অভিমানী ‘তনু’ ও ‘তুবা’

(লেখাটি কয়েকদিন আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস হিসেবে দিয়েছিলাম। পরে আমার দীর্ঘদিনের রুমমেট রাজীবের কথায় ক্যাডেট কলেজ ব্লগে তুলে দিলাম। পুরোটাই আমার ব্যক্তিগত মত, আমি কাউকে ইঙ্গিত করে লেখিনি।) 

১. কয়েকদিন যাবতই ভাবছি আমাদের ‘তনু’ ও ‘তুবা’র কথা। আজ হঠাৎ করেই লিখতে ইচ্ছে হলো। কারন আজকে ফেসবুকে আমার নিউজ ফিডে দেখলাম আগামীকাল আমার শ্যালক শাহবাগ যাচ্ছেন – তনু হত্যার প্রতিবাদ জানাতে। ওর সঙ্গে যখন কথা বললাম, সে জানালো তার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়েও সে আজ মানব বন্ধন করেছে তনু’র জন্য। অবাক হলাম এই ভেবে যে আমার শ্যালকের মতো একজন বাবা-মা’র একান্ত বাধ্যগত সন্তানও আজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে মিছিল করেছে, মানব বন্ধন করেছে। তার কাছে যখন তনু হত্যাকান্ডের তদন্তের আপডেট জানতে চাইলাম – স্পষ্টই দেখতে পেলাম তদন্ত নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভূমিকায় সে অনেক ক্রদ্ধ ও হতাশ। আমার শ্যালকের স্বভাবসূলভ বৈশিষ্ট্যের সাথে এই ধরনের অভিব্যক্তি খুব একটা যায়না। ছেলেটি তার মা-বাবা ও বোনের বাইরে কিছু ভাবতে পারে না। তনু হত্যাকান্ড নিয়ে তার এই অভিব্যক্তি আমাকে খুব স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ওর মতো হাজার হাজার তরুন-তরুনী আজ রাস্তায় নেমে তনু হত্যার বিচার চাইছে সরকারের কাছে। এই অভাগা জনপদে শত শত বছর ধরে এদের মতো তরুনরাই সূর্য্যরাঙা ভোর এনেছে।

২. আমি তনু’র জন্যে লিখছি। তনু আমার বোন। আমার আরেক বোন তুবা। তনু পড়তো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ায় আর তুবা পড়তো ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজে। দু’জনই আমাদের ছেড়ে চলে গেছে খুব কষ্ট পেয়ে। একজন হারিয়ে গেল তার তারুন্যের সময় আর একজন চলে গেল মাত্র ১৩ বছর বয়সে। একজনের ধর্ষন পরবর্তী হত্যাকান্ড আর অন্য জন করলো আত্মহত্যা। দু’টি ঘটনাই ঘটলো সামরিক এলাকায়। এই তনু আর তুবা আজ ১৬ কোটি মানুষের বোন। আমরা তাদের জন্য একটি নিরাপদ দেশ, একটি নিরাপদ সমাজ নিশ্চিত করতে পারিনি। এখন ভয় হচ্ছে তনুর প্রতি যে নৃশংস্য অন্যায় হয়েছে তার বিচার কি আমরা এই দেশের মাটিতে সম্পন্ন করতে পারবো? এই যে ন্যায়বিচার নিয়ে আমাদের সংশয় আর হতাশা – এর জবাবে কী বলবে আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র। একটি স্বাধীন দেশে, সেনানিবাসের ভিতরে, একজন সেনা কর্মচারীর (যদিও তনুর বাবা একজন সিভিলিয়ান কর্মচারী বলে শুনেছি) সন্তান ধর্ষনের পরে নৃশংস্যভাবে খুন হয়ে যাবে? তাও আবার তাদের সেনানিবাসের কোয়ার্টারের খুব কাছেই !? আমি এই মৃত্যুর ঘটনাটি মেনে নিতে পারছি না। আর মাত্র ১৩ বছর বয়সে কী অভিমানে তুবা আত্মহত্যা করলো?

