছিল প্রচুর। এবং আদতে যা হয়, কলেজে পর্যায়ের বিতর্কে সাধারণত কয়েকটি বিষয়ই ঘুরে ফিরে বক্তব্যদানের জন্য নির্বাচিত হয়। আর এই কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে সেরা এবং সর্বাধিক বিতর্কিত বিষয়ের নাম ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি’। কলেজে আমার শেষ বিতর্কের বিষয় ছিল “মুক্তবাজার অর্থনীতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়”। স্ক্রিপ্টের বেশ কিছু লাইন এখনো মুখস্ত আছে। পাঁচ মিনিটের বক্তব্য আমি সূচনা করেছিলাম এই বলে, “যোগ্যরা স্থায়ী চিরকাল, অযোগ্যরা বিতাড়িত সর্বকাল”- এ নীতির উপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক পরিভাষায় যুক্ত হয়েছে ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি’ শব্দদয়। এছাড়া মুক্তবাজারের সবচেয়ে বোধগম্য সংজ্ঞা আমার কাছে- সাধারণত কোনো প্রতিকূলতা বা বাধা-বিপত্তি ছাড়াই একটি দেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে যে কোনো ধরনের পন্য বা সেবা বেচাকেনার সুযোগ-সুবিধা বা বিধি-ব্যবস্থা বজার রাখার নাম মুক্তবাজার বা খোলা বাজার।
ধরা যাক, একটি ভারতীয় জামার বাজার। এখানে ক্রেতারা সকলেই ভারতীয় এবং তাঁরা জামা কিনবেন। এখন দুনিয়ার ত্রিশটি দেশ ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য জামা তৈরী করে সেই বাজারে পসরা সাজিয়েছেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশের দোকানে রয়েছে অসংখ্য ডিজাইনের জামাকাপড়। আমেরিকা, জাপানের দোকানেও পাওয়া যাবে বৈচিত্রময় ফ্যাশানেবল অংসখ্য জামা। কিন্তু বাংলাদেশে আমেরিকা ও জাপানের তুলনায় শ্রমের দাম কম বিধায়, উৎপাদন খরচ কম সুতরাং তাদের জামা অন্যান্যদের মতো দেখতে একই হলেও দাম অনেক কম। এখন ভারতীয় একজন ক্রেতা কাদের জামাটি কিনবেন? যেহেতু কোনো কিছু কেনার সময় ক্রেতারা সর্বনিম্মমূল্যে সবচেয়ে ভালো পন্যটি পেতে চান, তাই তাদের পছন্দ হবে বাংলাদেশি পন্য। এখন বাংলাদেশ তার সকল পন্য বেচে দেশে বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে যাবে, তা দিয়ে জামা উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করবে। অপরদিকে ধীরে ধীরে ধসে পড়বে জাপান ও আমেরিকার পোশাক শিল্প। এটাই মুক্তবাজার অর্থনীতি। খোলা বাজার, খোলা প্রতিযোগীতা। তুমি যোগ্য হলে, বাজার উপযোগী হলে টিকে থাকবে, নতুবা হারিয়ে যাবে।

আমার বাবা একটি টেক্সটাইল কোম্পানীতে কাজ করেন। সেদিন তিনি বললেন, আগে চিঠি চালাচালির মাধ্যমে একটি চুক্তি সাইন করতে প্রায় মাস খানেক লেগে যেতো। এখন ই-মেইলের কল্যাণে থাইল্যাণ্ডের বায়ারের সাথে চুক্তি সম্পাদন করতে সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা। বাজার জটিল হচ্ছে, এবং তা হচ্ছে ধীরে ধীরে প্রয়োজনের সাথে খাপ খাওয়াতে। এখন কোন কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার যদি ই-মেইল ব্যবহার না করেন, তাহলে তিনি কী কারও সাথে কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন? পারবেন না, কারণ তাঁর সাথে চুক্তি করতে যতটা সময় লাগবে সেই সময়ে বায়াররা ত্রিশজনের সাথে চুক্তি করতে পারবেন। সুতরাং পর্যাপ্ত অর্ডারের অভাবে সেই কোম্পানীর লাটে উঠতে খুব বেশিদিন লাগবেনা। কিংবা ধরুন, পথে প্রান্তরে এই যে এতো কথা, মুক্তবাজার অর্থনীতি বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়, মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে আমাদের কুটির শিল্প ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এই কথাগুলোর মানে কী? ঘর সাজিয়ে রাখার জন্য, বিশেষ অনুষ্ঠানে উপহার দেবার জন্য ব্যবহৃত শো-পিসের কথা ধরুন। আগে আমরা গ্রামাঞ্চলের মানুষদের হাতে তৈরী বিভিন্ন শো-পিস ক্রয় করতাম। কিন্তু এখন মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে বাংলাদেশে স্বল্পদামে বিভিন্ন দেশের তৈরী শো-পিস পাওয়া যাচ্ছে। বাইরের দেশের মানুষেরা শো-পিসগুলো তৈরী করতে এখন আর মানুষের হাতের আশ্রয় নেয় না, তারা মেশিনের মাধ্যমে একদিনে কয়েকহাজার পন্য উৎপাদন করে সেগুলো চালান দেয়। যত বেশি উৎপাদন হবে, গড় উৎপাদন খরচ তত কম হবে। এখন সেই পণ্যের যা দাম তার চেয়ে বাংলাদেশের গ্রামে হাতে বানানো জিনিসটির দাম বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। বাজারে গিয়ে আপনি এখন কোনটা ক্রয় করবেন। আবেগের বশে প্রথমদিকে নিজেদের জিনিস ক্রয় করলেও দীর্ঘমেয়াদে আপনি খরচ কমানোর স্বার্থে ঝুকে পড়বেন বিদেশী পন্যের দিকেই। এখন বাংলাদেশের কুটির শিল্পীরা যদি মেশিন ক্রয় করে নিজেরাও এইভাবে উৎপাদন শুরু করে তাহলে আর আবেগ দেখানো প্রয়োজন হবেনা, বাজার প্রতিযোগীতায় যোগ্য হয়েই তারা টিকে থাকতে পারবে। কিন্তু যদি সেটা না পারে, তাকে হারিয়ে যেতে হবে অচিরেই। প্রকৃতিতে যোগ্যরাই টিকে থাকে।

উপরের উদাহরণটা সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলেও মুক্তবাজার অর্থনীতি একটি জটিল পক্রিয়া। চিন্তা করে দেখুন, একটি কোম্পানী শুধু একটি পন্য তৈরী করেই বসে থাকেননা, এদের এই পন্যটি বিভিন্ন দেশে পৌঁছাতে হয়, দেশভেদে প্রতিযোগীতায় টিকে থাকার জন্য পন্যের মান নির্ধারণ করতে হয়। আপনি মার্কস চকলেটটি খুব পছন্দ করেন। গিয়ে দেখুন সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারের ইংল্যাণ্ডে উৎপাদিত মার্কস চকলেটটি ঠিকই আপনার বাসার পাশের দোকানে আছে। আপনার পছন্দের স্প্যাগাটি ফ্লেবারটিও পাবেন বাসার পাশের সুপার স্টোরে। আপনি নীচের দিকে চাপা আর উপরের দিকে ঢোলা মডেলের জিন্সের প্যান্ট পড়তে স্বচ্ছন্দবোধ করেন, সেটাও আছে বংগবাজারে।

তবে আজ থেকে একশ বছর আগেও বাজার এমন ছিলোনা। কিন্তু ধীরে ধীর সব কিছু জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে, পণ্য ও সেবা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রাকৃতিক ব্যাপারটি সর্বপ্রথম আলোচনা করেছিলেন এডাম স্মিথ এবং পরবর্তীতে ফ্রেডরিক হায়েক এবং কার্ল পুপার 10 । অর্থনীতির সর্বোচ্চ চেয়ারে আসন গেড়ে কে এই মহাপরিকল্পনা করছেন? কে নির্ধারণ করছেন একটি শপিং মলে একটি নির্দিষ্ট ক্যাণ্ডি সংখ্যা, এই দেশে এই মডেলের জিন্সের প্যাণ্টের সংখ্যা? কোন অর্থনৈতিক ইশ্বর? অবশ্যই না। একটি কোনও অর্থনৈতিক ইশ্বরের মহাপরিকল্পনা নয়। সম্পূর্ণ সিস্টেমটি ক্ষুদ্র থেকে নিজে নিজে গড়ে উঠেছে, চাহিদা সাথে তাল মিলিয়ে এটি নিজে নিজেই ক্রমান্বয়ে জটিল হচ্ছে, বিবর্তিত হচ্ছে। এই বিষয়ে কেউই সন্দেহ পোষণ করেন না। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, অর্থনীতির এই নিজে নিজে তৈরী হওয়া, ধীরে ধীরে বিবর্তনের মাধ্যমে জটিলতর হওয়াকে একবাক্যে মেনে নিলেও প্রানীজগতের বেলায় একই ঘটনা আমরা মেনে নিচ্ছিনা। প্রানীজগতের জটিলতা ব্যাখ্যায় আমরা বসাচ্ছি একজন ঈশ্বরকে। যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর অন্যান্য সকল প্রাণীকে মানুষের উপকারী করে সৃষ্টি করেছেন। এমন কয়েক লক্ষ প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যাবে যারা শুধুমাত্র মানুষের ক্ষতি করে, এমন কয়েক লক্ষ প্রজাতি পাওয়া যাবে যাদের থাকা না থাকার সাথে মানুষের কোনও সম্পর্ক নেই।

আবার উল্লেখকরি, র‌্যান্ডব জিনেটিক মিউটেশন ও জিনেটিক ড্রিফটের কারণে প্রানীজগতে অসংখ্য প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশন তৈরী হয়। তৈরী হওয়া এই ভ্যারিয়েশন সমৃদ্ধ প্রানীদের উপর ক্রিয়া করে প্রাকৃতিক নির্বাচন। প্রাকৃতিক নির্বাচন নিজে একটি নন র‌্যাণ্ডম পক্রিয়া। এটি বলতে বোঝানো হয় প্রানীর উপর পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ক্রিয়াকে। অসংখ্য ভ্যারিয়েশনের মধ্যে অল্প সংখ্যক পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর উপযোগী থাকে, এরা টিকে থাকে, বাকিরা ঝরে পড়ে। টিকে থাকাদের থেকে আরও ভ্যারিয়েশন তৈরী হয়, তাদের মধ্যে থেকে যারা পরিবেশে আরও ভালোভাবে টিকে থাকার উপযোগী তারা টিকে থাকে, সন্তান জন্ম দেয়, বাকিরা ঝরে পড়ে। এভাবেই প্রানীরা জটিল হতে থাকে। ঠিক মুক্তবাজার অর্থনীতির বাজার ব্যবস্থার মতো। বলে রাখা প্রয়োজন প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারণে বানররা একদিন সকালে উঠে দেখবেনা যে তাদের মধ্যে দুইজন হঠাৎ করে মানুষ হয়ে গিয়েছে। পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রানীজগতে পরিবর্তন হয়, এই পরিবর্তন খুব ধীর, নির্ভর করে সম্পূর্ণ পরিবেশের চাহিদার উপর (বাজার ব্যবস্থায় ভোক্তার চাহিদা)।

এই আলোচনার পর পাঠকের উদ্দেশ্যে দু’টো প্রশ্ন রেখে যাবো আমি। বাজার ব্যবস্থার এমন জটিলতা, বিভিন্ন জিনিসের সাথে পারষ্পরিক সম্পর্ক, এই বিশাল ব্যবস্থা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠার পেছনে যে বাস্তব কারণ, যুক্তি ও প্রমান রয়েছে সেগুলো সব অস্বীকার করে কেউ যদি এটিকে এক মহাপরাক্রমশালী, ক্ষমতার মোহে অন্ধ, অর্থনৈতিক আইন প্রয়োগকারী ব্যক্তির কাজ বলে অভিহিত করে তাহলে তাকে আমরা কী বলবো? বলবো, পাগল কিংবা নিদেনপক্ষে গর্দভ কন্সপাইরেসি থিওরিস্ট।

আচ্ছা তাহলে জীব বৈচিত্র, এর উদ্ভব, জটিল থেকে জটিলতর হবার পেছনে যে পূর্নাংগ যৌক্তিক ব্যাখ্যা রয়েছে সেটিকে অস্বীকার করে পুরো বিষয়টিকে একটি মহাপরাক্রমশালী, ক্ষমতার মোহে অন্ধ ঈশ্বরের কাজ বলে জাহির করার চেষ্টাকারীকে তাহলে আমাদের কী বলা উচিত?

