ছড়ায় না শিউলি ফুল

** পর্ব ১ **
বাবার সরকারি চাকুরির সুবাধে বিভিন্ন জায়গা ঘোরা হয়েছে বেশ । তবে সে বয়সটা ১০-১২এর দিকে, ঘুরে বেরানোর তখন সময় ছিলনা । এ স্কুল থেকে ঐস্কুল, এভাবেই কাটত । সেসময়ে আমার কোন ব্যক্তিগত অনুভূতিও ছিলনা । বাবা-মা যেভাবে ভাবতেন সেভাবেই হত । মা হাত ধরে নিয়ে যেতেন অমুক শিক্ষক থেকে তমুক শিক্ষকে । সব মিলিয়ে আমার কোন বন্ধুও ছিল না তাই । আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। বাবার পোস্টিং তখন নাসিরাবাদে । ঐখানে পড়াশোনা তেমন ভালো ব্যবস্থা ছিল না । বাবা আমাকে ক্যাডেট কলজে প্রিপেরেশনের কথা বললেন । ঢাকা শহরের কোচিংয়ের ব্যবস্থা করলেন । বাবামার ইচ্ছেটুকু ধারন করেই প্রথম ঢাকায় আসলাম, মোহাম্মদপুরে খালার বাসায় উঠলাম ।
সময়টা খুব সম্ভবত বছরের শুরুর দিকেই । ক্লাস সিক্সের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে এসেছিলাম । আমার খালার বাসার এক-দুই কিলো দূরেই আমার কোচিং । ক্যাডেট কলেজের ভর্তির জন্য রানা স্যারের এই কোচিংটা ঐ এলাকার সবচেয়ে পপুলার । পায়ে হাঁটার পথ । ঢাকায় আসার ব্যাপারে বাবা ডিসিশন নিতে বেশি সময় নিয়েছিল বলে কোচিংয়ের সবার পরেই আমার ভর্তি হয়েছিল । নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়া আর একয়দিনের গ্যাপ কভার করা অবশ্যই কঠিন ছিল । রানা স্যারের প্রথম দিনের ঘটনা তাই অনেকটা স্পেশাল ।
একটা মানুষ কতটা রাগি হতে পারে তা স্যারের ক্লাসে ঢোকার দৃশ্যেই পরিষ্কার হওয়া যায় । গোটা ক্লাস্টাই তখন স্টিল পিকচারের মত স্থবির । আমি আমার প্রতিটি হৃদ স্পন্দনকে আলাদা করে শুনতে পাচ্ছিলাম । রানা স্যার হাতের বইগুলোকে টেবিলে সযত্নে রাখলেন । সবার দিকে একবার চোখও বুলালেন । সময়টা যেন ম্যাট্রিক্স মুভির মত স্লো হয়ে গেল । স্যারের একটা স্ট্রেটিজী বলতে পারি, উনি প্রথম যাকে ক্লাসে দেখেন তাকে কয়েকটি প্রশ্ন করেন । চমকে দেয়ার জন্য নাকি একটা ভীতি তৈরি করার জন্য আমি তা জানিনা । এইটা শুধু তার একটা কৌশল মাত্রও হতে পারে ।

(..to be continued)

লিখাটির শিরোনাম অর্নবের “হারিয়ে গিয়েছি” গানের কথা থেকে নেয়া। ফার্স্ট পারসন ভূমিকায় আছেন একজন কাল্পনিক চরিত্র।

২,১০৫ বার দেখা হয়েছে

১টি মন্তব্য “ছড়ায় না শিউলি ফুল”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।