৩. আমি তনু হত্যার বিচার চাই আর তুবা’র অভিমানের কারন জানতে চাই। আমি তনুর হত্যাকান্ডের এমন বিচার চাই যাতে অপরাধীরা বিভৎস সাজা পায়। শুনেছি সেনানিবাস থেকে দেশের মিডিয়াগুলোকে একটু চোখ রাঙানো হয়েছে যাতে এ সংক্রান্ত খবরগুলোকে একটু কম গুরুত্ব দেয়া হয়।

৪. তনু হত্যার পর দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্যোশাল মিডিয়াতে আন্দোলন চলছে তুমুল। কেউ বুঝে করছে আর কেউ না বুঝে। তবে যাই হোক, আমার ভালো লাগছে যে তরুনরা বিপ্লবী হয়ে উঠছে, প্রতিবাদের ভাষা রপ্ত করছে। এদেশে সত্য ও ন্যায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে তরুনরাই সবসময় আগে থেকেছে এবং থাকবে।

৫. শুনেছি পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে তনুর মৃত্যুর পূর্বে ধর্ষনের কোনো আলামত পায়নি। আমি কোথাও এখন পর্যন্ত পুলিশের এই স্টেটমেন্ট নিজে পড়ে দেখিনি বা কোনো টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে শুনিনি। আমি শুনেছি এমন ব্যক্তির কাছ থেকে যিনি এই আন্দোলনে সংক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। আমার এই পরিচিত ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তিনি কখনও তাজিয়া মিছিল দেখার জন্য মিরপুর, মোহাম্মদপুর বা পুরান ঢাকায় যাননি। এই ব্যক্তি অত্যন্ত ঘরকুনো এবং পরিবারের বাইরে কিছু ভাবতে পারেন না। অথচ আমাকে তনু হত্যাকান্ডের তদন্তের আপডেট দেয়ার সময় তাকে বিচলিত মনে হচ্ছিল, সেই সঙ্গে তার চেহারায় ছিল রাজপথে নেমে এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চরম স্পৃহা ! আজকালকার বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ধরনের অভিব্যক্তি দেখতে পাওয়াটা একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা, অন্তত আমার কাছে এমনটাই মনে হয়।

৬. সেনানিবাসগুলো দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকাগুলোর মধ্যে একটি। কুমিল্লা সেনানিবাস দেশের অন্যান্য সেনানিবাস ও ঘাঁটির মধ্যে একটি অত্যন্ত কৌশলগত ও সুরক্ষিত এলাকা। এখানে ধর্ষণ পরবর্তী একটি হত্যাকান্ড ঘটার সুযোগ থাকবার কথা নয়। উপরন্তু তনুর বাবা সেনানিবাসেরই একজন কর্মী (যদিও সিভিলিয়ান ও নি¤œপদস্থ্য)। মৃত তনু’র লাশটি তাদের বাসার কাছাকাছি একটি স্থানে পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে আমাদের দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিচলিত এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ – এটি আমার সরল বিশ্বাস। এই হত্যাকান্ডের তদন্ত দেশের সিভিল প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা যেমন পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন শৃংখলা বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিজিএফআই, এমআই-সহ অন্যান্য সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চয়ই উদঘাটন করবে। বিশেষ করে সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী এই ঘটনার সঠিক কারন বিশ্লেষন করবে বলে আমি মনে-প্রানে বিশ্বাস করি। তবে, সেই তদন্ত প্রতিবেদন সেনানিবাসের বাইরে আসবে কি না তা নিয়ে অনেকের দ্বিমত ও সংশয় থাকতে পারে।