তথ্য সূত্রঃ

১। Why Evolution is True? Jerry A. Coyne. পৃষ্ঠা নং ৮৬

২। একই বই, একই পৃষ্ঠা।

৩। সায়েন্টিফিক এমেরিকান, মার্চ ২০০১ সংখ্যা

৪। (Skybreak, A.2006, The Science of Evolution and The Myth of Creationism, Insight Press, Illinois, USA)

৫। http://www.mukto-mona.com/project/muktanwesa/1st_issue/mohaplaban_ananta.htm

৬। Why People Believe Weird Things, মাইকেল সারমার। পৃষ্ঠা নং ১৩০।

৭। একই বই, একই পৃষ্ঠা।

৮। রিচার্ড ডকিন্স “…there is another way and, once you have understood it, a far more plausible way, for complex “design” to arise out of primeval simplicity.” The Blind Watchmaker, W. W. Norton & Company, Inc. New York, 1987, (Preface).

৯। টমাস হাক্সলি। “How extremely stupid for me not to have thought of that!”
(Thomas Huxley’s first reflection after mastering, in 1859, the central idea of Darwin’s Origin of Species))!”

১০। Irreligion, John Allen Paulos. পৃষ্ঠা নং ২০

৯,৩০৬ বার দেখা হয়েছে

৮৩ টি মন্তব্য : “নির্ধর্মকথা- এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল, মিঠা নদীর পানি (শেষ পর্ব)”

  1. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    Irreligion বইটা কি আছে তোর কাছে। থাকলে দিতে পারবি? পড়বো।
    আমাকে বিল মারের কিছু ভিডিও দেয়ার কথা ছিল। অপেক্ষা করে আছি।

    গুড পোস্ট।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
    • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

      ইরিলিজিয়নের মতো বই আমি জীবনেও পড়িনাই। বইয়ের রিভিউ তে একজন বলছে এইটা বিখ্যাত ম্যাথমেটিশিয়ানের ম্যাথ সম্পর্কিত বই, কিন্তু ম্যাথের গ্যাজানি নাই 😀 এবং লেখকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে হিউমার। তবে এই বইয়ের সাথে আরেকটা বই মাস্ট রিড। যেইটা পইড়াই আমি লেখার এতো জোশ পাইছি এমনকি বই বের করার জোশ পাইছি, সেইটার ই বুক নাই তবে আপনারে অতিশীঘ্র দিবো।

      আর বিল মার। আপনার বাসায় আইতেছি। দুই একদিনের মধ্যেই।

      জবাব দিন
      • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

        ডাউনলোডের জন্য ছবিতে ক্লিক করলেই হবে। রিভিউয়ের কয়েকটা অংশ কোট করি-

        Few of the recent books on atheism have been worth reading just for wit and style, but this is one of them: Paulos is truly funny. Despite the title, the Temple University math professor doesn't actually discuss mathematics much, which will be a relief to any numerically challenged readers who felt intimidated by his previous book Innumeracy: Mathematical Illiteracy and Its Consequences. In this short primer (just the gist with an occasional jest), Paulos tackles 12 of the most common arguments for God, including the argument from design, the idea that a moral universality points to a creator God, the notion of first causes and the argument from coincidence, among others. Along the way, he intersperses irreverent and entertaining little chapterlets that contain his musings on various subjects, including a rather hilarious imagined IM exchange with God that slyly parodies Neale Donald Walsch's Conversations with God. Why does solemnity tend to infect almost all discussions of religion? Paulos asks, clearly bemoaning the dearth of humor. This little book goes a long way toward correcting the problem, and provides both atheists and religious apologists some digestible food for thought along the way. Publishers Weekly

        জবাব দিন
  2. তাইফুর (৯২-৯৮)

    রায়হান,
    লেখায় ৫ তারা

    ১। ব্যাড ডিজাইন নিয়ে কখনো ভাবি নাই, আমি আমার শারীরিক ডিজাইন নিয়ে বেশ সন্তুষ্টই আছি ... সেক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাস কে নাড়া দিতে আরও strong n raw kick দরকার ... কোক খাইলাম

    ২। ইনসেস্ট বা অজাচার ভাল কিক ...

    ৩। মহাপ্লাবণের কিক টাও মন্দ না ...

    ৪। মগজ ধোলাই ... সোডা

    দুই পেগে নেশা ঠিক জমে না ... :grr:


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
    • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

      তাইফুর ভাই, আপনি যে আজকে আমারে কী পরিমান অভিভূত করলেন তা বুঝামু কেমনে। এমন কইরা খুব কম মানুষও লেখা সম্পর্কে মতামত দেয়। আপনার কথা আমার পছন্দ হইছে। সময় করে ঠিক করে দিবো।

      আর টাকা পয়সা জমান শুরু করেন। নেক্সট বইমেলায় বই কিনতে হবে কিন্তু 😀

      জবাব দিন
  3. ভাই রায়হান ,
    আপনার যুক্তি একদম শক্ত নয়।--- 'সৃষ্টির সুনিপুন নকশা বা ইন্টেলিজেণ্ট ডিজাইন' কি জিনিস সেটা বুঝবার জন্য যে পরিমান বিজ্ঞান ভিত্তিক পড়াশুনা প্রয়োজন তা আপনার নেই। সেটা আপনার লেখা পড়ে বুঝলাম। যদি এ ব্যপারে বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রমাণ পেতে আগ্রহী হোন তাহলে আমাকে একটু কষ্ট করে জানাতে পারেন।আপনার ভুল ভঙ্গার কিছু প্রমান আমি দিতে পারি --"যে প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই সেই প্রশ্নগুলোর মনগড়া উত্তর দেওয়া এবং
    তা মানুষকে বিশ্বাস করানোই ধর্মের কাজ।"-- এই ভুল ধারনার কিছু শক্ত বৈজ্ঞানি প্রমাণ আমি দিবার অপেক্ষায় রইলাম এবং তা অব্যশই আমার জানার সীমানার ভিতর সকল প্রকার শক্ত বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রমাণ দিয়ে ।
    আপনার জন্য অনেক শুভ কামনা রইল।

    জবাব দিন
  4. আন্দালিব (৯৬-০২)

    আমি সেই বালক বয়সে আদি ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করে রামধমক খেয়েছিলাম মনে আছে। =))

    এই লেখাটার জন্যে অপেক্ষায় ছিলাম, ফুরুলো অবশেষে। সব মিলিয়ে বিরাট কাজ হয়েছে, এবং বিরাট ধন্যবাদ পাওনা তোমার। 🙂

    জবাব দিন
  5. সাব্বির (৯৮-০৪)

    আগে কখনো বলেছি বলে মনে পড়ছে না তাই আবার বলি, তোমার লেখাগুলো আমি বেশ ভালো পাই। কারন তা আমার বোঝার ভেতর হয়(অনেকটা কার্ল সেগান এর মতো)।
    তোমার অর্থনীতির উদাহরন এর সাথে বিগ ব্যাং এর পর থেকে এখন পর্যন্ত একটা "টাইম লাইন" এর ছবি( অথাবা কার্ল সেগান এর মতো এক বছর এ বিশেষ বিশেষ ঘটনাসমুহের অবস্থান) বোধহয় উদাহরনটিকে আরো গ্রহনযোগ্য করবে।
    তাইফুর ভাইয়ের গল্প শুনে এবং সাতদিন দেখে আমি যথেষ্ট ফ্যান ছিলাম। দিন দিন আরো হচ্ছি।
    আর একটা ব্যাপার, বিশ্লেষন এর সময় এ ধরনের কার্টুন বোধহয় লেখার গভীরতা হালকা করে (নিতান্তই ব্যাক্তিগত মতামত)
    "ইন্টেলিজেণ্ট ডিজাইন" এর একটা ব্যাপার আমার বেশ লাগে। সেটা হচ্ছে ডায়নোসারের (বন্ধুভাবাপন্ন) সাথে মানুষের সহাবস্থান। 😀 । একটা ডায়নোসার পোষার শখ ছিলো বহুদিনের। হলে খারাপ হতো না।
    মুস্লিম্রা বোধহয় পরে আবির্ভুত হয়ে অনেক ঝামেলা থেকে বেঁচে গেছে।
    যাই হোক শুভকামনা রইলো। লিখতে থাকো।

    জবাব দিন
    • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

      আমারে কার্ল সেগানের সাথে তুলনা কইরা দিলেন! উনার মতো হইতে পারলে তো কাজই হইতো। একটা মানুষ সারাজীবন পার করছেন এলিয়েনদের খোঁজে, অথচ কোনোদিন তথ্য বিকৃত করেন নাই। তাঁর মতো হওয়া দুষ্কর।

      মুস্লিম্রা বোধহয় পরে আবির্ভুত হয়ে অনেক ঝামেলা থেকে বেঁচে গেছে।

      নবী ব্যস্ত ছিলেন পালিত ছেলের সুন্দরী বউকে বিবাহ করাটা কুরআন দিয়ে জায়েজ করার কাজে। এইসব নিয়ে তার ভাবনার সময় কোথায়!

      এই লেখার একটা ম্যাটেরিয়ালের জন্য আপনারে মেইল দিসিলাম এক মাস আগে। রিপ্লাই পাইনাই। অর্ণব ভাইয়েরও দেখা নাই।

      মন্তব্যের জন্য ধইন্যা।

      জবাব দিন
  6. [65:12] "Allah is He Who Created seven firmaments and of the earth a similar number. Through the midst of them (all) descends His command: that ye may know that Allah has power over all things, and that Allah comprehends all things In (His) Knowledge.”

