বন্ধু…তোকে মনে পড়ে – ১

গত কদিন ধরে অনেকবার সিসিবিতে এসেছি, কমেন্ট করতে অথবা কিছু লিখতে… কিন্তু পারিনি। আমার হাত চলেনি… মন টানেনি। নিজের সাথে যুদ্ধ করে পরাস্ত হয়ে বার বার ফিরে গিয়েছি… যতবার সিসিবিতে আসি বারবার চোখ ভিজে উঠে, মনিটর ঝাপসা হয়ে আসে… লিখতে না পেরে উঠে চলে যাই… আবার আসি, পড়ি, আবার ঝাপসা দেখি…বারবার ভাবি লিখব কিন্তু লেখা আর হয়ে উঠেনা…

এ কদিন অনেক কেঁদেছি…অনেক…। আমি কোনদিনও এভাবে কাঁদিনি, এমনকি নিজের আত্নীয়ের মৃত্যুতেও না। কাঁদলে নাকি মন হালকা হয়, কষ্ট লাঘব হয়। তাই আমি কেঁদেছি, ইচ্ছেমতো কেঁদেছি। দরজা বন্ধ করে কখনো পিসির সামনে বসে, কখনো বিছানায় শুয়ে, কখনো বা জায়নামাজে বসে… এখন কিছুটা হালকা লাগছে। তাই সাহস করে লিখতে বসলাম, জানিনা কতটুকু পারব…

সেই ১৯৯২ সালের এপ্রিল থেকে তার সাথে আমার পরিচয়… প্রায় সতের বছরের পরিচয়। আমি ছিলাম মেঘনা হাউসে, ও ছিল তিতাসে। আমার ক্যাডেট নং ৬২৩ আর ওর ৬৬৩। দুজনেরই নম্বর বেজোড় হওয়াতে আমরা ছিলাম একই ফর্ম – “এ” ফর্মে। তাই ক্লাস সেভেন থেকে টুয়েল্‌ভ পর্যন্ত পুরো সময়ের একাডেমিক টাইমটা ছিলাম আমরা কাছাকাছি। হাসিখুশি এই ছেলেটি ছিল সবারই প্রিয় বন্ধু। তার স্বভাবসুলভ হাসি, দুষ্টামি আর বন্ধুদেরকে টিজ করে মজা পাওয়ার মতো কমন সব গুনের পাশাপাশি যে কারনে সবাই ওর প্রতি বেশি উৎসুক ছিল তার প্রধান কারন ছিল দৈহিকভাবে সুঠামতার পাশাপাশি বেমানান ভীতু আচরন। ভুতপ্রেতকে ও খুব ভয় করত। তাই অনেকবারই ওকে ভুতের ভয় দেখানোর জন্য আমরা তিন তলা থেকে নেমে গিয়ে একতলায় তিতাস হাউসে গিয়ে ওকে ভুতের ভয় দেখাতাম। রাতের অন্ধকারে কখনো লকারের উপরে সাদা পাঞ্জাবী পরে দাঁড়িয়ে, অথবা কালো কম্বল জড়িয়ে জানালায় দাঁড়িয়ে, অথবা ওর বেডের নিচে লুকিয়ে বিভিন্ন ভৌতিক শব্দ করে… কতভাবেই না ওকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করতাম। ও জানতো ঠিকই যে, আমরাই ভূত সেজে ওকে ভয় দেখাচ্ছি, কিন্তু তারপরও ও ভয় পেত আর ভীতু চোখে চোখ বড় বড় করে বলত “এই ভূত, যাহ, যাহ বলছি…যাহ…” আমরা তাই খুব মজা পেতাম, এবং আরো ভয় দেখাতাম। পরদিন সকালে সবজেনে ও খুব হাসত আর আমাদের টিজনাম ধরে ডেকে মজা করত। এমনই সহজ সরল এবং ভীতু ছিল আমার এই বন্ধুটি।

একবার হলো কি, তিতাস হাউসে গুইসাপ ঢুকেছে এরকম একটা গুজব ছড়িয়ে পড়ল। যেহেতু তিতাস হাউস নিচতলায় সেহেতু গুজবটা মাজহার বিশ্বাস করল। ওর ছিল আবার প্রচন্ড সাপের ভয়। গুইসাপ ওর কাছে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাণী!!! ও গুইসাপের নাম শোনামাত্র রুমের দরজা আটকে একলাফে লকারের (আলমারীর) উপরে উঠে পড়ল। সেই যে উঠল, আর নামে না। রুমের দরজাই যদি বন্ধ করল, তাহলে লকারের উপরে উঠার দরকারটা কি ছিল বলেন তো? পরে তাকে লকারের উপর থেকে নামিয়ে দরজা খোলাতে তিতাস হাউসের পোলাপাইনদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছিল।