৭. এ মুহুর্তে দেশের একজন নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা না দিতে পারার ব্যর্থতা সরকারকে নিতে হবে বলে আমি মনে করি (বিশেষ করে যখন এ ধরনের একটি নৃশংস্য হত্যাকান্ড যখন সেনানিবাসের মতে একটি সুরক্ষিত স্থানে সংঘঠিত হয়)। সঠিক তদন্ত হলে হয়ত তনু হত্যার বিস্তারিত কারন জানা যাবে। আমি অবশ্য এই হত্যাকান্ডের সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিচার নিশ্চিত করার কোনো অলীক স্বপ্ন দেখি না। আমাদের দেশে ৯০ দশকে শারমিন রীমা হত্যার সাথে জড়িত মুনির-খুকু’র বিচার হওয়া ছাড়া নিকট অতীতে এমন ইতিবাচক কোনো দৃষ্টান্তের কথা আমি মনে করতে পারি না। ছোটোবেলা থেকে আমাকে কেউ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র বলে বিশেষায়িত করেনি। তাই অনেক ক্ষেত্রেই আমার ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক।

৮. সেনাবহিনী আমাদের দেশের সম্পদ। এখানকার ছোট-বড়-মাঝারি সব সদস্যই আমাদের কারো ভাই-বোন-চাচা-মামা অথবা খালু। এই সংস্থার লোকজন মহাজগতের অন্য কোনো স্থান থেকে আসেননি। তাদের দিকে তীর্যকভাবে তাকানো কিংবা তাদের বিষয়ে অন্য কোনো ধরনের ধারণা রাখা বোকার কাজ। যেহেতু এটি একটি হত্যাকান্ড, এবং তা সংঘঠিত হয়েছে সেনানিবাসের ভিতরে, তাই সেনাবাহিনীই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষন করে প্রকৃত অপরাধীকে প্রচলিত আইনের কাছে সমর্পন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। দেশের মানুষ আমাদের পেশাদার এই বাহিনীর কাছে এই প্রত্যাশাটুকু করতেই পারে। সশ¯্র বাহিনীর ভাবমূর্তির জন্য এবং সরকারের প্রতি জনগনের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই বলে আমার মনে হয়।

আমি যে কোনো মূল্যে ‘তনু’ হত্যার বিচার চাই। আমি ‘তুবা’ আত্মহত্যার কারন জানতে চাই।

৯. তবে এত কিছু বলার পর এখন একটি প্রশ্ন খুব বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে। তনু’কে কী সেনানিবাসের ভিতরেই ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল? এই ঘটনার পিছনে যে-ই থাকুক না কেন তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় তা বেরিয়ে আসবে, আসতেই হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি যে বিষয়টি নিয়ে আমাদের আরো ভাবা উচিত তা হচ্ছে সেনানিবাসের অভ্যন্তরের নিরাপত্তা। যদি তনু সেনানিবাসের ভিতরেই আক্রান্ত হয়ে থাকে তবে তা ছিল একটি ভয়াবহ ঘটনা এবং তা ঘটেছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থার দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে।

আর ভাবতে পারছি না।

মার্চ ৩১, ২০১৬

 

৩,২০৯ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “অভিমানী ‘তনু’ ও ‘তুবা’”

