সন্ত্রাসের ধর্ম নিয়ে কিছু এলোচিন্তা

প্যারিস হামলার ঘটনায় পুরো বিশ্ববাসী মোটামুটি স্তম্ভিত । অনেক ধরনের প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ছে। বেশিরভাগ মানুষ এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছেন । অনেকে আবার এর সাথে লেবানন বোমা হামলা নিয়ে কেনো কোন কথা বলা হচ্ছে না তা নিয়ে নিন্দা করছেন । কিছু লোক আবার আরো দুই ডিগ্রী উপরে গিয়ে কাশ্মির, সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, প্যালেস্টাইন এর পরিস্থিতি নিয়ে কেনো কোন কথা বলা হচ্ছে না তা নিয়ে তাফালিং করছেন । কোন নতুন কাহিনী ঘটলে ফেসবুকে বাঙ্গালীরা ৫-৬ ভাগে ভাগ হয়ে যায়, এখন আর গায়ে লাগে না ব্যাপারটা । তবে একটা কথা অনেকেই বলছেন যাতে একটু চোখ আটকে গেলো, তা হচ্ছে “সন্ত্রাসের কোন ধর্ম নেই”। আসলেই কি তাই ।

আপাতদৃষ্টিতে কথাটা শুনতে ভালোই লাগে । আর মুসলিমদের জন্য এই কথাটা বলার আলাদা কিছু সুবিধা আছে । বর্তমানে বিশ্বের সিংহভাগ ধর্ম দ্বারা অনুপ্রাণিত টেরোরিস্ট হামলা যেহেতু মুসলিম চরম্পন্থীরা চালিয়ে থাকে সেহেতু এই কথাটা বললে একটা ভার বুক থেকে নেমে যায় । বিশাল একটা দায় এড়ানো যায় । ওদের তো কোন ধর্ম নেই, সুতরাং ওরা আসলে ইসলাম ধর্মের কেউ না, আমাদের কেউ না । তারপর বিভিন্ন চিরাচরিত ডায়লগ যেমন প্রকৃত ইসলাম কখনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না ইত্যাদি । এটা অবশ্যই সত্য যে একজনের কোন কাজের জন্য অন্যের উপর দোষ চাপানোর কোন যুক্তি নেই । পৃথিবীর আরেক প্রান্তের একজন মুসলিম বোমা হামলা করলে সেই দোষ আমাদের দেশের কোন মুসলিমের উপর চাপানো যাবে না । তবে বিশ্বের সিংহভাগ ধর্ম দ্বারা অনুপ্রাণিত চরম্পন্থী হামলা যখন একটি ধর্মের মানুষ পরিচালনা করে আসতেছে তখন মনে হয় সবার একটু পর্যালোচনা করা উচিত যে সেই ধর্ম পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দিচ্ছে কিনা ।

ধর্মতত্ত্ববিদ রেজা আসলান এর মতে, “মানুষ কখনো ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে মূল্যবোধ লাভ করে না, বরং তারা তাদের মূল্যবোধ ধর্মীয় গ্রন্থে প্রবেশ করায়” । কথাটা ভালোই যুক্তিনির্ভর শোনায় । ইরাক এর একজন মুসলমান যেভাবে কোরান পড়ে ব্যাখ্যা করবে বাংলাদেশ এর একজন মুসলমান তা করবে না । তুরষ্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালেয়শিয়া এর মত অনেক মুসলিম দেশ তো আছে যেইখানে চরম্পন্থা নিয়ে কোন সমস্যা নেই ।

