শুভ জন্মদিন মেজর আখতার আহমেদ বীর প্রতীক

আজ বৃহষ্পতিবার। মন ফুরফুরে, অফিসের জন্যে রেডি হতেহতে ফেসবুকে উকি দিয়ে দেখি আজ এক বিখ্যাত মানুষের জন্মদিন। তাঁর কীর্তি নিয়ে গবেষণা (এত ভারী শব্দলিখতে চাইনি।)করতে গিয়ে দেখি স্যার আমাদের আমাদের মেডিকেল অফিসার ছিলেন, কলেজে আমার জন্মের আগে। হ্যাপি বার্থ ডে স্যার, এই লেখাটি আপনার জন্যেঃ
———————————————————————————

সালদানদী জয়ের পর

সালদানদী জয়ের পর

উনিশ শ’ একাত্তর ১৮

২৬ তারিখ সকালে রেডিও অন করে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল আখতারের। পরিচিত কারো গলা শোনা যাচ্ছেনা। মার্শাল ল’ জারী করা হয়েছে। কেউ একজন ভাঙ্গা বাংলায় একঘেয়ে মার্শাল ল’ রেগুলেশন পড়ে যাচ্ছেন। ওয়াপদা রেস্ট হাউসেও তেমন কোন সাড়া শব্দ নেই। শাফায়েত তার দল বল নিয়ে শাহাবাজপুরে। কুমিল্লা থেকে আসা অন্যরা কোথায় কে জানে!

তিনি ইউনিফর্ম পরে ডাইনিং হলের দিকে রওনা হলেন। রেস্ট হাউসের নিচ তলার প্রথম রুমটা ডাইনিং কাম ড্রইং রুম হিসাবে ব্যাবহৃত হয়। সেখানে বসে রেডিও শুনে শুনে মার্শাল ল’ রেগুলেশন খাতায় টুকছিলেন খিজির হায়াত। আখতারকে ঢুকতে দেখে বললেন, আও ডাক্তার, আই য়্যাম রাইটিং ডাউন দ্যা রেগুলেশন্স। ইউ সি উই হ্যাভটু ইমপ্লিমেন্ট দিজ’।

নাস্তার টেবিলে দেখা হল সাদেক নেওয়াজ, আমজাদ আর লেফটেন্যান্ট হারুনের সাথে। নাস্তা শেষ হতে হতে হাজির হলেন শাফায়েত জামিল। শাহাবাজপুরে পৌছাতে তার রাত তিনটে বেজে গিয়েছিল। চোখ একটু লেগে আসতেই আবার ভোর বেলায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। ৭টায় রওনা দিয়ে ১২ মাইল পথ পেরুতে লেগেছে প্রায় ৩ ঘন্টা। সরাতে হয়েছে প্রায় ২০টি ব্যারিকেড। তিনি অবাক হয়েছেন। রাতে তিনি যখন শাহাবাজপুর এসেছিলেন তখন রাস্তায় এই ব্যরিকেড দেখেননি।
সিও গম্ভীর মুখে বললেন, মার্শাল ল’ জারি করা হয়েছে, মতিনকে ব্রাহ্মণ বাড়িয়া পাঠিয়েছি কার্ফু জারি করতে, তুমি পুলিশ লাইনে গিয়ে ওদের ডিজার্ম কর। আদেশটা পছন্দ হলনা শাফায়াতের, তিনি বললেন ইট মে কজ আন নেসেসারি ব্লাড শেড। সিও বললেন ডর না মাত। ইফ নিডেড সাদেক উইল ব্যাক ইউ আপ। শাফায়াতের বডি ল্যাঙ্গয়েজের কোন পরিবর্তন হলনা। মুখে বললেন,ডু নট ওয়োরি স্যার, টু মোরো আই মাইসেলফ উইল গো এন্ড ক্লোজ দেয়ার ওয়েপন। সিও নিবৃত্ত হলেন তার কথায়।

