নারীর কোন দেশ নাই

ভাবছিলাম, শততম ব্লগটি কি নিয়ে লিখবো?
চোখের সামনে ঘটে যেতে থাকা একটা বিষয়, যা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, There is no country for Women – ভাবলাম, সেটা নিয়েই লিখি…

এদেশে যৌন হয়রানি হয়।
ভালরকমেরই হয়।
অথচ এটার প্রতিকার পাবার জন্য সুনির্দিষ্ট কোন আইন নাই।
একবার একটা আইন হয়েছিল, পরে তা সংশোধন করে হয়রানির ক্লজটা বাদ দেয়া হয়।
তাহলে কি যৌন হয়রানি করে যে কেউ পার পেয়ে যেতে পারবে?
না, সেটা যেন না হয় সেজন্য বিকল্প একটা ব্যবস্থা দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালতের বিজ্ঞ বিচারপতিগণ।
প্রথমেই তাঁরা যৌন হয়রানি জিনিষটাকে একটি অপরাধ হিসাবে সংজ্ঞায়ন করেছেন, আগের আইনে যেটা ছিল না।
এরপরে মোবাইল কোর্ট যেন এ ব্যাপারে বিচার করে শাস্তির বিধান করতে পারে সেরকম একটা নির্দেশনা দিয়েছেন।
যদিও এখনো সুনির্দিষ্ট আইনের অভাবে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সীমিত আবার শাস্তিটাও নগন্য, তবুও যৌন হয়রানির অভিযোগ করলে কিছু না কিছু প্রতিকার পাবার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এইবার, সম্প্রতি ঘটা যৌন হয়রানির একটি ঘটনা নিয়ে কিছু বলার আগে যৌন হয়রানির একটা সংজ্ঞা দেখে আসি।
সুপ্রিম কোর্টের রায় বলছে “Indecent gesture, teasing through abusive language, stalking, joking having sexual implication”… এগুলোও যৌন হয়রানি বলে গন্য করা হবে।
তা যদি হয়, একজন বড়বোনপ্রতিম নারীকে নিম্নমানের বিশেষণে বিশেষিত করা, তাঁর বৈবাহিক অবস্থা ও পোশাক নিয়ে নিম্নমানের ও রুচিহীন কটুক্তি করা, তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়ে অশ্লীল ইংগিতবাহি বক্তব্য রাখাটাকে যৌন হয়রানির আওতায় আনাটা কে কি খুবই যৌক্তিক মনে হচ্ছে না?

মনে রাখা দরকার যে এই নারীর কাছে কিন্তু এসব অভিযোগ প্রমানে ইলেক্ট্রনিক প্রমান আছে। আর তাই অভিযোগ প্রমানে তাঁর আর কোন সাক্ষ্য-প্রমানের দরকার পড়বে না। তিনি যদি এসব সহ হয়রানিকারী ঐ ব্যক্তির বিরূদ্ধে মোবাইল কোর্টে অভিযোগ জানান, অতি অল্প সময়েই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ডের একটা আদেশ পাওয়া সম্ভব।
আরও মনে রাখা দরকার যে হয়রানিকারী যেহেতু একজন সরকারি চিকিৎসক, এই দন্ডের পর তাঁর চাকুরিচ্যুতি ও লাইসেন্স হারানোসহ পুরো ক্যারিয়ারটাই লাইন অব ফায়ারে দাঁড়িয়ে যাবে।

এটা ভেবে হোক বা অন্য কোন কারনেই হোক, হয়রানির শিকার নারী, তাঁর অনুজপ্রতিম হয়রানিকারির বিরুদ্ধে অতটা কঠোর না হয়ে ঘটনার অভিযোগ উত্থাপন করলেন সেই কমুনিটিতে, যেখানে এই ঘটনাটা ঘটেছে।

আর আমি অবাক হয়ে দেখতে থাকলাম, তাঁর এই বদান্যতার প্রতিদানে তারই সেই প্রিয় কমুনিটির এক দঙ্গল মেলশোভনিস্ট কি উল্লাসের সাথে তাঁকে আর কি কি ভাবে হেয় করা যায়, আর কি কি কাঁদা তাঁর দিকে ছুড়ে দেয়া যায়, তার আয়োজন করে যাচ্ছেন একে একে………

প্রথমেই বলি এমন কয়েকজনের কথা, যারা শুরুতেই কিছু জানার বা শোনার আগেই ধরে নিচ্ছেন, “ঘটনা যেহেতু একটা ঘটেছে, নিশ্চয়ই উভয়েরই কিছু না কিছু দোষ আছে। আফটার অল, ‘এক হাতে কি আর তালি বাজে?’ খুজে দেখি তো তাহলে, মেয়েটির দোষ কি কি?”
এখানে অভিযোগকারী কিন্তু হয়রানির শিকার নারীটি। বিচার্য হবার কথা, তাঁর অভিযোগে মেরিট আছে নাকি নাই?
এই মেরিট বিচারে সে ডকুমেন্টারি সাক্ষ্য প্রমান দিচ্ছে। যেখানে তদন্তের লক্ষ্য হওয়ার কথা তাঁর সাক্ষ্য-প্রমান বিবেচনায় নিয়ে তাঁর অভিযোগটি প্রমানিত বা অপ্রমানিত হিসাবে নিস্পন্ন করা সেখানে আগ বাড়িয়ে তাঁর (অভিযোগকারীর) দোষত্রুটি খুজে বেড়ানো কোন দেশি সভ্যতা? কোন দেশি বিচার ব্যবস্থ্য?
ও হ্যাঁ, এটা তো সেই দেশেই সম্ভব, যে দেশে নারী কোন মানুষ না – কেবলই একটি রক্ত মাংশের অস্তিত্ব।
আর সেজন্যই শুরুতেই বলেছিলাম, “নারীর কোন দেশ নাই” – মনে পড়ে, রুবী রায়?

