টুশকি ১৫

টুশকি [১] [২] [৩] [৪] [৫] [৬] [৭] [৮] [৯] [১০] [১১] [১২] [১৩] [১৪] [১৬]

১. লোকাল সোর্স সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ঠিকানা জানাচ্ছে, “…..ছার, আমি কনফারোম (কনফার্ম) যে ঐ বাড়িতে আরোমস্ (আর্মস) আছে, আরোমসের গোডাউন আছে”।

২. যদি অ্যাবডোমিনাল পেইন বা পেটে ব্যথা হয় তবে ডাক্তারকে পেটের ঠিক যেখানে ব্যথা বলে রোগী কমপ্লেন করছে তার বিপরীত দিক থেকে চাপ দিয়ে দিয়ে পরীক্ষা করে আসতে হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে এক ষোড়শী তরুণী এরকম পেটে ব্যথা নিয়ে আসলে ইন্টার্ণী ডাক্তার পদ্ধতি অনুযায়ী পরীক্ষা করার সময় ডাক্তার ও রোগীর মথ্যে কথোপকথন:

“লাগে”?
“হ্যাঁ লাগে”।
“এখানে লাগে”?
“হ্যাঁ লাগে”।
“এইখানেও লাগে”?
“হ্যাঁ লাগে”।
“আশ্চর্য, এখন লাগে”?
“হুম… লাগে”।
বিরক্ত হয়ে ডাক্তার বলে ওঠেন, “কি লাগে”?
তৎক্ষণাত রোগীর জবাব, “…আরাম লাগে” 😛 ।

৩. লাইবেরিয়ার অন্যতম সেলফোন কোম্পানী “সেলকম” এর কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসের সুবেশী তন্বী সিরাজের বহুল ব্যবহারে জীর্ণ মোবাইলের নম্বরবিহীন কী-প্যাড দেখে বিস্ময় প্রকাশ করলে সিরাজের উত্তর ছিল, “ডোন্ট ওরি, আই ইউজ এক্সটার্নাল কী-বোর্ড” 😀 ।

৪. বিএমএ’তে প্রতিদিন দুপুর আড়াইটার সময় ক্লাসের পরে ও খাবারের আগে স্টাফরা অর্ডার পাস করতেন, হালকা ডলাসহ নসিহত চালাতেন (কখনও কখনও ডোজ একটু বেশিই হয়ে যেত)। রোদের তীব্রতায়, ক্ষুধার যন্ত্রণায় মুখটাকে বাংলা ফাইভ বানিয়ে আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হত। এরই মধ্যে স্টাফরা আমাদের চাঙ্গা করার মৃদুমন্দ চেষ্টা চালাতেন। বিএমএ’তে তখন কেবল নতুন নতুন মহিলা ক্যাডেটদের ট্রেনিং শুরু হয়েছে। ছেলেদের একটা গ্রুপকে একদফা ঘাম ঝরানো নসিহত চালানোর প্রায় শেষ পর্যায়ে স্টাফ যখন খেয়াল করলেন মেয়েদের গ্রুপটা পিছন দিয়ে মার্চ করে চলে যাচ্ছে তখন গর্জে উঠলেন, “উল্টা ঘোর”। ছেলেরা উল্টা ঘুরে মেয়েদের যাওয়া দেখল। আবার স্টাফের আদেশে উল্টা ঘুরলে স্টাফের মন্তব্য, “দেখছেন? মন ভরছে? না ভরলে কিচ্ছু করার নাই। আমার এর চাইতে বেশি কিছু দেয়ার উপায় নাই”।

৫. কলেজের এ্যাডজুট্যান্ট আর স্টাফদের কার মগজ কোথায় থাকে তা নিয়ে নাতিদীর্ঘ গবেষনা হয়েছিল। তাতে এ্যাডজুট্যান্টের মগজ যথারীতি হাঁটুতে, জলিল স্টাফের মগজ গোড়ালীতে, আসাদ স্টাফের মগজ বুটের হীলে আর সালেহ স্টাফের মগজ প্যারেড গ্রাউন্ডের আনাচে কানাচে (যা শুধুমাত্র ড্রিলের সময়ই এ্যাক্টিভেট হত) পাওয়া গিয়েছিল।

৬. বিএমএ’র এক রটেন স্টাফের কাছে লম্বা চেক দিয়ে দাঁড়ালেই বলে উঠতেন, “কি ু*েন নাকি”?

৭. বিএমএ’তে ইডি দেয়ার কয়েকটা কারণ:

ক. ঘোড়ার সাথে কথা বলা।
খ. স্টাফকে ঘোড়ার দাম জিজ্ঞেস করা।
গ. “সাবধান” আদেশের পরপরই “যেমন ছিলে” আদেশ দিলে স্টাফকে “কেমন ছিলাম” জিজ্ঞেস করা।
ঘ. স্টাফকে ভূতের ভয় দেখানো।
ঙ. প্যারেড গ্রাউন্ডে কাক ধরতে না পারা।
চ. বন্দুকের নলে বসা।
চ. শার্টের বোতাম প্যান্টে লাগানো।
ছ. এ্যাডজুট্যান্টের কোক খাওয়া দেখে ঢোক গেলা।

*********
কৃতজ্ঞতা: সিরাজ (বকক, ১৯৯৪-২০০০)।
আংশিকভাবে ৭ নম্বর গল্পটা আগে মন্তব্য আকারে শেয়ার করেছি।

৬২ টি মন্তব্য : “টুশকি ১৫”

