মুহাম্মদ ( স: ) সম্পর্কে জর্জ বার্নাড শ, টমাস কার্লাইল, মহাত্মা গান্ধী এবং আরও কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব

ইসলাম ও ইসলামের নবী মুহাম্মদ বর্তমান বিশ্বে অত্যন্ত আলোচিত বিষয়। মুহাম্মদ ( স: ) সম্পর্কে এখানে উল্লেখিত বিভিন্ন মনিষীর উদ্ধৃতিগুলো বিভিন্ন বই থেকে নেয়া। সেখান থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছি। অনুবাদে ভূল হওয়া স্বাভাবিক এবং তার জন্যে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আশা করছি উদ্ধৃতিগুলো মুহাম্মদ ( স: ) কে নতুন আংগিকে বুঝতে সহায়তা করবে।

Sir George Bernard Shaw in ‘The Genuine Islam,’ Vol. 1, No. 8, 1936.
মুহাম্মদের ধর্মের প্রতি আমি সবসময় সুউচ্চ ধারণা পোষণ করি কারণ এর চমৎকার প্রাণবন্ততা। আমার কাছে মনে হয় এটাই একমাত্র ধর্ম যেটা সদা পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রার সাথে অঙ্গীভূত হওয়ার ক্ষমতা রাখে যা প্রত্যেক যুগেই মানুষের হৃদয়ে আবেদন রাখতে সক্ষম। আমি তাঁর(মুহাম্মদ) সম্বন্ধে পড়াশোনা করেছি– চমৎকার একজন মানুষ এবং আমার মতে খ্রিস্টবিরোধী হওয়া সত্বেও তাঁকে অবশ্যই মানবতার ত্রাণকর্তা বলতে হবে।
আমি বিশ্বাস করি তাঁর মতো ব্যক্তির নিকট যদি আধুনিক বিশ্বের একনায়কতন্ত্র অর্পণ করা হতো তবে এর সমস্যাগুলো তিনি এমনভাবে সফলতার সাথে সমাধান করতেন যা বহু প্রতিক্ষীত শান্তি ও সুখ আনয়ন করতো। আমি ভবিষ্যতবাণী করছি যে মুহাম্মদের ধর্মবিশ্বাস আগামীদিনের ইউরোপের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, যা ইতিমধ্যে বর্তমান ইউরোপে গ্রহণযোগ্যতা পেতে আরম্ভ করেছে।

Thomas Carlyle in ‘Heroes and Hero Worship and the Heroic in History,’ 1840
এ লোকটিকে (মুহাম্মদ) ঘিরে যে মিথ্যাগুলো (পশ্চিমা অপবাদ) পূন্জীভূত হয়ে আছে- যার ভালো অর্থ হতে পারে ধর্মান্ধতা, তা আমাদের নিজেদের জন্যই লজ্জাজনক।

Mahatma Gandhi, statement published in ‘Young India,’1924.
আমি জীবনগুলোর মধ্যে সেরা একজনের জীবন সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম যিনি আজ লক্ষ কোটি মানুষের হৃদয়ে অবিতর্কিতভাবে স্থান নিয়ে আছেন…….যেকোন সময়ের চেয়ে আমি বেশী নিশ্চিত যে ইসলাম তরবারির মাধ্যমে সেইসব দিনগুলোতে মানুষের জীবন-ধারণ পদ্ধতিতে স্থান করে নেয়নি। ইসলামের প্রসারের কারণ হিসেবে কাজ করেছে নবীর দৃঢ় সরলতা, নিজেকে মূল্যহীন প্রতিভাত করা, ভবিষ্যতের ব্যাপারে সতর্ক ভাবনা, বন্ধু ও অনুসারীদের জন্য নিজেকে চরমভাবে উৎসর্গ করা, তাঁর অটল সাহস, ভয়হীনতা, ঈশ্বর এবং তাঁর(নবীর) ওপর অর্পিত দায়িত্বে অসীম বিশ্বাস। এ সব-ই মুসলমানদেরকে সকল বাঁধা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। যখন আমি মুহাম্মদের জীবনীর ২য় খন্ড বন্ধ করলাম তখন আমি খুব দু:খিত ছিলাম যে এই মহান মানুষটি সম্পর্কে আমার পড়ার আর কিছু বাকি থাকলো না।

Dr. William Draper in ‘History of Intellectual Development of Europe’
জাস্টিনিয়ানের মৃত্যুর চার বছর পর, ৫৬৯ খ্রিস্টাব্দে আরবে একজন মানুষ জন্মগ্রহণ করেন যিনি সকলের চাইতে মানবজাতির ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিলেন….অনেক সাম্রাজ্যের ধর্মীয় প্রধান হওয়া, মানবজাতির এক তৃতীয়াংশের প্রাত্যহিক জীবনের পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করা– এসবকিছুই সৃষ্টিকর্তার দূত হিসেবে তাঁর উপাধির যথার্থতা প্রমাণ করে।

Alphonse de LaMartaine in ‘Historie de la Turquie,’ Paris, 1854.
উদ্দেশ্যের মহত্ব, লক্ষ্য অর্জনের উপায়সমূহের ক্ষুদ্রতা এবং আশ্চর্যজনক ফলাফল যদি অসাধারণ মানুষের তিনটি বৈশিষ্ট্য হয় তবে কে মুহাম্মদের সাথে ইতিহাসের অন্য কোন মহামানবের তুলনা করতে সাহস করবে ? বেশীরভাগ বিখ্যাত ব্যক্তি শুধুমাত্র সেনাবাহিনী, আইন এবং সাম্রাজ্য তৈরী করেছেন। তাঁরা যদি কিছু প্রতিষ্ঠা করে থাকেন সেটা কিছুতেই জাগতিক ক্ষমতার চাইতে বেশি কিছু নয় যা প্রায়ই তাদের চোখের সামনে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই মানুষটি শুধুমাত্র সেনাবাহিনী, আইন, সাম্রাজ্য, শাসক, লোকবল-ই পরিচালনা করেননি সেইসাথে তৎকালীন বিশ্বের লক্ষ-লক্ষ মানুষের জীবনকে আন্দোলিত করেছিলেন; সবচেয়ে বড় কথা হলো তিনি দেব-দেবী, ধর্মসমূহ, ধারণাগুলো, বিশ্বাসসমূহ এবং আত্মাগুলোকে আন্দোলিত করেছিলেন।
দার্শনিক, বাগ্মী, বার্তাবাহক, আইনপ্রণেতা, নতুন ধারণার উদ্ভাবনকারী/ধারণাকে বাস্তবে রূপদানকারী, বাস্তব বিশ্বাসের পুনরুদ্ধারকারী…..বিশটি জাগতিক এবং একটি আধ্যাত্মিক সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা-এই হলো মুহাম্মদ। মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব পরিমাপের যত মাপকাঠি আছে তার ভিত্তিতে বিবেচনা করলে আমরা নিজেদেরকে প্রশ্ন করতে পারি- মুহাম্মদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কেউ আছে কি ?

Michael H. Hart in ‘The 100, A Ranking of the Most Influential Persons In History,’ New York, 1978.
মুহাম্মদকে সর্বকালের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় শীর্ষস্থান দেয়াটা অনেক পাঠককে আশ্চর্যান্বিত করতে পারে এবং অন্যদের মনে প্রশ্নের উদ্রেক হতে পারে, কিন্তু ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সেকুলার এবং ধর্মীয় উভয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ পরিমাণ সফল ছিলেন। সম্ভবত ইসলামের ওপর মুহাম্মদের তুলনামূলক প্রভাব খ্রিস্টান ধর্মের ওপর যীশু ও সেইন্ট পলের সম্মিলিত প্রভাবের চেয়ে বেশী।…. আমি মনে করি, ধর্মীয় ও সেকুলার উভয়ক্ষেত্রে প্রভাবের এই বিরল সমন্বয় যোগ্য ব্যাক্তি হিসেবেই মুহাম্মদকে মানবেতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী একক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভুত করেছে।

W. Montgomery Watt in ‘Muhammad at Mecca,’ Oxford, 1953.
নিজ আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সকল প্রকার কষ্ট সহ্য করা, তাঁকে যারা বিশ্বাস করতো এবং নেতা হিসেবে অনুসরণ করতো তাদের সুউচ্চ চারিত্রিক গুণাবলি, এবং মুহাম্মদের অর্জনের বিশালত্ব- এ সবকিছুই তাঁর সততার সাক্ষ্য দেয়। মনে করুন মুহাম্মদ একজন অসাধু ব্যাক্তি যিনি সমাধানের চেয়ে সমস্যাই বেশী সৃষ্টি করেছেন। অধিকন্তু, আর কোন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বই মুহাম্মদের মতো পাশ্চাত্যে এতবেশী অবমূল্যায়িত হয়নি……শুধুমাত্র যা বর্ণিত হয়েছে তার ভিত্তিতে নয়, আমরা যদি মুহাম্মদকে সামান্য পরিমাণও বুঝতে চাই তবে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সততা ও ন্যায়পরায়ণতা সহকারে তাঁকে বিচার করতে হবে। আমরা যদি আমাদের অতীত থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভূলগুলো সংশোধন করতে চাই তবে এটা ভূলে গেলে চলবে না যে চুড়ান্ত প্রমাণ আপাতদৃষ্টিতে যা সত্য বলে প্রতীয়মান হয় তারচেয়ে অনেক কঠিন শর্ত। এবং এই ব্যাপারে প্রমাণ অর্জন সত্যিই দু:সাধ্য হবে।

D. G. Hogarth in ‘Arabia’
গুরুত্বপূর্ণ অথবা তুচ্ছ, তাঁর দৈনন্দিন প্রতিটি আচার-আচরণ একটি অনুশাসনের সৃষ্টি করেছে যা লক্ষ-কোটি মানুষ বর্তমানকালেও সচেতনতার সাথে মেনে চলে। মানবজাতির কোন অংশ কতৃক আদর্শ বলে বিবেচিত আর কোন মানুষকেই মুহাম্মদের মতো এতো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করা হয়নি। খ্রিস্টধর্মের প্রতিষ্ঠাতার আচার-আচরণ তাঁর অনুসারীদের জীবন-যাপনকে নিয়ন্ত্রণ করেনি। অধিকন্তু, কোন ধর্মের প্রতিষ্ঠাতাই মুসলমানদের নবীর মতো এরকম অনুপম বৈশিষ্ট্য রেখে যায়নি।

Gibbon in ‘The Decline and Fall of the Roman Empire’ 1823
মুহাম্মদের মহত্বের ধারণা আড়ম্বড়পূর্ণ রাজকীয়তার ধারণাকে অস্বীকার করেছে। স্রষ্টার বার্তাবাহক পারিবারিক গৃহকর্মে নিবেদিত ছিলেন; তিনি আগুন জ্বালাতেন; ঘর ঝাড়ু দিতেন; ভেড়ার দুধ দোয়াতেন; এবং নিজ হাতে নিজের জুতা ও পোষাক মেরামত করতেন। পাপের প্রায়শ্চিত্তের ধারণা ও বৈরাগ্যবাদকে তিনি অস্বীকার করেছেন। তাঁকে কখনো অযথা দম্ভ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি, একজন আরবের সাধারণ খাদ্যই ছিলো তাঁর আহার্য।

Lane-Poole in ‘Speeches and Table Talk of the Prophet Muhammad’
তিনি যাদেরকে আশ্রয় দিতেন তাদের জন্য ছিলেন সবচেয়ে বিশ্বস্ত রক্ষাকারী, কথাবার্তায় ছিলেন অত্যন্ত মিষ্টভাষী ও নম্র। তাঁকে যারা দেখত তারা শ্রদ্ধায় পূর্ণ হতো; যারাই তাঁর কাছে এসেছিল তাঁকে ভালবেসেছিল; যারা তাঁর সম্বন্ধে বর্ণনা দিত তারা বলতো, ” তাঁর মতো মানুষ আগে বা পরে আমি কখনো দেখিনি।” তিনি ছিলেন অতি স্বল্পভাষী, কিন্তু যখন তিনি কথা বলতেন জোরের সাথে এবং সুচিন্তিতভাবে কথা বলতেন। এবং তিনি যা বলতেন তা কেউ ভুলতে পারতো না।

Edward Gibbon and Simon Oakley in ‘History of the Saracen Empire,’ London, 1870
প্রচার নয় মুহাম্মদের ধর্মের স্থায়িত্বই আমাদেরকে আশ্চর্যান্বিত করে। অকৃত্রিম এবং পূর্ণাংগ সম্মোহনকারী শক্তি যেটা তিনি মক্কা এবং মদীনায় অর্জন করেছিলেন সেটা বারশত বছর পরেও একই আছে কোরআনের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত তাঁর ভারতীয়, আফ্রিকান ও তুর্কী অনুসারীদের মধ্যে। প্রলুব্ধ/আক্রান্ত হওয়া সত্বেও মুসলমানরা তাদের মূল বিশ্বাস ক্ষয়প্রাপ্ত হতে দেয়নি। ” আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর দূত “-এটাই হলো ইসলামের সহজ এবং অপরিবর্তনীয় বিশ্বাস। বুদ্ধিবৃত্তিক ঈশ্বরের চেতনা কোন দৃশ্যমান মূর্তি দ্বারা হ্রাস পায়নি; নবীর মর্যাদা কখনো মানবীয় গুণাবলীর ব্যাপ্তি অতিক্রম করেনি। তাঁর জীবনধারণ পদ্ধতি শিষ্যদের কৃতজ্ঞতাবোধ ধরে রেখেছে যুক্তি ও ধর্মের সীমার মধ্যে।

Jules Masserman in ‘Who Were Histories Great Leaders?’ in TIME Magazine, July 15, 1974
নেতাদের অবশ্যই তিনধরনের কাজ সম্পাদন করতে হয়- অনুসারীদের মংগলের ব্যবস্থা করা, এমন একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি করা যেটাতে সাধারণ লোকজন তুলনামূলকভাবে নিরাপত্তা বোধ করে, এবং অনুসারীদের জন্য একটি পূর্ণাংগ বিশ্বাসের যোগান দেয়া। প্রথমটি বিবেচনায় নেতা হলেন লুই পাস্তুর এবং সাল্ক( Salk)। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় একদিকে গান্ধী ও কনফুসিয়াস এবং অন্যদিকে আলেকজান্ডার, সীজার ও হিটলার- এরা হলেন নেতা। যীশুখ্রিস্ট ও গৌতম বুদ্ধ তৃতীয়টি বিবেচনায় নেতা। সম্ভবত মুহাম্মদ হলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নেতা যিনি ওপরোক্ত তিনটি কার্যাবলীই সম্পাদন করেছেন। স্বল্প পরিসরে হলেও মুসাও একই কাজ করেছিলেন।

Annie Besant in ‘The Life and Teachings of Mohammad,’ Madras, 1932.
যে কেউ আরবের মহান নবীর জীবন এবং চরিত্র অধ্যয়ন করেন তার হৃদয়ে মহান নবীর প্রতি শ্রদ্ধার উদ্রেক না হয়ে পারে না, যিনি জেনেছেন তিনি(নবী) কিভাবে শিক্ষা দিতেন এবং বসবাস করতেন; তিনি ছিলেন স্রষ্টার মহান বার্তাবাহকদের অন্যতম। যদিও আমি আপনাদেরকে এখন যা বলবো তা অনেকের কাছে সুপরিচিত মনে হতে পারে, তথাপি যখনই আমি মুহাম্মদের জীবনী পুনরায় পাঠ করি প্রতিবারই আরবের মহান শিক্ষকের প্রতি আমার মনে মুগ্ধতা ও শ্রদ্ধার নতুন ভাব জাগ্রত হয়।

W.C. Taylor in ‘The History of Muhammadanism and its Sects’
দরিদ্র লোকদের প্রতি তাঁর সদয়তা এত বেশী ছিল যে প্রায়ই পরিবার-পরিজনকে উপবাস করতে হতো। তিনি শুধু তাদের অভাব মোচন করেই তৃপ্ত হতেন না, তাদের সাথে কথা-বার্তা বলতেন এবং তাদের দু:খ-দুর্দশার জন্য গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করতেন। তিনি ছিলেন ঘনিষ্ট বন্ধু এবং বিশ্বস্ত সহযোগী।

Reverend Bosworth Smith in ‘Muhammad and Muhammadanism,’ London, 1874.
রাষ্ট্রপ্রধান একইসাথে উপাসনাগৃহের প্রধান, তিনি ছিলেন একই সাথে সীজার এবং পোপ; তিনি পোপ ছিলেন কিন্তু পোপের দুরহংকার ছাড়া, তিনি সীজার ছিলেন কিন্তু সীজারের মতো বিরাট সেনাবাহিনী ছাড়া, দেহরক্ষী ছাড়া, শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া, স্থায়ী কোন ভাতা ছাড়া। যদি আজ পর্যন্ত কোন মানুষ ন্যায়বিচারপূর্ণ স্বর্গীয় শাসন করে থাকে, তবে সেটা ছিলেন মুহাম্মদ।

Dr. Gustav Weil in ‘History of the Islamic Peoples’
মুহাম্মদ ছিলেন তাঁর অনুসারীদের জন্য জাজ্বল্যমান দৃষ্টান্ত। তাঁর চরিত্র ছিল নিষ্কলুষ এবং দৃঢ়। তাঁর গৃহ, পোষাক, খাদ্য- সবই ছিল অতি সাধারণ। তিনি এতই নিরহংকার ছিলেন যে তাঁর সংগীদের কাছ থেকে বিশেষ কোন সম্মান গ্রহণ করতেন না কিংবা যে কাজ তিনি নিজে করতে পারতেন তাঁর জন্য অযথা ভৃত্যের সাহায্য নিতেন না। সবসময় সবার জন্য তাঁর দ্বার ছিল উন্মুক্ত ছিল। তিনি অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন এবং সবার প্রতি তাঁর অপরিসীম সহানুভূতি ছিল। তাঁর বদান্যতা ও মহানুভবতা ছিলো অসীম, সেইসাথে তিনি সবসময় অনুসরীদের মংগলের কথা চিন্তা করতেন।

J.W.H. Stab in ‘Islam and its Founder’
তাঁর কাজের সীমা এবং স্থায়িত্ব বিবেচনা করলে শুধু মক্কার নবী হিসেবে নয় পৃথিবীর ইতিহাসে তিনি আরও দীপ্তিময়ভাবে জ্বলজ্বল করছেন। …..মানুষের বিখ্যাত হওয়ার মাপকাঠি অনুসারে বিচার করলে তাঁর সাথে অন্য কোন মরণশীলের খ্যাতি তুলনীয় হতে পারে কি ?

Washington Irving in ‘Life of Muhammad,’ New York,1920.
মুহাম্মদের সামরিক বিজয় তাঁর মাঝে কোন গর্ব ও অযথা দম্ভ জাগায়নি। প্রতিকূল দিনগুলোতে তাঁর আচার-ব্যবহার ও পোষাক-আশাক যেরকম সাধারণ ছিলো সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার পরও তা তিনি বজায় রেখেছিলে। রাজকীয় জাঁকজমক দূরে থাক, এমনকি কক্ষে ঢোকার পর তাঁর প্রতি কেউ বিশেষভাবে সম্মান প্রদর্শন করলে তিনি রেগে যেতেন। তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের ভালোবাসার পাত্র কারণ সবাইকেই তিনি আতিথেয়তার সাথে গ্রহণ করতেন এবং মনোযোগ সহকারে তাদের অভিযোগ শুনতেন। ব্যক্তিগত লেন-দেনের ক্ষেত্রে ছিলেন ন্যায়পরায়ণ । বন্ধু-আগন্তুক, ধনী-দরিদ্র, সবল-দুর্বল সবার সাথে সমতার সাথে ব্যবহার করতেন।

Arthur Glyn Leonard in ‘Islam, Her Moral and Spiritual Values’
এটা ছিলো মুহাম্মদের মেধা, যে উদ্দীপনা তিনি ইসলামের মাধ্যমে আরবদের মাঝে সঞ্চারিত করেছিলেন তা তাদেরকে সুউচ্চ স্থানে আসন দিয়েছিল। যা তাদেরকে জড়তা ও গোত্রীয় সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে জাতীয় ঐক্যের সুমহান নিদর্শন গড়তে এবং সাম্রাজ্য গড়তে সাহায্য করেছিল। সেটা ছিলো মুহাম্মদের সমীহ উদ্রেককারী একত্ববাদ, সরলতা, মিতাচার এবং অকৃত্রিমতা যা আদর্শের প্রতি প্রতিষ্ঠাতার বিশ্বস্ততাকেই বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়, যা তাদের নৈতিকতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে শাণিত করেছিল।

James Michener in ‘Islam: The Misunderstood Religion,’ Reader’s Digest, May 1955, pp. 68-70.
ইতিহাসে আর কোন ধর্মই ইসলামের মতো এত দ্রুত বিস্তার লাভ করেনি। পাশ্চাত্যে এ বিশ্বাস অত্যন্ত দৃঢ়মূল যে ইসলামের এই প্রসার তরবারীর জোরেই সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আধুনিক কোন বিজ্ঞজনই এ ধারণাকে গ্রহণ করেননি, এবং কোরআনেও বিবেকের/চিন্তার স্বাধীনতার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
মুহাম্মদ, যে অনুপ্রাণিত মানুষটি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে আরবের একটি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন যারা ছিল মূর্তিপূজক। জন্মের সময়ই এতিম হয়েছিলেন, তিনি সবসময় অসহায়, দরিদ্র, বিধবা, এতিম, দাস ও নিপীড়িত যারা তাদের জন্য উৎকন্ঠিত থাকতেন। বিশ বছর বয়সেই তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন, এবং শিগগিরই বিধবা একজন মহিলার বাণিজ্য কাফেলার পরিচালক হন। যখন তিনি ২৫ বছর বয়সে উপনীত হন তাঁর নিয়োগকত্রী তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে বিবাহের প্রস্তাব দেন। যদিও তিনি পঁচিশ বছরের বড় ছিলেন, তবু মুহাম্মদ তাঁকে বিবাহ করেন এবং যতদিন পর্যন্ত তিনি(খাদিজা) বেঁচে ছিলেন তাঁর প্রতি নিবেদিত ছিলেন।
তাঁর পূর্ববর্তী বেশিরভাগ নবীদের মতই মুহাম্মদ তাঁর সীমাবদ্ধতা/অক্ষমতা বিবেচনা করে স্রষ্টার বার্তাবাহক হিসেবে দায়িত্ব পালনে অপরাগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু স্বর্গীয় দূত আদেশ করলেন “পড়” । আমরা যতটুকু জানি মুহাম্মদ লিখতে কিংবা পড়তে জানতেন না, কিন্তু তিনি সেই উদ্দীপনাময় শব্দগুলো উচ্চারণ করতে শুরু করেন যা অচিরেই পৃথিবীর একটা বৃহৎ অংশে আমূল পরিবর্তন সাধন করবে : ” আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই” ।
মুহাম্মদের নিজের মৃত্যুর পর তাঁর ওপর দেবত্ব আরোপের একটি চেষ্টা চলেছিল, কিন্তু যিনি তাঁর পরে প্রশাসনিক উত্তরসূরী হওয়ার কথা ছিল তিনি এই অপধারণাকে সমূলে ধ্বংস করে দেন ধর্মের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি বক্তৃতার মাধ্যমে : ” যদি তোমাদের মধ্যে এমন কেউ থেকে থাকে যে মুহাম্মদের পূজা করতো, তবে সে জেনে রাখুক মুহাম্মদ মারা গেছেন। কিন্তু যারা আল্লাহর উপাসনা করতো তাদের জানা উচিত, তিনি চিরন্জীব ” ।

১৫,০৭৬ বার দেখা হয়েছে

১৬২ টি মন্তব্য : “মুহাম্মদ ( স: ) সম্পর্কে জর্জ বার্নাড শ, টমাস কার্লাইল, মহাত্মা গান্ধী এবং আরও কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব”

    • শহীদুল আহসান (১৯৯৫-২০০১)

      তৌফিক , তুমি মনে হয় ভূল বুঝেছ । আমি যাদের উদ্ধৃতি এখানে দিয়েছি তাঁদের বেশিরভাগই অমুসলিম এবং অনেকেই প্রাতিষ্ঠানিক কোন ধর্মে বিশ্বাস করতেন না। ইসলামের অনেক ব্যাপারেই তাদের প্রশ্ন আছে এবং তারা সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। এসব মণিষীদের অনেকেই মুহাম্মদকে নবী হিসেবেও স্বীকার করেননি। কিন্তু ব্যক্তি মুহাম্মদ সম্পর্কে তাঁরা কি ভাবতেন তাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তোমার কথার ব্যাপারে আমি একমত--আমাদের বিশ্বাসের ব্যাপারে অন্যদের এপ্রুভাল নেয়ার তো আসলেই দরকার নেই আর তা হবে আত্মঘাতী।

  1. সাব্বির (৯৮-০৪)

    ব্যাক্তিগতভাবে আমি মনে করি এধরনের কোনো পোষ্ট দেয়ার আগে আরেকটু সতর্ক হওয়া উচিত উৎসের ব্যাপারে।
    বার্নাড শ ধর্মীয় ব্যাপারে বেশ কিছু গল্প লিখেছেন যা পড়লে এ ধরনের মন্তব্য গেলা একটু কষ্টকর হয়। সে যাই হোক আমি দুটো লিঙ্ক দিচ্ছি।

    //idlethink.wordpress.com/2008/12/03/being-an-unforgivably-protracted-debunking-of-george-bernard-shaws-views-of-islam/

    //muslim-canada.org/shavian.htm

    প্রথমটি এ ব্যাপারে একজন পাঠকের বিশ্লেষন এবং পরেরটি হচ্ছে তাই(!!!!!!!) যাকে আপনি উতস মানছেন।

    • সাব্বির (৯৮-০৪)

      আপনি যদি চান তবে পরেরগুলো নিয়েও আমি একটু নাড়াচাড়া করে দেখতে পারি। জানাবেন।
      আমি নিশ্চিত ভাবেই চোখ বন্ধ করে বলতে পারি যে সেখানেও ঝামেলা আছে,থাকবে কিংবা যূক্তি থাকবে।

    • শহীদুল আহসান (১৯৯৫-২০০১)

      আমি যে লেখাটা থেকে অনুবাদ করেছি তা হলো-- 'QUOTATIONS FROM FAMOUS PEOPLE' by Dr. A. Zahoor and Dr. Z. Haq
      আমি যাদের উদ্ধৃতি এখানে দিয়েছি তাঁদের বেশিরভাগই অমুসলিম এবং অনেকেই প্রাতিষ্ঠানিক কোন ধর্মে বিশ্বাস করতেন না। ইসলামের অনেক ব্যাপারেই তাদের প্রশ্ন আছে এবং তারা সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। এসব মণিষীদের অনেকেই মুহাম্মদকে নবী হিসেবেও স্বীকার করেননি। কিন্তু ব্যক্তি মুহাম্মদ সম্পর্কে তাঁরা কি ভাবতেন তাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

      • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

        কিন্তু আপনি লেখার শুরুতে বলেছিলেন-

        ইসলাম ও ইসলামের নবী মুহাম্মদ বর্তমান বিশ্বে অত্যন্ত আলোচিত বিষয়। মুহাম্মদ ( স: ) সম্পর্কে এখানে উল্লেখিত বিভিন্ন মনিষীর উদ্ধৃতিগুলো বিভিন্ন বই থেকে নেয়া। সেখান থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছি।

        কিন্তু এখন বললেন আপনি একটা লেখা থেকে অনুবাদ করেছেন। সেইলেখাটা সবকিছু সঠিক বলেছে কিনা সেটা কি যাচাই করা দরকার ছিলো বলে আপনি মনে করেন? নাকি মহানবীর নামে ভালো কথা বলেছে- এই যথেষ্ট?

