ফেসবুক [চোর] হইতে সাবধান!!

তা বেশ কিছুদিন যাবৎ খেয়াল করতেসিলাম যে কি সুন্দর ফেসবুকে সবাই সবার “ranking” করতেসে। কে কারে কত “লাইক” করে, কার সঙ্গে কার প্রেমের “চান্স” (!) বেশী – কার কোন ছবিটা কত সুন্দর, কার প্রথম পোস্ট কোনটা আর কবে… নাইলে অমুক মাইয়ার তমুক ভিডিও দেইখা তার বাপের ‘রি-এ্যাকশ্‌ন’ – মানে মাশাল্লাহ মাশাল্লাহ, দুনিয়া তো আসলেই চরম হইয়া গেসে!!

যাই হোক, ভাবতে খারাপ লাগে, যখন পরে শুনি যে কারও প্রোফাইল “হ্যাক” হইসে, বা আর লগিন করতে পারে না, কিম্বা chatbox-এ কারও “ভিডিও কনফারেন্সের” দাওয়াত পাই – ভাবি, যে ক্যান রে বাপ! ক্যান তোরা উল্টাপাল্টা জিনিসে ক্লিক মারিস? আর ক্যান পরে হুদাই ফেসবুক, আর জুকা মামারে গাইলাস? নিজেদের একটু সেন্স নাই??

যাই হোক, আমি কোন কম্পিউটার জ্ঞানী না, তাই আমার কথা কেউ শুনবেও না – তাই সকলের একটু নজরে আনার জন্য পুরা হাফিংটন পোস্ট (Huffington Post) থেইকা একটা আর্টিকেল কপি মাইরা এইখানে পেস্ট দিলাম। (না পুরা পেস্ট দেই নাই – একটু এডিট মারসি, একটু মনের মাধুরী মিশাইসি!)

আমি তো আবার বিশিষ্ট অনুবাদক  😉 – এই কাজটাই মোটামুটি পারি! পড়বেন, অন্যকে পড়াবেন; কারণ আপনি নিজে সাবধান না হলে পরে আপনার দেখাদেখি অন্য কেউও হয়তোবা ফাঁদে পা দিবে, যে জিনিস এই ‘ফেসবুক চোরেরা’ চায়!

প্রথম দিকের রুক্ষ ভাষাটুকু মাফ করবেন  ;;)

_____________________________________________

বেশ কিছুদিন হল ফেসবুক তার সিকিউরিটি ব্যাবস্থা আরেকটু জোড়ালো করেছে, যাতে স্প্যামারদের কাছ থেকে একটু হলেও রেহাই পাওয়া যায়। কিন্তু তা খুব যে কাজে আসছে বলে মনে হয় না! কারণ যারা চুরিতে পারদর্শী, তারা সবসময়ই কোন না কোন উপায়ে হাতটান দিয়েই ছাড়বে!

এখন আমাদের মধ্যে সবাই নিশ্চয়ই কমবেশি ফেসবুকে বন্ধুদের আজব কিছু পোস্ট বা মেসেজ পেয়েছি – অনেকে হয়তোবা এমন পোস্ট দেখে চিন্তায়ই পড়ে গিয়েছিলেন, “দোস্ত আমার আইজ কোন পথ ধরল??” আবার ইদানীং বেশ “চরম” একটা এ্যাপ (app) বেশ কিছু বন্ধুদের কাছে অনেক ‘সুনাম’ (!) পাচ্ছে – অন্তত তাদের অবিরত wall post  তাই বলে! “কে আপনার প্রোফাইল দেখল?”, “কে আপনাকে সবচেয়ে বেশি ‘লাইক’ করে?”, “কার সাথে আপনার বিয়ে (!) হবে?” ইত্যাদি ইত্যাদি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ প্রশ্নের জবাব দিতে এসব এ্যাপ-এর যেন কোন জুড়ি নাই! এখন হয়তো অনেকেই এইসব ভুয়া ফাঁদে পা দেন না (আসলেই?), কারণ তারা সবাই বুঝে যে এইসব জিনিসের ‘রেজাল্ট’এর কোন ‘বেল’ নাই। কিন্তু আবার কিছু complicated, অর্থাৎ মহা-জটিল ফাঁদ আছে, যেখানে অনেক সাবধান থাকলেও ভুলে পা হঠাৎ ফসকে যেতে পারে!