এ্যাথলেটিক্সের সময় টের পেলাম আমার এই বন্ধুটি যতই ভীতু হোক, শারীরিকভাবে খুবই সুঠাম ও শক্তিশালী। আমাদের চেয়ে ইমিডিয়েট বড়ভাই হায়দার ভাইয়ের সাথে যখন ওর বেষ্ট এ্যাথলেট এর ক্রেষ্ট এর কম্পিটিশন শুরু হলো তখন সারা কলেজ জুড়ে টেনশন, কে হবে এবারের বেষ্ট এ্যাথলেট? আমাদের মাজহার নাকি হায়দার ভাই? দুজনের মধ্যে তাই প্রচন্ড স্নায়ুযুদ্ধ। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। ২০০ মিটার স্প্রিন্টে সেবার হায়দার ভাই ফার্ষ্ট হলেও ১০০ মিটারে মাজহার দিল হায়দার ভাইকে হারিয়ে। ওদিকে হায়দার ভাই আবার হোপ ষ্টেপে করে ফেলল কলেজ রেকর্ড। হায়রে, আজ যে এই দুজনের কেউই নেই !!! দুজনেই একসাথে চলে গেল…

মাজহারের এ্যাথলেটিক্স আর খেলাধুলায় পারদর্শিতার পাশাপাশি নেতৃত্বের গুনাবলীর কারনে ওকে কলেজ গেমস প্রিফেক্ট বানাবে নাকি হাউস প্রিফেক্ট বানাবে তা নিয়ে এ্যাডজুট্যান্ট সহ কলেজ কর্তৃপক্ষ বেশ বিপাকেই পড়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে তাকে হাউস প্রিফেক্টের দায়িত্ব দেয়া হলো। সফল ভাবেই হাউস পরিচালনা করল ও। হাউসের সবার সাথে ছিল ওর খুব ভাল সম্পর্ক।

কলেজ থেকে বের হবার পড়ে ঢাকার মিরপুর ১ নম্বরে কয়েকমাস একসাথে ছিলাম আমি আর আমার আরেক বন্ধু মোজাম্মেল। আমাদের কাছাকাছি কল্যানপুরে আরেকটি মেস ভাড়া করে তাতে উঠেছিল টাঙ্গাইল গ্রুপ। আমাদের মাজহার, আহসান, এমসিসির তাইফুর ছাড়াও সিসিআর এর … (নামটা এই মূহূর্তে মনে আসছে না… এখন নেভীতে আছে) সহ আরো কয়েকজন একসাথে থাকত ওরা। মাঝেমাঝে যেতাম আড্ডা দিতে। ওরা সব একসাথে কোচিং করত, তাই একসাথেই থাকত। খুব মজা লাগত ওদের সাথে আড্ডা দিতে। আমার এই বন্ধুটি ছিল সবার সাথেই খুব মিশুক। সারাক্ষন চোখেমুখে তার হাসি লেগেই থাকত।

ক্যামেরার সাথে মাজহারের যেন আজীবন শত্রুতা ছিল। যখনই কোন ছবি তুলত, তা ওয়াশ করার পর দেখা যেত ওর চোখ লাল হয়ে জ্বলজ্বল করে সেখানে। যেভাবেই, যে এঙ্গেল থেকেই ছবি তুলুক না কেন, ওর চোখ জ্বলবেই। সেই থেকে ওর নাম হয়ে গেল “চক্ষু”। আমরা খুব মজা পেতাম ওকে এই নামে ক্ষেপিয়ে। বিশেষ করে আহসান, নাফিজ, আকিক, অদ্বিত, রাশেদ, রকিব, তাশফিক, হামিদ, জায়েদ, মুস্তাফিজ, সিরাজ, মাহবুব, মাহফুজ, সুফি, আতাহার, সুফিয়ান, মাহমুদ সহ আমরা আরো অনেকেই শুধু ওকে ক্ষেপাতেই বেশি ব্যস্ত থাকতাম। এই নাম ধরে ডাকলেই ও খুব ক্ষেপে যেত, তেড়ে মারতে আসত আমাকে, তারপর না মেরে আমার দু/একটা নিক নেইম ধরে ডেকে হাসি দিয়ে চলে যেত। ওকে ক্ষেপিয়ে আমরা সবাই নির্মল আনন্দ পেতাম। আর একারনেই সবার কাছে ও ছিল খুব প্রিয় এক ব্যক্তিত্ব। এই মাজহারকে ‘চক্ষু’ বলে কত যে ক্ষেপিয়েছে তার কোন হিসেব নাই; অথচ মরার পরে ওরই একটা চোখ তুলে নিল ঐ অমানুষেরা… হায়রে নিয়তি!!!