দুপুরে সিগন্যাল জেসিও নায়েব সুবেদার জহির শাফায়েতের কাছে এলেন, তাঁকে দেখে সন্ত্রস্ত মনে হচ্ছিল। শাফায়েত তাঁকে আড়ালে নিয়ে গেলেন, কি সাব, ঘামতাছেন ক্যান?
– স্যার, ঘটনা মনে হয় ঘটে গেছে।
– কি ঘটনা?
– স্যার ইবি আর সি থেকে মনে হয় অর্ধেকের বেশি জুয়ান ভাগুড়া হয়ে গেছে
– বলেন কী! কখন?
– হেইডা বুঝবার পারি নাই, স্যারেরা সেটে কথা বলতেছিলেন ইংরেজি আর উর্দুতে, ট্যাঙ্ক আর হেলিকপ্টারের কথাও হুনসি।
শাফায়েত বুঝলেন, ওয়্যারলেস র্র্যান্ডম স্ক্যানিঙের সময় অন্য স্টেশনের কথা শুনে ফেলেছেন জহীর। তিনি বললেন, ‘ঠিকাছে, সিও, টু আইসি য্যান না জানে’।
লাঞ্চের পর তিনি আখতার, হারুন আর কবির কে নিয়ে বসলেন কী করা যায় ঠিক করতে। আখতার বললেন, ঢাকায় মনে হয় বড় ধরণের গোলমাল হয়েছে। সকালে রেডিও অন করে দেখি বাংলায় খবর পড়ছে অবাঙালিরা। হারুণ আর কবিরও গলা মেলালেন তার সাথে। কবির বললেন, স্যার আসার সময় দেখলেন না, রাস্তা ঘাট কেমন ফাঁকা! গাছ গুলো কেটে রাস্তায় ফেলেছে রাত তিনটের পর।
শাফায়েত বললেন, ট্রুপসদের মতি গতির খবর নাও, অস্ত্রপাতি সাথে রাখতে হইব। কবির, কোম্পানিরে stand to’র লিগা রেডি থাকতে কইয়ো, ডাক্তারের তো আবার হাতিয়ার নাই। ওরেও একটা এসএমজি দিতে কইয়ো, ডাক্তার তুমারে কইছিলাম না অস্ত্রপাতি একটু হাতাইয়া দেইখো। এসএম হালায় কোন দলে এইডাও জানা দরকার।

একজন সৈনিকের দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন সুবেদার মেজর (এসএম) হওয়া। বলা যায় সকল সৈনিকের তিনি মুরব্বি। এসএম হলেন সিও’র ডান হাত। সিওরা অনেক সময় এসএমদের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। পেশাগত সম্পর্কের বাইরেও সিও’র সাথে এসএমের একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৪ বেঙ্গলের এসএম ইদ্রিস সাহেবের দিনের অর্ধেক সময় কাটে সিও’র সাথে। সৈনিকদের উপরও তাঁর প্রভাব কম নয়। তাঁকে এড়িয়ে কিছু করা সম্ভব নয়। ইদ্রিসের মনোভাব জানার জন্যে ক’জন সৈনিককে লাগানো হল। তারা জানালো সময় হলে এসএম বিদ্রোহের পক্ষেই থাকবেন।
বিকেল নাগাদ ঢাকার অবস্থা পরিস্কার হয়ে গেল। রাস্তায়, আর রেল লাইনের দু’ ধার দিয়ে অসংখ্য ভয়ে ধরা মানুষ ঢাকা থেকে পালিয়ে আসছে। উদ্ভ্রান্ত সে সব মানুষ সেনাবাহিনীর পোশাক দেখলেই এড়িয়ে যেতে চাইছে। মুখ খুলতে চাইছে না। আখতারের মনে হল খবর আসছে চুইয়ে চুইয়ে। শেষ পর্যন্ত জানা গেল ঢাকার তান্ডবের কথা।
শাফায়েত সৈনিকদের তাবুতে গিয়েছিলেন আখতারদের নিয়ে। সেখানে তাস খেলা ফেলে একজন সৈনিক কাছে এসে বলল, স্যার কী হইতাসে খবর আমরাও রাখতাসি, সময় মত ডিসিশন দিয়া দিয়েন, নাইলে কিন্তু অস্ত্র লইয়া ভাইগা যামুগা।