এমন অপরিচিত, এবং ‘অতিপরিচিত’ ৯টি “ফেসবুক মরণফাঁদ” নিয়েই লিখলাম।

১। ক্লিক-ছিনতাই (Clickjacking):

এসব ‘ছিনতাইকারী’রা সাধারনত ফেসবুক ব্যাবহারকারীকে প্রথমে একটি পেজ, বা যেকোন কিছু কে ‘লাইক’ করতে বলে, এবং তারপর তাদেরকে একটি ‘কোড’ কপি করে ব্রাউজারের এ্যাড্রেস-বারে পেস্ট করতে উদ্বুদ্ধ করে, যার পরিবর্তে তাকে কোন ‘উপহারের’ আশা দেখানো হয়। একবার কেউ এই ‘অকাম’ সেরে ফেলার পর বাকি কাজ সেই ছিনতাইকারীর – যে ঐ ব্যাবহারকারীর এ্যাকাউন্ট ব্যাবহার করে দ্রুত তার অন্যান্য বন্ধুদের প্রোফাইলেও একই লিঙ্ক স্প্যাম হিসেবে পাঠাতে থাকে – বিশেষ ‘উপহার’এর রূপে অবশ্যই। এদের মধ্যে কেউ ঐ লিঙ্কে ক্লিক করলে আবারো একই ‘উপহার ছড়াছড়ি’র পুনরাবৃত্তি! এই যেমন কিছুদিন আগের সবচেয়ে ‘জনপ্রিয় উপহার’ (!) ছিল বিন লাদেনের মৃতদেহের ছবি ও ভিডিও’র লিঙ্ক!

২। ভুয়া জরিপ ও কুইজ:

ফেসবুকে কোন লিঙ্ক, যেমন কোন এ্যাড-এ ক্লিক করার পর যদি উপরের ছবির মত কোন ‘জরিপ’ বা ‘কুইজ’ এর মুখোমুখি হন, সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে ঐ জরিপের/কুইজের পেজটি বন্ধ করে দেওয়া। কারণ, বেশ কিছু হাস্যকর প্রশ্নে ভরপুর এমন একটা জরিপ বা কুইজ পুরোপুরি শেষ করলে এর প্রস্তুতকারক স্প্যামারটি একটা ‘কমিশন’ পায়… যা এক দিক থেকে অবৈধ (সোজা বাংলায়, আপনারে ঠগাইলো!)! আবার অনেক কুইজ শেষে আপনার স্কোর জানাতে আপনার কাছে আপনার মোবাইল নাম্বারটা চাবে – এবং যেই আপনার নাম্বারটা ঐ পেজে টাইপ করে এন্টার দিবেন, দেখবেন মাস শেষে ঐ নাম্বারে ঠিকই একটা এক্সট্রা বিল আসছে, যদিও আপনার এই গুরুত্বপূর্ণ (!) পরীক্ষাটির মার্ক্‌স আপনি এখনও পাননি! আর তাছাড়া, আপনার অজান্তে (ঠিক অজান্তে না আসলে!) ঐ ‘চোর’টার কাছে আপনার নাম্বারটা সেভ হয়ে গেল।

৩। বিষ-টোপ গেলা! (Phishing):