  1. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    সেনাবহিনী আমাদের দেশের সম্পদ। এখানকার ছোট-বড়-মাঝারি সব সদস্যই আমাদের কারো ভাই-বোন-চাচা-মামা অথবা খালু। এই সংস্থার লোকজন মহাজগতের অন্য কোনো স্থান থেকে আসেননি। তাদের দিকে তীর্যকভাবে তাকানো কিংবা তাদের বিষয়ে অন্য কোনো ধরনের ধারণা রাখা বোকার কাজ। যেহেতু এটি একটি হত্যাকান্ড, এবং তা সংঘঠিত হয়েছে সেনানিবাসের ভিতরে, তাই সেনাবাহিনীই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষন করে প্রকৃত অপরাধীকে প্রচলিত আইনের কাছে সমর্পন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। --
    তোমার এ বিশ্বাসটুকুর উপর আমার আস্থা আছে, দেশবাসীরও রাখা উচিত। আপন দেশের সেনাবাহিনীকে ছোট করে সে দেশকে বা দেশের সরকারকে বড় করা যায় না। কারণ সেনাবাহিনী রাষ্ট্র ও সরকারের অনুগত। সরকারের উচিত, এ ব্যাপারে স্পষ্ট ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এবং আমার বিশ্বাস, সরকার সেকাজটুকু করে চলেছে, যদিও হয়তোবা সেটা সাধারণের কাছে স্পষ্ট ও স্বচ্ছ নয়।
    অন্যান্য পেশার লোকজন যেভাবে নিজেদেরকে নায্য অন্যায্য সুরক্ষা দিয়ে চলে, আমার মনে হয় সেনাবাহিনী সে তুলনায় কমই করে। সেজন্য সেনাবাহিনীর অপরাধী সদস্যগণ যতটা ত্বরিত বিচার ও শাস্তির সম্মুখীন হয়, অন্যান্য পেশায় তুলনামূলকভাবে ততটা নয়।
    এই সংস্থার লোকজন মহাজগতের অন্য কোনো স্থান থেকে আসেননি -- একদম ঠিক কথা। সেনানিবাস দেশ থেকে কোন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। দেশের অন্যান্য স্থানের মত এখানেও অপরাধ সংঘটিত হয়/হতে পারে। ৩১ বছর সেনানিবাসে কাটিয়েছি, সেখানে অপরাধ সংঘটিত হতে যেমন দেখেছি, শাস্তি হতেও তেমন দেখেছি। তবে খুন ধর্ষণের মত মারাত্মক অপরাধ কদাচিৎ ঘটে থাকে, ঘটলে দেশের বেসামরিক আদালতে এসবের বিচার হয়।
    শুধু সেনানিবাসের অভ্যন্তরে সংঘটিত হওয়ার কারণে (যদি তা আদৌ হয়ে থাকে) এ মৃত্যুকে নিয়ে এতটা আলোচনা কেন হচ্ছে, সে কথাও ভাবতে হবে।
    তনু ও তুবা, উভয়ের মৃত্যু দুঃখজনক। অসময়ে দুটো তরুণ প্রাণ ঝরে গেল। এ মৃত্যুর সঠিক তদন্ত অবশ্যই হওয়া উচিত এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। এটা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করে সরকার। সরকার তার আপন বিচক্ষণতায় এ দায়িত্ব পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস।

    জবাব দিন
    • Zobaed (90 -94)

      ধন্যবাদ ভাইয়া, আপনার কমেন্টের জন্য। আমি ভীষন আপ্লুত আপনার কমেন্টটি পড়ে কারন ক্যাডেট কলেজ ব্লগে এটি আমার প্রথম লেখা এবং আপনার কাছ থেকে পাওয়া কমেন্টটি আমার জন্য প্রথম। আন্তরিক ধন্যবাদ। আমি আসলে এই লেখাটি শুরু করেছিলাম একটি ভিন্ন উদ্দেশ্য থেকে। ঘটনাটি যখন ঘটে তখন আমি পেশাগত কাজে দেশের বাইরে ছিলাম। সেখানে এক ভারতীয় সহকর্মীর কাছ থেকে শুনি এই ঘটনার কথা। এর ঠিক আগের দিনই রাতে একটি রেস্টুরেন্টে থাওয়ার সময় তাকে আমি আমার ক্যাডেট কলেজের গল্প বলছিলাম। পওে এসব হত্যা বা আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করে ওই ভারতীয় কলিগ আমাকে কিছুটা তীর্যকভাবেই আমার সেনাবাহিনী সম্পর্কে কথা বললো। আর আমি দেখেছি দেশের বাইরে গেলে দেশকে কত ভালোবাসি তা হাড়ে হাড়ে বুঝি। যা হোক, দেশে ফিরে এসে দেখি ঢাকা কেন্দ্রীক কিছু লোকজন তনু হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে একটু যেন বেশি উত্তেজিত। যে করেই হোক সেনাবাহিনীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাবেই। শুধুমাত্র সামরিক বাহিনী জড়িত বলেই আন্দোলনকারীদের উত্তেজনা একটু বেশি। সেনাবাহিনীকে হেয় করার একটি প্রচেষ্টা এদেশে সবসময়ই থাকে। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে আমি এই আন্দোলনে অন্য রকম একটি গন্ধ পেয়েছিলাম। তাই ভেবেছিলাম বিষয়টি সেনাবাহিনী সত্য উদঘাটন করে সবার সামনে তা তুলে ধরবে যাতে যারা সেনাবাহিনী নিয়ে গন্ধ খুঁজে বেড়ায় তারা যেন এমন ভূমিকায় আর অবতীর্ন না হতে পারে।