এখানেই ঘটনার ইতি হলে মন্দ হতো না।
কিন্তু জানা গেল, কেউ কেউ নাকি এমন অবস্থানে পৌছে গেছেন যে অভিযুক্তকে এক্স মাসের ও অভিযোগকারীকে এক্স মাসের অর্ধেক নিষেধাজ্ঞা দেয়াটাই এই অভিযোগ নিষ্পন্ন করার জন্য যথার্ত।
এর স্বপক্ষে তাদের একজনের যুক্তি হলো, “তদন্তে উঠে এসেছে, মেয়েটি তার চেয়ে কনিষ্ঠ ঐ হয়রানইকারি ছেলেটিকে নাকি এজিটেট করছিল। তাঁর এজিটেশনে স্বস্ত্রীক থাকা ছেলেটিকে বারবার স্থান বদল করেছে।”
বললাম, প্রথম কথা হলো, কাউকে শাস্তি দিতে হলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হতে হয়। অভিযোগকারীকেই সেই অভিযোগ প্রমান করতে হয়।
আপনি যে এই প্রক্তিয়া বাইপাস করে এক অভিযুক্তের সাফাই শুনে অভিযোগকারির শাস্তির বিধান দিয়ে ফেলতে চাচ্ছেন, এটা কোন দেশের কোন আইনে আছে, বলবেন কি?
নাহ্‌, তাঁর বলবার কোন দায় নাই। কারন এটা করা হবে নারীর বিরুদ্ধে।
আর কে না জানে, “নারীর কোন দেশ নাই” আর তাঁরা ভাবেন নারীর পক্ষে দাঁড়ানোর মত কোন মানুষও কোন দেশে নাই।

আরেকজনকে আরও বেশি কুৎসিত ভাষায় (মুখে আনার অযোগ্য) বলতে শুনলাম, “এদের উচিৎ শিক্ষা দেয়া উচিৎ।”
জিজ্ঞাসা করলাম, কেন এবং কিভাবে।
উনি বললেন, তদন্তে উঠে আসবে, আসলে কি হয়েছে – সেই অনুযায়ী যা হবার হবে।
বললাম, তদন্তের শুরুতেই যদি এভাবে তা প্রভাবিত করেন, আর ভিক্টিম ব্লেমিং কে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেন, তাহলে অভিযোগ নিয়ে কি আর কেউ কখনো আসবে?
এটা এমন একটা অপরাধের অভিযোগ যার সাথে শুধু সেই নারীর সুবিচার প্রাপ্তিই নয়, এই কমুনিটির সকল নারীর নিরাপত্তার বোধ করাটা জড়িত। এই সব নারীর মধ্যে আমার আপনার স্ত্রী-কন্যাও অন্তর্ভুক্ত।
অভিযোগকারীর দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ কি তাদের সবার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে না?
না, এই প্রশ্নেরও কোন উত্তর নাই।
কারন উত্তর তো সেই একটাই “নারীর কোন দেশ নাই………