তবে এই ধরনের ৩-৪টা নাম নেয়ার পর সেকুলার ভাবাপন্ন মুসলিম দেশগুলোর তালিকা শেষ হয়ে যায় । মধ্যপ্রাচ্য এর দেশসমূহ, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং সংখ্যাগুরু মুসলিম দেশগুলোতে মুক্তচিন্তার সুযোগ নেই, এর বেশিরভাগ দেশ এই সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত । তাহলে কি এইসব দেশে সবার জাতিগত ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এর সমস্যা ? অনেকে পশ্চিমা বিশ্বে বসবাসরত মুসলিমদের কথা বলতে পারেন যারা অনেক শান্তিপ্রিয় এবং এসব সমর্থন করেন না । সেক্ষেত্রে বলা যায় যে মাইনোরিটিরা সব সময় সেকুলারই হয় এবং সেইটার ও ভালো কারন আছে। ভারতের মুসলিমরা সেকুলার, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এ হিন্দুরা সেকুলার, পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিমরা সেকুলার । সেইটা ক্ষমতার অভাবে নাকি মূল্যবোধের কারণে সেই আলোচনা আপাতত করলাম না । আর কোন দেশ এর সংখ্যাগুরু ধর্মের মানুষরা সব সময় তাদের ধর্ম নিপাতে যাচ্ছে কিনা সেই চিন্তায় থাকে। বাংলাদেশ এর অনেক এর কাছেই শোনা যায় যে এখন নাকি দেশ এ কথায় কথায় ইসলামকে অপমান করা হয়, সঠিক ধর্ম পালনের সু্যোগ নেই। ৯০% মুসলিম এর দেশ এ কেমনে ইসলাম ঝুঁকির মুখে পরে তা কখনোই আমার বোধগম্য হয় না। তবে এই ধরনের আবালের সংখ্যা আমেরিকাতেও কম নেই। কিছু হইলে একদল লোক দাবি করে যে আমেরিকাতে খ্রিস্টান ধর্ম পালনের সঠিক সুযোগ দেয়া হচ্ছে না, অপমান করা হচ্ছে । কিছুদিন আগেই একটা বিতর্ক হলো স্টারবাকস নিয়ে । এরা নভেম্বর-ডিসেম্বর এ হলিডে পিরিয়ডে লাল রঙ এর কাপ এ কফি বিক্রি করে যাতে বিভিন্ন নকশা করা থাকে। এইবার স্টারবাকস নকশা আঁকা বাদ দিয়ে শুধু লাল কাপে কফি বিক্রি শুরু করছে । এই শুরু হয়ে গেলো, অনেক খ্রিস্টান মনে করলো যে এতে তাদের ধর্মকে অবমাননা করা হচ্ছে । এই নিয়ে ভাইরাল ভিডিও, অনলাইন প্রচারনার অভাব নেই ।

ধর্ম কালে কালে অনেকের জন্য চরম শান্তির উৎস হিসেবে কাজ করেছে এটা ঠিক । কথায় আছে, “যার কেউ নাই, তার আল্লাহ্‌ আছে” । যখন অনেকে একদম অসহায় বোধ করে তখন ধর্মকে আকড়ে ধরে অনেকেই আবার নতুন করে জীবন গড়ে নেবার প্রেরণা পায় । তবে সেই সাথে এটাও ঠিক যে ধর্ম জিনিসটা একটা অস্ত্রের মত এবং চাইলেই এটা দিয়ে অনেক ক্ষতি করা যায়। যুগে যুগে অনেক ধর্ম বিবর্তিত হয়েছে, সুতরাং একেক ধর্মের ক্ষতি করার ক্ষমতা আলাদা । সমসাময়িক ধর্ম তুলনা করতে গেলে বলা যায় যে হিন্দু ধর্ম, খ্রিস্টান ধর্ম অনেকটা রিভলভার এর মত, চাইলে হাল্কা ক্ষতি করা যায়, আর ইসলাম এর অবস্থা অনেকটা একে-৪৭ এর মত, যা দিয়ে মুহূর্তেই বিশাল ক্ষতি করে ফেলা যায়।

হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মও এক সময় অন্ধকারযুগ পার করেছে, এইসব ধর্মের নামে অনেক সামাজিক অনাচার চালানো হয়েছে, অনেক মানুষ মারা হয়েছে। কিন্তু কালক্রমে এইসব ধর্মের বিবর্তন হয়েছে এবং বর্তমানে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আছে । ইসলাম তুলনামূলকভাবে নতুন ধর্ম সুতরাং আশা করা যায় যে এটিও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এরও সংস্কার হবে । কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যাপারটা সোজা হবে না কারন ইসলাম ইতিহাসগতভাবেই পরিবর্তন প্রতিরোধী । এর সকল নিয়মকানুন চিরায়ত ও সকল সময় এর জন্য প্রযোজ্য বলে দাবি করা হয় । এটা ঠিক যে সপ্তম শতাব্দীতে যখন ইসলাম প্রবর্তিত হয় তখন এর অনেক আইন হয়তো সেই সময় এর তুলনায় অগ্রসর ছিলো । কিন্তু সপ্তম শতাব্দী এর নিয়মকানুন যদি কেউ এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে পরিচালনা করতে যায় তবে তা কখনোই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না । মুসলিম চরম্পন্থীরা তো এটা বুঝতেই চায় না এবং মজার ব্যাপার হলো যে বেশিরভাগ সাধারণ মুসলিম ও এই কথা মেনে নিতে চায় না । এবং সকল সাধারণ মুসলিম এর ভিতর যতক্ষন পর্যন্ত এই উপলব্ধি না আসবে তখন পর্যন্ত কখনোই সংস্কার সম্ভব হবে না ও এই অবস্থার উত্তরণ ঘটবে না ।

১২ টি মন্তব্য : “সন্ত্রাসের ধর্ম নিয়ে কিছু এলোচিন্তা”

  1. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    সিসিবিতে স্বাগতম নাবিল। আশা করি এখন থেকে নিয়মিত লিখবে।

    ব্লগের শুরু আর শেষে ত মিল পেলাম না- শুরু করেছো 'সন্ত্রাসের' ধর্ম দিয়ে, শেষ করলে ইসলামের সন্ত্রাস নিয়ে।

    লেখার সময় আরেকটু যত্ন নিয়ে, সিরিয়াসলি চিন্তাভাবনা করলে যুক্তির এমন গড়মিল এড়ানো যাবে।


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  2. নাবিল (২০০০-২০০৬)

    ধন্যবাদ ভাইয়া লেখাটি পড়ার জন্য । আসলে এই দুইটি বিষয়ের পারস্পরিক সম্পর্ক আছে । সন্ত্রাসের ধর্ম আছে কিনা, বর্তমান সময়ে এই আলোচনার উদ্ভব ঘটেছে ইসলামিক চরম্পন্থীদের কারনে । সুতরাং এর একটি বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে অন্য বিষয়টি ও উঠে আসে ।

    জবাব দিন
  3. ফরহাদ হোসেন মাসুম

    এই সহজ কথাগুলো মানুষ বোঝে না। সামান্য একটু চিন্তা করলেই ধর্মের ভিত্তি ভেঙ্গে পড়ে। কিন্তু মানুষকে এসব বলতে গেলে সে তেড়ে আসে। একদিন এই জিনিস ফিক্স হবে। সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম। গত কয়েক দশকে অবশ্য হুলুস্থুল পরিবর্তন হয়েছে। এবং আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ধর্মীয় আস্ফালন কমে যাবে। প্যাটার্ন সেটাই নির্দেশ করছে। পিপীলিকার পাখা গজিয়েছে, এবং সে আগুনের দিকে রওনা দিয়ে দিয়েছে।

    জবাব দিন
  4. মাসফিক (৯৪-০০)

