একজন আপু ২

সন্ধানীর সেই আপুকে দেখাই হল আমার আপু ব্যবসার কাল। সেই চোখ । তার দুচোখে অপার বিস্ময়। যা দেখে যা শুনে তাতেই সে অবাক হয়।  দুঃসংবাদ জানালো এক বন্ধু।আপুটা নাকি আমাদের মেডিকেল এর না।ভারাক্রান্ত মন নিয়া রুম এ চলে গেলাম। পরদিন সন্ধানীতে গিয়ে দেখি আবারও সেই আপু।ব্যাপার কি? এক ভাইয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম,ভাইয়া বলল আরে ওত আমাদের মেডিকেল এই পরে। তোমাদের ২বছর সিনিয়র।আমাকে আর পায়কে? মনের আনন্দে আপুর পিছনে লেগে রইলাম।

দিন যায়। আপুর প্রতি আমার অত্যাচার ততই বেড়ে যায়। কখন ও তার ব্যাগ থেকে টাকা চুরি  করে আইসক্রিম খাই। কখন ও তার জুতার একপাটি লুকিয়ে রাখি।কখন ও তার হোস্টেলের জন্য করতে দেয়া বাজারের টাকা মেরে দেই। আমি যাই করিনা কেন সে শুধু হাসে। কিছু বলেনা।কি করা  যায়? কি করলে এই আপু খেপবে?

উদ্ধারকর্তা আবার ও বন্ধু আশিক। বলল চল, আপুর বাবাকে একটা থ্রেট দেই। আশিকের বুদ্ধি তো আমি ফেলতে পারিনা। সেদিন রাতেই ফোন করলাম আপুর বাসায়। তার বাবাকে বললাম কালকের মধ্যে ২ লাখ টাকা দিবেন নইলে আপনার মেয়েকে কিডন্যাপ করা হবে।সে তো ভয়ে অস্থির। আপুকে ফোন করে তাকে হোস্টেল থেকে বের হতে  নিষেধ করে দিল।নিজের ফাঁদে নিজেই পরলাম।আপু হোস্টেল থেকে বের হয়না।আমিও তার দেখা পাইনা। এমন আর কতদিন চলা যায়? শেষপর্যন্ত হোস্টেলে গিয়ে আপুর কাছে সবকিছু খুলে বললাম ।তখন ও সে কিছুই বললনা , খালি হাসতে লাগলো। কোন ভাবেই কি তাকে রাগানো যাবে না ?
গেলাম আবার বন্ধু আশিকের কাছে। আশিক বলল বাবারে  থ্রেট দিয়াতো কিছুই হইল না, চল এইবার মাকে দেই। আগেই বলছি , আশিকের কথা আমি আবার ফেলতে পারিনা।ফোন করলাম আপুর মার কাছে। কথা হল অনেকটা এইরকম।

আমিঃ হ্যালো ক্যাপ্টেন রাইসা। সিকুরিটি কোড ৯২৫x ,এখন ই আমদের অস্ত্রের গাড়ি বর্ডার ক্রস করবে,আপনি রেডি?
আপুর মাঃ আপনি কে? এইসব কি বলেন?
আমিঃ আপনি ক্যাপ্টেন রাইসা না?
আপুর মাঃ না তো। রঙ নাম্বার।
আমিঃ আমি আর্মির লোক। আপনি লুকিয়ে আমাদের গোপন কথা শুনেছেন। আপনাকে আর আপনার স্বামীকে কাল সকালের মধ্যে গ্রেফতার  করা হবে।
আপুর মাঃ এইবার কান্না, এইসব কি বলেন, উপরে আল্লাহ নিচে  মাটি আমি  এইসব কিছুই শুনিনি। মহা আনন্দে ফোনটা কেটে দিলাম।

পরদিন আপুর সাথে দেখা করতে গেলাম, বেশ ফুর্তিতে আছে।তার বাবা মাকে আর্মি ধরে নিয়ে যাবে তার এত  ফুর্তি কেন? পরে জানতে পারলাম এসবের কিছুই নাকি তাকে জানানো হয়নি। আমাদের এত বড়বড় পরিকল্পনা মাঠে মারা গেল।

এরপর থেকে আমি আপুর ন্যাওটা হয়ে গেলাম। সারাদিন আপুর সাথে থাকি। পড়ালেখা মাথায় উঠল। দুজনে সারাদিন ঘুরে বেরাই। সকালে বের হই। সারাদিন ঘুরে রাতে হোস্টেলে ফিরি। এমনই চলছিল ভালই।
এরমধ্যে একদিন আপু  এলো  কান্নাভেজা  চোখে। এই প্রথম তাকে কাঁদতে দেখলাম।আমি যতই বলি কি হয়েছে, সে কিছুই বলেনা। খালি কাঁদে। অনেক চাপাচাপির পর বলল।তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। আমি বললাম, ভাল কথা ছেলে পছন্দ  হয়নি? এইবার সে গেল খেপে। আহা কি দিন। একি দিনে রাগ আর কান্না দুটোই একসাথে পেলাম,আপুর হাত ধরে বললাম যান আপনার বিয়ে করা লাগবেনা।আজ ৮ বছর। সেই যে তার হাত ধরেছিলাম এখন ও ধরে আছি। সামনে আমাদের ৩য় বিবাহবার্ষিকী। এখন ও আমার কোনও কাজে সে রাগ করেনা। প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে এখনও আমি যখন তার কাছে ফিরে ফিরে যাই, সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসে আর বলে, i know , u will rock one day.

(লেখার কিছুটা সত্য কিছুটা কাল্পনিক)

৩,১৪৯ বার দেখা হয়েছে

২৫ টি মন্তব্য : “একজন আপু ২”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    পুরা ফাটায়া দিলি তো... :boss: :boss: :boss:

    নিয়মিত লেখা চাই 😀


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  2. রুম্মান (১৯৯৩-৯৯)

    এই ভাই,একটু খুইলা কবি,কোনটুকু সত্য আর কোনটকু কাল্পনিক ? ~x( ~x( ~x(


    আমার কি সমস্ত কিছুই হলো ভুল
    ভুল কথা, ভুল সম্মোধন
    ভুল পথ, ভুল বাড়ি, ভুল ঘোরাফেরা
    সারাটা জীবন ভুল চিঠি লেখা হলো শুধু,
    ভুল দরজায় হলো ব্যর্থ করাঘাত
    আমার কেবল হলো সমস্ত জীবন শুধু ভুল বই পড়া ।

    জবাব দিন
  3. আসিফ খান (১৯৯৪-২০০০)

    ভাই পুরোটা সত্য হলে অনেক বেশী ভাল লাগত। তারপরও শেষ পর্যন্ত সফল হবার জন্য অভিনন্দন। এই বাংলার বাতাস কত মধ্যবিত্ত আপু ভাইয়ার নীরব দীর্ঘ্যশ্বাসে ভারী তার খবর কে রাখে? 🙁

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : মনির(৯৬-০২)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।