এইসব ভয়াবহ নোংরা ‘জেলেরা’ আপনার অনলাইনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের শিকার করে। এরা এমনই ধূর্ত, যে সামান্য (!) এই ফেসবুক এ্যাকাউন্ট থেকেই আপনার ব্যাঙ্ক এ্য্যাকাউন্ট ছিনতাই করে ফেলতে পারে! এখন খুবই স্বাভাবিক তারা ফেসবুক দিয়েই আক্রমন করতে চাবে, কারণ ব্যাঙ্ক ইত্যাদির ওয়াবসাইট-গুলো ভয়াবহ পর্যায়ে সুরক্ষিত – তাদের ভাংতে যা দরকার তা হল আপনার সামান্য কিন্তু বেশ গোপন কিছু তথ্য – আপনার নাম, জন্মদিন ইত্যাদি – এবং অবশ্যই – আপনার ব্যাবহৃত পাস্‌ওয়ার্ড; এবং এই শিকারের যাত্রা শুরু এই ফেসবুক থেকেই! তো সাধারনত যা হয়, তা হল এই ‘জেলে’রা তাদের শিকারের জন্য এমন একটা পেজ বানায় যা দেখতে অবিকল আপনার সেই পরিচিত ফেসবুক লগিন পেজটার মত। এখন যেই আপনি একে আসল পেজ মনে করে ই-মেইল আর পাস্‌ওয়ার্ড দিয়ে এন্টার দিয়েছেন – সঙ্গে সঙ্গে সে তথ্য ঐ ‘জেলে’র কাছে চলে গেছে – অর্থাৎ সে টোপ ফেলেছে, আর আপনি সত্যিকারের খাবার ভেবে তা গিলে আটকে গেলেন! উপরের ছবিটা উদাহরণ মাত্র – এটা কিছুই না! “পিশিং” আসলেই জঘন্য এবং ভয়াবহ! সবসময় এ্যাড্রেস-বারে কি লেখা (অর্থাৎ URLটা) ভালমত পড়ে নিবেন – এরচেয়ে আসলেই ভাল কোন সমাধান আপাতত নাই!

৪। ভুয়া ফেসবুকে মেসেজ বা ই-মেইল:

স্বয়ং ফেসবুক কর্তৃপক্ষই এসব দুই নাম্বার মেসেজ থেকে দূরে থাকতে বলে – যেসব মেসেজে ফেসবুক বা মার্ক জাকারবার্গের সূত্র দিয়ে বলা হয় যে “ফেসবুক তার ব্যাবহারকারী সংখ্যা ছাটাই করবে – তাই এখনই ‘অমুক’ কাজটি করুন!” ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রেই এ্যাকাউন্ট ‘বাঁচানোর উপায়’ হিসেবে আপনাকে শীঘ্রই অমুক সাইটে গিয়ে আপডেট করতে বলা হবে, বা অমুক লিঙ্কে ক্লিক করে আপনার ‘উপস্থিতি’ জানান দিতে বলবে! প্রথমত, ফেসবুক কখনই এমন মেসেজ পাঠায় না; তাদের বিশেষ কোন মেসেজ থাকলে তা হোম-পেজের উপরে ছোট বক্স আকারে আসে, যেখানে কোন লিঙ্ক তো থাকেই না, বরং বক্সের কোণায় ঐ ক্রস টা ক্লিক করলেই আর কখনও তা দেখায় না! দ্বিতীয়ত, ঐসব লিঙ্ক সাধারণত কম্পিউটারে ভাইরাস ইন্সটল করে ফেলে – যা আপনার কম্পিউটারকে ঐসব হ্যাকারদের কাছে হাতের মোয়া বানায় ফেলবে! সহজ হিসাব – ফেসবুকের অফিসিয়াল পেজ টা লাইক মারুন, এর বাইরে অন্য কোন মেসেজ পা পেজ – সব বাদ! ফেসবুক অফিসিয়াল পেজ – (https://www.facebook.com/facebook)

৫। অর্থ-কষ্ট!!