        • শহীদুল আহসান (১৯৯৫-২০০১)

          মনিষীর উদ্ধৃতিগুলো অবশ্যই বিভিন্ন বই থেকে নেয়া । তবে উদ্ধৃতিগুলো সংকলন করেছেন বা একসাথে একই আর্টিকেলে এনেছেন- Dr. A. Zahoor and Dr. Z. Haq এবং তাঁদের আর্টিকেলের নাম- QUOTATIONS FROM FAMOUS PEOPLE। আমি সেটা থেকেই অনুবাদ করেছি । লেখাটার অনেক কোটেশান আমি লাইব্রেরিতে ও নেটে মূল বইয়ের সাথে মিলিয়ে দেখেছি এবং তা ঠিক আছে। ভূল হয়ে গেছে তথ্যসূত্র আগেই উল্লেখ করা দরকার ছিলো।

          • সাব্বির (৯৮-০৪)

            মি্থ্যা যখন একবার বলবেন তখন সেটা আপনাকে টেনে নিয়ে যেত্তেই হবে তাই বোধ হয় মেনে নেয়াটাই ভালো।
            আপনি বোধ হয় লিঙ্ক দুটো পড়ে দেখেননি। দেখলে এসব কথা বলতেন না।
            বার্নাড শ এর এ উক্তি মুসল্মান্দের খুবই প্রিয়। সমস্যা হচ্ছে "Genuine Islam" নামে কোনো বই নেই। এটা একটা ম্যাগাজিন যা প্রকাশিত হয়েছে একবার, তাই অলভ্য এবং সেখানে বার্নাড শ এর ইন্টারভিউ থাকলেও এ ধরনের কোনো কথা নেই (এ উতসটিও আমি আপনাকে দিয়েছি)। দয়া করে পড়ুন লিঙ্ক দুটো, পিলিজ।
            আপনি যে বই মিলিয়েছেন তা আমি নিজেও বুঝতে পারছি। সমস্যাটা হচ্ছে বার্নাড শ এই কথা কবে কোথায় বলেছেন তাই তো মুস্লিম্রা বলতে আগ্রহী নন!!!!!!

            • শহীদুল আহসান (১৯৯৫-২০০১)

              মিথ্যুক বলে রায় যখন একবার দিয়েই দিয়েছ তখন বাকি কোটেশানগুলোর ভিত্তিহীনতা প্রমাণ করাও তোমার দায়িত্ব হয়ে গিয়েছে। তোমার জ্ঞাতার্থেই বলছি ওপরের উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যে কয়েকটি ম্যাগাজিন থেকেও নেয়া। যেমন-
              James Michener in ‘Islam: The Misunderstood Religion,’ Reader’s Digest, May 1955, pp. 68-70.
              Jules Masserman in ‘Who Were Histories Great Leaders?’ in TIME Magazine, July 15, 197.
              এই সাইটে ক্লিক কর-- //www.time.com/time/magazine/article/0,9171,879377-3,00.html

              বার্নাড শ এর মন্তব্যটা দেখ-- //en.wikiquote.org/wiki/George_Bernard_Shaw

              আবারো মনে করিয়ে দিলাম--
              আমি যাদের উদ্ধৃতি এখানে দিয়েছি তাঁদের বেশিরভাগই অমুসলিম এবং অনেকেই প্রাতিষ্ঠানিক কোন ধর্মে বিশ্বাস করতেন না। ইসলামের অনেক ব্যাপারেই তাদের প্রশ্ন আছে এবং তারা সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। এসব মণিষীদের অনেকেই মুহাম্মদকে নবী হিসেবেও স্বীকার করেননি। কিন্তু ব্যক্তি মুহাম্মদ সম্পর্কে তাঁরা কি ভাবতেন তাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

              আর মিথ্যা/ভূল যেটাই বলি না কেন তোমার উচিত ছিলো যুক্তি দিয়ে তথ্য দিয়ে ভূল ধরিয়ে দেয়া। কলেজে কিছু হলেও তো শিখেছ, তাই না!

              • সাব্বির (৯৮-০৪)

                আপনি আমাকে ক্ষণে ক্ষণে হতাশ করছেন!!!
                আসুন দেখা যাক কেনো।

                "I have always held the religion of Muhammad in high estimation because of its wonderful vitality. It is the only religion which appears to me to possess that assimilating capability to the changing phase of existence which can make itself appeal to every age. The world must doubtless attach high value to the predictions of great men like me. I have prophesied about the faith of Muhammad that it would be acceptable to the Europe of tomorrow as it is beginning to be acceptable to the Europe of today. The medieval ecclesiastics, either through ignorance or bigotry, painted Muhammadanism in the darkest colours. They were in fact trained both to hate the man Muhammad and his religion. To them Muhammad was Anti-Christ. I have studied him — the wonderful man, and in my opinion far from being an Anti-Christ he must be called the Saviour of Humanity. I believe that if a man like him were to assume the dictatorship of the modern world he would succeed in solving its problems in a way that would bring it the much-needed peace and happiness. But to proceed, it was in the 19th century that honest thinkers like Carlyle, Goethe and Gibbon perceived intrinsic worth in the religion of Muhammad, and thus there was some change for the better in the European attitude towards Islam. But the Europe of the present century is far advanced. It is beginning to be enamoured of the creed of Muhammad."
                Interview, (April 1935), as quoted in The Genuine Islam, Vol. 1 (January 1936), and "Being an Unforgivably Protracted Debunking of George Bernard Shaw’s Views of Islam" (3 December 2008) by Rachel Loew; Loew states that there are many paraphrased and abbreviated versions of this statement online, and that it does not actually appear in the body of the interview itself, but only in a separate quote box. A portion of the statement also appears quoted in The Islamic Review, Vol. 24 (1936) edited by Khwaja Kamal-ud-Din‎, p. 263
                I hold the Prophet of Arabia in great esteem and I can quite understand that it would have been impossible to restrain and wean that illiterate and perverse race, sunk in the miasma of utter moral depravity, from committing the most heinous of crimes, and imbue its people with enthusiasm to strive after righteousness and assimilate high morals and virtues, without projecting such a terrible and intensely awe inspiring spectacle of Hell and an equally captivating and enticing image of a land flowing with milk and honey to represent Heaven before their vision.
                Interview, (April 1935) in The Genuine Islam, Vol. 1, No. 8 (1936), as quoted at "A Shavian and a Theologian"

                আপনাকে আমি দুটো লিঙ্ক আগে দিয়েছি এবং অনুরোধ করেছি পড়ার জন্য। আপনি তা না করে কেনো এগুলো ঘাটছেন। আমি তো জানি যে ইন্টারনেট এ কথাটি বিলিয়ন বার পাওয়া যাবে, যেহেতু মুস্লিমদের জন্মহার খুবই বেশী। আমাদের আলোচনার বিষয়তো হচ্ছে "উতস"!!!! সেটা নিয়ে ঘাটুন দয়া করে। আবার অনুরোধ করছি "ঈন্টারভিউটি" না পড়ে আমার উত্তরের প্রতিউত্তর দিবেন না। আপনি আপনার অবস্থান ঘোলাটে করছেন। কারন আপনি কোট পড়ে তার নিচের টুকু পড়ার প্রয়োজন বোধ করছেন না যেটা একজন অশিক্ষিত পাঠকের বৈশিষ্ট্য।

                • সাব্বির (৯৮-০৪)
                  যুক্তি দিয়ে তথ্য দিয়ে ভূল ধরিয়ে দেয়া

                  আপনার ধারনা আমি তা দেইনি!!! যূক্তি বোঝার জন্য হলেও একটু পড়তে হয়। দয়া করে সেটা করুন।

                  কলেজে অনেক ভুল কিছুও আমি শিখেছি যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমার চেয়ে ২ সেকেণ্ড এর বড় হলেও কেউ আমার শ্রদ্ধার পাত্র হবে!! যেটা হচ্ছে অপদার্থ ইস্লামিক মূল্যবোধ। প্রতি মূহূর্তেই আমি এর অপপ্রয়োগ দেখি।

                  • সাব্বির (৯৮-০৪)

                    আর একটা কথা, আমি আসলে আপনাকে মিথ্যাবাদী বলিনি।.................................... যার কোনোটাতেই অবস্থার খুব বেশী পরিবর্তন হয়না আসলে, তাই আপনার মনে কী আছে তা নিয়ে ঘাটিনি, ওটা আমার কাজ না।

                    মন্তব্য সম্পাদিত
                    - মডারেটর

                    • আর একটা কথা, আমি আসলে শুধুমাত্র আপনাকে মিথ্যাবাদী বলিনি। প্রতিটি মুস্লিম ই মিথ্যাবাদী এবং অসত।

                      কথাটা ভালো লাগলো না।

                    • নাঈম (৯৪-০০)

                      আমাদের যারা ইসলাম নিয়ে সমালোচনা করে, তাদের শিষ্টাচার দেখে প্রায় খুব অবাক হই। অন্যদের শিষ্টাচার শিখাবেন, আর নিজেদের ব্যাপারে কোন খবর নাই। আমি একবার সচলয়াতন এর এরকম একটা লিখায় মন্তব্য করেছিলাম, কিন্তু লিখাটা ছাপা হয় নাই। আমরা যারাই ইসলাম সম্পরকে মন্তব্য করি, অন্যদের লিখার উপর ভিত্তি করে চালাইয়া দেই। আর কেউ যদি ইসলাম এর পক্ষে কিছু লিখেই ফেলি, অনেকেই উঠে পরে লাগে সেইটার কোন ভূল ধরানোর জন্য। কুরানের পরে যেই আয়াত গুলা আমার পক্ষে সেটাই বের করা হয়, কিন্তু পুরা কুরান পরে নিজেকে আমরা পরিবর্তন করতে পারি না।

                    • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

                      সাব্বির
                      এইভাবে বলা ঠিক না। হয়তো তোমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস এটাই, কিন্তু কথাটা মুসলিমদের আহত করবে।
                      মডারেটরদের অনুরোধ করছি মন্তব্যটা সম্পাদনা করার।

                      ধন্যবাদ।


                      ---------------------------------------------------------------------------
                      বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
                      ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

                    • সাব্বির (৯৮-০৪)

                      কামরুল ভাই,
                      দূঃখিত। সমস্যা হচ্ছে এসব ব্যাপার স্যাপার দেখলে আমার ই মাঝে মাঝে নিহত হয়ে যেতে ইচ্ছে করে।
                      বার্নাড শ এ কথাটি কোনো কালেই কখনো বলেননি। হঠাত করে ১৯৩৬ এ ইস্লামিক রিভিউ তে তার আগের বছর একটি সাক্ষাতকারকে উতস ধরে তা লিখে দেয়া হয়। সে ম্যাগাজিনটিও ছিলো এমনি যে তার একটি সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পরে আর কখনো প্রাকশিত হয়নি। ইদানীং উতস ধরা হয় সে ইস্লামিক রিভিউকেই। সাম্প্রতিক কালে একজন সে ইন্টারভিউটি সংগ্রহ করলে ব্যাপারটি ধরা পড়ে।
                      এখন আপনি আমাকে বলুন কেনো মুস্লিম্রা মিথ্যাবাদী নয়?

                      আমি শহীদুল ভাইকে উতস দিয়েছি। পড়ার অনুরোধ করেছি।উনি তা না করেই প্রতিউত্তর দিয়েই যাচ্ছেন। এবং এমন সব জায়গা থেকে যেখানে ঐ কথাটি ছাড়া আর কিছুই নেই। এটা কী অসততা নয়?
                      এটা নিয়ে উনার যদি এতো মাথা ব্যাথাই হয় তবে কেউ যদি কোরান শ্যরীফ উল্লেখ করে বলে যে "কামের বেটি লাগানো হালাল/জায়েজ" তবে সেটা কেনো অসততা হবে?!!!!!!

                    • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

                      দেখেছি আমি তোমার দেয়া লিঙ্ক দুটো।
                      আমাদের বেশিরভাগেরই এমন সীমাবদ্ধতা আছে। বিশেষ করে ধর্ম বিষয়ক পড়াশুনায়।
                      কি করবা বলো, সব দেখে শুনেও মাঝে মাঝে চুপ থাকতে হয়, মুখে লাগাম দিয়ে রাখতে হয়। নইলে ধর্মের খড়গ নেমে আসে।


                      ---------------------------------------------------------------------------
                      বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
                      ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

                    • শহীদুল আহসান (১৯৯৫-২০০১)

                      ১৯৩৫ এর মে মাসে লিংকে দেয়া ইন্টারভিউটা সম্পর্কে M.T. Akbar,K.C. লিখেছেন যে--
                      The writer of this work is well known to me, and the reader can be sure the learned writer has caught the true atmosphere. His Eminence Mohammed Abdul Aleem Siddiqui, is also well known to me and I can well imagine the scene, when Shaw from being the scoffer came gradually to be infected with the dynamic energy and sincerity of purpose of the famous Muslim divine. The only thing I wish to complain about is the shortness of the interview. But I suppose one cannot expect anything that is really good in very large doses in this world.
                      আবার ১৯৩৬ এর জুলাই সংখ্যায় The Islamic Review তে তিনি বার্নাড শ'র উদ্ধৃতি দিয়ে ২৬২ ও ২৬৩ পৃষ্ঠায় লেখেন--
                      "I have always held the religion of Muhammad in high estimation because of its wonderful vitality. It is the only religion which appears to me to possess that assimilating capacity to the changing phase of existence which can make itself appeal to every age........ But the Europe of the present century is far advanced. It is beginning to be enamoured of the creed of Muhammad." In that extract he(Shaw) admitted that "The medieval ecclesiastics, either through ignorance or bigotry, painted Muhammadanism in the darkest colours. They were in fact trained both to hate the man Muhammad and his religion. To them Muhammad was Anti-Christ. I have studied him — the wonderful man, and in my opinion far from being an Anti-Christ he must be called the Saviour of Humanity. "
                      M.T. Akbar,K.C. তাঁর Islamic Review এর লেখায় কোন সোর্স উল্লেখ করেননি। আর যদি তাঁর লেখার সোর্স ১৯৩৫ সালের ইন্টারভিউটাই হয়ে থাকে তবে মাত্র ১ বছরের মাথায় তা বেমালুম ভূলে গিয়ে মুহাম্মদের প্রশস্তিগাঁথা কেন যোগ করতে যাবে ? আকবর সাহেবের তো ধরা খাওয়ার যথেষ্ট চান্স ছিলো। আর পশ্চিমারা কি এতই বোকা যে এই মিথ্যা এতদিন ধরে মেনে নিয়েছে ? ইন্টারভিউটা পূর্ণাংগভাবে এসেছে কিনা তাও দেখার ব্যাপার আছে। মি. আকবরের ইসলামিক রিভিউ'র লেখাটা পড়তে চাইলে--
                      //docs.google.com/viewer?a=v&q=cache:-241MQz0SAUJ:www.wokingmuslim.org/work/islamic-review/1936/jul36.pdf+M.T.+Akbar,K.C.,B.A.,L.L.B.&hl=en&pid=bl&srcid=ADGEESiEUeGUMyxj8QH5yR9Ev531j78f8rOGgkdWmZ7sEBIh0dAYbDq1I1pGUtAd8PS6RGavjEotQnF-wQ6Di-nCDhY7iLnVyKuvOtl3haNFEYNtUHPt5Sq0jQR1LTPZJf8ydnAd6FYg&sig=AHIEtbRnd3XI-9CwFnhLKQn_PZlelP9KRw
                      বার্নাড শ' না হয় গেল, অন্য কোটগুলোর ব্যাপারেও কি সমস্যা আছে ?

                    • সাব্বির (৯৮-০৪)

                      M.T. Akbar,K.C. তাঁর Islamic Review এর লেখায় কোন সোর্স উল্লেখ করেননি। আর যদি তাঁর লেখার সোর্স ১৯৩৫ সালের ইন্টারভিউটাই হয়ে থাকে তবে মাত্র ১ বছরের মাথায় তা বেমালুম ভূলে গিয়ে মুহাম্মদের প্রশস্তিগাঁথা কেন যোগ করতে যাবে ?

                      এটার উত্তর কী আপনি আমার কাছে আশা করছেন?!!!! আমার সাথে কী মজা নেন?!! আমি জানি যে ধার্মিকদের রসিকতাবোধ ভালো কিন্তু তা যে এতো ভালো তা জানা ছিলোনা।

                      আর পশ্চিমারা কি এতই বোকা যে এই মিথ্যা এতদিন ধরে মেনে নিয়েছে ?

                      আসলেই তো!!!সমস্যা হচ্ছে তেল বেঁচা টাকার ভাগ যদি কেউ দিতো তবে তারা হয়তো প্রত্ম ত্ববিদ দিয়ে "Genuine Islam" ম্যাগাজিনের একটি সংখ্যা সংগ্রহ করার চেষ্টা করতো। যেহেতু কেউ দেয়নি কেনো করবে?!!! ঢাকার রাস্তায় লোকজন এখানে সেখানে টয়লেট করলে সেটা তো আমি পরিস্কার করিনা, তাই না?

                      ইন্টারভিউটা পূর্ণাংগভাবে এসেছে কিনা তাও দেখার ব্যাপার আছে

                      এটা সংগ্রহের দায়িত্ব আমার না যেহেতু আমি বলিনাই যে এটা অসম্পূর্ন। এ কাজ আপ্নাকেই করতে হবে।

                      বার্নাড শ’ না হয় গেল

                      যদি যায় তবে আপনি উপরে এ আর্টিকেল থেকে উনার মন্তব্য মুছবেন। সেখানে মুস্লিম সমাজের হয়ে মিথ্যা তথ্য প্রদানের জন্য ক্ষমা চাইবেন, তারপর আমি পরেরগুলো ধরবো।

                      যদি সেটা করতে না পারেন তবে বিশিষ্ট পরিবেশবাদী আঃ কুদ্দুস এর একটা বানী দিয়ে এখানে শেষ করবো (এটা তার ব্যাক্তিগত দিনলিপি তে লেখা আছে, যা পৃথিবীতে একমাত্র আমার সংগ্রহেই আছে)
                      "ধার্মিক মাত্রই ছাগল, তাই তাদেরকে ঘাস খেতে দিলেও এখানে সেখানে ল্যাদানোর অধিকার দিয়োনা। তাতে পরিবেশ এর ভারসাম্য নষ্ট হয়"

                      সবাই বলুন "আমিন"।
                      (বিজ্ঞ মডারেটর আপনি চাইলে আমার বাসায় এসে দিনলিপি দেখে যেতে পারেন অথবা আমি স্ক্যান করে এখানে আপলোড করতে পারি।
                      বার্নাড শ এর উপরোক্ত মন্তব্য যদি এখানে থাকে তবে আমারটাও রাখতে হবে। নইলে আমার পরিবেশোনূভূতি আহত হবে এবং আমি জানি জনসাধারনের অনুভূতি রক্ষাই আপনার অন্যতম মহান দায়িত্ব। নইলে আমি কিন্তু মনের দূ;খে কান্নাকাটি করবো। )

                    • শহীদুল আহসান (১৯৯৫-২০০১)

                      তোমার মতো বিদ্বেষী বিদ্যার জাহাজের কথায় কোটেশান মোছার কোনই মানে হয় না। Rachel এর লেখা ব্লগটাও কতটা বিশ্বাসযোগ্য তা নিয়ে যথেষ্ট হচ্ছে । এ সন্দেহ আরো বেড়ে গেল তোমার যুদ্ধংদেহী মন্তব্যের কারণে। তোমার মতো মহাজ্ঞানীর কাছ থেকে আমার আর নসিহত না নিলেও চলবে। তুমি আর কমেন্ট না করলেই ভালো হয়। সিসিবি ব্লগে সুন্দরভাবে ভূল(যদি হয়েই থাকে) বুঝিয়ে দেয়ার জন্য অনেক সিনিয়র এবং জুনিয়রও আছে এবং তাদের মেধাও কোন অংশেই তোমার চেয়ে কম না। তুমি অন্তত মন্তব্য করবা না।

                  • রকিব (০১-০৭)

                    কলেজে অনেক ভুল কিছুও আমি শিখেছি যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমার চেয়ে ২ সেকেণ্ড এর বড় হলেও কেউ আমার শ্রদ্ধার পাত্র হবে!! যেটা হচ্ছে অপদার্থ ইস্লামিক মূল্যবোধ। প্রতি মূহূর্তেই আমি এর অপপ্রয়োগ দেখি।

                    কিছু মনে করবেন না সাব্বির ভাই, না বলে পারছি না। কেবল মাত্র উপরের মন্তব্যটুকুর কারনেই আমি আপনাকে সিসিবির একজন বলে মানতে পারলাম না। ইসলামিক মূল্যবোধের সাথে এর সম্পর্ক থাকলেও, কলেজে এজিনিসটা শিখতে হয়েছে চেইন কমান্ড ফলো করতে গিয়ে। ওভাবেই ক্যাডেট কলেজ এবং সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তি গড়ে ওঠে। আমি তীব্র নিন্দা জানিয়ে যাচ্ছি আপনার এই মন্তব্যে।
                    আমার ব্যক্তিগত অভিমত অনুযায়ী, সিসিবি কেবল মাত্র একটি ব্লগ হিসেবেই আমাদের কাছে প্রাধান্য পায় না; আমাদের অনেকের কাছেই এটা পরিবারের মতো। এবং এখানে স্বাধীনভাবে সিনিয়র কিংবা জুনিয়র এর সাথে বিতর্ক চালিয়ে যাবার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ভাইয়া আমরা আমাদের স্বাভাবিক সৌজন্যবোধটুকু এঁড়িয়ে যাবো (আমি নিজেই হয়তো এই মুহূর্তে খানিকটা অমার্জিত আচরণ করছি, ক্ষমা চেয়ে নিলাম)।
                    ভাইয়া, কারো আচরনে শ্রদ্ধা যদি না করতে পারেন তাতে দোষের কিছু নেই; কিন্তু অশ্রদ্ধা না করাটাই কি মঙ্গলজনক নয়??


                    আমি তবু বলি:
                    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

  2. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    মুহাম্মদ (সঃ) এর সবচেয়ে বড় মাজেজা তিনি চাঁদকে দ্বিখন্ডিত করে অবিশ্বাসীদের দেখিয়েছিলেন। এমনকি নীল আর্মস্ট্রং পর্যন্ত চাঁদে গিয়ে সেই ফাটল দেখে মুসলমান হয়ে গিয়েছিলেন।

    আর কারও সার্টিফিকেট দরকার নেই। এইটুকুই যথেষ্ট।

    • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

      😀

      শুধু তাই না, উনি খুব ভালো রেসলিং করতেন। সেদিন রেসলিংয়ের ইতিহাস পড়তে গিয়া দেখলাম হুজুরে পাক আরব দেশের এক হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নকে তিন তিনবার নক আউট কইরা দিছিলেন।

      'Once a man called Rukhana came to see the prophet (pbuh). He was a champion wrestler who had an unusual challenge for the Prophet (pbuh). He said that if Muhammad (pbuh) could beat me in a wrestling match, he would accept Islam.

      Rukhana knew in his heart that he was the best wrestler in Arabia and no one had ever beaten him in wrestling before. He was the undisputed champion of Arabia.

      The Prophet (pbuh) accepted his challenge and they began their wrestling match. However, very quickly the Prophet (pbuh) over powered Rukhana and threw him to the ground. Rukhana was very angry and demanded a re-match. The Prophet (pbuh) agreed and beat him again, throwing him to the ground.

      Rukhana yet again demanded a re-match and for the third time the prophet (pbuh) threw him to the ground. This time Rukhana knew this was a miracle and that Muhammad (pbuh) was a true messenger. Rukhana accepted Islam and became a good and pious Muslim. '

      সত্য মিথ্যা জানি না। লিঙ্ক আছে এইখানে। বলেন সুবাহানাল্লাহ !