    The new scientific discovery had revealed to us that the earth that we currently live on today is formed from seven layers. The very bottom layer contains most of the uranium and plutonium and all the materials that are need to create nuclear weapons and energy. The Verse above does indeed say that the earth was created with seven layers. This is one evidence i have others too for you guys if u allow me to publish in English 😀

    জবাব দিন
    • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

      ভেবেছিলাম ভালো কিছু উদাহরণ পাবো 🙁 । যাই হোক।

      আপনার দেওয়া আয়াতের অর্থ- আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন সপ্ত-আকাশমন্ডলী এবং পৃথিবীও এর অনুরূপভাবে। আকাশ ও পৃথিবীর সর্বস্তরে নেমে আসে তাঁর আদেশ।

      যাই হোক, এই বাক্যে পৃথিবীর সাতটি লেয়ারের বর্ণনা আছে এইটা মেনে নিতে কষ্ট হয়। সাতটি লেয়ার আল্লাহ তো খালি বলেছেন আকাশের উদ্দেশ্য। তারপরো কথা আছে। পৃথিবীর লেয়ারের একটা জার্নাল চিত্র উদ্ধার করলাম গুগল (দঃ) থেকে-

      ইউনিভার্সিটি অফ নেভাদা'র সিসমোলজিক্যাল ল্যাব [http://www.seismo.unr.edu/] জানাচ্ছে পৃথিবীর মূল লেয়ার চারটি।

      (J. Louie) The earth is divided into four main layers: the inner core, outer core, mantle, and crust. The core is composed mostly of iron (Fe) and is so hot that the outer core is molten, with about 10% sulphur (S). The inner core is under such extreme pressure that it remains solid. Most of the Earth's mass is in the mantle, which is composed of iron (Fe), magnesium (Mg), aluminum (Al), silicon (Si), and oxygen (O) silicate compounds. At over 1000 degrees C, the mantle is solid but can deform slowly in a plastic manner. The crust is much thinner than any of the other layers, and is composed of the least dense calcium (Ca) and sodium (Na) aluminum-silicate minerals. Being relatively cold, the crust is rocky and brittle, so it can fracture in earthquakes.

      আরেকটু পড়াশোনার জন্য এই লিংক এ যেতে পারেন। তর্কের স্বার্থে ধরে নিলাম পৃথিবীর লেয়ার সাতটি। যদিও আল্লাহ বেশি জোর দিয়েছেন আকাশের লেয়ারের ব্যাপারে, যে আকাশের লেয়ার সাতটি। কিন্তু এখন আমরা দেখছি এইগুলা ভুয়া কথা, এই ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

      ভেবেছিলাম ভালো কিছু জানতে পারবো আপনার কাছ থেকে। কিন্তু দৌড় বোঝা গেলো। ইসলামী সাইট থেকে ইংলিশ গারবেজ কপি করে বোর করার দরকার নেই আর।

      জবাব দিন
      • আপনারা বাংলা বাংলা করে চিৎকার করে মরেন । সকল খারাপ জিনিস পাশ্চত্য থেকে নিতে ভুল করেন না।কিন্তু নতুন কিছু জ্ঞানের কথা শুনলে বোর হয়ে যান। আমরা এভাবেই নিজেদেরকে হাস্যকর করে মজা নিজেরাই লুটছি। জাই হোক মাউস দিয়ে লিখতে লিখতে হাত ব্যথা হয়ে গেল। আপনার ধারনা আমি বদলাতে পারবোনা। এত বাংলা টাইপও আমার দারা হবে না। আপনার কিছু কথা আমার ঠিক মনে হয় নি তাই প্রতিবাদ করেছি । ব্যস হয়ে গেল। এবার খুশি থাকবেন আশা করি। 🙁

        জবাব দিন
    • সাব্বির (৯৮-০৪)

      আপনার অনুবাদের প্রশ ংসা না করেও পারছি না।
      জহুরুল হক অনুদিত বাংলা অনুবাদ,
      http://www.qurantoday.com/65Talaq_Bangla.pdf

      Authentic Islamic literature,
      It is Allah Who has created seven heavens and of the earth the like thereof (i.e. seven). His Command descends between them (heavens and earth), that you may know that Allah has power over all things, and that Allah surrounds (comprehends) all things in (His) Knowledge."

      http://www.quraan.com/index.aspx?tabindex=1&tabid=27&bid=65

      মহাবিশ্ব সম্বন্ধে আপনার বোধ হয় আরেকটু পড়াশোনা করা দরকার।
      আমার মতো মূর্খ হলে এখান থেকে শুরু করতে পারেন।

      http://www.youtube.com/watch?v=uBDpKYJcUms

      জবাব দিন
  7. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    রায়হান
    তোর এই সিরিজটা খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে প্রান্জল এবং মার্জিত ভাষার ব্যবহার। কিছু বুঝছি কিছু আবার মাথার উপর দিয়ে গেছে। এই পর্বের কিছূ ব্যাপার নিয়ে হালকা ডাউট আছে। ডাউটগুলো বেশি শিশুতোষ হলে হাসাহাসি করবি না অন্তত জোরে তো নয়ই

    ১। আদম হাওয়া থেকে মানব সম্প্রদায় সৃষ্টি যদি হাস্যকর হয় এককোষী প্রাণী থেকে সমস্ত জীবের উদ্ভব কতখানি যুক্তিপূর্ণ
    ২। মুক্তবাজার অর্থনীতিকে আনার ফলে লেখার জোর কমে গেছে বলে আমার ধারনা। কেননা কোন মুক্তবাজার আদতে সম্ভব না। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারকে অবশ্যই হস্তক্ষেপ করতে হয়। তা না হলে এটি ভেংগে পড়তে বাধ্য। সেক্ষেত্রে এটি বরং ঈশ্বরবাদকে সমর্থন করে।
    ৩। প্রতিবছর সারাবিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে শত শত বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হয়। সুতরাং ভক্তি শ্রদ্ধার কথা যদি বাদও নেই শুধু ব্যবসায়িক কারনেই ধর্মের আশু বিনাশ সম্ভব না। তাই বিলোপ নাকি সংস্কার কোনটা চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ
    ৪। লেখার প্রশ্নদুটো ভাল লাগে নি।

    কী বোর্ড নষ্ট। মাঊস দিয়ে বহুত কষ্টে কমেন্ট করলাম


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
    • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

      ধন্যবাদ জুনা ভাই, বহুদ্দিন পর আপনার দেখা পাইলাম। আমি আর অভিজিৎ রায় ঈশ্বরের আলোচনা সংক্রান্ত একটা বই লেখায় হাত দিসি। এইটা জীবজগতে ঈশ্বরের হাত সংক্রান্ত চ্যাপ্টার। পাঠকের এমন রেসপন্স বিশাল পাওয়া আমার জন্য। এক এক করে আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেই।

      আদম হাওয়া থেকে মানব সম্প্রদায় সৃষ্টি যদি হাস্যকর হয় এককোষী প্রাণী থেকে সমস্ত জীবের উদ্ভব কতখানি যুক্তিপূর্ণ

      একেবারে বোল্ডলি দেখলে এককোষী প্রানীর থেকে সমস্ত জীবের উদ্ভব কথাটার মতো অযৌক্তিক আর কিছুই নেই। অনেকটা সময় পর্যন্ত আমাদের পর্যবেক্ষণ ব্লোড ছিল, তাই আমরা ধরে নিয়েছি এইটা অন্যকারও কাজ।

      তারপর ডারউইন এর বিবর্তন তত্ত্ব আসলো। এই তত্ত্ব বলতেছে, আমরা এককোষী প্রানী থেকেই বিবর্তনের মাধ্যমে আসছি। এই কথাগুলো উনি আদম হাওয়া পার্টির মতো খালি বলেই ক্ষান্ত হননি, উপযুক্ত প্রমান দেখিয়েছেন। এই বিষয়টা নিয়ে আমি খুব সংক্ষেপে একটা ব্লগ লিখছি, প্রথম অংশটায় ঢুঁ দিতে পারেন। তারপরও কোন প্রশ্ন থাকলে হ্যাপি টু ডিসকাস। কারণ এক কোষী থেকে উদ্ভবের ঘটনা বৈজ্ঞানিক ভাবে সলভড।

      ২। মুক্তবাজার অর্থনীতিকে আনার ফলে লেখার জোর কমে গেছে বলে আমার ধারনা। কেননা কোন মুক্তবাজার আদতে সম্ভব না। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারকে অবশ্যই হস্তক্ষেপ করতে হয়। তা না হলে এটি ভেংগে পড়তে বাধ্য। সেক্ষেত্রে এটি বরং ঈশ্বরবাদকে সমর্থন করে।

      মুক্তবাজারের উদাহরণটা দেওয়া নিয়ে আমি বেশ কনফিউড ছিলাম। আমি আক্ষরিক ভাবে মুক্তবাজার অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করতে চাইনি, আমার বলার উদ্দেশ্য ছিলো অনেক কিছুই নিজে নিজে বিবর্তিত হয়ে জটিল হয় এইটা বোঝানো। আমরা ফ্রেন্ডদের একটা নরমাল কথা বললেও সেটা একজন থেকে আরেজনে বিবর্তিত হতে হতে জটিল আকার ধারণ করে। এই টাইপ উদাহরণ। আর এইখানে সৃষ্টিবাদীদের পক্ষে উদাহরণটা যায় তাও মনে হয়না। কারণ আসলেই আপনার বাসার কাছে দোকানে কী পাওয়া যাবে এইটা ক্রমান্বয়ে সৃষ্ট একটি প্রক্রিয়া, এইটা সেণ্ট্রালে বসে কেউ কন্ট্রোল করেনা। তারপরও মুক্তবাজারের পার্টটা অনেক বেশি সাবজেক্টিভ হয়ে যাওয়ায় আমার মনে হয় মূল আবেদন হারিয়েছে। এটা পরিবর্তন করবো ফাইনালি।

      প্রতিবছর সারাবিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে শত শত বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হয়। সুতরাং ভক্তি শ্রদ্ধার কথা যদি বাদও নেই শুধু ব্যবসায়িক কারনেই ধর্মের আশু বিনাশ সম্ভব না। তাই বিলোপ নাকি সংস্কার কোনটা চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ

      একজন ব্যক্তিগত ভাবে ল্যাম্পপোস্টে পুজা করতে পারে, করতে পারে আল্লাহকেও। যে কেউ যা ইচ্ছা ভাবতে পারে। তবে যখনই তারা তাদের ইরেশনাল থিকিং জোর পূর্বক অন্যের উপর চাপিয়ে দেয় তখনই সমস্যার সৃষ্টি হয়। সকল ধর্মের মূল নীতি এইটাই। তারা সবাই পৃথিবীর পাওয়ার চায়। আর এইটার প্রতিবন্ধকতা আমরা সৃষ্টি করতে চাই। আমরা দেখাতে চাই তাদের থিংকিং অযৌক্তিক, গাল গল্প। এই চিন্তাকে তারা আইন করতে চাইলেও এতো সহজে পারবেন না।

      লেখার প্রশ্নদুটো ভাল লাগে নি।

      আপনার ফিডব্যাক মাথায় থাকলো। শেষটা ঢেলে সাজাবো আশাকরি।

      ভালু থাকেন।

      জবাব দিন
      • জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

        *ব্যাটা, মাউস দিয়ে কমেন্ট করছিলাম সেইটা নিয়ে কিছু কইলি না ক্যান??? x-(

        *অনেক দিন পর কমেন্ট করছি, কিন্তু সব লেখা-কমেন্ট ঠিকই ফলো করি...একটা সময় ছিল, যখন কমেন্ট না করলে পেটের ভাত হজম হত না...কিন্তু এখন কেমন জানি আলস্য লাগে...মনে হয় বড় হয়ে যাচ্ছি... 🙁

        *তোরা পরে যখন অনেক বিখ্যাত হবি, তখন আমাদের মনে রাখবি কিনা ভাবতেছি... :dreamy:

        *এবার অফ টপিকে দুইটা কথা বলি-
        তোর কথা শুনে যা মনে হল কেউ যদি ধর্ম পালন করে তার সাথে তোর কোন বিরোধ নেই। যদি তার ধর্ম অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে চায় বা ধর্মের নানা জিনিস বিজ্ঞান দিয়ে প্রমান করতে চায়- সেখানেই তোর আপত্তি।
        আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, যারা ধর্ম পালন করেন এদের বেশির ভাগই কিন্তু প্রথম শ্রেণীর। সেক্ষেত্রে তুই যখন গুটিকতক মানুষের জন্য ধর্মের সমালোচনা করবি, তখন কি বাকিদের কথা চিন্তা করে কিছুটা হলেও সহনশীলতা দেখানো উচিত না??