আপনার কোন ‘জানে-জিগার’ দোস্ত যদি হঠাৎ আপনার কাছে খুবই জরুরী কারণে টাকা চেয়ে বসে – যেমন মায়ের অপারেশন টাইপ জরুরী কারণে – আপনার যদি সামর্থ থাকে নিশ্চয়ই চাবেন হেল্প করতে, তাই না? এখন সে যদি বলে বসে ‘ওয়েস্টার্ন-ইউনিয়ন’ বা এই জাতীয় কোন ‘ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফার’ (Electronic Money Transfer) সেবা ব্যাবহার করতে, দ্রুত বাসায় বসে পাঠানোর জন্য? আপনাকে যদি তার temporary transfer number টাও দিয়ে দেয় ঐ মেসেজে? এখন দেশে বসে হয়তবা জিনিসটা না হবার সম্ভাবনাই বেশী – সাধারণত আমরা প্রবাসীরাই এইভাবে টাকা পাঠাব যদি দরকার হয় – কিন্তু তারপরও, এরকম মেসেজ পেলে কিই বা করার আছে? দুঃখের ব্যাপার – শতকরা ৯৯ ভাগ সময়ই এইগুলা থাকে ভুয়া! কিভাবে? এর আগে ১, ২, ৩ বা ৪ নম্বরে দেওয়া কোন কোন উপায়ে আপনার বন্ধুর এ্যাকাউন্টটা প্রথমে বেদখলে গেছে, এবং এখন ঐ চোর’গুলাই তাদের পকেটে টাকা ভরতে আপনার কাছে ‘সাহায্য’ চাচ্ছে! কিভাবে এড়াবেন? সহজ – একবার হলেও বন্ধুটাকে ফোন দিন! সত্যিই মায়ের অপারেশনের দরকার হলে তার কুশল জিজ্ঞেস করুন! তারপর টাকা পাঠান!!

৬। ফেক প্রোফাইল…

উফ! আর কি বলবো?? আপনার যদি খুবই ইচ্ছা হয় পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে পাস করে আসা কোন মেয়ে (!) এর সাথে বন্ধুত্ব করতে, আপনার জন্য ফেসবুকের সব স্প্যামই হালাল!  :khekz: যাই হোক – ঐ প্রোফাইলটা এখন আর নাই, কিন্তু এরকম প্রচুর ভুয়া ‘বন্ধু’, এবুং বিশেষত ‘বান্ধবী’ ফেসবুকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে; অনেকে ঐরকম সহজ ইন্‌ফো দিলেও কিছু কিছু স্প্যাম প্রোফাইল আসলেই অবাক করার মত সত্যি মনে হবে। অচেনা কাউকে বন্ধু হিসেবে add দিতে যাবেন না, আর যদি নতুন বন্ধুত্বের আশা নিয়ে এ্যাড দিয়েও ফেলেন, চেষ্টা করবেন ব্যাক্তিগত আলাপ থেকে দূরে থাকতে – যতদিন না তার সাথে আপনি মুখোমুখি দেখা করতে পারছেন! দেশের বাইরে? তাকে বলবেন, স্কাইপ (Skype) ইন্সটল করতে, আর বাংলাদেশি টাকায় এখন ১৫০০ টাকার মধ্যেই ভাল ওয়েবক্যাম পাওয়া যায়, একটা কিনে লাগাতে বলবেন; তারপরও নিশ্চিত করুন মানুষটি আসলেই বিশ্বাসযোগ্য একটা “মানুষ” !! আমার মতে ধাপ্পাবাজির সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে এই ফেক প্রোফাইলের ব্যাবহার!

৭। ফেক ‘পেজ’…

এইটা তো আরেক জিনিস!! উপরের ছবিটা খেয়াল করুন – এবং নিজেকেই জিজ্ঞেস করুন, এই একই ‘অফার’ নিয়ে কতগুলা পেজ বা এ্যাপ আপনার চোখে পড়েছে? আমি তো বলব অন্তত ১০০ টা তো হবেই! এইরকম ‘লোভনীও’ (!) অনেক অফার নিয়েই ইদানীং ‘ইভেন্ট’ তৈরী করছে স্প্যামাররা, আর ঘুড়িয়ে ফিড়িয়ে দেখা যায় ওরা আপনাকে একটা লিঙ্কে ক্লিক করতে বলবেই! ক্লিক করার পর কি হয় এইটা মনে হয় আবার বলার আর দরকার নাই! আরো আছে সেলিব্রিটিদের নামে ভুয়া ফ্যান পেজ – এগুলা আসলেই একটু ভয়াবহ। কারণ এদের পেজে লিঙ্ক হিসেবে সাধারণত ঐ তারকার “গরম ছবির ভান্ডার” ইত্যাদি নামই দেওয়া থাকে! সহজ হিসাব – লিঙ্ক হইতে সাবধান! (এই নেটের যুগে ফেসবুক থেকে ‘গরম ছবি’ দেখতে যাওয়ার কোন অর্থ আমি দেখিনা! Use Google, if you really need it that bad! :awesome: )

৮। জল্লাদ এ্যাপ!!