সন্ধায় সিগন্যাল সেন্টারে গিয়ে খলেদ মোশাররফের সাথে কথা বললেন শাফায়েত। কাছ থেকে তার উপর নজর রাখছিলেন পাঞ্জাবি অফিসাররা। তিনি বুদ্ধি করে খাস ঢাকাইয়া ভাষায় খুব দ্রুত বলে গেলেন তার যা বলার ছিলো। ইবিআরসির ইন্টারসেপ্টেড বার্তা সহ কিছুই বাদ দিলেন না। সবকিছু মনোযোগ দিয়ে শুনে শুধু একটি কথা বললেন খালেদ। আমি রাতের অপেক্ষায় আছি। শাফায়েত বুঝে গেলেন খালেদের ইশারা।
সন্ধ্যার পর অন্যান্য অফিসারদের নিয়ে শাফায়েতের সাথে তাবুর পাশে বসে ছিলেন আখতার। পাশে তার সদ্য পাওয়া এসএমজি। এই অবস্থার মধ্যেও হালকা মেজাজে মজা করছিলেন শাফায়েত। ডাক্তার এইডা কিন্তু সাধানে রাইখো। চালাইতে না জানলে এই যন্ত্র বইয়া মজা নাই।সৈনিকদের তাবু খুব দূরে নয়। সাদেক আর এসএমকে নিয়ে ক্যাম্প ঘুরে দেখতে বেরিয়েছিলেন খিজির হায়াত। তাদের দেখে অফিসারদের অস্বস্তি হচ্ছিল। এসময় সিপাই শহীদ আর মনিরকে সাথে করে এসে হাবিলদার বেলায়েত বলল , স্যার আইজ আমরা অস্ত্র নিয়া আপনাগো টেন্ট পাহারা দিমু। পাঞ্জাবি অফিসারদের হাতে অস্ত্র দেখছি। নজদিক আইলেই কিন্তু গুলি করুম।

একটু পরে যার যার মত ঘরে অথবা তাঁবুতে ফিরে গেলেন সবাই। হাবিলদার বেলায়েতের দল পালা করে পাহারা দিলেন অফিসারদের তাঁবু। শেষ রাতের দিকে ফোনের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল শাফায়াতের। কোম্পানিগঞ্জ টেলিফোন এক্সচেঞ্জ থেকে ফোন করেছেন একজন বাঙালি অপারেটর। তিনি একজন সিনিয়ার বাঙালি অফিসারকে একটা খবর দিতে চাচ্ছিলেন। শাফায়াত ফোন ধরায় তাঁকে বললেন, ‘ ‘একটু আগে আর্মীর ১২ টা ট্রাক কোম্পানিগঞ্জ থেকে আপনাদের দিকে রওনা দিয়েছে। কী করবো বুঝতে না পেরে আপনাকে জানালাম স্যার’। শাফায়াতের মনে হল, ট্রাক ভর্তি হানাদার আসছে তাঁদের ডিজ আর্ম করতে। প্রতিরোধ ছাড়া আর কোন পথ নেই। আর ঘুম এলোনা তাঁর।
ভোরে সিও খবর পাঠালেন সকাল নয়টায় তাঁর অফিসে মিটিং এর কথা বলে। শাফায়াতের মনে তখন ঝড় বয়ে যাচ্ছে। যা করার এই মিটিং এর মধ্যেই করতে হবে। সোয়া সাতটার দিকে মেসের দিকে রওনা হলেন তিনি। সাথে হারুন আর কবির। বেলায়েত, শহীদ আর মুনির সহ আরও কয়েকজন সৈনিকও তাদের সাথে আছে ছায়ার মত। সবাই সশস্ত্র। কোম্পানি কমান্ডার আর অফিসারদের অস্ত্র শস্ত্র সহ আসতে দেখে অন্যান্যরাও ঝট পট অস্ত্র নিয়ে তৈরি হচ্ছে। সব কিছু হচ্ছে নিঃশব্দে, কোন হুকুম ছাড়া, মনে হচ্ছে অদৃশ্য কোন শক্তি ইউনিটের সব বাঙ্গালিকে এক সুত্রে গেঁথে ফেলেছে। তাঁরা কথা না বলেও একে অন্যের ভাষা বুঝতে পারছে।