        সিসিবি বা অন্য কোথাও ধর্মের যে কোন সমালোচনাকে আমি সমর্থন করি। কেননা
        ধর্মের এত শাখা-প্রশাখা, ধরন, মতমাদ রয়েছে যে- এখানে ভুল বোঝাবুঝির প্রচুর অবকাশ রয়েছে। সমালোচনার মাধ্যমেই এসব ভুল-ত্রুটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। কিন্তু সমালোচনা করার আগে বুঝতে হবে যে সমালোচনা মানে হচ্ছে সম্যক+আলোচনা,
        শুধুই গালাগালি বা আক্রমণ নয়। সিসিবির আগের কিছু লেখাতে অনর্থক আক্রমনাত্মক উপমা এবং বিশেষণ এর ব্যবহার রয়েছে। যা কিনা লেখার গ্রহণযোগ্যতাকে কমিয়ে দেয় এবং উন্মুক্ত আলোচনাকে নিরুৎসাহিত করে। ধর্মের সমালোচনা নিয়ে লেখা যদি ধর্মপালনকারীরা পড়তেই অস্বস্তি বোধ করি, তাহলে সেই লেখার স্বার্থকতা কি? অনর্থক ক্যাচাল বা দুই একজনের বাহবা পাবার উদ্দেশ্যে নিশ্চয়ই লেখা উচিত না?

        এই কথাগুলো আমি শুধু তোকে বলছি না, নিজেকেও বলছি। আশা করি তুই ব্যক্তিগতভাবে নিবি না।

        **লেখা নিয়ে আরো কি কি জানি বলতে চেয়েছিলাম- ভুলে গেছি...
        যাই হোক, মুক্ত বাজার নিয়ে অংশটুকুতে একটু ঘষা-মাজা করিস। আর 'প্রশ্ন দুটো ভালো লাগে নি' বলেছিলাম- আসলে ঠিক তা না...প্রশ্ন করে উত্তরের যে হিন্টস দিয়েছিস-সেইটা ভালো লাগে নি...এই আর কি!

        ভালো থাকিস।


        ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

        জবাব দিন
  8. Modern scientific theory today finds itself quite close to the Quran.
    1.The lack of inconsistencies between the Quran and observable natural phenomena. Science has not been able to produce theories or experiments that fundamentally contradict the Quran.
    2.The remarkable harmony between the Quran and science is due to the presence in the Quran itself of very clear and positive encouragement to contemplate and investigate the world around us. As the verses quoted earlier indicate, Allah has not forbidden man to question, and in fact, it seems He wants us to do so.
    Topics in the Quran:
    1.Origin of the universe
    2.Expansion of the universe
    3.Creation of the Earth and Iron
    4Human embryonic developments
    5Cerebrum
    6Cat’s Eye Nebula
    7.The Sun and the Moon
    8.Time zones
    9.Mountains
    10.Clouds
    11.Seas and Rivers
    12.Deep seas and internal waves
    13.Female bee
    14.The Fly
    Origin of the universe:
    [21:30] “Have not those who disbelieved known that the heavens and the earth were joined together (as one unit of creation), before We clove them asunder”
    The science of modern cosmology clearly indicates that, at one point of time, the whole universe was nothing but a cloud of 'smoke'(an opaque highly dense and hot gaseous composition). This is one of the undisputed principles of standard modern cosmology. Scientists now observe new stars forming out of the remnants of that 'smoke'.'
    Because of the earth and the heavens have been formed from this same 'smoke,' we conclude that the earth and the heavenly bodies were one connected entity. Then out of this homogenous 'smoke,' they formed and separated from each other
    Expansion of the universe:
    [50:47] "The heaven, We have built it with power. Verily. We are expanding it."
    Heaven is the translation of the word sama' and this is exactly the extra-terrestrial world that is meant. 'We are expanding it' is the translation of the plural present participle musi'una of the verb ausa'a meaning 'to make wider, more spacious, to extend, to expand'. It was first suggested by the general theory of relativity and is backed up by physics in the examination of the galactic spectrum; the regular movement towards the red section of their spectrum may be explained by the distancing of one galaxy from another. Thus the size of the Universe is probably constantly increasing and this increase will become bigger the further away the galaxies are from us. The speeds at which these celestial bodies are moving may, in the course of this perpetual expansion, go from fractions of the speed of light to speeds faster than this.

    জবাব দিন
    • কামরুল হাসান (৯৪-০০)
      আমি সরাসরি আমার যুক্তি গুলো দিতে পারি। কিন্তু সেটা হবে ইংরেজীতে।বাংলা টাইপ এ আমি অতি কাচাঁ

      আহারে। তাই বইলা এত কষ্ট কইরা কপি-পেস্ট করে এখানে দেয়ার কি দরকার ছিল?
      এই লিঙ্কটা দিয়া দিলেই পারতেন। আপনার মন্তব্যটা পুরোটাই এখান থেকে কপি-পেস্ট করা।


      ---------------------------------------------------------------------------
      বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
      ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

      জবাব দিন
        • কামরুল হাসান (৯৪-০০)
          then go and read if u have any science back ground.
          you are human being …… learn , earn knowledge , just don’t believe what other says by hearing only once ….

          আমি অন্যরা কি বললো সেটা একবার শুনেই বিশ্বাস করে ফেলি এটা আপনাকে কে বললো ?
          হ্যাঁ, আমি বিজ্ঞানের ছাত্রই। আপনি জেনে আরো খুশি হবেন আমার বিষয় ছিল - প্রাণরসারন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান। চার বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেটাই পড়েছি। আপনার মত এতো বেশি না হলেও কিছুটা অন্তত বুঝি।

          আপনি বলেছিলেন বিবর্তনবাদের বিপক্ষে পর্যাপ্ত যুক্তি আপনার কাছে আছে। কিন্তু দেখা গেল সেটা না দিয়ে দিলেন ইসলামি এক ওয়েব সাইট থেকে কপি পেস্ট করা কিছু লাইন। যেগুলোর প্রত্যেকটা ব্যাপারের ব্যাখ্যা নিয়েই এই সিসিবিতে এর আগে বহু পোস্ট এসেছে। দয়া করে কী সেগুলো পড়বেন? তারপর আমার আপনার কথা শুনতে খুব ইচ্ছে করছে। বিশ্বাস করুন নতুন কিছু জানতে আমি সব সময়ই অধীর আগ্রহী।

          আপনার পড়াশুনা হয়তো অনেক। কিন্তু অন্যদের যে আপনার চেয়ে বেশি নয় সেটা কেন আগে থেকে নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছেন!


          ---------------------------------------------------------------------------
          বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
          ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

          জবাব দিন
          • কামরুল হাসান ,
            There must be sum misunderstanding here. I don't claim myself as i know it all neither saying that u no less than any1 else here. I was not here to hit any1, just shocked by seeing the fact that how easily ppl actually can give a quote from Holly Quran and draw a conclusion like-- "পৌরানিক কাহিনীকে বিজ্ঞানে রূপান্তর করার আহাম্মকীর উদাহরণ দিতে গেলে নূহের মহাপ্লাবনই যথেষ্ট।"
            and ”যে প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই সেই প্রশ্নগুলোর মনগড়া উত্তর দেওয়া এবং
            তা মানুষকে বিশ্বাস করানোই ধর্মের কাজ।” This is totally new to me !!
            This holly book has already been proven as --"not written by human being" by many Muslim and non -Muslim scientists and researchers. The Writer who can say words like that easily how much exact info about "BIBORTON "he can actually give to us i just doubted about that. And u are saying that i gave examples from "some Islamic websites" ------ do u thing they just wrote all those things and published in the web without any scientific proof ? I just request u to read those very carefully please then say anything against those evidences. And a tough subject like "BIBORTON" on which i don't' have any degrees or something i am not going to say anything about those until i have proper understanding of it.
            AND i just want to request to the writer please don't write a quote from Holly Quran and and say that these are bla bla types of stories and bullshit . I thought i will give some other examples but no i really don't want to do that now because maybe its just a waste of time and energy.......

            Good Wishes

            জবাব দিন
              • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                আফসুস, কুরআন শরীফটা ঠিকমত পইড়া দেখার প্রয়োজন বোধ করেননাই মুসলিম হইয়াও-আর আমরা হতভাগা নাস্তিকের দল কুরআন পইড়া ফানাফানা কইরা ফালাইতেছি। এই কারণেই এইসব **ছাল দাবী নিয়া আসতেছেন যেমনঃ

                ১)কুরআন শরিফের কুথাউ অন্য ধর্মের প্রতি কুন বিদ্বেষ নাই
                ২) Modern scientific theory today finds itself quite close to the Quran

                প্রথম দাবীর জন্য মাক্কী যুগের(ইসলামের তরবারী যখন ততটা শানিত হয়নাই লোকবলের অভাবে) লা-ইকরাহা-ফিদ-দ্বীন পড়ার পাশাপাশি মাদানী যুগের(যখন ইসলামের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তার কল্লা ফালায়ে দেবার মত লোকবল যোগাড় হইছে) রণহুংকারগুলো পড়ুন 😀

                দ্বিতীয় দাবীটার জন্য এই আর্টিকেলটি পড়ুন... 😀

                জবাব দিন
    • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

      শাম্মী আপা,

      আপনাকে জাকির নায়েক দিতে মানা করছিলাম আপনি তাঁর চেয়েও বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব নিয়ে হাজির হলেন। জাকির নায়েকে অতি সুলিখিত বিজ্ঞানময় কুরআন নিবন্ধ আছে। আমি সেইটাই স্ক্যান করে মানুষের মাঝে বিলাই। আপনার কাজে দিবে আশা করি।

      ১। //cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/04/jnayek1.jpg

      ২। //cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/04/nayek2.jpg

      ৩। //cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/04/nayek3.jpg

      ৪। //cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/04/nayek4.jpg

      ৫। //cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/04/nayek5.jpg

      ৬। //cadetcollegeblog.com/wp-content/uploads/2010/04/nayek6.jpg

      আর আপনার জন্য আরও কয়েকটা অবশ্য পাঠ্য লিংক

      বিজ্ঞানময় আসমানী কিতাব। পর্ব , ,

      বিজ্ঞানময় কিতাব

      জবাব দিন
  9. সামিয়া (৯৯-০৫)
    আবেগের বশে প্রথমদিকে নিজেদের জিনিস ক্রয় করলেও দীর্ঘমেয়াদে আপনি খরচ কমানোর স্বার্থে ঝুকে পড়বেন বিদেশী পন্যের দিকেই।

    নিজের কথা মনে পড়ে গেল।
    ভাল হইসে, ধীরে ধীরে আমি তোর পাঠক হচ্ছি 😐

    জবাব দিন
  10. শিরীন (৯৬-০২)

    আমি কম বুঝি এইসব 🙁 । তবে কখনো কখনো অলৌকিক কিছু ঘটার আশা করার মাঝে একটা প্রশান্তি আছে ( বিশেষত যখন কেউ গুরুতর অসুস্থ থাকে) । ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি বলে কি না জানি না, এই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারীকে মাঝে মাঝে ডাকলে ভালোই লাগে ! যদিও বিবর্তনের ব্যাপারেও আমার কোনও বিরোধ নাই। সচেতন ভাবে চিন্তা করলে স্রষ্টা আমার জন্য নিজেকে এক ধরণের সাজেশন দেয়া,শক্তি জোগানো।

    জবাব দিন
    • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

      হুম। আমার যেমন ল্যাম্পপোস্ট। নামাজ, রোজা নাই। অন্য ধর্মের কাউকে বিদ্বেষ করা শিখানোর গ্রন্থও নেই [আমি বলছিনা আপনি করেন, কিন্তু কুরয়ানে করার কথা বলা আছে]।

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদয।

      জবাব দিন
      • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)
        অন্য ধর্মের কাউকে বিদ্বেষ করা শিখানোর গ্রন্থও নেই [আমি বলছিনা আপনি করেন, কিন্তু কুরয়ানে করার কথা বলা আছে]।

        -এইখানে বলতে খুব ভয় লাগতাছে, তারপরেও একটা কথা না বলে পারলাম না- কুরয়ানে বিশ্বাস না করেই ধর্মহীন (অথবা নাস্তিক, অথবা অন্যকোন নামের) কেউ কেউ যে পরিমাণ ইসলাম (এবং অন্যান্য ধর্ম) বিদ্বেষী, তারা কুরয়ানে বিশ্বাস করলে না জানি কি অবস্থা হইতো!