    "কিন্তু সপ্তম শতাব্দী এর নিয়মকানুন যদি কেউ এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে পরিচালনা করতে যায় তবে তা কখনোই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না । মুসলিম চরম্পন্থীরা তো এটা বুঝতেই চায় না এবং মজার ব্যাপার হলো যে বেশিরভাগ সাধারণ মুসলিম ও এই কথা মেনে নিতে চায় না । এবং সকল সাধারণ মুসলিম এর ভিতর যতক্ষন পর্যন্ত এই উপলব্ধি না আসবে তখন পর্যন্ত কখনোই সংস্কার সম্ভব হবে না ও এই অবস্থার উত্তরণ ঘটবে না ।"
    -- ১০০% টু দি পয়েন্ট। বেশ ভাল লিখেছিস! চালায় যা 🙂

    জবাব দিন
  5. রশীদ

    "হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মও এক সময় অন্ধকারযুগ পার করেছে, এইসব ধর্মের নামে অনেক সামাজিক অনাচার চালানো হয়েছে, অনেক মানুষ মারা হয়েছে। কিন্তু কালক্রমে এইসব ধর্মের বিবর্তন হয়েছে এবং বর্তমানে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আছে।"

    আপনার এই কথা যদি মানি, তবে ভারতে গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে এতো অস্হিতিশীলতা কেন? মানুষের অপকর্মের কারনে ধর্মকে যদি সরাসরি দায়ী করা হয় (যেহেতু আপনি বলেছেন "সন্ত্রাসের কোন ধর্ম নেই”। আসলেই কি তাই ।") তাহলে হিন্দু ধর্ম কি ভারতে অস্হিতিশীল অবস্হায় আছে? নাকি কিছু ধর্মান্ধ মানুষ (আর এস এস এবং শিব সেনার আর্দশে লালিত) সেখান অস্হিতিশীল পরিস্হিতি সৃষ্টি করছে?

    শেষ প্যারাগ্রাফে আপনি যা বলেছেন তা পরিষ্কার করে বলেননি যে আপনি ইসলামের সংস্কার বলতে ইসলামের কোন অংশের সংস্কার চাচ্ছেন? কোরআন, নাকি সুন্নাহ?

    আমি ধরে নিচ্ছি আপনি ইসলাম সম্পর্কে অনেক জানেন (ইসলামের অনেক ফাক ফোকর জানেন বলেই এর সংস্কার চা্চ্ছেন) তাহলে একটু বলেন যে ইসলামে ফিকাহ শাস্ত্র কি? এর উপযোগিতা কি? এর চর্চা কি এখনও হয়? দয়া করে আমাদের আলোকিত করুন।

    জবাব দিন
    • রশীদ

      @ওয়াহিদা নূর আফজাঃ

      আপু আপনি একেবারেই ঠিক বললেন না।
      যারা ইসলামের কথা বলেন আবার নিজেরা তা পালন করেন না এদের সম্পর্কেও কিন্তু ইসলাম একটা শব্দ ব্যাবহার করেছে তা হলো মুনাফেকhypocricy বা নিফাক যারা করে তারাই মুনাফেক

      আমি ইসলাম না মানলে ইসলাম কিভাবে বিবর্তিত হয়? আমি না মানলে কূরআনের কোন একটি আয়াতও পরিবর্তিত বা বিবর্তিত হওয়ার কোন সুযোগই নেই। সুতরাং ধর্ম বিবর্তিত হওয়ার প্রশ্ন এখানে কি করে আসছে? আমি ইসলাম না মানলে মুসলিম হিসাবে আমি বিবর্তিত হয়ে গেলাম বা আমি আর মুসলিম থাকলাম না। নিজে বিবর্তিত হওয়ার কারনে শাস্তি ভোগের কথা ইসলামে সুস্পষ্টভাবেই আছে। সুতরাং এখানে কোন ধরনেও বিভ্রান্তি বা সন্দেহের কোন অবকাশই নেই। আশা কি বিষয়টা পরিষ্কার।