      জবাব দিন
  2. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    ব্লগে স্বাগতম।
    নাম টা বাঙলায় করে দিস।
    আর লেখার বিষয় নর্বাচন করে দিস।
    সিসিবি লেখালেখি শুভ হোক।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  3. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    আর এক বছর কমাইয়া দিলি ক্যান?
    দুই তো ১৯৯৫ পর্যন্ত ছিলি।
    একটা সুন্দর ছবি দে।
    আর তোর পরিবেশ সংক্রান্ত লেখা, কাজকর্ম এখানেও শেয়ার দিস।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  4. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    আমার বউ জিজ্ঞাসা করছিলো ঘটনা কি?
    আমি বললাম জানি না।
    সত্যি বলতে ক তনু আর তুবা নিয়া এতো বেশি সত্য-মিথ্যা মার্কেটে ছড়াইছে যে বলার না।

    তরুণ সমাজ তনুর পাশাপাশি দেশে সকল ধর্ষণের বিরুদ্ধে দাড়াক।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  5. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    পুনরায় ময়না তদন্ত ও রিপোর্ট নিয়ে নাদিয়া ইসলাম এর একটা পোষ্ট তুলে দিচ্ছি,

    কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডক্টর কামদা প্রসাদ সাহা এবং ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডক্টর শারমিন সুলতানা বলছেন, ২-৫% ময়নাতদন্তে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায় না।
    কথা সত্যি।

    তা যেই তনু মারা গেছেন ২০ মার্চ বা তারও আগে, তার ময়নাতদন্ত যদি আজকে করেন, তাইলে ২-৫% ক্যানো, ৯৯% সম্ভাবনা আপনি মৃত্যুর কারণ কিছুই খুঁইজা পাবেন না। যা পাইতে পারেন, তা হইলো আপনার মদ গাঞ্জা ও এল-এস-ডি খাইয়া ফরেনসিক সায়েন্স পাশ করার জাল সার্টিফিকেট।

    আমি একজন ফরেনসিক সায়েন্টিস্ট। কিন্তু ফরেনসিক সায়েন্স না পড়লেও শিক্ষিত মানুষজন টিভিতে ক্রাইম সিরিজ দেইখা ও থ্রিলার নভেল পইড়া জানেন, ভ্যাজাইনা এবং (ইজাকুলেশানের প্রমাণ পাওয়া না গেলে) আন্ডারওয়্যার থিকা রক্ত, সিমেন এবং/অথবা থুতুর “সোয়াব” সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ধর্ষণের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সংগ্রহ ও নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় স্টোর করার কথা। রক্তের টক্সিকলজি রিপোর্টে দেরি হইলে সমস্যা নাই, কিন্তু লাশ কবর দেওয়ার আগেই তা করতে হবে।

    ধর্ষণ (বা সম্ভাব্য ধর্ষণ) কেইসে প্রথমেই আপনার সিমেন কনফার্মেটরি টেস্ট করার কথা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিকভাবে ‘এ্যাসিড ফসফেট’ পরীক্ষার মাধ্যমে এই টেস্ট করা হয়। অত্যন্ত সহজ টেস্ট, একদমই ব্যায়বহুল না, এমনকি বাড়িতে বইসা যেকোনো কাপড়ে প্রোটিন সনাক্ত করার জন্য আপনি এই টেস্ট করতে পারেন। সিমেন অর্থাৎ প্রোটিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তখন আপনি রাপিড স্টেইন আইডেন্টিফিকেশানের মাধ্যমে কনফার্মেটরি টেস্ট এবং সেইখানে পসিটিভ রেসাল্ট পাইলে পরবর্তীতে ডি-এন-এ প্রোফাইলিং এর মত ব্যায়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ পরীক্ষায় যাইতে পারেন। তার আগে না।