        There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

        জবাব দিন
        • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

          হুম। এই ট্যাগিংটা চলেই আসে। সবাই ইহুদি পয়সা পেয়ে ইসলাম বিদ্বেষী বলে, আপনি তো তাও ভদ্র করে অন্যান্য ধর্ম শব্দটা ব্যবহার করলেন।

          আমাদের বিদ্বেষ কলম কেন্দ্রিক। ধর্মের মূল আইডিয়ার বিরুদ্ধে। আমরা বলতে চাই, তুমি যা ইচ্ছা তাই বিশ্বাস করো, কিন্তু তোমার বুলশিট আইডিয়া যদি প্রচার করতে আসো, আইন করতে চাও তাহলে আমরাও কথা বলতে বাধ্য হবো। আমরা সকল ধার্মিককে মেরে ফেলার ষড়ষন্ত্রকারী না। আমরা কাউকেই মেরে ফেলার পক্ষপাতি না। আমাদের কাছে জীবন একটাই।

          অপরদিকে আপনি যদি আমাদের উগ্র জঙ্গী, যারা খোদার বিচার প্রতিষ্ঠার নামে কাফেরদের নিয়ে মৃত্যুবরণ করে বেহেশতে হুর পাবার আশায় জীবনদানকারী এবং জীবনদান প্ররোচনাকারীদের সাথে তুলনা করেন, তাহলে কিছু বলার নেই।

          আপনার ভয়ের কিছু নেই। আপনাকে কেউ জবাই করবে না। ভালো থাকুন।

          জবাব দিন
          • রায়হান ভাইজান,
            পুনরায় একখানা ভ্রান্ত ধারনা মনে লইয়া একখানা ভুল কথা কইয়া বসলেন। ইহার প্রতিবাদ না করিয়াও পারলাম না 😀 আচ্ছা কুরআনের কোন অংশে অন্য ধর্মে বিদ্বেশ করতে শিখিয়েছে দয়া করিয়া জানাইবেন।কারন আমি কুরআন সব জান্তা নই।কিন্তু আমি যাহা জানি তাহা নিম্নরুপঃ
            আমাদের নবী রাসুল (সাঃ) তারঁ বিদায় হজ্বের শেষ ভাষনে কি বলে গেছেনঃ...ধর্ম নিয়া বাড়াবাড়ি করবেনা......ইত্যাদী ,যা আমাদের সকলের জানা। আরো একটাগুরুত্বপূর্ন কথা আল্লার রাসুল বলে গেছেন যা আমাদের দেশের কিছু ধর্ম প্রাণ (???) লোকেরা সযত্নে এড়িয়ে যেতে পেরেছেন কারণ বাংলাদেশে আমাদের মত অন্ধ ধর্ম এ বিশ্বাসী লোকের অভাব নাই যারা অন্যলোকের সামান্য কথা শুনেই লাফাইতে থাকে......কথাটুকু কতটুকু সত্য তা বিচার না করইয়াই।যাই হোক নবী (সাঃ) বলেছেনঃ
            'তোমরা কেউ কি এরকম মনে কর যে আল্লাহতায়ালা কুরআনের মাধ্যম ছারা আর কিছু নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন নি ? সাবধান হও, সত্য আল্লাহর নামে বলছি, কুরআনে যে ভাবে আছে সেই মত আরো অনেক কিছু নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর আল্লাহ এমনটি বৈধ করেননি যে তোমরা কিতাবী কওমদের (ইহুদী, খৃষ্টান ও অন্যান্য) বাড়িতে তাদের অনুমতি ছাড়াই ঢুকে পড়বে, তাদের নারীদের উত্যক্ত করবে বা তাদের ফলমুল খেয়ে ফেলবে।' (ফ্রম দা বুক The Sayings of Muhammad (s) , translated and edited by Abdullah Al-Mamun Al-Suhrawardy, M.A.,M.R.A.S.)
            বই খানা বাংলাদেশে এর বাজারে পাওয়া আজেবাজে হাদিসের বই গুলোর মত না এটুকু বলতে পারি।
            কি বুঝলেন??
            আর ভাই পূর্বে নবীরা যতবার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন তার প্রতিটাই হয়েছিল যখন কিনা মুসলমানদের উপর তা অন্যয় ভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। বলুন ভাই আপনাকে যদি কেউ আক্রমণ করতে আসে আপনি কি হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন??
            কিন্তু নবী (সাঃ) এর মৃত্যুর পর ইসলামে সকল প্রকার যুদ্ধ নিষিদ্ধ হয়েছে এবং সেই সাথে ইসলাম অন্য ধর্মের উপর চাপিয়ে দেওয়াও।
            এবার বুঝুন বাংলাদেশের মানুষকে কত সহজে ধর্মের নামে ভুল পথে চালানো যায়। কারন আমরা গুজব আর gossip করেই সারা হই।
            আমি এত কথা বলতে চাইনি বাধ্য হয়েই এত কিছু লিখলাম। ধর্মের কথা প্রচারও আমার কাজ নয়। কিন্তু ধর্মের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন বুলশিট আইডিয়া প্রচার করে মানুষের সস্তা বাহবাহ কুরাতে চাইলে আমি তা হাত গুটিয়ে বসে না দেখার ভান করতে পারিনা।
            হায়রে যে বাংলা টাইপিং এর ভয়ে বাংলা লিখতাম না তাকে দিয়ে এত কিছু লিখালেন। এই ক্রেডিট পুরোটাই আপনার প্রাপ্য।
            ভালো থাকবেন ।

            জবাব দিন
  11. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    রায়হান আবীর,

    ধারাবাহিক ভাবে লিখা এই পোষ্টের পেছনে তোমার কঠোর পরিশ্রমে পাঁচতারা।

    বিবর্তনে আমার আগ্রহ আশংকাজনক মাত্রায় কম, নানা কারণেই। সেগুলোর একটা কারণ বেরিয়ে এসেছে বিবর্তনবাদ প্রয়োগের মাধ্যমে তোমার মুক্তবাজার ব্যবস্থা অনুধাবনে।

    লেখার এই পর্যায়ে পাঠকদের উদ্দেশ্যে মুক্তবাজার অর্থনীতির সাথে প্রাকৃতিক নির্বাচন পক্রিয়ার সাথে সাদৃশ্য তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের মনকে এই তত্ত্ব গ্রহণে কিংবা বাস্তবতা গ্রহণে প্রস্তুত করার চেষ্টা করবো।

    - এই উদ্ধৃতির মধ্যে দুটো দিকে আমি মনোযোগ আকর্ষন করবোঃ এক, প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রকৃয়াটি দীর্ঘদিনব্যাপী চলে যা'র মধ্য দিয়ে জীব জগতে প্রজাতিসমূহ বিবর্তিত হয় (সম্ভবতঃ এমনটিই পড়েছি নানা পোষ্টে, আমি বিবর্তন বুঝিনা)। ফলে এক প্রজাতি থেকে আরেক প্রজাতির উদ্ভব সহজে বোঝা যায় না। অথচ, মুক্তি বাজারের উদ্ভবের বিষয়টি 'বিবর্তন-না-বোঝা' এই আমিও বুঝি 'কতিপয় ক্ষমতাধর মানুষের' নির্বাচিত ব্যবস্থা হিসেবে, আর এর ইহিহাসও খুব বেশি পুরোনো নয়, মাত্র ৪০ বছরের কাছাকাছি। বিবর্তনবাদের সম্ভাব্য একটা অপব্যবহার হচ্ছে, এর মাধ্যমে কয়েক কোটি মানুষকে অভুক্ত রাখা/গিনিপিগের মতো ইউজ করা/ এমনকি মেরে ফেলার দায়কেও নিরীহ প্রকৃতির ঘারে দিব্যি চাপিয়ে দিয়ে স্বস্তি পাওয়া যায়। এইক্ষেত্রে আমি মনে করি, বিবর্তনবাদও ধর্মের মতই মানুষ মারাকে যায়েজ করার জন্য ইউজড হওয়ার আশংকা মুক্ত নয়। (এই কারণেই কি কোন কোন বিবর্তন-বিশ্বাসী তৃতীয় বিশ্বে পাশ্চাত্যের উপনিবেশবাদী ও নয়া-সাম্রাজ্যবাদী শাসন, যুদ্ধ, মানুষ হত্যা, ইত্যাদিকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়?)

    দুই, বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত/সত্যকে গ্রহন করার জন্য মানুষের মনকে প্রস্তুত করার ব্যাপারটা স্বীকার করে নিলে যেকোন জ্ঞানের আলোচনায় সাইকোলোজীও বিবেচনার দাবিদার, কিন্তু কার্ল পপারের বর্ণিত 'ফলসিফিকেশন'-ভিত্তিক বিজ্ঞানে তা'র স্থান কোথায় (পপারের সমালোচনায় থমাস কুনের History of Scientific Revolution এর নবম অধ্যায় দ্রষ্টব্য)?