      জবাব দিন
  6. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    অন্ধত্বটুকুন মানুষের মনের। যা দূর করবার জন্য তাকে আলোকিত স্থানে পৌঁছে দেয়া দরকার। তা না করে তাকে কেবলি ঘৃণা বিলিয়ে গেলে সে একের পর এক অঘটন ঘটিয়ে যেতেই থাকবে।
    আর কালো কাপড়ে চোখ মুড়ে দিয়ে অন্ধ করে দিয়ে মানুষ নিয়ে মশকরা করবার খেলাটাকে ভালো বাসে যারা দরকার তাদের সৌদি বিচাররীতির মতোন শিরোচ্ছেদ আর কব্জিচ্ছেদের মতোন শাস্তি দেয়া।
    কথা হলো সেই খেয়ালী খেলুড়ে কারা ! তাদে কি আমরা আদৌ দিতে পারবো সেই সাজা !

    জবাব দিন
  7. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    আমি বলবো, শুধু ধর্ম কেন, যে কোন সিস্টেমের পরিবর্তন (সংস্কার অর্থে) আসে ঐ সিস্টেমের কম্পনেন্ট সমুহের বৃহত্তর অংশের চাহিদার পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে। নতুন চাহিদার প্রয়োজন মেটাতেই।

    যারা ভাবেন, ইসলাম অপরিবর্তনিয়, তারা কি ইসলামে পারমিটেড কৃতদাস প্রথা, যুদ্ধবন্দির প্রতি আচরন, জিজিয়া কর, শিশু-বিবাহ ইত্যাদি টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন?
    এগুলো কোন দৈব বানীতে নয় বরং যুগের প্রয়োজন মেটাতেই যে বিলুপ্ত হয়েছে, সেটা নিশ্চয়ই ব্যাখ্যার দরকার পড়বে না।

    আমি নিশ্চিত, একটু খোঁজ নিলেই উঠে আসবে যে ইসলাম সহ অন্যান্য ধর্ম বা ব্যাবস্থার এসব বিলুপ্তি কিন্তু কখনোই কোন শান্তি পূর্ন উপায়ে ঘটে নাই।
    একটি ইন্টারেস্ট গ্রুপের বিরোধিতার মুখেই এই পরিবর্তনগুলো ঘটে গেছে বৃহত্তর জনগোষ্ঠির স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে।

    গরু নিয়ে এখন ভারতে যা যা ঘটছে, সেটাও আসলে হয়তো ঐ স্বার্থান্বেষি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠির প্রোরচনায় ঘটছে। তা যদি হয়, অচিরেই বোঝা যাবে যে গরু নিয়ে করা এই রাজনীতিটা হবে ভারতের এই বিষয়ক শেষ রাজনীতির চাল।
    এই গরু গুটির চাল চেলে এবার তারা মসনদ নিলেও, চিরদিনের মত এই গুটির চাল তাদের হাত ছাড়া হতে বাধ্য।
    গোমাংশকে একটা আউটপুট হিসাবে ট্রিট করা না গেলে, এবং ইকনোমিক লাইফ শেষ গরুর ন্যাচারাল ডেথ পর্যন্ত ভরন পোষন করতে হলে টোটাল কস্ট কাভারেজ হতে হবে দুধ থেকে।
    দুধের দাম তখন দাঁড়াবে এখনকার চেয়ে দশগুন-এ। আর ডিমান্ড নেমে যেখানে পৌছুবে, তাতে গরু প্রতিপালন নির্ভর চাষিকে বেকার হয়ে যেতে হবে।
    এর কোনটাই যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠির কাম্য না, সেটা তো সহজ বোধ্য, তাই না?

    একইভাবে আইএস বা জঙ্গিবাদ নিয়ে যা যা ঘটছে, আর মডারেট মুসলিম হতে চাওয়াটা সবার জন্য যেরকমের কাম্য হয়ে উঠছে, তাতে "খিলাফত" কনসেপ্টের উপরে শেষ পেরেক ঠোকাটা এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার - এরকম ভাবাটা কি খুবই অবাস্তব?

    আমার কিন্তু তা মনে হয় না...


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : রশীদ (১৯৯০-১৯৯৬)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।