সবশেষে পড়লাম কিছু ব্যক্তি আক্রমনের মুখেও।
“তুমি যে ছেলেটার সর্বোচ্চ শাস্তি চাচ্ছো, মনে তো হচ্ছে তাঁর প্রতি তোমার কোন পারসনাল “গ্রাজ” আছে। তো গ্রাজটা কি বলবা?”
“আপনি যে একটা অপরাধির পক্ষ নিচ্ছেন, এই অপরাধের প্রতি আপনার ভালবাসাটা কি, সেটাই শুনি আগে?”
“কিসের অপরাধ? এইসব লিখালিখিতে কোন অপরাধ হয় না।”
“ও আচ্ছা, তাই নাকি? এই অভিযোগ বিচার ব্যবস্থার আওতায় এলে, ছ’মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে, জানেন?”
“একটা মেয়ে এজিটেট করবে, তাঁর কিছু হবে না, ছেলে করলেই শাস্তি? আই *ক দ্যাট ল”
“সেইটা যা খুশি আপনি *ক করে বেড়ান, আপনার ব্যাপার, কিন্তু দেশের আইনটা ঐরকমই। আর বারবার যে এই এজিটেশনের কথা বলছেন, সেটা কিভাবে হয়েছিল, বলেন দেখি, শুনি।”
“আমি তো ছিলাম না। দেখি নাই। কিন্তু অন্যরা ছিল, তাদের কাছে শুনেছি। হয়েছিলা কিছু এজিটেশন।”
“হুম, বুঝলাম, চিলে কান নেয়া সিচুয়েশন। শুনেন, আমি ঐদিন ছিলাম। যা যা হয়েছে, সবই দেখেছি, সবই জানি। এদেশে স্ত্রীর সামনে বড়বোনপ্রতিম কেউ এজিটেট করে, এটা একটা হাস্যকর কথা। এজিটেশনের যা যা বললেন, ঐগুলা নির্জলা মিথ্যা কথা। অভিযুক্তরা এসব মিথ্যা বলে থাকে নিজেদের গা বাঁচাতে। এটা নতুন কিছু না।
আর হ্যাঁ আমি কেন যথোপযুক্ত শাস্তি মানে সর্বোচ্চ শাস্তি বুঝি, তা খুবই সীম্পল। টু হ্যাভ এ ডেটারেন্ট ইফেক্ট। এরকম অভিযোগ এই প্রথম এলো। আমি চাই, এটা এমন ভাবে হ্যান্ডেল করা হোক যেন ভবিষ্যতে কেউ এর ধারে কাছে কিছু করার সাহস না দেখায়।
ও হ্যাঁ, কারো প্রতি গ্রাজ থাকতে হলে, আগে তার সাথে নুন্যতম আলাপ পরিচয় থাকতে হয়। এই অভিযুক্তের সাথে আমার তেমন কোন আলাপ পরিচিয় আছে কিনা, খোঁজ নেন দেখি?
প্রত্যেকের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত জীবন আছে, থাকে। কারো তা পছন্দ না হলে, তা এড়িয়ে যাওয়াই হলো সভ্য আচরন। অন্যকে কটুক্তি করার কোন অধিকার কারো নাই। থাকতে পারে না।
আর সেরকম কোন প্রচেষ্টা যখনই সীমা লঙ্ঘন করবে, আমাদের একযোগে তা প্রতিহত করতে হবে।”

কারন তা না করলে সবাই জানবে “নারীর কোন দেশ নাই

আমি চাই না, এটা সত্যি হোক।
নারীও মানুষ।
আমি চাই “নারীরও একটি দেশ থাকুক

নারীর কোন দেশ নাই – ২ : একটি বিচার ও প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন

৩,৬৬৬ বার দেখা হয়েছে

২৭ টি মন্তব্য : “নারীর কোন দেশ নাই”

  1. ঝুমুর (মগকক ৯১-৯৭)

    বিতর্কিত এবং নারী বিষয়ক বলে ৫০ বার দেখা একটা ব্লগ এ এখন পর্যন্ত ০ টি মন্তব্য?? কেউ এতে কিছু মন্তব্য করাটাও এড়িয়ে যাচ্ছে সচেতনভাবে ?? তবে কি সত্যিই নারীর জন্যে কোনও নিরাপদ স্থান নেই ? এমনকি একান্ত নিজেদের নিজস্ব একটা ক্লাব এও ??

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      ঝুমুর, এই লিখাটা লিখতে বসে যতবার “নারীর কোন দেশ নাই” কথাটা লিখেছি, ততবারই আমার চোখ ভিজে গেছে।
      তোমার কমেন্ট পড়তে গিয়ে, আরও একবার তা হলো।
      আমারও খুব জানতে ইচ্ছা হয়, আসলেই কি "নারীর জন্যে কোনও নিরাপদ স্থান নেই?"

      কিন্তু তা কেন হবে?
      আমরা না সভ্য মানুষ বলে নিজেদের দাবী করি.........

      যে সভ্যতা নারীর জন্য নিরাপদ স্থান দিতে পারে না, সেটা কোন সভ্যতা নয়!!!


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
  2. ঝুমুর (মগকক ৯১-৯৭)

    “একটা মেয়ে এজিটেট করবে, তাঁর কিছু হবে না, ছেলে করলেই শাস্তি? আই *ক দ্যাট ল”

    টু আন্সার দিস পিস অফ দ্যাট --কার ঃ---

    একটা ছেলে যখন মেয়েদের সামনে দিয়ে নির্বিঘ্নে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট বা হাফ প্যান্ট এবং ভেস্ট পড়ে তার উদাম বাহু, লোমশ বুক কিংবা সুদৃঢ় পদযুগল নিয়ে হেঁটে যায় তখন তো সেটা আমাদের জন্যে কখনোই এজিটেশন হিসেবে কাজ করেনা ??
    সেরকম দেখার মতো হলে বা ভাল লাগার মতো কিছু থাকলে আমরাও তাকিয়ে দেখি কিন্তু তাতে নোংরামি মিশে থাকেনা কখনোই।
    মেয়েদের ওই ভাললাগাটুকুতে কেবল মাত্র মুগ্ধতা থাকে, এতটুকু অশ্লীলতা থাকেনা এ আমি হলফ করে বলতে পারি।

    তবে কেন একটা মেয়ে স্কার্ট পড়লেও তাদের জন্যে,তাদের চোখে সেটা এজিটেশন হবে ?? নিজের কামজ রিপুকে দমাতে না পেরে, নিজেকে উত্থিত হওয়া থেকে বিরত না রাখতে পেরে ওহে দুর্বল পুরুষ তুমি বাজে গালি দিয়ে বেড়াও বরং ওই নারীকেই ??
    একরাশ করুনা তোমার জন্যে। একরাশ সমবেদনা সেই নারীর জন্যে যিনি তোমাকে কষ্ট করে গর্ভে ধারন করেছেন এবং তার জন্যেও যিনি তোমার সন্তান ধারন করবেন আর একটি কীট পুরুষ বাড়াবেন বলে। (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      এজিটেশনের ব্যাপারটা নিজে উপস্থিত থেকেও একেবারেই বুঝতে পারছিলাম না।
      তোমার কথায় কিছু ক্লু পেলাম।
      এবং তা পেয়ে খুবই তাজ্জব হলাম।

