অচেনা চীনে – সদাই পাতি ৩

কী কিনবেন, কোথায় কিনবেন।

এসইজি

এসইজি

চীনে ব্রান্ডশপের অভাব নেই। লোঙ্গাগের এই অঞ্চল্টায় নোকিয়া, স্যামসং আর রিবোকের পাশাপাশি নানান চাইনিজ ব্রান্ডের ছড়াছড়ি। সুপারস্টোর গুলির মধ্যে রেইনবো, পিংজো বায়হুয়ো, Maove, Zhuhai, জনপ্রিয়। দুনিয়ার প্রায় সব কিছুই চীনে পাওয়া যায়। বাংলাদশের মানুষ সাধারণতঃ কুনমিং হয়ে চীনে যায়। বেজিং এখান থেকে অনেক দূরের পথ। সেনঝেন থেকেই বিমানে বেজিং যেতে লাগে ৩ ঘন্টার বেশি। আর কুনমিং থেকে সেনঝেন প্রায় দুই ঘন্টার আকাশ দূরত্বে। আমাদের জন্যে তাই শপিং করার সেরা জায়গা সেনঝেন। চীনের মুক্ত বাজার অর্থনীতির সূচনাও হয়েছিল এখানে। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আগে দেং জিয়াওপিং’র বিখ্যাত উক্তি (বিড়ালটি সাদা না কালো সেটি বড় কথা নয় যতক্ষণ পর্যন্ত সে ইদুর ধরতে পারে।) চীনে বাজার অর্থ নীতির পথ দেখিয়েছিল।কট্টর কমিউনষ্টরা এতে শ্রেণী সংগ্রামের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ঘাতকতার গন্ধ পেয়ে বলে উঠেছিল, ‘ধীর গতির সোশালিস্ট ট্রেন সে যত ধীরেই চলুক দ্রুত গতির ক্যাপিটালিস্ট ট্রেনের চেয়ে ভালো’।দেংএর জীবন দুর্বিষহ হয়ে ঊঠেছিল এসময়।
১৯৯২ সালে দক্ষিণ অঞ্চল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি উচ্চারণ করলেন, ‘কাইফেং’ (খুলে দাও)। বলাযায় মুক্তবাজার অর্থনীতিতে চীনের প্রবেশ সেইলগ্নেই। দেং তখন বৃদ্ধ হয়েছেন। রাষ্ট্রপ্রধান হবার মোহ তাকে পেয়ে বসেনি।
দেং এর আরেকটি বচন ‘To become rich is glorious’ চীনে ব্যক্তি মালিকানাধীন শিল্পের প্রসারে অবদান রেখেছে। বিশ্বের প্রায় সব নামকরা কোম্পানীই চীনের দিকে ঝুঁকেছে ধীরে ধীরে।

China 4

সেনঝেন সিটির বয়স মাত্র তিরিশ বছর। এই তিরিশ বছরেই সেনঝেন হয়ে উঠেছে ব্যাবসার প্রাণকেন্দ্র। সেনঝেনের লোওহু কমার্শিয়াল সিটির খ্যাতি বিশ্ব জুড়ে। পাঁচতলা এই শপিং সেন্টারে দোকান আছে সাতশোর মত। আপনি যা কিছু খঁজছেন তার প্রায় সবই পাওয়া যায় এখানে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের পছন্দের শপিং সেন্টার কমার্শিয়াল সিটি। এই শপিং সেন্টারের পুরো পাঁচ তলা জুড়ে রয়েছে পোশাকের দোকান। তৈরী পোশাক ছাড়াও বিভিন্ন রকম টেইলরশপ আছে যেখানে স্যুট থেকে শুরু করে যে কোন পোষাক তৈরি করা যায় এক ঘন্টায়। অন্যান্য ফ্লোরে আছে জুয়েলারি, জুতা, কম্পিউটার এক্সেসরি, খেলনা, শপিং ব্যাগ।

নকল থেকে আসল সবই পাওয়া যায় এখানে। দর দামের সময় আসল জিনিষের দাম সম্পর্কে ধারণা থাকা ভাল। এই মার্কেটে শপিঙ্গের সময় মনে রাখতে হবে নিচের ফ্লোর গুলিতেই মূলত; নকলের ছড়াছড়ি। দোকান যত ঊঁচুতে পন্যের মান তত ভাল।
ইলেকট্রনিক্সের আর কম্পিউটারের জন্যে সবচেয়ে ভাল জায়গা হুয়াংশিঊ বে (ইংরেজিবানানে হুয়াংককিউও বেই)। সেনঝেনের বিখ্যাত এসইজি মার্কেটও এখানেই। কম্পিঊটার, মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ঘড়ি, এলইডি, চীপস, ট্রানজিস্টার সব কিছু আসল এবং নকল সবই পাওয়া যায় এখানে। এসইজি মার্কেটের একটি পুরো ফ্লোর জুড়ে রয়েছে এলইডি, ট্রাঞ্জিস্টার, রেজিস্টার এসবের দোকান। বেশির ভাগ দোকানই খুব ছোট বড় বড় কোম্পানীর মালামালের স্যাম্পল সাজিয়ে বসে থেকে পাইকাড়ি দোকানের ক্রেতারা, পরিমানে বেশি চাইলে হাতে পাবেন দোকানের কার্ড, আপনার মোবাইল নম্বরও রাখবে তারা, ফোন পাবেন সময়ে অসময়ে, যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা নিশ্চিত হচ্ছে যে জিনিষটি আপনি কিনে ফেলেছেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্টিকারও এখানে প্রকাশ্যে বেচাকেনা হয়। কপালে থাকলে দেখতে পারবেন কিভাবে আপনার চোখের সামনেই সাধারণ একটি পন্য অসাধারণ হয়ে ঊঠছে স্টিকারের গুনে।