    মেয়েদের ভ্যাজাইনায় ইজাকুলেশানের পর ‘নন-মোটাইল’ স্পার্ম সাত দিন পর্যন্ত টিকা থাকতে পারে। ভ্যাজাইনার এ্যাসিডিক পরিবেশের কারণে ‘মোটাইল’ স্পার্ম মাত্র চার থিকা ছয় ঘন্টা বাঁইচা থাকে ভ্যাজাইনাল ক্যানালে। তবে ‘নন-মোটাইল’ স্পার্ম দিয়াও ধর্ষক সনাক্তকরণ সম্ভব। মানে যদি আপনার ইচ্ছা থাকে, তাইলেই। এমনকি পুরুষের ভ্যাসেকটমি করা থাকলে বা বাইরে ইজাকুলেশান হইলে বা ইজাকুলেশান না হইলে ও কনডম ব্যাবহার হইলেও ফ্লুরোসেন্স ইন সিটু হাইব্রিডাইজেশান (ফিশ)-এর মাধ্যমে ভ্যাজাইনাতে পুরুষের ‘এপিথেলিয়াল সেল’ ধর্ষণের তিন সপ্তাহ পরেও সনাক্ত করা সম্ভব, মানে সরকার যদি বিশেষ কাউরে বাঁচাইতে না চান আরকি।

    তনুর প্রথম ময়নাতদন্ত হয় ২০ মার্চ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এই সময় ময়নাতদন্ত ও লাশের পোস্টমর্টেমে বেশ কিছু অসঙ্গতি ছিলো বইলা তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পক্ষ থিকা জানানো হয়। পুলিশ লাশের গায়ের জখম থিকা ডি-এন-এ নমুনা ও লাশ থিকা অন্যান্য এভিডেন্স সংগ্রহে প্রক্রিয়াগত ভুল করায় কেইস এরপর ২৫ মার্চ ডিবিতে নিয়া যাওয়া হয়। এবং দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত শুরু হয় ৩০ মার্চ, লাশ কবর থিকা তোলার পরে।

    এখন আমার প্রশ্ন হইতেছেঃ

    ১। ২০ মার্চ লাশ পাওয়ার সাথে সাথে কুমিল্লা মেডিক্যাল যেই পোস্টমর্টেম করে, তাতে যদি স্পার্মের (বা রক্তের ও থুতুর) অস্তিত্ব পাওয়া না যায় তাইলে দ্বিতীয়বার কবর থিকা লাশ তোলার দরকার কী? কার জন্য নাটক সাজাইতেছেন সরকার?

    ২। লাশে যদি স্পার্মের অস্তিত্ব পাওয়া যায় এবং তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়, তাইলে সংরক্ষিত সেই স্যাম্পল থিকাই ডি-এন-এ প্রোফাইলিং সম্ভব। লাশ ক্যানো দ্বিতীয়বার তোলা হইলো?

    ৩। প্রথমবার যদি প্রক্রিয়াগত ভুল হয়, তাইলে তা সংশোধণ করার জন্য ১০ দিন সময় নেওয়া হইলো কী কারণে, যেইখানে আপনি জানেন, ১০ দিন পরে লাশের শরীরে আপনি কোনো ডি-এন-এ এভিডেন্স পাবেন না?