      ঘরভর্তি লোক ছিল সেদিন।
      তাদের কারো কোন এজিটেশন হলো না।
      এজিটেশন হলো কিনা, বছরখানেক আগে বিয়ে করা বৌকে সাথে নিয়ে ছুটির দিনে ইভিনিং আউটে বেরুনো বছর দু'তিনের ছোট একজনের?!?!
      এইটা কি পারভার্শান? নাকি সাইকোর লক্ষণ??
      এরা নাকি অচিরেই আবার আমেরিকা নিবাসি হবে।
      ড্রেস দেখে যে এভাবে এজিটেটেড হয়, সে তো তাহলে আমিরিকায় গিয়ে এজিটেটেড হতে হতে মারাই যাবে বলে মনে হচ্ছে.........


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
  3. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    সময় করে এসে বলবো।
    পারভেজ ভাই, আমাদের গড়পড়তা চিন্তা এত নিম্নমানের, যে, কথা বলতেও রুচিতে বাধে। আপনি তবু বললেন, শক্তপোক্তভাবেই বললেন। :boss:

    জবাব দিন
  4. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    শত তম পোস্টে অভিনন্দন পারভেজ ভাই। যদিও পড়ার পরে ঠিক ভাল লাগছে না। ভিক্টিম ব্লেমিং ও শেমিংটা সবজায়গায় মোটামুটি আছে কিন্তু এইদেশে কাজটা করা এতটাই সহজ। নূপুরদার মতই বলতে হচ্ছে, রুচিতে আর কুলায় না। আজকে সায়েন্স ল্যাব থেকে হেঁটে শাহবাগ হয়ে কারওয়ান বাজার এলাম। একাধিকবার বিপরীত দিক থেকে আসা তরুণদের আলোচনার বিষয়বস্তু কানে আসতে হতহম্ভ হয়ে থেমে গিয়েছি। এখন সিসিবি খুলে দেখি এই লেখা। নারীর কোন দেশ নাই। 🙁


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      সব সময়েই চাই ভাল ভাল কথা লিখতে, ভাল ভাল কথা বলতে।
      কিন্তু চারপাশে যখন এত এত নিরানন্দ ঘটনা ঘটতে থাকে, কোন উপায় থাকে না সেগুলোকে উপেক্ষা করার।
      হতাশ করায় দুঃখিত।
      আর নিজের অজান্তে তার প্রতিশোধ ও নেয়ে হয়ে গেছে তোমার।
      তোমার শেষ লাইনটা পড়ার সময় চোখ ভিজলো যে আরেকবার....


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
  5. টিটো মোস্তাফিজ

    আমরা হলাম গিয়ে ভণ্ড আর অসভ্য 🙁
    মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গীর ব্যাপক পরিবর্তন দরকার।
    শততম ব্লগ লেখায় লাল গোলাপ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পারভেজ ভাই। টুকটাক অভিনন্দন আমিই জানাতাম এই মোকাব্বির কোথায় থেকে বাগড়া দিল।


    পুরাদস্তুর বাঙ্গাল

    জবাব দিন
  6. আন্দালিব (৯৬-০২)

    শততম পোস্টের অভিনন্দন, পারভেজ ভাই। আরও শত শত ব্লগ আসুক আপনার হাত দিয়ে, সেই কামনা রইলো।

    মূল ঘটনা মিস করেছি, তাই বুঝতে একটু অসুবিধা হচ্ছে। তবে পোস্ট পড়ে যতটুকু বুঝলাম সম্ভবত পাবলিক প্লেসে কাউকে আক্রমণ করা হয়েছে কিংবা যৌনসন্ত্রাস ঘটেছে। বিস্তারিত জানায়েন, বা খবরের লিংক দিয়েন।

    উপরে ঝুমুর আপুর কমেন্টের একটা কথা খুব জরুরি মনে হচ্ছে।

    একটা ছেলে যখন মেয়েদের সামনে দিয়ে নির্বিঘ্নে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট বা হাফ প্যান্ট এবং ভেস্ট পড়ে তার উদাম বাহু, লোমশ বুক কিংবা সুদৃঢ় পদযুগল নিয়ে হেঁটে যায় তখন তো সেটা আমাদের জন্যে কখনোই এজিটেশন হিসেবে কাজ করেনা ?? ...তবে কেন একটা মেয়ে স্কার্ট পড়লেও তাদের জন্যে,তাদের চোখে সেটা এজিটেশন হবে ??