  • বন্ধুদের মধ্যে আপনার rank কি?
  • আপনার বন্ধুদের rank কি?
  • কোন মেয়ে আপনাকে পছন্দ করে?
  • কোন ছেলে আপনাকে পছন্দ করে?  😮
  • দোস্তরা কে কই থাকে?
  • কয়জন ছেলে, কয়জন মেয়ে, কয়জন ‘কিছুই না’?
  • কে কে সিঙ্গেল?
  • আপনি আজকে কতখানি ‘লাকি’?
  • আপনি আজকে কতখানি ‘রোমান্টিক’?
  • কে আপনারে খুন করবে?
  • আপনার নেক্সট ‘ডেট’ কে?

… ভাই এই লিস্ট লিখতে মনে হয় আরও ২০০ টা ব্লগ লাগবে, তাও লিস্ট শেষ হবে না! তো বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এইসব চরম এ্যাপ (!) গুলা যখন আপনি চালু করেন, এরা কিছু ‘অনুমতি’ চেয়ে নেয় (উপরের ছবিটার মত), এইটা তো নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন? আর অতি উৎসাহে আমরাও ঐ সব পয়েন্টে কিসের অনুমতি চাইল তা না দেখেই সুন্দর অনুমতি Allow করে দিই! আজব ব্যাপার খেয়াল করলাম – Yahoo! বা CNN এর মত এরকম বাঘা বাঘা জেনুইন শেয়ারিং এ্যাপ’গুলাও এত কিছুর অনুমতি চায় না যা আপনার “খুনি খোঁজার এ্যাপ”টা চায়! অর্থ কি? স্বাভাবিক – এদের মালিকরাও এক পর্যায়ের স্প্যামার, যারা এই এ্যাপে সংগ্রহ হওয়া তথ্য নিয়েই তাদের হ্যাকিং’এর রাস্তা তৈরী করে। সুতরাং, এইসব ফালতু এ্যাপ ব্যাবহার বাদ দিন, আগের যেগুলা আছে তা App Settings এ গিয়ে সব রিমুভ দেন! আর অন্য এ্যাপ ব্যাবহারের আগেও কি কি অনুমতি দিচ্ছেন নিশ্চিত করে নিন। (এইটা কিন্তু ভাই একটা life lesson হইয়া গেল!  :hatsoff: )

৯। “কুবফেস” ভাইরাস (Koobface Worm):

 

ফেসবুকের প্রথম অরিজিনাল ভাইরাস, যা হাজারখানেক-এরও বেশী ব্যাবহারকারীদের এ্যাকাউন্ট ও কম্পিউটারের চুড়ান্ত ক্ষতি করে সেরেছে। ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া ভাইরাসটি যদিও এখন প্রায় পুরোপুরি মৃত, কিন্তু ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এখনও ব্যাবহারকারীদের সতর্ক থাকতে বলে। কুবফেসের ধর্ম ছিল ‘এডোবি ফ্ল্যাশ প্লেয়ার’ এর আপডেট হিসেবে উপস্থিত হওয়া; অনেকটা এরকম – আপনি একটা ভিডিও দেখতে গেলেন ফেসবুকের কোন এক পেজে, এই ৫ মিনিট আগেও অন্যান্য ভিডিও ইত্যাদি কাজ করেছে, কিন্তু এই ভিডিওটার সময় আপনাকে জানানো হল যে আপনার প্লেয়ার এর আপডেট লাগবে। স্বাভাবিক ভাবেই সবাই আপডেট করতে চাইবে – আর ঐ ভুয়া আপডেট টাই কম্পিউটারে ভাইরাসটি ইন্সটল করে ফেলে। ভাইরাসটার কাজ আপনার সব ধরনের অনলাইন এ্যাকাউন্ট (ফেসবুক, ইয়াহু মেইল, হটমেইল, জি-মেইল ইত্যাদি এমনকি স্কাইপ!) ব্যাবহার করে সবাইকে স্প্যাম পাঠানো, আর আপনার এ্যাকাউন্টের প্রয়োজনীয় তথ্য মূল স্প্যামার কে জানানো। সমাধান? এক, ভাল মানের এন্টি ভাইরাস ইন্সটল করুন। ফেসবুকের ‘পছন্দ’ (Recommendation) ম্যাক-এ্যাফে, কিন্তু ফ্রী চাইলে AVG বা অ্যাভাস্ট-ও খারাপ না! দুই, এরকম হঠাৎ পেজে বসে আপডেট আসলে ঐ পেজটি রি-ফ্রেস করুন। দরকার হয় বন্ধ করে আবার ফেসবুকে গিয়ে আবার ঐ পেজে যান, বা অন্য ভিডিও চেষ্টা করেন, ইউটিউবে যান – দেখেন এখনও আপডেট করতে বলে কিনা! (যদিও এখন এডোবি থেকে আপডেট সম্পূর্ণ আলাদা ‘আপডেটার সফ্‌টওয়্যার’এর মাধ্যমে আসে)।