শাফায়াত যখন নাস্তার টেবিলে পৌছলেন ততক্ষণে সাদেক আর আমজাদের খাওয়া শেষ। তারা খিজির হায়াতকে শুধু সঙ্গ দিচ্ছেন। একটু দূরে সোফায় বসে গল্প করছে আবুল আর আখতার। এমন সময় একজন জেসিও এসে সিওকে জানালেন, ডেল্টা কোম্পানিতে একটু সমস্যা হয়েছে। ডেল্টা , সাদেক নেওয়াজের কোম্পানি। তিনি তখনই যেতে চাইলেন কোম্পানি এলাকায়। সিও খাওয়া শেষ না করেই রওনা দিলেন তার পিছে। শাফায়াত মিটিঙের সময় কিছু একটা করার প্ল্যান করেছিলেন। খিজির হায়াত, সাদেক নেওয়াজকে উঠে যেতে দেখে তাঁর মনে হল, সুযোগটা হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। তিনি সিও কে বললেন, স্যার আই থিঙ্ক ইউ নিড নট ওরি, মেজর সাদেক এন্ড আই ক্যান হ্যান্ডেল ইট। সিও বললেন ইটস ওকে আ’ল বি জাস্ট এরাউন্ড ইউ। রুম থেকে বেরিয়ে যাবার সময় টেবিলের পাশ দিয়ে ঘুরে এসে শাফায়াত আখতারকে ফিস ফিসিয়ে কিছু একটা বললেন। আখতার প্রথমে বুঝলেন না। যখন বুঝলেন বিস্ময়ে বিমুঢ় হয়ে গেলেন। তাকে সাদেকের রুম থেকে সাদেকের এসএমজিটি সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। বাইরে সিওর রানার (আর্দালি) পিস্তল কোমরে ঝুলিয়ে সিও’র ইউনিফর্ম নিয়ে ঘোরাঘুরি করছে। অন্যান্য লোকজনও আছে। দিনের বেলায়, প্রকাশ্যে, আর এক জন অফিসারের রুমে ঢুকে তাঁর অস্ত্র নিয়ে নেওয়া, বিশেষ করে এই পরিস্থিতিতে কত খানি বিপজ্জনক! তবে আখতার বেশি ক্ষণ ভাবাভাবির সময় পেলেন না। সম্মোহিতের মত তিনি সাদেকের ঘরে ঢুকে গুলি ভরা ম্যাগাজিন সহ এসএমজিটি নিলেন। শাফায়েত ততক্ষণে রেস্ট হাউসের সামনের ফুটপাত পেরিয়ে পিচের রাস্তায় উঠে পেছনে অন্যান্যদের দিকে তাকিয়েছেন, সিওও পিচের রাস্তার কাছাকাছি পৌছে গিয়েছেন, তার পেছনে সাদেক আর আমজাদ । একটু দূরে কবির আর হারুন, গাফফার আর আবুল হোসেন সম্ভবত তখনও ডাইনিং রুম থেকে বের হননি। সাদেক হঠাত একটা বললেন হাত তুলে বললেন, ‘ঠাইরো ইয়ার শাফাত মেরা স্টেন ঠো লেকে আতা…’
পেছন থেকে শুনতে পেয়ে আখতারের মাথায় আবার ভাবনাটি ফিরে এল, এখন কী হবে? সাদেক যদি ফিরে আসে … তবে সাদেকের আর ফেরা হল না। ফেরার জন্যে তিনি ঘোরা কেবল শুরু করেছিলেন। তবে সেটা শেষ হলনা। শাফায়াতের চিৎকারে থেমে যেতে হল। শাফায়াতের মুখ থেকে উচ্চারিত ‘স্যার’ সব কিছুকে থামিয়ে দিল। স্যার শব্দটি এত আচমকা এবং এত জোরের সাথে এল যে মনে হলে এইই নিরীহ সম্বোধনটি অনেক ব্যাপ্তি নিয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

আখতার তার এসএমজি কক করে বাগিয়ে ধরলেন, সাদেক আধপাক ঘোরা অবস্থায় তার জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়লেন, সিও সিও’র জায়গায়, আমজাদ আমজাদের, কবির কবিরের জায়গায় স্থির দাঁড়িয়ে গেল পাথরের মত। এর মধ্যেই শাফায়াতের গলা শোনা যেতে লাগলো,
You have declared war against unarmed people of our country. You have perpetrated genocide on our people. We, as Bengalee soldiers cannot accept this any longer. Therefore, I, as the senior most Benaglee officer am taking over the command of this battalion. Your life and security will be my personal responsibility, Please follow me.
মুহুর্তেই বদলে গেল সব কিছু। বন্দী তিন জন মাথা নিচু করে সাদেকের পিছু পিছু যেতে থাকল। কোন কিছুই আর আগের মত রইলো না। জয় বাংলা ধ্বনিতে প্রকম্পিত হতে থাকলো চারদিক। ২৫ তারিখ রাতে যাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল, সেই সব সাধারন মানুষ হঠাত করেই নিজেদের ভেতরের বিষ্ময়কর শক্তির হদিস পেয়ে অসাধারণ হয়ে উঠলো।