    এই বিষয়টা অনুধাবন করা জরুরি। তাহলে কেন এ ধরনের অপরাধগুলো ঘটে, তা বোঝা যাবে। ব্যক্তিগতভাবে আমার সবসময়ই সুন্দর কাউকে দেখলে ভাল লাগে। আমার মতে, যারা যৌনসন্ত্রাস করে, তারা কেউই সেই ভাল লাগার অনুভূতি পায় না। ভালো লাগার অনুভূতি থেকে সন্ত্রাস করা যায় না। তাদের মধ্যে যেটা কাজ করে, সেটা পুরোপুরিই ঋণাত্মক অনুভূতি। ঋণাত্মক অনুভূতিগুলো সম্ভবত কাম, ক্রোধ, হিংসা (envy), বিবমিষা (disgust) ইত্যাদির মিশেল। তারা অনুভূতি না দমিয়ে সন্ত্রাস ঘটায় কারণ তারা জানে যে সমাজে নারীর প্রতি সন্ত্রাসের জন্য কোন শাস্তি হয় না।

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      আর একটা কথা।
      উত্যক্ত হবার প্রমান থাকার পরেও প্রতিকার পেতে গিয়ে নারীদের কিধরনের বিরড়ম্বনায় পড়তে হয়, সেটা জানানোই ছিল আমার এই লিখার উদ্দেশ্য।
      ইচ্ছা করেই তাই মূল ঘটনার কোন গ্রাফিকাল ডেসক্রিপশন এড়িয়ে গেছি।
      তারপরেও যেটুকু ডিসকাশানে প্রসঙ্গক্রমে এসে গেছে, তার উপর ভিত্তি করেই বলতে পারি, পুরো বিষয়ে তোমার অনুধাবন যথার্থ।
      একটি পাবলিক প্লেসে এক তরুন যখন তাঁর মোটামুটি নতুনই (বছরখানেক আগে বিবাহিত) স্ত্রীকে নিয়ে যায়, তাঁর এটেনশন কার দিকে থাকাটা বাঞ্চনিয়? নিজের স্ত্রীর নাকি দূরে কোথাও বসা কোন বড় বোনের?
      প্রায় নতুন বউয়ের পাশে বসে যে বড় বোনের কাছে পাত্তা না পাওয়ার জন্য হা পিত্যেশ করে এবং বাড়িতে ফিরে ঐ বড় বোনকে নিয়ে কটুক্তি করে, তাঁকে একটা সাইকো বা পারভার্ট ভাবতে আমার অন্ততঃ বাঁধে না।

      এসব সাইকো বা পারভার্টরা চিহ্নিত হলে পরে সমাজ থেকে তাদের উচ্ছেদে যেকোন ব্যবস্থা না নেয়ার আমি কোন কারন দেখি না......


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
  7. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    বিপরীত লিংগের আকর্ষণটার অস্তিত্ব সর্বজনগ্রাহ্যে সর্বাধিক পর্যায়ে নিবন্ধিত হয়েছে ইলেক্ট্রা আর ইডিপাসে।
    সেই সুবাদে আমরা পেয়েছি ইলেক্ট্রা কমপ্লেক্স আর ইডিপাস কমপ্লেক্স।
    কিন্তু সেই আকর্ষনের বহিঃপ্রকাশটি শ্লীল ও গ্রহণযোগ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাবার পেছনে প্রধান কারণ তিনটি।
    এক। পুরুষতান্ত্রিক পরিবার প্রথায় নারীর সন্মান সুপ্রতিষ্টিত না থাকা। যা থেকে আমাদের সমাজটার বেরিয়ে আসার সম্ভাবনায় কুড়াল চালাচ্ছে অশিক্ষা আর ধর্মান্ধতা।
    দুই । ডিপ্রাইভেশন অব সেক্সুয়াল এনকাউন্টার এন্ড ব্লকড নরমাল স্পন্টেনিয়াস এক্সপ্রেশন।
    তিন। পারিবারিক শিক্ষায় এবং তদসংগীয় শিক্ষায় এর উপর যথার্থ গুরুত্ব প্রদানে আমাদের ব্যর্থতা।
    তা বাদে আছে গোদের উপর আরো দুই বিষ ফোঁড়া। তা হলো কিছু হলে পুরুষটির প্রতি পারিপার্শ্বিক নীরবতা, যা এক প্রকারের সমর্থন। আর নারীটিকে এই নিয়ে আরো বিবিধ বিড়ম্বনার শিকার হতে হওয়া। যার পেছনেও ঐ নীচ মানসিকতার অভিসন্ধিটি লুকিয়ে থাকে ।
    এর থেকে পরিত্রাণের পথটি সম্ভবত অনেক দুর্গম ও দীর্ঘ।
    সেই পথটি ছোটো হয়ে আসবে যতো বেশী আমরা এসব নিয়ে কথা বলবো এবং তা চারপাশের সবার কানে বারং বার পৌছাবে। আর যা সবচেয়ে বেশী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে তা হলো অপকর্মকারীকে সামাজিক সংগ থেকে যতো বেশী সম্ভব বর্জন করা।
    সাধুবাদ এই শততম পোস্টটির জন্য।

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      "আর যা সবচেয়ে বেশী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে তা হলো অপকর্মকারীকে সামাজিক সংগ থেকে যতো বেশী সম্ভব বর্জন করা।"
      এই সহজ জিনিষটা না বোঝার মত জড়বুদ্ধি কিন্তু কেউই না।
      তারপরেও কিসের আশায় এটা না করে তাঁরা একটা ঘটনার পরে ব্যালান্সিং-এর ধান্দায় নেমে পড়েন, বুঝে আসে না।