ডংমেন

ডংমেন

সস্তায় জুতো কিনতে হলে চলে যাবেন ডংমেন মার্কেটে, এই মার্কেটের একটি ফ্লোর শুধু জুতোর জন্যেই বারদ্দ। পৃথিবীর সকল ব্র্যান্ডের জুতোই এখানে পাবেন। চাইনিজ ব্র্যান্ড গুলির দাম পশ্চিমা ব্র্যান্ডের জুতোর চেয়ে অনেক বেশি। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে ফুটপাতে এই জুতোগুলি পাওয়া যায় তার চেয়ে অনেক কম দামে। ডংমেন মার্কেটে জুতোর পাশাপাশি অন্যান্য পন্যের ব্র্যান্ড শপও আছে ডংমেনে।
সুপার মারকেট ও ডিপারট্মেন্টাল স্টোর

দেং জিয়াওপিং

দেং জিয়াওপিং

চীনের সুপারমার্কেটে পাওয়া যায় না এমন কিছু নেই।শুনলে অনেকেই বিস্মিত হতে পারে আমি প্রথম দিকে সুপারমার্কেটে যেতাম খাবার কেনার জন্যে। সবজি, ফল, রুটি, চকোলেট সহ অনেক কিছুই ওজনে বেচাকেনা হয় সুপার মার্কেটে। পরে বুঝলাম সুপার মার্কেটের প্রায় ৭৫% দামে ওই একই পণ্য পাওয়া যায় ফুটপাতে অথবা কিচেন মার্কেটে। এককেজি আপেল সুপার মার্কেটে কিনতে হয় ১২০ টাকায়(বাংলাদেশি টাকার হিসাবে) বাইরে এর দাম ৭০- ৮০’র বেশি নয়। পিচ ফলের কেজি ১২০টাকা, আঙ্গুর ৮০, প্লাম ৬০, নাশপাতি ৬০, রানবুটান ৮০-৯০।
সুপার মারকেট গুলোর মধ্যে কেকে মল, রেইন বো, ওয়াল মার্ট, সানিং, মিক্স সি বিখ্যাত। তবে সেনঝেনের সবচে’ বিখ্যাত শপিং মল কোকো পার্ক পিংডিতে ঝাপি খুলেছে আমি চলে আসার পর।।

১,৫১৭ বার দেখা হয়েছে

১৪ টি মন্তব্য : “অচেনা চীনে – সদাই পাতি ৩”

  1. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    আমাদের এই দেশে প্রতিটি শহরেই একটি করে চায়না টাউন আছে, ভাইয়া। সেখানে চারপাশে হাজারও মানুষ চি চি করে কত কী বলছে। চায়না টাউনে যেতে যে মন্দ লাগে তা নয়, ঘুরেফিরে বেড়াতে ভালই তো লাগে। তিন ডলারে লান্চে পেট পুরে কত কী খাওয়া যায়। কিন্তু অই একবারই যাওয়া, তাও আবার চক্ষুকর্ণের বিবাদ মেটাতে।

    জবাব দিন
  2. মোস্তফা (১৯৮০-১৯৮৬)

    এই পর্বে আরেকটি নতুন স্রোত এসে মিশলো। রাজনৈতিক দর্শনের স্রোত। এমন বহুস্রোতা রচনা অতিপ্রজ না হলেও চলে।


    দেখেছি সবুজ পাতা অঘ্রানের অন্ধকারে হতেছে হলুদ

    জবাব দিন
  3. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র, জীবন যাপন, ধর্ম বিশ্বাস, পথ ঘাট, ভাষা, ভাবনা, এমন কি জিনিস পত্রের বাজার দর কিছুই বাদ থাকে নি ।
    সত্যিকারের ভ্রমনেও হয়তো সবার চোখে এতো কিছু ধরা দিতো না । আপনি সাবলীল শব্দের বুননে যা সহজেই গিলে খাওয়ালেন আমাদের।

    জবাব দিন
  4. সাইদুল (৭৬-৮২)

    আমারতো গড়িয়ে বেড়াতে ভালোই লাগে। গড়াতে গড়াতে যা কিছু জড়ায়, ব্লগে পেঁয়াজের খোসার মত তাই খুলতে চেষ্টা করি


    যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

    জবাব দিন
  5. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    "দোকান যত ঊঁচুতে পন্যের মান তত ভাল" - যাক, তবু তো একটা সিস্টেমের মধ্যে পড়লো!
    লেখা খুব ভালো হয়েছে। চীনে এবারে যেতেই হবে। যাবার আগে তোমারকাছ থেকে ব্রীফিং নিতে হবে আবারো।
    মন্তব্যটা ভুল জায়গায় চলে গিয়েছে বলে আবারো দিলাম।

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।