মিশনে এসে শুনলাম, মাজহার বিয়ে করেছে, এই গত ডিসেম্বরে। আফসোস করেছিলাম খুব যে, বিয়েতে এটেন্ড করতে পারলাম না, মাজহারের বিয়েতে মজা করতে পারলাম না। শেষ যেবার ওর সাথে দেখা হয়েছিল, আমি তখন ভিআইপি ডিউটিতে প্রেসিডেন্টের বাসভবন বঙ্গভবনে ডিউটিরত। মাজহার এসেছিল ডিজির সাথে। জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বিয়ে করবি কবে, আমাদের ভাবী আসবে কবে? উত্তরে ও বলেছিল, আল্লাহ জানে। আরো বলেছিল, ভাল মেয়ে থাকলে দেখাতে, ওর অভিভাবকরাও ওর বিয়ের চিন্তা করছে। মাজহারের বিয়ের কথা শুনে না যেতে পারায় আফসোস করলেও খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ও বিয়েটা না করলেই বুঝি ভাল হতো… অন্তত আরো কিছু মানুষ তো এই কষ্ট থেকে মুক্তি পেত…

কতই বা বয়স ছিল ওর? ২৮ কি ২৯। আপনারাই বলেন এত অল্প বয়সের একটা প্রাণ এভাবে চলে যাওয়াটা কি মেনে নেয়া যায়? মাত্র আড়াই মাসের বিবাহিত জীবন ওর… এ বিষয়ে আর কিছু বলার ভাষা আমার নাই…

প্রায়ই ভাবি, কি দোষ ছিল আমার এই বন্ধুটির, যার জন্য তাকে এভাবে মরতে হলো? ভাল ক্যারিয়ার, সুঠাম দেহ, পরিপাটী চেহারা, স্মার্টনেস, বুদ্ধিমত্তা, যোগ্যতা, বন্ধুভাগ্য কোন কিছুরই অভাব ছিলনা তার। আর এ কারনেই তো ‘এডিসি’ র মতো গুরুত্বপূর্ণ এ্যাপয়েন্টমেন্টে ওর পোষ্টিং হয়েছিল। ভাল পারফরমেন্সের কারনেই তো এতদিন ধরে এই এ্যাপয়েন্টমেন্টে থাকতে পেরেছিল। একজন নিষ্ঠাবান ও দায়িত্ববান অফিসার হবার কারনেই তো ও ডিজিকে বাঁচাতে চেয়েছিল, সেনাপ্রধানের এডিসির কাছে মোবাইলে এসএমএস করে শেষ মূহূর্তেও ডিজিসহ সবার জীবন রক্ষা করার চেষ্টা করেছিল। এটা কি তার অপরাধ? এজন্য কি তার এমন মৃত্যু প্রাপ্য ছিল যে মৃত্যুর পরেও তার উপর অত্যাচার করা হলো… তাকে সুয়্যরেজের লাইন দিয়ে ভেসে যেতে হলো???

আমাদের ক্ষমা করে দিস বন্ধু, আমরা তোর যোগ্য মর্যাদা দিতে পারলাম না। এই দেশ তোকে মূল্যায়ন করতে পারলনা। তোর তো অনেক অনেক দূর যাবার কথা ছিল, এই দেশকে অনেক কিছু দেবার ছিল… অনেকেই জানলনা যে তারা কি হারাল।

আজ ক্ষোভে, ঘৃনায় ও লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে… আমরা যে তোর মূল্যায়ন করতে পারলাম না… একটুকুও শান্তি পাচ্ছিনারে… তোর তো এভাবে যাওয়ার কথা ছিলনা…