      একটা কথা মনে রাখা দরকার।
      একজন ডিসটার্বড মেন্টালিটির মানুষ সমাজের তো বটেই, নিজের পরিবার - এমনকি নিজের জন্যেও একটা হুমকি।
      তাঁকে আইডেন্টিফাই করার পর তাঁর বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়াটা তাই শুধু সমাজ বা পরিবারের স্বার্থেই না, তার নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ন।
      এসব ক্ষেত্রে ইমপিউনিটি বা আইওয়াশ মূলক কোন ব্যবস্থা ভবিষ্যতে তাকেই শুধু আরও বড় বিপদে ঠেলে দেবে না, বরং তার মত ডিসটার্বড অন্যদেরও ভুল বার্তা দিয়ে গর্হিত কাজের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেবে।

      কবিগুরু বলেছিলেন, "আধ্মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা" - সেটা মনে পড়ছে।

      জন্মসুত্রেই কিন্তু কেউ ডিসটার্বড মেন্টালিটি-সম্পন্ন হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাবে পারিপার্শের ভুল ব্যাখ্যা করে ও তা থেকে ভুল শিক্ষা নিয়েই বেশির ভাগ মানুষ এই ডিসটার্বড মেন্টালিটিটা অর্জন করে।
      একটা সময় সেটার চর্চ্চাও করা শুরু করে।
      প্রথম সুযোগেই তাদের পর্যাপ্ত ঘা মেরে বাচানোটা তাই একধরনের সামাজিক দায়িত্ব।
      এই দায়িত্ব পালনে ব্যার্থতার দায় তাদের, যারা সেসময় লিনিয়্যান্সি দেখাচ্ছে।
      আর এর ফল ভোগ করতে হয় তাকে ও তার পরিবারসহ গোটা সমাজকেই.........


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
  8. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    শততম ব্লগ পোস্টের জন্য অভিনন্দন, পারভেজ ভাইয়া :hatsoff:

    প্রথমেই বলি, সিসিবির পাঠকেরা অনেকেই মূল ঘটনাটি জানেন না; তাই ভাইয়া কারো নাম উল্লেখ না করে তুমি ঘটনাটির উল্লেখ করলে সাধারণ পাঠকের বুঝতে সুবিধা হতো।

    সদ্য বিবাহিত চিকিৎসক ছেলেটির রুচিহীন স্ট্যাটাস পড়ে ঘৃণা জানাবার ভাষা আমার ছিলনা। আমি সিসিসিএল এর সদস্য নই তবুত্ত বন্ধুর পাঠানো ই-মেইলে জেনে যাই ঘটনার বিবরণ। মেলশভিনিস্টপিগ এই নরাধম আমাদের মতই ক্যাডেট কলেজে শিক্ষাগ্রহণ করেছে ভাবতেও শিউরে উঠেছি।

    পুরুষতন্ত্রের জয়গান আমাদের সমাজের সর্বত্র; মেয়েরা আজো এই সমাজের চোখে যৌনক্ষুধা নিবারণের বস্তু বৈ নয়! আমাদের সমাজে নারীরা কোন কিছুতে ইনভলবড থাকলে কেউ না কেউ তাদের শাস্তি দেয়ার একটা বুদ্ধি বের করে ফেলে। সমাজের তথাকথিত কর্ণধারগণ বলতে শুরু করেন,
    ১) মেয়েটি দুঃশ্চরিত্র ছিল
    ২) তাঁর পোশাক ঠিক ছিলো না

    ক্যাডেট কলেজগুলো নিজের অজান্তে কিছু সারমেয়শাবক পালন করে আসছে এবং আরো দুঃখজনক এই যে এইসব সারমেয়শাবকদের দোসর আছে কিছু শুকরছানা যারা নারীবিদ্বেষী।

    সিসিসিএল এর মত পাবলিক প্লেসে মিনিমাম ডিসেন্সি আশা করা যায় কিন্তু এখানেও নানারকম খেলাধূলো চলছে। বিচারের নামে ভিকটিম ব্লেমিং গেমটি বন্ধ করা জরুরী।

    আমি আশা করবো সিসিসিএল এর নেতৃবৃন্দ সম্মিলিতভাবে এই ঘটনার নিন্দা জানাবেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করবেন। (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      "সিসিবির পাঠকেরা অনেকেই মূল ঘটনাটি জানেন না; তাই ভাইয়া কারো নাম উল্লেখ না করে তুমি ঘটনাটির উল্লেখ করলে সাধারণ পাঠকের বুঝতে সুবিধা হতো"
      - এটা এমনই একটা দুঃখজনক ও লজ্জাজনক ঘটনা, সেটা যারা জানে না, তাদের আর জানাতে ইচ্ছা করছিল না দুইটা কারনে:
      ১) তোমার মত যারা এই কমুনিটির ওয়েলবিয়িং নিয়ে কনসার্নড এবং এর অংশ হওয়ায় গর্বিত, কিন্তু সরাসরি কিছু করতে পারছেন না (দুরত্বের বা অন্য কোন কারনে) - তাঁরা জেনে দুঃখ পাবেন, হতাশ হবেন।
      ২) ল্যাটেন্ট একটা ডিসটার্বড গ্রুপ আছে, তাঁরা এই ঘটনাটা জানলে এমন সব এবিউসিভ কমুনিকেশন শুরু করে দেবে, যার শিকার হবে এই ঘটনার ভিক্টিম। সেটাও হোক, তা চাচ্ছিলাম না।
      তাছাড়া মূল ঘটনায় না, আমি ফোকাস করতে চেয়েছি নারীর সংশ্লিষ্টতা সম্পন্ন যেকোন ঘটনায়: ভিক্টিম-ব্লেমিং, সোশাল ট্যাবু ও শেইমিং-কে ব্যবহার করে কিভাবে তাদের আরও বেশি করে ভার্নারেবল করে ফেলা হয়, অভিযুক্তের জন্য পরিস্থিতি সুবিধাজনক করা হয়, সেসবে।