      ---------------------------------------------------------------------------
      বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
      ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    • একটা জিনিস খেয়াল করলাম মুক্তমনার বেশিরভাগ লেখক যারা ইসলামের সমালোচনা করেন তাঁদের ইসলাম সম্পর্কে বিস্তারিত পড়াশোনা খুবই কম। বেশিরভাগই কোরানের অনুবাদ বা ব্যাখ্যা(তাফসির) পড়েননি বললেই চলে। ফলে অনেক বিষয় তাঁদের কাছে অস্পষ্ট। বিক্ষিপ্ত কোরানের আয়াত বা হাদিস উল্লেখ করে সমালোচনা করেন অনেকটা ইসলামের প্রতিপক্ষ মিশনারি ওয়েবসাইটগুলোর মতো। যা প্রতিনিয়ত ভূল ফলাফল বয়ে আনে।

  3. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    ইয়ে মানে, সেন্সরিং না করে সব ধরণের মন্তব্য দিলে আরো ভাল হতো মনে হয়। মুহাম্মদ সম্পর্কে অনেক অতি বিখ্যাত বিখ্যাত মনীষী অনেক কুকথা বলেছেন বলেও শুনেছি, ভাল কথাগুলোর সাথে কুকথাগুলোও জুড়ে দিলে বেশ একটা নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করা যেতো।

    • শহীদুল আহসান (১৯৯৫-২০০১)

      মুহাম্মদ সম্পর্কে অনেকের অভিযোগ আছে সত্য (যেমন- হযরত আয়েশাকে অতি অল্প বয়সে বিয়ে করা, তাঁর বহুবিবাহ সহ আরো অনেক অভিযোগ) কিন্তু সেগুলোর কতটা ভিত্তি আছে তা সুষ্ঠু বিবেচনার দাবি রাখে। আমি শুধু এ লেখারই দুটি উদ্ধৃতি তুলে ধরছি--

      W. Montgomery Watt in ‘Muhammad at Mecca,’ Oxford, 1953.
      শুধুমাত্র যা বর্ণিত হয়েছে তার ভিত্তিতে নয়, আমরা যদি মুহাম্মদকে সামান্য পরিমাণও বুঝতে চাই তবে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সততা ও ন্যায়পরায়ণতা সহকারে তাঁকে বিচার করতে হবে। আমরা যদি আমাদের অতীত থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভূলগুলো সংশোধন করতে চাই তবে এটা ভূলে গেলে চলবে না যে চুড়ান্ত প্রমাণ আপাতদৃষ্টিতে যা সত্য বলে প্রতীয়মান হয় তারচেয়ে অনেক কঠিন শর্ত। এবং এই ব্যাপারে প্রমাণ অর্জন সত্যিই দু:সাধ্য হবে।

      Thomas Carlyle in ‘Heroes and Hero Worship and the Heroic in History,’ 1840
      এ লোকটিকে (মুহাম্মদ) ঘিরে যে মিথ্যাগুলো (পশ্চিমা অপবাদ) পূন্জীভূত হয়ে আছে- যার ভালো অর্থ হতে পারে ধর্মান্ধতা, তা আমাদের নিজেদের জন্যই লজ্জাজনক।

  4. মরতুজা (৯১-৯৭)

    ভাই শহীদুল,

    তুমি কি বুঝতে পারছ কত বড় ছা** হলে এধরনের পোস্ট দিয়ে নিজের ধর্মের মাহাত্ত প্রমান করতে হয়?

    বিধর্মী বিখ্যাত ব্যাক্তিরা ভাল বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন বলেই ইসলাম সত্য আর মুহাম্মদ সাঃ এক মহান নবী?

    ফাইজলামির আর জায়গা পাও না? এরপর থেকে এধরনের পোস্ট দয়া করে এখানে না দিয়ে সামুতে দিও প্লীজ।

    • শহীদুল আহসান (১৯৯৫-২০০১)

      প্রিয় মরতুজা ভাই,
      আপনি শুরুতেই ভূল বুঝেছেন যে আমি ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্যে এই পোস্ট দিয়েছি। আমি যাদের উদ্ধৃতি এখানে দিয়েছি তাঁদের বেশিরভাগই অমুসলিম এবং অনেকেই প্রাতিষ্ঠানিক কোন ধর্মে বিশ্বাস করতেন না। ইসলামের অনেক ব্যাপারেই তাদের প্রশ্ন আছে এবং তারা সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। এসব মণিষীদের অনেকেই মুহাম্মদকে নবী হিসেবেও স্বীকার করেননি। কিন্তু ব্যক্তি মুহাম্মদ সম্পর্কে তাঁরা কি ভাবতেন তাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
      আর বর্তমান বিশ্বে ধর্ম দিন-দিন শক্তিশালী বিষয় হয়ে উঠছে, তা আমরা যতই মুখ ফিরিয়ে রাখি না কেন। হান্টিংটনের মতে ঊনবিংশ শতাব্দিতে যে ধর্মকে আধুনিক বিশ্ব প্রায় বাতিল বলে রায় দিয়ে দিয়েছিলো, একবিংশ শতাব্দিতে এসে তা আমাদের ওপর প্রতিষোধ নিচ্ছে। তো ক্যাডেটরাও এ আলোচনা থেকে দূরে থাকবে কেন ? পজিটিভ আলোচনার মাধ্যমে ভালো কিছু নিশ্চয় বের হয়ে আসবে। নিজেদের প্রগতিমনস্ক ও অন্যদের থেকে উন্নত মেধার ভেবে আলাদা হয়ে থাকলে তা আমাদের ভবিষ্যতের জন্যই ভালো হবে না। আর আমি জানি না এই পোস্ট সিসিবি ব্লগের মান কতটা ক্ষুন্ন করেছে !!

      • আন্দালিব (৯৬-০২)
        আর বর্তমান বিশ্বে ধর্ম দিন-দিন শক্তিশালী বিষয় হয়ে উঠছে, তা আমরা যতই মুখ ফিরিয়ে রাখি না কেন।

        পুরোপুরি সহমত। ধর্মপরায়ণ মুসলিমদের হাত শক্ত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান (যেমন- আল কায়েদা, জেএমবি) অস্ত্র হাতে এগিয়ে আসছে। ধর্মের জয় সুনিশ্চিত!

          • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

            মইনুল ভাই
            ধার্মিক মানুষ মাত্রই সন্ত্রাসী কেউ বলছে? উপরে কোথাও দেখলাম না বা আমিও মনে করি না। তাহলে তো আমার নিজের বাবা সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী।

            শহীদুলের উপরের মন্তব্যটা পড়েন-

            আর বর্তমান বিশ্বে ধর্ম দিন-দিন শক্তিশালী বিষয় হয়ে উঠছে, তা আমরা যতই মুখ ফিরিয়ে রাখি না কেন। হান্টিংটনের মতে ঊনবিংশ শতাব্দিতে যে ধর্মকে আধুনিক বিশ্ব প্রায় বাতিল বলে রায় দিয়ে দিয়েছিলো, একবিংশ শতাব্দিতে এসে তা আমাদের ওপর প্রতিষোধ নিচ্ছে।

            আপনার কাছে এটা ভুল মনে হচ্ছে না?


            ---------------------------------------------------------------------------
            বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
            ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

            • মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

              কামরুল, আন্দালিব যে অংশটুকু কোট করেছিলো ---

              আর বর্তমান বিশ্বে ধর্ম দিন-দিন শক্তিশালী বিষয় হয়ে উঠছে, তা আমরা যতই মুখ ফিরিয়ে রাখি না কেন।

              আমি যতদুর দেখেছি এটা ঠিক। আমার খুব একটা বেশী দেশ ঘোরাফেরা করা হয়নি, তবে যে দুয়েকটা দেখেছি সেগুলোতে খুব সাধারন লেভেলের মানুষের সাথে মেলামেশা করার চেষ্টা করেছিলাম। হয়তো যথেষ্ঠ লোকজনের সাথে মেলেমেশা করা হয়নি দেখে আমার কাছে ওই কোটটা ঠিক মনে হয়েছে।
              যাই হোক, আন্দালিবের করা কমেন্টের সারকাস্টিক অংশ বাদ দিলে ---

              ধর্মপরায়ণ মুসলিমদের হাত শক্ত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান (যেমন- আল কায়েদা, জেএমবি) অস্ত্র হাতে এগিয়ে আসছে।

              আমি যতদুর জানতাম এই দুটো প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসী প্রতিষ্ঠান। এখন ধর্মপরায়ন মানুষের হাত শক্ত করার জন্যে যদি সন্ত্রাসীদের সাহায্য লাগে, তাহলে ধর্মপরায়ন মানুষ আর সন্ত্রাসী বা তার চেয়েও খারাপ আমাদের নেতৃবৃ্ন্দের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

              আর

              হান্টিংটনের মতে ঊনবিংশ শতাব্দিতে যে ধর্মকে আধুনিক বিশ্ব প্রায় বাতিল বলে রায় দিয়ে দিয়েছিলো, একবিংশ শতাব্দিতে এসে তা আমাদের ওপর প্রতিষোধ নিচ্ছে।

              হান্টিংটন সম্পর্কে আমার কোনো ধারনা নেই। আর -- একাবিংশ শতাব্দিতে কিভাবে প্রতিশোধ নিচ্ছে সেটাও শহীদ পরিষ্কার করেনি। তাই ঠিক না ভুল সে ব্যাপারে আমি মত দিতে পারছিনা।

              যাহোক, আংকেল কে সালাম দিও। আর অনেক দিন তোমার কোনো লেখাটেখা নাই, কাহিনী কি?? তানভীরের মতন ব্যস্ত নাকি?

              • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

                শহীদুলের এই কথাটা আমার কাছে প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মান্ধদের কথার মতই মনে হয়েছে। যাই হোক, ইদানিং এইসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক করতে আগ্রহ পাই না। নিতান্তই ব্যক্তিগত চর্চাকে মানুষ অন্যদের উপর চাপিয়ে দিতে চায়। এটা ভালো লাগে না।

                সালাম পৌছে দেব। দোয়া কইরেন উনার জন্যে। হার্টের পেশেন্ট, শরীরও বেশি ভালো না।

                আমি ব্যস্ত না। লিখতে পারছি না। লেখা আসে না।


                ---------------------------------------------------------------------------
                বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
                ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

                • শহীদুল আহসান (১৯৯৫-২০০১)

                  প্রফেসর স্যামুয়েল পি হান্টিংটন তাঁর বিখ্যাত বই 'দ্য ক্ল্যাশ অফ সিভিলাইজেশনস' গ্রন্থে ধর্মের প্রতিশোধ সংক্রান্ত মন্তব্যটি করেছেন। এটার ব্যাখ্যা অনেক বিস্তৃত। সংক্ষিপ্তভাবে বলছি - তাঁর মতে পশ্চিমা বিশ্ব ধর্মকে সম্পূর্ণ একঘরে করে ফেলেছে বলেই তা বর্তমানে বিভিন্ন দিক্ থেকে পাশ্চাত্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বইটা পড়তে পারেন। অনিন্দ্য প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে। আংকেলের জন্য দোয়া করি তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন।

          • আন্দালিব (৯৬-০২)

            মাইনুল ভাই, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলো কার উপরে দাঁড়িয়ে আছে? যদি সেটা ধর্ম হয়, তাইলে ধর্মের দোষ। আমরা আমেরিকাকে গালি দেয়ার সময়ে পাশ্চাত্য কালচার আর পুঁজিবাদ/ভোগবাদকে গালি দেই। "ঐ কালচার পালনকারী সকলেই খারাপ" বুঝাই?

            তারপরেও,

            সম্মোহিত হয়ে যদি কেউ একজন মানুষকে মাড়িয়ে মেরে ফেলেন তাইলে সেই সম্মোহনবিদ্যার কোনই দোষ হবে না? কাউকে সেটা ঘুম পাড়িয়ে রাখছে, কাউকে দিয়ে বোমা বানিয়ে নিচ্ছে।

            যে প্রতিষ্ঠান পৃথিবীতে এতো এতো রক্তক্ষয় ঘটিয়েছে যুগে যুগে সেটার ছায়াতলে থেকে কোন মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ কীভাবে সেই দায় এড়াতে পারেন?

            • মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

              আন্দালিব,

              সম্মোহিত হয়ে যদি কেউ একজন মানুষকে মাড়িয়ে মেরে ফেলেন তাইলে সেই সম্মোহনবিদ্যার কোনই দোষ হবে না?

              আমি সন্মোহঙ্কারির দোষ দেব। ছুরি দিয়ে মানুষ মারে, তাই বলে যদি তুমি ছুরি ব্যবহার বন্ধ করে দাও, রান্নার জন্যে তরকারি কিভাবে কাটবে?

              এই রকম বাদ দিতে থাকলে রাজনীতি, সমাজ -- আরো অনেক কিছুই তো একে একে বাদ দিয়ে দিতে হবে। তুমিই বলো, রাজনীতি মত পার্থক্য বা ভিন্ন ভিন্ন সমাজের মধ্যে কি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়নি?? এখনো কি হচ্ছে না ?? ভবিষ্যতে কি হবে না ??

              • আন্দালিব (৯৬-০২)

                রাজনৈতিক মতপার্থক্য বলে কয়েই আগ্রাসী, আর ধর্ম শান্তির কথা বলে আগ্রাসী। এটাই পার্থক্য।

                অধিকাংশ মানুষ হয়তো মনের শান্তি, পারলৌকিক সুবিধা বা আরো অন্যান্য হিতকর উদ্দেশ্যে ধর্মপালন করছেন। কিন্তু তাদেরকে এটাও মানতে হবে যে ধর্মের মাঝে আগ্রাসী বার্তা আছে, অপরের ধর্মকে খারাপ বলার প্রমাণ আছে, অপরকে অন্য ধর্ম বা মতপালনের কারণে মানুষ হিসেবে গণ্য না করে পথভ্রষ্ট (অর্থাৎ নেতি) বলে ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ করার অজস্র উদাহরণও আছে। আপনি শান্তিকামী বলে হয়তো সম্মুখ সমরে নামছেন না, কিন্তু আরো অনেকে এই ধর্মের ছায়াতলে থেকেই এগুলো করছে।

                এই কথাগুলো আপনিও জানেন, মাইনুল ভাই। হয়তো অন্যভাবে 'পাঠ' করেন। যেহেতু পোস্টের বিষয়ে কিছু বলার নাই আর আপনার মতামতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রাখি, তাই এখানেই শেষ করি। 🙂

            • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)
              সম্মোহিত হয়ে যদি কেউ একজন মানুষকে মাড়িয়ে মেরে ফেলেন তাইলে সেই সম্মোহনবিদ্যার কোনই দোষ হবে না? কাউকে সেটা ঘুম পাড়িয়ে রাখছে, কাউকে দিয়ে বোমা বানিয়ে নিচ্ছে।

              দারুন একটা কথা বললেন।

      • শহীদুল ভাই,লেখা ভাল লেগেছে।বিশ্বাস যার যার।
        মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিরপেক্ষভাবেও বিচার করতে বলা হয়,তাঁর মতন মহানুভবতার উদাহরন পৃথিবীর কয়জন মানুষ দিতে পেরেছে তা নিয়ে আমার যঠেষ্টই সন্দেহ আছে।এত কঠিন রকমের অত্যাচার করার পরেও,এত অপকার করার পরেও তিনি মানুষের প্রতি সর্বদাই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন।এরকম উদাহরন এই দুনিয়ার আরও কতজন জ্ঞানী-গুনী মানবতাবাদীরা স্থাপন করেছেন জানতে খুব ইচ্ছে হয়।
        (এটা আমার সম্পূর্নই ব্যক্তিগত মতামত)

        • শহীদুল আহসান (১৯৯৫-২০০১)

          নিরপেক্ষভাবে বিচার করলে কোন শিক্ষিত লোকের পক্ষেই মুহাম্মদ ( স: ) এর অবদানকে অস্বীকার করা অসম্ভব। পৃথিবীর ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যাঁর প্রতিটা পদক্ষেপ অর্থাৎ একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় থেকে রাষ্ট্রীয় ব্যাপার সবই খুঁটনাটি সহকারে সংরক্ষিত হয়েছে হাদিসে। তো এ ব্যাপারে জল ঘোলা করার কোনই সুযোগ নেই।

          • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

            ভাইয়া, মুসলিমদের মহানবী হজরত মুহম্মদ সঃ এঁর সম্পর্কে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে মনে হয়েছে(আগে কয়েক জায়গায় লিখেছি এই কমেন্টটা) যে তিনি তাঁর যুগের চাইতে অগ্রসর অসাধারণ ধীশক্তিসম্পন্ন একজন মানুষ ছিলেন-১৪০০ বছর পরেও বর্তমান মানব সমাজের একটি বিশাল অংশের উপর তাঁর প্রভাব দেখলে এটাই মনে হয়।নিরপেক্ষভাবে দেখলে মনে হয়না বলা যাবে যে তাঁর সবকিছুই খারাপ(অনেকের দ্বিমত থাকতে পারে) কারণ মানব সমাজে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।তবে একজন নিধর্মী হিসেবে আমার মনে হয়েছে যে অসাধারণ ধীশক্তি এবং মহত্ত্বের অধিকারী হওয়া সত্বেও তাঁর সময়ের সীমাবদ্ধতাকে তিনি পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারেননি-বাল্যবিবাহ,একের পর এক বিবাহ,নিজে পালক পুত্রের স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণ এবং সেটাকে কোরানের আয়াত দিয়ে জায়েজ করা ইত্যাদি কাজ সেটাকেই নির্দেশ করে (নেটে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলেই যে কেউ এগুলোর প্রমাণ পেয়ে যাবেন-অবশ্য যদি অন্ধভাবে কেউ অস্বীকার করতে চায় তাহলে ভিন্ন কথা)। তিনি তাঁর সময়ের একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং এই হাজার বছর পরেও তাঁর প্রভাব বিদ্যমান-কিন্তু তাঁকে সর্বকালের সেরা মহামানব এবং সকল যুগের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করাটা আমার কাছে বালখিল্যতা বলেই মনে হয়।

            • শহীদুল আহসান (১৯৯৫-২০০১)

              ভালো লিখেছ । বুখারী শরীফেই আছে। তবে এ ব্যাপারে প্রেক্ষাপট, তৎকালীন সমাজব্যবস্থা ইত্যাদিও বিবেচনার দাবি রাখে। তাঁর বহুবিবাহ কিংবা ফুফাত বোন জায়েদের স্ত্রী জয়নাবকে বিবাহ করা এ ব্যাপারগুলোও ব্যাপক গবেষণার দাবী রাখে।

              • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                ভাইয়া,

                সকলের অনুকরণীয় আদর্শ এবং সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানবের দাবীদার যিনি,৬ বছরের বালিকাকে বিবাহপূর্বক ৯ বছর বয়স হবার পর সেই বালিকার সাথে বাসর ঘরে প্রবেশ করার ঘটনাটা আমার মনে হয়না বর্তমান সমাজের কোন পরিপ্রেক্ষিতেই জায়েজ করা যাবে। মহানবী হজরত মুহম্মদ (স) এঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধার কোন কমতি নেই-কিন্তু সেটা প্রাচীন যুগের দুর্দান্ত নেতৃত্বদান এবং কূটনীতিতে পারঙ্গম একজন মানুষের সমাজ সংস্কারমূলক কাজগুলোর প্রতি স্বীকৃতি হিসেবে।তাঁর ভুলত্রুটিগুলোকে সেই যুগের সীমাবদ্ধতা হিসেবে ধরে নিলে তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষাপটে তাঁকে নিঃসন্দেহে অসাধারণ একজন ব্যক্তিত্ব বলেই মনে হয়।কিন্তু মুশকিলটা তখনই বাধে যখন বর্তমান সময়ের অনুপযোগী তাঁর অনেক শিক্ষাই
                মুসলিম ধর্মালম্বীরা জোর করে অন্যদের উপর চাপিয়ে দিতে চায় এবং সেগুলোকে বর্তমানের প্রেক্ষিতেও সঠিক বলে প্রচারের অপপ্রয়াস চালায়।শুধু তা-ই নয়, বিজ্ঞানীদের সারা জীবনের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের ফসল যে আবিষ্কারগুলো সেগুলোকেও কুরআনের অবদান বলে প্রচার করার মাধ্যমে বিজ্ঞান সাধনার প্রতি চরম অপমান প্রকাশ করে।আমরা যারা নিধর্মী,আমাদের আপত্তিটা ঠিক এখানেই।

                ইসলাম ধর্মের মহানবী হজরত মুহম্মদ (স) সম্পর্কে বিভিন্ন মনীষীদের মতামত নিয়ে আপনার এ লেখাটি আমার কাছে একজন মুসলিমের তার প্রিয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে সংগৃহীত বিভিন্ন ভালো ভালো কথার সংকলন হিসেবেই দেখি।আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে মনে হয়নি যে এটুকু ছাড়া আর কোন উদ্দেশ্য আপনার ছিল- তাই লেখাটিকে আমি সেভাবেই দেখি।

                • একটা তথ্য জেনে রাখুন- আয়েশা ( র: )-কে মহানবী ( স: ) প্রস্তাব দেয়ার আগেই জুবাইর ইবনে মুতাআম নামে একজন আয়েশাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। দেখুন-- //en.wikipedia.org/wiki/Aisha

                  " The fact that `Aisha, before the Prophet proposed to her, was being pursued by Jubair ibn Mut`am, indicates that she was mature enough for marriage, according to the prevailing tradition at that time, if not, the Quraish people, who would never waste any chance to insult the Prophet, peace and blessings be upon him, would have found this marriage as a golden opportunity to pour on him rain of insults. Rather they found nothing wrong in this engagement, and they received the news of the Prophet’s proposal for `Aisha as something usual, and even, expected. "---- Sheikh Faysal Mawlawi, deputy chairman of the European Council for Fatwa and Research।

                  • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                    @বাপ্পী,
                    আপনার এই তথ্যের মাধ্যমে মহানবী (স) সম্পর্কে আমি যা বলেছি তাতে কোন ভুলটি ধরা পড়ে একটু বলবেন কি জনাব? জুবাইর ইবন মুতাআম ৬ বছরের বালিকা বিবি আয়েশাকে মহানবীর আগে প্রপোজ করলেই মহানবীর এই বালিকা-বিবাহ জায়েজ হয়ে গেল? মহানবী(স)সম্পর্কে আমি যা বলেছি তা পড়েননি বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে,তারপরেও আপনার সুবিধার্থে পুনরায় কপিপেস্ট করছিঃ

                    //অসাধারণ ধীশক্তি এবং মহত্ত্বের অধিকারী হওয়া সত্বেও তাঁর সময়ের সীমাবদ্ধতাকে তিনি পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারেননি-বাল্যবিবাহ,একের পর এক বিবাহ,নিজে পালক পুত্রের স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণ এবং সেটাকে কোরানের আয়াত দিয়ে জায়েজ করা ইত্যাদি কাজ সেটাকেই নির্দেশ করে//

                    //তিনি তাঁর সময়ের একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং এই হাজার বছর পরেও তাঁর প্রভাব বিদ্যমান-কিন্তু তাঁকে সর্বকালের সেরা মহামানব এবং সকল যুগের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করাটা আমার কাছে বালখিল্যতা বলেই মনে হয়//

                    //সকলের অনুকরণীয় আদর্শ এবং সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানবের দাবীদার যিনি,৬ বছরের বালিকাকে বিবাহপূর্বক ৯ বছর বয়স হবার পর সেই বালিকার সাথে বাসর ঘরে প্রবেশ করার ঘটনাটা আমার মনে হয়না বর্তমান সমাজের কোন পরিপ্রেক্ষিতেই জায়েজ করা যাবে//

                    জনাব, মহানবী (স) তাঁর যুগের তুলনায় একজন মহামানব ছিলেন এটা নিয়ে আমার কোন দ্বিমত নেই-কিন্তু সমস্যা দাঁড়ায় এই ১৪০০ বছর আগের মানুষটি তাঁর সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে সেই সময়ে যা-যা করে গিয়েছেন তার পুরোটাকেই যখন সর্বযুগের অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে প্রচার করা হয়।আধুনিক যুগের কোন সভ্য দেশে, এমনকী আমাদের এই হতভাগা বাংলাদেশেও যদি ২০১০ সালে তিনি ৯ বছরের কোন বালিকাকে বিয়ে করতেন তাহলে বাল্যবিবাহের দায়ে তাঁকে জেলে যেতে হত(তিনি আইনের ফাঁকফোঁকর এড়াতে কোরানের আয়াত আমদানী করলে অথবা প্রভাব খাটালে কি হত সেটি সম্পর্কে অবশ্য আমি ওয়াকিবহাল নই-হাজার হোক এটা বাংলাদেশ কিনা!)।

                    • # সে যুগের প্রেক্ষাপটে আয়েশাকে বিয়ে করাটা তেমন কোন ঘটনাই চিল না। খ্যাতিমান ধর্মীয় ভাষ্যকার ক্যারেন আর্মস্ট্রং তাঁর ইসলাম: এ শর্ট হিস্ট্রি বইয়ে আয়েশার সাথে বিবাহের কারণ বলতে গিয়ে বলেন- "নিজস্ব অতিগোত্র গঠন করার সময় তিনি(মুহাম্মদ) তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহচরের সংগে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী ছিলেন, যাতে তাঁদের আরো কাছে আনা যায়। তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশা ছিলেন আবুবকরের মেয়ে; তিনি উমার ইবনে আল খাত্তাবের মেয়ে হাফসাকেও বিয়ে করেছিলেন। নিজের দুই মেয়েকে তিনি উসমান ইবনে আফফান এবং আলী ইবনে আবি তালিবের সাথে বিয়ে দেন। "
                      কিন্তু নবীজি তো তাঁর ভবিষ্যত অনুসারীদের জন্য কোন নিয়ম বেঁধে দেননি যে কম বয়সের মেয়ে বিবাহ করতেই হবে। কোরান ও হাদিস অনুসারে বর্তমান যুগের জন্য যা প্রাসংগিক তাই গ্রহণীয়। তবে শর্ত হলো অবশ্যই কোরান ও সুন্নাহর সীমার মধ্যে থাকতে হবে। কোরান ও সুন্নাহর সীমার মধ্যে যেকোন পরিবর্তনকে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়-এ জন্যই ইসলামে ইজমা ও কিয়াসের বিধান আছে। মহানবী (স: ) গাড়ীতে চড়েননি, তাই বলে কি বর্তমান যুগের মুসলমানরাও কি গাড়ীতে চড়বে না ? ব্যাপারটা সেরকম না।