আর কোন রিউনিয়নে তোকে দেখতে পাবনা, তোকে ক্ষেপাতে পারবনা, ‘চক্ষু’ বলে ডাকতে পারবনা…তোর সুন্দর হাসিমাখা মুখটা আর দেখতে পারবনা… এসব ভাবতেই পারছিনা… আমার বিশ্বাসই হচ্ছেনা যে, তুই আর নাই আমাদের মাঝে…

জানিনা আমরা এই অন্যায়ের বিচার করতে পারবনা কিনা, আমাদের বিচারে তোর আত্না শান্তি পাবে কিনা? তবে এটুকু জানি যে, তোকে আর এই দুনিয়ায় ফিরে পাবনা…পাব আরেক দুনিয়ায়…একটু অপেক্ষা কর বন্ধু… আমরাও আসছি… দেখা হবে বন্ধু…একদিন…দেখা হবেই…

আজ দেশ থেকে ১৮০০০ কিঃমিঃ দূরে বসে কিছুই করতে পারছিনা… শুধুমাত্র ক্রন্দন, আক্ষেপ আর নিস্ফল আক্রোশ ছাড়া… তাই শুধু দোয়া করি, যেখানে চলে গিয়েছিস, সেখানে যেন ভাল থাকিস, তোর আত্না শান্তিতে থাকুক…

আর আমাদের ক্ষমা করে দিস দোস্ত, তোর জন্য কিছুই করতে পারলাম না… আমাদের ক্ষমা করে দিস ভাই…

এখন থেকে প্রতি ফেব্রুয়ারীতে আমি এভাবেও গান গাইবঃ

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো পচিশে ফেব্রুয়ারী
আমি কি ভুলিতে পারি?”

আরো অনেক কিছু লেখার ছিল, বলার ছিল…আরো অনেক গুছিয়ে লেখারও ইচ্ছে ছিল কিন্তু সব যেন কেমন অগোছালো হয়ে যাচ্ছে।

আর লিখতে পারছিনা এখন… নার্ভেরও তো একটা লিমিট আছে……

২৬ টি মন্তব্য : “বন্ধু…তোকে মনে পড়ে – ১”

  1. তানভীর (৯৪-০০)

    রহমান ভাই, জানিনা কিভাবে আমার কষ্টের কথা বলব। নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে চোখের পানি ফেলতে হয়েছে, পাছে না অন্য কেউ দেখে ফেলে। পুরুষ হয়ে কাঁদা যে অনেক লজ্জার!
    যতবারই মাজহার ভাই কিংবা হায়দার ভাইদের কথা মনে করি তখন বুকের ভেতর থেকে কান্নাগুলো আবার চলে আসে।
    কিছু করতে না পারার অক্ষমতা আর ক্রোধটাকে সংবরণ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে ভাইয়া।
    মাজহার ভাই আর হায়দার ভাই, আপনার ভাইয়েরা আপনাদের কথা কখনও ভুলতে দিবেনা!

    জবাব দিন
  2. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    রহমান ভাই,কি যন্ত্রণা আপনার উপর দিয়ে যাচ্ছে তা অনুভব করার সামর্থ আমার নেই।এটুকু বলব,তথাকথিত বুদ্ধিজীবী আর মিডিয়ার কিছু মানুষ সারা বাংলাদেশ নয়।আজ আর্মি স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখি কত মানুষ এসেছে দেশের সেরা সন্তানদের মৃতদেহকে শেষ বিদায় দিতে...জানাজ়া যদিও হয়নি(পেছানো হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে করা হবে দেখে)তবুও এই সাধারণ মানুষগুলো কিন্তু আমরা যারা নিজেদের শিক্ষিত বলে দাবী করি এদের অনেকের মত অমানুষ নয়।সাহস হারাবেন না ভাইয়া, ভাল থাকবেন।

    জবাব দিন
  3. I am extremely sorry I can’t type bangla and I am not belong to here but I am a HUMAN . . . would you post this or not, doesn’t matter but can’t resist myself.
    I love Bangladesh because I love our defence and my greatest dua would be with all our great mans who are the greatest asset of our country.
    But love to write one thing in Bangla… ” Army vai-der kotha mone hole-e koliza-ta chire jete jay”. vai aee kotha-ta english a likhe mon-ke bujhate parchilam na.
    ekta kolze chira koshto lagche.

