একালের মেসি, সেকালেই থাকত

সিলেট ক্যাডেট কলেজের তিতুমীর হাউস, বর্ন নীল। ঐ হাউসের ২৫তম ব্যাচের ফুটবল টিমটি ছিল যেন একদম আর্জেন্টিনার কোচ সাবেলার হাতেই গড়া।
Dr-Imrul Kayes Shakil ছিল সবসময় সব জায়গায়। আর বাকীরা দৌড়াইতো তার পিছে পিছে। অনেকটা হিগুয়েন আর লাভাজ্জিদের মতন। আমাদের মেসি ভাবাপন্ন কায়েস কখনই গোল্ডেন বল জিতেনি, জিতেছে অনেক জুনিয়রের মনের হৃদয়। যতটুকু মনে পড়ে এই কঠিন হৃদয়ে সে একবার ইনজুরি লাইনে ঘুরপাক খেয়েছিল। তাই মেসিহীন টিমের অবস্থা নেইমারহীন ব্রাজিলের মতই স্পষ্ট। অতঃপর একদিন সে মেসি হতে গিয়ে ফাঁকা পোস্টে পালাসিও হয়ে যায়।
Shahnewaz Hossain আর Nahid Hosen থাকা মনেই দল বরাবর সুপারহিট। যেমন প্রতিবারের ফেভারিট আর্জেন্টিনা, ম্যারাডোনার সংখ্যাঃ পাঁচ। অনেক শু-শা ছিল, কিন্তু গোলের ব্যাপারে তারা ছিল ফ্রেডের ন্যায়ই কৃপণ।
Sheik Nomaan নামে হঠাত একজন এসে ম্যারাডোনার সংখ্যা এক বাড়ায় দিল।
Tanvir Alam নামে একজন লম্বা মারিয়া আছে, যে কিনা প্রেকটিসে ছিল ম্যারাডোনার বাপ। আসল মাঠে তাকে ডিফেন্ডার Shahadat Hossain এর সাথেও খুঁজে পাওয়া যাইতনা।
আর আমার কথা আর কি বলব? ক্যাপ্টেন কায়েসের রুমমেট ছিলাম বলে স্বজনপ্রীতিতে চান্স পাইতাম, যেমনটা আছে ম্যারাডোনার জামাতা। একবার ডাবল চেঞ্জ করে আমাকে আর কায়েসকে সাব থেকে সিনিয়রদের সাথে নামায় দেয়া হল। ঐ এক্সপেরিয়েন্স কে অলটাইম পার্টে রেখে বাকীটা কলেজ লাইফ মাসচেরানোর ন্যায় ডিফেন্সে খেলতাম; আর বড় বড় লাত্থাইতাম। Muied Adnan ছিল বলে ঐবার আর ৭টা খাইনি।
এমন একটা টিমের জয়ের সংখ্যা আর ২৪বছর পর ফাইনাল খেলা প্রায় একই কথা। ব্যর্থতা এমন পর্যায় ছিল যে এখন কেউ বিশ্বাসই করতে চাইবেনা আমার কথা। বলবে “নাহ, অসম্ভব! আমি পুরা মেক্সি রদ্রিগেজের মতই খেলেছিলাম।”
বলাই বাহুল্য যে আমাদের গোলকিপার Zahirul Islam Doyel আর রোমেরোর মধ্যে উচ্চতা ছাড়া কোন পার্থক্য ছিলনা।
এদের বাহিরে আমাদের সাব লাইনে যারা ছিল, তারা কলেজ লাইফটা পড়তে পড়তে সাব উজার কারডালা(হিন্দি)।

বিশ্বকাপ দেখার সময় প্রায়ই এই স্মৃতিগুলো মাথায় ঘুরতে থাকত। আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার না, উল্লেখিত নামের অনেকেই না। কিন্তু দলটার অনেক কিছুই আমাকে ২০০০-০৬ সালের গল্পগুলোকে মনে করিয়ে দে। আমাদের মত অনেক ব্যাচেই হয়ত নেইমার-মেসি আছে। শুধু তা নয় রুনি সুয়ারেজও পাওয়া যেতে পারে।
তার মানে তখনকার একটা ইন্টার হাউস কোন অংশেই একটা বিশ্ব আসরের চেয়ে কম ছিলনা।

যুগে যুগে এগিয়ে যেতে থাকবে আমাদের মেসি, হিগুয়েন আর লাভেজ্জি। হয়ত ফুটবলে নয়, ডাক্তারি কিংবা ইঞ্জেনিয়ারিং পেশায়।
ভাল থাক বন্ধুরা, মনে থাকবে তোমাদের সাথে খেলা সেই মাঠ, রিও কিংবা মারকানার মতই উজ্জ্বল, নীল রংয়ে হাঁপিয়ে উঠা কিশোর একদিন অবাক করে দিবে বিশ্ব।

৫৫০ বার দেখা হয়েছে

৪ টি মন্তব্য : “একালের মেসি, সেকালেই থাকত”

  1. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    আমাদের ইনটেকের কাইয়ুম গোল কিপার হয়েও বেস্ট প্লেয়ার হয়েছিল। আমার জানা মতে ক্যাডেট কলেজের ইতিহাসে এটি অন্যতম বিরল একটি ঘটনা! আমার দেখা যত গোল কিপার (বাস্তবে এবং টিভিতে) আছে, তাদের মধ্যে ও-ই সেরা! হি এয়াজ জাস্ট ইমপসিবল! :just: :gulli:

    লেখা ভাল হয়েছে। :clap:


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  2. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    আহ, কলেজের ফুটবল। গোলকিপিং করে তিন কম্পিটিশনের পরে তিনবার হাতে প্লাস্টার লাগাতে হইছে, ভাগ্য ভাল কোনবারই ভাঙ্গে নাই 🙂

    তবে আমাদের ক্লাসে নিজেদের দুইটা দল ছিল, ক্রেজি বয়েজ আর বুড়ো বস :)) এই দুই দল নিয়মিত খেলে গেছি, এই খেলাগুলো ইন্টার হাউজের চেয়ে বেশি এক্সাইটিং ছিল 🙂


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।