                      #আশ্চর্যজনক হলেও সত্য মুহাম্মদ ( স: )-ই নিজ উদ্যোগে ফুফাত বোন জয়নবের কাছে জায়েদের বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। জায়েদ ও জয়নবের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দিলে এ বিয়ে ভেংগে যায় এবং রাসুলুল্লাহ জয়নবকে বিয়ে করেন।
                      মারেফুল কোরআনের সপ্তম খন্ড পৃষ্ঠা ১৪১ থেকে ১৫১ পর্যন্ত পড়লেই আপনার ভূল ধারণা অপনোদন হয়ে যাবে। বৃহত কলেবরের কারণে লিখতে পারলাম না। নিম্নোক্ত লিংকে মারেফুল কোরান ডাউনলোড/পড়তে পারবেন-
                      //www.banglakitab.com (মুসলিম উৎস বলে আবার অবিশ্বাস করবেন না যেন)

                    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                      ভাই সাহেব কি সাদা বাংলা বোঝেন না? আপনি বলেছেনঃ

                      //সে যুগের প্রেক্ষাপটে আয়েশাকে বিয়ে করাটা তেমন কোন ঘটনাই চিল না//

                      আমি কি সে যুগের পরিপ্রেক্ষিতে এটা নিয়ে একবারও প্রশ্ন তুলেছি? আমি কি বলেছি তা আপনার আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি কষ্ট করে একবার পড়ে দেখেন-এই নিয়ে তৃতীয়বার তুলে ধরছিঃ

                      //অসাধারণ ধীশক্তি এবং মহত্ত্বের অধিকারী হওয়া সত্বেও তাঁর সময়ের সীমাবদ্ধতাকে তিনি পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারেননি-বাল্যবিবাহ,একের পর এক বিবাহ,নিজে পালক পুত্রের স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণ এবং সেটাকে কোরানের আয়াত দিয়ে জায়েজ করা ইত্যাদি কাজ সেটাকেই নির্দেশ করে//

                      //তিনি তাঁর সময়ের একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং এই হাজার বছর পরেও তাঁর প্রভাব বিদ্যমান-কিন্তু তাঁকে সর্বকালের সেরা মহামানব এবং সকল যুগের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করাটা আমার কাছে বালখিল্যতা বলেই মনে হয়//

                      //সকলের অনুকরণীয় আদর্শ এবং সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানবের দাবীদার যিনি,৬ বছরের বালিকাকে বিবাহপূর্বক ৯ বছর বয়স হবার পর সেই বালিকার সাথে বাসর ঘরে প্রবেশ করার ঘটনাটা আমার মনে হয়না বর্তমান সমাজের কোন পরিপ্রেক্ষিতেই জায়েজ করা যাবে//

                      এটা পড়েও যদি মাথায় কিছু না ঢোকে তাহলে আপনার জন্যে শেষ লাইনে আমার পক্ষে যতটা সম্ভব সরল বাংলায় বলছিঃ

                      মহানবী হজরত মুহম্মদ (স) এঁর কৃত কাজ-বিশেষ করে বহুবিবাহ এবং বালিকাবিবাহকে সে যুগের পরিপ্রেক্ষিতে বসিয়ে দেখলে হয়তো খুব একটা দোষ হয়না কিন্তু বর্তমান যুগের পরিপ্রেক্ষিতে দুটো কাজই গর্হিত,বিশেষ করে ৯ বছর বয়েসি বালিকাকে বিবাহ করাটা।২০১০ সালে এই কাজ করলে তাঁকে জেল খাটতে হত বলেই আমার ধারণা।কাজেই মহানবী (স) কে ১৪০০ বছর আগের একজন অসামান্য মানুষ হিসেবে দেখতে আমার আপত্তি নেই কিন্তু তাঁকে সর্বকালের সকল মানুষের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে যারা দেখে তাদেরকে আমার স্থিতবুদ্ধি(অন্ততঃ এই ক্ষেত্রে) বলেই মনে হয়।

                      বলতে বাধ্য হচ্ছি,আপনার আচরণ চরম বিরক্তিকর।আমি যেখানে মেনেই নিয়েছি যে ১৪০০ বছর আগের পরিপ্রেক্ষিতে মহানবীর কাজকে জায়েজ করা যায় আপনি সেটাকেই বার বার টেনে আনছেন।আমার সমস্যা হল মহানবীকে সর্বকালের সেরা আদর্শ হিসেবে মেনে নিতে,আর তার অনেকগুলো কারণের একটা হল ৯ বছরের বালিকাকে নিয়ে বাসর ঘরে ঢোকা-যা এ যুগে কোন মহাপুরুষ করলেও তাকে পেডোফাইল বলে গালি দিতে আমি একবিন্দু পেছপা হবনা। চখে আঙ্গুল দিয়ে তিনবার দেখানোর পরেও আপনি নির্লজ্জ্বভাবে চর্বিত চর্বন করছেন-দুঃখজনক!

                    • মাসরুফ ভাই,
                      প্রথমত আসি হযরত জয়নাবকে বিবাহের বেলায়। বাধ্য হয়ে আবারো চর্বণ করছি, জয়নাবের সাথে জায়েদের বিয়ে মুহাম্মদ-ই দিয়েছিলেন। আপনি বলছেন--"নিজের পালক পুত্রের স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণ"। মুহাম্মদ (স: ) এর যদি জয়নাবের প্রতি আকর্ষণ থেকেই থাকে তাহলে কেন নিজে আগে জায়েদের সাথে জয়নাবের বিয়ে দিতে গেলেন। জয়নাবকে তো তিনিই বিয়ে করতে পারতেন, তাঁর সামনে তো কোন বাধা ছিলো না। যে জিনিস তিনি অতি সহজে পাচ্ছেন তা সাত-পাঁচ করে দখলের দরকার ছিলো না। আপনি মনে হয় মারেফুল কোরানের লিংকটা পড়েননি। তাই আবার দিলাম। দয়া করে পড়ুন এবং কারণটা জানুন--- //www.banglakitab.com/quran.htm

                      দ্বিতীয়ত, আপনি হাদীসের এই ঘটনাটা মেনে নিয়েছেন যে আয়েশার সাথে মুহাম্মদ স: এর ৯ বছর বয়সে বিয়ে হয়। তাহলে আমি আশা করবো আপনি হাদীসে বর্ণিত মুহাম্মদ স: এর জীবনের অন্য ঘটনাগুলো অর্থাৎ মানুষের সাথে তাঁর ব্যবহার, স্বামী হিসেবে স্ত্রীদের সাথে ব্যবহার, অন্যান্য মহিলার প্রতি আচরণ, তিনি কিরকম জীবন-যাপন করতেন, দিনের বা রাতের অধিকাংশ সময় তিনি কি করতেন, শিশুদের প্রতি তাঁর আচরণ, তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলোও সত্য বলে মেনে নেবেন। হাদীসে নবীজির পুরো চরিত্রের খুঁটিনাটি অতি বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে। আপনি যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ/অধ্যয়ন করেন তবে সহজেই বুঝতে পারবেন যে হাদীসে বর্ণিত মুহাম্মদের চরিত্রের সাথে Pedophile অপবাদ কিছুতেই খাপ খায় না। বরং প্রতি ক্ষেত্রেই আপনার কাছে তা পরস্পরবিরোধী মনে হবে।
                      মুহাম্মদ আসলেই পেডোফাইল ছিলেন কিনা তা যুক্তির নিরিখেও যাচাই করে দেখুন---//www.themodernreligion.com/prophet/prophet_aisha.htm

                      ওয়েবপেজটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একটু ভালোভাবে পড়ুন । যুক্তিগুলো গ্রহণ করা বা বাতিল করে দেয়া আপনার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। ধন্যবাদ।

                    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                      মুহম্মদ পেডোফাইল ছিলেন কি ছিলেননা সেটা মূল প্রশ্ন নয়।মূল প্রশ্ন হল, পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি ৯ বছরের এক বালিকার সাথে বাসর ঘরে প্রবেশ করেছিলেন-যে কাজটি এই যুগে করলে তাঁকে জেলের ঘানি টানতে হত।আপনার কথা না-ই বলি, একই কথা এই এতবার কপি পেস্ট করছি দেখে আমার নিজেকেই তৃতীয় শ্রেণীর বেহায়া বলে মনে হচ্ছে।নবিজী সম্পর্কে যা বলেছি তা আবারো লজ্জার মাথা খেয়ে কপি পেস্ট করিঃ

                      //সকলের অনুকরণীয় আদর্শ এবং সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানবের দাবীদার যিনি,৬ বছরের বালিকাকে বিবাহপূর্বক ৯ বছর বয়স হবার পর সেই বালিকার সাথে বাসর ঘরে প্রবেশ করার ঘটনাটা আমার মনে হয়না বর্তমান সমাজের কোন পরিপ্রেক্ষিতেই জায়েজ করা যাবে//

                      এবং জায়েজ করা যাবেনা বলেইঃ

                      //তিনি তাঁর সময়ের একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং এই হাজার বছর পরেও তাঁর প্রভাব বিদ্যমান-কিন্তু তাঁকে সর্বকালের সেরা মহামানব এবং সকল যুগের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করাটা আমার কাছে বালখিল্যতা বলেই মনে হয়//

                      আপনারা যারা মহানবী(স) এর ভালো কাজের পাশাপাশি তাঁর সীমাবদ্ধতাগুলোকেও বেহেশতি লেবাস মাখিয়ে বেহেশতে প্রবেশের জন্যে উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন তাঁদের জন্যে শুভকামনা।মহানবীর চরিত্রের অসাধারণ দিকগুলো অস্বীকার করিনা কখনোই,তাঁকে অনন্য একজন মানুষ হিসেবে মানতেও আমার দ্বিধা নেই।কিন্তু তাঁর চরিত্রের যে অন্ধকার দিকগুলো রয়েছে সেগুলোকেও বেহেশতি লেবাস মাখিয়ে সেই লেবাসের পিছু পিছু জান্নাতের পথে যাবার আহবান আমি অস্বিকার করছি।

                      মহানবী(স) এঁর চরিত্রে যে অন্ধকার দিকগুলো রয়েছে তা সত্বেও তাঁর গুনাবলীর সংখ্যা অনেক।কিন্তু আপনারা যেমন উনাকে আল্লাহর পয়গম্বর,প্রেরিত পুরুষ ইত্যাদি বানিয়ে দেন তাতে উনার নিজের কথাটাই মিথ্যা হয়ে যায়।"আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসুল" এর সাথে সাথে "আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ"- এই হাদিসটা পড়েছেন নিশ্চয়ই।

                      পেডোফাইল অপবাদ খাপ খাক বা না খাক,৫৩ বছর বয়েসি একজন মানুষ ৯ বছরের এক বালিকার সাথে বাসর ঘরে প্রবেশ করেছিলেন(বাসর ঘরে প্রবেশের অর্থ আশা করি সবাই বোঝেন)এটা তো সত্য।বর্তমান যুগে আইনত দন্ডনীয় এহেন কাজ যিনি করেছেন(সেটা তাঁর সময়ে যতই গ্রহণযোগ্য হোক না কেন)-এহেন একজন মানুষকে সর্বকালের সেরা অনুকরণযোগ্য মহাপুরুষ হিসেবে মেনে নিতে আমি রাজী নই- এরকম জঘন্য একটা কাজকে বেহেশতি লেবাস লাগিয়ে জায়েজ করে যদি আমাকে বেহেশতে যেতে হয়-ওই বেহেশতে আমি যেতে চাইনা।

                      পরিশেষে একটা কথা বলি- নিধর্মী হলেও আমি অন্ধভাবে ধর্মবিদ্বেষী নই।অযাচিত বিদ্বেষ উগরে দেবার চাইতে যৌক্তিকভাবে ভাল-মন্দ বিচার করে সিদ্ধান্ত নিতে এবং নতুন কিছু শিখতেই আমি বেশি আগ্রহী।নবীজী তাঁর সময়ের এবং পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে খুব অন্যায় কিছু হয়তো করেননি- এতদুর পর্যন্ত মানতেও আমি রাজি আছি,যেমন রাজি আছি তাঁকে মানব সমাজের ইতিহাসে এক অসাধারন ব্যক্তিত্বের মর্যাদা দিতেও।কিন্তু মুসলিমরা( এনাদের মধ্যে আমার মা-ও অন্তর্ভুক্ত) যখন এসে বলে যে মহানবী(স) হচ্ছেন সর্বকালের সব মানুষের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ অনুকরণীয় আদর্শ-তখন তাদেরকে আমি নিম্নোক্ত দুটো দলের একটিতে ফেলে দেইঃ

                      ১) ধর্মের মোহে পুরোপুরি অন্ধ
                      ২) মানব সমাজে অসাধারণ ব্যক্তিবর্গের ইতিহাস সম্পর্কে ক-অক্ষরে গোমাংস।

                      আপনি কোন দলে পড়বেন সেটা নিজেই ঠিক করে নিন।

                      পুনশ্চঃআমার কথাটি ভালভাবে খেয়াল করুনঃ মহানবীর তাঁর নিজ যুগের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণ কিন্তু বর্তমান যুগের বাছবিচারে ভয়াবহ অন্যায় এরকম কিছু কাজ করেছেন-এইকারণে আমি তাঁকে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে মানলেও সর্বকালের অনুকরণীয় বলে মানি না।আপনার আল্লাহর দোহাই লাগে-নবীজীর কাজ(পেডোফাইল কি-না,পালক পুত্রের স্ত্রীর প্রতি আসক্ত কি-না ইত্যাদি) নিয়ে সেই যুগের আলোকে আমাকে জ্ঞান দিতে আসবেননা।কারন আমি বলেছিই যে সেই যুগের আলোকে সেগুলো বর্তমানের মত অপরাধ হিসেবে গন্য হতনা বলেই আমার ধারণা।বর্তমান যুগের আলোকে এসব গর্হিত কাজ যিনি করেছেন,সেগুলোকে বর্তমান যুগেও(১৪০০ বছর আগে নয়) জায়েজ হিসেবে ধরে নিয়ে কেন তাঁকে আদর্শ মানতে হবে সেটা নিয়ে কিছু বলার থাকলে বলুন-নয়তোবা আমাকে মুক্তি দিন।

                    • আপনার সাথে আর তর্ক করবো না । আপনার তুলনার বহর দেখে মনে হচ্ছে "লোহার ওজন টনে না মেপে লিটারে মাপছেন" । সাথে মুহাম্মদের চরিত্রে আর কি কি অন্ধকার দিক আছে যা তাঁকে এ যুগের তুলানায় ব্যাকডেটেড করে ফেলে তাও জানতে চাচ্ছি, যদি আমার মতো নির্বোধ কিছু জ্ঞান লাভ করতে পারে। মুহাম্মদ স. কত বছর বয়সে আয়েশার সাথে বাসর ঘরে প্রবেশ করেছিলেন এ সংক্রান্ত হাদিসটাও জানাবেন আশা করি । আপনি যদি চক্ষুষ্মান ব্যক্তি হয়ে থাকেন তাহলে রাসেল সাহেবের মন্তব্যটার যুক্তি নিশ্চয় বুঝে থাকবেন--

                      "প্রাচীন গ্রিসে ১২ বছরকেই বিয়ের বয়স মেনে নেয়ার প্রচলন ছিল। ভারতে উনবিংশ শতকেও ১০ বছরেই কাছাকাছিই মেয়েদের বিয়ে হত – যার উদাহরন আমি দিয়েছি বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ বা গান্ধীর বেলায়। একেক পরিবেশে, গরম বা শীতকালীন দেশে একেক বয়সে মেয়েরা প্রজনন ক্ষমতা অর্জন করে, সেভাবে বিভিন্ন সমাজ একটা বয়সকে ষ্টান্ডার্ড হিশেবে মেনে নিয়েছিল। দেখা যায়, গরমের দেশে এ বয়সটা শীতকালীন দেশের তুলনায় আগে হয়। তাই ভারত, বা আরবে নয়/দশ বছরে মেয়েদের বিয়ে হত। এখন মনে রাখতে হবে, রেনেসার পরে আস্তে আস্তে সমস্ত সামাজিক ব্যবস্থা বৈজ্ঞানিক তথ্য নিয়ে গড়ে ওঠে, এবং ধীরে ধীরে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ কেই নির্ধারন করা হয়েছে, যাতে পর্যাপ্ত মানসিক ও শিক্ষার গ্রোথ সেই সময়ের মধ্যে হয়, শুধু প্রজনন ক্ষমতাই নয়। কিন্তু তুমি দেখবে বেগম রোকেয়া ২১ বছর বয়সকে পছন্দ করতেন। কিন্তু এই যে ১৮ বছরকে ষ্টান্ডার্ড হিসেবে নেয়া এটা খুবই রিসেন্ট। ১৩, ১৪,১৫ বছরকেও ষ্টান্ডার্ড হিশেবে ধরা হত ইউরোপে খুব বেশীদিন আগে নয়, কয়েক শতাব্দী আগে। এখানে খুব সহজেই যুক্তি দেয়া যায় মুহম্মদ এ ব্যপারে আধুনিক ভাবধারা খুব একটা বুঝতে পারেননি তার সময়ে, সেই সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। বয়সের ব্যবধান নিয়ে বলা হয়েছে, কিন্তু যে সমাজে ১৮ বছরে মেয়েরা বিয়ে করতে পারে, সেখানে বরের বয়স ২৫, ৩৫ বা ৬৫ হতে পারে না কি? বেমানান বটেই, কিন্তু এটা কি ইলিগাল। শিশুশ্রম নিয়েও এরকম স্ট্যান্ডার্ড আছে, উনবিংশ শতকেও মাইকেল ফ্যারাডে, চার্লস ডিকেন্স এরা ১০-১১ বছর বয়সে কাজে নেমে গেছেন। কিন্তু আমরা একটা গ্লোবাল ষ্টান্ডার্ড করে এখনকার সময়ে একটা নির্দিষ্ট বয়সের নিচে ছেলেমেয়েদের কাজকরাকে শিশুশ্রম বলি, এবং উন্নত দেশগুলো বিভিন্ন এইড দেয়ার শর্ত হিসেবে আমাদেরকে সেটা চাপিয়ে দিতে যায়, যদিও তাহলে গরিব দেশের অনেক পরিবারই তাতে না খেয়ে মারা যাবে। আমি এটুকুই বোঝাতে চাচ্ছি যে, সমাজব্যবস্থা ধীরে ধীরে বদলে যায়, নতুন তথ্য আসে, সেভাবে মানুষ একটা ষ্টান্ডার্ড মেনে নেয়। কিন্তু একে মেনে নিয়ে, সব পুর্বপুরুষদের আসামি বানানো কতটা যুক্তিযুক্ত তাদের সমাজকে না জেনে? "

                      আপনি যেহেতু এসব লজিক মানেন না বা বোঝেন না তাই মুহাম্মদ আপনার কাছে অনুকরণীয় না হতে পারে কিন্তু তাঁকে বর্তমানের প্রেক্ষিতে বাতিল করে দেয়া সম্ভব হবে না কিছুতেই। আমি তীব্র আশংকা করছি আপনি আবার আগের কজটাই তুলে ধরবেন। সে ক্ষেত্রে বলবো মুহাম্মদ স. বর্তমান যুগে আসলে বর্তমানে যে ট্র্যাডিশান বিদ্যমান সে হিসেবেই বিয়ে করতেন, ৯ বছরের কাউকে বিয়ে করতেন না। ওটা ছিলো প্রাচীন আরবের ট্র্যাডিশান, আর বর্তমানের ট্র্যাডিশান হলো কনের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। তখন ছিলো ৬০০ খ্রিস্টাব্দ আর বর্তমানে ২০১০ খ্রিস্টাব্দ। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। না বুঝলে আপনার বিশ্বাস আপনার, আমারটা আমার।

                    • মুহাম্মদ স. কত বছর বয়সে আয়েশার সাথে বাসর ঘরে প্রবেশ করেছিলেন এ সংক্রান্ত হাদিসটাও জানাবেন আশা করি ।

                      “আল্লাহর নবী আমাকে ৬ বছর বয়সে বিয়ে করেন। আমরা (আসমা ও আয়েশা) মদিনায় যাওয়ার পর হারিস বিন খাজরাজের ঘরে আশ্রয় নেই। সেখানে আমি রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ি এবং আমার মাথার চুল পড়ে যায়। কিছুদিন পর সুস্থ হয়ে যখন আমার সঙ্গীদের নিয়ে দোলনায় খেলছিলাম, আমার মা এসে আমাকে হাতে ধরে ঘরে নিয়ে গেলেন। আমি বুঝতেই পারিনি কেন আমাকে ডেকে নেয়া হচ্ছে। আমার তখন শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম। মা আমাকে কিছুক্ষণ দরজার সম্মুখে দাঁড় করিয়ে রাখলেন। আমার মাথা ও মুখমণ্ডল জল দিয়ে মুছে দেয়ার পর যখন কিছুটা শান্তবোধ করলাম, মা আমাকে ঘরের ভেতর নিয়ে গেলেন। ঘরে ঢুকে দেখি মদিনার বেশ কয়েকজন মহিলা বসে আছেন। তারা আমাকে দেখে সমস্বরে বলে উঠলেন, শুভেচ্ছা! আয়েশা তোমার ওপর আল্লাহর রহমত ও মঙ্গল হউক। মা আমাকে তাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে চলে গেলেন আর তারা আমাকে বিয়ের সাজে সাজালেন। অপ্রত্যাশিতভাবে হঠাৎ দেখি আল্লাহর নবী এসে আমার সামনে উপস্থিত হলেন আর মা আমাকে তাঁর হাতে তুলে দিলেন। তখন আমার বয়স ছিল নয় বছর।” (দ্রষ্টব্য : বোখারি শরিফ, ভলিউম ৫, বুক ৫৮, নম্বর ২৩৪ এবং মুসলিম শরিফ, চ্যাপ্টার ১০, বুক ৮, নম্বর ৩৩০৯) (সম্পাদিত)

                    • শিশুশ্রম নিয়েও এরকম স্ট্যান্ডার্ড আছে, উনবিংশ শতকেও মাইকেল ফ্যারাডে, চার্লস ডিকেন্স এরা ১০-১১ বছর বয়সে কাজে নেমে গেছেন। কিন্তু আমরা একটা গ্লোবাল ষ্টান্ডার্ড করে এখনকার সময়ে একটা নির্দিষ্ট বয়সের নিচে ছেলেমেয়েদের কাজকরাকে শিশুশ্রম বলি, এবং উন্নত দেশগুলো বিভিন্ন এইড দেয়ার শর্ত হিসেবে আমাদেরকে সেটা চাপিয়ে দিতে যায়, যদিও তাহলে গরিব দেশের অনেক পরিবারই তাতে না খেয়ে মারা যাবে।

                      অবশেষে শিশুশ্রমকেও জাস্টিফায়েড করলেন ভাইয়া??

                      এখন মনে রাখতে হবে, রেনেসার পরে আস্তে আস্তে সমস্ত সামাজিক ব্যবস্থা বৈজ্ঞানিক তথ্য নিয়ে গড়ে ওঠে, এবং ধীরে ধীরে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ কেই নির্ধারন করা হয়েছে, যাতে পর্যাপ্ত মানসিক ও শিক্ষার গ্রোথ সেই সময়ের মধ্যে হয়, শুধু প্রজনন ক্ষমতাই নয়।

                      আমি অবশ্যই ধরে নিচ্ছি ৯/১০/১১ বছর বয়সী গর্ভবতী মায়েদের বিপদ সম্পর্কে আপনার সম্যক ধারণা আছে। আমি এটাও ধরে নিচ্ছি গত কয়েক শতাব্দীতে শিশু মৃত্যুর হার, গর্ভাবস্থায় মায়েদের অকালমৃত্যুর হার এর ক্রমান্বয়ে কমার পেছনের কারণ সম্পর্কে আপনার ধারণা আছে। যা থেকে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি যা বুঝি তা হলো-
                      ব্যাপারটি তখনও অমানবিক ছিলো, এখনো তাই। তখন খুব কমজনেরই তার বোধোদয় হয়েছে; এখন প্রায় সবারই এ বিষয়ে ধারণা আছে। একে সমাজব্যাবস্থা, ইতিহাস দিয়ে জাস্টিফায়েড করার দোহাই দেওয়ার মানে হলো নিজের বিবেক এবং চেতনাকেই অস্বীকার করা।

                      মুহাম্মদ স. বর্তমান যুগে আসলে বর্তমানে যে ট্র্যাডিশান বিদ্যমান সে হিসেবেই বিয়ে করতেন, ৯ বছরের কাউকে বিয়ে করতেন না। ওটা ছিলো প্রাচীন আরবের ট্র্যাডিশান, আর বর্তমানের ট্র্যাডিশান হলো কনের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। তখন ছিলো ৬০০ খ্রিস্টাব্দ আর বর্তমানে ২০১০ খ্রিস্টাব্দ।

                      এই কথাটাই হাজার বার মাসরুফ ভাই বলার চেষ্টা করছেন, যে মহানবী তৎকালীন সমাজব্যাবস্থার উর্ধে উঠতে পারেন নাই, কাজেই কোনোভাবেই সর্বকালের সকল সমাজব্যবস্থার জন্য সুমহান আদর্শ হতে পারেন না। এই সহজ কথাটিকে কেন বারবার এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে তা আমি বুঝতে পারছিনা। মহানবী সর্বকালের গ্রহণযোগ্য দর্শন নিয়ে এলে এই অমানবিক এবং অবৈজ্ঞানিক ব্যাপারটি কখনোই সমর্থন করতে পারতেন না এবং তার মতবাদ সর্বকালের সকল সমাজের জন্যই সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হতো। তার সময়ে তিনি শ্রেষ্ঠ একজন মানুষ এ নিয়ে কোনো আপত্তির কিছু নাই, কিন্তু সেই কার্যক্রমকে আরো কিছু সমসাময়িক বা শিশুশ্রম, রবীন্দ্রনাথের মেয়ের বিয়ে দিয়ে বর্তমান সময়ে জাস্টিফায়েড করার প্রচেষ্টা কি শুভ কিছু?