      আরেকটা জিনিষ লক্ষ করে থাকবে, পুরো লিখাটায় আমি "ক্যাডেট কলেজ" ও তাদের এই বিশেষ সংগঠনের নামটা উল্লেখ করাটা এড়িয়ে গেছি।
      এটা ছিল ইচ্ছাকৃত।
      আমি চাই নাই, আমাদের এত আবেগের আপন এই নামগুলা দুচারজন আউটলাইয়ারের কর্মকান্ডে কলুষিত হোক।
      কিন্তু আমি চাইলেই তো আর প্রলয় থেমে থাকবে না।
      অকারন কালক্ষেপন একদিকে যেমন শুভাকাঙ্খিদের অধৈর্য্য করবে অন্যদিকে মতলবিদেরকে ইউনাইটেড করবে, সময় দেবে নতুন নতুন ঘোট পাকাতে।
      নতুন নতুন মেরুকরন করতে।
      তা যদি না হতো, শুরুতেই যখন জেনারেল কনসেনশাস ছিল, ড্রাসটিক ও এক্সাম্পলারি পদক্ষেপ নেয়ার, সেখানে ভিক্টিম ব্লেমিং ঢোকে কিভাবে?
      ভিক্টমকেও শাস্তির আওতায় আনার কথা বলা মানুষ আসে কোত্থেকে?

      প্রশ্ন তো করতেই ইচ্ছা হয়, এটা কি ভিক্টিমের ওপর থাকা পুরনো কোন ব্যক্তিগত ক্ষোভ যা সুযোগ পেয়ে এখন উগরে দিতে চাচ্ছেন ওঁরা?

      "ক্যাডেট কলেজগুলো নিজের অজান্তে কিছু সারমেয়শাবক পালন করে আসছে এবং আরো দুঃখজনক এই যে এইসব সারমেয়শাবকদের দোসর আছে কিছু শুকরছানা যারা নারীবিদ্বেষী..."
      - একটি প্রতিষ্ঠানে শত শত সঠিক সিলেকশনের প্রক্রিয়ায় ভালোর মুখোশধারি দু'চারটা ব্ল্যাকশীপ ঢুকে পড়তেই পারে।
      এটা নিয়ে আমি বিচলিত নই এই কারনে যে ওরা সারাজীবন ঐ মুখোশটা ধরে রাখতে পারে না।
      একদিন না একদিন, সেটা থেকে তাদের আসল রূপ বেরিয়ে আসেই।
      যেটা জরুরী, তাহলো অন্যদের মধ্যে এরকম একটা কনসেনশাস থাকা যে এরকম কারো আসল রূপ প্রকাশ পেলে গোষ্ঠিস্বার্থে তাঁকে এক্সপোজ করার, ব্যক্তিস্বার্থে তাঁকে লুকিয়ে না রাখার।
      সেটা যখন করা না হয়, অন্যদের জন্য তখন আসলেই তা হয়ে দাঁড়ায় ভয়াবহ!!!

      "আমি আশা করবো সিসিসিএল এর নেতৃবৃন্দ সম্মিলিতভাবে এই ঘটনার নিন্দা জানাবেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করবেন"
      - আমিও সেটা আশা করি। পাশাপাশি চাই ভিক্টিম-ব্লেমিংটা বন্ধ হোক।
      আমাদের নিয়ে একটা ন্যয়বিচারে পরিপুর্ন সমাজ আমরা যেন গড়ে তুলতে পারি......

      নিজেদের প্রিভিলেজড, এডুকেটেড, শিল্প-সংস্কৃতিতে অগ্রগামী বলে মনে করার পরেও নিজেদের জন্য একটা ন্যয়বিচারে পরিপুর্ন পারিপার্শ যদি আমরাই গড়তে না পারি, অন্যদের কাছ থেকে তা আশা করবো কোন মুখে?

      অংশগ্রহন ও সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ তোমাকে.........