আর ব্যাক্তিগত ভাবে আমি (আসলেই আমি – অর্থাৎ রাফী) এখন ‘সিকিউর ফেসবুক এ্যাকাউন্ট’ ব্যাবহার করি (http এর জায়গায় https দিয়ে URL শুরু হয়)। এইটা করে নিলে হাতে গোনা কয়েকটা জেনুইন এ্যাপ ছাড়া আর কোন “কে করসে?” “কি করসে?” টাইপ এ্যাপ কাজ করে না। যেমন আমার ক্ষেত্রে, Yahoo!, RSS Graffiti, CNN, Flixter Movies, Skype Connector সহ আরো দুই-একটা কাজ করে, এর বাইরে আর না, তাই অন্তত এইদিক থেকে স্প্যামিংয়ের চিন্তা আপাতত নাই! এমনকি Mafia War, Farmsville – এসব গেমও না। অবশ্য খেলার জন্য অস্থায়ী ভাবে ‘অনিরাপদ’ কানেকশন আনা যায়, আবার লগিন করলেই ‘সিকিউর্‌ড’! সিকিউর করতে নিচের কাজগুলো করুনঃ

  1. ফেসবুক পেজে উপরে ডান কোণে Profile এর পাশে Account-এ ক্লিক করুন। মেনু থেকে Account Settings-এ ক্লিক করুন।
  2. এখন এই My Account পেজ-এ ৬ নম্বর অপ্‌শন Account Security-তে যান, ঐখান সাইডে change-এ ক্লিক করুন।
  3. পড়ুন কি লেখা আছে। Secure Browsing (https)-এ চেকমার্ক দিন। নিচে এদের কাছে অপরিচিত কোথা থেকে লগিন-এর সন্দেহ হলে আপনাকে ই-মেইল ও এসএমএস পাঠানোর ব্যাবস্থা আছে – আপনার পছন্দমত চেক করুন।
  4. আরো নিচে এক্সট্রা কোড এর ব্যাবস্থা আছে – চাইলে এইটাও যোগ করতে পারবেন।
  5. সবশেষে Save করুন। লগ-অফ্‌ করে আবার লগিন করতে বলতে পারে – না বললেও করুন!
  6. যদি আপনাকে লগিনের পরপরই কম্পিউটারের নাম দিতে বলে, আর URL-এ https://www.facebook.com/… দেখায় – বুঝবেন কাজ হয়েছে! পরে, ঐ সেম সিকিউরিটি পেজে গেলে দেখবেন আপনি কোন কম্পিউটারে, কোন অপারেটিং সিস্টেমে, এমনকি কোন ব্রাঊজারে ফেসবুকে ঢুকেছেন – পুরা টাইম সহ হিসাব জমা হওয়া শুরু হয়ে গেছে! ওহ – মোবাইলেরটাও শো করবে – সেটের নাম সহ!
  7. বিস্তারিত এই ফেসবুক এর অফিসিয়াল হেল্প-এ।

 