                      সবশেষে বলি,
                      বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম সর্বদাই ঘৃণ্য; একে সমাজ, সময়ের দোহাই দিয়ে জাস্টিফায়েড করাকে আমি স্রেফ নৈতিকতা বিরোধী মনে করি। ইতিহাসের দলিল হিসেবে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ অনেক সমাজেই আমরা পাবো; তবে কোনো ঐতিহাসিককেই পাবোনা যে কিনা তা জাস্টিফায়েড করার চেষ্টা করেছেন।

                      আমরা ধর্মী, বিধর্মী বা নির্ধর্মী যাই হইনা কেনো, আসুন খারাপকে খারাপ বলতে শিখি।

                      অনেক ধন্যবাদ।

                    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                      ওটা ছিলো প্রাচীন আরবের ট্র্যাডিশান, আর বর্তমানের ট্র্যাডিশান হলো কনের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। তখন ছিলো ৬০০ খ্রিস্টাব্দ আর বর্তমানে ২০১০ খ্রিস্টাব্দ। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। না বুঝলে আপনার বিশ্বাস আপনার, আমারটা আমার।
                      এই কথাটা কতবার বলেছি হিসাব করতেও লজ্জা করছে আমার।মাহবুব যেমন উল্লেখ করে দিয়েছে- মহানবী (স) তাঁর যুগের সীমাবদ্ধতাকে উল্লেখ করতে পারেননি বলেই তাঁর নানা মহত্বকে মেনে নেয়া সত্বেও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অনুকরণীয় আদর্শ মানুষের মর্যাদা তাঁকে দিতে পারিনা।

                      আপনি যদি চক্ষুষ্মান ব্যক্তি হয়ে থাকেন তাহলে রাসেল সাহেবের মন্তব্যটার যুক্তি নিশ্চয় বুঝে থাকবেন

                      আপনিও যদি চক্ষুষ্মান ব্যক্তি হয়ে থাকেন তবে রাসেল ভাইয়ের যুক্তির প্রত্যুত্তরে কি বলেছি সেগুলো চোখে পরার কথা।

                      মুহাম্মদের চরিত্রে আর কি কি অন্ধকার দিক আছে যা তাঁকে এ যুগের তুলানায় ব্যাকডেটেড করে ফেলে তাও জানতে চাচ্ছি, যদি আমার মতো নির্বোধ কিছু জ্ঞান লাভ করতে পারে। মুহাম্মদ স. কত বছর বয়সে আয়েশার সাথে বাসর ঘরে প্রবেশ করেছিলেন এ সংক্রান্ত হাদিসটাও জানাবেন আশা করি
                      আয়েশার সাথে নবিজীর বিবাহের মত সর্বজনগ্রাহ্য হাদীসটাকে যখন প্রশ্নবিদ্ধ করলেন তখন বলতে বাধ্য হচ্ছি আপনি মুসলিম হলেও হাদিস ভালভাবে পড়েননি(বুখারী শরীফের হাদিস,কুরআনের পর ইসলামে যার মর্যাদা সর্বাধিক-এখন আশা করি বলে বসবেন না আপনি "কুরআন অনলি" দের একজন-হাদিস মানেন না)

                      হাদিস পড়লে মহানবী(স) যে তাঁর অসামান্য ব্যক্তিত্ব সত্বেও যুগের সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি তার অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া যায়।আপনার সুবিধার্থে একটা তুলে দিচ্ছিঃ

                      Bukhari vol. IV. No. 537
                      Narrated Abu Haraira: The Prophet said, “If a house fly falls into the drink of anyone of you, he should dip it (into the drink) because one of its wings has a disease and the other wing has the cure (for that disease).

                      অর্থাৎ নবীজী বলেছেন,আপনার খাবার পানিতে মাছি পড়লে সেই পানি খেতে কোন সমস্যা নেই,কারণ মাছির এক ডানায় রোগজীবানু থাকলেও অপর ডানায় তার প্রতিকার আছে 😀

                      অবশ্য আপনাদের এগুলো দেখানো বৃথা-বেহেশতি যোশে উজ্জীবিত হয়ে মাছির দুই ডানার এক ডানায় রোগজীবানু আর আরেক ডানায় ওষুধ-খুব শিগগিরি এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ(??!!) যে আপনারা হাজির করবেন-এবং "১৪০০ বছর আগে নবীজী কিভাবে এটা বললেন" এই ভেবে আবেগে গদগদ হয়ে আমার মত নিধর্মীর মুণ্ডুপাত করবেন-এ নিয়ে আমার সংশয় খুব সামান্যই।

                      ভাল থাকবেন।

                    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                      @ মাহবুবঃ
                      বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম সর্বদাই ঘৃণ্য; একে সমাজ, সময়ের দোহাই দিয়ে জাস্টিফায়েড করাকে আমি স্রেফ নৈতিকতা বিরোধী মনে করি। ইতিহাসের দলিল হিসেবে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ অনেক সমাজেই আমরা পাবো; তবে কোনো ঐতিহাসিককেই পাবোনা যে কিনা তা জাস্টিফায়েড করার চেষ্টা করেছেন

                      বেহেশতি যোশে উজ্জীবিত "ঐতিহাসিকদের" তোর গণনা থেকে বাদ দিতে পারিস।মহানবী(স) যা যা করেছেন তার সবই এঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য।এই যেমন বাল্যবিবাহ,বহুবিবাহ,মাছিযুক্ত পানিপান ইত্যাদি ইত্যাদি।এসব কিছুই এদের কাছে জায়েজ।আফসোস!

                    • হাদিসটি অনেক আগেই পড়েছি। ওপরে 'বাসরঘরে প্রবেশ' কথাটা বাজেভাবেই ইংগিত করে কয়েকবার বলা হয়েছে তাই জানতে চাইছিলাম স্পেসিফিকভাবে 'বাসরঘর' সংক্রান্ত কোন হাদিস আসলেই আছে কিনা। থাকলে শেয়ার করা উচিত। মুসলমানরা নবীজিকে সর্বযুগের আদর্শ মানে। অন্যরা নাও মানতে পারে তাতে ক্ষতি নাই। কিন্তু শুধু এক বিষয়েই আংগুলীনির্দেশ কাম্য নয়, শুধু "অসাধারণ ধী-শক্তির অধিকারী" উল্লেখ করে তাঁর অন্য গুণগুলো পাশ কাটিয়ে যাওয়া যাবে না কিছুতেই, সেগুলো নিয়েও আলোচনা করতে হবে। মানুষকে শুধু আপনাদের দৃষ্টিতে যেগুলো খারাপ সেগুলো ছেঁকে ছেঁকে বলে বেড়াবেন তা হবে না। এ ছাড়া আর কোন্‌ কোন্‌ ক্ষেত্রে তিনি আদর্শ হওয়ার যোগ্য নন তাও বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে।

                      আগেই বলে রাখছি কোন কিছু জায়েজ করার ইচ্ছা আমার নেই, আমার কাছে যেটা ভূল অন্যের কাছে সেটা শুদ্ধ হতে পারে।
                      সমকামিতা এই বিংশ শতাব্দি পর্যন্তও খুবই ঘৃণ্য ব্যাপার ছিলো। আগের সমাজের কাছে এটা অত্যন্ত অনৈতিক গর্হিত কাজ হিসেবে বিবেচিত ছিলো(কিছু জনপদ ছাড়া)। কিন্তু বর্তমানে অনেক সমাজ একে স্বাভাবিক হিসেবে নিয়েছে, তো নৈতিকতার সুনির্দিষ্ট মানদন্ড আসলেই কি আছে ? বর্তমানে যে মানদন্ড সমাজবিজ্ঞানীরা স্থির করেছেন তা কি ভবিষ্যতেও একই থাকবে ?

  5. নাজমুল (০২-০৮)

    ব্যাপারটা বুঝলাম না ব্লগে প্রথমে জানতাম ধর্ম বা রাজনীতি নিয়ে কিছু বলা যাবেনা
    কিছুদিন পর অনেক লেখা আসলো তখন বলা হলো লেখা যাবে
    এখন দেখি কিছু ভাইয়া সিনিয়ার ভাইয়াদেরকেও হিসেব রেখে কথা বলতেসেনা
    আর সাব্বির ভাই এর কিছু কমেন্টস খুব খারাপ লাগলো
    এরকম কমেন্টস সি সি ব্লগে আশা করা যায়না
    মরতুজা ভাই বললেন এই ব্লগে এসব লেখার যায়গা না
    আমিও এটা সাপোর্ট করি কিন্তু সেই সাথে বলতে চাই ধর্মের পক্ষে বিপক্ষে কিছুই যেন বল্গে না দেয়া হয় তাহলে হয়তো আমরা সাব্বির ভাইয়ার মতন এসব কমেন্টস পাবোনা
    ধন্যবাদ শহীদুল ভাই আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য 🙂

    • মরতুজা (৯১-৯৭)

      প্রথমেই সাব্বিরের আচরনের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আর নাজমুলের কমেন্টের উত্তরে বলছি, আমি সিসিবিতে ধর্ম এবং নাস্তিক দুই দলের লেখাই দেখার পক্ষপাতি। কিন্তু মহান বা্নার্ড শ সাহেব আর গান্ধিজী কি বলে গেছেন সেই অমূল্য বানী দিয়ে ইসলাম কে মহান বানানোর এই ছাগ্লামি প্রচেস্টার বিরুদ্ধে।

      মুসল্মান হিসেবে সামান্য আত্তসম্মানবোধ থাকলে লেখক এই লেখা লিখতেন না। নিজেদের সেরা মনে করি কিন্তু নিজেদের গ্রহনযোগ্য করে তোলার জন্য ক্যারেক্টার সা্টিফিকেট নিতে হয় ওই বিধর্মিদের। লজ্জা করে না!

      কয়দিন পরে তো বুশের বানী নিতে হবে মুহাম্মদ সাঃ কেমন ছিলেন। এই সব মহান ব্যাক্তিদের জন্য তো জাহান্নাম নিশ্চিত। তো জাহান্নামিরা ভালো বলেছে, অতএব বাজাও তালিয়া।

  6. মুহম্মদ কে নিয়ে কিছু সমালোচনা করা খুবই fashionable, ১০০ টা ভালোর মধ্যে ৫ টা দোষ (?) নিয়ে কান ঝালাপালা করে ফেলা যায়। আমাদের কিন্ত যুগ এবং সময় বিবেচনা ছাড়া কাউকে জাজ করা উচিত না। আমাদের এখনকার সময়ের সবচেয়ে সেরা মানুষটাও এক হাজার বছর বা কয়েকশত পরের বিবেচনায় অনেক দোষে দোষী হবে। এখন দেখিতো উনবিংশ/বিংশ শতকের ভারতবর্ষের কয়েকজন মহতী মানবদের। bidyashagor, tagore, gandhi – এরা কেউই ধর্মপ্রচারক নয়, তবে জীবনে অনুকরনীয়। আমাদের খুবই কাছাকাছি সময়ের। এরা কি কেউ ১০ বছরের, বা ১৩ বছরের, বা ১১ বছরের বালিকাকে বিয়ে করেছিলেন, এ কালে, এ যুগের এত কাছে থেকেও? ভবতারিনী (mrinalini debi) র জন্ম ১৮৭৩, রবিঠাকুরের সাথে বিয়ে ১৮৮৩, জন্মতারিখ মাস আমার জানা নেই, তবে আমার ধারনা তখন তার ৯ বছর বয়স ছিল, ঠিক ১০ বছরও নয়। Kasturbai (gandhi’s wife) ১২ বা ১৩ ছিলেন। বিদ্যাসাগরেরও কম বয়সী বালিকার সাথে বিয়ে হয়েছিল, আমার সঠিক বয়স জানা নেই। এগুলো আলোচনা করা বা জানাটাও খুব ফ্যাশনেবল না, (এইতো সেদিন যদিও), কারন তারা মহাকালের বিবেচনায় লোকাল ফিগার, গ্লোবাল হয়তো নয়, তাই কোনো ওয়েষ্টার্নার তাদের এগুলো নিয়ে ক্রুসেড ষ্টাইলে লিখে প্রচার করার কথা ভাবেনি, দরকার নেই। তাই ১৪০০ বছর আগে আয়েশার সাথে মুহম্মদের বিয়ে আমাদের বিবেচনায় দোষী বটেই ও অনুকরনীয় নয়। এটা আলোচনার বিষয় হতে পারে, তবে খোড়া যুক্তির নামে কাউকে হেয় করার বালখিল্যতা হিসেবে নয় please। এ রকম অনেক বিষয়েই ঐ সময়ের কি প্রথা ছিল সেটাও জানা দরকার। সমাজের সংস্কার সবচেয়ে কঠিন একটা বিষয় - জীবনযাপন নিয়ে মানুষ যুগে যুগে values ভিন্নভাবে বোঝে, প্রয়োগ করে। বিভিন্ন কমেন্টারদের মুহম্মদকে নিয়ে কমেন্ট আমার কাছে cheap shot মনে হয়।

    encyclopedia britannica – macropedia তে মুহম্মদকে নিয়ে আলোচনার শুরু এভাবে – ‘muhammad ushered in monumental changes in human history’. আইজাক নিউটন ছাড়া মানব সভ্যতার ইতিহাসে আর কাউকে নিয়ে এ কথা বলা যায় না, এত ব্যপক প্রভাব আর কোনো মানুষের নেই। কাউকে হেয় করে কথা বলাটা জোক হতে পারে, আলোচনা নয়। আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছি, সমাজ সংস্কার সবচেয়ে কঠিন একটা কাজ, এ বিষয়ে কারো নগণ্য অবদানও কোনো সমালোচনার বাইরে নয়, কারন সব মানুষ স্বাধীন ও ভিন্ন মনের অধিকারী।

    • আন্দালিব (৯৬-০২)

      রাসেল ভাই,
      মৃণালিনী দেবীর সাথে রবীন্দ্রনাথের বিয়ে হয় ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর, তখন রবীন্দ্রনাথের বয়স ২২ বছর, মৃণালিনীর ১০।
      কস্তুরবাঈ এবং মহাত্মা গান্ধীর বিয়ের সময় উভয়েরই বয়স ছিল ১৩।
      ঈশ্বরচন্দ্রের স্ত্রী'র নাম দীনময়ী দেবী, তাঁর জন্মসাল জানতে পারি নি, তবে ঈশ্বরচন্দ্রের বয়স ছিলো ১৪ বছর।
      এখানে কারোরই তাঁদের স্ত্রীর সাথে বয়সের পার্থক্য (৫৬-৯) এরকম নয়। তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার হিসেবে সেটি গ্রহণযোগ্যই ছিলো। তাই আপনার উল্লেখিত ব্যক্তিদের সাথে মুহাম্মদ সঃ-এর তুলনা (বিয়ের ব্যাপারে) চলে না।

      খেয়াল করবেন, এই বিয়ের তথ্যগুলো বলাতে আপনার বা আমার বা যে কোন পাঠকের কিছুই যায় আসবে না। এগুলোকে যেমন নির্মোহভাবে বিচার করা যায়, তৎকালীন সমাজব্যবস্থার তুলনায় ফেলা যায়, সেভাবে কেন মুহাম্মদ সঃ-কে ফেলে বিচার করা যায় না? তিনি সেই সমাজের বিচারে শিশুবিবাহ করেছেন, স্টেটমেন্ট তো এটুকুই। এই বক্তব্যের মাঝে কোন মিথ্যা নাই, তাহলে সেটাকে নানাভাবে বর্তমানে 'জায়েজ', 'যুক্তিপূর্ণ' বানানোর দরকার কেন পড়ছে বিশ্বাসীদের?

      আমার মনে হয় একটা খোঁড়াযুক্তিই আরেকটা খোঁড়া যুক্তিকে এখানে টেনে আনছে। মুহাম্মদের চরিত্র সনদপত্র যদি পাশ্চাত্য থেকে নেয়া যায়, তবে তার ব্যাপারে 'অভিযোগ' গুলোও তো নিতে পারা উচিত, নাহলে হয়তো সেটাই গোঁড়ামি।

      • আমি তো বলেছিই এটা দোষী এখনকার সমাজব্যবস্থায়।
        সেই সময়েও কি তাই ছিল? এটা আমার জানা নেই, কিন্তু এখানে অনেককে আমি না জেনে জাজ করার প্রবনতা দেখেছি, তাই কিছু তথ্য তুলে ধরেছি। এখানে কি বয়সের পার্থক্যকে বাল্যবিবাহ বলা হচ্ছে নাকি কনের বয়সকে ধরা হচ্ছে। তুমি মনে হচ্ছে বয়সের পার্থক্যকেই বেশি ধরছ। তুমি যেহেতু ভারতের সমাজব্যবস্থা জান, তাই বলতে পার হ্যা উনবিংশ শতকে এখানে ১০ বছরেই সব মেয়েদের বিয়ে হত। তাই এতে কোনই অসুবিধা দেখছনা যে কোনো মানুষের বেলায়ই। কিন্তু সারা দুনিয়ায় ১৪০০ বছর আগে তখন কি নিয়ম ছিল, তুমি তা জান কি? সেই সময়ের বিচারে মুহম্মদ কি কোনো দোষের কাজ করেছিল? তাহলে কোনো রকম কোথাও কেন লেখা নেই সাহাবীদের কথায় বা কেন আবু বকর তার মেয়ের অন্য বিয়ের প্রপোসাল রেখে মুহম্মদকে মেয়ে বিয়ে দিয়েছিল। এবং এটা নিয়ে কারো কোনো ক্ষোভ নেই কেনো, ঐ সময়ের কোনো রকম কোনো লেখায়। মুহম্মদ পচিশ বছরে ৪০ বছরের খাদিজাকে বিয়ে করেছিল। খাদিজা মারা যাওয়ার পরে, চার ভবিষ্যত খলিফার সাথে তার পার্মানেন্ট একটা বন্ধনের জন্য দুইখলিফাকে তিনি নিজের মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, আর দুজনের মেয়ে বিয়ে করেছেন। নিজের মেয়েদেরকেও তিনি তখনকার সময়ের নিয়ম অনুসারেই বিয়ে দিয়েছেন।
        আমার মুলত একটা বিষয়ই বলতে বা বুঝাতে চাচ্ছি।ক্রুসেডের সময়কালীন থেকে প্রায় ৮০০ বছর ধরে ইউরোপীয় ভাষায় যত লেখা হয়েছে, সেখানে মুহম্মদকে 'evil' হিসেবে 'portray' করা হয়েছে। তারা তাদের সমাজব্যবস্থার প্রেক্ষিতে বা তাদের মত করে সবকিছু লিখেছে, interpter করেছে, প্রচার করেছে। এখনো সেই views গুলোকে নিয়ে অনেকেই বিভিন্নভাবে মুহম্মদকে ইভিল বানানোর চেষ্টা করে যেটা ভুল। তুমি বলতে পার, হ্যা আয়েশার সাথে বিয়ে, এখানে উনি সবকালের জন্য অনুকরনিয় কিছু করেনি, একালে এটা করা নীতিহীন, কিন্তু তাকে সেই সময়ের বিচারে ইভিল পোট্রে করা কি যায়? তাহলে ৬২০ থেকে ১১০০ সালের মধ্যে আরবদের লেখায় তার কাজের সমালোচনা কি থাকত না, যেটা ইউরোপীয়রা ক্রুসেডের পরে মুহম্মদকে শয়তান, মাহুন্দ নাম দিয়ে বিভিন্নভাবে লিখে প্রচার করেছে। সেই ভিউগুলোই এখনকার সময়ে অনেকেই মুহম্মদকে ডেমনাইজ করতে ব্যবহার করে, অনেক ব্যপারেই প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের কিছু মুল ভিন্নতাকে না বুঝে বা বায়াস থেকে মানুষ এগুলো করে থাকে।
        আমি খুব দু:খিত। কিন্তু আমি কোথায় খোড়া যুক্তি দিয়েছি বুঝতে পারলাম না, আমি বলেছি আপেক্ষিকভাবে বিচার করতে হবে। তুমি বলেছ 'নির্মোহভাবে', কে কোথায় কবে 'নির্মোহভাবে' কি করেছে বলতে পারবে? তুমি উনবিংশ শতকের কয়েকজন ভারতবাসিদের ব্যাপারে বললে এরা ঠিকই করেছে। এটা কি 'নির্মোহভাবে' কিছু বলা হল? তুমি এই স্থান কালের হয়েই সেটা বলতে পার, এবং আমিও সেটা পারি, একজন পাশ্চাত্যের কেউ সেটা নাও বলতে পারে।
        'মুহম্মদের চরিত্র সনদপত্র' পাশ্চাত্য থেকে নেয়ার ব্যাপারে আমি কিছু বলিনি। যদিও এই পোষ্টটা সেরকম। কিন্তু মুহম্মদের কাজ বা প্রভাব নিয়ে অল্প জানা লোকেরাও তাদের 'দুই পয়সা' দিতে দ্বিধা করেনা, এবং বায়াস্ড ভাবেই সেটা করে - পাশ্চাত্যের টিভি টক শো হোস্টরা সেটা অহরহই করে, এর সাথে তাদের অন্ধ অনুকরনকারী অনেক দেশী-বিদেশীরাও সেগুলো গেলে।
        আমি ধার্মিক না, তবে ভালভাবেই জানি মহাকালের বিচারে মুহম্মদ কি জিনিয়াস ও মহামানব ছিল, হতে পারে এখনকার সময়ে কিছু কিছু ব্যাপারে আমরা রিলেট করতে পারি না বা অননুকরনিয় লাগে, কিন্তু আমি কোনো ইভিলনেসের কিছুই কোথাও দেখছি না। এ ব্যাপারে পুরোপুরি বামে বা ডানে না থেকে বিচার করতে হবে। অল্প জেনে নয়, বর্তমান সময় জেনে পুর্বের সময়কে নয়, আমেরিকা জেনে বাংলাদেশ নয়, কাউকে অপছন্দ করে তার ধর্মপ্রচারককে নিয়ে নয়।

        • তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার হিসেবে সেটি গ্রহণযোগ্যই ছিলো। (কমেন্টারের ভারতবাসিদের ১০ বছরে বিয়ে নিয়ে কমেন্ট । দেখা যাচ্ছে যাদের নিয়ে তোমার infatuation আছে, এবং যারা ধর্মের সাথে সম্পর্কিত নয়, এবং যাদের প্রতি বিশেষভাবে রিলেট কর, তাদেরকে তুমি ঠিকই ডিফেন্ড করবে। আমি অন্য আরেক জায়গায় লিখেছি, প্লিজ 'যুক্তিবাদি' নামের পিছনে আড়াল না নিয়ে 'নাস্তিক' নামেই নিজেকে পরিচয় দেয়া উচিত, যারা যুক্তিকে শুধু ধর্ম, ইত্যাদি কে অসার প্রমানের জন্যই ব্যবহার করে। এতে 'যুক্তিবাদি' নামের অবমাননা হয়। আস্তিক, নাস্তিক, সংশয়বাদী, এভাবে মানুষকে ভাগ করা যায়। ভাল, খারাপ। স্বার্থপর, স্বার্থান্বেশী। কিন্তু যুক্তিবাদী, যুক্তিহীন - এভাবে নয়। কারন তথাকথিত যুক্তিবাদিরাও অনেক বেলায়ই যুক্তিহীনই হয়। তাদের স্বার্থে আঘাত কর, ভাগ বাটোয়ারা কেটে নাও, দেখবে অস্ত্র নিয়ে তারা খুনাখুনি করবে, তারা করে।

          তিনি সেই সমাজের বিচারে শিশুবিবাহ করেছেন আমার কমেন্ট পুরাটাই ছিল এটা নিয়ে যে, সেই সমাজের বিচারে তিনি যেটা করেছেন সেটা কি তখন গ্রহনযোগ্য ছিল? এটা কি আমরা জানি? আগের কমেন্টে আমি লিখেছি যে, এটা নিয়ে তাহলে ১২০০ সালের আগে ক্রুসেডের আগে, ইউরোপিয়ানদের (যারা মুহম্মদকে শয়তান হিশেবে দেখতে পছন্দ করে তাদের বিরুদ্ধশক্তির ধর্মপ্রচারক হিশেবে, যেটা আমাদের অনেকে মজা করে খায়, কারন মুহম্মদকে তারা জামাতের সমার্থক মনে করে) লেখার বাইরে কেনো কেউ বলেনি, বা ঐ সময়ে কেনো অন্যরাও একই প্রথার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। এখানে যদি তুমি বলতে তিনি "বর্তমান" সমাজের বিচারে শিশুবিবাহ করেছেন তুমি ১০০% সত্যি। এবং আমি স্পষ্টতই বলেছি যে এটাতে উনি সবসময়ের জন্য কোনো অনুকরনিয়, নীতিবান কিছু করেনি। কিন্তু তার সময়ের বিচারে উনি কোনো ইভিল কাজ করেছেন কি? ঐ সময়ের সারা পথিবীর সমাজকে ভালভাবে জেনে এর উত্তর কি কারো জানা আছে?