  1. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    সায়েদ ভাই কাহিনি কি একটার পর একটা দেখি পোস্ট করতেই আছেন 😀 😀 😀
    যাই পরি গিয়া 🙂 🙂 🙂


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  2. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)
    তৎক্ষণাত রোগীর জবাব, “…আরাম লাগে”

    =)) =)) =))
    :khekz: :khekz: :khekz:


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  3. রেজওয়ান (৯৯-০৫)

    আহারে কি দিন ই না ফালাইয়া আসছি বি এম এ তে...
    স্টাফ দের কত ডায়লগ,
    "সাহেব রেল এর চাকায় পাম দিবেন না"
    "সাহেব আপনি তো ভুমিতেও নাই ম্যাপেও নাই,আছেন কোথায়?"
    "সবাই গ্যাপের চিপায় ফল ইন"
    "ওই ক্যাডেট,ওই ওই,হাওয়ার উপর মারতাছেন?"
    ইত্যাদি ইত্যাদি......
    বাহ বস বহুত মজাক পাইলাম... :salute:

    জবাব দিন
  4. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    সায়েদ ভাই, আপনে মিয়া টু মাচ... 😀

    @৩। 'সেলকম' এর আপুকে 'সুবেশি তন্বী' মনে হয়েছে কি 'শেষ চার মাস'এর কারনে??? নাকি আসলেই...ছবি চাই... :((

    @২। পিঠে ব্যথা হলে তার পরীক্ষা কেমনে করে??? :-B O:-)


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  5. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)
    “…আরাম লাগে”
    ডোন্ট ওরি, আই ইউজ এক্সটার্নাল কী-বোর্ড”
    “দেখছেন? মন ভরছে? না ভরলে কিচ্ছু করার নাই। আমার এর চাইতে বেশি কিছু দেয়ার উপায় নাই”।
    সালেহ স্টাফের মগজ প্যারেড গ্রাউন্ডের আনাচে কানাচে (যা শুধুমাত্র ড্রিলের সময়ই এ্যাক্টিভেট হত) পাওয়া গিয়েছিল।

    ভাই আপনে পারেনও ... সমকালীন সিসিবি ধারা বজায় রেখে নিচের ইমো।

    🙂 😀 :)) =)) :khekz: :goragori:

    জবাব দিন
  6. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    ওরে জুনা, কামরুল মাস্ফ্যু, কেউ ইসা আমারে পিরা থিকা ধিরা তুল,আমি আর পারতাছিনারে। পিরা গিয়া গিরগিরায়া যি অবস্থা, মিরা যামু তিড়াতিড়ি। যেমনে ইকটার পর ইকটা টিশকি আইতাছেরে :goragori: :goragori: :goragori:

    সায়েদ মামা, একের পর এক গুল্লি দিতাছোস ক্যামনেরে দোস্ত =)) =))

    ৫. কলেজের এ্যাডজুট্যান্ট আর স্টাফদের কার মগজ কোথায় থাকে তা নিয়ে নাতিদীর্ঘ গবেষনা হয়েছিল। তাতে এ্যাডজুট্যান্টের মগজ যথারীতি হাঁটুতে, জলিল স্টাফের মগজ গোড়ালীতে, আসাদ স্টাফের মগজ বুটের হীলে আর সালেহ স্টাফের মগজ প্যারেড গ্রাউন্ডের আনাচে কানাচে (যা শুধুমাত্র ড্রিলের সময়ই এ্যাক্টিভেট হত) পাওয়া গিয়েছিল।

    ৬. বিএমএ’র এক রটেন স্টাফের কাছে লম্বা চেক দিয়ে দাঁড়ালেই বলে উঠতেন, “কি ু*েন নাকি”?

    যাইহোক, পিরা থিকা ধিরা তিলা পার্টি, পিরছি ঠিকই কিন্তি পিঠে বিথা পাইনাই কইলাম :)) :))

    টিশকির লাইগা সায়েদরে ইনফিনিটি :salute:


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  7. নাজমুল হোসাইন
    বন্দুকের নলে বসা।

    সাহেব এইটার নাম বন্দুক?আবার বলেন তো নামটা?জীবনে প্রথম শুনলাম ক্যাডেট বন্দুক বলে।এই মফিজ স্টাফ,সায়েদ সাহেবরে নিয়া যান-বাবুল লেক দিয়া শুরু করবেন আর চ্যানেল আইতে নিয়া শেষ করবেন,স্টাফ নিয়া যান,ছিড়া ফেলেন এই ক্যডেটটারে.........

    জবাব দিন
  8. আহমদ (৮৮-৯৪)
    ৭. বিএমএ’তে ইডি দেয়ার কয়েকটা কারণ:

    ক. ঘোড়ার সাথে কথা বলা।
    খ. স্টাফকে ঘোড়ার দাম জিজ্ঞেস করা।
    গ. “সাবধান” আদেশের পরপরই “যেমন ছিলে” আদেশ দিলে স্টাফকে “কেমন ছিলাম” জিজ্ঞেস করা।
    ঘ. স্টাফকে ভূতের ভয় দেখানো।
    ঙ. প্যারেড গ্রাউন্ডে কাক ধরতে না পারা।
    চ. বন্দুকের নলে বসা।
    চ. শার্টের বোতাম প্যান্টে লাগানো।
    ছ. এ্যাডজুট্যান্টের কোক খাওয়া দেখে ঢোক গেলা।

    :pira: :pira: :pira:


    চ্যারিটি বিগিনস এট হোম

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।