এরপরও ঝামেলায় পড়লে –

  1. পাস্‌ওয়ার্ড পাল্টাতে পারেন এখানে
  2. এ্যাকাউন্টে বিশেষ “ব্লক” আনতে পারেন, যা একমাত্র আপনিই খুলতে পারবেন – এখানে
  3. অন্য কারো স্প্যাম আপনার wall-এ জমা হলে সব “Remove Post…” করতে থাকুন (প্রতিটা পোস্টের উপরে ডানে ‘ক্রসে’ ক্লিক করুন)। এতে আপনারই সুবিধা হবে, হবে আপনার বন্ধুরও!
  4. আলতু ফালতু App এর পাশাপাশি আলতু ফালতু পেজ, ইভেন্ট ও ফেক সন্দেহ হওয়া ‘বন্ধু’ ডিলিট করতে থাকুন!
  5. যদি মনে হয় আপনি টোপ গিলেছেন, অর্থাৎ আপনি Phishing এর শিকার, তাহলে ফেসবুকের এই অফিসিয়াল ফর্মটা পূরণ করে পাঠান, ওরা আপনাকে শেষ রক্ষা করতে পারে!
  6. একইভাবে ভাইরাসের সন্দেহ থাকলেও ফেসবুককে জানান – এই ফর্মটা পাঠান (ফেসবুকের নিজস্ব ফর্ম – চিন্তা নাই!)
  7. আর, কোন গ্যাঞ্জাম লাগলেই – সঙ্গে সঙ্গে লগ-অফ্‌ – ব্রাউজার ক্লোজ – ব্যাস্‌!!

(আমি কিন্তু কোন ভুয়া লিঙ্ক দেই নাই আবার! তারপরও, লিঙ্কে ক্লিকের পর, কোন কারণে যদি কিছু ডাউনলোড করতে বলে – ভুলেও না!!! আর ওয়েবপেজ খুললে যা বলসিলাম – URL টা ভালমত দেইখা নিবেন!)

আশা করি আমার এই লেখা একটু হলেও সবার কাজে আসবে! সহজ কথা – সাবধান থাকবেন, আলতু ফালতু জিনিস আপনার আমার জন্য নয়! আমরা দোস্তদের “Ranking”-ও করি না, কার সাথে বিয়া হবে তার জন্য তো আর কোন জ্যোতষীর কাছেও দৌড়াই না, আর কোন মাইয়ার ভিডিও দেইখা কার আব্বা কি করসে জানতেও চাই না! তাইলে ফেসবুকে এইসব আর করুম ক্যান??

“নিজে নিরাপদ হোন, অন্যকেও নিরাপদ হতে শেখান”!   :thumbup:

_______________

হাফিংটন পোস্ট অনলাইনে ২৫ মে প্রকাশিত, ক্যাথেরিন স্মিথ’এর “Facebook Scams You Need To Know About: The 9 Most Common Hacks And Attacks“, ও “Facebook Account Hacked? What To Do In Case Of Spam And Attacks” থেকে গৃহীত তথ্য অনুযায়ী রচিত, হুবহু অনুবাদ নয়। ছবি সব প্রথম আর্টিকেল থেকেই – স্বত্ব হাফিংটন পোস্ট’এর।

১৮ টি মন্তব্য : “ফেসবুক [চোর] হইতে সাবধান!!”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    অনেক দরকারি পোস্ট, নিজে এধরনের কোন পোস্ট দেখলেই হাইড মারি। কিন্তু ফ্রেন্ড লিস্টের এত লোক এগুলো ক্লিক করে বিরক্তিকর। কিছু আগে এক ডিসলাইক বাটন চালু করার জন্য পাবলিক যে কি করলো ~x( ~x( ~x(

    আশা করি তোমার এই পোস্ট আমাদের অনেকের উপকার হবে।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  2. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    দরকারি পোস্ট। ধন্যবাদ।

    হঠাৎ একটা কথা মনে হইলো। আগে টিভিতে এইডস নিয়ে একটা কথা খুব দেখাইতো।
    এইডস থেকে বাঁচতে আপনি কী করবেন?? -- ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন।
    সেই কথাটাই আবার মনে হইলো। ধর্মীয় অনুশাসন না হোক নৈতিক অনুশাসন মেনে চলুন হ্যাকারদের হাত থেকে বাঁচতে।

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : পাবন (২০০৪-২০১০)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।