    ৪। ভিকটিমের হাতে পায়ে জখমের দাগ প্রাথমিক পোস্টমর্টেমেই চোখে ধরা পড়ার কথা। প্রাথমিক পোস্টমর্টেমে দাগের উল্লেখ আসে নাই, প্রোটিনের উল্লেখ আসে নাই, স্পার্ম সেল পাওয়া যায় নাই, এপিথেলিয়াল সেল পাওয়া যায় নাই, তো পাওয়াটা গেছে কী? ধর্ষণের কেইস, আপনি আসল জিনিস বাদ দিয়া করতেছেন টক্সিকলজি টেস্ট। এরপর রক্তে ‘বিষ’ পাওয়া যায় নাই তাই ‘হাওয়া’ খাইয়া তনু মারা গেছেন এমন রিপোর্ট লিখা লাশ কবর দিয়া দেওয়ার অনুমতি দিলেন। বাহ! আপনি কোন্‌ কলেজ থিকা পাশ করছেন ভাইজান? সরকার আপনার মামা চাচা কী লাগে গো?

    ৫। ক্রাইম সিন ক্যানো প্রটেক্ট করা হয় নাই? এলাকার ২,২০০ ফিট এলাকা এখনো অরক্ষিত ক্যানো? আপনি সিন প্রটেক্ট করবেন না, শেয়ালের কাছে মুরগী বর্গা দিয়া, সিনে গরু ঘোড়া আর্মি, বি-ডি-আর, ডি-বি, র’, মোসাদ, সি-আই-এ চড়তে দিয়া বলবেন, এভিডেন্স পান নাই, তা তো হবে না, নাকি?

    ৬। পোস্টমর্টেম একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক ডিপার্টমেন্ট যদি এত অযোগ্যই হন, তাইলে তাদের এই চাকরিতে রাখা হইছে ক্যানো? তারা নিজেরাই বা ক্যানো ইস্তফা দিতেছেন না? উন্নত দেশগুলিতে দ্বিতীয় পোস্টমর্টেম তখনই করা হয়, যখন কেইসের সায়েন্টেফিক অফিসারদের বা করোনারদের ভিকটিমের মৃত্যুর কারণ নিয়া একাধিক পরষ্পরবিরোধী বক্তব্য থাকে।

    ৭। তনুর গোসল করাইয়া কবর দেওয়া লাশের দ্বিতীয় পোস্টমর্টেমে আপনি ট্রেইস এভিডেন্স কিছু পাবেন না এইটা পাগলেও বোঝেন। প্রক্রিয়াগত ভুল শোধরানোর জায়গা ‘১০ দিন পর’ দ্বিতীয় পোস্টমর্টেম না। এখন ‘ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় নি’ মন্তব্য কার জন্য করতেছেন? জনগণ আপনার মত ঘাস (এবং গাঞ্জা অর্থেও) খায় ভাবেন? আপনি কি আদৌ জানেন, শরীরে সেমিনাল কন্সটিটিউয়েন্টস পাওয়ার অর্থ সোজাসাপ্টা ধর্ষণ, সেই বিষয়ে সন্দেহ নাই, কিন্তু না পাওয়ার অর্থ ধর্ষণ ঘটে নাই, তা না? জানেন নাকি?

    তনুর বাবা মায়ের জন্য শুভকামনা থাকলো। তনু সহ ভবিষ্যতে আরো যারা ধর্ষিত হবেন, তাদের ও তাদের পরিবারের সবার জন্য শুভকামনা থাকলো। অসৎ প্রশাসনের দেশেও আপনি বাঁইচা থাকতে পারেন, অসৎ সরকারের ছায়াতেও আপনি টিকা থাকতে পারবেন, কিন্তু যেই দেশের ডাক্তাররা অসৎ, যেই দেশের বিজ্ঞানীরা অসৎ, সেই দেশে আপনি বাঁচতে পারবেন না। বাঁচার অবশ্য আপনার দরকারটাই বা কী? সরকার এবং সরকারের আর্মি বাঁইচা থাক, উনারা একলাই বাংলাদেশের সম্পত্তি ভাগ কইরা নিক, সুন্দরবন কাইটা হাডুডু খেলুক, চলেন, আমি আপনি লাফ দিয়া বুড়িগঙ্গায় কী বঙ্গোপসাগরে ডুইবা মরি। চলেন।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।