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
    • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

      দুই নম্বর পয়েন্টটা মূলতঃ বিজ্ঞানের দর্শন সম্পর্কিত, সরাসরি বিবর্তন সংশ্লিষ্ট নয়। তাই এটা যেন বিবর্তন এবং তার আলোকে মুক্তবাজার অর্থনীতির থেকে আলোচনা অন্যদিকে ঘুরিয়ে না দেয়। (সম্পাদিত)


      There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

      জবাব দিন
    • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

      বিবর্তনবাদ আছে বলেই হিটলার এভাবে মানুষ মারতে দ্বিধাবোধ করেননি- এইটা চরম জনপ্রিয় প্রচারণা। যাই হোক, বৈজ্ঞানিক বিবর্তনবাদ আর সামাজিক বিবর্তনবাদ দুইটি খুবই আলাদা জিনিস এবং একেবারে ভিন্ন জিনিস। সামাজিক বিবর্তনবাদের সাথে সায়েন্টিফিক ডারউইনিজমের কোনো ধরণের সম্পর্ক নেই। এইটা মূলত ল্যামার্কিও আইডিয়া।

      তারপরো আমার লেখায় সমাজবিজ্ঞানের একটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার চলে আসায় ডারউইনিজমকে সামাজিক বিবর্তন একসুতোয় গাঁথা মনে হওয়ার বাজে ধারণা পাঠকের মাথায় চেপে বসা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আমার উদ্দেশ্য ছিলো অন্যরকম- চারিদিকে যে বিবর্তন হয় সেটা ধারণা দেওয়া। এই ধারণাটুকু বুঝতে পারলেই বিবর্তনে আগ্রহ আসবে বলে মনে হয়েছিলো। এই উদাহরণটা আমি খুব সম্ভবত কবুতরের ব্রিডিং দিয়েই দিতে পারতাম। চোখের সামনেই অল্প দিনে আর্টিফিশিয়াল ব্রিডিং এর মাধ্যমে এক জাতের কবুতরকে অন্য জাতের করে ফেলা এখন নস্যি ব্যাপার। বন্যা আহমেদও মুক্তবাজার অর্থনীতির এই উদাহরণ পছন্দ করেননি- আমার লেখা দেখে বললেন,

      বাজার ব্যবস্থার এমন জটিলতা, বিভিন্ন জিনিসের সাথে পারষ্পরিক সম্পর্ক, এই বিশাল ব্যবস্থা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠার পেছনে যে বাস্তব কারণ, যুক্তি ও প্রমান রয়েছে সেগুলো সব অস্বীকার করে কেউ যদি এটিকে এক মহাপরাক্রমশালী, ক্ষমতার মোহে অন্ধ, অর্থনৈতিক আইন প্রয়োগকারী ব্যক্তির কাজ বলে অভিহিত করে তাহলে তাকে আমরা কী বলবো?

      রায়হান, তুমি এখানে আইডি কে রিফিউট করতে গিয়ে যেভাবে মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা নিয়ে এসেছো তা কিন্তু আমার কাছে ঠিক গ্রহণযোগ্য হল না। অর্থনীতি এবং বিবর্তনকে আলাদা রাখাই বোধ হয় ভালো। না হলে সোশ্যাল ডারউইনিজিমের মত মতবাদের ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। আর যাই বল না কেন, আজকের মুক্তবাজার অর্থনীতি কোনভাবেই ‘যে সবচেয়ে যোগ্য সেই টিকে থাকবে’ তা তেই সীমাবদ্ধ নেই। এখানে সাম্রাজ্যবাদের একটা বিশাল ভূমিকা আছে, যার কলকাঠি অনেকটাই মহাক্ষমতাধর কর্পোরেট পুঁজির ( এবং আরও অন্যান্য ফ্যাক্টর) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই আলোচনায় ঢুকতে গেলে আসলে ক্যাচাল লেগে যাবে। জানি না অন্যরা কি মনে করে, কিন্তু আমার মতে অর্থনীতি এবং প্রাণের বিবর্তনঅকে বা জীববিজ্ঞানকে আলাদা রাখা উচিত। বাজার ব্যবস্থার এমন জটিলতা, বিভিন্ন জিনিসের সাথে পারষ্পরিক সম্পর্ক, এই বিশাল ব্যবস্থা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠার পেছনে যে বাস্তব কারণ, যুক্তি ও প্রমান রয়েছে সেগুলো সব অস্বীকার করে কেউ যদি এটিকে এক মহাপরাক্রমশালী, ক্ষমতার মোহে অন্ধ, অর্থনৈতিক আইন প্রয়োগকারী ব্যক্তির কাজ বলে অভিহিত করে তাহলে তাকে আমরা কী বলবো?

      রায়হান, তুমি এখানে আইডি কে রিফিউট করতে গিয়ে যেভাবে মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা নিয়ে এসেছো তা কিন্তু আমার কাছে ঠিক গ্রহণযোগ্য হল না। অর্থনীতি এবং বিবর্তনকে আলাদা রাখাই বোধ হয় ভালো। না হলে সোশ্যাল ডারউইনিজিমের মত মতবাদের ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। আর যাই বল না কেন, আজকের মুক্তবাজার অর্থনীতি কোনভাবেই ‘যে সবচেয়ে যোগ্য সেই টিকে থাকবে’ তা তেই সীমাবদ্ধ নেই। এখানে সাম্রাজ্যবাদের একটা বিশাল ভূমিকা আছে, যার কলকাঠি অনেকটাই মহাক্ষমতাধর কর্পোরেট পুঁজির ( এবং আরও অন্যান্য ফ্যাক্টর) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই আলোচনায় ঢুকতে গেলে আসলে ক্যাচাল লেগে যাবে। জানি না অন্যরা কি মনে করে, কিন্তু আমার মতে অর্থনীতি এবং প্রাণের বিবর্তনঅকে বা জীববিজ্ঞানকে আলাদা রাখা উচিত।

      যাই হোক, এইটুকু অংশ তখনই বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি। নতুন লিখছি এবং সবার আলোচনার মাধ্যমে শিখছিও 🙂

      এইবার আরেকটা প্রসংগ-

      বিবর্তনবাদও ধর্মের মতই মানুষ মারাকে যায়েজ করার জন্য ইউজড হওয়ার আশংকা মুক্ত নয়।

      ওকে। বিবর্তন একটি বৈজ্ঞানিক থিওরি। এইটা একটা তত্ত্ব হতে হলে যতধরণের টেস্ট হওয়া সম্ভব সব পার করেই থিওরি হয়েছে। ঠিক যেমন আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব। এখন আইনস্টাইনের E=mc^2 কেউ যদি এটোম বোম বানাতে ব্যবহার করে, এবং তাতে করে কোটি কোটি মানুষও মারে সেক্ষেত্রে দোষটা কী আইনস্টাইনের? কেন সে এই জিনিস আবিষ্কার করলো? দোষটা কী সায়েন্সের? কেন তারা ক্ষতিকর এমন জিনিস আবিষ্কার করে?

      না। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব খারাপ কাজে ব্যবহার হতে পারে এই সন্দেহে তাকে আস্তাকুড়ে ফেলে দেওয়ার অবকাশ নাই। সত্য সত্যই।

      অনেক কিছুই মানুষ মারার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হবার অবকাশ আছে।

      বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত/সত্যকে গ্রহন করার জন্য মানুষের মনকে প্রস্তুত করার ব্যাপারটা স্বীকার করে নিলে যেকোন জ্ঞানের আলোচনায় সাইকোলোজীও বিবেচনার দাবিদার, কিন্তু কার্ল পপারের বর্ণিত ‘ফলসিফিকেশন’-ভিত্তিক বিজ্ঞানে তা’র স্থান কোথায় (পপারের সমালোচনায় থমাস কুনের History of Scientific Revolution এর নবম অধ্যায় দ্রষ্টব্য)?

      কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিমূর্ত একটা জিনিস। আমরা যেভাবে বাস্তবতাকে দেখি সেভাবে দেখলে এই জিনিস বোঝা সম্ভব নয়। এই কারণেই আমাদের ভিন্ন ডায়মেনশনে চিন্তা করতে হয়। সেটা পারলে জিনিসটা গলধকরণ সহজ হয়। বিবর্তন তত্ত্বকেও স্বাভাবিক ভাবে বিমূর্ত বলে মনে হয়, এই কারণেই মন প্রস্তুতের কথা এসেছে। আমি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে চেয়েছি, এই দেখ এইখানে বিবর্তন হয়। জাস্ট তার মন থেকে বিবর্তন "একটা অসম্ভব জিনিস" এই প্রি-ডিটারমাইণ্ড আইডিয়াটা ঘষে তোলার জন্য। আশাকরি বোঝাতে পারলাম।

      জবাব দিন
      • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)
        আমার উদ্দেশ্য ছিলো অন্যরকম- চারিদিকে যে বিবর্তন হয় সেটা ধারণা দেওয়া।

        - তাহলে দেখা যাচ্ছে, একটা নিরীহ উদ্দেশ্য নিয়ে মুক্তবাজার অর্থনীতিকে টেনে আনলেও সেটা সামাজিক বিবর্তনবাদের মত ভয়াবহ দিকে টার্ণ নিচ্ছে। আমি এই বিপদের সম্ভাবনার কথাটাই বলতে চেয়েছি। [ভালো লাগল যে, তুমি এই উদাহরণ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছো]। এখান থেকেই বলেছি বিবর্তনবাদকে অপব্যবহার করার সম্ভাবনার কথা। তবে আমার মন্তব্যের এইখান থেকে আলাদা কোট করে তুমি যেভাবে সমগ্র বিজ্ঞানের বিরুদ্ধেই আমাকে টেনে দাড় করালে সেটা ভালো লাগল না। ঠিক এজন্যই বিবর্তন সম্পর্কিত দারুন কিছু পোষ্ট দেখার পরও আলোচনায় আগ্রহ পাই না। বিবর্তনকে বিজ্ঞানের সমার্থক করে দেখাটা আমার কাছে এখনো বোধগম্য নয়। (আমি প্রকৃতি বিজ্ঞান না পড়ে সামাজিক বিজ্ঞান পড়েছি বলেই কি?)।


        There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

        জবাব দিন
        • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)
          আমার মন্তব্যের এইখান থেকে আলাদা কোট করে তুমি যেভাবে সমগ্র বিজ্ঞানের বিরুদ্ধেই আমাকে টেনে দাড় করালে সেটা ভালো লাগল না।

          প্রথমত আমি ভিন্ন অর্থ টেনে বের করার জন্য একটা কথার নির্দিষ্ট লাইন কোট করিনা। আমি জাস্ট ঐ পয়েন্ট সম্পর্কে এখন আমি মতামত দিবো এই দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য কোট করি। সেটা তো আপনার হয়েছেই। আর আপনাকে আমি সমগ্র বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে দাঁড় করাই নাই। আমি বলতে চেয়েছে, যেটা সত্য সেটা সত্যি। এইটা কারও ভালো করছে না নিউক্লিয়ার উইপন বানাচ্ছে তার সাথে সত্য মিথ্যা নির্ধারিত হয়না।

          বিবর্তনকে বিজ্ঞানের সমার্থক করে দেখাটা আমার কাছে এখনো বোধগম্য নয়। (আমি প্রকৃতি বিজ্ঞান না পড়ে সামাজিক বিজ্ঞান পড়েছি বলেই কি?)।

          একমত। আপনি সামাজিক বিজ্ঞানী বলেই বিবর্তনকে বিজ্ঞান বলে মনে হচ্ছেনা।

          জবাব দিন
  12. রাব্বি (১৯৯৮-২০০৪)

    আমি সচেত্ন ভাবেই তোমার লেখাতে কমেন্ট করা থেকে এড়িয়ে যেতাম। কিন্তু এই সিরিজটা ভাল ছিল।
    ইন ব্রিডিং ব্যাপারটার ভালো একটা example এইখানে দিলাম। Artificial Intelligence নিয়া পড়ানোর সময় আমার লেকচারার আমারে এই ব্যাপারে বিয়াপক গিয়ান দিছিল। আপাততো কামলা মারতে ব্যাস্ত আছি।সময় নিয়া আর ও কথা হবে।