ফেসবুক থেকে

সুত্রঃ মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টর এবং কে ফোর্স, বারবার ফিরে যাই, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, রক্তাক্ত মধ্য- আগস্ট ও ষড়যান্ত্রময় নভেম্বর

১৫,১৪৩ বার দেখা হয়েছে

১৭ টি মন্তব্য : “শুভ জন্মদিন মেজর আখতার আহমেদ বীর প্রতীক”

  1. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    সালাম স্যার (আমরা ক্লাশ সেভেনে আপনাকে এডজুট্যান্ট পেয়েছিলাম)।
    জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি'তে রুমীর বয়ানে মেজর আখতারের গল্প জেনেছিলাম। টুকরো টুকরো করে পড়েও অনেক ইনসপায়ার হলাম।
    শেয়ার করবার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
    শুভকামনা।

    জবাব দিন
  2. মাহবুব (৭৮-৮৪)

    এগুলা কি আসলেই সত্য গঠনা, না ফ্যান্টাসি! মনুষ গুলা এইভাবে জ্বলে উঠলো কিভাবে? যতই পড়ি তত ভাবি ার বিস্ময়ের পারদ চড়তে থাকে।
    স্যালুট আওয়ার হিরোজ ::salute::

    জবাব দিন
  3. সাইদুল (৭৬-৮২)

    মাহবুব
    আমার পরবর্তী বই এর নাম সম্ভবত যুদ্ধ যাত্রা। একাত্তরের যুদ্ধ সত্যিকার অর্থে সংগঠিত হতে শুরু করে এপ্রিলের ৪ তারিখ থেকে। মার্চের ০১ থেকে এপ্রিলের ৪ তারিখ পর্যন্ত সময় কাল নিয়ে ডকু ফিকশন 'যুদ্ধ যাত্রা, ওল্প কয়েক ফর্মার বই, লিখতে সময় লাগছে প্রায় দুই বছর, কারণ তথ্য যাচাই বাছাইয়ে সময় যাচ্ছে অনেক


    যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

    জবাব দিন
  4. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    অনেক দিন পর পড়া হলো এই সব উদ্দীপ্ত উদ্দাম সাহসিকতার কাহিনীর কয়েক স্তবক।
    শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ এমন মানুষটিকে এভাবে এখানে তুলে ধরবার জন্য ।
    উনার এবং উনার ক'জন সহযোদ্ধার কথা শোনার সৌভাগ্য হয়েছিলো একটা ডকুমেন্টারী করতে গিয়ে ...
    সেই উদ্দীপনায় ঘুরে এসেছিলাম "বাংলাদেশ হাসপাতাল"-এর সেই প্রথম ফিল্ড স্পট, প্রথম ফরেস্ট বাংলো, আম বাগানের ভেতর গড়ে ওঠা সেই অনন্য হাসপাতাল, তার পর মেলাঘরের সেই মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্প এলাকা। ঠিক যেখানটায় খালেদ মোশারফের তাবু ছিলো। তার পর ঘুরে বেরিয়েছি বেশ কদিন আগরতলার পাহাড়ে পাহাড়ে আমি, আমার এক সিনিয়র বন্ধু আর এন্ডিটিভির ভাড়া করা এক ক্যামেরাম্যান। ঘুরতে ঘুরতে এক এক দিন চলে যেতাম এক এক দিকে । গিয়েছিলাম হরিণা পর্যন্ত। মেজর জলিল, মেজর জিয়া, শেখ মুজিবের পরিবারের সদস্যরা কেউ কেউ যে বাড়ীতে থাকতেন। খুঁজে বের করেছিলাম পিটিআই এর সেই টাইপরাইটার যা দিয়ে লেখা হয়েছিলো জাত সংঘের উদ্দেশ্যে সেই চিঠি "স্টপ দিস জেনোসাইড" ...
    কতো কি স্মৃতি, কতো কতো সাহসী যোদ্ধার স্মৃতি যে উস্কে দিলেন এই লেখায়।
    অপার ধন্যবাদ আপনাকে সাইদুল ভাই।

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : লুৎফুল (৭৮-৮৪)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।