    জবাব দিন
  4. আদনান (১৯৯৭-২০০৩)

    ক্যাডেট কলেজের বন্ধুকে-ভাইকে হারানোর কষ্ট অনেক। আমরা সেই ভালবাসার টানটা অনুভব করি... এই কারণে হারাবার কষ্টটা কি হতে পারে সেটাও হয়তো অনেকটাই বুঝতে পারছি।

    ভাই, মনের জোর বাড়ান। আল্লাহ আমাদের সাথে থাকবেন এটাই আশা রাখি; উনি শেষ ভরসা।

    জবাব দিন
  5. আলম (৯৭--০৩)
    এখন মনে হচ্ছে ও বিয়েটা না করলেই বুঝি ভাল হতো… অন্তত আরো কিছু মানুষ তো এই কষ্ট থেকে মুক্তি পেত…

    সায়েদ ভাইয়ের সংগৃহীত ফেসবুকে মাযহার ভাইয়ের শালার কমেন্টগুলো পড়ে আমারও এমন মনে হচ্ছিলো।
    হায়রে নিয়তি, কাল কী হবে তার কিছুই এখন ভাবতেও পারিনা আমরা, কত ক্ষুদ্র আমি...
    শুধু মনে পড়ে মাযহার ভাইয়ের সাথে কলেজের ১ বছর... হায়, তখন যদি জানতাম, মাত্র একযুগ পরে কী ঘটবে...

    জবাব দিন
  6. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    রহমান, দোস্ত অনেক ধন্যবাদ। আমিও ভাবছিলাম, মাজহার এর কলেজের কিছু ঘটনা নিয়ে কিছু লিখব। এর মধ্যেই তোর এই লেখাটা দেখলাম।তুই অবশ্যই গুইসাপ আর লকারের কাহিনিটা লেখা উচিত ছিল। :)) । আর আমার মনে হয় আমরা যেমন ওকে ভয় দেখিয়ে মজা পেতাম, সেও ভয় পেয়ে মজা পেত।

    নাফিজের কাছে ওর খবরটা যখন পেলাম, মালেয়শিয়াতে কেন আছি, এই চিন্তা করে নিজেকে অভিশাপ দিচ্ছিলাম, যে দেশে থাকলে শেষ দেখা করতে পারতাম, জানাজাটা পরতে পারতাম। পরে সানিনের মেইলে পরলাম ওর লাশের কি করা হয়েছে। তখন মনে হচ্ছে দেশে ছিলাম না ভালো হয়েছে, এখন সারা জীবন ওর সেই হাসি-খুশি মুখটাই মনে থাকবে।

    আমি বলব তুই সৌভাগ্যবান যে কেদে মনটা হাল্কা করে ফেলতে পেরেছিস। আমি এখনো কাদতে পারিনি। কান্না পেলেই গিলে ফেলছি, ভাবছি আগে ঘটনা পুরোপুরি শেষ হোক। ওই বেইমানদের কি হয় দেখি। তার পরে হয়তো নিশ্চিন্ত মনে কাদতে পারব।

    আল্লাহ আমার বন্ধুদের ভালো রাখুন।

    As for us, I hope, We will not bury our deads alive ......

    জবাব দিন
  7. মেহবুবা (৯৯-০৫)

    ভাইয়া সত্যি কিছু বলার নাই।কিছুই করতে পারলাম না।
    আমরা আমাদের পরিবারের এতগুলা মানুস কে কিভাবে এতো কস্ট দিয়ে মেরে ফেলতে দিলাম ভাইয়া?আমাদের কি কিছুই করার ছিলনা?
    আমাদের এই ভাইগুলা না দেশ কে ভালবাস তো? তাইলে আমরা কেন তাদের মেরে ফেলতে দিলাম?
    ভাইয়া মৃতু্্য্য র এক টা ধরন থাকে।এর......কি সান্তনা দিব নিজেকে?

    জবাব দিন
  8. রবিন (৯৪-০০/ককক)

    কলেজে থাকতে কতোবার যে স্বপ্ন দেখেছি যে, একদিন হায়দার ভাই এর লং জাম্পের রেকর্ড ভাংবো। এমন কি পরে আইসিসি তেও লং জাম্পে মেডেল পাইছি, কিন্তু সেই রেকর্ড আর ভাঙ্গা হয় নাই।

    জবাব দিন
  9. আমি সেনাবাহিনী বা কোন ডিফেন্স এর লোক নই। তারপরও সেনাবাহিনীর কোন সদস্যের ভুমিকা আমার কাছে ইসলামের স্বর্ণযুগের সাহাবীদের মতো মনে হয়। মাজহার আমাদের হৃদয়ে থাকবে সবসময়।

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।