    জবাব দিন
  13. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    সবচেয়ে ভাল্লাগছে লেখার একমুখীনতা দেখে। কখনো আউট অফ ট্র্যাক হস নাই, সবকিছু মিলে শেষে সিদ্ধান্ত টানার পুরো ব্যাপারটা খুবোই চমৎকার হইছে।
    বড় মন্তব্য করব না। আমিও লেখালেখি করতাছি.... 😀

    জবাব দিন
  14. রিজওয়ান (২০০০-২০০৬)

    রায়হান আবীর ভাই, চমৎকার লিখেছেন; এজন্যে ধন্যবাদ। বিবর্তনবাদ নিয়ে খুব কম পড়াশোনা আছে তাই পোষ্ট সম্পর্কিত কোন কিছু বলার সাহস নিচ্ছি না।
    বছর তিন চারেক পরে যদি কিছু আইডিয়া আসে.........তখন না হয় দেখা যাবে...
    আপাতত নির্ধর্মের চর্চা শুধু কোবতে লেখায় আর হেভী মেটাল শোনায় আছে, আর কোথাও নাই। 🙂 🙂 🙂

    জবাব দিন
  15. ডারউইনবাদীরা সহ মোটামুটি সবায় বিবর্তনবাদকে ‘The theory of evolution’ তথা ‘বিবর্তনবাদ তত্ত্ব’ বলে থাকেন। কিন্তু এখানে স্মরণ রাখতে হবে যে, এই তত্ত্ব কিন্তু পদার্থবিদ্যার কোন তত্ত্বের মতো নয়। অর্থাৎ পদার্থবিদ্যার তত্ত্ব যেমন গাণিতিক মডেলের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, বিবর্তনবাদ তত্ত্ব মোটেও সেরকম কিছু নয়। ফলে ‘বিবর্তনবাদ তত্ত্ব’ নামকরণ অনেকের কাছেই বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। তবে তত্ত্বের আবার কিছু শ্রেণীবিভাগও আছে। বিবর্তনবাদ তত্ত্ব হয়তো অন্য কোন শ্রেণীর মধ্যে পড়তে পারে। যাহোক, বিবর্তনবাদ তত্ত্ব আর বিজ্ঞানের কোন তত্ত্ব যে এক নয় সেটা বুঝানোর জন্য একটি উদাহরণ দেয়া যাক:

    ১৯০৫ সালে প্রকাশিত এক পেপারে আইনস্টাইন প্রস্তাব করেন যে, ভর ও শক্তি পরস্পরের সমানুপাতিক। এই প্রস্তাবকে শুধু মাত্র কথা বা লিখার মাধ্যমেই ব্যক্ত করা হয়নি, সেই সাথে গাণিতিক মডেলও দাঁড় করানো হয়েছে। তাঁর সেই বিখ্যাত সূত্রটি হচ্ছে, E = mc^2. এখন কেউ যদি আইনস্টাইন প্রস্তাবিত এই তত্ত্বকে অবিশ্বাস করেন বা তার সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন সেক্ষেত্রে এই গাণিতিক সূত্র দিয়ে পুনঃ পুনঃ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে প্রমাণ দেখানো সম্ভব। এক্ষেত্রে কোন রকম বিশ্বাস বা অনুমান বা কল্পনার স্থান নেই। পরীক্ষামূলক উপাত্তই কথা বলবে।

    এরকম আরো অনেক উদাহরণ দেয়া সম্ভব। তবে ঠিক কী বুঝাতে চাওয়া হচ্ছে সেটা যে কেউ বুঝতে পারবেন বলেই বিশ্বাস। অন্যদিকে বিবর্তনবাদ তত্ত্ব যেমন গাণিতিক সূত্র-ভিত্তিক কোন তত্ত্ব নয় তেমনি আবার সেরকম কোন মডেল বা সূত্র দাঁড় করানোও সম্ভব নয়। অধিকন্তু, বিবর্তনবাদ তত্ত্ব আধুনিক বিজ্ঞানের ফলসিফিকেশন টেস্ট এর আওতায়ও পড়ে না। অথচ বিজ্ঞানের নামে আমজনতাকে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা করা হয়। আপেক্ষিকতা তত্ত্ব বা নিউটনের গতিসূত্র বা বিজ্ঞানের যে কোন তত্ত্বই হোক না কেন, এগুলোর সাথে বিবর্তনবাদ তত্ত্বের কোন তুলনাই হয় না। কারণগুলো নিম্নরূপ:

    ১। বিজ্ঞানের তত্ত্বগুলো গণিত, পদার্থবিদ্যার সূত্র, ও পুনঃ পুনঃ পরীক্ষা-নিরীক্ষা লব্ধ ফলাফলের উপর নির্ভরশীল। কেউ বিশ্বাস না করলে তাকে যে কোন সময় গণিত-পদার্থবিদ্যার সূত্র দিয়ে বা এমনকি ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও প্রমাণ দেখানো সম্ভব। যে সকল ক্ষেত্রে গাণিতিক মডেল নেই বা দাঁড় করানো সম্ভব নয় সে সকল ক্ষেত্রেও অসংখ্যবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যৌক্তিক একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব। যেমন কেউ পৃথিবীর আকার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলে তাকে বিভিন্ন যুক্তি-প্রমাণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্বাস করানো সম্ভব যে পৃথিবীর আকার সত্যি সত্যি স্ফেরিক্যাল, ডিস্কের মতো সমতল নয়।

    ২। বিজ্ঞানের তত্ত্বের ক্ষেত্রে যেমন প্রতারণা বা কল্পনার কোন কাজ-কারবার নাই তেমনি আবার কেউ তার দরকারও মনে করে না। কোথাও কোন ভুল-ভ্রান্তি ধরা পড়লে তারা নিজেরাই সেই ভুল সংশোধন করে নিতে প্রস্তুত। অতএব এই সকল ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের উপর পূর্ণ আস্থা রাখা যেতে পারে। অন্যদিকে বিবর্তনবাদ তত্ত্ব গণিত, পদার্থবিদ্যা, ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ভিত্তিক কোন তত্ত্ব নয়। এক্ষেত্রে পুনঃ পুনঃ পরীক্ষা-নিরীক্ষারও কোন সুযোগ নেই। বিবর্তনবাদ তত্ত্বে কেউ অবিশ্বাস বা সংশয় প্রকাশ করলে তাকে পুনঃ পুনঃ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্বাস করানো সম্ভব নয়। যেমন আজ থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর আগে কোন একটি প্রাণী থেকে অন্য একটি প্রাণী বিবর্তিত হয়ে থাকলেও সেটিকে পুনঃ পুনঃ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা অসম্ভব। কারণ এটি একটি অতীত ঘটনা এবং সেটি একবারই ঘটেছে। অনুরূপভাবে, ভল্লুকের মতো চার-পা ওয়ালা কোন প্রাণী থেকে ধীরে ধীরে তিমি মাছের বিবর্তন হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে সেটিকে বার বার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রমাণ করা অসম্ভব, যেমন অসম্ভব যীশুখ্রিস্টের ক্রুসিফিকসন ও রেজারেকশনের ঘটনাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রমাণ করা। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, যীশুখ্রিস্টের ক্রুসিফিকসন ও রেজারেকশনের ক্ষেত্রে অন্ততঃ চাক্ষুস স্বাক্ষী আছে বলে দাবি করা হলেও ভল্লুকের মতো কোন প্রাণী থেকে যে ধীরে ধীরে তিমি মাছ বিবর্তিত হয়েছে তার পক্ষে যেমন কোন চাক্ষুস স্বাক্ষী নেই তেমনি আবার এটি একটি অবিশ্বাস্য বা দৈব ঘটনার মতো! অতএব ভল্লুকের মতো প্রাণী থেকে ধীরে ধীরে তিমি মাছের বিবর্তন একটি অন্ধ-বিশ্বাস। এ বিষয়ে রিচার্ড ডকিন্সের ভিডিওটা দেখা যেতে পারে। সেখানে শিশু বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য সুন্দর করে কিছু ড্রয়িং দেখানো হয়েছে। বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য অবশ্য ঠিকই আছে। কিন্তু এগুলোকেই যখন বাচ্চাদের বাপ-চাচা-দাদুর বয়সী লোকজন পৃথিবীর ঘূর্ণনের মতো প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানের নামে বিশ্বাস করে তখন সত্যিই হাসি পায়!

    ৩। বিবর্তনবাদ তত্ত্ব ফলসিফিকেশন টেস্ট এর আওয়ায় পড়ে না। যেমন কেউ যদি লক্ষ লক্ষ বছর আগের কোন এক ফসিল থেকে নিজের মতো করে ড্রয়িং করে মানুষ ও শিম্পাঞ্জির মধ্যকার ‘মিসিং লিঙ্ক’ বলে দাবি করে সেক্ষেত্রে তার এই দাবিকে কিন্তু খন্ডন করা প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে আবার যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার এই দাবিকে কোন রকম প্রমাণও বলা যাবে না। কারণ যাকে মানুষ ও শিম্পাঞ্জির মধ্যকার ‘মিসিং লিঙ্ক’ বলে দাবি করা হচ্ছে সেটি স্বতন্ত্র একটি প্রজাতির ফসিলও হতে পারে! অতএব দেখা যাচ্ছে যে লক্ষ লক্ষ বছর আগের ফসিল বা ফসিলের অংশবিশেষ দিয়ে বিবর্তনবাদ তত্ত্বকে কোনভাবেই প্রমাণ করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে স্রেফ বিশ্বাস বা অবিশ্বাস ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা নেই।

    ৪। বিজ্ঞানের কোন তত্ত্বের সাথে কখনো কোন আইডিওলজি বা দর্শন জড়িত ছিল না বা থাকে না। বিজ্ঞানীরা কখনো ক্যাম্পেন করে তাদের তত্ত্ব-নির্ভরশীল কোন দর্শন প্রচার করেননি। অন্যদিকে বিবর্তনবাদ তত্ত্বের সাথে ওত-প্রোতভাবেই একটি বস্তুবাদী দর্শন জড়িয়ে আছে। যদিও সমালোচনা ও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে তারা কিছুটা পিছুটান দেয়া শুরু করেছেন তথাপি সেই দর্শনই কিন্তু মূল। তারা চাইলেই সেই দর্শনকে বাদ দিয়ে স্রেফ জৈব বিবর্তনের উপর গুরুত্ব দিতে পারবেন না। ঘুরে-ফিরে তাদের দর্শন চলেই আসবে, প্রতিনিয়ত আসছে। ডারউইনবাদী মানেই যে নাস্তিক বা বস্তুবাদী বা ধর্মে অবিশ্বাসী সেটা তো সবায় দেখছে; যদিও এই অভিযোগ ওঠার পর দু-এক জন ভণ্ড ডারউইনবাদী বিজ্ঞানীর আগমণও লক্ষ্য করা যায়, যারা নাকি একই সাথে ধর্ম ও বিবর্তনবাদ তত্ত্বে বিশ্বাস করেন। বিজ্ঞানের অন্য কোন তত্ত্বের ক্ষেত্রে এরকম কিছু কখনো ঘটেনি।

    জবাব দিন
    • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

      আপনার প্রশ্নগুলো এর আগেও অনেকেই করেছেন। এর জবাবও এটলিস্ট হাজারবার দেওয়া হয়েছে। বিবর্তন গানিতিক মডেলে দেখানো যায়না, বিবর্তন ফলসিফিকেশন টেস্টের আওতায় পড়েনা এইসব ভুয়া কথা বলে আর কতদিন। দেখা যাক, বিবর্তন আসলেই ফলসিফিকেশন টেস্টের আওতায় পড়ে কীনা-