          প্রাচীন গ্রিসে ১২ বছরকেই বিয়ের বয়স মেনে নেয়ার প্রচলন ছিল। ভারতে উনবিংশ শতকেও ১০ বছরেই কাছাকাছিই মেয়েদের বিয়ে হত - যার উদাহরন আমি দিয়েছি বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ বা গান্ধীর বেলায়। একেক পরিবেশে, গরম বা শীতকালীন দেশে একেক বয়সে মেয়েরা প্রজনন ক্ষমতা অর্জন করে, সেভাবে বিভিন্ন সমাজ একটা বয়সকে ষ্টান্ডার্ড হিশেবে মেনে নিয়েছিল। দেখা যায়, গরমের দেশে এ বয়সটা শীতকালীন দেশের তুলনায় আগে হয়। তাই ভারত, বা আরবে নয়/দশ বছরে মেয়েদের বিয়ে হত। এখন মনে রাখতে হবে, রেনেসার পরে আস্তে আস্তে সমস্ত সামাজিক ব্যবস্থা বৈজ্ঞানিক তথ্য নিয়ে গড়ে ওঠে, এবং ধীরে ধীরে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ কেই নির্ধারন করা হয়েছে, যাতে পর্যাপ্ত মানসিক ও শিক্ষার গ্রোথ সেই সময়ের মধ্যে হয়, শুধু প্রজনন ক্ষমতাই নয়। কিন্তু তুমি দেখবে বেগম রোকেয়া ২১ বছর বয়সকে পছন্দ করতেন। কিন্তু এই যে ১৮ বছরকে ষ্টান্ডার্ড হিসেবে নেয়া এটা খুবই রিসেন্ট। ১৩, ১৪,১৫ বছরকেও ষ্টান্ডার্ড হিশেবে ধরা হত ইউরোপে খুব বেশীদিন আগে নয়, কয়েক শতাব্দী আগে। এখানে খুব সহজেই যুক্তি দেয়া যায় মুহম্মদ এ ব্যপারে আধুনিক ভাবধারা খুব একটা বুঝতে পারেননি তার সময়ে, সেই সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। বয়সের ব্যবধান নিয়ে বলা হয়েছে, কিন্তু যে সমাজে ১৮ বছরে মেয়েরা বিয়ে করতে পারে, সেখানে বরের বয়স ২৫, ৩৫ বা ৬৫ হতে পারে না কি? বেমানান বটেই, কিন্তু এটা কি ইলিগাল। শিশুশ্রম নিয়েও এরকম স্ট্যান্ডার্ড আছে, উনবিংশ শতকেও মাইকেল ফ্যারাডে, চার্লস ডিকেন্স এরা ১০-১১ বছর বয়সে কাজে নেমে গেছেন। কিন্তু আমরা একটা গ্লোবাল ষ্টান্ডার্ড করে এখনকার সময়ে একটা নির্দিষ্ট বয়সের নিচে ছেলেমেয়েদের কাজকরাকে শিশুশ্রম বলি, এবং উন্নত দেশগুলো বিভিন্ন এইড দেয়ার শর্ত হিসেবে আমাদেরকে সেটা চাপিয়ে দিতে যায়, যদিও তাহলে গরিব দেশের অনেক পরিবারই তাতে না খেয়ে মারা যাবে। আমি এটুকুই বোঝাতে চাচ্ছি যে, সমাজব্যবস্থা ধীরে ধীরে বদলে যায়, নতুন তথ্য আসে, সেভাবে মানুষ একটা ষ্টান্ডার্ড মেনে নেয়। কিন্তু একে মেনে নিয়ে, সব পুর্বপুরুষদের আসামি বানানো কতটা যুক্তিযুক্ত তাদের সমাজকে না জেনে? আমি নিশ্চিত, এখনকার সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ/নিখুত মানুষেরও অনেক দোষ ধরা যাবে, ২০০ বছর পরের পথিবীর নিয়মকানুনে।

          কোনো কিছু বাড়িয়ে বলা যেমন খারাপ, তার উল্টোটাও তেমনি। আমার মনে হয়েছে এখানে যুক্তিবাদি নামের সুন্দর এক নাম নিয়ে, এখানে 'অতি ধার্মিক' দের ঠিক উল্টো এক কালচার বা 'মেনটালিটি' আছে অনেকের। কোনো যুক্তিবাদি/মুক্তমনা/whatever কোনোদিন পাল্কিতে মানুষের কাধে চড়ে সারাজীবন ঘুড়ে বেড়াবে না, তেমনি গরু আর ঘোড়ার মত মানুষের টানা রিক্সায়ও তারা চড়তে পারে না (আর দুশ বছর পরে এভাবেই বিষয়টা দেখা হবে)। হ্যা তবে আস্তিক, নাস্তিক, সংশয়বাদীরা পারে। তাই সে নামেই দয়া করে পরিচয় দিন/দাও।

          আমি এখানে যা পছ্ন্দ করিনা, তা হল মুহম্মদকে হেয় করা, সমালোচনা করা আর হেয় করা দু জিনিষ। যারা বিজ্ঞান জানে তাদের ইতিহাস, বিভিন্ন কালের সমাজব্যবস্থা, তার পরিবর্তন এগুলোও জানা উচিত। বিজ্ঞানকে গায়ের জোরে সবখানে ঠেলে দেয়া যায় না। তাহলে দুনিয়ায় কোনো দরিদ্র থাকত না। এত মারামারি কাটাকাটিও হত না। কারন মানুষের মানসিক, সাইকোলোজিকাল ব্যপারগুলো পারিপার্শ্বিকতার সাথে খাপ খাওয়ানোর ব্যাপার আছে। এখানে অনেক "ভন্ড" আছে, যারা দুই পয়সার জ্ঞান নিয়ে অনেক লম্বা কথা বলে - ধার্মিক বা অধার্মিক বা অনেকেই। এগুলো বাদ দিতে হবে প্লিজ। সবার জ্ঞানই সীমাবদ্ধ এবং বায়াস আছে, তথাকথিত 'যুক্তিবাদি'রা কেন এই বায়াসটা মানতে চায় না, আমি জানিনা। তারা শুধু তাদের কথার বাইরে যারা কথা বলে তাদেরকেই বায়াসড ভাবে। প্লিজ এইসব ভন্ডামি বাদ দিতে হবে।

          • আন্দালিব (৯৬-০২)

            রাসেল ভাই, আমি কোথাও কাউকে ডিফেন্ড করি নাই, কাউকে ইভিলও বানাই নাই। তাহলে সেই প্রসঙ্গ কেন আসছে?

            আমি আপনার মন্তব্যের তথ্যগুলো পুরো করতেই মন্তব্য করেছিলাম। সাথে একটা প্রশ্ন জুড়ে দিয়েছি যে মুহাম্মদের ব্যাপারে কিছু কিছু তথ্য কেন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অস্বস্তিকর ঠেকে। কারণ সেই তথ্যগুলো বর্তমান সমাজে সামাজিক ও আইনগত অন্যায়, কোন কোন ক্ষেত্রে ট্যাবু। এই বিষয়গুলোর উল্লেখ হলেই সকলের অনুভূতির ধাপগুলো লক্ষ্য করার মতো বটেঃ

            ১। তৎকালীন সমাজের প্রেক্ষাপটে বিচার করতে হবে, সে সময় এটা ঠিক ছিলো।
            ২। বর্তমানের বিচারে ভুল বা অন্যায় হলেও যেহেতু মুহাম্মদ করেছেন, সুতরাং এটির মাঝে নিশ্চয়ই কোন গূঢ় উদ্দেশ্য আছে।

            আপনার প্রথম মন্তব্যটা ১ম ধাপের। সেখানে আমি আপনার সাথে একমত।

            বিপজ্জনক হলো পরের ধাপটি, এই যে আপনি মেয়েদের বয়স ও বিবাহযোগ্যতা নিয়ে কথাগুলো বললেন সেগুলো বিচার ভুলভাবে করছেন। মেয়েদের বিয়ের বয়স প্রাচীন গ্রিস থেকে ভারতবর্ষ পর্যন্ত ১০ থেকে ১৫ তে আটকে ছিলো, তার কারণ সামাজিকের চেয়েও বেশি দৈহিক জ্ঞান নিয়ে সাধারণ মানুষের অজ্ঞানতা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে জড়িতেরা জানলেও সাধারণ মানুষের কাছে কেবল সন্তানধারণে সক্ষমতাই বিচার্য ছিলো। সেটা মেয়েদের শরীরের কি কি ক্ষতি করে সেগুলো তারা জানতেন না, বা জানলেও যেহেতু নিজেদের হচ্ছে না, সেটাকে গুরুত্বও দিতেন না (সব কালে সব জনপদেই মেয়েরা সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন)। এই অজ্ঞতা 'খারাপ'। এইটা সমাজের দোষ না, সময়ের দোষ। এখনও অনেক অনেক ভ্রান্তবিশ্বাস আমাদের মাঝে টিঁকে আছে কারণ বৈজ্ঞানিক সত্যটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় নি।

            আপনি যেখানে চিন্তা করা থামিয়েছেন, বেশিরভাগ মানুষ সেখানেও থামে না। মুহাম্মদ করেছেন বলে সুন্নত, তিনি সদা সত্য কথা বলতেন, সেটা না মেনে সবাই কেন চার বিয়ের দিকে দৌড়ায়, বুঝি না! 😕

            আমার মনে হয় এই কারণেই অলৌকিকতা আমাদের সব ধরনের লজিককে ঘোলা করে দেয়। কারো "আইডল" থাকতেই পারে, তবে তাকে নিজের আইডলের খুঁটিনাটি সবকিছুকেই সঠিকভাবে চিনতে হবে। তিনি নিজের আইডলের সদগুণে যতোই মুগ্ধ থাকুন, তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু আইডলের সীমাবদ্ধতা শুনলেই হাইকোর্ট দেখানোও ঠিক নয় (বা সেই সীমাবদ্ধতা বয়ানকারীকে শূলে চড়ানো)।

          • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

            এখানে অনেক “ভন্ড” আছে, যারা দুই পয়সার জ্ঞান নিয়ে অনেক লম্বা কথা বলে – ধার্মিক বা অধার্মিক বা অনেকেই

            নিজ জ্ঞান সম্পর্কে আপনার অতি উচ্চ ধারণা দেখে ভাল লাগল।কি সহজে অন্যদের জ্ঞানকে "দুই পয়সার" বলে অভিহিত করে দিলেন!

            সবার জ্ঞানই সীমাবদ্ধ এবং বায়াস আছে, তথাকথিত ‘যুক্তিবাদি’রা কেন এই বায়াসটা মানতে চায় না, আমি জানিনা। তারা শুধু তাদের কথার বাইরে যারা কথা বলে তাদেরকেই বায়াসড ভাবে। প্লিজ এইসব ভন্ডামি বাদ দিতে হবে।

            প্লিজ ‘যুক্তিবাদি’ নামের পিছনে আড়াল না নিয়ে ‘নাস্তিক’ নামেই নিজেকে পরিচয় দেয়া উচিত, যারা যুক্তিকে শুধু ধর্ম, ইত্যাদি কে অসার প্রমানের জন্যই ব্যবহার করে।

            যুক্তিবাদীরা আনবায়াসড নয় এবং তারা নিজেদের বায়াস মানতে চায়না-এরকম একটা ওভার-জেনারালাইজড কথা বলার আগে আশা করি আপনি এ ব্লগের যুক্তিবাদিদের সম্পর্কে ভালভাবে খোঁজ নিয়েছেন এবং তাদের জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই তারা যুক্তিকে ব্যবহার করেনি- এ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিয়েছেন।

            এ ব্লগে যতদূর দেখেছি বিতর্ক হয়েছে ঈশ্বরের অস্তিত্ব/মহানবী হজরত মুহম্মদ (স) এঁর সর্বকালীন গ্রহনযোগ্যতা আছে কি-না এ বিষয়গুলো নিয়ে।যুক্তিবাদী "নামধারী" অনেক ব্লগার এ দুটোর বিপক্ষে তাদের যুক্তি দিয়েছেন।

            যা-থেকে বিতর্কের সূত্রপাত, নবীজীর বাল্যবিবাহের যৌক্তিকতা- এ সম্পর্কে কয়েক লাইনে যা বলা যায় তা হচ্ছে, সে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এধরণের বিবাহ হয়তোবা খুব একটা দোষের ছিলনা কিন্তু নবীজীকে যেহেতু মুসলিমরা সর্বকালের সর্বমানুষের অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে দেখে,বর্তমান সময়ের বিচারে 'পেডোফিলিয়ার" মত বিকৃত একটা কাজ তিনি সে সময়ে বসে কেন করেছিলেন প্রশ্নটা জাগে এটা নিয়েই।

            এর উত্তর এভাবে হতে পারে(বারংবার একই কথা লেখার জন্যে দুঃখিত)- নবীজী তাঁর সময়ের বিচারে একজন অসাধারন মানুষ ছিলেন কিন্তু বর্তমান সমাজের বিচারে তাঁর গুনাবলীর পাশাপাশি অনেক দোষ-ত্রুটিও ধরা পড়ে।কাজেই,তিনি সর্বযুগের সর্বদেশের অনুকরণীয় আদর্শ হতে পারেননা।

            এই এতক্ষণ পর্যন্ত উপরোক্ত বিষয়ে কিছু না বলে আপনি যা যা করলেন তা হচ্ছে-

            ১) বিতর্কের মূল বিষয়ের বাইরে গিয়ে বক্তা নিজেকে যুক্তিবাদী-না-নাস্তিক বলবে সে প্রসংগ টানা।
            ২) বক্তা এ বিষয়ে যুক্তি দিলেও তার জীবনের বাকি অনেক ক্ষেত্রেই সে যুক্তি ব্যবহার করবেনা/করেনা বলে নিশ্চিত রায় দিয়ে তাকে ভন্ডের অপবাদ দেয়া।
            ৩) অন্য অনেকের জ্ঞানকে যথাযথ এবং সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে "দুই পয়সার" বলে অভিহিত করা।
            ৪) মুক্তমনা এবং জামাতিদেরকে "স্বার্থে টান লাগলে সবাই এক" টাইপের ওভার-জেনারালাইজেশনের মাধ্যমে এক কাতারে ফেলা।

            ৫) "আমি ধার্মিক না, তবে ভালভাবেই জানি মহাকালের বিচারে মুহম্মদ কি জিনিয়াস ও মহামানব ছিল, হতে পারে এখনকার সময়ে কিছু কিছু ব্যাপারে আমরা রিলেট করতে পারি না বা অননুকরনিয় লাগে, কিন্তু আমি কোনো ইভিলনেসের কিছুই কোথাও দেখছি না" - এরকম একটি বক্তব্যের মাধ্যমে নবীজীর প্রতি নিজের বায়াসকে একেবারে নগ্নভাবে চোখে আঙ্গুল দিয়ে তুলে ধরা।

            ৬) সবচাইতে দুঃখজনক যেটি- সেটি হচ্ছে নিজের বায়াস থাকা সত্বেও যুক্তিবাদী নামধারী ব্লগার ঠিক কোন জায়গায় বায়াসনেস দেখিয়েছে তা না বলে ভন্ড/নামের আড়ালে পলায়নকারী/দুই পয়সার জ্ঞানের অধিকারী/আত্মপ্রচারকারী ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষায়িত করা( আমি বক্তব্যের ঝাঁঝের কথা বলছিনা-বলছি এমন একটি জায়গার কথা যেখানে নবীজীর ভাল কোন কাজকেও কোন যুক্তিবাদী "নবীজী করেছেন"-শুধু এই কারণে খারাপ বলেছে)

            সর্বকালের সর্বযুগের শ্রেষ্ঠতম এবং অনুকরণীয় আদর্শের দাবীদার যিনি, তাঁর কাজকে "সে যুগের প্রেক্ষাপটে দোষের কিছু করেননি" বলে জায়েজ করার কোন উপায় আসলে নেই।এক লাইনে বলি- আমি মনে করি, হজরত মুহম্মদ (স) একজন অসাধারণ ধীশক্তিসম্পন্ন মানুষ হলেও সর্বকালের সেরা অনুকরনীয় আদর্শ হবার মত গুনাবলীর অভাব তাঁর যথেষ্টই রয়েছে।এটি আপনি মানবেন কি না মানবেন তা আপনার বিবেচনা।

            সবশেষে একটি ছোট্ট অনুরোধ করি-আপনি আমার অনেক সিনিয়র একজন মানুষ।ক্যাডেট কলেজে আপনি যখন যোগদান করেছেন তখন আমার বয়েস সম্ভবত দেড় বছর।আপনার মত একজন বড়ভাই যখন বার বার অন্যদেরকে সুস্পষ্ট(clear) এবং সুনির্দিষ্ট(specific) কারণ এবং উদাহরণ ছাড়াই "দুই পয়সার জ্ঞানের অধিকারী", "জীবন সম্পর্কে এতই কম জানে" , "ভন্ড" ইত্যাদি বলেন, আমরা আক্ষরিক অর্থেই ব্যথিত হই।বড়ভাই হিসেবে অভিযোগ করবার অধিকার অবশ্যই আপনার আছে-কিন্তু ছোটভাই হিসেবে অনুরোধ করব সেগুলো যেন অতি সরলীকৃত এবং সুস্পষ্ট উদাহরণবিহীন না হয়।

            ভাল থাকবেন ভাইয়া।

            • মাসরুফ ভাই,
              প্রথমত আসি হযরত জয়নাবকে বিবাহের বেলায়। বাধ্য হয়ে আবারো চর্বণ করছি, জয়নাবের সাথে জায়েদের বিয়ে মুহাম্মদ-ই দিয়েছিলেন। আপনি বলছেন–”নিজের পালক পুত্রের স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণ”। মুহাম্মদ (স: ) এর যদি জয়নাবের প্রতি আকর্ষণ থেকেই থাকে তাহলে কেন নিজে আগে জায়েদের সাথে জয়নাবের বিয়ে দিতে গেলেন। জয়নাবকে তো তিনিই বিয়ে করতে পারতেন, তাঁর সামনে তো কোন বাধা ছিলো না। যে জিনিস তিনি অতি সহজে পাচ্ছেন তা সাত-পাঁচ করে দখলের দরকার ছিলো না। আপনি মনে হয় মারেফুল কোরানের লিংকটা পড়েননি। তাই আবার দিলাম। দয়া করে পড়ুন এবং কারণটা জানুন— //www.banglakitab.com/quran.htm

              দ্বিতীয়ত, আপনি হাদীসের এই ঘটনাটা মেনে নিয়েছেন যে আয়েশার সাথে মুহাম্মদ স: এর ৯ বছর বয়সে বিয়ে হয়। তাহলে আমি আশা করবো আপনি হাদীসে বর্ণিত মুহাম্মদ স: এর জীবনের অন্য ঘটনাগুলো অর্থাৎ মানুষের সাথে তাঁর ব্যবহার, স্বামী হিসেবে স্ত্রীদের সাথে ব্যবহার, অন্যান্য মহিলার প্রতি আচরণ, তিনি কিরকম জীবন-যাপন করতেন, দিনের বা রাতের অধিকাংশ সময় তিনি কি করতেন, শিশুদের প্রতি তাঁর আচরণ, তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলোও সত্য বলে মেনে নেবেন। হাদীসে নবীজির পুরো চরিত্রের খুঁটিনাটি অতি বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে। আপনি যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ/অধ্যয়ন করেন তবে সহজেই বুঝতে পারবেন যে হাদীসে বর্ণিত মুহাম্মদের চরিত্রের সাথে Pedophile অপবাদ কিছুতেই খাপ খায় না। বরং প্রতি ক্ষেত্রেই আপনার কাছে তা পরস্পরবিরোধী মনে হবে।
              মুহাম্মদ আসলেই পেডোফাইল ছিলেন কিনা তা যুক্তির নিরিখেও যাচাই করে দেখুন—www.themodernreligion.com/prophet/prophet_aisha.htm

              ওয়েবপেজটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একটু ভালোভাবে পড়ুন । যুক্তিগুলো গ্রহণ করা বা বাতিল করে দেয়া আপনার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। ধন্যবাদ।

      • আনদালিব ভাই আপনি ভূল করছেন। আয়েশার বয়সে অনেকেরই বিয়ে হতো। পড়ুন--

        `Aisha was not the first case, for many girls married at her same age to men who were at their fathers’ age. Hala, the cousin of Amina bint Wahb was married to Abdul-Muttalib on the same day his son `Abdullah married Aminah bint Wahb who was at Hala’s same age. Also, the Companion `Umar ibn Al-Khattab married the daughter of Ali ibn Abi Talib, may Allah honor his face, while he was at her grandpa’s age.
        -----Sheikh Faysal Mawlawi, deputy chairman of the European Council for Fatwa and Research।

      • আনদালিব ভাই আপনি ভূল করছেন। আয়েশার বয়সে অনেকেরই বিয়ে হতো। পড়ুন--

        `Aisha was not the first case, for many girls married at her same age to men who were at their fathers’ age. Hala, the cousin of Amina bint Wahb was married to Abdul-Muttalib on the same day his son `Abdullah married Aminah bint Wahb who was at Hala’s same age. Also, the Companion `Umar ibn Al-Khattab married the daughter of Ali ibn Abi Talib, may Allah honor his face, while he was at her grandpa’s age.
        -----Sheikh Faysal Mawlawi, deputy chairman of the European Council for Fatwa and Research..

  7. ধর্মের (স্পেশালি ইসলামের) পক্ষে ব্লগে লেখা নিষেধ এবং উহাকে লাদানি বলে।
    ওয়েল এন্ড গুড।
    ধর্মের (স্পেশালি ইসলামের) বিরুদ্ধে কিছু লিখলে কিংবা ধর্মকে ব্যঙ্গ করিয়া কার্টুন আঁকিলে উহাকে সায়েন্স বলে এবং উহা ব্লগে অ্যালাউড।
    ধন্যবাদ এন্ড খুদাপেজ।

    • ইসলামের নামে,পক্ষে লেখা দিলেই দুনিয়ার দোষ।দুনিয়ার কোন মনিষী ইসলামকে certify করলো সেটা নিয়ে আমরা বসে আছি।
      কাউকে তো দেখি না হিন্দু প্রথা,ইহুদী প্রথা,ক্রিষ্টান culture নিয়ে সমালোচনা করে কিছু লিখতে।নাস্তিকতা,ধর্মে অবিশ্বাস যদি থেকেই থাকে তাহলে সব ধর্মের সীমাবদ্বতা নিয়ে লিখা উচিত।কিন্তু যা দেখা যায়,সব দোষ ইসলামের নামেই উঠানো হয়।ইসলামের নামে কটাক্ষ করে লেখা রীতিমত ফ্যাশনে দাঁড়িয়ে গিয়েছে।
      (ভাবতেছি শয়তানের উপাসকদের পক্ষে লেখা শুরু করিতে হবে,ব্লগে এই ক্যাটাগরির লোক নাই বললেই চলে,এইটা আরো আপডেটেড ক্যাটাগরি 😀 😀 😀 )

      • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

        দেখার পরিধিটা আরেকটু বাড়ালেই চোখে পড়বে।মুসলিম প্রধান দেশে বেশিরর ভাগ নিধর্মী পূর্বে ইসলাম ধর্ম পালন করতেন দেখে ইসলাম ধর্মের বিপক্ষে বেশি বেশি লেখা আসাই স্বাভাবিক,ঠিক যেমন খ্রিষ্ঠান প্রধান দেশের নির্ধর্মীরা খৃষ্ট ধর্মের বিপক্ষে লেখেন।একজন নির্ধর্মীর কাছে সব ধর্মই সমানভাবে অসার।

        • এই কারনে সকল ধর্মের অসারতা প্রমানের লেখাও কামনা করছি।ইসলামের দোষ নিয়ে তো অনেক ব্লগ পড়া হলো,তাই এবার অন্য ধর্মের অসারতা প্রমানের লেখাও দরকার,সেই সাথে কিছু নতুনত্ব দেখা যাবে।তাই নিধর্মীদের কাছে থেকে অন্য সকল ধর্মের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে ব্লগ পেলে সেই নিরপেক্ষতা বুঝতে পারবো।

          • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

            সিসিবিতে সম্ভবত নেই কিন্তু মুক্তমনাতে এজাতীয় লেখা ভরপুর।সিসিবির অধিকাংশ নিধর্মী পূর্বে মুসলিম হওয়ায় নিজ ধর্মের বিষয়বস্তুগুলো অন্য ধর্মের চেয়ে ভাল জানেন দেখে সম্ভবত এই পক্ষপাতিত্ব।আরেকটা কারণ হচ্ছে- একজন ইহুদী মুসলিম ধর্মের বিপক্ষে অথবা একজন হিন্দু খ্রিষ্ঠান ধর্মের বিপক্ষে যত যুক্তিযুক্ত কথাই বলুক না কেন সেটা ওই ধর্মালম্বীদের দ্বারা সরাসরি বিনা বিচারে নাকচ হওয়ার সম্ভাবনাটাই প্রবল-তাই প্রাক্তন মুসলিমকেই ইসলামের সমালচনায় নামতে হয়।

          • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

            আহসান,

            যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমকে নিয়ে ফেসবুকে কড়া সমালোচা করিস (এবং প্রায়ই করিস) তখন কী কেউ বলে বাংলাদেশ নিয়া অনেক হইলো এইবার অন্য দলগুলার দিকেও তাকাও?

            খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু ব্লা ব্লা ব্লা সব ধর্মই তো তোমাগো কাছে ভুয়া, এইগুলা সমালোচনা কইরা লাভ কী। তবে সেই ধর্মগুলারে যদি একটু যৌক্তির পথে বাতিল করতা (যেইটা করোনাই, বাপে কইছে ভুয়া, কুরানে আছে ভুয়া) তাইলে আর ইসলাম নিয়া আর লেখা লাগতো না, অটো বুঝতা যে ঐটাও একই দোষে দোষি।

            তারপরও তোমারে দোষ দেইনা। ধর্মের মার্কেটিং পলিসি জটিল। এইটাও আরেকটা স্ট্রাটেজি। রিচার্ড ডকিন্স তো খালি খ্রিস্টান ধর্মকে অযৌক্তিক প্রমানে লেখা লেখি করে, তারেও সেদিন একজন জিজ্ঞেস করছে, হোয়াই অনলি ক্রিস্টান। অন্য ধর্মও তো আছে, তাগোরে নিয়া কিছু কয় না কেন।

            আর ব্যক্তিগতভাবে আমি খালি ইসলাম নিয়ে না, অন্য ধর্ম নিয়াও লিখছি (আগের সিরিজটা প্রায়ই খ্রিস্টান ধর্মের কথা আসছে) সেইটা তোমাগো চোখে পড়েনাই। পড়ার কথাও না, এইসব লেখা তো তোমরা পইড়া দেখোনা। শিরোনাম দেখো, তারপর শর্টকার্টে বেহেস্তে যাওনের জন্য ইসলামরে ডিফেন্ড করা শুরু করো।

            যাযাকাল্লাহ খায়ের।

            • রায়হান,
              তোর ধর্মের সাথে ক্রিকেট মিশিয়ে খিচুড়ি বানানোর যুক্তিটা প্রথমেই আমার কাছে হাস্যকর লাগলো।যাই হোক,বাংলাদেশ কেমন খেলে,গতকালও কেমন খেলল,তা নিয়ে সমালোচনা না করার কারন নাই।অন্য দলগুলি খারাপ খেললে তুই বলতে চাস আমরা সমালোচনা করি না??শ্রীলংকা যখন ৩০০ এর উপর রান করে,তারপর যখন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কাছে বেধড়ক বাড়ি খায়,আমরা কি বলি না, ুয়ের মত বোলিং হইতেছে????আফ্রিকা যখন সেমিফাইনালে বার বার ধরা খায়,তখন কি তাদের নিয়ে সমালোচনা করি না,তাদেরকে পচানি দেই না?
              যাই হোক,যতটা জানি,তোদের কাছে আসল ধর্ম মানে মানব ধর্ম।মানবতাই যদি তোদের কাছে আসল মনে হয়,তাহলে সারা দুনিয়ায় অন্যায়ভাবে কিভাবে মানুষ হত্যা হচ্ছে,অত্যাচার হচ্ছে সেগুলি নিয়া সমালোচনা কর!ইরাকে,প্যালেষ্টাইনে এত এত মানুষ মারা যাচ্ছে,সেগুলির বিপক্ষে লেখা দাঁড়া করা!নাকি ধরে নিব,তাঁরা কোরান বিশ্বাসী মুসলিম বলে তাঁদের মৃত্যু নিয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই?
              এসব কারনেই অনেক ফালতু লেখা চোখে পড়ার পরেও লেখা পড়ি না।যেখানে খালি ধর্মের নামে কুতসাই রটনা হয়,কিন্তু মানব জাতির জন্য নিধর্মীদের ভূমিকা,মানব কল্যাণের পদ্ধতি কিছুই আলোচনা হয় না।তাই বিশ্বাসীরা সেটার প্রতিবাদ জানাবেই।ধর্ম বিশ্বাস না কর,মানবতাই যদি নাস্তিকদের কাছে বড় হয়,মানবতা নিয়া লেখা দে!সেটাকে আমরা আরো স্বাগত জানাব।আর এসব নিয়া কাঁদা ছোঁড়াছুড়িও বন্ধ হবে।
              রেডবুকের ৪ নম্বর পয়েন্টটা এখানে তুলে ধরছিঃ

              অন্য কারও বিশ্বাসকে কটাক্ষ করে কিছু লেখা যাবে না। অন্য কারও বিশ্বাসকে আঘাত না করে নিজের বিশ্বাসের কথা লেখা যাবে। তবে, অবশ্যই নিজের বিশ্বাসের প্রচারণামূলক কোন লেখা প্রকাশ করা যাবে না।

              কিন্তু এই তুইই কিছুদিন আগে বলেছিলি,ধর্মকে কটাক্ষ করা তোর কাছে যুক্তিপূর্ণ।এখানে এই নিয়মে বিপরীত ঘটনাই সবচে বেশি ঘটছে।আর নিজের বিশ্বাসের প্রচারণামূলক লেখা তো এখানে ভুরি ভুরি!দ্বিমুখী নীতি অনুসরন না করে তাই আশা করবো,এইসব লেখা দেবার আগে রেড বুকটা নতুন করে এডিট করা হোক।আর তা না করা হলে পোষ্ট দেবার আগে ভালভাবে রেড বুকটা পড়ে পোষ্ট ছাড়া হোক।
              ভাল থাকিস।

              • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                ধর্ম।মানবতাই যদি তোদের কাছে আসল মনে হয়,তাহলে সারা দুনিয়ায় অন্যায়ভাবে কিভাবে মানুষ হত্যা হচ্ছে,অত্যাচার হচ্ছে সেগুলি নিয়া সমালোচনা কর!ইরাকে,প্যালেষ্টাইনে এত এত মানুষ মারা যাচ্ছে,সেগুলির বিপক্ষে লেখা দাঁড়া করা

                প্যালেস্টাইন নিয়ে সিসিবির সবচেয়ে তথ্যবহুল এবং সুন্দর লেখাটা কিন্তু মুহম্মদের(একজন নিধর্মী) লেখা, একটু কষ্ট করে দেখে নিও।আর ধর্ম নামক জিনিসটা কিন্তু ওই প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল সংঘর্ষের অন্যতম যোগানদাতা।"ইহুদিদের পূণ্যভূমি" নামক ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত কাল্পনিক পূন্যভূমি বা ইহুদিদের প্রতিশ্রুত ভূমির ধারণা এই সংঘর্ষকে তিক্ততর রূপ দেবার পেছনে অন্যতম ভূমিকা রাখে।

                উপরোক্ত বিষয়গুলোর চেয়েও জরুরি হচ্ছে,"খালি ধর্মের কুৎসা কেন বাকিগুলোরও কুৎসা গাও" বলার একটা অর্থ ধর্মের দিকে ছুঁড়ে দেয়া তীরগুলো প্রতিহত না করে প্রতিপক্ষ তীরন্দাজকে অন্য টার্গেটে তীর ছুঁড়তে বলা-যেটা ওই প্রতিপক্ষের মেনে নেবার সম্ভাবনা শূণ্যের কোঠায়।

                • লিঙ্কটা দিলে ভাল হয়।
                  খালি ধর্মের কুৎসা কেন বাকিগুলোরও কুৎসা গাও” বলার একটা অর্থ ধর্মের দিকে ছুঁড়ে দেয়া তীরগুলো প্রতিহত না করে প্রতিপক্ষ তীরন্দাজকে অন্য টার্গেটে তীর ছুঁড়তে বলা-যেটা ওই প্রতিপক্ষের মেনে নেবার সম্ভাবনা শূণ্যের কোঠায়।
                  তাহলে তীর সেই এক জায়গাতেই ফিরে এল,সরাসরি ধর্মকে কটাক্ষ করা।

                  • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                    এই হচ্ছে লিঙ্ক।

                    তাহলে তীর সেই এক জায়গাতেই ফিরে এল,সরাসরি ধর্মকে কটাক্ষ করা

                    ধার্মিকরা ধর্মের নামে মানুষের কল্লা কাটলে কিছু হয়না আর সেইটা নিয়ে কটাক্ষ করলেই দোষ।আফসোস! এ ব্যাপারে একটা উক্তি উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছিনা- "বিশ্বাস নিয়ে হাসাহাসি করলে যদি খারাপ লাগে,হাস্যকর কিছু বিশ্বাস না করলেই হয়!"

                  • এত কাহিনীর দরকার কি?
                    রেডবুকটা এডিট মাইরা দেওয়া হউক।

                    শুধুমাত্র ইসলামকে কটাক্ষ করে লিখলে রেডবুকের চার নম্বর পয়েন্ট টি প্রযোজ্য হবে না। তাতে কারো বিশ্বাস বা ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত প্রাপ্ত হলেও , সিসিবি ডাজন্ট গিভ এ শিট।

                    অথবা

                    যেসব সদস্যের জন্য রেডবুকের নীতিমালা প্রযোজ্য নয়, অর্থাৎ যিনারা রেডবুকের উর্ধ্বে, তাদের নামের একটা লিস্ট টাঙ্গায়া দেওয়া হউক।

                    :clap: :clap: :clap:

                    • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

                      তুহিন

                      প্রথমত সিসিবির নীতিমালাটা আমি যতটুকু বুঝি 'পোস্ট' নিয়ে। এবং পোস্ট দিয়ে কারো বিশ্বাসকে কটাক্ষ করা হয়েছে আর মডারেটররা চুপচাপ বসে থেকেছেন, এমনটি কী হয়েছে? আমার তো মনে হচ্ছে আমরা সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছি পোস্ট-এ নয় বরং মন্তব্য করতে এসে।

                      আমি দেখেছি মডারেটররা সেটাও নজরে রাখেন। কিন্তু ব্যাপারগুলো হচ্ছে দুইপক্ষ থেকেই এবং মুছতে হলে আমার তো মনে হয় সব মন্তব্যই মুছে দিতে হবে। টুটি চেপে ধরতে হবে অনেকের। আমি অন্তত চাইনা সিসিবিতে কেউ আমার টুটি চেপে ধরুক।

                      তোর কি ধারণা মডারেটররা সবাই নাস্তিক আর ইচ্ছে করে বিশেষ কাউকে যা ইচ্ছে তা-ই বলার সু্যোগ দিচ্ছেন? এমন হলে সবার আগে আমার তোর উপর থেকে শ্রদ্ধা উঠে যাবে। তোকে সরাসরি বলি, আমি যতদূর জানি সিসিবির মডারেটর প্যানেলে ব্যক্তিগত জীবনে ধার্মিক/বিশ্বাসীর সংখ্যাই বরং বেশি। তাহলে পোস্ট বা মন্তব্য প্রকাশের পর তারা কেন বুঝছেন না যে তাদের বিশ্বাসকে কটাক্ষ করে লেখা হচ্ছে? নাকি তারা ভন্ড ধার্মিক (মডারেটরদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাপূর্বক)?
                      আসলে সমস্যা তৈরি করছি আমরাই। আমার আর তোর মত এই ধরণের খোঁচা মারা মন্তব্যকারীর জন্যেই পরিবেশটা অসহনীয় হয়ে যায় মাঝে মাঝে। আমার আর তোর চেয়ে বেশি নামাজ-রোজা করেন/ ধর্ম পালন করেন এমন অনেকেই সিসিবিতে নিয়মিত। কই তাদেরকে তো দেখিনা এইভাবে রিয়েক্ট করতে। কে কী বললো, লিখলো তাতে তো তাদের বিশ্বাস টলছে না।

                      সমস্যাটা আসলে আমাদের। অনেক ভালো লেখা আসে সিসিবিতে। সেখানে মন্তব্য করার মতো কাউকে দেখি না। আর ধর্ম নিয়ে কোন পোস্ট এলেই দুই পক্ষ তৈরি হয়ে যায় রণমূর্তি নিয়ে। খুব খারাপ । খুব। আমার ধারনা অনেকেই লেখাটা পড়েনই না। শুধু লেখকের নাম বা হেডিং দেখে মন্তব্য করতে চলে আসেন।
                      অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর আগে নিজেকে বিচার করা উচিত। তোর মন্তব্যে কোট করা দুটি কথা যে কতটা খারাপ হয়েছে তুই বুঝতে পারছিস? মনে হয় না।


                      ---------------------------------------------------------------------------
                      বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
                      ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

                    • কামরুল ভাই,
                      ০১. নীতিমালা শুধুমাত্র পোস্টের ক্ষেত্রে নয়, কমেন্টের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
                      ০২.

                      সিসিবির মডারেটর প্যানেলে ব্যক্তিগত জীবনে ধার্মিক/বিশ্বাসীর সংখ্যাই বরং বেশি। তাহলে পোস্ট বা মন্তব্য প্রকাশের পর তারা কেন বুঝছেন না যে তাদের বিশ্বাসকে কটাক্ষ করে লেখা হচ্ছে?

                      কিছু বলেন না ক্যাঁচাল এড়িয়ে যাবার জন্য। নিজের বাড়ি গান্ধা কইরা লাভ কি? কারণ, আস্তিকতা নাস্তিকতা নিয়ে হাজারটা পোস্ট দিলেও কেউ কারো অবস্থান থেকে সরে আসবে না। কারো বিশ্বাস টলবেও না।
                      আর সিসিবি এরকম কোন ব্লগ নয় যে, "অমুক ভাইয়া কিন্তু মডারেটর...সাবধান...", কেউ কিন্তু মডুগিরি ফলাইতেই আসে না এইখানে।

                      ০৩. মডারেশন পুরাই গান্ধা লাগে আমার। এইখানে যাতে টুঁটি চেপে ধরার মত কিছু আমরা না লিখি, সেটা একটু মাথায় রাখা উচিত।

                      ০৪.

                      অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর আগে নিজেকে বিচার করা উচিত। তোর মন্তব্যে কোট করা দুটি কথা যে কতটা খারাপ হয়েছে তুই বুঝতে পারছিস?

                      আমি নিজে বক ধার্মিক। কথা দুটি খুবই খারাপ হইছে, আমি মানি। মাফ কইরা দ্যান, কিন্তু এই রেডবুকের এই নীতিমালা লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে আমার মনে হচ্ছে বলে আমি এটা বললাম। রেডবুকের নীতিমালা কমেন্টের ক্ষেত্রেও সমান ভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

                      কামরুল ভাই, এই ধর্ম/আস্তিক/নাস্তিক এই স্পর্শকাতর গান্ধা বিষয়গুলো উপেক্ষা করা কি খুব কঠিন কাজ? যার যার টা সে সে নিয়ে আমরা কেন থাকতে পারতেছি না ?
                      ইসলামকে কটাক্ষ করার জন্য ডেডিকেটেড সাইট ধর্ম মকারি আছে, মুক্ত মনা দের জন্য সাইট মুক্তমনা আছে। আবার ইসলাম বিষয়ক কিছুর জন্য আইডিফোরাম (সতর্কীকরণ: এইটা জামাতি সাইট) আছে। এই সেনসিটিভ বিষয়গুলো নিয়ে লেখা গুলো আমরা সেই সাইটগুলোতে পোস্ট করতে পারি যার যেখানে ইচ্ছা।

                      ধর্ম/নাস্তিকতা বিষয়গুলো নিয়ে সিসিবিতে এত নাড়াচাড়া করা কি খুবই জরুরী?
                      **********************
                      অফটপিকঃ কামরুল ভাই, আপনার সাথে এইগুলা কাইজ্জা করতে খুব কষ্ট লাগে, বিয়াদবি হইতেছে বিরাট বড়, পার্সোনালি নিয়েন না ভাই। মাফ কইরা দ্যান।
                      চলেন বিড়ি টাইনা আসি।

                    • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

                      অন্যদের কথা জানিনা। আমি নিজে তোকে সন্তুষ্ট করার আপ্রান চেষ্টা করবো। গান্ধা মডারেশন প্যানেল থেকে একজন গান্ধা লোক অন্তত কমিয়ে যাবো।


                      ---------------------------------------------------------------------------
                      বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
                      ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

                    • ভুল বুঝলেন ভাই,

                      ০৩. মডারেশন পুরাই গান্ধা লাগে আমার। এইখানে যাতে টুঁটি চেপে ধরার মত কিছু আমরা না লিখি, সেটা একটু মাথায় রাখা উচিত।

                      মডারেশন পুরাই গান্ধা লাগে বলতে সিসিবির মডারেশন বোঝানো হয় নাই। মডারেশন প্রক্রিয়াটারই বিরোধী আমি। যেই কারণে সচলায়তন ভাল লাগে না আমার।

                      আর সিসিবিতে মডারেশনের প্রয়োজনই পড়ে না।

                      আপনি হয়তো বুঝতেছেন, সিসিবির মডারেটরদের আমি গান্ধা বলেছি। এইটা না। আমি পুরা মডারেশন জিনিসটাকেই গান্ধা বলেছি।

                      আর সিসিবির মডু প্যানেলের পুরা নাস্তিকবাদী এই কথাটিও আমি বলি নি।

                      আপনার সিদ্ধান্তটি আশা করি এই অর্বাচীনের কথায় নেন নি।

                    • আমিন (১৯৯৬-২০০২)

                      হাঁসের বাচ্চা, কমেন্টটা কামরুল ভাইরে করলেও আমি একটু কথা কই। ধর তোর শেষ কথার সাথে আমি একমত হইলাম। তাইলে এই পোস্টের হেডিংটা দেখ। এই পোস্ট নিয়াও তোর কঠিন সমালোচনা আসা উচিত ছিলো। সেটা আসে নাই। বরং তোর সমালোচনা ইসলাম নিয়ে মন্তব্যের জন্য। এই ব্যাপারটায় যদি তুই ইনকনসিসটেন্ট হস তাইলে তো বাকিদেরকে এতো কনসিসটেনসি এর জন্য ধরতে পারস না ( যেটা তুই উপরে করসস)। এইবার আমার কথায় আসি আমি নিজে মুক্ত আলোচনার পক্ষে ধর্ম নাস্তিকতা নিয়ে পোস্ট আসার পক্ষে। পোস্টগুলো যুক্তিসংগত হইলে সমস্যা নাই। যেমন আবীরের পোস্ট টা এমেজিং ছিলো বিজ্ঞানময়। এখানে তো সামু ব্লগের মতো চাগু পোস্ট বা ছাগ নাস্তিক পোস্ট কোনটাই আসেনি তাই আমি সমস্যা দেখি না। তবে যেটা খেয়াল করার দরকার সেটা হচ্ছে কমেন্ট করার সময় দায়িত্ব নিয়া কমেন্ট করার। যেটার অনুপস্থিতে বিপদ চলে আসে। বড়দের সম্মান করাটা ইস্লামিক মূল্যবোধ হোক বা না হোক জিনিসটা ভালো সেই সাথে এর মানে এই নয় এই সুযোগে বড়রা যা খুশি তাই বললেও প্রতিবাদ করা যাবে না। শেষ কথা হইলো ব্ল টা আমাদের আমাদের দায়িত্ব তাকে সুন্দর রাখা।

                      আর হ্যা, এই পোস্টের ব্যাপারে আমি বলি, এইটা আমার কাছে মরতুজা ভাইয়ের মতই ছাগলামি পোস্ট মনে হয়েছে। আর কিছু কমেন্টে লেখকের উত্তর কপি পেস্ট করাটা আমাকে বিরক্ত করেছে কারণ এটা সামুর বিশেষ প্রজাতির ব্লগাররা করে থাকে।

                    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                      😀 চমৎকার ডিফেন্স মেকানিজম-কটাক্ষের যুক্তিপূর্ণ উত্তর না দিয়ে রেডবুক ইত্যাদির জুজু দেখানো।তবে আমার কাছে আইডিয়াটা খারাপ লাগেনাই।সারকাজম অংশটুকু বাদ দিয়ে( শুধুমাত্র ইসলামকে কটাক্ষ করা এবং রেডবুকের ঊর্ধ্বে সদস্যদের অবস্থান ) যে কোন ধরণের যুক্তিযুক্ত আলোচনা/সমালোচনা( যেমনঃ নাস্তিকতা নিয়ে যুক্তিযুক্ত সমালোচনা/কটাক্ষ , ধর্মের বিপক্ষে যেসব যুক্তি সেগুলো খন্ডন) আসতেই পারে- আমার মনে হয় সিসিবি এতটুকু ম্যাচিউর হয়েছে অনেক আগেই।

                      এটা তো আর মধ্যযুগ না অথবা আরব দেশও না যে সমালোচনা করলে সেটার যুক্তিপূর্ণ উত্তর না দিয়ে রেডবুক/কুরআন/দোজখ/তরবারী/বোমা ইত্যাদির ভয় দেখিয়ে এড়িয়ে যাওয়া যাবে।

  8. রিজওয়ান (২০০০-২০০৬)

    The fact that a believer is happier than a skeptic is no more to the point than the fact that a drunken man is happier than a sober one. The happiness of credulity is a cheap and dangerous quality.
    --George Bernard Shaw
    এইটাই মনে হয় মোটামুটি রিলেভেন্ট এইখানে............বাকিগুলান থাউক না হয়...... ;;; ;;; ;;;

      • কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

        সবকিছুর দায় সিসিবির উপর চাপিয়ে সিসিবি ছাড়ার সময় আসছে বলার মধ্যে কি ব্যাপক অর্থ আছে সেটিই বুঝতে পারলামনা। তোমাদের নামের পাশে ব্যাচের সাল ইন্ডিকেট করে একেবারে অবুঝ থাকার বয়স তোমরা পার করে এসেছো। প্রফেশনেই আছো হয়তো কয়েকবছর ধরে। তোমাদের কমেন্টগুলো যে হতাশাজনক সেটি কি বুঝতে পারছো??


        সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

        • মাঝে মাঝে হতাশা লাগে ভাই,একেবারে চুপ করে থাকাও যায় না,আবার কিছু কথা বলে ফেললে সিনিয়রদের মনে কষ্ট লাগে,নিজেদের মনেও অনুশোচনা জাগে।এইসব জিনিষ নিয়ে যুক্তিতর্ক করতেই ইচ্ছে হয় না,কারন কেউই তাদের নিজেদের বিশ্বাস থেকে সরবে না।আর বিশ্বাস এমন একটা স্পর্শকাতর জিনিষ,এসবের বক্তব্য নিয়ে পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থানে থাকলে কাজের চেয়ে ব্যক্তিগত মনমালিন্য বেশি বিস্তার পায়।
          ছোট মুখে কিছু বড় কথা বলেছি ভাই,কোন বেয়াদবী হলে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

  9. জাকারিয়া (১৯৯৯-২০০৫)
    এটা তো আর মধ্যযুগ না অথবা আরব দেশও না যে সমালোচনা করলে সেটার যুক্তিপূর্ণ উত্তর না দিয়ে রেডবুক/কুরআন/দোজখ/তরবারী/বোমা ইত্যাদির ভয় দেখিয়ে এড়িয়ে যাওয়া যাবে।

    একটা নীতিমালা তৈরি করা হবে কিন্তু সেইটা মানা হবেনা, এমনকি সেইটা নিয়ে কথা বলাও যাবেনা,তা কেমন করে হয়। তাহলে সেইটা সংশোধন করা কিংবা না রাখাটাই অধিক যুক্তিপূর্ণ নয়কি?
    (ভাইয়া, বেয়াদবি হলে ক্ষমা করে দিয়েন । )

    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

      আরে দুর,বেয়াদবী কিসের! তোমার পয়েন্ট ঠিক আছে।আমি আসলে বলতে চাচ্ছিলাম যে নীতিমালা থাকার পরেও মোটামুটি নিয়মিতভাবেই যেহেতু সেটার ব্যত্যয় হচ্ছে সুতরাং নীতিমালাটি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।সিসিবির শুরুর দিকে রাজনৈতিক আলোচনা নিষিদ্ধ ছিলো কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই নিয়ম পরিবর্তিত হয়েছে।আমি নিজেও অন্যের বিশ্বাসের প্রতি অযৌক্তিক কটাক্ষের বিপক্ষে-কিন্তু একটা পাবলিক ফোরামে যুক্তিযুক্ত সমালোচনা করলে কেউ যদি "আমার বিশ্বাসে আঘাত লাগছে" বলে চিল্লাচিল্লি করে সেটা মেনেও নিতে পারিনা।আমি নাস্তিক-কিন্তু কোন ধার্মিক যদি নাস্তিকতার সমালোচনা করে তাহলে আমি চেষ্টা করব তার যুক্তিগুলো খন্ডন করতে,'আমার বিশ্বাস আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে" বলে কান্নাকাটি করবনা।আর তার সমা্লোচনা যদি সঠিক হয় তাহলে মেনে নেব।
      আশা করি বোঝাতে পেরেছি।

    • আন্দালিব (৯৬-০২)

      জাকারিয়া, যদি নীতিমালা সংক্রান্ত ব্যাপার হয়ই, তাহলে আমাকে দেখাও যে ঠিক কোন জায়গায় "কার্টুন আঁকা হয়েছে", বা যুক্তিছাড়া পোস্ট এসেছে? যদি সত্যিই এসে থাকতো, তাহলে কি তুমি মনে করো মডারেটররা সেটাকে এলাউ করতেন? হুট করেই রেডবুক টানার আগে সেইটা বুঝোনের চেষ্টা করো। আর যদি সেটা বুঝতেই না পারো, তাইলে "ব্লগ ছাড়ার সময় আইছে" বলে ঘুরাঘুরি না করে আলবিদা হইতেই পারো, নাকি? এই ন্যাকামো কেন?

        • আন্দালিব (৯৬-০২)

          নাজমুল, এই কার্টুন কি সিসিবি'র কোন ব্লগার আঁকছেন? যে পোস্ট থেকে এইটা আনলা, সেখানে অযৌক্তিক কথাবার্তা চলতেছে। দুইজনে ঝগড়া করতেছে, সেইটা দেখে আমি নিজেও বলেছি যে আমার ভালো লাগে নাই। আরো অনেকেই বলেছেন।

          এই পোস্টের মাঝে মডারেশন নিয়ে কথা হচ্ছে, এখানে কি কেউ অযথা গালগালি করেছে? আমি তো বরং দেখি জামাতিদের সাথে নির্ধর্মীদের মিলিয়ে দেয়ার মতো ফালতু তুলনাও করা হয়েছে। এখন সেটা নিয়ে কোন নির্ধর্মী কি বলেছে যে মডারেশন কী করে, থাকুম না, যামু গিয়া, ইত্যাদি ইত্যাদি??

          • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

            আমি নিধর্মী, আর যে কোন গালি আমাকে দেয়া হোকনা কেন জামাতিদের সাথে আমার তুলনা কেউ করলে আমার খুব কষ্ট হয় নিজেকে শান্ত করতে।কেবল তখনই ইচ্ছে করে মুসলিম হইতে-তাইলে ধর্মের নামে বোমাবাজি/কোতল কিছু একটা করে ফেলতে পারতাম।

          • নাজমুল (০২-০৮)

            আন্দা ভাই আমাদের কোনো ব্লগার না আকলেও কার্টুনটা কিন্তু ওই মিনেই দেয়া হয়েছে

            মোসার কাহিনী পড়ে চমৎকৃত হলাম। তবে মমির লবনাক্ততার সাথে মুসার সমুদ্রের উপর দিয়ে হাঁইটা যাওয়া কীভাবে জাস্টফাই হইলো বুঝলাম না। অবশ্য এই সময় আমাদের দেশে একজন মুসা পাইলে ভালোই হইতো। সাঁতারে সব গোল্ড মেডেল আমরাই পাইতাম।

            এই লেখাটা কি তা মিন করেনা ???

            কিন্তু ভাই এসব ব্যাপার বাদ দিলে হয়না ??
            আমি আল্লাহ বিল্লাহ করিনা কিন্তু আল্লাহকে বিশ্বাস করি এর মানে এই না আমি গিয়ে জামাত শিব্বির করবো।
            আপনি একটা ফুটবল টিম কে সাপোর্ট করেন তার সম্পর্কে অন্য দলের কেউ কিছু বললে আপনার খারাপ লাগবে হোক ওই টিম খারাপ হোক ভাল
            ধর্মতো অনেকটা ওইরকম ৪/৫ টা টিমের একটাকে আমরা সাপোর্ট করি।
            সেটাকে কেউ খারাপ বললে তো খারাপ লাগবেই।

            • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

              ভাই খারাপ লাগার কারণ যথেষ্টই আছে-মাত্র ৩/৪ বছর আগে হইলে আমারও তোমার মত অনুভূতি হইত।কিন্তু দেখ তো,এই খারাপ লাগার ফলে যে এইসব কথাবার্তা বলতেছে তাকে রেডবুক/বিশ্বাসে আঘাত লেগেছে এইসব কথা বলে থামায়ে রাখতে না চেয়ে ওই কথাবার্তাগুলো ভুল প্রমান করে কিছু বলাটাই কি ভাল না? নিধর্মীদের মতে স্রষ্টার অস্তিত্ব নাই-এখন তুমি যদি ধর্মের পক্ষে নানা কথা বল তাহইলে কি সে একইভাবে বলতে পারেনা যে তার বিশ্বাসে আঘাত লাগছে? এক্ষেত্রে যৌক্তিক আলোচনাই কি সমাধানের একমাত্র পথ না? নাকি রেডবুক/বিশ্বাসে আঘাত লাগার সেন্টুমার্কা কান্নাকাটিকেই তুমি ভাল উপায় মনে করবা?

              • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                ব্লগ একটা ওপেন জায়গা- ধর্মের সমালোচনা যেমন আসতে পারে তেমনি নাস্তিক্যবাদের সমালোচনাও আসতে পারে।সেইটা না করে রেডবুকের জুজু দেখানো বা সেন্টু খাওয়া কান্নাকাটি করার সহজ উপায়টাই যদি ধার্মিকরা বেছে নেয় তাহলে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা কমে বই বাড়ে না।ধর্মের মত হাজার বছরের সুপ্রতিষ্ঠিত একটা প্রথার বিরুদ্ধে কথা বলা যেমন বিপজ্জনক,এর ভুলগুলো বের করাটাও তেমন পরিশ্রমসাধ্য কাজ।এই পরিশ্রমটুকু নিধর্মীরা যদি করতে পারে, প্রাণপ্রিয় ধর্মকে সমালোচনা থেকে রক্ষা করতে নিধর্মীদের যুক্তিগুলোর অসারতা বের করার মত পরিশ্রম করতে ধার্মিকদের এই অনীহা আমাকে সত্যিই অবাক এবং ব্যথিত করে।নিধর্মীদের তো পরকালের চিন্তা নাই কিন্তু একজন ধার্মিক তার এই কাজের জন্য পরকালে কত বড় পুরষ্কার পাবে-সেই লোভ থেকে হলেও তো এই কষ্টটুকু স্বীকার করা উচিত! আমার ২৩ বছরের ধার্মিক অভিজ্ঞতা বলে,ধর্ম শুধু প্রথাগত নামাজ-রোজায় না, এর মূলনীতিগুলোর যৌক্তিক প্রতিরক্ষায়ও বিদ্যমান! যখন ধার্মিক ছিলাম তখন বায়লজির ছাত্র আমার বাপের বিবর্তনভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি আর আমার মা বহু কোরান হাদিস ঘাটছি- উত্তর না পেয়ে আমি আজ নাস্তিক আর আমার মা আরো গভীরভাবে বিশ্বাসী।য়ামার জ্ঞান কম দেখে হয়তো আমার এই অবস্থা,কিন্তু কোন ধার্মিক ভাই কি নাই যে উত্তরগুলো খুঁজে দিতে পারেন? রেডবুক/বিশ্বাসে আঘাত লাগার কান্নাকাটি দেখায় আর কতদিন?

              • নাজমুল (০২-০৮)

                বিশ্বাস অবিশ্বাস এর ব্যাপার বাদ দিয়া বিতর্কিত ব্যাপার গুলা বাদ দিলে মনে করেন এত কথা আর হয়না ঠিক না ??
                মনে করেন ব্লগে মজা দেখতে চাই সবাই খুশি আগের মত জোক্স হইতেসে সে রকম
                যেমন বাংলা ছবির পোষ্টটা খুব ভাল লাগতেসে সবাই কি মজা করতেসে আবার শওকত ভাই এর মুভি পোষ্ট বা ইকোনোমি নিয়া লেখাও সবাই পড়তেসে
                বিডি আর বিদ্রোহ, যুদ্ধাপরাধী নিয়ে সবাই প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কিন্তু সবাই একসাথে
                সবাইকে একসাথে দেখতেই ভালো লাগে 🙂

                • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                  সবাইকে একসাথে দেখতে ভাল লাগে, একসাথে জোক্স করতে আরো ভাল লাগে কিন্তু সিসিবিকে শুধু হাসি-ঠাট্টার জায়গা হিসেবে মেনে নিতে আমি রাজি নই।এখানে পারস্পরিক সহনশীলতার ভিত্তিতে আলোচনা-সমালোচনা আসাটাই আমার কাছে অধিক কাম্য।মতের সাথে মিল না হলেই যুক্তি প্রদর্শন না করে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করাটা আমার কাছে অরুচিকর বলে মনে হয়।

                  • রকিব (০১-০৭)
                    এখানে পারস্পরিক সহনশীলতার ভিত্তিতে আলোচনা-সমালোচনা আসাটাই আমার কাছে অধিক কাম্য।

                    এই সহনশীলতা কিংবা পারষ্পারিক শ্রদ্ধাবোধটুকু আমরা যাতে না হারিয়ে ফেলি এটুকু লক্ষ্য রাখা জরুরী সবার জন্য।


                    আমি তবু বলি:
                    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

                    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                      ঠিক।ধর্মের মধ্যে বিজ্ঞান খোঁজার মত প্রচেষ্টাকে যেমন সমর্থন করিনা, ধর্মের উপর পোস্ট দিয়েছে বলেই কাউকে কর্কশভাবে আক্রমণ করাও সমর্থন করিনা।আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ,এই পোস্টটি একজন মুসলিমের তার প্রিয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে কিছু কথার সংকলন মাত্র।এখানে লেখক ধর্মের ভেতরে বিজ্ঞান খোঁজার চেষ্টা করেননি,ধর্মকে কার উপর চাপিয়ে দেবার চেষ্টাও করেননি।এর কিছু কিছু উক্তিতে ভুল থাকলে সেটা সহনশীল ভঙ্গিতে উল্লেখ করা যেত বলেই আমার মনে হয়।

                    • নাজমুল (০২-০৮)
                      কিন্তু সিসিবিকে শুধু হাসি-ঠাট্টার জায়গা হিসেবে মেনে নিতে আমি রাজি নই।

                      মাস্ফু ভাই আমি কিন্তু শুধু হাসি ঠাট্টার কথাই বলিনাই 🙁
                      সব কিছুই থাকবে কিন্তু যাতে নিজেদের মধ্যে সমস্যা না হয় সেটার কথা বলেছি
                      বিডিআর এর সময় কি আমরা একসাথে ছিলাম না ?
                      আমরা কি প্রতিবাদ করিনাই ??
                      ঠান্ডার সময় যে কাপড় দেয়া হলো সেখানেও আমরা সবাই ছিলাম সবাই একসাথে থাকলে কষ্টের সময় ও ভালো লাগে 🙂
                      যেমন অনেকে একসাথে ইডি খাইতেও মজা 😀
                      ভাই আপনার সাথে পরের বার দেখা হলে খাওয়াবো 🙂
                      একটা কারণ আছে সেটা তখন বলবো 😀

                    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                      আরে পাগল সমস্যা থাকবে কেন? মত না মিললে তর্ক-বিতর্ক হবে কিন্তু সেইটা হবে সহনশীল ভঙ্গিতে,উগ্রতা বা আক্রমণের ভিত্তিতে না।আমার নিজেরও আক্রমনাত্মক ভাব আরেকটু কমাতে হবে-আগামীতে চেষ্টা করব আশা করি।

      • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)
        আর যদি সেটা বুঝতেই না পারো, তাইলে “ব্লগ ছাড়ার সময় আইছে” বলে ঘুরাঘুরি না করে আলবিদা হইতেই পারো, নাকি? এই ন্যাকামো কেন?

        যেন সবাই রিকোয়েস্ট করে প্লিজ, থাক। আমরা আর খারাপ কাজ করবোনা। সিসিবি তোদের ছাড়া অচল...

        এর আগেও এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই যামুগা, গেলামগা বইলা তিন চার জায়গায় কমেন্ট দিয়া গরম করছেন। তারপর একদিন তাঁদের অধিকাংশই ফিরে আসছেন, যেন কিছুই হয়নি এই ভাব ধরে মন্তব্য করা লেখা শুরু করছেন।

        সিসিবি কাউকে ধরেও রাখেনা, বাদও দেয়না। যার ইচ্ছা থাকবে, যার ইচ্ছা থাকবেনা। তবে এই ন্যাকামি অসহ্য।

      • জাকারিয়া (১৯৯৯-২০০৫)

        আন্দালিব ভাই,
        প্রথমত , "সিসিবি ছাড়ার শময় চলে আসছে" এটা আমি বলিনাই। এটা আদীব এর কমেন্ট ছিল। আমি বলছি যে নিজেকে বোকা মনে হয় বলে আগের মত আর আসা হয়না। এইটা সম্পূর্ণ আমার ব্যাক্তিগত একটা মনোভাব। এটা বলা কি এতটাই দোষের হয়ে গেছে যে আপনি আমাকে সিসিবি থেকে আলবিদা হবার পরামর্শ দিচ্ছেন!!!!

    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

      ইয়ে,আমি কিন্তু চরমপন্থী নই ভাই।উপযুক্ত প্রমাণ পেলে স্রষ্টার অস্তিত্ব মেনে নিতে আমি এক মুহূর্ত দেরী করবনা।কাজেই আপনার ওই "নিধার্মিক চরমপন্থী" ট্যাগটা আমার জনযে প্রযোজ্য নয়(সরাসরি আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেননি যদিও) 😀

  10. ভাই, এবার আমার মত একজন সাধারণ পাব্লিকও চুপ থাকতে পারলাম্না। আপনি কি সোজা বাংলা বুঝেন্না? খুবি অদ্ভুত লাগছে আমার কাছে এটা দেখে যে মাস্রুফ সাহেব বারবার বলছেন,
    "নবীজী তাঁর সময়ের এবং পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে খুব অন্যায় কিছু হয়তো করেননি- এতদুর পর্যন্ত মানতেও আমি রাজি আছি,যেমন রাজি আছি তাঁকে মানব সমাজের ইতিহাসে এক অসাধারন ব্যক্তিত্বের মর্যাদা দিতেও।কিন্তু মুসলিমরা( এনাদের মধ্যে আমার মা-ও অন্তর্ভুক্ত) যখন এসে বলে যে মহানবী(স) হচ্ছেন সর্বকালের সব মানুষের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ অনুকরণীয় আদর্শ-তখন তাদেরকে আমি নিম্নোক্ত দুটো দলের একটিতে ফেলে দেই..."

    আর তারপরও আপনি আপনের সেই বয়স, গরমের দেশ, শীতের দেশ, বেগম রোকেয়া, মেয়েদের প্রজনন এইসব নিয়ে খিস্তি খেয়ুড় উড়াইতেসেন তো উড়াইতেসেনি। আপনি বলেন, কোন জায়গাতে মাস্রুফ সাহেব বলসেন যে সেই সময়ের বিচারে নবিজী খারাপ কাজ করসেন। উনি তো বলছেনি যে নবীজী কে অসাধাণ ব্যক্তি হিসেবে মেনে নিতে তার আপত্তি নাই, তার আপত্তি সেখানেই যখন নবীজী কে সরবকালের সেরা মানব ধরে নিয়ে, তাকে আইডল ধরে যখন এই সময়ের কোন ব্যক্তি যদি ৯ বছর বয়সি কোন মেয়ে কে বিয়ে করতে যায়। এই কারনেই তাকে সরবকালের সেরা মানব হিসেবে মানতে তার আপত্তি। উনাকে পজিটিভ হিশাবে প্রমান করতে আপনি সেই সময় ও এই সময়ের পারথক্য দেখছেন কিন্তু তার নেগেটিভ দিকগুলা বিবেচনা করার সময় সেই সময় ও এই সময়ের পারথক্য দেখছেন্না। এটা কোন ধরনের যুক্তি? রবীন্দ্রনাথ তার স্ত্রী কে কত বছর বয়সে বিয়ে করসেন, ভাবির সাথে পরকিয়া করসেন এইসব মেনে নিতে আপনাদের সমস্যা হয়না অথচ এইটা মানতে দোষ্ টা কই?
    মাফ করবেন বাইরের মানুষ আপনাদের বিতরকে নাক গলাইতেসি দেখে। কিন্তু ১টা মানুষ হাজারবার ১টা কথা ক্লিয়ার করে বলে দেবার পরও আপ্নারা ব্যপারটাকে পেচাইতেসেন দেখে মাথা গরম না করে থাকা যায়না।

    • মুসলমানরা নবীজিকে সর্বযুগের আদর্শ মানে। অন্যরা নাও মানতে পারে তাতে ক্ষতি নাই। কিন্তু শুধু এক বিষয়েই আংগুলীনির্দেশ কাম্য নয়, শুধু "অসাধারণ ধী-শক্তির অধিকারী" উল্লেখ করে তাঁর অন্য গুণগুলো পাশ কাটিয়ে যাওয়া যাবে না কিছুতেই, সেগুলো নিয়েও আলোচনা করতে হবে। মানুষকে শুধু আপনাদের দৃষ্টিতে যেগুলো খারাপ সেগুলো ছেঁকে ছেঁকে বলে বেড়াবেন তা হবে না। এ ছাড়া আর কোন্‌ কোন্‌ ক্ষেত্রে তিনি আদর্শ হওয়ার যোগ্য নন তাও বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে।

      আগেই বলে রাখছি কোন কিছু জায়েজ করার ইচ্ছা আমার নেই, আমার কাছে যেটা ভূল অন্যের কাছে সেটা শুদ্ধ হতে পারে।
      সমকামিতা এই বিংশ শতাব্দি পর্যন্তও খুবই ঘৃণ্য ব্যাপার ছিলো। আগের সমাজের কাছে এটা অত্যন্ত অনৈতিক গর্হিত কাজ হিসেবে বিবেচিত ছিলো(কিছু জনপদ ছাড়া)। কিন্তু বর্তমানে অনেক সমাজ একে স্বাভাবিক হিসেবে নিয়েছে, তো নৈতিকতার সুনির্দিষ্ট মানদন্ড আসলেই কি আছে ? বর্তমানে যে মানদন্ড সমাজবিজ্ঞানীরা স্থির করেছেন তা কি ভবিষ্যতেও একই থাকবে ?

      • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        শুধু “অসাধারণ ধী-শক্তির অধিকারী” উল্লেখ করে তাঁর অন্য গুণগুলো পাশ কাটিয়ে যাওয়া যাবে না কিছুতেই, সেগুলো নিয়েও আলোচনা করতে হবে। মানুষকে শুধু আপনাদের দৃষ্টিতে যেগুলো খারাপ সেগুলো ছেঁকে ছেঁকে বলে বেড়াবেন তা হবে না। এ ছাড়া আর কোন্‌ কোন্‌ ক্ষেত্রে তিনি আদর্শ হওয়ার যোগ্য নন তাও বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে।

        আদনান ভাই,
        মহানবী (স) এঁর অন্য গুনগুলো পাশ কাটানোর প্রশ্নই ওঠেনা।এ কারণেই তাঁকে মানব ইতিহাসের এক অনন্য চরিত্র বলে মানতেও আমার দ্বিধা নেই।আমার আপত্তি কোন জায়গায় তা সম্ভবত এখানে ত্রয়োদশতম বারের মত বলছিঃ আমার আপত্তি হচ্ছে তাঁকে সর্বকালের সর্বযুগের সব মানুষের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে মেনে নিতে।এর কারণ হিসেবে আমি উল্লেখ করেছি যুগের সীমাবদ্ধতা থেকে তাঁর ঊর্ধ্বে উঠতে না পারাকে।যুগের সীমাবদ্ধতার ঊর্ধে থাকলে তিনি ভবিষ্যত যুগের কথা ভেবে ডজনখানেক বিয়ে করতেননা,৬ বছরের বালিকাকে নিজের স্ত্রী বানানো থেকে বিরত থাকতেন,খাবার পানীয়তে মাছি পড়লে "সেই মাছির এক ডানায় রোগজীবানু আর আরেক ডানায় তার প্রতিকার আছে সুতরাং পানীয়টি পান করতে বাধা নেই"..এরকম হাস্যকর তথ্য দিতেন না।

        মহানবী(স) এঁর গুণগান বা কুৎসা কোনটি প্রচার করাই আমার উদ্দেশ্য নয়- মানুষকে ডেকে ডেকে এরকম কিছু বলে বেড়াই বলে যে দাবি আপনি করলেন সেটাও আপনার কল্পনাপ্রসূত।যে মানুষ তাঁর যুগের সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি তিনি একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব হলেও সর্বযুগের সব মানুষের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব নন-আমি শুধুমাত্র এই কথাটিই বলতে চেয়েছি।

        সতরাং আমাকে যে মহানবীর গুনাবলী এবং "কোন্‌ ক্ষেত্রে তিনি আদর্শ হওয়ার যোগ্য নন" সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে আহবান জানালেন তা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক,যদিও শেষেরটির ক্ষেত্রে দুটি উদাহরণ( বালিকাববাহ এবং মাছির ডানা সংক্রান্ত) আমি দিয়েছি।অন্ধভাবে না পড়লে হাদিস থেকে এরকম আরো পাবেন।

        আমার কাছে যেটা ভূল অন্যের কাছে সেটা শুদ্ধ হতে পারে...বর্তমানে যে মানদন্ড সমাজবিজ্ঞানীরা স্থির করেছেন তা কি ভবিষ্যতেও একই থাকবে ?

        সমকামিতার উদাহরণ এখানে অপ্রাসঙ্গিক...আমি যতই চাইছি আমার বক্তব্যকে পিনপয়েন্ট করতে ততই আপনি এবং রাসেল ভাই সেটাকে এদিক সেদিক নিয়ে যাবার চেষ্টা করছেন।শুধু এটুকু বলি-ভবিষ্যতে নৈতিকতার মাণদণ্ড পরিবর্তিত হতে পারে এই আশায় যদি আপনি আমার দুটো উদাহরণের ক্ষেত্রে(বালিকাবিবাহ এবং মাছি সংক্রান্ত মতবাদ) নবীজির কাজ ও বক্তব্যকে সঠিক ভেবে নিয়ে থাকেন তবে বলব-বেস্ট অফ লাক!
        ভাল থাকবেন।

        • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

          আপনার সুবিধার্থে মাছি সংক্রান্ত হাদীসটা আবার দিলাম(উপরের মন্তব্য থেকে কপি-পেস্ট করে)Bukhari vol. IV. No. 537
          Narrated Abu Haraira: The Prophet said, “If a house fly falls into the drink of anyone of you, he should dip it (into the drink) because one of its wings has a disease and the other wing has the cure (for that disease).

          • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

            শুধু আপনাদের দৃষ্টিতে যেগুলো খারাপ সেগুলো ছেঁকে ছেঁকে বলে বেড়াবেন তা হবে না।

            ও হ্যাঁ, ৬ বছরের শিশুকে বিয়ে করা,দশের অধিক বিয়ে করা, "মাছির এক ডানায় জীবানূ-আরেক ডানায় ওষুধ" এরকম মতামত দেয়া- এ বিষয়গুলো "শুধু আমাদের দৃষ্টিতে খারাপ"- এর মানে যদি এরকম হয় যে আপনার দৃষ্টিতে এগুলোতে কোন দোষ নেই তাহলে আবা্রো বলি-গুডলাক!

            ভাল থাকবেন।

            • মাহমুদ হাসান

              ভাই,
              আপনি যদি ১৯২৮ সালের আগে বাস করতেন,এবং যদি তখন কার যুগের scientist দের অনুসরন করতেন, তখন বিশ্বাস এ করতে পারতেন না যে ব্যাকটেরিয়া ব্যাকটেরিয়া কিল করতে পারে? আপনি কি আজকে মনে করবেন যে ঐ scientist রা ঠিক ছিল? যদি কেউ এমন আইডিয়া দিত তখন তাকে অবশ্যই ইগ্নরান্ট বলতেন? মাছির অন্য ডানায় কি আছে তা নিয়ে ইনাফ রিসার্চ করা হয় নাই।আর এইটা নিয়ে দুই রকমের তথ্য ই আছে।তাই সাইন্স কবে পরম স্ট্যান্ডার্ড এ যাবে এটা বলা ইম্পসিবল।আর scientifically proved অনেক কিছুই আছে। একটা উদাহরন, ইউসুফ এর পিতার অন্ধত্য দুর হয়েছিল তার অনেক আগের পুরান জামা থেকে। আজ তার থেকে cataract এর treatment হচ্ছে। আমি বাংলা লেখায় দুর্বল, তাই অনেক শব্দ ইংরেজিতে লিখলাম।

              • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

                😀 মাহমুদ ভাই,
                আপনি এর পর থেকে আপনার খাবার পানিতে মাছি পড়লে সেই পানি নিশ্চিন্তে খেয়ে নিয়েন।এছাড়া ভাতের মধ্যে মাছি পড়লে সেটাও তরকারী হিসেবে চিবিয়ে চুবিয়ে খেয়ে নিতে পারেন- চাই কি মাছি ভর্তাও মনে হয় আপনার জন্য বেশ উপাদেয় হবে।মাছির এক ডানায় জীবানূ থাকলেও আরেক ডানায় তার প্রতিষেধক আছে কিনা,কাটাকুটি হয়ে যাবে খ'ন! 😀

                আমার বিশ্বাস-অবিশ্বাসে কিছু যায় আসেনা, ২০১০ সালে বসে যদি আপনি এই মাছি-তত্ত্ব বিশ্বাস করেন,আপনার জন্য আগেই বলেছি-গুডলাক! :boss:

            • আমার এখন সময় নেই। কিন্তু আগামি এক মাসের মধ্যে কোনো এক সময়ে আমি বিস্তারিত একটা কমেন্ট লিখব।তখন সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। এটা শুধু মাসরুফের কমেন্ট নিয়ে নয়, এখানে সবার লেখা পড়ে।
              মুহম্মদ উটে চড়ে ঘুড়তেন, সে জন্য আমরা তো কেউ তা অনুকরন করি না। উটের দেশেও নয়। কারন এর চেয়ে ভাল বাহন আমাদের আছে। উনি বলেও যাননি আমাদের উটে চড়েই চলাচল করতে হবে। তার জীবনের হাজারটা অনুকরনিয় কাজ অননুকরনিয়ও হয়ে যাচ্ছেনা এ কারনে এ যুগে। যাই হোক, বিস্তারিত পরে লিখব। ভাল থেকো। আমার এ ছোট কমেন্টে যেহেতু আমি পুরোপুরি লিখিনি, তাই এর প্রত্যুত্তরে এখনি কোনো যুক্তি না সাজানোই ভাল।

  11. mahmudhasan এর ব্লগ
    পুরো নাম : mahmud hasan
    ক্যাডেট নাম : mahmud
    ক্যাডেট নম্বর : 1120
    ব্যাচ : 22
    কলেজ : bccc!!!!??????
    অবস্থান সময়কাল : 1999-2005

    🙁 🙁 🙁 🙁 🙁

    মাহমুদ হাসান (২০০১-২০০৭)
    মে ১০, ২০১০ at ১০:১৬ অপরাহ্ন |

    ভাই,
    আপনি যদি ১৯২৮ সালের আগে বাস করতেন,এবং যদি তখন কার যুগের scientist দের অনুসরন করতেন,

    🙁 🙁 🙁 🙁 🙁
    এইরকম মারাত্মক ভুল তো কোনো ক্যাডেটের করার কথা না? কাহিনী কি?
    কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

      অতিথিরা মন্তব্য করতেই পারেন-এবং অতিথি হিসেবেই পারেন।কিন্তু কেউ যদি কোন ক্যাডেটকে ইমপার্সোনেট করে এবং মিথ্যা পরিচয় দেয় তবে সেটা গর্হিত অপরাধ।কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়টির দিকে নজর দিতে বিনীত অনুরোধ করছি।

  12. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    শহীদুল আহসানের এই পোস্ট এবং রায়হান আবীরের সর্বশেষ পোস্টে এরপর আশা করি নতুন করে কেউ কোনো মন্তব্য করবেন না। একজন সিনিয়র ভাই হিসাবে সবার কাছে এটা আমার অনুরোধ।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"