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
  9. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    সবগুলো মন্তব্য পড়ে বিবমিষা আর হতাশা কয়েকগুণ বেড়ে গেল।
    সত্যি ঝুমুরের বক্তব্যের পর নতুন কিছু যোগ করার নেই। এরপরও যদি চড়টাকে ঠিকভাবে অনুভব করতে না পারে বলার কিছু নেই।
    আমার কাছে অবাক লাগে ---- ক্যাডেট কলেজ থেকে বের হয়ে এত বাহাদুরি ফলানোর, অহংকারে মাটিতে পা না পড়ার কি আছে। কথায় কথায় ক্যাডেট বলে ফাল না পেড়ে মানুষ হবার দিকে একটু মনোনিবেশ করলে হয় না? ১৮ বছর বয়সেই একটা প্রতিষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণ মানুষ হয়ে বেরুনো সম্ভব না। কেবল বীজটা রোপিত হয় হৃদয়ে। কেউ কেউ যদি পরবর্তীতে গার্লফ্রেন্ড পিটায়, বৌ এর চোখ গেলে দ্যায় কিংবা এমন আজেবাজে কথা বলে তাদের আসলে কেউ মানুষ করতে পারবেনা। তাদের জন্যে লজ্জিত হয়তো হতে হবে, কিন্তু এরা যে অমানুষ হলো তার দায় ক্যডেট কলেজের না। যে রোগের যা ওষুধ তা পেলেই সেরে যাবে বৈ কি (এক্ষেত্রে এই ট্রিটমেন্ট --- এই যে এখানে চড় মিলছে এমন করে)।

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)
      ১৮ বছর বয়সেই একটা প্রতিষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণ মানুষ হয়ে বেরুনো সম্ভব না। কেবল বীজটা রোপিত হয় হৃদয়ে। কেউ কেউ যদি পরবর্তীতে গার্লফ্রেন্ড পিটায়, বৌ এর চোখ গেলে দ্যায় কিংবা এমন আজেবাজে কথা বলে তাদের আসলে কেউ মানুষ করতে পারবেনা। তাদের জন্যে লজ্জিত হয়তো হতে হবে, কিন্তু এরা যে অমানুষ হলো তার দায় ক্যডেট কলেজের না।

      কিছুটা দ্বিমত আছে। গোটা ৬ বছরে শুধু বীজ বপনটুকুই হয় কি? নাকি বীজ তারও আগেই বপনকরা হয়। ৬ বছরের অঙ্কুরোদগম হয়ে চারাগাছটুকু বের হয়ে আসে। ক্লাস নাইন-টেনের ছেলে (ক্যাডেট) দের কথা ও বিপরীত লিঙ্গের প্রতি যে ধারণা ও মনোভাব তা শুনলে আপনার আমার মাথা হ্যাং করে যাবার সম্ভাবনা আছে। তাহলে দায় কি ক্যাডেট কলেজ সিস্টেমের আসছে না? আইবিএ-এর সেই ঘটনার ছেলেটি কিন্তু কলেজ থেকে বের হবার দেড় বছরের মাথায় মেয়েটাকে পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে দিল। তাহলে সমস্যার উৎস কোথায়? নির্ণয় করতে হবে। ছেলেরা কে কি শিখছে, কিভাবে শিখছে, কেন শিখছে এগুলো খুব নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে দেখতে হবে। কিন্তু সবকিছুর আগে মূল সমস্যা হলোঃ আপনাকে সমস্যা নির্ণয়ই করতে দিবে না ব্রাদারহুড। কত বড় সাহস আপনার? নানান ট্যাগ, স্টিকি নোট দিয়ে আপনাকে লেবেলিং করে ফেলবে। কপাল সুপ্রসন্ন থাকলে গালিও শুনবেন। এই যে বুদবুদের মাঝে বসবাস সেটা থামানো খুব দুষ্কর। মেট্রিক্স, দ্য আইল্যান্ড, ওয়াল-ই এরকম প্রচুর চলচিত্র আছে যেগুলো দেখলে আমি মিটিমিটি হাসি আর ভাবি, been there done that. 🙂


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      "কথায় কথায় ক্যাডেট বলে ফাল না পেড়ে মানুষ হবার দিকে একটু মনোনিবেশ করলে হয় না?" - অতি জরুরী অনুধাবন।
      আশা করছি অন্যরাও কথাটা বুঝতে চেষ্টা করবে...

      "যে রোগের যা ওষুধ তা পেলেই সেরে যাবে বৈ কি" - ঠিক বলেছো।

      গতকাল হঠাৎ মনেহলো, এই সপ্তাহে যেন ক্লাবে নারী সদস্যগনের আনাগোনা একটু কম লক্ষ করছি।
      এটা কি তবে ১৮ তারিখের সেই ঘটনার আফটার ইফেক্ট?
      আমরা কি তাহলে তাদের যথেষ্ট নিরাপত্তার আশ্বাস দিতে পারছি না?
      আমরা কি আমাদের বোনদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছি?
      - এই ভাবনাগুলো গতকাল সন্ধ্যায় মনটা খুবই ভারাক্রান্ত করে দিলো, জানো???


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
    • ইশহাদ (১৯৯৯-২০০৫)
      তাদের জন্যে লজ্জিত হয়তো হতে হবে, কিন্তু এরা যে অমানুষ হলো তার দায় ক্যডেট কলেজের না।

      একমত নই, আংশিক হলেও দায় আছে, নূপুর দা।



       

      এমন মানব জনম, আর কি হবে? মন যা কর, ত্বরায় কর এ ভবে...

      জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : পারভেজ (৭৮-৮৪)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।