      প্রতিটা নতুন ফসিল আবিষ্কার বিবর্তন তত্ত্বের জন্য একটি পরীক্ষা। একটি ফসিলও যদি বিবর্তনের ধারার বাইরে পাওয়া যায় সেই মাত্র তত্ত্বটি ভুল বলে প্রমানিত হবে। একবার বিজ্ঞানী জেবি এস হালডেনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কিভাবে বিবর্তনকে ভুল প্রমাণ করা যায়? উত্তরে হালডেন বলেছিলেন,

      কেউ যদি প্রক্যাম্বরিয়ান যুগে খরগোশের ফসিল খুঁজে পায়।

      বলা বাহুল্য এ ধরনের কোন ফসিলই এ পর্যন্ত আবিস্কৃত হয় নি। না হওয়ারই কথা, কারণ বিজ্ঞানীরা বিবর্তনের যে ধারাটি আমাদের দিয়েছেন তা হল -

      মাছ উভচর সরীসৃপ স্তন্যপায়ী প্রানী।

      খরগোশ যেহেতু একটি পুরোপুরি স্তন্যপায়ী প্রাণী, সেহেতু সেটি বিবর্তিত হয়েছে অনেক পরে এবং বিভিন্ন ধাপে (মাছ থেকে উভচর, উভচর থেকে সরিসৃপ এবং সরিসৃপ থেকে শেষ পর্যন্ত খরগোশ), তাই এতে সময় লেগেছে বিস্তর। প্রিক্যাম্বরিয়ান যুগে খরগোশের ফসিল পাওয়ার কথা নয়, কারণ বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী এ সময় (প্রিক্যাম্বরিয়ান যুগে) থাকার কথা কতকগুলো আদিম সরল প্রাণ – যেমন নিলাভ সবুজ শৈবাল, সায়নোব্যকটেরিয়া ইত্যাদি (ফসিল রেকর্ডও তাই বলছে)। আর স্তন্যপায়ী প্রাণীর উদ্ভব ঘটেছে ট্রায়োসিক যুগে (প্রিক্যাম্বরিয়ান যুগ শেষ হওয়ার ৩০ কোটি বছর পরে)। কাজেই কেউ সেই প্রিক্যাম্বরিয়ান যুগে খরগোশের ফসিল খুঁজে পেলে তা সাথে সাথেই বিবর্তনতত্ত্বকে নস্যাৎ করার জন্য যথেষ্ট হত[1]।

      অধ্যাপক রিচার্ড ডকিন্স এবং জেরি কয়েন তাদের একটি প্রবন্ধে সেজন্যই বলেছেন[2] -

      সত্যি কথা বলতে কি, একটি খাঁটি ফসিলও এখন পর্যন্ত কোন ‘ভুল’ জায়গায় পাওয়া যায়নি - যা বিবর্তনের ধারাবাহিকতাকে ক্ষুন্ন করতে পারে। যদি এমন কোন ‘বেমানান’ ফসিল কখনও পাওয়া যেত, তাহলে এক নিমেষেই বিবর্তনতত্ত্বের সলিল সমাধি ঘটতো।

      এ ছাড়া নিম্নলিখিত ব্যাপারগুলো সহজেই বিবর্তন তত্ত্বকে মিথ্যা-প্রতিপাদন করতে পারে[3] -

      *

      যদি কেউ স্ট্যাটিক ফসিল রেকর্ড (অর্থাৎ সময়ের সাথে সাথে ফসিল রেকর্ডের কোন পরিবর্তন না পাওয়া গেলে) খুঁজে পায়।
      *

      যদি কেউ বোরাক, সেন্টুর (অশ্বমানব) কিংবা মারমেইডের (মৎসকন্যা) মতো হাইব্রিড প্রাণী খুঁজে পায় - যারা বিভিন্ন প্রজাতির কিংবা পরষ্পর সম্পর্কহীন বিভিন্ন শ্রেনীর জীবদেহের বিভিন্ন অংগ প্রত্যঙ্গের সমন্বয়ে গঠিত হবে, এবং যে সমস্ত প্রাণীর উদ্ভবকে আনুভূমিক জিন সঞ্চালন, সিমবায়োসিস বা অন্য কোন উপায়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
      *

      জুরাসিক যুগের শিলায় (১ কোটি ৪৪ লাখ বছর পুরনো) ডায়নোসরের ফসিলের সাথে আধুনিক মানুষের জীবাশ্ম খুজে পেলে।
      *

      যদি কোন প্রক্রিয়ার সন্ধান পাওয়া যায় যা পরিব্যক্তিকে পুঞ্জীভূত হতে বাঁধা দিবে।
      *

      অলৌকিক উপায়ে (বা জেনেটিক ধারা ভেঙ্গে) কোন প্রানীর 'সৃষ্টি' হওয়া পর্যবেক্ষণ করা গেলে।
      *

      ফসিল রেকর্ডের সাথে জেনেটিক্সের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের যদি মিল না পাওয়া গেলে কিংবা আনবিক জীববিজ্ঞান এবং তুলনামূলক জেনেটিক্সের তথ্য থেকে একই উপসংহারে পৌঁছনো না গেলে । অর্থাৎ জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা থেকে পাওয়া তথ্য যদি পরষ্পরবিরোধী হয় তাহলেই বিবর্তনতত্ত্ব নিয়ে আবার নতুন অরে চিন্তা করার প্রশ্ন আসবে।

      উল্লেখ্য যে মিথ্যা-প্রতিপাদনযোগ্যতার ধারণাটা বিজ্ঞানের দার্শনিক কার্ল পপার ’৩০ এর দশকে প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন। তাঁর প্রস্তাবনার ব্যাখ্যাকে পরে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে, নয়ত অনেক বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমই বাতিল হয়ে যেতে[4] ।

      [1] অভিজিৎ রায়, বিবর্তনের সহজ পাঠ, যুক্তি, সংখ্যা ৩, জানুয়ারী ২০১০

      [2] Richard Dawkins and Jerry Coyne, One side can be wrong, The Guardian, Thursday 1 September 2005 :

      'And - far more telling - not a single authentic fossil has ever been found in the "wrong" place in the evolutionary sequence. Such an anachronistic fossil, if one were ever unearthed, would blow evolution out of the water'.

      [3] Mark Isaak, The Counter-Creationism Handbook, University of California Press; 2007

      [4] বিবর্তন সম্পর্কে ১৫টি ভুল ধারণা (সায়েন্টিফিক আমেরিকানে প্রকাশিত জন রেনির “15 Answers to Creationist Nonsense”, জুলাই ২০০২ প্রবন্ধের অনুবাদ), পৃথিবী, মুক্তমনা

      যাউজ্ঞা প্রতিবার এই উত্তর দেওয়া থেকে বাঁচার জন্য একটা পলিসি নেওয়া হইছে। আপনার কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর পাবার যদি আসলেই আকাংখা থাকে তাহলে দয়া করে নীচের লিংকগুলোয় ক্লিক করবেন। অল্প কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে।

      বিবর্তন কেন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব [সায়েন্টিফিক তত্ত্ব, জাকির নায়েকের আবিষ্কৃত তত্ত্ব না]

      বিবর্তন কখনও পর্যবেক্ষণ করা হয়নি এবং এর ফলাফল পুনরাবৃত্তি করা সম্ভব না।

      বিবর্তন কখনো বৈজ্ঞানিক ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে না।

      আরও যদি প্রশ্ন থেকে থাকে, তাইলে এইখানে যান।

      জবাব দিন
  16. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    শহীদুল আহসানের পোস্ট এবং রায়হান আবীরের এই পোস্টে এরপর আশা করি নতুন করে কেউ কোনো মন্তব্য করবেন না। একজন সিনিয়র ভাই হিসাবে সবার কাছে এটা আমার অনুরোধ। (সম্পাদিত)


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  17. তানভীর (০২-০৮)

    চার্লস ডারউইনকে যদি ডারউইনবাদীদের গড ধরা হয় তাহলে রিচার্ড ডকিন্স হবেন আধুনিক যুগের অবতার বা পয়গম্বর। সেই রিচার্ড ডকিন্স Wendy Wright এর সাথে ইন্টারভিউ এর সময় ডারউইনিয়ান সোসাইটি সম্পর্কে খুব জোর দিয়ে একাধিকবার বলেছেন: “Society based on Darwinian principles would be brutal, harsh, and unpleasant. I want not to live in a Darwinian society.”

    অর্থাৎ ডারউইনিয়ান নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরী সমাজ হবে বর্বর, কঠোর, এবং অপ্রীতিকর – যে সমাজে রিচার্ড ডকিন্স নিজেই বাস করতে চান না! চিন্তা করুন! ডারউইনবাদীদের আধুনিক অবতার বা পয়গম্বর নিজেই যেখানে ডারউইনিয়ান সমাজে বাস করতে চান না – সেখানে তার কিছু বাংলা অনুসারী বিজ্ঞানের নামে ডারউইনিয়ান সমাজ তৈরীর স্বপ্ন দেখে!
    This is a preview of "ডারউইনিয়ান সোসাইটি সম্পর্কে রিচার্ড ডকিন্স".

    বিবর্তনবাদ তত্ত্ব প্রকৃতপক্ষেই সত্য কি-না –
    এই বিষয়টাকে এক পাশে রেখে ডারউইনবাদীদের বিশ্বাস ও তথাকথিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নিয়েই মূলতঃ আলোচনা-সমালোচনা করা হবে। ডারউইনবাদীদের কাল্পনিক জগৎ তথা “Long Ago and Far Away” থেকে বাস্তব জগতে এসে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই তাদের বিজ্ঞানের নামে একই সাথে অপবিজ্ঞান, ফেয়ারি-টেল, কুসংস্কার, ও প্রতারণার গোমর ধরা পড়ে। এটি বুঝার জন্য যেমন তসলিমা নাসরিন হওয়ার দরকার নাই তেমনি আবার উচ্চতর গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ণবিদ্যা, ও জীববিদ্যার উপর পিএইচডি থাকারও কোন প্রয়োজন নাই। সামান্য বুদ্ধিমত্তা আর কমনসেন্স-ই যথেষ্ট।

    ডারউইনবাদী নাস্তিকদের অন্ধ-বিশ্বাস অনুযায়ী ব্যাকটেরিয়া-সদৃশ সরল এককোষী একটি জীব থেকে বোবা-কালা-অন্ধ-অচেতন ও উদ্দেশ্যহীন প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে মিলিয়ন মিলিয়ন ধরণের মাছ, পশু-পাখি, সরীসৃপ, কীট-পতঙ্গ, উদ্ভিদ, ও মানুষ সহ সকল প্রকার প্রজাতি মন্থর গতিতে বিবর্তিত হয়েছে। তাদের মধ্যে যেমন জলচর-স্থলচর-উভচর প্রজাতি আছে তেমনি আবার স্তন্যপায়ী ও ডিম দেয় এমন প্রাজাতিও আছে। সেখানে সৃষ্টিকর্তার যেমন কোন অবদান নাই তেমনি আবার পৃথিবীর ঘূর্ণনের মতই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি সত্য! তার মানে বৈজ্ঞানিক মহলে বিবর্তনবাদের কেস ইতোমধ্যে ক্লোজ হয়ে গেছে বা যাওয়া উচিত।

    এরকম অপসাধক থেকে বিশ্ববাসী মুক্ত হউক

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।