ডব্লিউ জি গ্রেসের কলাম

বিশ্বকাপ, তাই সাবেক ক্রিকেটাররা নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে কাছা খুলে লিখছেন। স্বর্গে বসে ক্রিকেটের অমর বুড়ো ডব্লিউ জি গ্রেসও দেখছেন ক্রিকেট আর প্ল্যানচেটে লিখছেন কলাম-
আমি বারবার করে বলেছিলাম টস জিতে ব্যাটিং করো, ব্যাটিং করো এবং ব্যাটিং করো। কারণ ক্রিকেটটা হচ্ছে ব্যাটসম্যানের খেলা। আর ভারতীয় দল তো ব্যাটসম্যানে বোঝাই। সাকিব আল হাসানকে যতটুকু দেখেছি তাতে মনে হচ্ছিলো তার ঘটে বুদ্ধি আছে। কিন্তু শনিবার দুপুরে মিরপুরে তার সিদ্ধান্ত আমাকে কিছুটা অবাকই করেছে।

শচীন টেন্ডুলকারকে নিয়ে আর কি বলবো। ওকে নিয়ে বলার লাখো লোক আছে। একটা সময় লোকে যেমন আমার ব্যাটিংটা দেখতে মাঠে আসতো এখন অর খেলা দেখতে মাঠে আসে। আসলেই সে একজন সত্যিকারের ব্যাটসম্যান। এখানে ব্র্যাডম্যানকেও দেখি টেন্ডুলকারের খেলা থাকলে আশেপাশের হুরপরীদের না দেখে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে থাকে। তবে শেবাগ হচ্ছে সত্যিকারের “এন্টারটেইনার”। বলটা এতো জোরে মারে মনে হয় কখন এই বুঝি উড়ে এসে আমার দাড়িতে পরলো ! এই ছেলেটাকে নিয়ে কত সমালোচনাই না হয়েছে। ফুটওয়ার্ক নেই গায়ের জোরে খেলে অথচ ভারতের এতসব কপিবুক ব্যাটসম্যানরা কেউই টেস্টে তিনশ করতে পারেনি। অথচ এই ছেলেটা সেটা দুবার করে দেখিয়েছে। বিরাট কোহলির কথাটা না বলে পারছি না। দারুণ সঙ্গত দিয়ে গেলো। এই একদিনের ক্রিকেটে ভালো তো করছেই আমি জোর গলাতেই বলছি সে টেস্টেও ভালো করবে।

বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে আর কি বলবো!প্রতিপক্ষ ৩৭০ করা ফেলার পর আর কিইবা করা থাকে। তবে তামিম ছেলেটা তার প্রতিভা অনুযায়ী খেললে আরেকটু ভালো লাগতো। জহির খানকে সেবার কি বেধড়ক পেটানটাই না পিটিয়েছিলো। সেদিনও একটা বিশাল ছক্কা মারলো। কিন্তু তারপর শামুকের খোলে ঢুকে পরলো কেন বুঝতে পারলাম না। তবে সবচেয়ে দৃষ্টিকটু লেগেছে শ্রীশান্তের বোলিং। এই ছোকরাটা ক্রিকেট খেলা বাদ দিয়ে মুম্বাইতে গেলেই তো পারে। চেহারার যা ছিঁরি তাতে নায়ক হতে হয়তো পারবে না তবে নায়কের পেছনের এক্সট্রা হিসেবে ঠিক মানিয়ে যাবে। মুনাফ প্যাটেলও পটলডাঙ্গায় গিয়ে ব্যবসা খুলবে মনে হচ্ছে। নেয়ায়েত ব্যাটসম্যানরা বড় রান করে দিয়েছিল বলে পার পেয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ইংল্যান্ডের সামনে পরলে তার বোলিং ব্যাটসম্যানের কাছে পটল ভাজার মতই উপাদেয় মনে হবে। তবে জহির আর হরভজন ভালো বল করেছে। আমার মনে হয় ভারতীয় দলের ব্যাটিঙ্গে টেন্ডুলকার শেবাগ যেমন একটা দারুণ জুটি বল হাতে জহির হরভজনও ঠিক তাই হতে যাচ্ছে। ধোনির কথাটা আলাদা করে বলতেই হচ্ছে। তার ব্যাটসম্যান অধিনায়ক পরিচয়ের আড়ালে উইকেটরক্ষক পরিচয়টা চাপাই পরে যাচ্ছে। জুনায়েদকে স্টাম্পড করে সে দেখিয়ে দিলো কিপিং এর হাতটা তার কস্মিন কালেও খারাপ ছিলো না।

৭২০ বার দেখা হয়েছে

৪ টি মন্তব্য : “ডব্লিউ জি গ্রেসের কলাম”

  1. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    ভালো লিখেছো সামীউর, তবে আরও বেশী হিউমার আসা উচিৎ, হাজার হোক গ্রেসের কলাম বলে কথা......। আম্পারিং নিয়েও কিছু বলা উচিৎ গ্রেসের। শেন ওয়াটসনের মত ব্যাটসম্যান আউট হয় রেফারেল সিস্টেমে, এটা কি হওয়া উচিৎ? দ্যা গ্রেট গ্রেস কি বলেন? 😉


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
    • সামীউর (৯৭-০৩)

      ফয়েজ ভাই, এটা আমি লিখি নাই। গুরু গ্রেস ওইজা বোর্ডে লিখেছেন! আর গ্রেস মনে হয় গত ম্যাচটা দেখেন নাই, স্বর্গের হুরপরীদের ট্রিটমেন্ট করছিলেন!( আসলে রোজ অনেক সাবেক ক্রিকেটারদের তথাকথিত কলাম অনুবাদ করতে হয়, এর কতটা সত্যি আর কতটা কী সেটা পড়েই বোঝা যায়! মাইকেল হোল্ডিং বলতেসে বাংলাদেশের উচিত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টার্গেট করা 😀 )

      জবাব দিন
      • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

        হোল্ডিং কত দুঃখে এইটা বলছে বুঝ নাই, ব্যাকগ্রাউন্ড দেখ না, সারা দুনিয়ায় ছড়ি ঘুড়াইছে, এখন কইতেছে তোমরা বাংলাদেশের সংগে ফাইটও দিতে পার কিনা দেখ 😀

        যাউক, সে লিখুক, আমরা সাপোর্ট দেই, পোলাগুলা খেলুক, দেখি না অবস্থাটা কই যায়


        পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

        জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : সামীউর (৯৭-০৩)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।